KarbarX
বাংলা Free trial

16. An-Nahl النحل

The Bee · 128 ayahs

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟

16:1

اَتٰۤی اَمْرُ اللّٰهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوْهُ ؕ— سُبْحٰنَهٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ۟

(কিয়ামত ও তোমাদের শাস্তি দেওয়ার) আল্লাহর আদেশ এসে গেছে। সুতরাং (রাসূলের দেওয়া শাস্তির সতর্কবাণী নিয়ে উপহাস করে) তা দ্রুত ডেকে এনো না। তোমরা যা শরীক করো আল্লাহ তা থেকে অতি পবিত্র ও ঊর্ধ্বে।

16:2

یُنَزِّلُ الْمَلٰٓىِٕكَةَ بِالرُّوْحِ مِنْ اَمْرِهٖ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖۤ اَنْ اَنْذِرُوْۤا اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاتَّقُوْنِ ۟

তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছে স্বীয় নির্দেশে ফিরিশতাদের অহী দিয়ে প্রেরণ করেন এ বলে যে, তোমরা সতর্ক করো যে, আমি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। অতএব, তোমরা (আমার আদেশ-নিষেধ মেনে) আমাকেই ভয় করো।

16:3

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ بِالْحَقِّ ؕ— تَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ۟

তিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবেই, তারা যা শরীক করে, তা থেকে তিনি ঊর্ধ্বে।

16:4

خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ فَاِذَا هُوَ خَصِیْمٌ مُّبِیْنٌ ۟

তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ‘নুতফা’ (নগণ্য বীর্য) থেকে; অথচ সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী।

16:5

وَالْاَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِیْهَا دِفْءٌ وَّمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَاْكُلُوْنَ ۟

আর চতুষ্পদ জন্তুগুলো তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাতে রয়েছে উষ্ণতার উপকরণ ও বহু উপকার।(১) আর তা থেকে তোমরা আহার গ্রহণ করো।

16:6

وَلَكُمْ فِیْهَا جَمَالٌ حِیْنَ تُرِیْحُوْنَ وَحِیْنَ تَسْرَحُوْنَ ۪۟

আর তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে সৌন্দর্য, যখন তোমরা সন্ধ্যায় তা ফিরিয়ে আনো এবং সকালে চারণের জন্যে নিয়ে যাও।

16:7

وَتَحْمِلُ اَثْقَالَكُمْ اِلٰی بَلَدٍ لَّمْ تَكُوْنُوْا بٰلِغِیْهِ اِلَّا بِشِقِّ الْاَنْفُسِ ؕ— اِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ ۟ۙ

আর এগুলো তোমাদের (পণ্য-সামগ্রীর) বোঝা বহন করে এমন দেশে নিয়ে যায়, ভীষণ কষ্ট ছাড়া যেখানে তোমরা পৌঁছতে পারতে না। নিশ্চয় তোমাদের রব বড়ই দয়াশীল, পরম দয়ালু।

16:8

وَّالْخَیْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِیْرَ لِتَرْكَبُوْهَا وَزِیْنَةً ؕ— وَیَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۟

আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, তোমাদের আরোহণ ও শোভার জন্য এবং তিনি (আরোহণের মাধ্যম হিসেবে) সৃষ্টি করবেন এমন কিছু, যা তোমরা জানো না।

16:9

وَعَلَی اللّٰهِ قَصْدُ السَّبِیْلِ وَمِنْهَا جَآىِٕرٌ ؕ— وَلَوْ شَآءَ لَهَدٰىكُمْ اَجْمَعِیْنَ ۟۠

আর সঠিক পথের বর্ণনা দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব (যা তাঁর সন্তুষ্টির দিকে পৌঁছিয়ে দিবে) এবং পথের মধ্যে কিছু আছে বক্র পথ (শয়তানের পথ যা আল্লাহর কাছে পৌঁছাতে পারে না)। আর তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তবে তোমাদের সকলকে হিদায়াত করতেন।

16:10

هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً لَّكُمْ مِّنْهُ شَرَابٌ وَّمِنْهُ شَجَرٌ فِیْهِ تُسِیْمُوْنَ ۟

তিনিই সেই সত্ত্বা, যিনি আসমান থেকে পানি (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন, যাতে রয়েছে তোমাদের জন্য পানীয় এবং তা থেকে হয় উদ্ভিদ, যাতে তোমরা জীবজন্তু চরাও।

16:11

یُنْۢبِتُ لَكُمْ بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّیْتُوْنَ وَالنَّخِیْلَ وَالْاَعْنَابَ وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ ۟

আল্লাহ এ পানি থেকে তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন ফসল, যাইতুন, খেজুর গাছ, আঙুর এবং সকল প্রকারের ফল-ফলাদি। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে ।

16:12

وَسَخَّرَ لَكُمُ الَّیْلَ وَالنَّهَارَ ۙ— وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ؕ— وَالنُّجُوْمُ مُسَخَّرٰتٌ بِاَمْرِهٖ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ۟ۙ

আর তিনি রাত ও দিনকে, সূর্য ও চাঁদকে তোমাদের (কল্যাণের) জন্য নিয়োজিত করেছেন । আর তারকাসমূহও তাঁরই নির্দেশে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত। নিশ্চয় এতে এমন সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে, যারা বুঝে।

16:13

وَمَا ذَرَاَ لَكُمْ فِی الْاَرْضِ مُخْتَلِفًا اَلْوَانُهٗ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّذَّكَّرُوْنَ ۟

আর তিনি পৃথিবীতে তোমাদের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, যার রং ও বৈচিত্র্য নানারকম, নিশ্চয়ই এতে উপদেশ গ্রহণকারী জাতির জন্য এক নিদর্শন রয়েছে।

16:14

وَهُوَ الَّذِیْ سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَاْكُلُوْا مِنْهُ لَحْمًا طَرِیًّا وَّتَسْتَخْرِجُوْا مِنْهُ حِلْیَةً تَلْبَسُوْنَهَا ۚ— وَتَرَی الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِیْهِ وَلِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِهٖ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ ۟

আর তিনিই (তোমাদের জন্যে) সমুদ্রকে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা (মাছের) গোশত খেতে পারো এবং তা থেকে বের করতে পারো অলংকারাদি(২), যা তোমরা পরিধান করো। আর তুমি তাতে নৌযান দেখবে, যা সমুদ্রের (ঢেউগুলোর) বুক চিরে চলছে এবং যাতে তোমরা (ব্যবসায়িক লাভের মাধ্যমে) তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো এবং যাতে তোমরা (আল্লাহর নি‘আমতের) কৃতজ্ঞতা আদায় করো।

16:15

وَاَلْقٰی فِی الْاَرْضِ رَوَاسِیَ اَنْ تَمِیْدَ بِكُمْ وَاَنْهٰرًا وَّسُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ ۟ۙ

আর আল্লাহ জমিনে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা, যাতে তোমাদের নিয়ে জমিন (এদিক-সেদিক) হেলে না যায় এবং তিনিই প্রবাহিত করেছেন নদ-নদী এবং (তোমাদের চলার জন্যে তিনি) তৈরি করেছেন পথসমূহ, যাতে তোমরা (পথভ্রষ্ট না হয়ে সঠিকভাবে) তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারো।

16:16

وَعَلٰمٰتٍ ؕ— وَبِالنَّجْمِ هُمْ یَهْتَدُوْنَ ۟

তাছাড়া রয়েছে (দিনের) পথ-নির্দেশক চিহ্নসমূহ। আর (রাতে) তারকারাজির মাধ্যমেও তারা পথনির্দেশ পায়।

16:17

اَفَمَنْ یَّخْلُقُ كَمَنْ لَّا یَخْلُقُ ؕ— اَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ ۟

কাজেই যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি কি তার মতো, যে কিছুই সৃষ্টি করে না বা করতে পারে না ? অতএব তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?

16:18

وَاِنْ تَعُدُّوْا نِعْمَةَ اللّٰهِ لَا تُحْصُوْهَا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟

আর (হে মানুষ!) তোমরা যদি (তোমাদের ওপর) আল্লাহর নি‘আমত গণনা করো, তবে (আধিক্য ও বৈচিত্র্যের কারণে) তার সংখ্যা কখনোই নির্ণয় করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

16:19

وَاللّٰهُ یَعْلَمُ مَا تُسِرُّوْنَ وَمَا تُعْلِنُوْنَ ۟

আর আল্লাহ জানেন তোমরা যা গোপন করো এবং যা প্রকাশ করো।

16:20

وَالَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ لَا یَخْلُقُوْنَ شَیْـًٔا وَّهُمْ یُخْلَقُوْنَ ۟ؕ

আর তারা (মুশরিকরা) আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাকে, তারা কোনো কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না; বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়।

16:21

اَمْوَاتٌ غَیْرُ اَحْیَآءٍ ؕۚ— وَمَا یَشْعُرُوْنَ ۙ— اَیَّانَ یُبْعَثُوْنَ ۟۠

তারা (মূর্তিগুলো) মৃত, জীবিত নয় এবং কখন তাদেরকে (পূজারীদেরসহ) পুনরুত্থিত করা হবে, সে বিষয়ে তাদের কোনো চেতনা নেই।

16:22

اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ— فَالَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ قُلُوْبُهُمْ مُّنْكِرَةٌ وَّهُمْ مُّسْتَكْبِرُوْنَ ۟

তোমাদের সত্যিকারের ইলাহ এক ইলাহ (আল্লাহ)। অতঃপর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর (আল্লাহর একত্ববাদকে) অস্বীকারকারী এবং তারা অহংকারী।

16:23

لَا جَرَمَ اَنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا یُسِرُّوْنَ وَمَا یُعْلِنُوْنَ ؕ— اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِیْنَ ۟

নিঃসন্দেহে তারা যা (যে আমলগুলো) গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে, নিশ্চয় তা আল্লাহ সবই জানেন। নিশ্চয় তিনি অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

16:24

وَاِذَا قِیْلَ لَهُمْ مَّاذَاۤ اَنْزَلَ رَبُّكُمْ ۙ— قَالُوْۤا اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ ۟ۙ

আর যখন তাদেরকে (আল্লাহর একত্ববাদ ও পুনরুত্থানকে অস্বীকারকারীদেরকে আল-কুরআন সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করা হয়: ‘তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন?’ তখন তারা বলে, ‘পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনি।’

16:25

لِیَحْمِلُوْۤا اَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً یَّوْمَ الْقِیٰمَةِ ۙ— وَمِنْ اَوْزَارِ الَّذِیْنَ یُضِلُّوْنَهُمْ بِغَیْرِ عِلْمٍ ؕ— اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوْنَ ۟۠

যেন তাদের পরিণতি এমন হয় যে, তারা কিয়ামতের দিনে নিজেদের পাপের বোঝা পুরোটাই বহন করবে এবং তাদের পাপের বোঝাও যাদেরকে তারা অজ্ঞতাবশত পথভ্রষ্ট করে থাকে। তারা যে গুনাহের বোঝা বহন করবে, তা কতই না নিকৃষ্ট!

16:26

قَدْ مَكَرَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَاَتَی اللّٰهُ بُنْیَانَهُمْ مِّنَ الْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَیْهِمُ السَّقْفُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَاَتٰىهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَیْثُ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟

অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তী কাফিরগণ (রাসূলদের বিরুদ্ধে অনেক) ষড়যন্ত্র করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের ইমারতের ভীতে আঘাত করেছিলেন, ফলে তাদের ওপর থেকে তাদের ছাদ ধসে পড়েছিল। আর তাদের ওপর শাস্তি এসেছিল এমনভাবে যে, তারা তা উপলব্ধিই করতে পারেনি।

16:27

ثُمَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ یُخْزِیْهِمْ وَیَقُوْلُ اَیْنَ شُرَكَآءِیَ الَّذِیْنَ كُنْتُمْ تُشَآقُّوْنَ فِیْهِمْ ؕ— قَالَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ اِنَّ الْخِزْیَ الْیَوْمَ وَالسُّوْٓءَ عَلَی الْكٰفِرِیْنَ ۟ۙ

অতঃপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: ‘কোথায় আমার শরীকরা, যাদের ব্যাপারে তোমরা (নবী ও মু’মিনদের) বিরোধিতা করতে?’ যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তারা (আলিমরা) বলবে: ‘নিশ্চয় আজকের লাঞ্ছনা ও অকল্যাণ কাফিরদের ওপর।’

16:28

الَّذِیْنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ ظَالِمِیْۤ اَنْفُسِهِمْ ۪— فَاَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوْٓءٍ ؕ— بَلٰۤی اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟

নিজেদের ওপর যুলম করা অবস্থায় ফিরিশতারা যাদের মৃত্যু ঘটাবে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করে বলবে: ‘আমরা কোনো পাপ করতাম না।’ হ্যাঁ, নিশ্চয় তোমরা (দুনিয়াতে) যা করতে, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত।

16:29

فَادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ— فَلَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَكَبِّرِیْنَ ۟

সুতরাং, আজ তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ করো, তাতে তোমরা চিরকাল থাকবে। অতএব অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট!

16:30

وَقِیْلَ لِلَّذِیْنَ اتَّقَوْا مَاذَاۤ اَنْزَلَ رَبُّكُمْ ؕ— قَالُوْا خَیْرًا ؕ— لِلَّذِیْنَ اَحْسَنُوْا فِیْ هٰذِهِ الدُّنْیَا حَسَنَةٌ ؕ— وَلَدَارُ الْاٰخِرَةِ خَیْرٌ ؕ— وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِیْنَ ۟ۙ

আর যারা (তাদের রবের আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে) ভয় করেছে, তাদেরকে বলা হবে: ‘তোমাদের রব (তোমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর) কী নাযিল করেছেন?’ তারা বলবে: ‘মহান কল্যাণ’। যারা এই দুনিয়ায় উত্তম কাজ করেছে, তাদের জন্য (দুনিয়াতে) রয়েছে উত্তম প্রতিদান।(৩) আর নিশ্চয় আখিরাতের আবাস উত্তম এবং মুত্তাকীদের আবাস কতই না উত্তম!

16:31

جَنّٰتُ عَدْنٍ یَّدْخُلُوْنَهَا تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ لَهُمْ فِیْهَا مَا یَشَآءُوْنَ ؕ— كَذٰلِكَ یَجْزِی اللّٰهُ الْمُتَّقِیْنَ ۟ۙ

তা হলো চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহ, যাতে তারা প্রবেশ করবে, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নদ-নদী-ঝর্ণাধারা। তারা যা চাইবে, তাদের জন্য সেখানে তাই থাকবে। এভাবেই আল্লাহ মুত্তাকীদের প্রতিদান দেন।

16:32

الَّذِیْنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ طَیِّبِیْنَ ۙ— یَقُوْلُوْنَ سَلٰمٌ عَلَیْكُمُ ۙ— ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟

(এমন মুত্তাকীদের জন্যে পুরস্কার) ফিরিশতাগণ যাদের মৃত্যু ঘটায় (তাদের আত্মা কুফরি থেকে) উত্তম অবস্থায়, তারা (ফেরেশতারা তাদেরকে) বলবে: ‘তোমাদের ওপর সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক। আজ তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, (দুনিয়াতে) তোমরা যে (নেক) আমল করতে তার বিনিময়ে।’

16:33

هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّاۤ اَنْ تَاْتِیَهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ اَوْ یَاْتِیَ اَمْرُ رَبِّكَ ؕ— كَذٰلِكَ فَعَلَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ— وَمَا ظَلَمَهُمُ اللّٰهُ وَلٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۟

তারা (মিথ্যারোপকারী মুশরিকরা) শুধু তাদের কাছে ফিরিশতা আসার অথবা তোমার রবের (শাস্তির) সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষা করছে। তাদের পূর্ববর্তীরা এরূপই করতো। আর আল্লাহ তাদের ওপর যুলম করেননি; বরং তারাই (আল্লাহর সাথে কুফরি করে) নিজেদের ওপর যুলম করেছিল।

16:34

فَاَصَابَهُمْ سَیِّاٰتُ مَا عَمِلُوْا وَحَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟۠

ফলে তারা যা (বদ) আমল করেছে, তার মন্দ পরিণতি (শাস্তি) তাদেরকে আক্রান্ত করেছে এবং তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলেছে।

16:35

وَقَالَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْا لَوْ شَآءَ اللّٰهُ مَا عَبَدْنَا مِنْ دُوْنِهٖ مِنْ شَیْءٍ نَّحْنُ وَلَاۤ اٰبَآؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِنْ دُوْنِهٖ مِنْ شَیْءٍ ؕ— كَذٰلِكَ فَعَلَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ۚ— فَهَلْ عَلَی الرُّسُلِ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ ۟

আর যারা শিরক করে, তারা বলে: যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা তাঁকে ছাড়া কোনো কিছুর ইবাদাত করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও না। আর তাঁর হুকুম ছাড়া আমরা কোনো কিছু হারামও করতাম না। তাদের পূর্ববর্তীরা এরূপই (বাতিল যুক্তি পেশ) করতো। সুতরাং (আল্লাহর বাণী তাদের কাছে) স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া ছাড়া, রাসূলগণের কি আর কোনো কর্তব্য আছে?(৪)

16:36

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِیْ كُلِّ اُمَّةٍ رَّسُوْلًا اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوْتَ ۚ— فَمِنْهُمْ مَّنْ هَدَی اللّٰهُ وَمِنْهُمْ مَّنْ حَقَّتْ عَلَیْهِ الضَّلٰلَةُ ؕ— فَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ ۟

আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এ নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাগূতকে বর্জন করো।(৫) অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ কাউকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কারো ওপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তোমরা জমিনে ভ্রমণ করো, অতঃপর দেখো, মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কী হয়েছিল?

16:37

اِنْ تَحْرِصْ عَلٰی هُدٰىهُمْ فَاِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِیْ مَنْ یُّضِلُّ وَمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ ۟

(হে রাসূল!) যদিও তুমি তাদের হিদায়াতের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী হও; তবুও আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে তিনি হিদায়াত দেন না এবং তাদের জন্য (আল্লাহর শাস্তি প্রতিরোধে) কোনো সাহায্যকারীও নেই।

16:38

وَاَقْسَمُوْا بِاللّٰهِ جَهْدَ اَیْمَانِهِمْ ۙ— لَا یَبْعَثُ اللّٰهُ مَنْ یَّمُوْتُ ؕ— بَلٰی وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا وَّلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟ۙ

আর তারা (পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা) আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করে বলেছিল, যে ব্যক্তি মারা যাবে, আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। অবশ্যই করবেন; এটি তাঁর ওপর সত্য প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মানুষের অধিকাংশই তা জানে না।

16:39

لِیُبَیِّنَ لَهُمُ الَّذِیْ یَخْتَلِفُوْنَ فِیْهِ وَلِیَعْلَمَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّهُمْ كَانُوْا كٰذِبِیْنَ ۟

(আল্লাহ কিয়ামতের দিন সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন) যেন তিনি তাদের জন্য সে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন, যা নিয়ে তারা মতভেদ করত; আর যাতে কাফিররা জানতে পারে যে তারা মিথ্যাবাদী ছিল।

16:40

اِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَیْءٍ اِذَاۤ اَرَدْنٰهُ اَنْ نَّقُوْلَ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ ۟۠

যখন আমি কোনো কিছুর ইচ্ছা করি(৬), তখন আমি সেটিকে বলি, ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।

16:41

وَالَّذِیْنَ هَاجَرُوْا فِی اللّٰهِ مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوْا لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً ؕ— وَلَاَجْرُ الْاٰخِرَةِ اَكْبَرُ ۘ— لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ ۟ۙ

আর যারা অত্যাচারিত হওয়ার পর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হিজরত করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাস দান করবো। আর আখিরাতের প্রতিদান তো বিশাল, যদি তারা জানত!

16:42

الَّذِیْنَ صَبَرُوْا وَعَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَ ۟

যারা (নিজেদের সম্প্রদায়ের দেয়া কষ্টের ও আল্লাহর আনুগত্যের ওপর) ধৈর্যধারণ করেছে এবং তাদের রবের ওপরই তাওয়াক্কুল করেছে।(৭)

16:43

وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ اِلَّا رِجَالًا نُّوْحِیْۤ اِلَیْهِمْ فَسْـَٔلُوْۤا اَهْلَ الذِّكْرِ اِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ۟ۙ

আর (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে কেবল পুরুষদেরই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি, যাদের প্রতি আমি অহী পাঠাতাম।(৮) সুতরাং তোমরা যদি না জান জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।(৯)

16:44

بِالْبَیِّنٰتِ وَالزُّبُرِ ؕ— وَاَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الذِّكْرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ اِلَیْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ یَتَفَكَّرُوْنَ ۟

(এ মানুষ রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি) সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসমূহ সহকারে এবং (এখন) তোমার প্রতি নাযিল করেছি আল-কুরআন, যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পার, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে। আর যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করতে পারে।

16:45

اَفَاَمِنَ الَّذِیْنَ مَكَرُوا السَّیِّاٰتِ اَنْ یَّخْسِفَ اللّٰهُ بِهِمُ الْاَرْضَ اَوْ یَاْتِیَهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَیْثُ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟ۙ

যারা যারা মন্দ ষড়যন্ত্র করে,(১০) তারা কি নিরাপদ হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদেরসহ জমিন ধসিয়ে দিবেন না?(১১) অথবা এমন জায়গা থেকে তাদের ওপর শাস্তি আসবে না যে, তারা উপলব্ধিও করবে না?

16:46

اَوْ یَاْخُذَهُمْ فِیْ تَقَلُّبِهِمْ فَمَا هُمْ بِمُعْجِزِیْنَ ۟ۙ

অথবা তাদের চলাফেরার মধ্যেই তিনি তাদের পাকড়াও করতে পারেন, তখন তারা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না (অর্থাৎ পালিয়ে বাঁচতে পারবে না)।

16:47

اَوْ یَاْخُذَهُمْ عَلٰی تَخَوُّفٍ ؕ— فَاِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ ۟

কিংবা তিনি তাদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না?(১২) নিশ্চয় তোমাদের রব অতিশয় দয়াশীল, পরম দয়ালু।(১৩)

16:48

اَوَلَمْ یَرَوْا اِلٰی مَا خَلَقَ اللّٰهُ مِنْ شَیْءٍ یَّتَفَیَّؤُا ظِلٰلُهٗ عَنِ الْیَمِیْنِ وَالشَّمَآىِٕلِ سُجَّدًا لِّلّٰهِ وَهُمْ دٰخِرُوْنَ ۟

আল্লাহ যে সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন, তারা কি সে দিকে (চিন্তাশীল দৃষ্টিতে) তাকায়নি, যার ছায়াসমূহ ডানে ও বামে হেলে পড়ে আল্লাহর প্রতি সাজদাবনত হয়, আর তারা একান্ত বিনীত?

16:49

وَلِلّٰهِ یَسْجُدُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ مِنْ دَآبَّةٍ وَّالْمَلٰٓىِٕكَةُ وَهُمْ لَا یَسْتَكْبِرُوْنَ ۟

আর আসমানসমূহে যা আছে এবং জমিনে যে সব প্রাণী আছে, সবাই আল্লাহকেই সাজদাহ করে। আর ফিরিশতাগণও (তাঁরই সাজদাহ করে) এবং তারা (তাঁর ইবাদাত ও আনুগত্য করতে) অহংকার করে না।

16:50

یَخَافُوْنَ رَبَّهُمْ مِّنْ فَوْقِهِمْ وَیَفْعَلُوْنَ مَا یُؤْمَرُوْنَ ۟

তারা তাদের রবকে ভয় করে, যিনি (নিজ সত্তা, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতায়) তাদের সবার ওপরে আছেন এবং তাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয়, তারা তা-ই করে।

16:51

وَقَالَ اللّٰهُ لَا تَتَّخِذُوْۤا اِلٰهَیْنِ اثْنَیْنِ ۚ— اِنَّمَا هُوَ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ— فَاِیَّایَ فَارْهَبُوْنِ ۟

আর আল্লাহ (তাঁর সকল বান্দাদেরকে) বলেছেন: ‘তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ করো না। তিনি তো কেবল এক ইলাহ। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো।’

16:52

وَلَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَلَهُ الدِّیْنُ وَاصِبًا ؕ— اَفَغَیْرَ اللّٰهِ تَتَّقُوْنَ ۟

আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, তা সবই তাঁর এবং সার্বক্ষণিক আনুগত্য তাঁরই প্রাপ্য। তারপরও কি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করছো?

16:53

وَمَا بِكُمْ مِّنْ نِّعْمَةٍ فَمِنَ اللّٰهِ ثُمَّ اِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَاِلَیْهِ تَجْـَٔرُوْنَ ۟ۚ

আর (হে মানুষ!) তোমাদের কাছে যে সব নি‘আমত আছে, তা সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতঃপর যখন তোমাদের দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন (তা দূর করতে) তোমরা ব্যাকুল হয়ে কেবল তাঁকেই ডাকো।(১৪)

16:54

ثُمَّ اِذَا كَشَفَ الضُّرَّ عَنْكُمْ اِذَا فَرِیْقٌ مِّنْكُمْ بِرَبِّهِمْ یُشْرِكُوْنَ ۟ۙ

অতঃপর তিনি যখন (দু‘আ কবুল করে) তোমাদের থেকে দুঃখ-দুর্দশা দূর করে দেন, তখন তোমাদের মধ্যে একদল তাদের রবের সাথে শিরক করে।

16:55

لِیَكْفُرُوْا بِمَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ ؕ— فَتَمَتَّعُوْا ۫— فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ۟

আমি তাদেরকে যা (যে নি‘আমতরাজি) দিয়েছি, তা অস্বীকার করার জন্য। অতএব (হে মানুষ!) তোমরা (আল্লাহর নি‘আমতরাজি) ভোগ করতে থাকো, অচিরেই (অকৃতজ্ঞতার শাস্তি সম্পর্কে) তোমরা জানতে পারবে ।

16:56

وَیَجْعَلُوْنَ لِمَا لَا یَعْلَمُوْنَ نَصِیْبًا مِّمَّا رَزَقْنٰهُمْ ؕ— تَاللّٰهِ لَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَفْتَرُوْنَ ۟

আর তারা যা (মূর্তিসমূহ) কিছুই জানে না, তার জন্য আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি সেখান থেকে একটি অংশ নির্ধারণ করে। আল্লাহর কসম! তোমরা (তাঁর উপর) যা মিথ্যা রচনা করতে, সে সম্পর্কে তোমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

16:57

وَیَجْعَلُوْنَ لِلّٰهِ الْبَنٰتِ سُبْحٰنَهٗ ۙ— وَلَهُمْ مَّا یَشْتَهُوْنَ ۟

আর তারা (মুশরিকরা) আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান নির্ধারণ করে, যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র। আর তারা নিজেদের জন্য তা-ই নির্ধারণ করে (পুত্র সন্তান), যা তারা কামনা করে।

16:58

وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمْ بِالْاُ ظَلَّ وَجْهُهٗ مُسْوَدًّا وَّهُوَ كَظِیْمٌ ۟ۚ

আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়; তখন (দুঃখে-অপছন্দে) তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত।(১৫)

16:59

یَتَوَارٰی مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوْٓءِ مَا بُشِّرَ بِهٖ ؕ— اَیُمْسِكُهٗ عَلٰی هُوْنٍ اَمْ یَدُسُّهٗ فِی التُّرَابِ ؕ— اَلَا سَآءَ مَا یَحْكُمُوْنَ ۟

তাকে (কন্যা সন্তানের) যে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে স্বজাতির লোকসমাজ থেকে আত্মগোপন করে। সে চিন্তা করে, অপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দিবে, না কি (জীবন্ত কবর দিয়ে) মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখো, তারা যা সিদ্ধান্ত করে, তা কতই না নিকৃষ্ট!

16:60

لِلَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ ۚ— وَلِلّٰهِ الْمَثَلُ الْاَعْلٰی ؕ— وَهُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟۠

যারা আখিরাতে ঈমান রাখে না, তাদের জন্য রয়েছে যাবতীয় মন্দ গুণাবলি (১৬) এবং আল্লাহর জন্য রয়েছে যাবতীয় মহান গুণাবলি।(১৭) আর তিনিই মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

16:61

وَلَوْ یُؤَاخِذُ اللّٰهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِمْ مَّا تَرَكَ عَلَیْهَا مِنْ دَآبَّةٍ وَّلٰكِنْ یُّؤَخِّرُهُمْ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ— فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ لَا یَسْتَاْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا یَسْتَقْدِمُوْنَ ۟

আর আল্লাহ যদি মানবজাতিকে তাদের যুলমের কারণে (শাস্তি দিয়ে) পাকড়াও করতেন, তবে তাতে (জমিনে) কোনো বিচরণকারী প্রাণীকেই ছাড়তেন না। তবে আল্লাহ তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (শাস্তি না দিয়ে) অবকাশ দেন। যখন তাদের নির্দিষ্ট সময় চলে আসে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারে না এবং আগাতেও পারে না।

16:62

وَیَجْعَلُوْنَ لِلّٰهِ مَا یَكْرَهُوْنَ وَتَصِفُ اَلْسِنَتُهُمُ الْكَذِبَ اَنَّ لَهُمُ الْحُسْنٰی ؕ— لَا جَرَمَ اَنَّ لَهُمُ النَّارَ وَاَنَّهُمْ مُّفْرَطُوْنَ ۟

আর তারা যা (যে কন্যা সন্তান) অপছন্দ করে, তাই তারা আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে। আর তাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, (তারা সত্যিই পুনরুত্থিত হলে) নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম। নিঃসন্দেহে তাদের জন্য রয়েছে, জাহান্নামের আগুন এবং নিশ্চয় দ্রুত তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে।

16:63

تَاللّٰهِ لَقَدْ اَرْسَلْنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَزَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَهُوَ وَلِیُّهُمُ الْیَوْمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟

আল্লাহর শপথ! (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে বহু জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি; কিন্তু শয়তান ঐসব জাতির (নিকৃষ্ট) আমলসমূহকে(১৮) তাদের কাছে সুশোভিত করেছে। তাই সে আজ তাদের অভিভাবক। আর তাদেরই জন্য রয়েছে, (কিয়ামতের দিন) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

16:64

وَمَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْكَ الْكِتٰبَ اِلَّا لِتُبَیِّنَ لَهُمُ الَّذِی اخْتَلَفُوْا فِیْهِ ۙ— وَهُدًی وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟

আর (হে রাসূল!) আমি তোমার ওপর কিতাব (আল-কুরআন) নাযিল করেছি, শুধু এ জন্য যে, তারা যে বিষয়ে বিতর্ক করছে, তা তাদের জন্য তুমি স্পষ্ট করে দিবে এবং (এটি) হিদায়াত ও রহমত সেই জাতির জন্য যারা ঈমান আনে।

16:65

وَاللّٰهُ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحْیَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّسْمَعُوْنَ ۟۠

আর আল্লাহ আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দিয়ে জমিনকে তার মৃত্যুর পর উজ্জীবিত করেন।(১৯) নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য, যারা (আল্লাহর বাণী) শুনে।

16:66

وَاِنَّ لَكُمْ فِی الْاَنْعَامِ لَعِبْرَةً ؕ— نُسْقِیْكُمْ مِّمَّا فِیْ بُطُوْنِهٖ مِنْ بَیْنِ فَرْثٍ وَّدَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآىِٕغًا لِّلشّٰرِبِیْنَ ۟

আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুতে রয়েছে, তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। তার পেটের ভেতরের (নোংরা) গোবর ও (অপবিত্র) রক্তের মধ্যখান থেকে তোমাদেরকে আমি খাঁটি দুধ পান করাই এবং যা পানকারীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর।

16:67

وَمِنْ ثَمَرٰتِ النَّخِیْلِ وَالْاَعْنَابِ تَتَّخِذُوْنَ مِنْهُ سَكَرًا وَّرِزْقًا حَسَنًا ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ۟

আর (তোমাদের জন্য আরো শিক্ষা রয়েছে যে,) তোমরা খেজুর গাছের ফল ও আঙুর থেকে মাদক ও উত্তম রিযক গ্রহণ কর। নিশ্চয় এতে বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।(২০)

16:68

وَاَوْحٰی رَبُّكَ اِلَی النَّحْلِ اَنِ اتَّخِذِیْ مِنَ الْجِبَالِ بُیُوْتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا یَعْرِشُوْنَ ۟ۙ

আর (হে রাসূল!) তোমার রব মৌমাছিকে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন যে, ‘তুমি পাহাড়ের গায়ে ও গাছের ডালে এবং তারা (মানুষ) যে গৃহ নির্মাণ করে, তাতে ঘর বানাও।’

16:69

ثُمَّ كُلِیْ مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسْلُكِیْ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ؕ— یَخْرُجُ مِنْ بُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ فِیْهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ ۟

অতঃপর তুমি প্রত্যেক ফল থেকে আহার করো এবং তুমি তোমার রবের সহজ পথে চলো। তার পেট থেকে এমন পানীয় বের হয়, যার রং ভিন্ন ভিন্ন, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য রোগ নিরাময়। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্য, যারা (আল্লাহর অসীম শক্তি এবং তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে) চিন্তা-ভাবনা করে।

16:70

وَاللّٰهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ یَتَوَفّٰىكُمْ وَمِنْكُمْ مَّنْ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَیْ لَا یَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍ شَیْـًٔا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌ قَدِیْرٌ ۟۠

আর আল্লাহই তোমাদের (পূর্বের নমুনা ছাড়াই) সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান। আর তোমাদের মধ্যে এমনও আছে, যাকে বার্ধক্যের নিকৃষ্টতম অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে সে জ্ঞান লাভ করার পর আবার কিছুই না জানে।(২১) নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

16:71

وَاللّٰهُ فَضَّلَ بَعْضَكُمْ عَلٰی بَعْضٍ فِی الرِّزْقِ ۚ— فَمَا الَّذِیْنَ فُضِّلُوْا بِرَآدِّیْ رِزْقِهِمْ عَلٰی مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ فَهُمْ فِیْهِ سَوَآءٌ ؕ— اَفَبِنِعْمَةِ اللّٰهِ یَجْحَدُوْنَ ۟

আর আল্লাহ রিযক দেয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের কাউকে কারো ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন; কিন্তু যাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, তারা তাদের রিযক অধীনস্থ দাসদাসীদেরকে এমনভাবে ফিরিয়ে দেয় না যে, তারা তাতে (মালিকানায়) তাদের সমান হয়ে যাবে।(২২) তবে তারা কি (আল্লাহর জন্য তাঁরই বান্দাদের মধ্য থেকে শরিক সাব্যস্ত করে) আল্লাহর নি‘আমতকে অস্বীকার করছে?

16:72

وَاللّٰهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا وَّجَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَزْوَاجِكُمْ بَنِیْنَ وَحَفَدَةً وَّرَزَقَكُمْ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ— اَفَبِالْبَاطِلِ یُؤْمِنُوْنَ وَبِنِعْمَتِ اللّٰهِ هُمْ یَكْفُرُوْنَ ۟ۙ

আর (হে মানুষ!) আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই জোড়া (স্ত্রীদেরকে) সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের সেই জোড়া (স্বামী-স্ত্রী) থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি তোমাদেরকে পবিত্র রিযক দান করেছেন। তবুও তারা কি বাতিলে (মূর্তি ও প্রতিমাতে) বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর নি‘আমতকে অস্বীকার করেই যাবে?

16:73

وَیَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَمْلِكُ لَهُمْ رِزْقًا مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ شَیْـًٔا وَّلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ ۟ۚ

আর তারা (মুশরিকরা) আল্লাহ ছাড়া এমন কিছু মূর্তির ইবাদত করে, যারা আসমানসমূহ ও জমিন থেকে তাদের জন্য কোনো রিযকের মালিক নয়। আর তারা তা করতেও সক্ষম নয়।(২৩)

16:74

فَلَا تَضْرِبُوْا لِلّٰهِ الْاَمْثَالَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ۟

সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো দৃষ্টান্ত (সদৃশ) স্থাপন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জান না।

16:75

ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا عَبْدًا مَّمْلُوْكًا لَّا یَقْدِرُ عَلٰی شَیْءٍ وَّمَنْ رَّزَقْنٰهُ مِنَّا رِزْقًا حَسَنًا فَهُوَ یُنْفِقُ مِنْهُ سِرًّا وَّجَهْرًا ؕ— هَلْ یَسْتَوٗنَ ؕ— اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ؕ— بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟

আল্লাহ উপমা দিচ্ছেন অন্যের অধিকারভুক্ত একজন দাসের, যে কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতা রাখে না এবং একজন (স্বাধীন লোকের) যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দিয়েছি, অতঃপর সে তা থেকে (ইচ্ছেমতো) গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে। তারা কি উভয়ে সমান হতে পারে?(২৪) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।

16:76

وَضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا رَّجُلَیْنِ اَحَدُهُمَاۤ اَبْكَمُ لَا یَقْدِرُ عَلٰی شَیْءٍ وَّهُوَ كَلٌّ عَلٰی مَوْلٰىهُ ۙ— اَیْنَمَا یُوَجِّهْهُّ لَا یَاْتِ بِخَیْرٍ ؕ— هَلْ یَسْتَوِیْ هُوَ ۙ— وَمَنْ یَّاْمُرُ بِالْعَدْلِ ۙ— وَهُوَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۟۠

আর আল্লাহ (তাদের প্রসঙ্গে আরেকটি) উপমা দিচ্ছেন, দু’জন ব্যক্তির: তাদের একজন বোবা, যে কোন কিছুর ওপর ক্ষমতা রাখে না, উপরন্তু সে তার মনিবের ওপর বোঝা। তাকে যেখানেই পাঠানো হয়, কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য, যে ন্যায়ের আদেশ করে এবং সরল-সঠিক পথের ওপর বিদ্যমান রয়েছে?(২৫)

16:77

وَلِلّٰهِ غَیْبُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— وَمَاۤ اَمْرُ السَّاعَةِ اِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ اَوْ هُوَ اَقْرَبُ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۟

আর আসমানসমূহ ও জমিনের গায়িবী বিষয় আল্লাহরই। আর কিয়ামতের ব্যাপারটি শুধু চোখের পলকের ন্যায় (অতিদ্রুত সংঘটিত হয়ে যাবে); কিংবা তা আরো সন্নিকটে। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

16:78

وَاللّٰهُ اَخْرَجَكُمْ مِّنْ بُطُوْنِ اُمَّهٰتِكُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ شَیْـًٔا ۙ— وَّجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْاَبْصَارَ وَالْاَفْـِٕدَةَ ۙ— لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ ۟

আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করে এনেছেন যে, তোমরা তখন কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তর, যাতে তোমরা (আল্লাহর নি‘আমতের) কৃতজ্ঞতা আদায় করো।

16:79

اَلَمْ یَرَوْا اِلَی الطَّیْرِ مُسَخَّرٰتٍ فِیْ جَوِّ السَّمَآءِ ؕ— مَا یُمْسِكُهُنَّ اِلَّا اللّٰهُ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟

তারা (মুশরিকরা) কি শূন্য আকাশে (উড়ন্ত অবস্থায়) নিয়ন্ত্রণাধীন পাখিগুলোর প্রতি লক্ষ্য করে না, আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদেরকে (পড়ে যাওয়া থেকে বাতাসে) ধরে রাখেন না? নিশ্চয় এতে মু’মিনদের জন্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে ।

16:80

وَاللّٰهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ بُیُوْتِكُمْ سَكَنًا وَّجَعَلَ لَكُمْ مِّنْ جُلُوْدِ الْاَنْعَامِ بُیُوْتًا تَسْتَخِفُّوْنَهَا یَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَیَوْمَ اِقَامَتِكُمْ ۙ— وَمِنْ اَصْوَافِهَا وَاَوْبَارِهَا وَاَشْعَارِهَاۤ اَثَاثًا وَّمَتَاعًا اِلٰی حِیْنٍ ۟

আর আল্লাহই তোমাদের ঘরগুলোকে তোমাদের জন্য করেছেন প্রশান্তির আবাসস্থল এবং তোমাদের পশুর চামড়া দিয়ে তাঁবুর ব্যবস্থা করেছেন, যা খুব সহজেই তোমরা ভ্রমণকালে ও অবস্থানকালে বহন করতে পার। আর তাদের পশম, লোম ও চুল দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (উপকৃত হতে) গৃহসামগ্রী ও ভোগ-উপকরণ তিনি বানিয়েছেন।

16:81

وَاللّٰهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّمَّا خَلَقَ ظِلٰلًا وَّجَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْجِبَالِ اَكْنَانًا وَّجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِیْلَ تَقِیْكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِیْلَ تَقِیْكُمْ بَاْسَكُمْ ؕ— كَذٰلِكَ یُتِمُّ نِعْمَتَهٗ عَلَیْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُوْنَ ۟

আর আল্লাহ (গাছপালা ও ঘরবাড়ি) যা সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং পাহাড়ের মাঝে (সুড়ঙ্গ পথ, গর্ত ও গুহা তৈরি করে) তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন। আর ব্যবস্থা করেছেন পোশাকের, যা তোমাদেরকে গরম থেকে রক্ষা করে এবং বর্মেরও ব্যবস্থা করেছেন যা তোমাদেরকে তোমাদের যুদ্ধের সময় রক্ষা করে। এভাবেই তিনি তোমাদের ওপর তার নি‘আমতকে পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা অনুগত হও।

16:82

فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّمَا عَلَیْكَ الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ ۟

সুতরাং (হে রাসূল!) তারা যদি (ঈমান আনা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।

16:83

یَعْرِفُوْنَ نِعْمَتَ اللّٰهِ ثُمَّ یُنْكِرُوْنَهَا وَاَكْثَرُهُمُ الْكٰفِرُوْنَ ۟۠

তারা (মুশরিকরা) আল্লাহর নি‘আমত(২৬) ভালোভাবেই চিনে; তারপরও তারা তা অস্বীকার করে। আর তাদের অধিকাংশই কাফির।

16:84

وَیَوْمَ نَبْعَثُ مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ شَهِیْدًا ثُمَّ لَا یُؤْذَنُ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَلَا هُمْ یُسْتَعْتَبُوْنَ ۟

আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো, যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন (রাসূলকে) সাক্ষী হিসেবে উত্থিত করবো। তারপর যারা কুফরী করেছে, তাদেরকে (ওযর পেশের) অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাদেরকে (দুনিয়াতে ফিরে আমল করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য) তাওবা করতে বলা হবে না।

16:85

وَاِذَا رَاَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوا الْعَذَابَ فَلَا یُخَفَّفُ عَنْهُمْ وَلَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ ۟

আর যারা যুলম করেছে, তারা যখন (সেদিন চোখের সামনে ) শাস্তি দেখবে, তখন তাদের ওপর থেকে শাস্তি সামান্যও কমানো হবে না এবং তাদেরকে (শাস্তি বিলম্বে দিতে কোন) অবকাশও দেয়া হবে না।

16:86

وَاِذَا رَاَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْا شُرَكَآءَهُمْ قَالُوْا رَبَّنَا هٰۤؤُلَآءِ شُرَكَآؤُنَا الَّذِیْنَ كُنَّا نَدْعُوْا مِنْ دُوْنِكَ ۚ— فَاَلْقَوْا اِلَیْهِمُ الْقَوْلَ اِنَّكُمْ لَكٰذِبُوْنَ ۟ۚ

আর যারা শিরক করেছে, তারা যখন (পরকালে) তাদের শরীকদের দেখবে, তখন বলবে: ‘হে আমাদের রব! এরা হলো আমাদের শরীক, (দুনিয়াতে) যাদেরকে আমরা আপনার পরিবর্তে ইবাদাত করতাম।’ অতঃপর তারা (উপাস্যগুলো) তাদের প্রতি উত্তরে বলবে: ‘নিশ্চয় তোমরা মিথ্যাবাদী।’(২৭)

16:87

وَاَلْقَوْا اِلَی اللّٰهِ یَوْمَىِٕذِ ١لسَّلَمَ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ۟

সেদিন তারা (মুশরিকরা) আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যে মিথ্যা রটাত(২৮), তা উধাও হয়ে যাবে।

16:88

اَلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ زِدْنٰهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوْا یُفْسِدُوْنَ ۟

যারা কুফরী করেছে এবং (অন্যদেরকে) আল্লাহর পথে বাধা দিয়েছে, আমি (সেদিন ) তাদেরকে শাস্তির ওপর শাস্তি বাড়িয়ে দিবো। কারণ তারা (নিজেদেরকে ও অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট করে) ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতো।

16:89

وَیَوْمَ نَبْعَثُ فِیْ كُلِّ اُمَّةٍ شَهِیْدًا عَلَیْهِمْ مِّنْ اَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِیْدًا عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ ؕ— وَنَزَّلْنَا عَلَیْكَ الْكِتٰبَ تِبْیَانًا لِّكُلِّ شَیْءٍ وَّهُدًی وَّرَحْمَةً وَّبُشْرٰی لِلْمُسْلِمِیْنَ ۟۠

আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো, যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছে, তাদের থেকেই তাদের বিরুদ্ধে একজন (রাসূলকে) সাক্ষী হিসেবে উত্থিত করব এবং তোমাকে তাদের সকলের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে হাযির করব। আর আমি তোমার ওপর কিতাব (আল-কুরআন) নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য (অপেক্ষমাণ স্থায়ী জান্নাতের) সুসংবাদস্বরূপ।

16:90

اِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْاِحْسَانِ وَاِیْتَآئِ ذِی الْقُرْبٰی وَیَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْیِ ۚ— یَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ ۟

নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফ(২৯), সদাচার(৩০) ও নিকট আত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি আশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো।

16:91

وَاَوْفُوْا بِعَهْدِ اللّٰهِ اِذَا عٰهَدْتُّمْ وَلَا تَنْقُضُوا الْاَیْمَانَ بَعْدَ تَوْكِیْدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللّٰهَ عَلَیْكُمْ كَفِیْلًا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ ۟

আর তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো যখন পরস্পর অঙ্গীকার করো। আর তোমরা কোন অঙ্গীকার আল্লাহর শপথ করে পাকাপোক্ত করার পর তা ভঙ্গ করো না, যেহেতু তোমরা (অঙ্গীকার পূরণের ক্ষেত্রে) নিজেদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা করো।

16:92

وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّتِیْ نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ اَنْكَاثًا ؕ— تَتَّخِذُوْنَ اَیْمَانَكُمْ دَخَلًا بَیْنَكُمْ اَنْ تَكُوْنَ اُمَّةٌ هِیَ اَرْبٰی مِنْ اُمَّةٍ ؕ— اِنَّمَا یَبْلُوْكُمُ اللّٰهُ بِهٖ ؕ— وَلَیُبَیِّنَنَّ لَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ مَا كُنْتُمْ فِیْهِ تَخْتَلِفُوْنَ ۟

আর তোমরা (অঙ্গীকার ভঙ্গের ব্যাপারে) সে (নির্বোধ) নারীর মত হয়ো না, যে তার পাকানো সূতো শক্ত করে পাকানোর পর পাক খুলে (আগের ন্যায় বানিয়ে) নষ্ট করে দেয়। তোমরা তোমাদের ওপর অঙ্গীকারকে নিজেদের মধ্যে প্রতারণা হিসেবে গ্রহণ করছ (এই উদ্দেশ্যে) যে, একদল অপর দলের চেয়ে বেশী লাভবান হয়। আসলে আল্লাহ তো এর মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করেন। আর নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের জন্য কিয়ামতের দিনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিবেন সেসব বিষয়, যা নিয়ে তোমরা (দুনিয়াতে) মতবিরোধ করতে।

16:93

وَلَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّلٰكِنْ یُّضِلُّ مَنْ یَّشَآءُ وَیَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ— وَلَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟

আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে (সত্যের ওপর ঐক্যমত্য) এক জাতিতে পরিণত করতে পারবেন; কিন্তু আল্লাহ (নিজ ইনসাফের ভিত্তিতে) যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। তোমরা যা করতে, সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদেরকে (কিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসা করা হবে।

16:94

وَلَا تَتَّخِذُوْۤا اَیْمَانَكُمْ دَخَلًا بَیْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌ بَعْدَ ثُبُوْتِهَا وَتَذُوْقُوا السُّوْٓءَ بِمَا صَدَدْتُّمْ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۚ— وَلَكُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ ۟

আর তোমরা তোমাদের অঙ্গীকারগুলোকে তোমাদের পরস্পর প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করো না। (যদি এরূপ করো) তাহলে (সঠিক পথের ওপর) পা অবিচল হওয়ার পরও তা পিছলে যাবে এবং তোমরা আল্লাহর রাস্তায় (মানুষকে) বাধা দেওয়ার কারণে শাস্তি আস্বাদন করতে হবে। আর তোমাদের জন্য রয়েছে, (জাহান্নামের) মহা শাস্তি।

16:95

وَلَا تَشْتَرُوْا بِعَهْدِ اللّٰهِ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؕ— اِنَّمَا عِنْدَ اللّٰهِ هُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ۟

আর তোমরা তুচ্ছ মূল্যে আল্লাহর সাথে কৃৎ অঙ্গীকার বিক্রি (ভঙ্গ) করো না। আল্লাহর কাছে যা আছে(৩১), তা-ই তোমাদের জন্যে উত্তম, যদি তোমরা জানতে।

16:96

مَا عِنْدَكُمْ یَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللّٰهِ بَاقٍ ؕ— وَلَنَجْزِیَنَّ الَّذِیْنَ صَبَرُوْۤا اَجْرَهُمْ بِاَحْسَنِ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟

(হে মানুষ!) তোমাদের কাছে (পার্থিব ধন-সম্পদ, ভোগ-বিলাস) যা আছে, তা নিঃশেষ হয়ে যাবে (তা যতোই বেশি হোক)। আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা চিরস্থায়ী। আর যারা ধৈর্যধারণ করেছে, তারা যা (নেক আমল) করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিবো।(৩২)

16:97

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْیِیَنَّهٗ حَیٰوةً طَیِّبَةً ۚ— وَلَنَجْزِیَنَّهُمْ اَجْرَهُمْ بِاَحْسَنِ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟

যে মু’মিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন(৩৩) দান করবো এবং (দুনিয়াতে) তারা যা (নেক আমল) করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি (পরকালে) তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিবো।(৩৪)

16:98

فَاِذَا قَرَاْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّیْطٰنِ الرَّجِیْمِ ۟

সুতরাং (হে মু’মিন!) যখন তুমি আল-কুরআন তিলাওয়াত করবে, তখন আল্লাহর কাছে বিতাড়িত (অভিশপ্ত) শয়তান হতে আশ্রয় চাও।

16:99

اِنَّهٗ لَیْسَ لَهٗ سُلْطٰنٌ عَلَی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَ ۟

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল করেছে, তাদের ওপর শয়তানের কোনো আধিপত্য নেই।

16:100

اِنَّمَا سُلْطٰنُهٗ عَلَی الَّذِیْنَ یَتَوَلَّوْنَهٗ وَالَّذِیْنَ هُمْ بِهٖ مُشْرِكُوْنَ ۟۠

তার (শয়তানের) আধিপত্য তো কেবল তাদের ওপর, যারা তাকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে এবং যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে।

16:101

وَاِذَا بَدَّلْنَاۤ اٰیَةً مَّكَانَ اٰیَةٍ ۙ— وَّاللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا یُنَزِّلُ قَالُوْۤا اِنَّمَاۤ اَنْتَ مُفْتَرٍ ؕ— بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟

আর আমি যখন (আল-কুরআনের) একটি আয়াতের স্থানে পরিবর্তন করে আরেকটি আয়াত দেই- আল্লাহই ভালো জানেন সে সম্পর্কে, যা তিনি নাযিল করবেন- তখন তারা বলে: ‘তুমি তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী।’ রবং (আয়াত রহিত হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর চূড়ান্ত হিকমত সম্পর্কে) তাদের অধিকাংশই জানে না।

16:102

قُلْ نَزَّلَهٗ رُوْحُ الْقُدُسِ مِنْ رَّبِّكَ بِالْحَقِّ لِیُثَبِّتَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَهُدًی وَّبُشْرٰی لِلْمُسْلِمِیْنَ ۟

(হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘রূহুল কুদুস (জিবরীল) একে তোমার রবের পক্ষ হতে যথাযথভাবে নাযিল করেছেন, যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে (ঈমানের ওপর) সুদৃঢ় করার জন্যে, উপরন্তু এটি (তাদের জন্যে) হিদায়াত ও মুসলিমদের জন্যে সুসংবাদস্বরূপ।

16:103

وَلَقَدْ نَعْلَمُ اَنَّهُمْ یَقُوْلُوْنَ اِنَّمَا یُعَلِّمُهٗ بَشَرٌ ؕ— لِسَانُ الَّذِیْ یُلْحِدُوْنَ اِلَیْهِ اَعْجَمِیٌّ وَّهٰذَا لِسَانٌ عَرَبِیٌّ مُّبِیْنٌ ۟

আর (হে নবী,) আমি অবশ্যই জানি যে, (তোমার এবং আল-কুরআনের বিষয়ে এদের ধারণা কী ?) তারা (মুশরিকরা) বলে, তাকে তো শিক্ষা দেয় একজন মানুষ(৩৫), যার দিকে তারা ইঙ্গিত করছে, তার ভাষা হচ্ছে অনারবী। অথচ এটা (আল-কুরআন) হচ্ছে, সুস্পষ্ট আরবী ভাষা।

16:104

اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۙ— لَا یَهْدِیْهِمُ اللّٰهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟

নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে না, আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে (জাহান্নামের) যন্ত্রদায়ক শাস্তি।

16:105

اِنَّمَا یَفْتَرِی الْكَذِبَ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۚ— وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْكٰذِبُوْنَ ۟

শুধু তারাই মিথ্যা রটায়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না। আর এ কাফিররাই মিথ্যাবাদী।

16:106

مَنْ كَفَرَ بِاللّٰهِ مِنْ بَعْدِ اِیْمَانِهٖۤ اِلَّا مَنْ اُكْرِهَ وَقَلْبُهٗ مُطْمَىِٕنٌّۢ بِالْاِیْمَانِ وَلٰكِنْ مَّنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَیْهِمْ غَضَبٌ مِّنَ اللّٰهِ ۚ— وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ ۟

যে (একবার) ঈমান আনার পর (ফের) আল্লাহর সাথে কুফরী করেছে এবং কুফরীর জন্য তার হৃদয়কে উন্মুক্ত রেখেছে, (অর্থাৎ সে মনেপ্রাণে কুফুরীকে পছন্দ করে) তাদের ওপর আপতিত হবে আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি। ঐ ব্যক্তি ছাড়া যাকে কুফরীর জন্য বাধ্য করা হয়েছে; অথচ তার অন্তর থাকে ঈমানে পরিতৃপ্ত (অবিচলিত)।

16:107

ذٰلِكَ بِاَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا عَلَی الْاٰخِرَةِ ۙ— وَاَنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْكٰفِرِیْنَ ۟

এটা (৩৬) এ জন্য যে, তারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পছন্দ করেছে। আর নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।

16:108

اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ طَبَعَ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَاَبْصَارِهِمْ ۚ— وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ ۟

এরাই তারা, আল্লাহ যাদের অন্তরসমূহ, শ্রবণসমূহ ও দৃষ্টিসমূহের ওপর মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই হচ্ছে (আল্লাহর শাস্তি থেকে) গাফিল।

16:109

لَا جَرَمَ اَنَّهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ ۟

নিঃসন্দেহ, তারাই আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত।

16:110

ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِیْنَ هَاجَرُوْا مِنْ بَعْدِ مَا فُتِنُوْا ثُمَّ جٰهَدُوْا وَصَبَرُوْۤا ۙ— اِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟۠

তারপর যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করেছে, অতঃপর জিহাদ করেছে এবং (কষ্ট-ক্লেশে) ধৈর্যধারণ করেছে, নিশ্চয় তোমার রব তাদের জন্য এ সবের পর(৩৭), অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

16:111

یَوْمَ تَاْتِیْ كُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلُ عَنْ نَّفْسِهَا وَتُوَفّٰی كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۟

(হে রাসূল! স্মরণ করো সে দিনের কথা) যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পক্ষে যুক্তি-তর্ক নিয়ে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার (ভালো-মন্দ) আমলের প্রতিদান পরিপূর্ণরূপে দেয়া হবে; অথচ (সাওয়াব কমিয়ে ও গুনাহ বাড়িয়ে) তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।

16:112

وَضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا قَرْیَةً كَانَتْ اٰمِنَةً مُّطْمَىِٕنَّةً یَّاْتِیْهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِّنْ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِاَنْعُمِ اللّٰهِ فَاَذَاقَهَا اللّٰهُ لِبَاسَ الْجُوْعِ وَالْخَوْفِ بِمَا كَانُوْا یَصْنَعُوْنَ ۟

আর আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন একটি জনপদের (মক্কার), যা ছিল নিরাপদ ও শান্ত। সেখানে সবদিক থেকে প্রচুর জীবনোপকরণ আসতো। অতঃপর সে (জনপদের অধিবাসীরা) আল্লাহর নি‘আমত অস্বীকার করলো। তখন তারা যা (যে কুফরী) করতো তার কারণে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাক পরালেন।

16:113

وَلَقَدْ جَآءَهُمْ رَسُوْلٌ مِّنْهُمْ فَكَذَّبُوْهُ فَاَخَذَهُمُ الْعَذَابُ وَهُمْ ظٰلِمُوْنَ ۟

আর অবশ্যই তাদের (মক্কার অধিবাসীদের) কাছে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল (মুহাম্মাদ) এসেছিল। কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল। ফলে (ক্ষুধা ও ভয়ের ন্যায় আল্লাহর ) শাস্তি তাদের পাকড়াও করেছিল এমতাবস্থায় যে, তারা (তখন) ছিল যুলমকারী।

16:114

فَكُلُوْا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُ حَلٰلًا طَیِّبًا ۪— وَّاشْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ اِنْ كُنْتُمْ اِیَّاهُ تَعْبُدُوْنَ ۟

অতএব (হে বান্দারা!) আল্লাহ তোমাদেরকে যে হালাল ও পবিত্র রিযক দিয়েছেন, তোমরা তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদাত করে থাকো।

16:115

اِنَّمَا حَرَّمَ عَلَیْكُمُ الْمَیْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِیْرِ وَمَاۤ اُهِلَّ لِغَیْرِ اللّٰهِ بِهٖ ۚ— فَمَنِ اضْطُرَّ غَیْرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟

আল্লাহ তো তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যে জন্তুর যবহকালে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নাম নেয়া হয়েছে। কিন্তু যে নিরুপায় হয়ে, অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়ে; কারণ, আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

16:116

وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَا تَصِفُ اَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هٰذَا حَلٰلٌ وَّهٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوْا عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ ؕ— اِنَّ الَّذِیْنَ یَفْتَرُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ لَا یُفْلِحُوْنَ ۟ؕ

আর (হে মুশরিকরা!) তোমাদের জিহ্বা যে মিথ্যা বিবৃত করে তার ওপর নির্ভর করে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা রটানোর উদ্দেশ্যে বলো না যে, ‘এটা হালাল এবং এটা হারাম।’ নিশ্চয় যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।

16:117

مَتَاعٌ قَلِیْلٌ ۪— وَّلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟

(দুনিয়াতে) তাদের সুখ-সম্ভোগ সামান্যই এবং (পরকালে) তাদের জন্য রয়েছে, যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

16:118

وَعَلَی الَّذِیْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا مَا قَصَصْنَا عَلَیْكَ مِنْ قَبْلُ ۚ— وَمَا ظَلَمْنٰهُمْ وَلٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۟

আর ইয়াহুদীদের ওপরও আমি তা-ই হারাম করেছি, যা আমি ইতঃপূর্বে(৩৮) তোমার কাছে বর্ণনা করেছি এবং আমি তাদের ওপর যুলম করিনি; বরং তারাই (শাস্তিযোগ্য কাজ করে) নিজেদের ওপর যুলম করতো।

16:119

ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِیْنَ عَمِلُوا السُّوْٓءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوْا مِنْ بَعْدِ ذٰلِكَ وَاَصْلَحُوْۤا اِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟۠

তারপর যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করেছে, এরপর তারা (আল্লাহর নিকট) তাওবা করেছে এবং (মন্দ আমলগুলো) সংশোধন করেছে, নিশ্চয় তোমার রব তাওবা করার পর তাদের জন্য পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।

16:120

اِنَّ اِبْرٰهِیْمَ كَانَ اُمَّةً قَانِتًا لِّلّٰهِ حَنِیْفًا ؕ— وَلَمْ یَكُ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ ۟ۙ

নিশ্চয় ইবরাহীম ছিলো একাই একটি উম্মাহ(৩৯), আল্লাহর একান্ত অনুগত ও একনিষ্ঠ। সে কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলো না।

16:121

شَاكِرًا لِّاَنْعُمِهٖ ؕ— اِجْتَبٰىهُ وَهَدٰىهُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۟

সে ছিল আল্লাহর নি‘আমতরাজির কৃতজ্ঞতা আদায়কারী। তিনি তাকে (নবুওয়াতের জন্য) বাছাই করেছেন এবং তাকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন।

16:122

وَاٰتَیْنٰهُ فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً ؕ— وَاِنَّهٗ فِی الْاٰخِرَةِ لَمِنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟ؕ

আর আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ(৪০) দান করেছি এবং নিঃসন্দেহে সে আখিরাতে নেককারদের দলভুক্ত।

16:123

ثُمَّ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ اَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ— وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ ۟

অতঃপর (হে রাসূল!) আমি তোমার প্রতি অহী প্রেরণ করেছি এ মর্মে যে, তুমি ইবরাহীমকে অনুসরণ করো, যে ছিলো একনিষ্ঠ এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

16:124

اِنَّمَا جُعِلَ السَّبْتُ عَلَی الَّذِیْنَ اخْتَلَفُوْا فِیْهِ ؕ— وَاِنَّ رَبَّكَ لَیَحْكُمُ بَیْنَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ فِیْمَا كَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ۟

(হে রাসূল, ) শনিবার (পালন) তো তাদের (ইয়াহুদীদের) ওপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যারা তাতে মতবিরোধ করেছে। আর নিশ্চয় তোমার রব কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে বিচার ফয়সালা করে দিবেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করতো।

16:125

اُدْعُ اِلٰی سَبِیْلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ ؕ— اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ وَهُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ ۟

(হে রাসূল!) তুমি তোমরা রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দাও এবং (প্রয়োজনে কথা, চিন্তা ও শিষ্টাচারের) উত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক করো। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রবই জানেন, কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং তিনিই হিদায়াতপ্রাপ্তদের খুব ভালো করেই জানেন।

16:126

وَاِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوْا بِمِثْلِ مَا عُوْقِبْتُمْ بِهٖ ؕ— وَلَىِٕنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَیْرٌ لِّلصّٰبِرِیْنَ ۟

আর যদি তোমরা (শত্রুদেরকে) শাস্তি দিতে দাও, তবে ঠিক ততটুকু শাস্তি দাও যতটুকু (শাস্তি ইতঃপূর্বে) তোমাদের দেয়া হয়েছে। আর যদি (শক্তি থাকা সত্ত্বেও শাস্তি না দিয়ে) তোমরা ধৈর্যধারণ করো, তবে ধৈর্যশীলদের জন্য সেটাই উত্তম।

16:127

وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ اِلَّا بِاللّٰهِ وَلَا تَحْزَنْ عَلَیْهِمْ وَلَا تَكُ فِیْ ضَیْقٍ مِّمَّا یَمْكُرُوْنَ ۟

আর (হে রাসূল! তাদের দেয়া কষ্টের উপর) তুমি ধৈর্যধারণ করো। তোমার ধৈর্যধারণ তো শুধু আল্লাহর তাওফীকেই। তুমি তাদের জন্য দুঃখ করোনা এবং তারা যে সব ষড়যন্ত্র করছে তুমি সে বিষয়ে মনঃক্ষুণ্ণও হয়ো না।

16:128

اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا وَّالَّذِیْنَ هُمْ مُّحْسِنُوْنَ ۟۠

(জেনে রেখো,) নিশ্চয় আল্লাহ (তাঁর সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে) তাদের সাথে আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।

Sources: Bangla translation: Rowwad Translation Center, QuranEnc.com — quranenc.com (fetched 2026-10-18) Hanafi font: DigitalKhatt IndoPak © Amine Anane, Tarteel Inc. (SIL OFL 1.1) — github.com (downloaded 2026-10-18) Madinah font: AlQuran-IndoPak by QuranWBW — github.com (v4.2.2) Quran text (Hanafi): Quranic Universal Library (QUL) by Tarteel — qul.tarteel.ai (downloaded 2026-10-18) Quran text (Madinah): Ayman Siddiqui & R. Siddiqua, QuranWBW.com / Quran.com — github.com (v9.6.1) Surah and para data: Tanzil.net (CC BY 3.0) — tanzil.net (1.0) Recitation: Abdur-Rahman as-Sudais — everyayah.com Recitation: Mishary Rashid Alafasy — everyayah.com Recitation: Abdul Basit Abdus-Samad (Murattal) — everyayah.com

The Quran between work — inside KarbarX

Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.

Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time