KarbarX
বাংলা Free trial

26. Ash-Shu'araa الشعراء

The Poets · 227 ayahs

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟

26:1

طٰسٓمّٓ ۟

ত্বা-সীন-মীম।

26:2

تِلْكَ اٰیٰتُ الْكِتٰبِ الْمُبِیْنِ ۟

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

26:3

لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ اَلَّا یَكُوْنُوْا مُؤْمِنِیْنَ ۟

(হে রাসূল!) তারা মু’মিন হবে না বলে সম্ভবত তুমি (তাদের হিদায়াতের আশায় ও তাদের কর্মকাণ্ডে মনঃকষ্টে ) নিজেকে ধ্বংস করে দিবে।

26:4

اِنْ نَّشَاْ نُنَزِّلْ عَلَیْهِمْ مِّنَ السَّمَآءِ اٰیَةً فَظَلَّتْ اَعْنَاقُهُمْ لَهَا خٰضِعِیْنَ ۟

আমি ইচ্ছা করলে আসমান থেকে তাদের ওপর এমন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম, ফলে তার প্রতি তাদের ঘাড়গুলো নত হয়ে যেতো।(১)

26:5

وَمَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ ذِكْرٍ مِّنَ الرَّحْمٰنِ مُحْدَثٍ اِلَّا كَانُوْا عَنْهُ مُعْرِضِیْنَ ۟

আর যখনই তাদের কাছে পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকে (তাঁর তাওহীদ ও তাঁর নবীর সত্যতার প্রমাণাদিসহ) কোনো নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে বিমুখ হয়।

26:6

فَقَدْ كَذَّبُوْا فَسَیَاْتِیْهِمْ اَنْۢبٰٓؤُا مَا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟

অতএব অবশ্যই তারা অস্বীকার করেছে। কাজেই তারা যা (যে শাস্তি) নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো, তার সংবাদ অচিরেই তাদের কাছে এসে পড়বে।

26:7

اَوَلَمْ یَرَوْا اِلَی الْاَرْضِ كَمْ اَنْۢبَتْنَا فِیْهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِیْمٍ ۟

তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনি যে, আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের বহু উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদ্‌গত করেছি?

26:8

اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন(২), তারপরও তাদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।

26:9

وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠

আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

26:10

وَاِذْ نَادٰی رَبُّكَ مُوْسٰۤی اَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ ۟ۙ

আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন তোমার রব মূসাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও।’

26:11

قَوْمَ فِرْعَوْنَ ؕ— اَلَا یَتَّقُوْنَ ۟

‘ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই) ভয় করবে না?’

26:12

قَالَ رَبِّ اِنِّیْۤ اَخَافُ اَنْ یُّكَذِّبُوْنِ ۟ؕ

মূসা বললো: ‘হে আমার রব! আমি অবশ্যই আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে মিথ্যারোপ করবে।’

26:13

وَیَضِیْقُ صَدْرِیْ وَلَا یَنْطَلِقُ لِسَانِیْ فَاَرْسِلْ اِلٰی هٰرُوْنَ ۟

আর (তাদের মিথ্যারোপের দরুন) আমার বক্ষ সংকুচিত হয়ে আসে এবং আমার জিহ্বা স্বচ্ছন্দে চলে না। সুতরাং আপনি হারূনের কাছে (ওহী) পাঠান।(৩)

26:14

وَلَهُمْ عَلَیَّ ذَنْۢبٌ فَاَخَافُ اَنْ یَّقْتُلُوْنِ ۟ۚۖ

‘উপরন্তু (কিবতীকে মারার কারণে) আমার বিরুদ্ধে তাদের কাছে একটি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করে ফেলবে।’

26:15

قَالَ كَلَّا ۚ— فَاذْهَبَا بِاٰیٰتِنَاۤ اِنَّا مَعَكُمْ مُّسْتَمِعُوْنَ ۟

তিনি বললেন, কখনোই না!(৪) তোমরা দু’জন আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে যাও; নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, সবকিছু শুনছি।

26:16

فَاْتِیَا فِرْعَوْنَ فَقُوْلَاۤ اِنَّا رَسُوْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ

‘সুতরাং তোমরা উভয়ে ফির‘আউনের কাছে গিয়ে বলো, ‘নিশ্চয় আমরা বিশ্বজগতের রবের রাসূল।’

26:17

اَنْ اَرْسِلْ مَعَنَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ

‘যাতে তুমি বানূ ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও।’

26:18

قَالَ اَلَمْ نُرَبِّكَ فِیْنَا وَلِیْدًا وَّلَبِثْتَ فِیْنَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِیْنَ ۟ۙ

ফির‘আউন (মূসাকে) বললো: ‘আমি কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মাঝে লালন পালন করিনি? আর তুমি তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেছো।’(৫)

26:19

وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِیْ فَعَلْتَ وَاَنْتَ مِنَ الْكٰفِرِیْنَ ۟

‘আর তুমি তোমার কর্ম (৬) যা করার তা করেছো এবং তুমি অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।’

26:20

قَالَ فَعَلْتُهَاۤ اِذًا وَّاَنَا مِنَ الضَّآلِّیْنَ ۟ؕ

মূসা (নিজ দোষ স্বীকার করে) বললো: ‘আমি এটি তখন করেছিলাম, যখন আমি পথহারাদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম ।’(৭)

26:21

فَفَرَرْتُ مِنْكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِیْ رَبِّیْ حُكْمًا وَّجَعَلَنِیْ مِنَ الْمُرْسَلِیْنَ ۟

‘অতঃপর যখন আমি তোমাদেরকে ভয় করলাম, তখন আমি তোমাদের থেকে (মাদয়ানে) পালিয়ে গেলাম। তারপর আমার রব আমাকে প্রজ্ঞা (নবুওয়্যাত) দান করলেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন’।

26:22

وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَیَّ اَنْ عَبَّدْتَّ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ

‘আর (আমাকে লালন-পালন করার) যে অনুগ্রহের খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছো, তাতো এই জন্যে যে, তুমি বানূ ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছো।’

26:23

قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعٰلَمِیْنَ ۟

ফির‘আউন বললো, ‘সৃষ্টিকুলের রব আবার কে?’

26:24

قَالَ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَمَا بَیْنَهُمَا ؕ— اِنْ كُنْتُمْ مُّوْقِنِیْنَ ۟

মূসা বললো: ‘যিনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হয়ে থাকো।’

26:25

قَالَ لِمَنْ حَوْلَهٗۤ اَلَا تَسْتَمِعُوْنَ ۟

ফির‘আউন তার আশেপাশে থাকা লোকদেরকে (নেতাদেরকে) বললো: ‘তোমরা কি মনোযোগসহ শুনছো না?’

26:26

قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ اٰبَآىِٕكُمُ الْاَوَّلِیْنَ ۟

মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও রব।’

26:27

قَالَ اِنَّ رَسُوْلَكُمُ الَّذِیْۤ اُرْسِلَ اِلَیْكُمْ لَمَجْنُوْنٌ ۟

ফির‘আউন বললো: ‘তোমাদের কাছে প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল অবশ্যই পাগল।’

26:28

قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَیْنَهُمَا ؕ— اِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ ۟

মূসা বললো: ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব; যদি তোমাদের বিবেক-বুদ্ধি থাকে, তাহলে তোমরা তা বুঝতে পারবে।’

26:29

قَالَ لَىِٕنِ اتَّخَذْتَ اِلٰهًا غَیْرِیْ لَاَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُوْنِیْنَ ۟

ফির‘আউন (মূসার সাথে তর্কে অক্ষম হয়ে) বললো: ‘যদি তুমি আমাকে ছাড়া কাউকে ইলাহরূপে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে কারারুদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত করব।’

26:30

قَالَ اَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَیْءٍ مُّبِیْنٍ ۟ۚ

মূসা বলল, ‘আমি যদি তোমার কাছে স্পষ্ট কোনো নিদর্শন নিয়ে আসি(৮)’

26:31

قَالَ فَاْتِ بِهٖۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟

ফির‘আউন বললো: ‘তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে, তা নিয়ে এসো।’

26:32

فَاَلْقٰی عَصَاهُ فَاِذَا هِیَ ثُعْبَانٌ مُّبِیْنٌ ۟ۚۖ

অতঃপর সে তার (হাতের ) লাঠিটি (জমিনে) ফেলে দিলো, ফলে তৎক্ষণাৎ তা একটি স্পষ্ট অজগর সাপে পরিণত হলো।

26:33

وَّنَزَعَ یَدَهٗ فَاِذَا هِیَ بَیْضَآءُ لِلنّٰظِرِیْنَ ۟۠

আর মূসা তার হাত (পকেটে ঢুকিয়ে আবার) বের করলো, ফলে তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল-সাদা (হাত) হয়ে দেখা দিলো।

26:34

قَالَ لِلْمَلَاِ حَوْلَهٗۤ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِیْمٌ ۟ۙ

ফির‘আউন তার আশপাশের পরিষদবৰ্গকে বললো: ‘এ তো এক বিজ্ঞ যাদুকর!’

26:35

یُّرِیْدُ اَنْ یُّخْرِجَكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ بِسِحْرِهٖ ۖۗ— فَمَاذَا تَاْمُرُوْنَ ۟

‘সে তোমাদেরকে তার যাদুর (শক্তির) মাধ্যমে তোমাদের দেশ থেকে বের করতে চায়। অতএব, (তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে) তোমরা আমাকে কী পরামর্শ দাও?’

26:36

قَالُوْۤا اَرْجِهْ وَاَخَاهُ وَابْعَثْ فِی الْمَدَآىِٕنِ حٰشِرِیْنَ ۟ۙ

তারা বললো: ‘তাকে ও তার ভাইকে (দ্রুত শাস্তি না দিয়ে) কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দিন, আর (যাদুকরদেরকে একত্রিত করতে) নগরে নগরে সংগ্রহকারীদেরকে পাঠিয়ে দিন।’

26:37

یَاْتُوْكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِیْمٍ ۟

‘তারা আপনার নিকট প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরকে একত্রিত করবে।’

26:38

فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِیْقَاتِ یَوْمٍ مَّعْلُوْمٍ ۟ۙ

অতঃপর (মূসার সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য) এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্র করা হলো।

26:39

وَّقِیْلَ لِلنَّاسِ هَلْ اَنْتُمْ مُّجْتَمِعُوْنَ ۟ۙ

উপরন্তু লোকদের বলা হলো, ‘তোমরাও কি (সেখানে বিজয়ী লোকটিকে দেখতে) সমবেত হবে?’

26:40

لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ اِنْ كَانُوْا هُمُ الْغٰلِبِیْنَ ۟

‘যাতে আমরা যাদুকরদের (ধর্ম) অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা (মূসার ওপর) বিজয়ী হয়।’

26:41

فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَةُ قَالُوْا لِفِرْعَوْنَ اَىِٕنَّ لَنَا لَاَجْرًا اِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغٰلِبِیْنَ ۟

অতঃপর যখন জাদুকররা এলো, তারা ফির‘আউনকে বলল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই, তবে কি আমাদের জন্য নিশ্চিতভাবে কোনো পুরস্কার হবে?’

26:42

قَالَ نَعَمْ وَاِنَّكُمْ اِذًا لَّمِنَ الْمُقَرَّبِیْنَ ۟

ফির‘আউন বললো: ‘হ্যাঁ এবং নিশ্চয় তোমরা তখন আমার নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

26:43

قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤی اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ ۟

(যাদু-যুদ্ধের প্রারম্ভে) মূসা তাদেরকে বললো: ‘তোমরা যা (যে যাদু) নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ করো।’

26:44

فَاَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِیَّهُمْ وَقَالُوْا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ اِنَّا لَنَحْنُ الْغٰلِبُوْنَ ۟

অতঃপর তারা নিজেদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করলো এবং বললো: ‘ফির‘আউনের ইজ্জতের শপথ! অবশ্যই আমরা বিজয়ী হবো।’

26:45

فَاَلْقٰی مُوْسٰی عَصَاهُ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ۟ۚۖ

অতঃপর মূসা তার হাতের লাঠিটি নিক্ষেপ করলো, ফলে তৎক্ষণাৎ তা (অজগর হয়ে) তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগলো।

26:46

فَاُلْقِیَ السَّحَرَةُ سٰجِدِیْنَ ۟ۙ

তখন যাদুকররা সাজদাবনত হয়ে পড়লো।

26:47

قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ

তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম সৃষ্টিকুলের রবের প্রতি।’

26:48

رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ۟

‘মূসা ও হারূনের রব।’

26:49

قَالَ اٰمَنْتُمْ لَهٗ قَبْلَ اَنْ اٰذَنَ لَكُمْ ۚ— اِنَّهٗ لَكَبِیْرُكُمُ الَّذِیْ عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ ۚ— فَلَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ؕ۬— لَاُقَطِّعَنَّ اَیْدِیَكُمْ وَاَرْجُلَكُمْ مِّنْ خِلَافٍ وَّلَاُوصَلِّبَنَّكُمْ اَجْمَعِیْنَ ۟ۚ

ফির‘আউন (যাদুকরদের ক্রোধান্বিত হয়ে) বললো: ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে তোমাদের মহাগুরু, যে তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব অচিরেই তোমরা (এর পরিণাম) জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পাসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলবো এবং আমি অবশ্যই তোমাদের সকলকে (খেজুর গাছের গুঁড়িতে) শূলবিদ্ধ করবো।’

26:50

قَالُوْا لَا ضَیْرَ ؗ— اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا مُنْقَلِبُوْنَ ۟ۚ

তারা (যাদুকররা) বলল, ‘কোনো ক্ষতি নেই; নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’

26:51

اِنَّا نَطْمَعُ اَنْ یَّغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطٰیٰنَاۤ اَنْ كُنَّاۤ اَوَّلَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟ؕ۠

‘আমরা আশা করি যে, আমাদের রব আমাদের (পূর্বের) অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবেন; কারণ আমরা (মূসার ওপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে) মু’মিনদের মধ্যে প্রথম।’

26:52

وَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَسْرِ بِعِبَادِیْۤ اِنَّكُمْ مُّتَّبَعُوْنَ ۟

আর আমি মূসার প্রতি ওহী করলাম যে, ‘আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিকালে যাত্রা করো, নিশ্চয়ই (তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য ফির‘আউন ও তার সাথীদের কর্তৃক) তোমাদের পিছু নেয়া হবে।’

26:53

فَاَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِی الْمَدَآىِٕنِ حٰشِرِیْنَ ۟ۚ

অতঃপর ফির‘আউন (বানূ ইসরাঈলকে ফেরত আনার জন্য) নগরে নগরে লোক সংগ্রহকারী (সেনাবাহিনী) পাঠালো।

26:54

اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِیْلُوْنَ ۟ۙ

(ফির‘আউন তুচ্ছ করে বললো,) ‘নিশ্চয়ই এরা তো ক্ষুদ্র একটি দল।’

26:55

وَاِنَّهُمْ لَنَا لَغَآىِٕظُوْنَ ۟ۙ

আর অবশ্যই তারা আমাদের জন্য চরম ক্রোধ উত্তেজক।

26:56

وَاِنَّا لَجَمِیْعٌ حٰذِرُوْنَ ۟ؕ

‘আর (তাদের মোকাবেলায়) আমরা সবাই সদাজাগ্রত সতর্ক একটি সেনাদল।’

26:57

فَاَخْرَجْنٰهُمْ مِّنْ جَنّٰتٍ وَّعُیُوْنٍ ۟ۙ

পরিণামে আমি তাদেরকে (ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়কে মিশরের) উদ্যানমালা ও ঝর্ণাধারাসমূহ থেকে বের করে দিলাম।

26:58

وَّكُنُوْزٍ وَّمَقَامٍ كَرِیْمٍ ۟ۙ

এবং ধন-ভাণ্ডার ও সুন্দর ঘর-বাড়ি বিশিষ্ট এলাকা থেকেও।

26:59

كَذٰلِكَ ؕ— وَاَوْرَثْنٰهَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ

এরূপই ঘটেছিল এবং আমি বানূ ইসরাঈলকে এসবের উত্তরাধিকার বানিয়েছিলাম।(৯)

26:60

فَاَتْبَعُوْهُمْ مُّشْرِقِیْنَ ۟

অতঃপর তারা (ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়) সূর্য উঠা মাত্রই তাদের (বানূ ইসরাঈলের) পিছু নিলো।

26:61

فَلَمَّا تَرَآءَ الْجَمْعٰنِ قَالَ اَصْحٰبُ مُوْسٰۤی اِنَّا لَمُدْرَكُوْنَ ۟ۚ

অতঃপর যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখলো, তখন মূসার সাথীরা বললো: ‘অবশ্যই আমরা ধরা পড়ে গেলাম!’

26:62

قَالَ كَلَّا ۚ— اِنَّ مَعِیَ رَبِّیْ سَیَهْدِیْنِ ۟

মূসা বললো: ‘কখনই নয়; আমার সাথে আমার রব রয়েছেন। নিশ্চয় অচিরেই তিনি আমাকে (রক্ষার)পথনির্দেশ দিবেন।’

26:63

فَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنِ اضْرِبْ بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ ؕ— فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِیْمِ ۟ۚ

অতঃপর আমি মূসার প্রতি ওয়াহী পাঠালাম: ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করো।’ ফলে তা ( বিদীর্ণ হয়ে ) বিভক্ত হয়ে গেলো। তারপর প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়ের মতো হয়ে গেলো।

26:64

وَاَزْلَفْنَا ثَمَّ الْاٰخَرِیْنَ ۟ۚ

আর আমরা সেখানে কাছে নিয়ে এলাম অন্য দলটিকে,

26:65

وَاَنْجَیْنَا مُوْسٰی وَمَنْ مَّعَهٗۤ اَجْمَعِیْنَ ۟ۚ

আর আমি মূসা ও তার সাথে (বানূ ইসরাঈলের) যারা ছিলো সকলকে উদ্ধার করলাম।

26:66

ثُمَّ اَغْرَقْنَا الْاٰخَرِیْنَ ۟ؕ

তারপর অপর দলটিকে (ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে) ডুবিয়ে দিলাম।

26:67

اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

নিশ্চয় এতে(১০) রয়েছে নিদর্শন। আর তাদের (ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের) অধিকাংশই মু’মিন নয়।

26:68

وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠

আর নিশ্চয় তোমার রব তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

26:69

وَاتْلُ عَلَیْهِمْ نَبَاَ اِبْرٰهِیْمَ ۟ۘ

আর তুমি তাদের নিকট ইবরাহীমের ঘটনা বর্ণনা করো।

26:70

اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ وَقَوْمِهٖ مَا تَعْبُدُوْنَ ۟

যখন সে তার পিতা ও তার জাতিকে বলেছিলো: ‘তোমরা (আল্লাহকে বাদ দিয়ে) কীসের ইবাদাত করো?’

26:71

قَالُوْا نَعْبُدُ اَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عٰكِفِیْنَ ۟

তারা বললো: ‘আমরা মূর্তির পূজা করি। অতঃপর এগুলোর পূজায় আমরা নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকব।’

26:72

قَالَ هَلْ یَسْمَعُوْنَكُمْ اِذْ تَدْعُوْنَ ۟ۙ

সে বললো: ‘যখন তোমরা মূর্তিগুলোকে ডাকো, তখন কি তারা তোমাদের ডাক শুনতে পায়?’

26:73

اَوْ یَنْفَعُوْنَكُمْ اَوْ یَضُرُّوْنَ ۟

‘অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’

26:74

قَالُوْا بَلْ وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا كَذٰلِكَ یَفْعَلُوْنَ ۟

তারা বললো: (না, পারে না।) ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই (এগুলোর পূজা) করতো।’

26:75

قَالَ اَفَرَءَیْتُمْ مَّا كُنْتُمْ تَعْبُدُوْنَ ۟ۙ

ইবরাহীম বললো: ‘তোমরা যাদের পূজা করো-তাদের সম্পর্কে তোমরা কি ভেবে দেখেছো?’

26:76

اَنْتُمْ وَاٰبَآؤُكُمُ الْاَقْدَمُوْنَ ۟ؗ

‘তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা?’

26:77

فَاِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّیْۤ اِلَّا رَبَّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ

‘সৃষ্টিকুলের রব ব্যতীত অবশ্যই তারা সকলে আমার শত্রু।’

26:78

الَّذِیْ خَلَقَنِیْ فَهُوَ یَهْدِیْنِ ۟ۙ

‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে হিদায়াত দেন।’

26:79

وَالَّذِیْ هُوَ یُطْعِمُنِیْ وَیَسْقِیْنِ ۟ۙ

‘আর যিনি আমাকে খাওয়ান এবং পান করান।’

26:80

وَاِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ یَشْفِیْنِ ۟

‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন।’

26:81

وَالَّذِیْ یُمِیْتُنِیْ ثُمَّ یُحْیِیْنِ ۟ۙ

‘আর যিনি আমার (হায়াত শেষে) মৃত্যু দিবেন, অত:পর (মৃত্যুর পর) আমাকে জীবিত করবেন।’

26:82

وَالَّذِیْۤ اَطْمَعُ اَنْ یَّغْفِرَ لِیْ خَطِیْٓـَٔتِیْ یَوْمَ الدِّیْنِ ۟ؕ

‘আর যাঁর কাছে আমি আশা করি, তিনি বিচার দিবসে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিবেন।’

26:83

رَبِّ هَبْ لِیْ حُكْمًا وَّاَلْحِقْنِیْ بِالصّٰلِحِیْنَ ۟ۙ

(অতপর ইরবাহীম দু‘আ করে বললো) ‘হে আমার রব! আমাকে (দ্বীনের) প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে (জান্নাতে) সৎকর্মশীলদের সাথে শামিল করে দিন।’

26:84

وَاجْعَلْ لِّیْ لِسَانَ صِدْقٍ فِی الْاٰخِرِیْنَ ۟ۙ

‘এবং পরবর্তী বংশধরদের কাছে আমার উত্তম স্মরণ ও সুন্দর প্রশংসা অব্যাহত রাখুন।’

26:85

وَاجْعَلْنِیْ مِنْ وَّرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِیْمِ ۟ۙ

‘আর আপনি আমাকে নি‘আমতে পরিপূর্ণ জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’

26:86

وَاغْفِرْ لِاَبِیْۤ اِنَّهٗ كَانَ مِنَ الضَّآلِّیْنَ ۟ۙ

‘আর আপনি আমার পিতাকে (হিদায়াতের তাওফীক দিন এবং তাকে) ক্ষমা করুন, নিশ্চয় সে (শিরকের কারণে) পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।’(১১)

26:87

وَلَا تُخْزِنِیْ یَوْمَ یُبْعَثُوْنَ ۟ۙ

‘আর যেদিন (হিসাবের জন্য সবাইকে) পুনরুত্থিত করা হবে, সেদিন আমাকে (শাস্তি দিয়ে) লাঞ্ছিত করবেন না।’

26:88

یَوْمَ لَا یَنْفَعُ مَالٌ وَّلَا بَنُوْنَ ۟ۙ

‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না।’

26:89

اِلَّا مَنْ اَتَی اللّٰهَ بِقَلْبٍ سَلِیْمٍ ۟ؕ

‘তবে যে আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে আসবে (সেই লাভবান হবে)।’

26:90

وَاُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِیْنَ ۟ۙ

আর সে দিন মুত্তাকীদের জন্য জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে।

26:91

وَبُرِّزَتِ الْجَحِیْمُ لِلْغٰوِیْنَ ۟ۙ

এবং পথভ্রষ্টকারীদের জন্য জাহান্নাম উন্মোচিত করা হবে।

26:92

وَقِیْلَ لَهُمْ اَیْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُوْنَ ۟ۙ

আর তাদেরকে বলা হবে, ‘তারা কোথায় যাদের তোমরা পূজা করতে,

26:93

مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ— هَلْ یَنْصُرُوْنَكُمْ اَوْ یَنْتَصِرُوْنَ ۟ؕ

‘আল্লাহর পরিবর্তে?’ তারা কি ( আজ আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করে) তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারছে, না তারা নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করতে পারছে?

26:94

فَكُبْكِبُوْا فِیْهَا هُمْ وَالْغَاوٗنَ ۟ۙ

অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

26:95

وَجُنُوْدُ اِبْلِیْسَ اَجْمَعُوْنَ ۟ؕ

আর ইবলীসের সকল সৈন্যবাহিনীকেও।

26:96

قَالُوْا وَهُمْ فِیْهَا یَخْتَصِمُوْنَ ۟ۙ

সেখানে পরস্পর ঝগড়া করতে গিয়ে তারা বলবে-

26:97

تَاللّٰهِ اِنْ كُنَّا لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟ۙ

‘আল্লাহর শপথ! আমরা তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম’,

26:98

اِذْ نُسَوِّیْكُمْ بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟

‘যখন আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির রবের সমকক্ষ বানাতাম।’

26:99

وَمَاۤ اَضَلَّنَاۤ اِلَّا الْمُجْرِمُوْنَ ۟

‘আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলো’;

26:100

فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِیْنَ ۟ۙ

‘অতএব, (আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে আজ) আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই,

26:101

وَلَا صَدِیْقٍ حَمِیْمٍ ۟

এবং কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই।’

26:102

فَلَوْ اَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟

‘হায়, আমাদের যদি (দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাওয়ার) একবার সুযোগ হতো, তবে আমরা মু’মিনদের অর্ন্তভুক্ত হতাম।’

26:103

اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

নিশ্চয় এতে(১২) রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশ মু’মিন নয়।

26:104

وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠

আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

26:105

كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوْحِ ١لْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ

নূহের সম্প্রদায় (তার প্রতি মিথ্যারোপ করে মূলত সকল) রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিলো।

26:106

اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ نُوْحٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ

যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?’

26:107

اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ

‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল।’

26:108

فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ

‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’

26:109

وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۚ

‘আর আমি (এ দাওয়াত পৌঁছানোর বিনিময়ে) তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। ; আমার প্রতিদান শুধু সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’

26:110

فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ؕ

‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’

26:111

قَالُوْۤا اَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْاَرْذَلُوْنَ ۟ؕ

‘তারা বললো: ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবো; অথচ (সমাজের) নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে?’

26:112

قَالَ وَمَا عِلْمِیْ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟ۚ

নূহ বললো: ‘তারা আগে কি করত, তা জানা আমার কী প্রয়োজন?’(১৩)

26:113

اِنْ حِسَابُهُمْ اِلَّا عَلٰی رَبِّیْ لَوْ تَشْعُرُوْنَ ۟ۚ

‘তাদের হিসাব গ্রহণ তো কেবল আমার রবের দায়িত্বে, যদি তোমরা বুঝতে (তবে এ কথা কখনোই বলতে না)।’

26:114

وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟ۚ

‘আর আমি তো (তোমাদের ঈমান আনার আশায়) মু’মিনদেরকে (মজলিস থেকে) তাড়িয়ে দেওয়ার নই।’

26:115

اِنْ اَنَا اِلَّا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ۟ؕ

‘আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’

26:116

قَالُوْا لَىِٕنْ لَّمْ تَنْتَهِ یٰنُوْحُ لَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْمَرْجُوْمِیْنَ ۟ؕ

তারা বললো: ‘হে নূহ! যদি তুমি (এ কাজ থেকে) বিরত না হও, তবে অবশ্যই তুমি পাথরের আঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

26:117

قَالَ رَبِّ اِنَّ قَوْمِیْ كَذَّبُوْنِ ۟ۚۖ

নূহ বললো: ‘হে আমার রব! আমার জাতি আমাকে অস্বীকার করেছে।’

26:118

فَافْتَحْ بَیْنِیْ وَبَیْنَهُمْ فَتْحًا وَّنَجِّنِیْ وَمَنْ مَّعِیَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟

‘সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে একটা চূড়ান্ত ফয়সালা করে দিন।(১৪) আর আমাকে ও আমার সাথে থাকা মু’মিনদেরকে রক্ষা করুন।’

26:119

فَاَنْجَیْنٰهُ وَمَنْ مَّعَهٗ فِی الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِ ۟ۚ

অতঃপর আমি (তাঁর এ প্রার্থনা কবুল করলাম এবং) তাঁকে এবং তাঁর সাথে যারা ভরা নৌকায় আরোহী ছিলো তাদেরকে (ধ্বংস থেকে) রক্ষা করলাম।

26:120

ثُمَّ اَغْرَقْنَا بَعْدُ الْبٰقِیْنَ ۟ؕ

তারপর অবশিষ্ট লোকদেরকে (মহা প্লাবনে) ডুবিয়ে দিলাম।

26:121

اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, বস্তুত তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিল না।

26:122

وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠

আর নিশ্চয় তোমার রব মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

26:123

كَذَّبَتْ عَادُ ١لْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ

‘আদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিলো।

26:124

اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ هُوْدٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ

যখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (গাইরুল্লাহর ইবাদাত পরিত্যাগ করে) আল্লাহকে ভয় করবে না?’

26:125

اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ

‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল।’

26:126

فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ

‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’

26:127

وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ

‘আর এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’

26:128

اَتَبْنُوْنَ بِكُلِّ رِیْعٍ اٰیَةً تَعْبَثُوْنَ ۟ۙ

‘তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে (বা টিলায়) একটি নিদর্শন নির্মাণ কর, যাতে তোমরা অনর্থক খেল-তামাশা কর?’(১৫)

26:129

وَتَتَّخِذُوْنَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ ۟ۚ

আর তোমরা অট্টালিকা নির্মাণ কর, যেন তোমরা চিরকাল স্থায়ী হবে?

26:130

وَاِذَا بَطَشْتُمْ بَطَشْتُمْ جَبَّارِیْنَ ۟ۚ

আর যখন তোমরা আঘাত কর, তখন তোমরা অত্যাচারীর মতো আঘাত কর।

26:131

فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ

‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’

26:132

وَاتَّقُوا الَّذِیْۤ اَمَدَّكُمْ بِمَا تَعْلَمُوْنَ ۟ۚ

‘আর তোমরা তাঁকে (আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে) ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন এমন কিছু (নি‘আমতরাজি) দিয়ে, যা তোমরা ভালো করেই জানো।’

26:133

اَمَدَّكُمْ بِاَنْعَامٍ وَّبَنِیْنَ ۟ۚۙ

‘তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা,

26:134

وَجَنّٰتٍ وَّعُیُوْنٍ ۟ۚ

আর বাগান ও ঝর্ণাধারা দ্বারা।’

26:135

اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْكُمْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟ؕ

‘নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর এক মহা দিবসের (কিয়ামতের দিনের) শাস্তির ভয় করছি।’

26:136

قَالُوْا سَوَآءٌ عَلَیْنَاۤ اَوَعَظْتَ اَمْ لَمْ تَكُنْ مِّنَ الْوٰعِظِیْنَ ۟ۙ

তারা বললো: ‘তুমি আমাদের উপদেশ দাও কিংবা না দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান।’

26:137

اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا خُلُقُ الْاَوَّلِیْنَ ۟ۙ

‘এসব পূর্ববর্তীদের (ধর্ম, অভ্যাস ও) চরিত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।’

26:138

وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِیْنَ ۟ۚ

‘আর আমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হব না।’

26:139

فَكَذَّبُوْهُ فَاَهْلَكْنٰهُمْ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

অতঃপর তারা তাকে (নবী হূদকে) অস্বীকার করলো, ফলে আমি (কঠিন ঝড়ো হাওয়ার মাধ্যমে) তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। নিশ্চয় এতে (এ ধ্বংসের মাঝে) নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।

26:140

وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠

আর নিশ্চয় তোমার রব মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

26:141

كَذَّبَتْ ثَمُوْدُ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ

সামূদ সম্প্রদায় (নিজেদের নবী সালিহকে অস্বীকার করার মাধ্যমে) রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিলো।

26:142

اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ صٰلِحٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ

যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (গাইরুল্লাহর ইবাদাত পরিত্যাগ করে) আল্লাহকে ভয় করবে না?’

26:143

اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ

‘আমি তো তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রাসূল।’

26:144

فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ

‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’

26:145

وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ

‘আর এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’

26:146

اَتُتْرَكُوْنَ فِیْ مَا هٰهُنَاۤ اٰمِنِیْنَ ۟ۙ

‘(তোমরা কি মনে করছো যে,) তোমাদেরকে কি এখানে যা (দুনিয়াতে যে কল্যাণ ও নি‘আমত) আছে, তাতে নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হবে?’

26:147

فِیْ جَنّٰتٍ وَّعُیُوْنٍ ۟ۙ

‘ সুশোভিত বাগান ও ঝর্ণাধারায়’

26:148

وَّزُرُوْعٍ وَّنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِیْمٌ ۟ۚ

‘আর ক্ষেত-খামার ও সুকোমল গুচ্ছ বিশিষ্ট (কাঁচা ও পাকা) খেজুর বাগানে?’

26:149

وَتَنْحِتُوْنَ مِنَ الْجِبَالِ بُیُوْتًا فٰرِهِیْنَ ۟ۚ

‘আর তোমরা নৈপুণ্যের সাথে পাহাড় কেটে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছো।’(১৬)

26:150

فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ

‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’

26:151

وَلَا تُطِیْعُوْۤا اَمْرَ الْمُسْرِفِیْنَ ۟ۙ

‘আর তোমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের নির্দেশ মান্য করো না।’

26:152

الَّذِیْنَ یُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ وَلَا یُصْلِحُوْنَ ۟

‘যারা জমিনে (পাপকর্ম ছড়িয়ে) বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং (আল্লাহর আনুগত্য আঁকড়ে ধরে) নিজেদেরকে সংশোধন করে না।’

26:153

قَالُوْۤا اِنَّمَاۤ اَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِیْنَ ۟ۚ

তারা (তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা) বলল: ‘তুমিতো যাদুগ্রস্তদের একজন।’

26:154

مَاۤ اَنْتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا ۖۚ— فَاْتِ بِاٰیَةٍ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟

‘তুমি তো কেবল আমাদের মতো একজন মানুষ। সুতরাং তুমি যদি (রিসালাতের দাবিতে) সত্যবাদী হও, তবে কোনো নিদর্শন (মু‘জিযা) নিয়ে এসো।’

26:155

قَالَ هٰذِهٖ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَّلَكُمْ شِرْبُ یَوْمٍ مَّعْلُوْمٍ ۟ۚ

সালিহ (তাদেরকে) বললো: ‘এটি একটি উষ্ট্রী (এটিই আমার নিদর্শন); তার জন্য রয়েছে পানি পানের পালা, আর তোমাদের জন্য আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা।’(১৭)

26:156

وَلَا تَمَسُّوْهَا بِسُوْٓءٍ فَیَاْخُذَكُمْ عَذَابُ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟

‘আর তোমরা তাকে (হত্যা করে বা মেরে) কোন অনিষ্ট সাধন করো না; যদি করো, তবে এক মহা দিনের শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।’(১৮)

26:157

فَعَقَرُوْهَا فَاَصْبَحُوْا نٰدِمِیْنَ ۟ۙ

অতঃপর তারা সেটি যবহ করলো; ফলে (কঠিন শাস্তি দেখে) তারা ভীষণভাবে অনুতপ্ত হলো।(১৯)

26:158

فَاَخَذَهُمُ الْعَذَابُ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

ফলে (বিকট আওয়াজ ও ভূমিকম্পের) শাস্তি তাদেরকে পাকড়াও করলো। নিশ্চয় এতে (এ ঘটনায়) রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।

26:159

وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠

আর নিশ্চয় তোমার রব মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

26:160

كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوْطِ ١لْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ

লূতের সম্প্রদায় (নবী লূতকে অস্বীকার করার মাধ্যমে) রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিলো।

26:161

اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ لُوْطٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ

যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (গাইরুল্লাহর ইবাদাত পরিত্যাগ করে) আল্লাহকে ভয় করবে না?’

26:162

اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ

‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত রাসূল।’

26:163

فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ

‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’

26:164

وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ

‘আর এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’

26:165

اَتَاْتُوْنَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ

‘সৃষ্টিকুলের মধ্যে (যৌনকর্ম করতে) তোমরাই কি কেবল পুরুষের কাছে যাও?’(২০)

26:166

وَتَذَرُوْنَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِّنْ اَزْوَاجِكُمْ ؕ— بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ عٰدُوْنَ ۟

‘আর (যৌন চাহিদা পূরণের জন্য) তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে তোমরা ত্যাগ করো; বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’

26:167

قَالُوْا لَىِٕنْ لَّمْ تَنْتَهِ یٰلُوْطُ لَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِیْنَ ۟

তারা বললো: ‘হে লূত! তুমি যদি (আমাদেরকে এ কাজ করতে নিষেধ করা থেকে) বিরত না হও, তাহলে তুমি অবশ্যই (এ দেশ থেকে) নির্বাসিত হবে।’

26:168

قَالَ اِنِّیْ لِعَمَلِكُمْ مِّنَ الْقَالِیْنَ ۟ؕ

লূত বললো: ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কাজকে ঘৃণা করি।‘

26:169

رَبِّ نَجِّنِیْ وَاَهْلِیْ مِمَّا یَعْمَلُوْنَ ۟

‘হে আমার রব! আমাকে এবং আমার পরিবারকে তাদের করণীয় কাজের (অপকর্মের) ক্ষতি থেকে রক্ষা কর।’

26:170

فَنَجَّیْنٰهُ وَاَهْلَهٗۤ اَجْمَعِیْنَ ۟ۙ

অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবার-পরিজন সবাইকে (শাস্তি থেকে) রক্ষা করলাম।

26:171

اِلَّا عَجُوْزًا فِی الْغٰبِرِیْنَ ۟ۚ

তবে পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক বৃদ্ধা ছাড়া।(২১)

26:172

ثُمَّ دَمَّرْنَا الْاٰخَرِیْنَ ۟ۚ

অতঃপর (লূত ও তাঁর পরিবার সাদূম এলাকা থেকে বেরিয়ে আসার পরে) অবশিষ্টদেরকে আমি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিলাম।

26:173

وَاَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ مَّطَرًا ۚ— فَسَآءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِیْنَ ۟

আর আমি তাদের ওপর (আকাশ থেকে) শিলাবৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং সেই বৃষ্টি (লূত কর্তৃক শাস্তির) ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য কতইনা মন্দ ছিল!

26:174

اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

নিশ্চয় এতে (এ শাস্তিতে) রয়েছে এক নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।

26:175

وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠

আর নিশ্চয় তোমার রব মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

26:176

كَذَّبَ اَصْحٰبُ لْـَٔیْكَةِ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ

আইকার অধিবাসীরা(২২) (তাদের নবী শু‘আইবকে অস্বীকার করে মূলত সকল) রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিলো।

26:177

اِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَیْبٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ

যখন (তাদের নবী) শু‘আইব তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (গাইরুল্লাহর ইবাদাত পরিত্যাগ করে) আল্লাহকে ভয় করবে না?’

26:178

اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ

‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত রাসূল।’

26:179

فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ

‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’

26:180

وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ

‘আর এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’

26:181

اَوْفُوا الْكَیْلَ وَلَا تَكُوْنُوْا مِنَ الْمُخْسِرِیْنَ ۟ۚ

‘তোমরা (বেচা-কেনার সময়) মাপে পূর্ণ মাত্রায় দাও এবং যারা মাপে ঘাটতি করে, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’

26:182

وَزِنُوْا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِیْمِ ۟ۚ

‘আর (ওজন করার সময়) সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো।’

26:183

وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ اَشْیَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِی الْاَرْضِ مُفْسِدِیْنَ ۟ۚ

‘আর মানুষকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিও না এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।’

26:184

وَاتَّقُوا الَّذِیْ خَلَقَكُمْ وَالْجِبِلَّةَ الْاَوَّلِیْنَ ۟ؕ

‘যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে তাকে ভয় করো।’

26:185

قَالُوْۤا اِنَّمَاۤ اَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِیْنَ ۟ۙ

তারা বললো: ‘(হে শু‘আইব!) তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।’

26:186

وَمَاۤ اَنْتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَاِنْ نَّظُنُّكَ لَمِنَ الْكٰذِبِیْنَ ۟ۚ

‘তাছাড়া তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ। আর আমরা তোমাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করি।’

26:187

فَاَسْقِطْ عَلَیْنَا كِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟ؕ

‘অতএব, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশ (ভেঙ্গে) এর এক খণ্ড আমাদের ওপর ফেলে দাও।’

26:188

قَالَ رَبِّیْۤ اَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ ۟

সে (শুয়াইব) বললো: ‘তোমরা যা (যে শিরক ও গুনাহের কাজ) করো, সে সম্পর্কে আমার রব অধিক জ্ঞাত।’

26:189

فَكَذَّبُوْهُ فَاَخَذَهُمْ عَذَابُ یَوْمِ الظُّلَّةِ ؕ— اِنَّهٗ كَانَ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟

অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করলো। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিনের (আগুন বর্ষণের) শাস্তি পাকড়াও করলো। অবশ্যই তা ছিল এক ভয়ংকর দিনের শাস্তি।

26:190

اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

নিশ্চয় এতে (শু‘আইবের জাতির ধ্বংসে) রয়েছে অনেক নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।

26:191

وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠

আর নিশ্চয় তোমার রব মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

26:192

وَاِنَّهٗ لَتَنْزِیْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ

আর নিশ্চয় এ আল কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত।

26:193

نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْاَمِیْنُ ۟ۙ

বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরীল) এটা নিয়ে অবতরণ করেছে।

26:194

عَلٰی قَلْبِكَ لِتَكُوْنَ مِنَ الْمُنْذِرِیْنَ ۟ۙ

তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।

26:195

بِلِسَانٍ عَرَبِیٍّ مُّبِیْنٍ ۟ؕ

সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।

26:196

وَاِنَّهٗ لَفِیْ زُبُرِ الْاَوَّلِیْنَ ۟

এবং নিশ্চয় এর উল্লেখ প্রাচীনতম গ্রন্থসমূহে (তাওরাত-ইঞ্জীলে) রয়েছে।

26:197

اَوَلَمْ یَكُنْ لَّهُمْ اٰیَةً اَنْ یَّعْلَمَهٗ عُلَمٰٓؤُا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ

এটা কি তাদের (মিথ্যারোপকারীদের) জন্য একটি নিদর্শন নয় যে, বানূ ইসরাঈলের আলিমগণ তা(২৩) জানে?

26:198

وَلَوْ نَزَّلْنٰهُ عَلٰی بَعْضِ الْاَعْجَمِیْنَ ۟ۙ

আর আমি যদি এটাকে কোনো অনারবের প্রতি নাযিল করতাম,

26:199

فَقَرَاَهٗ عَلَیْهِمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ مُؤْمِنِیْنَ ۟ؕ

অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করতো; তবুও তারা এতে মু‘মিন হতো না।

26:200

كَذٰلِكَ سَلَكْنٰهُ فِیْ قُلُوْبِ الْمُجْرِمِیْنَ ۟ؕ

এভাবেই আমি (কুফরী ও মিথ্যারোপের) বিষয়টি অপরাধীদের অন্তরে ঢুকিয়ে দিয়েছি।

26:201

لَا یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ حَتّٰی یَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِیْمَ ۟ۙ

যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে; ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এতে ঈমান আনবে না।(২৪)

26:202

فَیَاْتِیَهُمْ بَغْتَةً وَّهُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟ۙ

সুতরাং তা (শাস্তি) আকস্মিকভাবে তাদের নিকট এসে পড়বে; অথচ তারা টেরই পাবে না।

26:203

فَیَقُوْلُوْا هَلْ نَحْنُ مُنْظَرُوْنَ ۟ؕ

তখন তারা বলবে: ‘আমাদেরকে কি (আল্লাহর নিকট তাওবা করার) একটু সুযোগ দেওয়া হবে?’

26:204

اَفَبِعَذَابِنَا یَسْتَعْجِلُوْنَ ۟

তাহলে কি তারা আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চায়?

26:205

اَفَرَءَیْتَ اِنْ مَّتَّعْنٰهُمْ سِنِیْنَ ۟ۙ

(হে রাসূল!) তুমি কি লক্ষ্য করেছ, আমি যদি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিতাম।

26:206

ثُمَّ جَآءَهُمْ مَّا كَانُوْا یُوْعَدُوْنَ ۟ۙ

অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ে (শাস্তির) ওয়াদা করা হয়েছে, তা তাদের নিকট এসে পড়তো,

26:207

مَاۤ اَغْنٰی عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یُمَتَّعُوْنَ ۟ؕ

তখন (দুনিয়াতে) তাদের ভোগ-বিলাসের জন্য যা দেয়া হয়েছিলো, তা তাদের কোনোই কাজে লাগত না।

26:208

وَمَاۤ اَهْلَكْنَا مِنْ قَرْیَةٍ اِلَّا لَهَا مُنْذِرُوْنَ ۟

আর আমি এমন কোনো জনপদকে ধ্বংস করিনি, যাতে কোনো সতর্ককারী (নবী-রাসূল) আসেনি।

26:209

ذِكْرٰی ۛ۫— وَمَا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ ۟

এটা (তাদের জন্য) উপদেশস্বরূপ। আর আমি তো যালিম নই (যে তাদেরকে সতর্ক না করেই, ধ্বংস করে দিবো)।

26:210

وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّیٰطِیْنُ ۟ۚ

আর শয়তানরা এ আল কুরআন নিয়ে (রাসূলের অন্তরের ওপর) অবতরণ করেনি।

26:211

وَمَا یَنْۢبَغِیْ لَهُمْ وَمَا یَسْتَطِیْعُوْنَ ۟ؕ

আর এটা তাদের (শয়তানদের) জন্য সমোচিত নয় (যে, তারা এ নিয়ে তার অন্তরের ওপর নাযিল হবে) এবং তারা এর ক্ষমতাও রাখে না।

26:212

اِنَّهُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُوْلُوْنَ ۟ؕ

নিশ্চয়ই এটির (আল কুরআনের ওয়াহী) শ্রবণ করা থেকে তাদেরকে আড়ালে রাখা হয়েছে।

26:213

فَلَا تَدْعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ فَتَكُوْنَ مِنَ الْمُعَذَّبِیْنَ ۟ۚ

অতএব, (হে রাসূল!) তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডেকো না, তাহলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

26:214

وَاَنْذِرْ عَشِیْرَتَكَ الْاَقْرَبِیْنَ ۟ۙ

আর (হে রাসূল!) তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে (আল্লাহর শাস্তি থেকে) সতর্ক করো।

26:215

وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟ۚ

আর মু’মিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তুমি তোমার বাহুকে বিনয়াবনত করো।

26:216

فَاِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ اِنِّیْ بَرِیْٓءٌ مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ ۟ۚ

তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বলো: ‘তোমরা যা (সেসব পাপ ও শিরক) করো, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত ‘

26:217

وَتَوَكَّلْ عَلَی الْعَزِیْزِ الرَّحِیْمِ ۟ۙ

‘আর তুমি সকল ব্যাপারে মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালুর ওপর তাওয়াক্কুল করো।

26:218

الَّذِیْ یَرٰىكَ حِیْنَ تَقُوْمُ ۟ۙ

‘যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (সালাতের জন্য) দণ্ডায়মান হও,

26:219

وَتَقَلُّبَكَ فِی السّٰجِدِیْنَ ۟

এবং সাজদাকারীদের মধ্যে তোমার উঠাবসা।’

26:220

اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۟

‘নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।’

26:221

هَلْ اُنَبِّئُكُمْ عَلٰی مَنْ تَنَزَّلُ الشَّیٰطِیْنُ ۟ؕ

‘আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দিবো, শয়তানরা মূলত কার নিকট অবতীর্ণ হয়?’

26:222

تَنَزَّلُ عَلٰی كُلِّ اَفَّاكٍ اَثِیْمٍ ۟ۙ

তারা (জিন শয়তানরা) অবতীর্ণ হয়, প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।

26:223

یُّلْقُوْنَ السَّمْعَ وَاَكْثَرُهُمْ كٰذِبُوْنَ ۟ؕ

তারা (ফিরিশতাদের কাছ থেকে কথা চুরি করে গণকদের কাছে পৌঁছে দিতে) কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।

26:224

وَالشُّعَرَآءُ یَتَّبِعُهُمُ الْغَاوٗنَ ۟ؕ

আর কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।

26:225

اَلَمْ تَرَ اَنَّهُمْ فِیْ كُلِّ وَادٍ یَّهِیْمُوْنَ ۟ۙ

(হে রাসূল!) তুমি কি লক্ষ্য করো নি যে, (তাদের ভ্রষ্টতার একটি নিদর্শন হলো) তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়?

26:226

وَاَنَّهُمْ یَقُوْلُوْنَ مَا لَا یَفْعَلُوْنَ ۟ۙ

আর নিশ্চয় তারা এমন কথা বলে, যা তারা করে না।

26:227

اِلَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَذَكَرُوا اللّٰهَ كَثِیْرًا وَّانْتَصَرُوْا مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوْا ؕ— وَسَیَعْلَمُ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْۤا اَیَّ مُنْقَلَبٍ یَّنْقَلِبُوْنَ ۟۠

তবে যারা (যে কবিরা) ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, উপরন্তু আল্লাহকে অনেক স্মরণ করেছে, আর তারা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়, (তারা অবশ্যই এ থেকে ভিন্ন)। আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে, কোন্ প্রত্যাবর্তন স্থলে তারা প্রত্যাবর্তন করবে।

Sources: Bangla translation: Rowwad Translation Center, QuranEnc.com — quranenc.com (fetched 2026-10-18) Hanafi font: DigitalKhatt IndoPak © Amine Anane, Tarteel Inc. (SIL OFL 1.1) — github.com (downloaded 2026-10-18) Madinah font: AlQuran-IndoPak by QuranWBW — github.com (v4.2.2) Quran text (Hanafi): Quranic Universal Library (QUL) by Tarteel — qul.tarteel.ai (downloaded 2026-10-18) Quran text (Madinah): Ayman Siddiqui & R. Siddiqua, QuranWBW.com / Quran.com — github.com (v9.6.1) Surah and para data: Tanzil.net (CC BY 3.0) — tanzil.net (1.0) Recitation: Abdur-Rahman as-Sudais — everyayah.com Recitation: Mishary Rashid Alafasy — everyayah.com Recitation: Abdul Basit Abdus-Samad (Murattal) — everyayah.com

The Quran between work — inside KarbarX

Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.

Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time