طٰسٓمّٓ ۟
ত্বা-সীন-মীম।
The Poets · 227 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
طٰسٓمّٓ ۟
ত্বা-সীন-মীম।
تِلْكَ اٰیٰتُ الْكِتٰبِ الْمُبِیْنِ ۟
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ اَلَّا یَكُوْنُوْا مُؤْمِنِیْنَ ۟
(হে রাসূল!) তারা মু’মিন হবে না বলে সম্ভবত তুমি (তাদের হিদায়াতের আশায় ও তাদের কর্মকাণ্ডে মনঃকষ্টে ) নিজেকে ধ্বংস করে দিবে।
اِنْ نَّشَاْ نُنَزِّلْ عَلَیْهِمْ مِّنَ السَّمَآءِ اٰیَةً فَظَلَّتْ اَعْنَاقُهُمْ لَهَا خٰضِعِیْنَ ۟
আমি ইচ্ছা করলে আসমান থেকে তাদের ওপর এমন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম, ফলে তার প্রতি তাদের ঘাড়গুলো নত হয়ে যেতো।(১)
وَمَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ ذِكْرٍ مِّنَ الرَّحْمٰنِ مُحْدَثٍ اِلَّا كَانُوْا عَنْهُ مُعْرِضِیْنَ ۟
আর যখনই তাদের কাছে পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকে (তাঁর তাওহীদ ও তাঁর নবীর সত্যতার প্রমাণাদিসহ) কোনো নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে বিমুখ হয়।
فَقَدْ كَذَّبُوْا فَسَیَاْتِیْهِمْ اَنْۢبٰٓؤُا مَا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟
অতএব অবশ্যই তারা অস্বীকার করেছে। কাজেই তারা যা (যে শাস্তি) নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো, তার সংবাদ অচিরেই তাদের কাছে এসে পড়বে।
اَوَلَمْ یَرَوْا اِلَی الْاَرْضِ كَمْ اَنْۢبَتْنَا فِیْهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِیْمٍ ۟
তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনি যে, আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের বহু উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদ্গত করেছি?
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন(২), তারপরও তাদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَاِذْ نَادٰی رَبُّكَ مُوْسٰۤی اَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ ۟ۙ
আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন তোমার রব মূসাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও।’
قَوْمَ فِرْعَوْنَ ؕ— اَلَا یَتَّقُوْنَ ۟
‘ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই) ভয় করবে না?’
قَالَ رَبِّ اِنِّیْۤ اَخَافُ اَنْ یُّكَذِّبُوْنِ ۟ؕ
মূসা বললো: ‘হে আমার রব! আমি অবশ্যই আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে মিথ্যারোপ করবে।’
وَیَضِیْقُ صَدْرِیْ وَلَا یَنْطَلِقُ لِسَانِیْ فَاَرْسِلْ اِلٰی هٰرُوْنَ ۟
আর (তাদের মিথ্যারোপের দরুন) আমার বক্ষ সংকুচিত হয়ে আসে এবং আমার জিহ্বা স্বচ্ছন্দে চলে না। সুতরাং আপনি হারূনের কাছে (ওহী) পাঠান।(৩)
وَلَهُمْ عَلَیَّ ذَنْۢبٌ فَاَخَافُ اَنْ یَّقْتُلُوْنِ ۟ۚۖ
‘উপরন্তু (কিবতীকে মারার কারণে) আমার বিরুদ্ধে তাদের কাছে একটি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করে ফেলবে।’
قَالَ كَلَّا ۚ— فَاذْهَبَا بِاٰیٰتِنَاۤ اِنَّا مَعَكُمْ مُّسْتَمِعُوْنَ ۟
তিনি বললেন, কখনোই না!(৪) তোমরা দু’জন আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে যাও; নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, সবকিছু শুনছি।
فَاْتِیَا فِرْعَوْنَ فَقُوْلَاۤ اِنَّا رَسُوْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ
‘সুতরাং তোমরা উভয়ে ফির‘আউনের কাছে গিয়ে বলো, ‘নিশ্চয় আমরা বিশ্বজগতের রবের রাসূল।’
اَنْ اَرْسِلْ مَعَنَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ
‘যাতে তুমি বানূ ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও।’
قَالَ اَلَمْ نُرَبِّكَ فِیْنَا وَلِیْدًا وَّلَبِثْتَ فِیْنَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِیْنَ ۟ۙ
ফির‘আউন (মূসাকে) বললো: ‘আমি কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মাঝে লালন পালন করিনি? আর তুমি তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেছো।’(৫)
وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِیْ فَعَلْتَ وَاَنْتَ مِنَ الْكٰفِرِیْنَ ۟
‘আর তুমি তোমার কর্ম (৬) যা করার তা করেছো এবং তুমি অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।’
قَالَ فَعَلْتُهَاۤ اِذًا وَّاَنَا مِنَ الضَّآلِّیْنَ ۟ؕ
মূসা (নিজ দোষ স্বীকার করে) বললো: ‘আমি এটি তখন করেছিলাম, যখন আমি পথহারাদের অন্তর্ভূক্ত ছিলাম ।’(৭)
فَفَرَرْتُ مِنْكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِیْ رَبِّیْ حُكْمًا وَّجَعَلَنِیْ مِنَ الْمُرْسَلِیْنَ ۟
‘অতঃপর যখন আমি তোমাদেরকে ভয় করলাম, তখন আমি তোমাদের থেকে (মাদয়ানে) পালিয়ে গেলাম। তারপর আমার রব আমাকে প্রজ্ঞা (নবুওয়্যাত) দান করলেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন’।
وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَیَّ اَنْ عَبَّدْتَّ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ
‘আর (আমাকে লালন-পালন করার) যে অনুগ্রহের খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছো, তাতো এই জন্যে যে, তুমি বানূ ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছো।’
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعٰلَمِیْنَ ۟
ফির‘আউন বললো, ‘সৃষ্টিকুলের রব আবার কে?’
قَالَ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَمَا بَیْنَهُمَا ؕ— اِنْ كُنْتُمْ مُّوْقِنِیْنَ ۟
মূসা বললো: ‘যিনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হয়ে থাকো।’
قَالَ لِمَنْ حَوْلَهٗۤ اَلَا تَسْتَمِعُوْنَ ۟
ফির‘আউন তার আশেপাশে থাকা লোকদেরকে (নেতাদেরকে) বললো: ‘তোমরা কি মনোযোগসহ শুনছো না?’
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ اٰبَآىِٕكُمُ الْاَوَّلِیْنَ ۟
মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও রব।’
قَالَ اِنَّ رَسُوْلَكُمُ الَّذِیْۤ اُرْسِلَ اِلَیْكُمْ لَمَجْنُوْنٌ ۟
ফির‘আউন বললো: ‘তোমাদের কাছে প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল অবশ্যই পাগল।’
قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَیْنَهُمَا ؕ— اِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ ۟
মূসা বললো: ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব; যদি তোমাদের বিবেক-বুদ্ধি থাকে, তাহলে তোমরা তা বুঝতে পারবে।’
قَالَ لَىِٕنِ اتَّخَذْتَ اِلٰهًا غَیْرِیْ لَاَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُوْنِیْنَ ۟
ফির‘আউন (মূসার সাথে তর্কে অক্ষম হয়ে) বললো: ‘যদি তুমি আমাকে ছাড়া কাউকে ইলাহরূপে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে কারারুদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত করব।’
قَالَ اَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَیْءٍ مُّبِیْنٍ ۟ۚ
মূসা বলল, ‘আমি যদি তোমার কাছে স্পষ্ট কোনো নিদর্শন নিয়ে আসি(৮)’
قَالَ فَاْتِ بِهٖۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟
ফির‘আউন বললো: ‘তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে, তা নিয়ে এসো।’
فَاَلْقٰی عَصَاهُ فَاِذَا هِیَ ثُعْبَانٌ مُّبِیْنٌ ۟ۚۖ
অতঃপর সে তার (হাতের ) লাঠিটি (জমিনে) ফেলে দিলো, ফলে তৎক্ষণাৎ তা একটি স্পষ্ট অজগর সাপে পরিণত হলো।
وَّنَزَعَ یَدَهٗ فَاِذَا هِیَ بَیْضَآءُ لِلنّٰظِرِیْنَ ۟۠
আর মূসা তার হাত (পকেটে ঢুকিয়ে আবার) বের করলো, ফলে তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল-সাদা (হাত) হয়ে দেখা দিলো।
قَالَ لِلْمَلَاِ حَوْلَهٗۤ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِیْمٌ ۟ۙ
ফির‘আউন তার আশপাশের পরিষদবৰ্গকে বললো: ‘এ তো এক বিজ্ঞ যাদুকর!’
یُّرِیْدُ اَنْ یُّخْرِجَكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ بِسِحْرِهٖ ۖۗ— فَمَاذَا تَاْمُرُوْنَ ۟
‘সে তোমাদেরকে তার যাদুর (শক্তির) মাধ্যমে তোমাদের দেশ থেকে বের করতে চায়। অতএব, (তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে) তোমরা আমাকে কী পরামর্শ দাও?’
قَالُوْۤا اَرْجِهْ وَاَخَاهُ وَابْعَثْ فِی الْمَدَآىِٕنِ حٰشِرِیْنَ ۟ۙ
তারা বললো: ‘তাকে ও তার ভাইকে (দ্রুত শাস্তি না দিয়ে) কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দিন, আর (যাদুকরদেরকে একত্রিত করতে) নগরে নগরে সংগ্রহকারীদেরকে পাঠিয়ে দিন।’
یَاْتُوْكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِیْمٍ ۟
‘তারা আপনার নিকট প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরকে একত্রিত করবে।’
فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِیْقَاتِ یَوْمٍ مَّعْلُوْمٍ ۟ۙ
অতঃপর (মূসার সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য) এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্র করা হলো।
وَّقِیْلَ لِلنَّاسِ هَلْ اَنْتُمْ مُّجْتَمِعُوْنَ ۟ۙ
উপরন্তু লোকদের বলা হলো, ‘তোমরাও কি (সেখানে বিজয়ী লোকটিকে দেখতে) সমবেত হবে?’
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ اِنْ كَانُوْا هُمُ الْغٰلِبِیْنَ ۟
‘যাতে আমরা যাদুকরদের (ধর্ম) অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা (মূসার ওপর) বিজয়ী হয়।’
فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَةُ قَالُوْا لِفِرْعَوْنَ اَىِٕنَّ لَنَا لَاَجْرًا اِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغٰلِبِیْنَ ۟
অতঃপর যখন জাদুকররা এলো, তারা ফির‘আউনকে বলল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই, তবে কি আমাদের জন্য নিশ্চিতভাবে কোনো পুরস্কার হবে?’
قَالَ نَعَمْ وَاِنَّكُمْ اِذًا لَّمِنَ الْمُقَرَّبِیْنَ ۟
ফির‘আউন বললো: ‘হ্যাঁ এবং নিশ্চয় তোমরা তখন আমার নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤی اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ ۟
(যাদু-যুদ্ধের প্রারম্ভে) মূসা তাদেরকে বললো: ‘তোমরা যা (যে যাদু) নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ করো।’
فَاَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِیَّهُمْ وَقَالُوْا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ اِنَّا لَنَحْنُ الْغٰلِبُوْنَ ۟
অতঃপর তারা নিজেদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করলো এবং বললো: ‘ফির‘আউনের ইজ্জতের শপথ! অবশ্যই আমরা বিজয়ী হবো।’
فَاَلْقٰی مُوْسٰی عَصَاهُ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ۟ۚۖ
অতঃপর মূসা তার হাতের লাঠিটি নিক্ষেপ করলো, ফলে তৎক্ষণাৎ তা (অজগর হয়ে) তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগলো।
فَاُلْقِیَ السَّحَرَةُ سٰجِدِیْنَ ۟ۙ
তখন যাদুকররা সাজদাবনত হয়ে পড়লো।
قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ
তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম সৃষ্টিকুলের রবের প্রতি।’
رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ۟
‘মূসা ও হারূনের রব।’
قَالَ اٰمَنْتُمْ لَهٗ قَبْلَ اَنْ اٰذَنَ لَكُمْ ۚ— اِنَّهٗ لَكَبِیْرُكُمُ الَّذِیْ عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ ۚ— فَلَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ؕ۬— لَاُقَطِّعَنَّ اَیْدِیَكُمْ وَاَرْجُلَكُمْ مِّنْ خِلَافٍ وَّلَاُوصَلِّبَنَّكُمْ اَجْمَعِیْنَ ۟ۚ
ফির‘আউন (যাদুকরদের ক্রোধান্বিত হয়ে) বললো: ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে তোমাদের মহাগুরু, যে তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব অচিরেই তোমরা (এর পরিণাম) জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পাসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলবো এবং আমি অবশ্যই তোমাদের সকলকে (খেজুর গাছের গুঁড়িতে) শূলবিদ্ধ করবো।’
قَالُوْا لَا ضَیْرَ ؗ— اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا مُنْقَلِبُوْنَ ۟ۚ
তারা (যাদুকররা) বলল, ‘কোনো ক্ষতি নেই; নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’
اِنَّا نَطْمَعُ اَنْ یَّغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطٰیٰنَاۤ اَنْ كُنَّاۤ اَوَّلَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟ؕ۠
‘আমরা আশা করি যে, আমাদের রব আমাদের (পূর্বের) অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবেন; কারণ আমরা (মূসার ওপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে) মু’মিনদের মধ্যে প্রথম।’
وَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَسْرِ بِعِبَادِیْۤ اِنَّكُمْ مُّتَّبَعُوْنَ ۟
আর আমি মূসার প্রতি ওহী করলাম যে, ‘আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিকালে যাত্রা করো, নিশ্চয়ই (তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য ফির‘আউন ও তার সাথীদের কর্তৃক) তোমাদের পিছু নেয়া হবে।’
فَاَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِی الْمَدَآىِٕنِ حٰشِرِیْنَ ۟ۚ
অতঃপর ফির‘আউন (বানূ ইসরাঈলকে ফেরত আনার জন্য) নগরে নগরে লোক সংগ্রহকারী (সেনাবাহিনী) পাঠালো।
اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِیْلُوْنَ ۟ۙ
(ফির‘আউন তুচ্ছ করে বললো,) ‘নিশ্চয়ই এরা তো ক্ষুদ্র একটি দল।’
وَاِنَّهُمْ لَنَا لَغَآىِٕظُوْنَ ۟ۙ
আর অবশ্যই তারা আমাদের জন্য চরম ক্রোধ উত্তেজক।
وَاِنَّا لَجَمِیْعٌ حٰذِرُوْنَ ۟ؕ
‘আর (তাদের মোকাবেলায়) আমরা সবাই সদাজাগ্রত সতর্ক একটি সেনাদল।’
فَاَخْرَجْنٰهُمْ مِّنْ جَنّٰتٍ وَّعُیُوْنٍ ۟ۙ
পরিণামে আমি তাদেরকে (ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়কে মিশরের) উদ্যানমালা ও ঝর্ণাধারাসমূহ থেকে বের করে দিলাম।
وَّكُنُوْزٍ وَّمَقَامٍ كَرِیْمٍ ۟ۙ
এবং ধন-ভাণ্ডার ও সুন্দর ঘর-বাড়ি বিশিষ্ট এলাকা থেকেও।
كَذٰلِكَ ؕ— وَاَوْرَثْنٰهَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ
এরূপই ঘটেছিল এবং আমি বানূ ইসরাঈলকে এসবের উত্তরাধিকার বানিয়েছিলাম।(৯)
فَاَتْبَعُوْهُمْ مُّشْرِقِیْنَ ۟
অতঃপর তারা (ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়) সূর্য উঠা মাত্রই তাদের (বানূ ইসরাঈলের) পিছু নিলো।
فَلَمَّا تَرَآءَ الْجَمْعٰنِ قَالَ اَصْحٰبُ مُوْسٰۤی اِنَّا لَمُدْرَكُوْنَ ۟ۚ
অতঃপর যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখলো, তখন মূসার সাথীরা বললো: ‘অবশ্যই আমরা ধরা পড়ে গেলাম!’
قَالَ كَلَّا ۚ— اِنَّ مَعِیَ رَبِّیْ سَیَهْدِیْنِ ۟
মূসা বললো: ‘কখনই নয়; আমার সাথে আমার রব রয়েছেন। নিশ্চয় অচিরেই তিনি আমাকে (রক্ষার)পথনির্দেশ দিবেন।’
فَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنِ اضْرِبْ بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ ؕ— فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِیْمِ ۟ۚ
অতঃপর আমি মূসার প্রতি ওয়াহী পাঠালাম: ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করো।’ ফলে তা ( বিদীর্ণ হয়ে ) বিভক্ত হয়ে গেলো। তারপর প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়ের মতো হয়ে গেলো।
وَاَزْلَفْنَا ثَمَّ الْاٰخَرِیْنَ ۟ۚ
আর আমরা সেখানে কাছে নিয়ে এলাম অন্য দলটিকে,
وَاَنْجَیْنَا مُوْسٰی وَمَنْ مَّعَهٗۤ اَجْمَعِیْنَ ۟ۚ
আর আমি মূসা ও তার সাথে (বানূ ইসরাঈলের) যারা ছিলো সকলকে উদ্ধার করলাম।
ثُمَّ اَغْرَقْنَا الْاٰخَرِیْنَ ۟ؕ
তারপর অপর দলটিকে (ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে) ডুবিয়ে দিলাম।
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় এতে(১০) রয়েছে নিদর্শন। আর তাদের (ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের) অধিকাংশই মু’মিন নয়।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠
আর নিশ্চয় তোমার রব তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَاتْلُ عَلَیْهِمْ نَبَاَ اِبْرٰهِیْمَ ۟ۘ
আর তুমি তাদের নিকট ইবরাহীমের ঘটনা বর্ণনা করো।
اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ وَقَوْمِهٖ مَا تَعْبُدُوْنَ ۟
যখন সে তার পিতা ও তার জাতিকে বলেছিলো: ‘তোমরা (আল্লাহকে বাদ দিয়ে) কীসের ইবাদাত করো?’
قَالُوْا نَعْبُدُ اَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عٰكِفِیْنَ ۟
তারা বললো: ‘আমরা মূর্তির পূজা করি। অতঃপর এগুলোর পূজায় আমরা নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকব।’
قَالَ هَلْ یَسْمَعُوْنَكُمْ اِذْ تَدْعُوْنَ ۟ۙ
সে বললো: ‘যখন তোমরা মূর্তিগুলোকে ডাকো, তখন কি তারা তোমাদের ডাক শুনতে পায়?’
اَوْ یَنْفَعُوْنَكُمْ اَوْ یَضُرُّوْنَ ۟
‘অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’
قَالُوْا بَلْ وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا كَذٰلِكَ یَفْعَلُوْنَ ۟
তারা বললো: (না, পারে না।) ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই (এগুলোর পূজা) করতো।’
قَالَ اَفَرَءَیْتُمْ مَّا كُنْتُمْ تَعْبُدُوْنَ ۟ۙ
ইবরাহীম বললো: ‘তোমরা যাদের পূজা করো-তাদের সম্পর্কে তোমরা কি ভেবে দেখেছো?’
اَنْتُمْ وَاٰبَآؤُكُمُ الْاَقْدَمُوْنَ ۟ؗ
‘তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা?’
فَاِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّیْۤ اِلَّا رَبَّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ
‘সৃষ্টিকুলের রব ব্যতীত অবশ্যই তারা সকলে আমার শত্রু।’
الَّذِیْ خَلَقَنِیْ فَهُوَ یَهْدِیْنِ ۟ۙ
‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে হিদায়াত দেন।’
وَالَّذِیْ هُوَ یُطْعِمُنِیْ وَیَسْقِیْنِ ۟ۙ
‘আর যিনি আমাকে খাওয়ান এবং পান করান।’
وَاِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ یَشْفِیْنِ ۟
‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন।’
وَالَّذِیْ یُمِیْتُنِیْ ثُمَّ یُحْیِیْنِ ۟ۙ
‘আর যিনি আমার (হায়াত শেষে) মৃত্যু দিবেন, অত:পর (মৃত্যুর পর) আমাকে জীবিত করবেন।’
وَالَّذِیْۤ اَطْمَعُ اَنْ یَّغْفِرَ لِیْ خَطِیْٓـَٔتِیْ یَوْمَ الدِّیْنِ ۟ؕ
‘আর যাঁর কাছে আমি আশা করি, তিনি বিচার দিবসে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিবেন।’
رَبِّ هَبْ لِیْ حُكْمًا وَّاَلْحِقْنِیْ بِالصّٰلِحِیْنَ ۟ۙ
(অতপর ইরবাহীম দু‘আ করে বললো) ‘হে আমার রব! আমাকে (দ্বীনের) প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে (জান্নাতে) সৎকর্মশীলদের সাথে শামিল করে দিন।’
وَاجْعَلْ لِّیْ لِسَانَ صِدْقٍ فِی الْاٰخِرِیْنَ ۟ۙ
‘এবং পরবর্তী বংশধরদের কাছে আমার উত্তম স্মরণ ও সুন্দর প্রশংসা অব্যাহত রাখুন।’
وَاجْعَلْنِیْ مِنْ وَّرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِیْمِ ۟ۙ
‘আর আপনি আমাকে নি‘আমতে পরিপূর্ণ জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’
وَاغْفِرْ لِاَبِیْۤ اِنَّهٗ كَانَ مِنَ الضَّآلِّیْنَ ۟ۙ
‘আর আপনি আমার পিতাকে (হিদায়াতের তাওফীক দিন এবং তাকে) ক্ষমা করুন, নিশ্চয় সে (শিরকের কারণে) পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।’(১১)
وَلَا تُخْزِنِیْ یَوْمَ یُبْعَثُوْنَ ۟ۙ
‘আর যেদিন (হিসাবের জন্য সবাইকে) পুনরুত্থিত করা হবে, সেদিন আমাকে (শাস্তি দিয়ে) লাঞ্ছিত করবেন না।’
یَوْمَ لَا یَنْفَعُ مَالٌ وَّلَا بَنُوْنَ ۟ۙ
‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না।’
اِلَّا مَنْ اَتَی اللّٰهَ بِقَلْبٍ سَلِیْمٍ ۟ؕ
‘তবে যে আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে আসবে (সেই লাভবান হবে)।’
وَاُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِیْنَ ۟ۙ
আর সে দিন মুত্তাকীদের জন্য জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে।
وَبُرِّزَتِ الْجَحِیْمُ لِلْغٰوِیْنَ ۟ۙ
এবং পথভ্রষ্টকারীদের জন্য জাহান্নাম উন্মোচিত করা হবে।
وَقِیْلَ لَهُمْ اَیْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُوْنَ ۟ۙ
আর তাদেরকে বলা হবে, ‘তারা কোথায় যাদের তোমরা পূজা করতে,
مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ— هَلْ یَنْصُرُوْنَكُمْ اَوْ یَنْتَصِرُوْنَ ۟ؕ
‘আল্লাহর পরিবর্তে?’ তারা কি ( আজ আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করে) তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারছে, না তারা নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করতে পারছে?
فَكُبْكِبُوْا فِیْهَا هُمْ وَالْغَاوٗنَ ۟ۙ
অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
وَجُنُوْدُ اِبْلِیْسَ اَجْمَعُوْنَ ۟ؕ
আর ইবলীসের সকল সৈন্যবাহিনীকেও।
قَالُوْا وَهُمْ فِیْهَا یَخْتَصِمُوْنَ ۟ۙ
সেখানে পরস্পর ঝগড়া করতে গিয়ে তারা বলবে-
تَاللّٰهِ اِنْ كُنَّا لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟ۙ
‘আল্লাহর শপথ! আমরা তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম’,
اِذْ نُسَوِّیْكُمْ بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟
‘যখন আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির রবের সমকক্ষ বানাতাম।’
وَمَاۤ اَضَلَّنَاۤ اِلَّا الْمُجْرِمُوْنَ ۟
‘আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলো’;
فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِیْنَ ۟ۙ
‘অতএব, (আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে আজ) আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই,
وَلَا صَدِیْقٍ حَمِیْمٍ ۟
এবং কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই।’
فَلَوْ اَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟
‘হায়, আমাদের যদি (দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাওয়ার) একবার সুযোগ হতো, তবে আমরা মু’মিনদের অর্ন্তভুক্ত হতাম।’
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় এতে(১২) রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশ মু’মিন নয়।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوْحِ ١لْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ
নূহের সম্প্রদায় (তার প্রতি মিথ্যারোপ করে মূলত সকল) রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিলো।
اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ نُوْحٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ
যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?’
اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল।’
فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۚ
‘আর আমি (এ দাওয়াত পৌঁছানোর বিনিময়ে) তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। ; আমার প্রতিদান শুধু সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’
فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ؕ
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
قَالُوْۤا اَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْاَرْذَلُوْنَ ۟ؕ
‘তারা বললো: ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবো; অথচ (সমাজের) নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে?’
قَالَ وَمَا عِلْمِیْ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟ۚ
নূহ বললো: ‘তারা আগে কি করত, তা জানা আমার কী প্রয়োজন?’(১৩)
اِنْ حِسَابُهُمْ اِلَّا عَلٰی رَبِّیْ لَوْ تَشْعُرُوْنَ ۟ۚ
‘তাদের হিসাব গ্রহণ তো কেবল আমার রবের দায়িত্বে, যদি তোমরা বুঝতে (তবে এ কথা কখনোই বলতে না)।’
وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟ۚ
‘আর আমি তো (তোমাদের ঈমান আনার আশায়) মু’মিনদেরকে (মজলিস থেকে) তাড়িয়ে দেওয়ার নই।’
اِنْ اَنَا اِلَّا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ۟ؕ
‘আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’
قَالُوْا لَىِٕنْ لَّمْ تَنْتَهِ یٰنُوْحُ لَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْمَرْجُوْمِیْنَ ۟ؕ
তারা বললো: ‘হে নূহ! যদি তুমি (এ কাজ থেকে) বিরত না হও, তবে অবশ্যই তুমি পাথরের আঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
قَالَ رَبِّ اِنَّ قَوْمِیْ كَذَّبُوْنِ ۟ۚۖ
নূহ বললো: ‘হে আমার রব! আমার জাতি আমাকে অস্বীকার করেছে।’
فَافْتَحْ بَیْنِیْ وَبَیْنَهُمْ فَتْحًا وَّنَجِّنِیْ وَمَنْ مَّعِیَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟
‘সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে একটা চূড়ান্ত ফয়সালা করে দিন।(১৪) আর আমাকে ও আমার সাথে থাকা মু’মিনদেরকে রক্ষা করুন।’
فَاَنْجَیْنٰهُ وَمَنْ مَّعَهٗ فِی الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِ ۟ۚ
অতঃপর আমি (তাঁর এ প্রার্থনা কবুল করলাম এবং) তাঁকে এবং তাঁর সাথে যারা ভরা নৌকায় আরোহী ছিলো তাদেরকে (ধ্বংস থেকে) রক্ষা করলাম।
ثُمَّ اَغْرَقْنَا بَعْدُ الْبٰقِیْنَ ۟ؕ
তারপর অবশিষ্ট লোকদেরকে (মহা প্লাবনে) ডুবিয়ে দিলাম।
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, বস্তুত তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিল না।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠
আর নিশ্চয় তোমার রব মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كَذَّبَتْ عَادُ ١لْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ
‘আদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিলো।
اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ هُوْدٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ
যখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (গাইরুল্লাহর ইবাদাত পরিত্যাগ করে) আল্লাহকে ভয় করবে না?’
اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল।’
فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ
‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ
‘আর এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’
اَتَبْنُوْنَ بِكُلِّ رِیْعٍ اٰیَةً تَعْبَثُوْنَ ۟ۙ
‘তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে (বা টিলায়) একটি নিদর্শন নির্মাণ কর, যাতে তোমরা অনর্থক খেল-তামাশা কর?’(১৫)
وَتَتَّخِذُوْنَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ ۟ۚ
আর তোমরা অট্টালিকা নির্মাণ কর, যেন তোমরা চিরকাল স্থায়ী হবে?
وَاِذَا بَطَشْتُمْ بَطَشْتُمْ جَبَّارِیْنَ ۟ۚ
আর যখন তোমরা আঘাত কর, তখন তোমরা অত্যাচারীর মতো আঘাত কর।
فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ
‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
وَاتَّقُوا الَّذِیْۤ اَمَدَّكُمْ بِمَا تَعْلَمُوْنَ ۟ۚ
‘আর তোমরা তাঁকে (আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে) ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন এমন কিছু (নি‘আমতরাজি) দিয়ে, যা তোমরা ভালো করেই জানো।’
اَمَدَّكُمْ بِاَنْعَامٍ وَّبَنِیْنَ ۟ۚۙ
‘তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা,
وَجَنّٰتٍ وَّعُیُوْنٍ ۟ۚ
আর বাগান ও ঝর্ণাধারা দ্বারা।’
اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْكُمْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟ؕ
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর এক মহা দিবসের (কিয়ামতের দিনের) শাস্তির ভয় করছি।’
قَالُوْا سَوَآءٌ عَلَیْنَاۤ اَوَعَظْتَ اَمْ لَمْ تَكُنْ مِّنَ الْوٰعِظِیْنَ ۟ۙ
তারা বললো: ‘তুমি আমাদের উপদেশ দাও কিংবা না দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান।’
اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا خُلُقُ الْاَوَّلِیْنَ ۟ۙ
‘এসব পূর্ববর্তীদের (ধর্ম, অভ্যাস ও) চরিত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।’
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِیْنَ ۟ۚ
‘আর আমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হব না।’
فَكَذَّبُوْهُ فَاَهْلَكْنٰهُمْ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟
অতঃপর তারা তাকে (নবী হূদকে) অস্বীকার করলো, ফলে আমি (কঠিন ঝড়ো হাওয়ার মাধ্যমে) তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। নিশ্চয় এতে (এ ধ্বংসের মাঝে) নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠
আর নিশ্চয় তোমার রব মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كَذَّبَتْ ثَمُوْدُ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ
সামূদ সম্প্রদায় (নিজেদের নবী সালিহকে অস্বীকার করার মাধ্যমে) রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিলো।
اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ صٰلِحٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ
যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (গাইরুল্লাহর ইবাদাত পরিত্যাগ করে) আল্লাহকে ভয় করবে না?’
اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ
‘আমি তো তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রাসূল।’
فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ
‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ
‘আর এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’
اَتُتْرَكُوْنَ فِیْ مَا هٰهُنَاۤ اٰمِنِیْنَ ۟ۙ
‘(তোমরা কি মনে করছো যে,) তোমাদেরকে কি এখানে যা (দুনিয়াতে যে কল্যাণ ও নি‘আমত) আছে, তাতে নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হবে?’
فِیْ جَنّٰتٍ وَّعُیُوْنٍ ۟ۙ
‘ সুশোভিত বাগান ও ঝর্ণাধারায়’
وَّزُرُوْعٍ وَّنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِیْمٌ ۟ۚ
‘আর ক্ষেত-খামার ও সুকোমল গুচ্ছ বিশিষ্ট (কাঁচা ও পাকা) খেজুর বাগানে?’
وَتَنْحِتُوْنَ مِنَ الْجِبَالِ بُیُوْتًا فٰرِهِیْنَ ۟ۚ
‘আর তোমরা নৈপুণ্যের সাথে পাহাড় কেটে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছো।’(১৬)
فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ
‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
وَلَا تُطِیْعُوْۤا اَمْرَ الْمُسْرِفِیْنَ ۟ۙ
‘আর তোমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের নির্দেশ মান্য করো না।’
الَّذِیْنَ یُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ وَلَا یُصْلِحُوْنَ ۟
‘যারা জমিনে (পাপকর্ম ছড়িয়ে) বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং (আল্লাহর আনুগত্য আঁকড়ে ধরে) নিজেদেরকে সংশোধন করে না।’
قَالُوْۤا اِنَّمَاۤ اَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِیْنَ ۟ۚ
তারা (তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা) বলল: ‘তুমিতো যাদুগ্রস্তদের একজন।’
مَاۤ اَنْتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا ۖۚ— فَاْتِ بِاٰیَةٍ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟
‘তুমি তো কেবল আমাদের মতো একজন মানুষ। সুতরাং তুমি যদি (রিসালাতের দাবিতে) সত্যবাদী হও, তবে কোনো নিদর্শন (মু‘জিযা) নিয়ে এসো।’
قَالَ هٰذِهٖ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَّلَكُمْ شِرْبُ یَوْمٍ مَّعْلُوْمٍ ۟ۚ
সালিহ (তাদেরকে) বললো: ‘এটি একটি উষ্ট্রী (এটিই আমার নিদর্শন); তার জন্য রয়েছে পানি পানের পালা, আর তোমাদের জন্য আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা।’(১৭)
وَلَا تَمَسُّوْهَا بِسُوْٓءٍ فَیَاْخُذَكُمْ عَذَابُ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟
‘আর তোমরা তাকে (হত্যা করে বা মেরে) কোন অনিষ্ট সাধন করো না; যদি করো, তবে এক মহা দিনের শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।’(১৮)
فَعَقَرُوْهَا فَاَصْبَحُوْا نٰدِمِیْنَ ۟ۙ
অতঃপর তারা সেটি যবহ করলো; ফলে (কঠিন শাস্তি দেখে) তারা ভীষণভাবে অনুতপ্ত হলো।(১৯)
فَاَخَذَهُمُ الْعَذَابُ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟
ফলে (বিকট আওয়াজ ও ভূমিকম্পের) শাস্তি তাদেরকে পাকড়াও করলো। নিশ্চয় এতে (এ ঘটনায়) রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠
আর নিশ্চয় তোমার রব মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوْطِ ١لْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ
লূতের সম্প্রদায় (নবী লূতকে অস্বীকার করার মাধ্যমে) রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিলো।
اِذْ قَالَ لَهُمْ اَخُوْهُمْ لُوْطٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ
যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (গাইরুল্লাহর ইবাদাত পরিত্যাগ করে) আল্লাহকে ভয় করবে না?’
اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত রাসূল।’
فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ
‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ
‘আর এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’
اَتَاْتُوْنَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ
‘সৃষ্টিকুলের মধ্যে (যৌনকর্ম করতে) তোমরাই কি কেবল পুরুষের কাছে যাও?’(২০)
وَتَذَرُوْنَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِّنْ اَزْوَاجِكُمْ ؕ— بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ عٰدُوْنَ ۟
‘আর (যৌন চাহিদা পূরণের জন্য) তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে তোমরা ত্যাগ করো; বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’
قَالُوْا لَىِٕنْ لَّمْ تَنْتَهِ یٰلُوْطُ لَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِیْنَ ۟
তারা বললো: ‘হে লূত! তুমি যদি (আমাদেরকে এ কাজ করতে নিষেধ করা থেকে) বিরত না হও, তাহলে তুমি অবশ্যই (এ দেশ থেকে) নির্বাসিত হবে।’
قَالَ اِنِّیْ لِعَمَلِكُمْ مِّنَ الْقَالِیْنَ ۟ؕ
লূত বললো: ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কাজকে ঘৃণা করি।‘
رَبِّ نَجِّنِیْ وَاَهْلِیْ مِمَّا یَعْمَلُوْنَ ۟
‘হে আমার রব! আমাকে এবং আমার পরিবারকে তাদের করণীয় কাজের (অপকর্মের) ক্ষতি থেকে রক্ষা কর।’
فَنَجَّیْنٰهُ وَاَهْلَهٗۤ اَجْمَعِیْنَ ۟ۙ
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবার-পরিজন সবাইকে (শাস্তি থেকে) রক্ষা করলাম।
اِلَّا عَجُوْزًا فِی الْغٰبِرِیْنَ ۟ۚ
তবে পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক বৃদ্ধা ছাড়া।(২১)
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْاٰخَرِیْنَ ۟ۚ
অতঃপর (লূত ও তাঁর পরিবার সাদূম এলাকা থেকে বেরিয়ে আসার পরে) অবশিষ্টদেরকে আমি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিলাম।
وَاَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ مَّطَرًا ۚ— فَسَآءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِیْنَ ۟
আর আমি তাদের ওপর (আকাশ থেকে) শিলাবৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং সেই বৃষ্টি (লূত কর্তৃক শাস্তির) ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য কতইনা মন্দ ছিল!
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় এতে (এ শাস্তিতে) রয়েছে এক নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠
আর নিশ্চয় তোমার রব মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كَذَّبَ اَصْحٰبُ لْـَٔیْكَةِ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ
আইকার অধিবাসীরা(২২) (তাদের নবী শু‘আইবকে অস্বীকার করে মূলত সকল) রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিলো।
اِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَیْبٌ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟ۚ
যখন (তাদের নবী) শু‘আইব তাদেরকে বলেছিলো: ‘তোমরা কি (গাইরুল্লাহর ইবাদাত পরিত্যাগ করে) আল্লাহকে ভয় করবে না?’
اِنِّیْ لَكُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌ ۟ۙ
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত রাসূল।’
فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟ۚ
‘তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
وَمَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ
‘আর এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট।’
اَوْفُوا الْكَیْلَ وَلَا تَكُوْنُوْا مِنَ الْمُخْسِرِیْنَ ۟ۚ
‘তোমরা (বেচা-কেনার সময়) মাপে পূর্ণ মাত্রায় দাও এবং যারা মাপে ঘাটতি করে, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’
وَزِنُوْا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِیْمِ ۟ۚ
‘আর (ওজন করার সময়) সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো।’
وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ اَشْیَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِی الْاَرْضِ مُفْسِدِیْنَ ۟ۚ
‘আর মানুষকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিও না এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।’
وَاتَّقُوا الَّذِیْ خَلَقَكُمْ وَالْجِبِلَّةَ الْاَوَّلِیْنَ ۟ؕ
‘যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে তাকে ভয় করো।’
قَالُوْۤا اِنَّمَاۤ اَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِیْنَ ۟ۙ
তারা বললো: ‘(হে শু‘আইব!) তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।’
وَمَاۤ اَنْتَ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَاِنْ نَّظُنُّكَ لَمِنَ الْكٰذِبِیْنَ ۟ۚ
‘তাছাড়া তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ। আর আমরা তোমাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করি।’
فَاَسْقِطْ عَلَیْنَا كِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟ؕ
‘অতএব, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশ (ভেঙ্গে) এর এক খণ্ড আমাদের ওপর ফেলে দাও।’
قَالَ رَبِّیْۤ اَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ ۟
সে (শুয়াইব) বললো: ‘তোমরা যা (যে শিরক ও গুনাহের কাজ) করো, সে সম্পর্কে আমার রব অধিক জ্ঞাত।’
فَكَذَّبُوْهُ فَاَخَذَهُمْ عَذَابُ یَوْمِ الظُّلَّةِ ؕ— اِنَّهٗ كَانَ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟
অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করলো। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিনের (আগুন বর্ষণের) শাস্তি পাকড়াও করলো। অবশ্যই তা ছিল এক ভয়ংকর দিনের শাস্তি।
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً ؕ— وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় এতে (শু‘আইবের জাতির ধ্বংসে) রয়েছে অনেক নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟۠
আর নিশ্চয় তোমার রব মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وَاِنَّهٗ لَتَنْزِیْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ
আর নিশ্চয় এ আল কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত।
نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْاَمِیْنُ ۟ۙ
বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরীল) এটা নিয়ে অবতরণ করেছে।
عَلٰی قَلْبِكَ لِتَكُوْنَ مِنَ الْمُنْذِرِیْنَ ۟ۙ
তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
بِلِسَانٍ عَرَبِیٍّ مُّبِیْنٍ ۟ؕ
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
وَاِنَّهٗ لَفِیْ زُبُرِ الْاَوَّلِیْنَ ۟
এবং নিশ্চয় এর উল্লেখ প্রাচীনতম গ্রন্থসমূহে (তাওরাত-ইঞ্জীলে) রয়েছে।
اَوَلَمْ یَكُنْ لَّهُمْ اٰیَةً اَنْ یَّعْلَمَهٗ عُلَمٰٓؤُا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ
এটা কি তাদের (মিথ্যারোপকারীদের) জন্য একটি নিদর্শন নয় যে, বানূ ইসরাঈলের আলিমগণ তা(২৩) জানে?
وَلَوْ نَزَّلْنٰهُ عَلٰی بَعْضِ الْاَعْجَمِیْنَ ۟ۙ
আর আমি যদি এটাকে কোনো অনারবের প্রতি নাযিল করতাম,
فَقَرَاَهٗ عَلَیْهِمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ مُؤْمِنِیْنَ ۟ؕ
অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করতো; তবুও তারা এতে মু‘মিন হতো না।
كَذٰلِكَ سَلَكْنٰهُ فِیْ قُلُوْبِ الْمُجْرِمِیْنَ ۟ؕ
এভাবেই আমি (কুফরী ও মিথ্যারোপের) বিষয়টি অপরাধীদের অন্তরে ঢুকিয়ে দিয়েছি।
لَا یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ حَتّٰی یَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِیْمَ ۟ۙ
যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে; ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এতে ঈমান আনবে না।(২৪)
فَیَاْتِیَهُمْ بَغْتَةً وَّهُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟ۙ
সুতরাং তা (শাস্তি) আকস্মিকভাবে তাদের নিকট এসে পড়বে; অথচ তারা টেরই পাবে না।
فَیَقُوْلُوْا هَلْ نَحْنُ مُنْظَرُوْنَ ۟ؕ
তখন তারা বলবে: ‘আমাদেরকে কি (আল্লাহর নিকট তাওবা করার) একটু সুযোগ দেওয়া হবে?’
اَفَبِعَذَابِنَا یَسْتَعْجِلُوْنَ ۟
তাহলে কি তারা আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চায়?
اَفَرَءَیْتَ اِنْ مَّتَّعْنٰهُمْ سِنِیْنَ ۟ۙ
(হে রাসূল!) তুমি কি লক্ষ্য করেছ, আমি যদি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিতাম।
ثُمَّ جَآءَهُمْ مَّا كَانُوْا یُوْعَدُوْنَ ۟ۙ
অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ে (শাস্তির) ওয়াদা করা হয়েছে, তা তাদের নিকট এসে পড়তো,
مَاۤ اَغْنٰی عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یُمَتَّعُوْنَ ۟ؕ
তখন (দুনিয়াতে) তাদের ভোগ-বিলাসের জন্য যা দেয়া হয়েছিলো, তা তাদের কোনোই কাজে লাগত না।
وَمَاۤ اَهْلَكْنَا مِنْ قَرْیَةٍ اِلَّا لَهَا مُنْذِرُوْنَ ۟
আর আমি এমন কোনো জনপদকে ধ্বংস করিনি, যাতে কোনো সতর্ককারী (নবী-রাসূল) আসেনি।
ذِكْرٰی ۛ۫— وَمَا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ ۟
এটা (তাদের জন্য) উপদেশস্বরূপ। আর আমি তো যালিম নই (যে তাদেরকে সতর্ক না করেই, ধ্বংস করে দিবো)।
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّیٰطِیْنُ ۟ۚ
আর শয়তানরা এ আল কুরআন নিয়ে (রাসূলের অন্তরের ওপর) অবতরণ করেনি।
وَمَا یَنْۢبَغِیْ لَهُمْ وَمَا یَسْتَطِیْعُوْنَ ۟ؕ
আর এটা তাদের (শয়তানদের) জন্য সমোচিত নয় (যে, তারা এ নিয়ে তার অন্তরের ওপর নাযিল হবে) এবং তারা এর ক্ষমতাও রাখে না।
اِنَّهُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُوْلُوْنَ ۟ؕ
নিশ্চয়ই এটির (আল কুরআনের ওয়াহী) শ্রবণ করা থেকে তাদেরকে আড়ালে রাখা হয়েছে।
فَلَا تَدْعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ فَتَكُوْنَ مِنَ الْمُعَذَّبِیْنَ ۟ۚ
অতএব, (হে রাসূল!) তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডেকো না, তাহলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
وَاَنْذِرْ عَشِیْرَتَكَ الْاَقْرَبِیْنَ ۟ۙ
আর (হে রাসূল!) তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে (আল্লাহর শাস্তি থেকে) সতর্ক করো।
وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟ۚ
আর মু’মিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তুমি তোমার বাহুকে বিনয়াবনত করো।
فَاِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ اِنِّیْ بَرِیْٓءٌ مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ ۟ۚ
তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বলো: ‘তোমরা যা (সেসব পাপ ও শিরক) করো, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত ‘
وَتَوَكَّلْ عَلَی الْعَزِیْزِ الرَّحِیْمِ ۟ۙ
‘আর তুমি সকল ব্যাপারে মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালুর ওপর তাওয়াক্কুল করো।
الَّذِیْ یَرٰىكَ حِیْنَ تَقُوْمُ ۟ۙ
‘যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (সালাতের জন্য) দণ্ডায়মান হও,
وَتَقَلُّبَكَ فِی السّٰجِدِیْنَ ۟
এবং সাজদাকারীদের মধ্যে তোমার উঠাবসা।’
اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۟
‘নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।’
هَلْ اُنَبِّئُكُمْ عَلٰی مَنْ تَنَزَّلُ الشَّیٰطِیْنُ ۟ؕ
‘আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দিবো, শয়তানরা মূলত কার নিকট অবতীর্ণ হয়?’
تَنَزَّلُ عَلٰی كُلِّ اَفَّاكٍ اَثِیْمٍ ۟ۙ
তারা (জিন শয়তানরা) অবতীর্ণ হয়, প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।
یُّلْقُوْنَ السَّمْعَ وَاَكْثَرُهُمْ كٰذِبُوْنَ ۟ؕ
তারা (ফিরিশতাদের কাছ থেকে কথা চুরি করে গণকদের কাছে পৌঁছে দিতে) কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
وَالشُّعَرَآءُ یَتَّبِعُهُمُ الْغَاوٗنَ ۟ؕ
আর কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।
اَلَمْ تَرَ اَنَّهُمْ فِیْ كُلِّ وَادٍ یَّهِیْمُوْنَ ۟ۙ
(হে রাসূল!) তুমি কি লক্ষ্য করো নি যে, (তাদের ভ্রষ্টতার একটি নিদর্শন হলো) তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়?
وَاَنَّهُمْ یَقُوْلُوْنَ مَا لَا یَفْعَلُوْنَ ۟ۙ
আর নিশ্চয় তারা এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
اِلَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَذَكَرُوا اللّٰهَ كَثِیْرًا وَّانْتَصَرُوْا مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوْا ؕ— وَسَیَعْلَمُ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْۤا اَیَّ مُنْقَلَبٍ یَّنْقَلِبُوْنَ ۟۠
তবে যারা (যে কবিরা) ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, উপরন্তু আল্লাহকে অনেক স্মরণ করেছে, আর তারা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়, (তারা অবশ্যই এ থেকে ভিন্ন)। আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে, কোন্ প্রত্যাবর্তন স্থলে তারা প্রত্যাবর্তন করবে।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time