الٓمّٓ ۟ۚ
আলিফ-লাম-মীম
The Prostration · 30 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
الٓمّٓ ۟ۚ
আলিফ-লাম-মীম
تَنْزِیْلُ الْكِتٰبِ لَا رَیْبَ فِیْهِ مِنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ؕ
এ কিতাব (আল কুরআন) সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
اَمْ یَقُوْلُوْنَ افْتَرٰىهُ ۚ— بَلْ هُوَ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَّاۤ اَتٰىهُمْ مِّنْ نَّذِیْرٍ مِّنْ قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ یَهْتَدُوْنَ ۟
নাকি তারা (কাফিররা) বলে, ‘সে (মুহাম্মাদ) তা রচনা করেছে?’ বরং তা তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য, যাতে তুমি এমন জাতিকে সতর্ক করতে পার, যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোনো সতর্ককারী আসেনি। আশা করা যায় যে, তারা হিদায়াত লাভ করবে।
اَللّٰهُ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَمَا بَیْنَهُمَا فِیْ سِتَّةِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ ؕ— مَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِهٖ مِنْ وَّلِیٍّ وَّلَا شَفِیْعٍ ؕ— اَفَلَا تَتَذَكَّرُوْنَ ۟
তিনিই আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং এদের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন(১); তারপর তিনি আরশের উপর ওঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই। তবু কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
یُدَبِّرُ الْاَمْرَ مِنَ السَّمَآءِ اِلَی الْاَرْضِ ثُمَّ یَعْرُجُ اِلَیْهِ فِیْ یَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهٗۤ اَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّوْنَ ۟
তিনি আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত সকল কার্যাদি পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তাঁর কাছেই উত্থিত হবে, যে দিনের পরিমাণ হবে তোমাদের (দুনিয়ার) গণনায় হাজার বছর।
ذٰلِكَ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَالشَّهَادَةِ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟ۙ
তিনি গায়েব (অদৃশ্য) ও প্রকাশ্য (দৃশ্যমান) সকল বিষয়ের জ্ঞানী; তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
الَّذِیْۤ اَحْسَنَ كُلَّ شَیْءٍ خَلَقَهٗ وَبَدَاَ خَلْقَ الْاِنْسَانِ مِنْ طِیْنٍ ۟ۚ
যিনি তাঁর সৃষ্ট প্রতিটি বস্তুকে সুনিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানুষের (আদমের) সৃষ্টির সূচনা করেছেন।
ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهٗ مِنْ سُلٰلَةٍ مِّنْ مَّآءٍ مَّهِیْنٍ ۟ۚ
তারপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস (বীর্য) থেকে।
ثُمَّ سَوّٰىهُ وَنَفَخَ فِیْهِ مِنْ رُّوْحِهٖ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْاَبْصَارَ وَالْاَفْـِٕدَةَ ؕ— قَلِیْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ ۟
অতঃপর তিনি তাকে সুবিন্যস্ত করলেন এবং তার মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দিলেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা খুবই অল্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
وَقَالُوْۤا ءَاِذَا ضَلَلْنَا فِی الْاَرْضِ ءَاِنَّا لَفِیْ خَلْقٍ جَدِیْدٍ ؕ۬— بَلْ هُمْ بِلِقَآءِ رَبِّهِمْ كٰفِرُوْنَ ۟
আর তারা (পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা) বলে, আমরা যখন মাটির মধ্যে হারিয়ে যাব, তখন কি আমরা নতুন করে আবার সৃষ্টি হব? বরং তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎকে অস্বীকার করে।
قُلْ یَتَوَفّٰىكُمْ مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِیْ وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ اِلٰی رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ ۟۠
বলুন, ‘তোমাদেরকে মৃত্যু দান করেন (আল্লাহর নিযুক্ত) সেই মৃত্যুর ফেরেশতা, যিনি তোমাদের উপর নিয়োজিত রয়েছেন। তারপর তোমাদেরকে তোমাদের রবের কাছেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
وَلَوْ تَرٰۤی اِذِ الْمُجْرِمُوْنَ نَاكِسُوْا رُءُوْسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؕ— رَبَّنَاۤ اَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا اِنَّا مُوْقِنُوْنَ ۟
আর যদি তুমি দেখতে, যখন অপরাধীরা তাদের রবের সামনে অবনত মস্তকে বলবে: ‘হে আমাদের রব! আমরা (পুনরুত্থান) দেখেছি ও (রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছে তা) শুনেছি। কাজেই আমাদেরকে পুনরায় (দুনিয়াতে) পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। নিশ্চয় এখন আমরা (তাতে) পূর্ণ বিশ্বাসী।’
وَلَوْ شِئْنَا لَاٰتَیْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدٰىهَا وَلٰكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّیْ لَاَمْلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِیْنَ ۟
আর যদি আমি ইচ্ছা করতাম, তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে হিদায়াত দান করতাম। কিন্তু আমার (হিকমত ও ইনসাফ অনুযায়ী) এ কথাই সত্যে পরিণত হবে যে, ‘নিশ্চয় আমি জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবো।’
فَذُوْقُوْا بِمَا نَسِیْتُمْ لِقَآءَ یَوْمِكُمْ هٰذَا ۚ— اِنَّا نَسِیْنٰكُمْ وَذُوْقُوْا عَذَابَ الْخُلْدِ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟
অতএব তোমরা আস্বাদন করো, তোমরা যে আজকের এই দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিলে তার পরিণাম। নিশ্চয়ই আমিও তোমাদেরকে (আজ) ভুলে গেছি। আর তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী শাস্তি আস্বাদন করো।
اِنَّمَا یُؤْمِنُ بِاٰیٰتِنَا الَّذِیْنَ اِذَا ذُكِّرُوْا بِهَا خَرُّوْا سُجَّدًا وَّسَبَّحُوْا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا یَسْتَكْبِرُوْنَ ۟
আমার আয়াতসমূহের ওপর শুধু তারাই ঈমান আনে, যারা এর দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দেয়া হলে সাজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে। আর তারা (আল্লাহর ইবাদাত করতে) অহংকার করে না।
تَتَجَافٰی جُنُوْبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ یَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَّطَمَعًا ؗ— وَّمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَ ۟
তাদের পার্শ্বদেশ (রাতের বেলায়) বিছানা থেকে আলাদা হয়। তারা তাদের রবকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকে। আর আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি, তা থেকে তারা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّاۤ اُخْفِیَ لَهُمْ مِّنْ قُرَّةِ اَعْیُنٍ ۚ— جَزَآءً بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟
অতঃপর কোন ব্যক্তি জানে না, (দুনিয়াতে) তারা যা করতো, তার পুরস্কারস্বরূপ তাদের জন্য চক্ষু শীতলকারী কী জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে!
اَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا ؔؕ— لَا یَسْتَوٗنَ ۟
সুতরাং যে ব্যক্তি মু’মিন সে কি ফাসিক ব্যক্তির মতো? (প্রতিদানের ক্ষেত্রে ) তারা সমান নয়।
اَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَلَهُمْ جَنّٰتُ الْمَاْوٰی ؗ— نُزُلًا بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ আপ্যায়ন হিসেবে তাদের জন্যে রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাতের বাসস্থান।
وَاَمَّا الَّذِیْنَ فَسَقُوْا فَمَاْوٰىهُمُ النَّارُ ؕ— كُلَّمَاۤ اَرَادُوْۤا اَنْ یَّخْرُجُوْا مِنْهَاۤ اُعِیْدُوْا فِیْهَا وَقِیْلَ لَهُمْ ذُوْقُوْا عَذَابَ النَّارِ الَّذِیْ كُنْتُمْ بِهٖ تُكَذِّبُوْنَ ۟
আর যারা নাফরমানি করে, তাদের বাসস্থান হবে (জাহান্নামের) আগুন; যখনই তারা তা থেকে বের হতে চাইবে, তাদেরকে তাতেই ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে: ‘তোমরা আগুনের শাস্তি আস্বাদন করো, যাকে তোমরা অস্বীকার করতে।
وَلَنُذِیْقَنَّهُمْ مِّنَ الْعَذَابِ الْاَدْنٰی دُوْنَ الْعَذَابِ الْاَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ۟
আর অবশ্যই আমি তাদেরকে (পরকালে ) গুরুতর শাস্তির পূর্বে (দুনিয়াতে ) লঘু শাস্তি আস্বাদন করাবো, যাতে তারা ( আনুগত্যের পথে ) ফিরে আসে।
وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّهٖ ثُمَّ اَعْرَضَ عَنْهَا ؕ— اِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِیْنَ مُنْتَقِمُوْنَ ۟۠
আর তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ দেয়ার পর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? নিশ্চয় আমি অপরাধীদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
وَلَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْكِتٰبَ فَلَا تَكُنْ فِیْ مِرْیَةٍ مِّنْ لِّقَآىِٕهٖ وَجَعَلْنٰهُ هُدًی لِّبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ۚ
আর আমি তো মূসাকে (তাওরাত) কিতাব দিয়েছিলাম। অতএব হে রাসূল! তুমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে সন্দেহে থেকো না। আর আমি সেটিকে বানূ ইসরাঈলের জন্য হিদায়াতস্বরূপ করেছিলাম।
وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ اَىِٕمَّةً یَّهْدُوْنَ بِاَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوْا ؕ۫— وَكَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یُوْقِنُوْنَ ۟
আর আমি তাদের (বানূ ইসরাঈলদের) মধ্য থেকে বহু নেতা মনোনীত করেছিলাম, তারা আমার আদেশানুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করতো, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিলো। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখতো।
اِنَّ رَبَّكَ هُوَ یَفْصِلُ بَیْنَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ فِیْمَا كَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ۟
নিশ্চয়ই তোমার রব কিয়ামতের দিনে তাদের মধ্যে সে বিষয়ে ফয়সালা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত।
اَوَلَمْ یَهْدِ لَهُمْ كَمْ اَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنَ الْقُرُوْنِ یَمْشُوْنَ فِیْ مَسٰكِنِهِمْ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ ؕ— اَفَلَا یَسْمَعُوْنَ ۟
এটা কি তাদেরকে হিদায়াত করলো না যে, আমি তাদের পূর্বে কত জাতিকে ধ্বংস করেছি, যাদের বাসভূমিতে আজ তারা চলাফেরা করছে? নিশ্চয় এতে বহু নিদর্শন রয়েছে। তবুও কি তারা (উপদেশ গ্রহণের জন্যে) শুনবে না?
اَوَلَمْ یَرَوْا اَنَّا نَسُوْقُ الْمَآءَ اِلَی الْاَرْضِ الْجُرُزِ فَنُخْرِجُ بِهٖ زَرْعًا تَاْكُلُ مِنْهُ اَنْعَامُهُمْ وَاَنْفُسُهُمْ ؕ— اَفَلَا یُبْصِرُوْنَ ۟
এসব লোকজন কি লক্ষ্য করে না যে, আমি শুকনো ভূমিতে পানি প্রবাহিত করি। অতঃপর তা দিয়ে শস্য উৎপন্ন করি, যা থেকে তাদের গবাদি পশু ও তারা নিজেরা খাদ্য গ্রহণ করে? তবুও কি তারা লক্ষ্য করবে না।(২)
وَیَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْفَتْحُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟
আর তারা বলে, কখন হবে এ ফয়সালা (কিয়ামত)? তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বলো।
قُلْ یَوْمَ الْفَتْحِ لَا یَنْفَعُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِیْمَانُهُمْ وَلَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ ۟
হে রাসূল! তাদেরকে বলো, ফয়সালার দিনে কাফিরদের ঈমান গ্রহণ তাদের কেনো উপকার করবে না। আর তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হবে না।
فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ وَانْتَظِرْ اِنَّهُمْ مُّنْتَظِرُوْنَ ۟۠
অতএব, তুমি তাদেরকে উপেক্ষা করো, আর (তাদের ভয়াবহ পরিণতির) অপেক্ষা করো, নিশ্চয় তারা (সেটার) অপেক্ষমাণ।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time