KarbarX
বাংলা Free trial

4. An-Nisaa النساء

The Women · 176 ayahs

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟

4:1

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ وَّخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِیْرًا وَّنِسَآءً ۚ— وَاتَّقُوا اللّٰهَ الَّذِیْ تَسَآءَلُوْنَ بِهٖ وَالْاَرْحَامَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلَیْكُمْ رَقِیْبًا ۟

হে মানুষেরা! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি (আদম) থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকেই তার স্ত্রী (হাওয়া)কে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দুজন থেকে অসংখ্য নর-নারী (সৃষ্টি করে পৃথিবীতে) ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে নিজ নিজ অধিকার দাবী করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।

4:2

وَاٰتُوا الْیَتٰمٰۤی اَمْوَالَهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِیْثَ بِالطَّیِّبِ ۪— وَلَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَهُمْ اِلٰۤی اَمْوَالِكُمْ ؕ— اِنَّهٗ كَانَ حُوْبًا كَبِیْرًا ۟

আর তোমরা ইয়াতীমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ দিয়ে দাও এবং ভালো সম্পদের সাথে খারাপ সম্পদ বদল করো না। আর তোমরা তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদ মিশিয়ে গ্রাস করো না; নিশ্চয় এটা মহাপাপ ।

4:3

وَاِنْ خِفْتُمْ اَلَّا تُقْسِطُوْا فِی الْیَتٰمٰی فَانْكِحُوْا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَآءِ مَثْنٰی وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ ۚ— فَاِنْ خِفْتُمْ اَلَّا تَعْدِلُوْا فَوَاحِدَةً اَوْ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ ؕ— ذٰلِكَ اَدْنٰۤی اَلَّا تَعُوْلُوْا ۟ؕ

আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা বিয়ে করো নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে; দু’টি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একটি বিবাহ করো অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকেই গ্রহণ করো। এটা অধিকতর নিকটবর্তী যে, তোমরা যুলম করবে না ।

4:4

وَاٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِهِنَّ نِحْلَةً ؕ— فَاِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَیْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِیْٓـًٔا مَّرِیْٓـًٔا ۟

আর তোমরা স্ত্রীদেরকে সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও। তবে তারা যদি নিজেরাই সন্তুষ্টচিত্তে কিছু অংশ ছাড় দেয় তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খাও।

4:5

وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَآءَ اَمْوَالَكُمُ الَّتِیْ جَعَلَ اللّٰهُ لَكُمْ قِیٰمًا وَّارْزُقُوْهُمْ فِیْهَا وَاكْسُوْهُمْ وَقُوْلُوْا لَهُمْ قَوْلًا مَّعْرُوْفًا ۟

আর তোমরা নির্বোধদের(১) হাতে তোমাদের ধন-সম্পদ ছেড়ে দিও না; যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের জীবন চালানোর ব্যবস্থা করেছেন এবং তা থেকে তাদেরকে খাবার ও ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করো। আর তোমরা তাদের সাথে উত্তম কথা বলো(২)।

4:6

وَابْتَلُوا الْیَتٰمٰی حَتّٰۤی اِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ ۚ— فَاِنْ اٰنَسْتُمْ مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوْۤا اِلَیْهِمْ اَمْوَالَهُمْ ۚ— وَلَا تَاْكُلُوْهَاۤ اِسْرَافًا وَّبِدَارًا اَنْ یَّكْبَرُوْا ؕ— وَمَنْ كَانَ غَنِیًّا فَلْیَسْتَعْفِفْ ۚ— وَمَنْ كَانَ فَقِیْرًا فَلْیَاْكُلْ بِالْمَعْرُوْفِ ؕ— فَاِذَا دَفَعْتُمْ اِلَیْهِمْ اَمْوَالَهُمْ فَاَشْهِدُوْا عَلَیْهِمْ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ حَسِیْبًا ۟

আর ইয়াতিমদেরকে যাচাই-পরীক্ষা করতে থাকো; যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য (সাবালক) হয়(৩)। অতঃপর তাদের মধ্যে ভালো-মন্দ যাচাই করার যোগ্যতা দেখতে পেলে তাদের সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দাও। তারা বড় হয়ে (তাদের সম্পদ ফেরত নিবে এ ভয়ে) তাদের সম্পদ অপচয় করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যে সম্পদশালী সে যেন বিরত থাকে এবং যে অভাবী সে যেন সংগত পরিমাণে ভোগ করে। অতঃপর তোমরা যখন তাদেরকে তাদের সম্পদ হস্তান্তর করবে, তখন সাক্ষী রেখো। আর হিসেব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।

4:7

لِلرِّجَالِ نَصِیْبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدٰنِ وَالْاَقْرَبُوْنَ ۪— وَلِلنِّسَآءِ نَصِیْبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدٰنِ وَالْاَقْرَبُوْنَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ اَوْ كَثُرَ ؕ— نَصِیْبًا مَّفْرُوْضًا ۟

পিতা-মাতা এবং নিকটাত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষ ওয়ারিশদের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারী ওয়ারিশদেরও অংশ আছে; সেটা অল্পই হোক কিংবা বেশি(৪) নির্ধারিত ও বিধিবদ্ধ।

4:8

وَاِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ اُولُوا الْقُرْبٰی وَالْیَتٰمٰی وَالْمَسٰكِیْنُ فَارْزُقُوْهُمْ مِّنْهُ وَقُوْلُوْا لَهُمْ قَوْلًا مَّعْرُوْفًا ۟

আর সম্পত্তি বন্টনকালে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম এবং অভাবগ্রস্ত লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে তা থেকে কিছু সম্পদ দিয়ে দাও এবং তাদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলো।

4:9

وَلْیَخْشَ الَّذِیْنَ لَوْ تَرَكُوْا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّیَّةً ضِعٰفًا خَافُوْا عَلَیْهِمْ ۪— فَلْیَتَّقُوا اللّٰهَ وَلْیَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِیْدًا ۟

আর তারা যেন এ কথা ভেবে ভয় করে যে, তারাও যদি অসহায় সন্তান রেখে মারা যেতো, তবে (মৃত্যুর সময়) তারা কতো যে উদ্বিগ্ন হতো! কাজেই তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে(১) এবং সংগত কথা বলে।

4:10

اِنَّ الَّذِیْنَ یَاْكُلُوْنَ اَمْوَالَ الْیَتٰمٰی ظُلْمًا اِنَّمَا یَاْكُلُوْنَ فِیْ بُطُوْنِهِمْ نَارًا ؕ— وَسَیَصْلَوْنَ سَعِیْرًا ۟۠

নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে (৬), তারা তো আসলে তাদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে। আর তারা অচিরেই জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে।

4:11

یُوْصِیْكُمُ اللّٰهُ فِیْۤ اَوْلَادِكُمْ ۗ— لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْاُنْثَیَیْنِ ۚ— فَاِنْ كُنَّ نِسَآءً فَوْقَ اثْنَتَیْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۚ— وَاِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ؕ— وَلِاَبَوَیْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ اِنْ كَانَ لَهٗ وَلَدٌ ۚ— فَاِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّهٗ وَلَدٌ وَّوَرِثَهٗۤ اَبَوٰهُ فَلِاُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ— فَاِنْ كَانَ لَهٗۤ اِخْوَةٌ فَلِاُمِّهِ السُّدُسُ مِنْ بَعْدِ وَصِیَّةٍ یُّوْصِیْ بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ ؕ— اٰبَآؤُكُمْ وَاَبْنَآؤُكُمْ لَا تَدْرُوْنَ اَیُّهُمْ اَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ؕ— فَرِیْضَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟

আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকারের) ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান; কিন্তু শুধু তারা (ওয়ারিশরা) যদি কন্যা সন্তান হয় এবং তারা যদি দুয়ের অধিক হয়, তবে তারা পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ভাগ পাবে। আর (মৃত ব্যক্তি যদি) একমাত্র কন্যা রেখে যায়, তবে সে (পরিত্যক্ত সম্পত্তির) অর্ধেক পাবে। (মৃত ব্যক্তির) সন্তান থাকলে তার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ; কিন্তু সে নিঃসন্তান হলে এবং পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য তিন ভাগের এক ভাগ(১); তার ভাই-বোন থাকলে মাতার জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ(২)। এভাবে ওয়ারিশি সম্পদ বণ্টন করতে হবে মৃত ব্যক্তি যদি অসিয়ত করে যায় কিংবা কোন ঋণ রেখে যায়, তবে সেগুলো পরিশোধ করার পর। তোমরা জানো না যে, তোমাদের পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যে (দুনিয়া ও আখিরাতে) উপকারে কে তোমাদের বেশি নিকটবর্তী। (উত্তরাধিকার বণ্টনের) এ বিধান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

4:12

وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ اَزْوَاجُكُمْ اِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ— فَاِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِیَّةٍ یُّوْصِیْنَ بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ ؕ— وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ اِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ— فَاِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِّنْ بَعْدِ وَصِیَّةٍ تُوْصُوْنَ بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ ؕ— وَاِنْ كَانَ رَجُلٌ یُّوْرَثُ كَلٰلَةً اَوِ امْرَاَةٌ وَّلَهٗۤ اَخٌ اَوْ اُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ— فَاِنْ كَانُوْۤا اَكْثَرَ مِنْ ذٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَآءُ فِی الثُّلُثِ مِنْ بَعْدِ وَصِیَّةٍ یُّوْصٰی بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ ۙ— غَیْرَ مُضَآرٍّ ۚ— وَصِیَّةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ— وَاللّٰهُ عَلِیْمٌ حَلِیْمٌ ۟ؕ

তোমাদের স্ত্রীরা যদি সন্তান না রেখে মারা যায়, তবে তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য। আর তাদের সন্তান থাকলে, তোমাদের জন্য তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ; যদি অসিয়ত করে যায় কিংবা কোন ঋণ রেখে যায়, তবে সেগুলো পরিশোধ করার পর। তোমরা নিঃসন্তান হলে, তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ স্ত্রীরা পাবে। আর তোমাদের সন্তান থাকলে, তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ তোমাদের স্ত্রীরা পাবে; তোমরা যা অসিয়াত করবে তা পালন করার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর। আর যদি কোনো পুরুষ অথবা নারীর ‘কালালাহ’ তথা পিতা-মাতা ও সন্তানহীন হলে, আর তার এক বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ। তারা এর চেয়ে বেশি হলে সবাই তিন ভাগের এক ভাগে সমান অংশীদার হবে; এটা অসিয়াত পালন এবং ঋণ পরিশোধের পর; কারো ক্ষতি না করে। এ হচ্ছে আল্লাহর বিধান। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, মহাধৈর্যশীল।

4:13

تِلْكَ حُدُوْدُ اللّٰهِ ؕ— وَمَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ یُدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ— وَذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ ۟

এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। আর এটাই হলো মহাসাফল্য।

4:14

وَمَنْ یَّعْصِ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ وَیَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ یُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِیْهَا ۪— وَلَهٗ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ ۟۠

আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানাবলীর অবাধ্য হলে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করলে তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

4:15

وَالّٰتِیْ یَاْتِیْنَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِّسَآىِٕكُمْ فَاسْتَشْهِدُوْا عَلَیْهِنَّ اَرْبَعَةً مِّنْكُمْ ۚ— فَاِنْ شَهِدُوْا فَاَمْسِكُوْهُنَّ فِی الْبُیُوْتِ حَتّٰی یَتَوَفّٰهُنَّ الْمَوْتُ اَوْ یَجْعَلَ اللّٰهُ لَهُنَّ سَبِیْلًا ۟

আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে (ন্যায়পরায়ণ) চারজন সাক্ষী উপস্থিত করাও। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখবে; যতোদিন না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো বিধান নাযিল করেন।(৯)

4:16

وَالَّذٰنِ یَاْتِیٰنِهَا مِنْكُمْ فَاٰذُوْهُمَا ۚ— فَاِنْ تَابَا وَاَصْلَحَا فَاَعْرِضُوْا عَنْهُمَا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِیْمًا ۟

আর তোমাদের মধ্যে (বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত) যে দুজন এতে লিপ্ত হবে (প্রমাণিত হলে), তাদেরকে শাস্তি দাও। যদি তারা তাওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তবে তাদের (শাস্তি দেওয়া) থেকে বিরত থাকবে।(১০) নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

4:17

اِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَی اللّٰهِ لِلَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ السُّوْٓءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ یَتُوْبُوْنَ مِنْ قَرِیْبٍ فَاُولٰٓىِٕكَ یَتُوْبُ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟

আল্লাহ অবশ্যই সেসব লোকের তাওবা কবুল করবেন যারা অজ্ঞতাবশত(১১) মন্দ কাজ করে এবং পরক্ষণেই ভীষণ অনুতপ্ত হয় এবং তাওবা করে। এরাই সেসব লোক, যাদের তাওবা আল্লাহ কবুল করেন। আর আল্লাহ তো সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

4:18

وَلَیْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ السَّیِّاٰتِ ۚ— حَتّٰۤی اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّیْ تُبْتُ الْـٰٔنَ وَلَا الَّذِیْنَ یَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌ ؕ— اُولٰٓىِٕكَ اَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا ۟

তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা আজীবন মন্দ কাজ করে, অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে, ‘আমি এখন তাওবা করেছি’। আর সেসব লোকদের জন্যও তাওবা নয়, যাদের মৃত্যু হয় কাফির অবস্থায়। এরাই তারা যাদের জন্য আমি বেদনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।

4:19

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا یَحِلُّ لَكُمْ اَنْ تَرِثُوا النِّسَآءَ كَرْهًا ؕ— وَلَا تَعْضُلُوْهُنَّ لِتَذْهَبُوْا بِبَعْضِ مَاۤ اٰتَیْتُمُوْهُنَّ اِلَّاۤ اَنْ یَّاْتِیْنَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَیِّنَةٍ ۚ— وَعَاشِرُوْهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ ۚ— فَاِنْ كَرِهْتُمُوْهُنَّ فَعَسٰۤی اَنْ تَكْرَهُوْا شَیْـًٔا وَّیَجْعَلَ اللّٰهُ فِیْهِ خَیْرًا كَثِیْرًا ۟

হে মুমিনগণ! জবরদস্তি করে (সম্পদের ন্যায় তোমাদের বাপ-দাদার স্ত্রীদের) নারীদের ওয়ারিশ হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। (এমনিভাবে) তোমাদের জন্যে বৈধ নয় যে, তোমরা তাদেরকে (মোহরানার) যা দিয়েছ তা থেকে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা। তবে তারা (অবাধ্যতা ও) ব্যভিচারের ন্যায় সুস্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়ে থাকলে, ভিন্ন কথা। আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে ও সম্মানজনকভাবে জীবন যাপন করবে। তোমরা যদি তাদেরকে (স্ত্রীদেরকে) অপছন্দ করো, তবে এমন হতে পারে যে, তোমরা একটি জিনিসকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন।

4:20

وَاِنْ اَرَدْتُّمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ زَوْجٍ ۙ— وَّاٰتَیْتُمْ اِحْدٰىهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَاْخُذُوْا مِنْهُ شَیْـًٔا ؕ— اَتَاْخُذُوْنَهٗ بُهْتَانًا وَّاِثْمًا مُّبِیْنًا ۟

আর তোমরা যদি এক স্ত্রীর জায়গায় অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির করো এবং তাকে যদি প্রচুর সম্পদ দিয়ে থাকো, তবুও তা থেকে কিছুই ফেরত নিও না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপাচরণ দ্বারা তা গ্রহণ করবে?

4:21

وَكَیْفَ تَاْخُذُوْنَهٗ وَقَدْ اَفْضٰی بَعْضُكُمْ اِلٰی بَعْضٍ وَّاَخَذْنَ مِنْكُمْ مِّیْثَاقًا غَلِیْظًا ۟

আর কীভাবে তোমরা তা (মোহরানাটুকু) ফেরত নিবে; অথচ তোমরা যখন একে অপরের সাথে একান্তে মিলিত হয়েছো(১২) এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়েছে?

4:22

وَلَا تَنْكِحُوْا مَا نَكَحَ اٰبَآؤُكُمْ مِّنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ؕ— اِنَّهٗ كَانَ فَاحِشَةً وَّمَقْتًا ؕ— وَسَآءَ سَبِیْلًا ۟۠

তোমরা তাদেরকে বিয়ে করো না, যাদেরকে বিয়ে করেছিল তোমাদের পিতৃ পুরুষগণ। তবে পূর্বে যা সংঘটিত হয়েছে । নিশ্চয় তা ছিল অশ্লীল, মারাত্মক ঘৃণ্য ও চরম নিকৃষ্ট পন্থা।

4:23

حُرِّمَتْ عَلَیْكُمْ اُمَّهٰتُكُمْ وَبَنٰتُكُمْ وَاَخَوٰتُكُمْ وَعَمّٰتُكُمْ وَخٰلٰتُكُمْ وَبَنٰتُ الْاَخِ وَبَنٰتُ الْاُخْتِ وَاُمَّهٰتُكُمُ الّٰتِیْۤ اَرْضَعْنَكُمْ وَاَخَوٰتُكُمْ مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَاُمَّهٰتُ نِسَآىِٕكُمْ وَرَبَآىِٕبُكُمُ الّٰتِیْ فِیْ حُجُوْرِكُمْ مِّنْ نِّسَآىِٕكُمُ الّٰتِیْ دَخَلْتُمْ بِهِنَّ ؗ— فَاِنْ لَّمْ تَكُوْنُوْا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ ؗ— وَحَلَآىِٕلُ اَبْنَآىِٕكُمُ الَّذِیْنَ مِنْ اَصْلَابِكُمْ ۙ— وَاَنْ تَجْمَعُوْا بَیْنَ الْاُخْتَیْنِ اِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟ۙ

তোমাদের জন্যে (যেসব নারীদেরকে বিয়ে করা) হারাম করা হয়েছে, তারা হলোঃ তোমাদের মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধ-বোন, শাশুড়ি ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সহবাস করেছো তার আগের স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত মেয়ে, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে। তবে যদি তোমরা তাদের সাথে সহবাস না করে (তালাক দিয়ে থাকো) তবে পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যাকে বিয়ে করতে কোনো অপরাধ নেই। আর তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তোমাদের ঔরসজাত ছেলের স্ত্রীদের (তালাকপ্রাপ্তা হলেও) এবং দুই বোনকে একত্র (বিয়ে) করা, তবে (ইসলাম পূর্ব জাহিলী যুগে) যা হয়েছে তা ছাড়া (আল্লাহ সেগুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন)(১৩)। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

4:24

وَّالْمُحْصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ ۚ— كِتٰبَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ ۚ— وَاُحِلَّ لَكُمْ مَّا وَرَآءَ ذٰلِكُمْ اَنْ تَبْتَغُوْا بِاَمْوَالِكُمْ مُّحْصِنِیْنَ غَیْرَ مُسٰفِحِیْنَ ؕ— فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهٖ مِنْهُنَّ فَاٰتُوْهُنَّ اُجُوْرَهُنَّ فَرِیْضَةً ؕ— وَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ فِیْمَا تَرٰضَیْتُمْ بِهٖ مِنْ بَعْدِ الْفَرِیْضَةِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟

তাছাড়া নারীদের মধ্য থেকে অন্যের বিবাহিত সব নারীদেরকে তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। তবে (আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে বন্দী করার মাধ্যমে) তোমরা যাদের মালিক হয়েছো সেসব দাসীগণ ব্যতীত। এটি তোমাদের ওপর আল্লাহর বিধান। উল্লিখিত নারীগণ ছাড়া অন্য সকল নারীকে নিজেদের অর্থ-সম্পদের (মোহরানার) বিনিময়ে বিয়ে করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে, পবিত্র থাকার উদ্দেশ্যে (বিবাহ বহির্ভূত) অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে নয়। সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদের যৌন স্বাদ আস্বাদন করেছো, তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহরানা দিয়ে দাও। আর মোহরানা নির্ধারণের পর তোমরা যদি কোন বিষয়ে (নির্ধারিত মোহরানার পরিমাণে কম-বেশি করতে) পরস্পর সম্মত হও, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

4:25

وَمَنْ لَّمْ یَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا اَنْ یَّنْكِحَ الْمُحْصَنٰتِ الْمُؤْمِنٰتِ فَمِنْ مَّا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ مِّنْ فَتَیٰتِكُمُ الْمُؤْمِنٰتِ ؕ— وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِاِیْمَانِكُمْ ؕ— بَعْضُكُمْ مِّنْ بَعْضٍ ۚ— فَانْكِحُوْهُنَّ بِاِذْنِ اَهْلِهِنَّ وَاٰتُوْهُنَّ اُجُوْرَهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ مُحْصَنٰتٍ غَیْرَ مُسٰفِحٰتٍ وَّلَا مُتَّخِذٰتِ اَخْدَانٍ ۚ— فَاِذَاۤ اُحْصِنَّ فَاِنْ اَتَیْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَیْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَی الْمُحْصَنٰتِ مِنَ الْعَذَابِ ؕ— ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِیَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ ؕ— وَاَنْ تَصْبِرُوْا خَیْرٌ لَّكُمْ ؕ— وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟۠

আর তোমাদের মধ্যে কারো স্বাধীন ঈমানদার নারীকে বিয়ের সামর্থ্য না থাকলে, তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত (ঈমানদার দাসী বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত। মূলত তোমরা একে অপরের সমান। কাজেই তোমরা তাদেরকে বিয়ে করবে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে এবং তাদেরকে তাদের মোহরানা ন্যায়সংগতভাবে দিবে। তারা হবে সচ্চরিত্রা, ব্যভিচারিণী নয় ও উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়। অতঃপর বিবাহিতা হওয়ার পর যদি তারা ব্যভিচার করে, তবে তাদের শাস্তি স্বাধীন নারীর অর্ধেক (১৪)। উক্ত বিধান তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে এবং স্বাধীন নারীদেরকে বিবাহে অক্ষম। আর তোমাদের জন্যে ধৈর্যধারণ করা উত্তম। (১৫) আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

4:26

یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیُبَیِّنَ لَكُمْ وَیَهْدِیَكُمْ سُنَنَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَیَتُوْبَ عَلَیْكُمْ ؕ— وَاللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ ۟

আল্লাহ তোমাদের কাছে বিশদভাবে বর্ণনা করতে চান। তিনি তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি ও পথ তোমাদেরকে অবহিত করতে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

4:27

وَاللّٰهُ یُرِیْدُ اَنْ یَّتُوْبَ عَلَیْكُمْ ۫— وَیُرِیْدُ الَّذِیْنَ یَتَّبِعُوْنَ الشَّهَوٰتِ اَنْ تَمِیْلُوْا مَیْلًا عَظِیْمًا ۟

আর আল্লাহ তোমাদের তাওবা কবুল ও তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে চান। আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা চরমভাবে বিচ্যুত হও।

4:28

یُرِیْدُ اللّٰهُ اَنْ یُّخَفِّفَ عَنْكُمْ ۚ— وَخُلِقَ الْاِنْسَانُ ضَعِیْفًا ۟

আল্লাহ তোমাদের ওপর হালকা ও সহজ করতে চান। কারণ, মানুষকে দুর্বলরূপে সৃষ্টি করা হয়েছে ।

4:29

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَكُمْ بَیْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ ۫— وَلَا تَقْتُلُوْۤا اَنْفُسَكُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُمْ رَحِیْمًا ۟

হে মুমিনগণ, তোমরা পরস্পরের মধ্যে তোমাদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে(১৬) গ্রাস করো না; তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা করা বৈধ। আর নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা করো না।(১৭) নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।

4:30

وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ عُدْوَانًا وَّظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِیْهِ نَارًا ؕ— وَكَانَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرًا ۟

আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন ও অন্যায়ভাবে তা করবে, অবশ্যই আমি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবো। আর এসব কাজ করা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।

4:31

اِنْ تَجْتَنِبُوْا كَبَآىِٕرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَیِّاٰتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُّدْخَلًا كَرِیْمًا ۟

(হে মুমিনরা!) তোমরা যদি সেসব কবীরা গুনাহ পরিহার করো, যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে আমি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবো এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে (জান্নাতে) প্রবেশ করাবো।

4:32

وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللّٰهُ بِهٖ بَعْضَكُمْ عَلٰی بَعْضٍ ؕ— لِلرِّجَالِ نَصِیْبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوْا ؕ— وَلِلنِّسَآءِ نَصِیْبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ؕ— وَسْـَٔلُوا اللّٰهَ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا ۟

আর আল্লাহ যা কিছু দিয়ে তোমাদেরকে একে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তোমরা তার লালসা করো না। পুরুষ যা অর্জন করে, তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে, তা তার প্রাপ্য অংশ। আর তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ চাও। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

4:33

وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِیَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدٰنِ وَالْاَقْرَبُوْنَ ؕ— وَالَّذِیْنَ عَقَدَتْ اَیْمَانُكُمْ فَاٰتُوْهُمْ نَصِیْبَهُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ شَهِیْدًا ۟۠

পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তির জন্যে আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দিবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বকিছুর সম্যক দ্রষ্টা।

4:34

اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوْنَ عَلَی النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰهُ بَعْضَهُمْ عَلٰی بَعْضٍ وَّبِمَاۤ اَنْفَقُوْا مِنْ اَمْوَالِهِمْ ؕ— فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِّلْغَیْبِ بِمَا حَفِظَ اللّٰهُ ؕ— وَالّٰتِیْ تَخَافُوْنَ نُشُوْزَهُنَّ فَعِظُوْهُنَّ وَاهْجُرُوْهُنَّ فِی الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوْهُنَّ ۚ— فَاِنْ اَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوْا عَلَیْهِنَّ سَبِیْلًا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیًّا كَبِیْرًا ۟

পুরুষরা নারীদের কর্তা। কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এজন্যে যে, পুরুষেরা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। কাজেই পুণ্যশীলা স্ত্রীরা হয়ে থাকে অনুগত এবং লোকচক্ষুর আড়ালে হিফাযতকারিনী সেসব বিষয়ের, (১৮) যা আল্লাহ হিফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তোমরা যেসব স্ত্রীদের ব্যাপারে অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা ত্যাগ করো এবং তাদেরকে প্রহার করো। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, মহান।

4:35

وَاِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَیْنِهِمَا فَابْعَثُوْا حَكَمًا مِّنْ اَهْلِهٖ وَحَكَمًا مِّنْ اَهْلِهَا ۚ— اِنْ یُّرِیْدَاۤ اِصْلَاحًا یُّوَفِّقِ اللّٰهُ بَیْنَهُمَا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا خَبِیْرًا ۟

আর তোমরা যদি তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধআশঙ্কা করো তাহলে তোমরা স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করো। তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।

4:36

وَاعْبُدُوا اللّٰهَ وَلَا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَیْـًٔا وَّبِالْوَالِدَیْنِ اِحْسَانًا وَّبِذِی الْقُرْبٰی وَالْیَتٰمٰی وَالْمَسٰكِیْنِ وَالْجَارِ ذِی الْقُرْبٰی وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْۢبِ وَابْنِ السَّبِیْلِ ۙ— وَمَا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُوْرَا ۟ۙ

আর তোমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করো না। পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, অনাত্মীয়- প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সঙ্গী-সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করো। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।

4:37

١لَّذِیْنَ یَبْخَلُوْنَ وَیَاْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَیَكْتُمُوْنَ مَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ— وَاَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا مُّهِیْنًا ۟ۚ

যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয়, আর গোপন করে তা, আল্লাহ যা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে দিয়েছেন। আর আমি কাফিরদের জন্যে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।

4:38

وَالَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَلَا بِالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ— وَمَنْ یَّكُنِ الشَّیْطٰنُ لَهٗ قَرِیْنًا فَسَآءَ قَرِیْنًا ۟

যারা মানুষকে দেখানোর জন্য তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনে না। আর শয়তান যার সাথী হয়, সাথী হিসেবে সে কতইনা নিকৃষ্ট !

4:39

وَمَاذَا عَلَیْهِمْ لَوْ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَاَنْفَقُوْا مِمَّا رَزَقَهُمُ اللّٰهُ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ بِهِمْ عَلِیْمًا ۟

তারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনলে এবং আল্লাহ তাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করলে, তাদের এমন কী ক্ষতি হতো? আর আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।

4:40

اِنَّ اللّٰهَ لَا یَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ ۚ— وَاِنْ تَكُ حَسَنَةً یُّضٰعِفْهَا وَیُؤْتِ مِنْ لَّدُنْهُ اَجْرًا عَظِیْمًا ۟

নিশ্চয় আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না। আর কেউ একটি সৎকাজ করলে আল্লাহ সেটাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন।তিনি নিজের পক্ষ থেকে মহাপুরস্কার প্রদান করবেন।

4:41

فَكَیْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ بِشَهِیْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ شَهِیْدًا ۟ؕؔ

অতএব, তখন কী অবস্থা হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করবো এবং তোমাকে উপস্থিত করবো তাদের ওপর সাক্ষীরূপে?

4:42

یَوْمَىِٕذٍ یَّوَدُّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَعَصَوُا الرَّسُوْلَ لَوْ تُسَوّٰی بِهِمُ الْاَرْضُ ؕ— وَلَا یَكْتُمُوْنَ اللّٰهَ حَدِیْثًا ۟۠

যারা কুফরী করেছে এবং রাসূলের অবাধ্য হয়েছে তারা সেই দিন কামনা করবে, যদি জমিনকে তাদের সাথে সমান করে দেয়া হতো! আর তারা আল্লাহর কাছে কোন কথাই গোপন করতে পারবে না।

4:43

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَقْرَبُوا الصَّلٰوةَ وَاَنْتُمْ سُكٰرٰی حَتّٰی تَعْلَمُوْا مَا تَقُوْلُوْنَ وَلَا جُنُبًا اِلَّا عَابِرِیْ سَبِیْلٍ حَتّٰی تَغْتَسِلُوْا ؕ— وَاِنْ كُنْتُمْ مَّرْضٰۤی اَوْ عَلٰی سَفَرٍ اَوْ جَآءَ اَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَآىِٕطِ اَوْ لٰمَسْتُمُ النِّسَآءَ فَلَمْ تَجِدُوْا مَآءً فَتَیَمَّمُوْا صَعِیْدًا طَیِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوْهِكُمْ وَاَیْدِیْكُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُوْرًا ۟

হে মুমিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না; যতক্ষণ না তোমরা যা বলো তা বুঝতে পারো।(১৯) অনুরূপ অপবিত্র অবস্থায় (সালাতের জায়গা মসজিদসমূহের নিকটবর্তী হয়ো না); যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো, তবে যদি তোমরা পথ অতিক্রমকারী হও (তবে ভিন্ন কথা)। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাকো বা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা থেকে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রী সম্ভোগ করো, তবে যদি পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটিতে তায়াম্মুম করো। সুতরাং তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসহ করো। নিশ্চয় আল্লাহ গুনাহ মার্জনাকারী,পরম ক্ষমাশীল।

4:44

اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ اُوْتُوْا نَصِیْبًا مِّنَ الْكِتٰبِ یَشْتَرُوْنَ الضَّلٰلَةَ وَیُرِیْدُوْنَ اَنْ تَضِلُّوا السَّبِیْلَ ۟ؕ

(হে রাসূল!) তুমি কি তাদেরকে (ইয়াহূদীদেরকে) দেখোনি যাদেরকে কিতাবের (তাওরাতের) কিছু অংশ দেয়া হয়েছিল? তারা (হিদায়েতের পরিবর্তে) ভ্রান্ত পথ ক্রয় করে আর চায় যে, তোমরাও পথভ্রষ্ট হয়ে যাও।

4:45

وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِاَعْدَآىِٕكُمْ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَلِیًّا ؗۗ— وَّكَفٰی بِاللّٰهِ نَصِیْرًا ۟

আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের সম্পর্কে অধিক অবগত। আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহই যথেষ্ট।

4:46

مِنَ الَّذِیْنَ هَادُوْا یُحَرِّفُوْنَ الْكَلِمَ عَنْ مَّوَاضِعِهٖ وَیَقُوْلُوْنَ سَمِعْنَا وَعَصَیْنَا وَاسْمَعْ غَیْرَ مُسْمَعٍ وَّرَاعِنَا لَیًّا بِاَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِی الدِّیْنِ ؕ— وَلَوْ اَنَّهُمْ قَالُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانْظُرْنَا لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ وَاَقْوَمَ ۙ— وَلٰكِنْ لَّعَنَهُمُ اللّٰهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا یُؤْمِنُوْنَ اِلَّا قَلِیْلًا ۟

ইয়াহূদীদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কথাগুলো (আল্লাহর নাযিলকৃত বাণীকে) স্থানচ্যুত করে বিকৃত করে এবং বলে: ‘আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম’ এবং তুমি শোনো না শোনার মতো। আর নিজেদের জিহ্বা বাঁকা করে এবং দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য করে বলে: ‘রাইনা’ (আমাদের রাখাল )। কিন্তু তারা যদি বলত: ‘আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম এবং আপনি শুনুন ও আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন’, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর ও ইনসাফপূর্ণ হতো। (২০) কিন্তু তাদের কুফরীর জন্য আল্লাহ তাদেরকে লা’নত করেছেন। ফলে তাদের অল্প সংখ্যকই ঈমান আনে।

4:47

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ اٰمِنُوْا بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ نَّطْمِسَ وُجُوْهًا فَنَرُدَّهَا عَلٰۤی اَدْبَارِهَاۤ اَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّاۤ اَصْحٰبَ السَّبْتِ ؕ— وَكَانَ اَمْرُ اللّٰهِ مَفْعُوْلًا ۟

হে কিতাবপ্রাপ্তগণ, আমি যা নাযিল করেছি তার ওপর তোমরা ঈমান আনো, যা তোমাদের কাছে আছে তার সত্যায়নকারী, সে সময় আসার আগে যখন আমি চেহারাসমূহকে বিকৃত করে তা তাদের পিঠের দিকে ফিরিয়ে দিবো অথবা তাদেরকে লা‘নত করার পূর্বে যেমনিভাবে লা‘নত করেছি শনিবার ওয়ালাদের(২১)। আর আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়েই থাকে।

4:48

اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغْفِرُ اَنْ یُّشْرَكَ بِهٖ وَیَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ یَّشَآءُ ۚ— وَمَنْ یُّشْرِكْ بِاللّٰهِ فَقَدِ افْتَرٰۤی اِثْمًا عَظِیْمًا ۟

নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না (শিরক করা অবস্থায় মারা গেলে), এছাড়া অন্যান্য অপরাধসমূহ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন।(২২) আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে।

4:49

اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ یُزَكُّوْنَ اَنْفُسَهُمْ ؕ— بَلِ اللّٰهُ یُزَكِّیْ مَنْ یَّشَآءُ وَلَا یُظْلَمُوْنَ فَتِیْلًا ۟

(হে নবী!) তুমি কি তাদেরকে দেখোনি, যারা নিজেদের নফসের (ও কর্মের) পরিশুদ্ধতার প্রশংসা করে? বরং একমাত্র আল্লাহই (তাঁর বান্দাদের) যাদেরকে চান, (তাদের প্রশংসা করেন এবং) তাদেরকে পবিত্র করেন। আর তাদেরকে সুতা (বিন্দু) পরিমাণও(২৩) যুলম করা হবে না।

4:50

اُنْظُرْ كَیْفَ یَفْتَرُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ ؕ— وَكَفٰی بِهٖۤ اِثْمًا مُّبِیْنًا ۟۠

(হে রাসূল!) দেখো, কেমন করে তারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে। আর প্রকাশ্য গুনাহ হিসেবে এটিই যথেষ্ট।

4:51

اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ اُوْتُوْا نَصِیْبًا مِّنَ الْكِتٰبِ یُؤْمِنُوْنَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوْتِ وَیَقُوْلُوْنَ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا هٰۤؤُلَآءِ اَهْدٰی مِنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا سَبِیْلًا ۟

তুমি কি তাদেরকে দেখোনি যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছিল? তারা জিব্‌ত ও তাগূতে (২৪) বিশ্বাস করে। তারা কাফিরদের সম্বন্ধে বলে: ‘এরা মু’মিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথপ্রাপ্ত।’

4:52

اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ ؕ— وَمَنْ یَّلْعَنِ اللّٰهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهٗ نَصِیْرًا ۟ؕ

এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ লা’নত করেছেন। আর আল্লাহ যাকে লা’নত করেন, তুমি কখনো তার জন্যে কোনো সাহায্যকারী পাবে না।

4:53

اَمْ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّنَ الْمُلْكِ فَاِذًا لَّا یُؤْتُوْنَ النَّاسَ نَقِیْرًا ۟ۙ

তবে কি তাদের জন্য সাম্রাজ্যে কোন অংশ আছে? তেমনটি হলে তারা মানুষকে একটি কানাকড়িও (২৫) দেবে না।

4:54

اَمْ یَحْسُدُوْنَ النَّاسَ عَلٰی مَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ ۚ— فَقَدْ اٰتَیْنَاۤ اٰلَ اِبْرٰهِیْمَ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَاٰتَیْنٰهُمْ مُّلْكًا عَظِیْمًا ۟

বরং তারা মানুষদের ((মুহাম্মদ ও তার সাহাবীদের)) হিংসা করে, আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে যা (নবুয়ত, ঈমান এবং পৃথিবীতে ক্ষমতা) দিয়েছেন তার কারণে। তাহলে (তারা কেন তাদের হিংসা করে, অথচ) আমরা ইতিমধ্যেই ইবরাহীমের সন্তানদের কিতাব ও হিকমত দিয়েছি, (এটি সেই কিতাবই) এবং আমি তাদেরকে বিশাল রাজ্যও দান করেছিলাম।

4:55

فَمِنْهُمْ مَّنْ اٰمَنَ بِهٖ وَمِنْهُمْ مَّنْ صَدَّ عَنْهُ ؕ— وَكَفٰی بِجَهَنَّمَ سَعِیْرًا ۟

অতঃপর তাদের (আহলে কিতাবের) কেউ এর প্রতি(২৬) ঈমান এনেছে এবং কেউ এ থেকে বিরত থেকেছে। আর তাদের জন্যে দগ্ধকারী হিসেবে জাহান্নামই যথেষ্ট।

4:56

اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِنَا سَوْفَ نُصْلِیْهِمْ نَارًا ؕ— كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُوْدُهُمْ بَدَّلْنٰهُمْ جُلُوْدًا غَیْرَهَا لِیَذُوْقُوا الْعَذَابَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَزِیْزًا حَكِیْمًا ۟

নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে আগুনে প্রবেশ করাবো। যখনই তাদের চামড়াগুলো পুড়ে যাবে তখনই তার স্থলে অন্য চামড়া বদলে দিবো, যাতে তারা শাস্তি আস্বাদন করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।

4:57

وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ— لَهُمْ فِیْهَاۤ اَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ؗ— وَّنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِیْلًا ۟

আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তাদেরকে আমি প্রবেশ করাবো ঘন ছায়ায়।

4:58

اِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُكُمْ اَنْ تُؤَدُّوا الْاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَهْلِهَا ۙ— وَاِذَا حَكَمْتُمْ بَیْنَ النَّاسِ اَنْ تَحْكُمُوْا بِالْعَدْلِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ نِعِمَّا یَعِظُكُمْ بِهٖ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ سَمِیْعًا بَصِیْرًا ۟

নিশ্চয় আল্লাহ আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে কতই না উত্তম উপদেশ দিচ্ছেন! নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

4:59

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَاُولِی الْاَمْرِ مِنْكُمْ ۚ— فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِیْ شَیْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَی اللّٰهِ وَالرَّسُوْلِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ— ذٰلِكَ خَیْرٌ وَّاَحْسَنُ تَاْوِیْلًا ۟۠

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের।(২৬) অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো তাহলে তা (ফয়সালার জন্যে) আল্লাহ ও রাসূলের (কিতাব ও সুন্নাতের) নিকট উপস্থাপন করো- যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটি উত্তম পন্থা এবং পরিণামেও উৎকৃষ্টতর।

4:60

اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ یَزْعُمُوْنَ اَنَّهُمْ اٰمَنُوْا بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یَّتَحَاكَمُوْۤا اِلَی الطَّاغُوْتِ وَقَدْ اُمِرُوْۤا اَنْ یَّكْفُرُوْا بِهٖ ؕ— وَیُرِیْدُ الشَّیْطٰنُ اَنْ یُّضِلَّهُمْ ضَلٰلًا بَعِیْدًا ۟

(হে নবী) তুমি কি তাদেরকে দেখোনি যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তারা তাতে ঈমান এনেছে; কিন্তু তারা তাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়। অথচ তাদের তাগূতকে প্রত্যাখ্যান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদেরকে দূরবর্তী বিভ্রান্তির দিকে নিতে চায়।

4:61

وَاِذَا قِیْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا اِلٰی مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ وَاِلَی الرَّسُوْلِ رَاَیْتَ الْمُنٰفِقِیْنَ یَصُدُّوْنَ عَنْكَ صُدُوْدًا ۟ۚ

তাদেরকে (মুনাফিকদেরকে) যখন বলা হয়, আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের দিকে এবং রাসূলের দিকে আসো (১), তখন মুনাফিকদেরকে তুমি তোমার কাছ থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখবে(২)।

4:62

فَكَیْفَ اِذَاۤ اَصَابَتْهُمْ مُّصِیْبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْهِمْ ثُمَّ جَآءُوْكَ یَحْلِفُوْنَ ۖۗ— بِاللّٰهِ اِنْ اَرَدْنَاۤ اِلَّاۤ اِحْسَانًا وَّتَوْفِیْقًا ۟

অতঃপর কি অবস্থা হবে, যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হবে? তখন তারা তোমার কাছে এসে আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে: ‘আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ছাড়া অন্য কিছুই চাইনি।’

4:63

اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ یَعْلَمُ اللّٰهُ مَا فِیْ قُلُوْبِهِمْ ۗ— فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُلْ لَّهُمْ فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِیْغًا ۟

এরা তারাই , যাদের অন্তরে কি আছে আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন। সুতরাং তুমি তাদেরকে উপেক্ষা করো এবং তাদেরকে সদুপদেশ দাও। আর তাদেরকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী কথা বলো।

4:64

وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا لِیُطَاعَ بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ— وَلَوْ اَنَّهُمْ اِذْ ظَّلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ جَآءُوْكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللّٰهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُوْلُ لَوَجَدُوا اللّٰهَ تَوَّابًا رَّحِیْمًا ۟

আর আমি যে কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তা কেবল এ জন্য, যেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর আনুগত্য করা হয়। আর তারা যখন নিজেদের প্রতি যুলম করেছিল, তখন যদি তোমার কাছে আসত, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইত তাহলে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালুরূপে পেত।

4:65

فَلَا وَرَبِّكَ لَا یُؤْمِنُوْنَ حَتّٰی یُحَكِّمُوْكَ فِیْمَا شَجَرَ بَیْنَهُمْ ثُمَّ لَا یَجِدُوْا فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَیْتَ وَیُسَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا ۟

কিন্তু না, অতএব তোমার রবের শপথ, তারা মু’মিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে; অতঃপর তোমার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়।

4:66

وَلَوْ اَنَّا كَتَبْنَا عَلَیْهِمْ اَنِ اقْتُلُوْۤا اَنْفُسَكُمْ اَوِ اخْرُجُوْا مِنْ دِیَارِكُمْ مَّا فَعَلُوْهُ اِلَّا قَلِیْلٌ مِّنْهُمْ ؕ— وَلَوْ اَنَّهُمْ فَعَلُوْا مَا یُوْعَظُوْنَ بِهٖ لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ وَاَشَدَّ تَثْبِیْتًا ۟ۙ

আর যদি আমি তাদেরকে আদেশ দিতাম যে, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো বা নিজেদের গৃহ ত্যাগ করো, তাহলে তাদের অল্প সংখ্যকই তা করতো।(২৯) তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা তা করলে তাদের জন্যে ভালো হতো এবং তাদের ঈমানের স্থিরতায় সুদৃঢ় হতো।

4:67

وَّاِذًا لَّاٰتَیْنٰهُمْ مِّنْ لَّدُنَّاۤ اَجْرًا عَظِیْمًا ۟ۙ

আর অবশ্যই তখন আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহাপুরস্কার প্রদান করতাম।

4:68

وَّلَهَدَیْنٰهُمْ صِرَاطًا مُّسْتَقِیْمًا ۟

এবং অবশ্যই আমি তাদেরকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করতাম।

4:69

وَمَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّسُوْلَ فَاُولٰٓىِٕكَ مَعَ الَّذِیْنَ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ مِّنَ النَّبِیّٖنَ وَالصِّدِّیْقِیْنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصّٰلِحِیْنَ ۚ— وَحَسُنَ اُولٰٓىِٕكَ رَفِیْقًا ۟ؕ

আর যারা আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য করবে তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন।(৩০) তাঁরা হলেনঃ নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মপরায়ণগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতোই না উত্তম!

4:70

ذٰلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللّٰهِ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ عَلِیْمًا ۟۠

এগুলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। সর্বজ্ঞানী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

4:71

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا خُذُوْا حِذْرَكُمْ فَانْفِرُوْا ثُبَاتٍ اَوِ انْفِرُوْا جَمِیْعًا ۟

হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের সতর্কতা গ্রহণ করো। অতঃপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে (জিহাদে) বের হও অথবা সম্মিলিতভাবে বের হও।

4:72

وَاِنَّ مِنْكُمْ لَمَنْ لَّیُبَطِّئَنَّ ۚ— فَاِنْ اَصَابَتْكُمْ مُّصِیْبَةٌ قَالَ قَدْ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیَّ اِذْ لَمْ اَكُنْ مَّعَهُمْ شَهِیْدًا ۟

আর নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে, যে গড়িমসি করবেই। সুতরাং তোমাদের কোন বিপদ আপতিত হলে সে বলবে, ‘আল্লাহ আমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে উপস্থিত ছিলাম না।’

4:73

وَلَىِٕنْ اَصَابَكُمْ فَضْلٌ مِّنَ اللّٰهِ لَیَقُوْلَنَّ كَاَنْ لَّمْ تَكُنْ بَیْنَكُمْ وَبَیْنَهٗ مَوَدَّةٌ یّٰلَیْتَنِیْ كُنْتُ مَعَهُمْ فَاَفُوْزَ فَوْزًا عَظِیْمًا ۟

আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহ এসে পৌঁছলে, তখন তোমাদের ও তার মধ্যে যেন কোনো হৃদ্যতাই ছিল না এমন ভাব দেখিয়ে সে অবশ্যই বলবে: ‘হায়! যদি আমি তাদের সাথে থাকতাম, তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করতাম।’

4:74

فَلْیُقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ الَّذِیْنَ یَشْرُوْنَ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا بِالْاٰخِرَةِ ؕ— وَمَنْ یُّقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیُقْتَلْ اَوْ یَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِیْهِ اَجْرًا عَظِیْمًا ۟

সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবনকে বিক্রয় করে, তারাই আল্লাহর পথে যুদ্ধ করুক। আর কেউ আল্লাহর পথে যুদ্ধ করলে সে নিহত হোক বা বিজয়ী হোক, আমি তো তাকে অচিরেই মহাপুরস্কার প্রদান করব।

4:75

وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَالْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَآءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا مِنْ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ الظَّالِمِ اَهْلُهَا ۚ— وَاجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا ۙۚ— وَّاجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ نَصِیْرًا ۟ؕ

আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না; অথচ দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা ফরিয়াদ করে বলছে: ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে এ জনপদ থেকে বের করে নিন, যার অধিবাসীরা যালিম এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করুন(৩১)। আর নির্ধারণ করুন আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী।(৩২)

4:76

اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۚ— وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ الطَّاغُوْتِ فَقَاتِلُوْۤا اَوْلِیَآءَ الشَّیْطٰنِ ۚ— اِنَّ كَیْدَ الشَّیْطٰنِ كَانَ ضَعِیْفًا ۟۠

যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে। আর যারা কাফির তারা তাগূতের পথে লড়াই করে। কাজেই তোমরা শয়তানের বন্ধুদেরবিরুদ্ধে লড়াই করো। অবশ্যই শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।

4:77

اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ قِیْلَ لَهُمْ كُفُّوْۤا اَیْدِیَكُمْ وَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ ۚ— فَلَمَّا كُتِبَ عَلَیْهِمُ الْقِتَالُ اِذَا فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ یَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْیَةِ اللّٰهِ اَوْ اَشَدَّ خَشْیَةً ۚ— وَقَالُوْا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَیْنَا الْقِتَالَ ۚ— لَوْلَاۤ اَخَّرْتَنَاۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ؕ— قُلْ مَتَاعُ الدُّنْیَا قَلِیْلٌ ۚ— وَالْاٰخِرَةُ خَیْرٌ لِّمَنِ اتَّقٰی ۫— وَلَا تُظْلَمُوْنَ فَتِیْلًا ۟

তুমি কি তাদেরকে দেখনি (৩৩) যাদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হাতগুলো গুটিয়ে রাখো এবং সালাত কায়েম করো ও যাকাত প্রদান করো? অতঃপর তাদের উপর যখন যুদ্ধ ফরয করা হলো, তখন তাদের একদল মানুষকে ভয় করছিলো আল্লাহকে ভয় করার অনুরূপ অথবা তার চেয়েও বেশি। আর তারা বলল: ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ওপর যুদ্ধ কেন ফরয করলেন? আমাদেরকে কেন আরো কিছুকালের অবকাশ দিলেন না’? বল: ‘দুনিয়ার ভোগ-বিলাস অতি সামান্য। আর যে তাকওয়া অবলম্বন করে তার জন্য আখিরাতই উত্তম। আর তোমাদের প্রতি সামান্য পরিমাণ যুলুমও করা হবে না।’

4:78

اَیْنَمَا تَكُوْنُوْا یُدْرِكْكُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِیْ بُرُوْجٍ مُّشَیَّدَةٍ ؕ— وَاِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ یَّقُوْلُوْا هٰذِهٖ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ۚ— وَاِنْ تُصِبْهُمْ سَیِّئَةٌ یَّقُوْلُوْا هٰذِهٖ مِنْ عِنْدِكَ ؕ— قُلْ كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ— فَمَالِ هٰۤؤُلَآءِ الْقَوْمِ لَا یَكَادُوْنَ یَفْقَهُوْنَ حَدِیْثًا ۟

তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই; যদিও তোমরা সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো। আর যদি তাদের (মুনাফিকদের) কাছে কোন কল্যাণপৌঁছে, তবে তারা বলে: ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ আর যদি কোন অকল্যাণ পৌঁছে, তখন বলে: ‘এটি তোমার কারণে।’ বল: ‘সব কিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ সুতরাং এই জাতির কী হলো, তারা কোনো কথাই বুঝতে চায় না!

4:79

مَاۤ اَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللّٰهِ ؗ— وَمَاۤ اَصَابَكَ مِنْ سَیِّئَةٍ فَمِنْ نَّفْسِكَ ؕ— وَاَرْسَلْنٰكَ لِلنَّاسِ رَسُوْلًا ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًا ۟

তোমার যা কিছু কল্যাণ হয়, তা আল্লাহর কাছ থেকে এবং তোমার যা কিছু অকল্যাণ হয়, তা তোমার নিজের কারণে। আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে পাঠিয়েছি; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

4:80

مَنْ یُّطِعِ الرَّسُوْلَ فَقَدْ اَطَاعَ اللّٰهَ ۚ— وَمَنْ تَوَلّٰی فَمَاۤ اَرْسَلْنٰكَ عَلَیْهِمْ حَفِیْظًا ۟ؕ

যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নিলো, তবে আমি তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি।

4:81

وَیَقُوْلُوْنَ طَاعَةٌ ؗ— فَاِذَا بَرَزُوْا مِنْ عِنْدِكَ بَیَّتَ طَآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ غَیْرَ الَّذِیْ تَقُوْلُ ؕ— وَاللّٰهُ یَكْتُبُ مَا یُبَیِّتُوْنَ ۚ— فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا ۟

আর তারা বলে: আমরা তোমার ‘আনুগত্য করি। অতঃপর যখন তারা তোমার কাছ থেকে চলে যায়, তখন তাদের একদল লোক তোমার নিকট যা বলে, রাতে তার বিপরীত করে। আর আল্লাহ লিখে রাখেন, তারা রাতে যা করে। সুতরাং তুমি তাদেরকে এড়িয়ে চলো এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো। কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

4:82

اَفَلَا یَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْاٰنَ ؕ— وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَیْرِ اللّٰهِ لَوَجَدُوْا فِیْهِ اخْتِلَافًا كَثِیْرًا ۟

তবে কি তারা কুরআন সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত, তবে তারা এতে অনেক অসংগতি পেতো।

4:83

وَاِذَا جَآءَهُمْ اَمْرٌ مِّنَ الْاَمْنِ اَوِ الْخَوْفِ اَذَاعُوْا بِهٖ ؕ— وَلَوْ رَدُّوْهُ اِلَی الرَّسُوْلِ وَاِلٰۤی اُولِی الْاَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِیْنَ یَسْتَنْۢبِطُوْنَهٗ مِنْهُمْ ؕ— وَلَوْلَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ وَرَحْمَتُهٗ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّیْطٰنَ اِلَّا قَلِیْلًا ۟

আর যখন তাদের (মুনাফিকদের) নিকট শান্তি কিংবা ভীতিজনক কোন সংবাদ আসে, (সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই) তখন তারা তা প্রচার করে বেড়ায়। আর যদি তারা সেটি রাসূলের কাছে এবং তাদের কর্তৃত্বের অধিকারীদের কাছে পৌঁছে দিত, তাহলে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধান (উদ্ভাবন) করে তারা সেটার যথার্থতা নির্ণয় করতে পারত। আর যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমত না থাকতো, তবে ( এ ধরনের প্রচারণার ফলে) অবশ্যই অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া তোমরা অধিকাংশই শয়তানের (কুমন্ত্রণার) অনুসরণ করতে।

4:84

فَقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۚ— لَا تُكَلَّفُ اِلَّا نَفْسَكَ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۚ— عَسَی اللّٰهُ اَنْ یَّكُفَّ بَاْسَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ— وَاللّٰهُ اَشَدُّ بَاْسًا وَّاَشَدُّ تَنْكِیْلًا ۟

অতএব তুমি আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করো। তুমি শুধু তোমার নিজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং তুমি মু’মিনদেরকে উদ্বুদ্ধ করো। আশা করা যায়, আল্লাহ অচিরেই কাফিরদের শক্তি প্রতিহত করবেন। আর আল্লাহ শক্তিতে প্রবলতর এবং শাস্তিদানে কঠোরতর।

4:85

مَنْ یَّشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً یَّكُنْ لَّهٗ نَصِیْبٌ مِّنْهَا ۚ— وَمَنْ یَّشْفَعْ شَفَاعَةً سَیِّئَةً یَّكُنْ لَّهٗ كِفْلٌ مِّنْهَا ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ مُّقِیْتًا ۟

কেউ কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। আর আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর উপর নজর রাখেন।

4:86

وَاِذَا حُیِّیْتُمْ بِتَحِیَّةٍ فَحَیُّوْا بِاَحْسَنَ مِنْهَاۤ اَوْ رُدُّوْهَا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ حَسِیْبًا ۟

আর যখন তোমাদেরকে কোনো অভিবাদন করা হয় তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন করবে অথবা সেটির অনুরূপ জবাব দিবে। নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়ে পূর্ণ হিসাবকারী।

4:87

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ— لَیَجْمَعَنَّكُمْ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ لَا رَیْبَ فِیْهِ ؕ— وَمَنْ اَصْدَقُ مِنَ اللّٰهِ حَدِیْثًا ۟۠

তিনি আল্লাহ, যিনি ব্যতীত অন্য কোন প্রকৃত ইলাহ নেই। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। কথায় আল্লাহর চেয়ে বেশী সত্যবাদী আর কে হতে পারে?

4:88

فَمَا لَكُمْ فِی الْمُنٰفِقِیْنَ فِئَتَیْنِ وَاللّٰهُ اَرْكَسَهُمْ بِمَا كَسَبُوْا ؕ— اَتُرِیْدُوْنَ اَنْ تَهْدُوْا مَنْ اَضَلَّ اللّٰهُ ؕ— وَمَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهٗ سَبِیْلًا ۟

অতঃপর মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমাদের কী হল যে, তোমরা দু’ দলে বিভক্ত হয়ে গেলে?(৩৪) অথচ আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তোমরা কি তাকে হিদায়াতের পথে চালাতে চাও? আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনো তার জন্য পথ খুঁজে পাবে না।

4:89

وَدُّوْا لَوْ تَكْفُرُوْنَ كَمَا كَفَرُوْا فَتَكُوْنُوْنَ سَوَآءً فَلَا تَتَّخِذُوْا مِنْهُمْ اَوْلِیَآءَ حَتّٰی یُهَاجِرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ— فَاِنْ تَوَلَّوْا فَخُذُوْهُمْ وَاقْتُلُوْهُمْ حَیْثُ وَجَدْتُّمُوْهُمْ ۪— وَلَا تَتَّخِذُوْا مِنْهُمْ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیْرًا ۟ۙ

তারা কামনা করে যে, তোমরা যেন কুফুরী করো, যেমন তারা কুফরী করেছে, যাতে তোমরা তাদের সমান হয়ে যাও। সুতরাং আল্লাহর পথে হিজরত না করা পর্যন্ত তোমরা তাদের মধ্য থেকে কাউকেই বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। অতএব, তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তাদেরকে যেখানে পাবে সেখানেই পাকড়াও করবে এবং হত্যা করবে। আর তাদের মধ্য থেকে কাউকেই বন্ধু ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করবে না।

4:90

اِلَّا الَّذِیْنَ یَصِلُوْنَ اِلٰی قَوْمٍ بَیْنَكُمْ وَبَیْنَهُمْ مِّیْثَاقٌ اَوْ جَآءُوْكُمْ حَصِرَتْ صُدُوْرُهُمْ اَنْ یُّقَاتِلُوْكُمْ اَوْ یُقَاتِلُوْا قَوْمَهُمْ ؕ— وَلَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَیْكُمْ فَلَقٰتَلُوْكُمْ ۚ— فَاِنِ اعْتَزَلُوْكُمْ فَلَمْ یُقَاتِلُوْكُمْ وَاَلْقَوْا اِلَیْكُمُ السَّلَمَ ۙ— فَمَا جَعَلَ اللّٰهُ لَكُمْ عَلَیْهِمْ سَبِیْلًا ۟

তবে তাদেরকে হত্যা করো না, যারা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছে গেছে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ অথবা যারা তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় আগমন করে যখন তাদের মন তোমাদের সাথে বা তাদের সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করতে সংকীর্ণ হয়ে গেছে।(৩৪) আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তাদেরকে তোমাদের ওপর ক্ষমতাবান করে দিতেন (৩৫), ফলে তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। কাজেই তারা যদি তোমাদের কাছ থেকে সরে দাঁড়ায়, তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব করে, তবে ) আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা অবলম্বনের পথ রাখেন নি (৩৬)।

4:91

سَتَجِدُوْنَ اٰخَرِیْنَ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یَّاْمَنُوْكُمْ وَیَاْمَنُوْا قَوْمَهُمْ ؕ— كُلَّ مَا رُدُّوْۤا اِلَی الْفِتْنَةِ اُرْكِسُوْا فِیْهَا ۚ— فَاِنْ لَّمْ یَعْتَزِلُوْكُمْ وَیُلْقُوْۤا اِلَیْكُمُ السَّلَمَ وَیَكُفُّوْۤا اَیْدِیَهُمْ فَخُذُوْهُمْ وَاقْتُلُوْهُمْ حَیْثُ ثَقِفْتُمُوْهُمْ ؕ— وَاُولٰٓىِٕكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَیْهِمْ سُلْطٰنًا مُّبِیْنًا ۟۠

তোমরা অচিরেই আরেকটি দল পাবে, যারা তোমাদের ও তাদের সম্প্রদায়ের স্বার্থে শান্তি ও নিরাপত্তা চাইবে। যখনই তাদেরকে ফিতনার দিকে ডাকা হবে, তখনই তারা তাতে লিপ্ত হবে। এরা যদি তোমাদের (সাথে যুদ্ধ করা) থেকে দূরে সরে না দাঁড়ায়, তোমাদের কাছে শান্তি ও সন্ধি প্রস্তাব না দেয় এবং নিজেদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে না রাখে, তবে তাদেরকে যেখানেই পাবে পাকড়াও করবে ও হত্যা করবে। আর আমি তোমাদের জন্য এদের বিরুদ্ধাচারণের (৩৭) সুস্পষ্ট প্রমাণ রেখেছি।

4:92

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ اَنْ یَّقْتُلَ مُؤْمِنًا اِلَّا خَطَأً ۚ— وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَأً فَتَحْرِیْرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ وَّدِیَةٌ مُّسَلَّمَةٌ اِلٰۤی اَهْلِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ یَّصَّدَّقُوْا ؕ— فَاِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ عَدُوٍّ لَّكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَتَحْرِیْرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ ؕ— وَاِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ بَیْنَكُمْ وَبَیْنَهُمْ مِّیْثَاقٌ فَدِیَةٌ مُّسَلَّمَةٌ اِلٰۤی اَهْلِهٖ وَتَحْرِیْرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ ۚ— فَمَنْ لَّمْ یَجِدْ فَصِیَامُ شَهْرَیْنِ مُتَتَابِعَیْنِ ؗ— تَوْبَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟

কোন মু’মিনকে হত্যা করা কোন মুমিনের কাজ নয়। তবে ভুলবশত করে ফেললে সেটা স্বতন্ত্র। আর কেউ কোনো মু’মিনকে ভুলবশত হত্যা করলে তার কাফফারা হলো একজন মু’মিন দাস মুক্ত করা এবং নিহত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনকে রক্তপণ (দিয়াত) আদায় করা; তবে তারা যদি ক্ষমা করে দেয় (তাহলে রক্তপণ দিতে হবে না)। আর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রু পক্ষের লোক হয় এবং মু’মিন হয় তবে তার কাফফারা হলো এক মু’মিন দাস মুক্ত করা। আর যদি সে এমন সম্প্রদায়ভুক্ত হয় যাদের সাথে তোমরা সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ, তবে তার পরিবার-পরিজনকে উপযুক্ত রক্তপণ (দিয়াত) আদায় এবং একজন মু’মিন দাস মুক্ত করা কর্তব্য। আর যে ব্যক্তি তা পাবে না (মুক্ত করার জন্যে দাস অথবা মূল্য পরিশোধে অক্ষম, তার বিধান হচ্ছে) একাধারে দু মাস সিয়াম পালন করা। (এটাই হচ্ছে) আল্লাহর পক্ষ থেকে (এ অপরাধের) তাওবাহ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

4:93

وَمَنْ یَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهٗ جَهَنَّمُ خَلِدًا فِیْهَا وَغَضِبَ اللّٰهُ عَلَیْهِ وَلَعَنَهٗ وَاَعَدَّ لَهٗ عَذَابًا عَظِیْمًا ۟

আর যে ইচ্ছাকৃত কোন মু’মিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার ওপর ক্রোধান্বিত হবেন, তাকে লা‘নত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন।

4:94

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا ضَرَبْتُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَتَبَیَّنُوْا وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ اَلْقٰۤی اِلَیْكُمُ السَّلٰمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا ۚ— تَبْتَغُوْنَ عَرَضَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؗ— فَعِنْدَ اللّٰهِ مَغَانِمُ كَثِیْرَةٌ ؕ— كَذٰلِكَ كُنْتُمْ مِّنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللّٰهُ عَلَیْكُمْ فَتَبَیَّنُوْا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا ۟

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের জন্যে) বের হবে তখন যাচাই-বাছাই করে নিবে (কে তোমাদের বন্ধু, কে শত্রু)। আর যদি কেউ তোমাদের নিকট ইসলামকে প্রকাশ করে, পার্থিব জীবনের স্বার্থ হাসিলের আশায় তাকে বলবে না যে, ‘তুমি মু’মিন নও’।(৩৮) অথচ আল্লাহর কাছে রয়েছে প্রচুর গনীমত। তোমরাতো পূর্বে এর মতোই ছিলে।(৩৯) অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করলেন। সুতরাং (কাউকে হত্যার আগে) তোমরা যাচাই-বাছাই করবে। নিশ্চয় তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত।

4:95

لَا یَسْتَوِی الْقٰعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ غَیْرُ اُولِی الضَّرَرِ وَالْمُجٰهِدُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ ؕ— فَضَّلَ اللّٰهُ الْمُجٰهِدِیْنَ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ عَلَی الْقٰعِدِیْنَ دَرَجَةً ؕ— وَكُلًّا وَّعَدَ اللّٰهُ الْحُسْنٰی ؕ— وَفَضَّلَ اللّٰهُ الْمُجٰهِدِیْنَ عَلَی الْقٰعِدِیْنَ اَجْرًا عَظِیْمًا ۟ۙ

মু’মিনদের মধ্যে যারা ওযরগ্রস্ত নয়; অথচ ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে নিজের জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে তারা উভয়ে এক সমান নয়। যারা নিজের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে ঘরে বসে থাকাদের ওপর অনেক মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের প্রত্যেকের জন্য যথোপযুক্ত প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বস্তুত যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ ঘরে বসে থাকাদের উপর মহা পুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

4:96

دَرَجٰتٍ مِّنْهُ وَمَغْفِرَةً وَّرَحْمَةً ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟۠

তাঁর পক্ষ থেকে তাদের জন্যে রয়েছে অনেক মর্যাদা, ক্ষমা ও রহমত। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

4:97

اِنَّ الَّذِیْنَ تَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ ظَالِمِیْۤ اَنْفُسِهِمْ قَالُوْا فِیْمَ كُنْتُمْ ؕ— قَالُوْا كُنَّا مُسْتَضْعَفِیْنَ فِی الْاَرْضِ ؕ— قَالُوْۤا اَلَمْ تَكُنْ اَرْضُ اللّٰهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوْا فِیْهَا ؕ— فَاُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ— وَسَآءَتْ مَصِیْرًا ۟ۙ

যারা (হিজরত না করে ) নিজেদের ওপর যুলম করে, তাদের প্রাণ গ্রহণের সময় ফিরিশতাগণ বলে: ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে?’ তারা বলে: ‘দুনিয়ায় আমরা দুর্বল-অসহায় ছিলাম।’ ফিরিশতারা বলে: ‘ আল্লাহর জমিন কি এমন প্রশস্ত ছিল না, যেখানে তোমরা হিজরত করতে পারতে?’ এদের আবাসস্থল হলো জাহান্নাম। আর তা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল!

4:98

اِلَّا الْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَآءِ وَالْوِلْدَانِ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ حِیْلَةً وَّلَا یَهْتَدُوْنَ سَبِیْلًا ۟ۙ

তবে সেসব দুর্বল-অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু নয়, যারা কোনো উপায় অবলম্বনের সামর্থ্য রাখে না (৪০) এবংকোনো পথও খুঁজে পায় না।

4:99

فَاُولٰٓىِٕكَ عَسَی اللّٰهُ اَنْ یَّعْفُوَ عَنْهُمْ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَفُوًّا غَفُوْرًا ۟

আল্লাহ অচিরেই তাদেরকে ক্ষমা করবেন। কারণ আল্লাহ পাপ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।

4:100

وَمَنْ یُّهَاجِرْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ یَجِدْ فِی الْاَرْضِ مُرٰغَمًا كَثِیْرًا وَّسَعَةً ؕ— وَمَنْ یَّخْرُجْ مِنْ بَیْتِهٖ مُهَاجِرًا اِلَی اللّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ ثُمَّ یُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ اَجْرُهٗ عَلَی اللّٰهِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟۠

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করবে, সে দুনিয়ায় বহু আশ্রয়স্থল এবং প্রাচুর্য (৪১) লাভ করবে। আর কেউ আল্লাহ ও রাসূলের উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে হিজরতকারী হিসেবে বের হয়ে তার মৃত্যু ঘটলে, তার প্রতিদান আল্লাহর ওপর অবধারিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

4:101

وَاِذَا ضَرَبْتُمْ فِی الْاَرْضِ فَلَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ اَنْ تَقْصُرُوْا مِنَ الصَّلٰوةِ ۖۗ— اِنْ خِفْتُمْ اَنْ یَّفْتِنَكُمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ— اِنَّ الْكٰفِرِیْنَ كَانُوْا لَكُمْ عَدُوًّا مُّبِیْنًا ۟

আর যখন তোমরা জমিনে ভ্রমণে বের হও, তখন তোমাদের সালাত কসর (সংক্ষিপ্ত) (৪২) করাতে কোন দোষ নেই; যদি আশঙ্কা করো যে, কাফিররা (সালাতের সময় ) তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলবে।(৪৩) নিশ্চয় কাফিররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

4:102

وَاِذَا كُنْتَ فِیْهِمْ فَاَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلٰوةَ فَلْتَقُمْ طَآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ مَّعَكَ وَلْیَاْخُذُوْۤا اَسْلِحَتَهُمْ ۫— فَاِذَا سَجَدُوْا فَلْیَكُوْنُوْا مِنْ وَّرَآىِٕكُمْ ۪— وَلْتَاْتِ طَآىِٕفَةٌ اُخْرٰی لَمْ یُصَلُّوْا فَلْیُصَلُّوْا مَعَكَ وَلْیَاْخُذُوْا حِذْرَهُمْ وَاَسْلِحَتَهُمْ ۚ— وَدَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَوْ تَغْفُلُوْنَ عَنْ اَسْلِحَتِكُمْ وَاَمْتِعَتِكُمْ فَیَمِیْلُوْنَ عَلَیْكُمْ مَّیْلَةً وَّاحِدَةً ؕ— وَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ اِنْ كَانَ بِكُمْ اَذًی مِّنْ مَّطَرٍ اَوْ كُنْتُمْ مَّرْضٰۤی اَنْ تَضَعُوْۤا اَسْلِحَتَكُمْ ۚ— وَخُذُوْا حِذْرَكُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ اَعَدَّ لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا مُّهِیْنًا ۟

আর (হে নবী!) যখন তুমি তাদের (মুসলিম সৈন্যদের ) মধ্যে থাকবে, অতঃপর তাদের সাথে নিয়ে সালাতে দাঁড়াবে, তখন যেন তাদের মধ্য থেকে একদল তোমার সাথে দাঁড়ায় (৪৪) এবং তারা (সালাতে) তাদের অস্ত্র সাথে রাখবে। এরপর যখন তারাসাজদাহ করে ফেলবে, তখন তারা যেন তোমাদের পেছনে অবস্থান নেয়। আর অপর একটি দল যারা এখনো সালাত আদায় করেনি তারা যেন তোমার সাথে এসে সালাত আদায় করে এবং তারা যেন তাদের সতর্কতা অবলম্বন করে ও অস্ত্র সাথে রাখে। কারণ, কাফিররা কামনা করে, যদি তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও, তাহলে তারা তোমাদের ওপর একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কোন কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ হও, তাহলে অস্ত্র রেখে দিলে তোমাদের কোন দোষ নেই। আর তোমরা তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন করবে। নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

4:103

فَاِذَا قَضَیْتُمُ الصَّلٰوةَ فَاذْكُرُوا اللّٰهَ قِیٰمًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰی جُنُوْبِكُمْ ۚ— فَاِذَا اطْمَاْنَنْتُمْ فَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ ۚ— اِنَّ الصَّلٰوةَ كَانَتْ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ كِتٰبًا مَّوْقُوْتًا ۟

অতঃপর যখন তোমরা সালাত শেষ করবে তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর যিকর করবে। অতঃপর যখন তোমরানিরাপদ হবে তখন যথা নিয়মে(৪৫) সালাত কায়িম করবে। নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়িম করা মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

4:104

وَلَا تَهِنُوْا فِی ابْتِغَآءِ الْقَوْمِ ؕ— اِنْ تَكُوْنُوْا تَاْلَمُوْنَ فَاِنَّهُمْ یَاْلَمُوْنَ كَمَا تَاْلَمُوْنَ ۚ— وَتَرْجُوْنَ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا یَرْجُوْنَ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟۠

আর (হে মু’মিনগণ) তোমরা শত্রু সম্প্রদায়ের অনুসন্ধানে দুর্বল ও অলস হয়ো না। যদি তোমরা যন্ত্রণা ভোগ করে থাকো, তবে তারাও তো তোমাদের মতো যন্ত্রণা পাচ্ছে। আর তোমরা আল্লাহর নিকট থেকে যা আশা করছো, তারা তো তা আশা করছে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

4:105

اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَیْنَ النَّاسِ بِمَاۤ اَرٰىكَ اللّٰهُ ؕ— وَلَا تَكُنْ لِّلْخَآىِٕنِیْنَ خَصِیْمًا ۟ۙ

(হে রাসূল!) আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে যে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, সে অনুযায়ী তুমি মানুষের মধ্যে বিচার মীমাংসা করতে পারো। আর (সে ক্ষেত্রে) তুমি খিয়ানতকারীদের পক্ষে তর্ক করো না।

4:106

وَّاسْتَغْفِرِ اللّٰهَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟ۚ

আর তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

4:107

وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِیْنَ یَخْتَانُوْنَ اَنْفُسَهُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا اَثِیْمًا ۟ۚۙ

আর যারা নিজেদের সাথে খিয়ানত করে, তুমি তাদের পক্ষে বিতর্ক করো না। নিশ্চয় আল্লাহ খিয়ানতকারী পাপীকে পছন্দ করেন না।

4:108

یَّسْتَخْفُوْنَ مِنَ النَّاسِ وَلَا یَسْتَخْفُوْنَ مِنَ اللّٰهِ وَهُوَ مَعَهُمْ اِذْ یُبَیِّتُوْنَ مَا لَا یَرْضٰی مِنَ الْقَوْلِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ بِمَا یَعْمَلُوْنَ مُحِیْطًا ۟

তারামানুষের কাছ থেকে গোপন করতে চায়; কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে গোপন করতে পারবে না। তিনি তাদের সাথেই আছেন, যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে, যা তিনি পছন্দ করেন না। আর তারা যা কিছু করে, আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন।

4:109

هٰۤاَنْتُمْ هٰۤؤُلَآءِ جَدَلْتُمْ عَنْهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۫— فَمَنْ یُّجَادِلُ اللّٰهَ عَنْهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ اَمْ مَّنْ یَّكُوْنُ عَلَیْهِمْ وَكِیْلًا ۟

(হে অপরাধীদের সাহায্যকারীগণ) দেখো, তোমরা ইহজীবনে তাদের (অপরাধীদের) পক্ষে বিতর্ক করছো; কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সম্মুখে কে তাদের পক্ষাবলম্বন করে বিতর্ক করবে? কিংবা কে তাদের পক্ষে উকিল হবে?

4:110

وَمَنْ یَّعْمَلْ سُوْٓءًا اَوْ یَظْلِمْ نَفْسَهٗ ثُمَّ یَسْتَغْفِرِ اللّٰهَ یَجِدِ اللّٰهَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟

আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি যুলম করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে।

4:111

وَمَنْ یَّكْسِبْ اِثْمًا فَاِنَّمَا یَكْسِبُهٗ عَلٰی نَفْسِهٖ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟

আর যে পাপ উপার্জন করবে, বস্তুত সেতো তা নিজের বিরুদ্ধেই উপার্জন করবে। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

4:112

وَمَنْ یَّكْسِبْ خَطِیْٓئَةً اَوْ اِثْمًا ثُمَّ یَرْمِ بِهٖ بَرِیْٓـًٔا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَّاِثْمًا مُّبِیْنًا ۟۠

আর কেউ কোনো অপরাধ বা পাপ করে সেটা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করলে, সে তো মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করবে।

4:113

وَلَوْلَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكَ وَرَحْمَتُهٗ لَهَمَّتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ اَنْ یُّضِلُّوْكَ ؕ— وَمَا یُضِلُّوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَمَا یَضُرُّوْنَكَ مِنْ شَیْءٍ ؕ— وَاَنْزَلَ اللّٰهُ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ ؕ— وَكَانَ فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكَ عَظِیْمًا ۟

আর তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না থাকলে, তাদের মধ্য থেকে একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করতে বদ্ধপরিকর ছিল! কিন্তু তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করে না এবং তারা তোমার কোনোই ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করেছেন কিতাব ও হিকমত এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তুমি জানতে না। আর তোমার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।

4:114

لَا خَیْرَ فِیْ كَثِیْرٍ مِّنْ نَّجْوٰىهُمْ اِلَّا مَنْ اَمَرَ بِصَدَقَةٍ اَوْ مَعْرُوْفٍ اَوْ اِصْلَاحٍ بَیْنَ النَّاسِ ؕ— وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللّٰهِ فَسَوْفَ نُؤْتِیْهِ اَجْرًا عَظِیْمًا ۟

তাদের অধিকাংশ গোপন সলাপরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই; তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় দান সাদকার, সৎকাজ করার ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কেউ এসব কাজ করলে, আমি তাকে অবশ্যই মহা পুরস্কার দান করবো।

4:115

وَمَنْ یُّشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُ الْهُدٰی وَیَتَّبِعْ غَیْرَ سَبِیْلِ الْمُؤْمِنِیْنَ نُوَلِّهٖ مَا تَوَلّٰی وَنُصْلِهٖ جَهَنَّمَ ؕ— وَسَآءَتْ مَصِیْرًا ۟۠

আর কারো নিকট হিদায়াত প্রকাশ পাওয়ার পরও সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে মুখ ফিরিয়েছে আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দিবো এবং তাকে প্রবেশ করাবো জাহান্নামে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল!

4:116

اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغْفِرُ اَنْ یُّشْرَكَ بِهٖ وَیَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ یَّشَآءُ ؕ— وَمَنْ یُّشْرِكْ بِاللّٰهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًا بَعِیْدًا ۟

নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না।(৪৬) তবে এ (শিরক) ছাড়া অন্যান্য গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে তো ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হলো।

4:117

اِنْ یَّدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖۤ اِلَّاۤ اِنٰثًا ۚ— وَاِنْ یَّدْعُوْنَ اِلَّا شَیْطٰنًا مَّرِیْدًا ۟ۙ

তারা তো আল্লাহর পরিবর্তে দেবীরই পূজা করে এবং তারা কেবল অবাধ্য শয়তানকেই ডাকে )।

4:118

لَّعَنَهُ اللّٰهُ ۘ— وَقَالَ لَاَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِیْبًا مَّفْرُوْضًا ۟ۙ

আল্লাহ তাকে লা‘নত করেছেন এবং সে বলেছে: ‘অবশ্যই আমি তোমার বান্দাদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী হিসেবে গ্রহণ করব ।’

4:119

وَّلَاُضِلَّنَّهُمْ وَلَاُمَنِّیَنَّهُمْ وَلَاٰمُرَنَّهُمْ فَلَیُبَتِّكُنَّ اٰذَانَ الْاَنْعَامِ وَلَاٰمُرَنَّهُمْ فَلَیُغَیِّرُنَّ خَلْقَ اللّٰهِ ؕ— وَمَنْ یَّتَّخِذِ الشَّیْطٰنَ وَلِیًّا مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِیْنًا ۟ؕ

আর আমি অবশ্যই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবো; মিথ্যা আশ্বাস দিবো (৪৭), আর অবশ্যই আমি তাদেরকে আদেশ করবো, ফলে তারা পশুর কান ছিদ্র করবে। আর অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দিবো, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে।’ আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, সে স্পষ্টতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে।

4:120

یَعِدُهُمْ وَیُمَنِّیْهِمْ ؕ— وَمَا یَعِدُهُمُ الشَّیْطٰنُ اِلَّا غُرُوْرًا ۟

সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়। আর শয়তান তাদেরকে কেবল প্রতারণামূলক প্রতিশ্রুতিই দেয়।

4:121

اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؗ— وَلَا یَجِدُوْنَ عَنْهَا مَحِیْصًا ۟

এদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তারা সেখান থেকে পালাবার জায়গা পাবে না।

4:122

وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ— وَعْدَ اللّٰهِ حَقًّا ؕ— وَمَنْ اَصْدَقُ مِنَ اللّٰهِ قِیْلًا ۟

আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, আমি তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর কথায় আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী কে?

4:123

لَیْسَ بِاَمَانِیِّكُمْ وَلَاۤ اَمَانِیِّ اَهْلِ الْكِتٰبِ ؕ— مَنْ یَّعْمَلْ سُوْٓءًا یُّجْزَ بِهٖ ۙ— وَلَا یَجِدْ لَهٗ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیْرًا ۟

(হে মুসলিমগণ! মূলত নাজাত ও চূড়ান্ত সফলতার ব্যাপারটি) না তোমাদের আশার অধীন, না আহলে কিতাবের (বরং তা আমলেরই অধীন)। যে মন্দকাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।

4:124

وَمَنْ یَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ مِنْ ذَكَرٍ اَوْ اُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَاُولٰٓىِٕكَ یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَلَا یُظْلَمُوْنَ نَقِیْرًا ۟

আর পুরুষ কিংবা নারীর মধ্য থেকে যে মু’মিন অবস্থায় সৎকাজ করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণও (৪৮) যুলম করা হবে না।

4:125

وَمَنْ اَحْسَنُ دِیْنًا مِّمَّنْ اَسْلَمَ وَجْهَهٗ لِلّٰهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَّاتَّبَعَ مِلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ— وَاتَّخَذَ اللّٰهُ اِبْرٰهِیْمَ خَلِیْلًا ۟

আর দীনের দিক থেকে তার চেয়ে কে উত্তম, যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের মিল্লাতের অনুসরণ করে? আর আল্লাহ ইবরাহীমকে পরম বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।

4:126

وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ مُّحِیْطًا ۟۠

আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, তার একক মালিকানা আল্লাহর জন্যই । আর আল্লাহ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।

4:127

وَیَسْتَفْتُوْنَكَ فِی النِّسَآءِ ؕ— قُلِ اللّٰهُ یُفْتِیْكُمْ فِیْهِنَّ ۙ— وَمَا یُتْلٰی عَلَیْكُمْ فِی الْكِتٰبِ فِیْ یَتٰمَی النِّسَآءِ الّٰتِیْ لَا تُؤْتُوْنَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُوْنَ اَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ وَالْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الْوِلْدَانِ ۙ— وَاَنْ تَقُوْمُوْا لِلْیَتٰمٰی بِالْقِسْطِ ؕ— وَمَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَیْرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِهٖ عَلِیْمًا ۟

আর লোকেরা তোমার কাছে নারীদের ব্যাপারে সমাধান চাচ্ছে। বল: ‘আল্লাহ তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন এবং একই সাথে সে বিধানও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যা ইয়াতীম নারীদের ব্যাপারে কিতাবে তোমাদেরকে পাঠ করে শুনানো হচ্ছে, যাদের প্রাপ্য তোমরা পরিশোধ করছো না; অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে আগ্রহী হও। আরঅসহায় শিশুদের ব্যাপারেও(৪৯)। ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ইনসাফের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো। আর তোমরা যে কোন কল্যাণকর কাজ করো, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে বিশেষভাবে জ্ঞাত।

4:128

وَاِنِ امْرَاَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوْزًا اَوْ اِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِمَاۤ اَنْ یُّصْلِحَا بَیْنَهُمَا صُلْحًا ؕ— وَالصُّلْحُ خَیْرٌ ؕ— وَاُحْضِرَتِ الْاَنْفُسُ الشُّحَّ ؕ— وَاِنْ تُحْسِنُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا ۟

আর কোনো স্ত্রী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা পরস্পর সমঝোতা করতে চাইলে, তাদের কোনো দোষ নেই এবং পরস্পর সমঝোতাই শ্রেয়। কেননা লোভ ও কৃপণতা দিয়েই মানুষের মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা সৎকর্মপরায়ণ ও মুত্তাকী হও, তবে জেনে রেখো, তোমরা যা করো আল্লাহ তো তার খবর রাখেন।

4:129

وَلَنْ تَسْتَطِیْعُوْۤا اَنْ تَعْدِلُوْا بَیْنَ النِّسَآءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِیْلُوْا كُلَّ الْمَیْلِ فَتَذَرُوْهَا كَالْمُعَلَّقَةِ ؕ— وَاِنْ تُصْلِحُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟

আর তোমরা যতই ইচ্ছে করো না কেন, তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান আচরণ করতে কখনই পারবে না। সুতরাং তোমরা কোনো একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না ও অপরকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দিও না। আর যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন করো এবং সে ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করো, তবে নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

4:130

وَاِنْ یَّتَفَرَّقَا یُغْنِ اللّٰهُ كُلًّا مِّنْ سَعَتِهٖ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ وَاسِعًا حَكِیْمًا ۟

আর যদি তারা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ে (তালাক অথবা খোলা'র (১) মাধ্যমে) বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ প্রত্যেককে নিজ প্রাচুর্য দ্বারা অভাবমুক্ত করবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাবান।

4:131

وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— وَلَقَدْ وَصَّیْنَا الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَاِیَّاكُمْ اَنِ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ— وَاِنْ تَكْفُرُوْا فَاِنَّ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ غَنِیًّا حَمِیْدًا ۟

আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুর মালিকানা আল্লাহরই। তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও নির্দেশ দিয়েছি এবং অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো। আর তোমরা যদি কুফরী করো, তবে জেনে রাখো, নিশ্চয় আসমানসমুহ ও জমিনে যা কিছু আছে, তা সবই আল্লাহর। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।

4:132

وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا ۟

আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, তা আল্লাহর জন্যই। আর সৃষ্টির সকল বিষয়াদির পরিচালনায় অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

4:133

اِنْ یَّشَاْ یُذْهِبْكُمْ اَیُّهَا النَّاسُ وَیَاْتِ بِاٰخَرِیْنَ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰی ذٰلِكَ قَدِیْرًا ۟

হে মানুষ! তিনি চাইলে তোমাদেরকে অপসারিত করে অন্যদেরকে স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন(৫০)। আর আল্লাহ তা করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

4:134

مَنْ كَانَ یُرِیْدُ ثَوَابَ الدُّنْیَا فَعِنْدَ اللّٰهِ ثَوَابُ الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ سَمِیْعًا بَصِیْرًا ۟۠

কেউ দুনিয়ার প্রতিদান চাইলে তবে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিদান রয়েছে। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

4:135

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُوْنُوْا قَوّٰمِیْنَ بِالْقِسْطِ شُهَدَآءَ لِلّٰهِ وَلَوْ عَلٰۤی اَنْفُسِكُمْ اَوِ الْوَالِدَیْنِ وَالْاَقْرَبِیْنَ ۚ— اِنْ یَّكُنْ غَنِیًّا اَوْ فَقِیْرًا فَاللّٰهُ اَوْلٰی بِهِمَا ۫— فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوٰۤی اَنْ تَعْدِلُوْا ۚ— وَاِنْ تَلْوٗۤا اَوْ تُعْرِضُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا ۟

হে মুমিনগণ! তোমরা (সর্বাবস্থায়) ইনসাফের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর সাক্ষী হিসেবে; যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতার অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। যদি সে বিত্তশালী হয় কিংবা দরিদ্র, তবে আল্লাহ উভয়ের ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে, তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা (যথোপযুক্তভাবে সাক্ষ্যটিকে আদায় না করে) ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলো কিংবা এড়িয়ে যাও, তবে (তোমরা জেনে রেখো যে,) তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত।

4:136

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ وَالْكِتٰبِ الَّذِیْ نَزَّلَ عَلٰی رَسُوْلِهٖ وَالْكِتٰبِ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ ؕ— وَمَنْ یَّكْفُرْ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓىِٕكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًا بَعِیْدًا ۟

হে মুমিনগণ! তোমরা ঈমান আনয়ন করো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং সে কিতাবের প্রতি, যা তিনি তাঁর রাসূলের ওপর নাযিল করেছেন এবং ঐ কিতাবের প্রতি যা তিনি পূর্বে নাযিল করেছেন। আর যে আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিনকে অস্বীকার করবে, সে মূলত পথভ্রষ্ট হয়ে বহুদূরে চলে গেলো।

4:137

اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ ازْدَادُوْا كُفْرًا لَّمْ یَكُنِ اللّٰهُ لِیَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِیَهْدِیَهُمْ سَبِیْلًا ۟ؕ

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফরী করেছে, আবার ঈমান এনেছে, তারপর কুফরী করেছে, অতঃপর তারা তাদের কুফরীর পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে (৫১), আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে সত্য-সঠিক পথ দেখাবেনও না।

4:138

بَشِّرِ الْمُنٰفِقِیْنَ بِاَنَّ لَهُمْ عَذَابًا اَلِیْمَا ۟ۙ

মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে, নিশ্চয় তাদের জন্যই রয়েছে, যন্ত্রণাদায়ক আযাব ।

4:139

١لَّذِیْنَ یَتَّخِذُوْنَ الْكٰفِرِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ— اَیَبْتَغُوْنَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَاِنَّ الْعِزَّةَ لِلّٰهِ جَمِیْعًا ۟ؕ

যারা মু’মিনগণের পরিবর্তে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারা কি ওদের কাছে সম্মান চায়? যাবতীয় সম্মান তো আল্লাহরই।

4:140

وَقَدْ نَزَّلَ عَلَیْكُمْ فِی الْكِتٰبِ اَنْ اِذَا سَمِعْتُمْ اٰیٰتِ اللّٰهِ یُكْفَرُ بِهَا وَیُسْتَهْزَاُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوْا مَعَهُمْ حَتّٰی یَخُوْضُوْا فِیْ حَدِیْثٍ غَیْرِهٖۤ ۖؗ— اِنَّكُمْ اِذًا مِّثْلُهُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ جَامِعُ الْمُنٰفِقِیْنَ وَالْكٰفِرِیْنَ فِیْ جَهَنَّمَ جَمِیْعَا ۟ۙ

অথচ তিনি তো কিতাবে তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তাহলে তোমরা তাদের সাথে বসবে না; যতক্ষণ তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হবে। তা না হলে, তোমরাও তাদের মতো হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক ও কাফির সবাইকে জাহান্নামে একই জায়গায় একত্র করবেন।

4:141

١لَّذِیْنَ یَتَرَبَّصُوْنَ بِكُمْ ۚ— فَاِنْ كَانَ لَكُمْ فَتْحٌ مِّنَ اللّٰهِ قَالُوْۤا اَلَمْ نَكُنْ مَّعَكُمْ ۖؗ— وَاِنْ كَانَ لِلْكٰفِرِیْنَ نَصِیْبٌ ۙ— قَالُوْۤا اَلَمْ نَسْتَحْوِذْ عَلَیْكُمْ وَنَمْنَعْكُمْ مِّنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ— فَاللّٰهُ یَحْكُمُ بَیْنَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ— وَلَنْ یَّجْعَلَ اللّٰهُ لِلْكٰفِرِیْنَ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ سَبِیْلًا ۟۠

যারা তোমাদের অপেক্ষায় থাকে, অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি তোমাদের বিজয় অর্জিত হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না’? আর যদি কাফিরদের আংশিক বিজয় হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা কি তোমাদের দায়িত্বভার নেইনি এবং মু’মিনদের কবল থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করিনি’? সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে বিচার করবেন। আর আল্লাহ কখনো মু’মিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের জন্য কোন পথই রাখবেন না।

4:142

اِنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ یُخٰدِعُوْنَ اللّٰهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ ۚ— وَاِذَا قَامُوْۤا اِلَی الصَّلٰوةِ قَامُوْا كُسَالٰی ۙ— یُرَآءُوْنَ النَّاسَ وَلَا یَذْكُرُوْنَ اللّٰهَ اِلَّا قَلِیْلًا ۟ؗۙ

নিশ্চয় মুনাফিকরা (কুফরীকে লুকিয়ে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশের মাধ্যমে) আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করে। বস্তুত তিনিই তাদেরকে (৫২) ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন। আর তারা যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, (সালাতে আসে) শুধু লোক দেখানোর জন্যে এবং তারা আল্লাহকে কমই স্মরণ করে।(৫৩)

4:143

مُّذَبْذَبِیْنَ بَیْنَ ذٰلِكَ ۖۗ— لَاۤ اِلٰی هٰۤؤُلَآءِ وَلَاۤ اِلٰی هٰۤؤُلَآءِ ؕ— وَمَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهٗ سَبِیْلًا ۟

তারা এর মধ্যে দোদুল্যমান (৫৪)। না এদের দিকে, আর না ওদের দিকে। বস্তুত আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনো তার জন্য ( কোন পথ খুঁজে পাবে না।

4:144

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْكٰفِرِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ— اَتُرِیْدُوْنَ اَنْ تَجْعَلُوْا لِلّٰهِ عَلَیْكُمْ سُلْطٰنًا مُّبِیْنًا ۟

হে মুমিনগণ! তোমরা মু’মিনগণ ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কিনিজেদের ওপর আল্লাহর প্রকাশ্য অভিযোগ কায়িম করতে চাও?

4:145

اِنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ فِی الدَّرْكِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِ ۚ— وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِیْرًا ۟ۙ

নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং তাদের জন্য তুমি কখনো কোন সাহায্যকারী পাবে না।

4:146

اِلَّا الَّذِیْنَ تَابُوْا وَاَصْلَحُوْا وَاعْتَصَمُوْا بِاللّٰهِ وَاَخْلَصُوْا دِیْنَهُمْ لِلّٰهِ فَاُولٰٓىِٕكَ مَعَ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ— وَسَوْفَ یُؤْتِ اللّٰهُ الْمُؤْمِنِیْنَ اَجْرًا عَظِیْمًا ۟

কিন্তু যারা তাওবাহ করে, নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং আল্লাহর জন্য নিজেদের দীনকে একনিষ্ট করে, তারা মু’মিনদের সাথেই থাকবে। আর অচিরেই আল্লাহ মু’মিনদেরকে মহা পুরস্কার দান করবেন।

4:147

مَا یَفْعَلُ اللّٰهُ بِعَذَابِكُمْ اِنْ شَكَرْتُمْ وَاٰمَنْتُمْ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ شَاكِرًا عَلِیْمًا ۟

যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং ঈমান আনো, তাহলে তোমাদেরকে শাস্তি দিয়ে আল্লাহ কী করবেন? আল্লাহ কৃতজ্ঞতার পুরস্কার দানকারী, সর্বজ্ঞ।

4:148

لَا یُحِبُّ اللّٰهُ الْجَهْرَ بِالسُّوْٓءِ مِنَ الْقَوْلِ اِلَّا مَنْ ظُلِمَ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ سَمِیْعًا عَلِیْمًا ۟

আল্লাহ কোনো মন্দ ও পাপের কথা প্রচার করা পছন্দ করেন না; তবে কারো ওপর যুলম করা হলে ভিন্ন কথা। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

4:149

اِنْ تُبْدُوْا خَیْرًا اَوْ تُخْفُوْهُ اَوْ تَعْفُوْا عَنْ سُوْٓءٍ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِیْرًا ۟

তোমরা যদি সৎকাজ প্রকাশ্যে করো কিংবা গোপনে করো অথবা দোষত্রুটি ক্ষমা করে দাও, তবে আল্লাহও দোষ মোচনকারী, ক্ষমতাবান।

4:150

اِنَّ الَّذِیْنَ یَكْفُرُوْنَ بِاللّٰهِ وَرُسُلِهٖ وَیُرِیْدُوْنَ اَنْ یُّفَرِّقُوْا بَیْنَ اللّٰهِ وَرُسُلِهٖ وَیَقُوْلُوْنَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَّنَكْفُرُ بِبَعْضٍ ۙ— وَّیُرِیْدُوْنَ اَنْ یَّتَّخِذُوْا بَیْنَ ذٰلِكَ سَبِیْلًا ۙ۟

নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের সাথে কুফরী করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে (ঈমানের ব্যাপারে) পার্থক্য করতে চায়(৫৫) উপরন্তু তারা বলে: ‘আমরা কতক-এর ওপর ঈমান আনি এবং কতকের সাথে কুফরী করি।’ আর তারা এ দুয়ের (ঈমান ও কুফরীর) মধ্যবর্তী ভিন্ন একটি পথ অবলম্বন করতে চায়।(৫৬)

4:151

اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْكٰفِرُوْنَ حَقًّا ۚ— وَاَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا مُّهِیْنًا ۟

তারাই প্রকৃত কাফির। আর আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

4:152

وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَرُسُلِهٖ وَلَمْ یُفَرِّقُوْا بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ اُولٰٓىِٕكَ سَوْفَ یُؤْتِیْهِمْ اُجُوْرَهُمْ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟۠

আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে এবং (কাফিরদের মতো) তাদের কারো মধ্যে (ঈমান আনা ও না আনার ব্যাপারে) পার্থক্য করেনি, অচিরেই তাদেরকে তিনি তাদের (আমলের প্রতিদান স্বরূপ) মহা পুরস্কার দিবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

4:153

یَسْـَٔلُكَ اَهْلُ الْكِتٰبِ اَنْ تُنَزِّلَ عَلَیْهِمْ كِتٰبًا مِّنَ السَّمَآءِ فَقَدْ سَاَلُوْا مُوْسٰۤی اَكْبَرَ مِنْ ذٰلِكَ فَقَالُوْۤا اَرِنَا اللّٰهَ جَهْرَةً فَاَخَذَتْهُمُ الصّٰعِقَةُ بِظُلْمِهِمْ ۚ— ثُمَّ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ الْبَیِّنٰتُ فَعَفَوْنَا عَنْ ذٰلِكَ ۚ— وَاٰتَیْنَا مُوْسٰی سُلْطٰنًا مُّبِیْنًا ۟

(হে রাসূল!) আহলে কিতাবগণ তোমার কাছে তাদের জন্য আসমান হতে পুরো একটি কিতাব নাযিল করতে বলে; যেমনিভাবে তারা মূসার কাছে এর চেয়েও বড় দাবী করেছিল। তারা বলেছিল: ‘আল্লাহকে প্রকাশ্যে আমাদেরকে দেখাও।’ ফলে তাদের সীমালংঘনের শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে বজ্রপাতে মৃত্যু দেয়া হয়।(৫৭) তারপর সুস্পষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে আসার পরও তারা গরুর বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল। তারপরও আমি তাদেরকে ক্ষমা করেছিলাম এবং আমি মূসাকে সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করেছিলাম।

4:154

وَرَفَعْنَا فَوْقَهُمُ الطُّوْرَ بِمِیْثَاقِهِمْ وَقُلْنَا لَهُمُ ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَّقُلْنَا لَهُمْ لَا تَعْدُوْا فِی السَّبْتِ وَاَخَذْنَا مِنْهُمْ مِّیْثَاقًا غَلِیْظًا ۟

আর তাদের কাছ থেকে শক্ত অঙ্গীকার গ্রহণের জন্য ‘তূর’ পর্বতকে আমি তাদের ওপরে তুলে ধরেছিলাম এবং তাদেরকে বলেছিলাম: ‘ সাজদারত হয়ে দরজা দিয়ে প্রবেশ করো।’ আর আমি তাদেরকে আরও বলেছিলাম: ‘শনিবারে (মাছ শিকারের ব্যাপারে) সীমালংঘন করো না’ এবং আমি তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।

4:155

فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِّیْثَاقَهُمْ وَكُفْرِهِمْ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَقَتْلِهِمُ الْاَنْۢبِیَآءَ بِغَیْرِ حَقٍّ وَّقَوْلِهِمْ قُلُوْبُنَا غُلْفٌ ؕ— بَلْ طَبَعَ اللّٰهُ عَلَیْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا یُؤْمِنُوْنَ اِلَّا قَلِیْلًا ۪۟

অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্য, আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করার জন্য, নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্য এবং তাদের এ উক্তির জন্য ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’।(৫৮) বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদের অন্তর সিলমোহর করে দিয়েছেন। ফলে অল্পসংখ্যক লোক ছাড়া তারা ঈমান আনবে না।

4:156

وَّبِكُفْرِهِمْ وَقَوْلِهِمْ عَلٰی مَرْیَمَ بُهْتَانًا عَظِیْمًا ۟ۙ

আর তাদের কুফরীর জন্য এবং মারইয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদ আরোপের জন্য।

4:157

وَّقَوْلِهِمْ اِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِیْحَ عِیْسَی ابْنَ مَرْیَمَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ۚ— وَمَا قَتَلُوْهُ وَمَا صَلَبُوْهُ وَلٰكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ ؕ— وَاِنَّ الَّذِیْنَ اخْتَلَفُوْا فِیْهِ لَفِیْ شَكٍّ مِّنْهُ ؕ— مَا لَهُمْ بِهٖ مِنْ عِلْمٍ اِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ۚ— وَمَا قَتَلُوْهُ یَقِیْنًا ۟ۙ

আর তাদের এ উক্তির জন্যে, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়ামের পুত্র ‘ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি’। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি; বরং তাদের জন্য তার সদৃশ করা হয়েছিল(৫৯)। আর নিশ্চয় যারা তার সম্বন্ধে মতভেদ করেছিল, তারা অবশ্যই এ বিষয়ে সংশয়ের মধ্যে ছিল; এ সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ছাড়া তাদের কোনো জ্ঞানই ছিল না। আর এটা নিশ্চিত যে, তারা তাঁকে হত্যা করেনি।

4:158

بَلْ رَّفَعَهُ اللّٰهُ اِلَیْهِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَزِیْزًا حَكِیْمًا ۟

বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

4:159

وَاِنْ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ اِلَّا لَیُؤْمِنَنَّ بِهٖ قَبْلَ مَوْتِهٖ ۚ— وَیَوْمَ الْقِیٰمَةِ یَكُوْنُ عَلَیْهِمْ شَهِیْدًا ۟ۚ

আহলে কিতাবের প্রতিটি মানুষ তার মৃত্যুর পূর্বে তাঁর ওপর ঈমান আনবেই। আর কিয়ামতের দিন তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন।

4:160

فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِیْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا عَلَیْهِمْ طَیِّبٰتٍ اُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ كَثِیْرًا ۟ۙ

সুতরাং ইয়াহূদীদের যুলম ও অবাধ্যতার এবং আল্লাহর পথ থেকে অনেক বেশী বাঁধা দেওয়ার কারণে আমি উত্তম খাবারগুলো তাদের ওপর হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য যা হালাল ছিল।(৬০)

4:161

وَّاَخْذِهِمُ الرِّبٰوا وَقَدْ نُهُوْا عَنْهُ وَاَكْلِهِمْ اَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ ؕ— وَاَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ مِنْهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا ۟

আর তাদের সুদ গ্রহণের কারণে; অথচ তা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং অবৈধভাবে মানুষের ধন-সম্পদ গ্রাস করার কারণে। আর আমি তাদের মধ্য থেকে কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

4:162

لٰكِنِ الرّٰسِخُوْنَ فِی الْعِلْمِ مِنْهُمْ وَالْمُؤْمِنُوْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَالْمُقِیْمِیْنَ الصَّلٰوةَ وَالْمُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَالْمُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ— اُولٰٓىِٕكَ سَنُؤْتِیْهِمْ اَجْرًا عَظِیْمًا ۟۠

কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে দৃঢ় ও পরিপক্ব তারা এবং মু’মিনগণ ঈমান আনে তার ওপর, যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা তোমার আগে নাযিল করা হয়েছে । আর তারা সালাত কায়িমকারী , যাকাত প্রদানকারী এবং আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনয়নকারী। তাদেরকে অচিরেই আমি মহা পুরস্কার প্রদান করবো।

4:163

اِنَّاۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ كَمَاۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی نُوْحٍ وَّالنَّبِیّٖنَ مِنْ بَعْدِهٖ ۚ— وَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ وَاِسْمٰعِیْلَ وَاِسْحٰقَ وَیَعْقُوْبَ وَالْاَسْبَاطِ وَعِیْسٰی وَاَیُّوْبَ وَیُوْنُسَ وَهٰرُوْنَ وَسُلَیْمٰنَ ۚ— وَاٰتَیْنَا دَاوٗدَ زَبُوْرًا ۟ۚ

(হে রাসূল!) নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ওহী প্রেরণ করেছিলাম, যেমন নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের প্রতি ওহী প্রেরণ করেছিলাম। আর আমি ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘কূব ও তার বংশধরগণ, ‘ঈসা, আইউব, ইউনুস, হারূন ও সুলাইমানের নিকটও ওহী প্রেরণ করেছিলাম এবং দা্ঊদকে যাবূর প্রদান করেছিলাম।

4:164

وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنٰهُمْ عَلَیْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَیْكَ ؕ— وَكَلَّمَ اللّٰهُ مُوْسٰی تَكْلِیْمًا ۟ۚ

আর অনেক রাসূলের বর্ণনা আমি তোমাকে ইতঃপূর্বে দিয়েছি এবং অনেক রাসূলের বর্ণনা আমি তোমাকে দেইনি। আর অবশ্যই আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন।

4:165

رُسُلًا مُّبَشِّرِیْنَ وَمُنْذِرِیْنَ لِئَلَّا یَكُوْنَ لِلنَّاسِ عَلَی اللّٰهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَزِیْزًا حَكِیْمًا ۟

সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে আমি রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণ আসার পর আল্লাহর নিকট মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

4:166

لٰكِنِ اللّٰهُ یَشْهَدُ بِمَاۤ اَنْزَلَ اِلَیْكَ اَنْزَلَهٗ بِعِلْمِهٖ ۚ— وَالْمَلٰٓىِٕكَةُ یَشْهَدُوْنَ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًا ۟ؕ

কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন (তা সত্য এবং), তিনি নিজ জ্ঞানের মাধ্যমেই তা অবতীর্ণ করেছেন। আর ফেরেশতারাও সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

4:167

اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ قَدْ ضَلُّوْا ضَلٰلًا بَعِیْدًا ۟

নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাঁধা দিয়েছে, তারা অবশ্যই সত্য থেকে অনেক দূরে পথভ্রষ্ট হয়েছে।

4:168

اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَظَلَمُوْا لَمْ یَكُنِ اللّٰهُ لِیَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِیَهْدِیَهُمْ طَرِیْقًا ۟ۙ

নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে ও যুলম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথও দেখাবেন না ।

4:169

اِلَّا طَرِیْقَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ— وَكَانَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرًا ۟

জাহান্নামের পথ ছাড়া(৬১); সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে এবং এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।

4:170

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَكُمُ الرَّسُوْلُ بِالْحَقِّ مِنْ رَّبِّكُمْ فَاٰمِنُوْا خَیْرًا لَّكُمْ ؕ— وَاِنْ تَكْفُرُوْا فَاِنَّ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟

হে মানবজাতি! অবশ্যই রাসূল তোমাদের রবের কাছ থেকে সত্য (দীন) নিয়ে এসেছে। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো, এটাই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা কুফরী করো, তবে আসমানসমূহে ও জমিনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

4:171

یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لَا تَغْلُوْا فِیْ دِیْنِكُمْ وَلَا تَقُوْلُوْا عَلَی اللّٰهِ اِلَّا الْحَقَّ ؕ— اِنَّمَا الْمَسِیْحُ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ رَسُوْلُ اللّٰهِ وَكَلِمَتُهٗ ۚ— اَلْقٰىهَاۤ اِلٰی مَرْیَمَ وَرُوْحٌ مِّنْهُ ؗ— فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَرُسُلِهٖ ۫— وَلَا تَقُوْلُوْا ثَلٰثَةٌ ؕ— اِنْتَهُوْا خَیْرًا لَّكُمْ ؕ— اِنَّمَا اللّٰهُ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ؕ— سُبْحٰنَهٗۤ اَنْ یَّكُوْنَ لَهٗ وَلَدٌ ۘ— لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا ۟۠

হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর ওপর (‘ঈসার ব্যাপারে) সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বলো না। নিশ্চয় মারইয়াম-পুত্র ঈসা মসীহ আল্লাহর একজন রাসূল এবং তাঁর বাণী (‘কুন’-হয়ে যাও), যা তিনি মারইয়ামের কাছে পাঠিয়েছিলেন ও তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ । সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনো এবং বলো না: ‘তিন!’ (ইলাহ)। তোমরা নিবৃত্ত হও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তো এক ইলাহ। তাঁর সন্তান থাকবে- এমন বিষয় থেকে তিনি পবিত্র। আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও জমিনে যা কিছু আছে, সব আল্লাহরই। আরতত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

4:172

لَنْ یَّسْتَنْكِفَ الْمَسِیْحُ اَنْ یَّكُوْنَ عَبْدًا لِّلّٰهِ وَلَا الْمَلٰٓىِٕكَةُ الْمُقَرَّبُوْنَ ؕ— وَمَنْ یَّسْتَنْكِفْ عَنْ عِبَادَتِهٖ وَیَسْتَكْبِرْ فَسَیَحْشُرُهُمْ اِلَیْهِ جَمِیْعًا ۟

মসীহ কখনো আল্লাহর বান্দা হতে হেয় মনে করে না এবং ঘনিষ্ঠ ফিরিশতাগণও করে না।(৬২) আর যারা তাঁর ইবাদাতকে হেয় জ্ঞান করে এবং অহংকার করে, তবে তিনি অচিরেই তাদের সবাইকে তাঁর কাছে একত্র করবেন(৬৩)।

4:173

فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَیُوَفِّیْهِمْ اُجُوْرَهُمْ وَیَزِیْدُهُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ ۚ— وَاَمَّا الَّذِیْنَ اسْتَنْكَفُوْا وَاسْتَكْبَرُوْا فَیُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا ۙ۬— وَّلَا یَجِدُوْنَ لَهُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیْرًا ۟

পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদেরকে তাদের পুরস্কার পরিপূর্ণ দিবেন এবং তাঁর দয়া ও করুণায় তাদের সাওয়াব আরো বাড়িয়ে দিবেন। আর যারা হেয় জ্ঞান করেছে এবং অহংকার করেছে, তিনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন এবং তারা তাদের জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।

4:174

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَكُمْ بُرْهَانٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَاَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكُمْ نُوْرًا مُّبِیْنًا ۟

হে মানুষরা! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট উজ্জ্বল প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের নিকট স্পষ্ট আলো নাযিল করেছি।

4:175

فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَاعْتَصَمُوْا بِهٖ فَسَیُدْخِلُهُمْ فِیْ رَحْمَةٍ مِّنْهُ وَفَضْلٍ ۙ— وَّیَهْدِیْهِمْ اِلَیْهِ صِرَاطًا مُّسْتَقِیْمًا ۟ؕ

সুতরাং যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে, তাদেরকে তিনি অবশ্যই তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করাবেন এবং তাদেরকে তিনি তাঁর দিকে আসার সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।

4:176

یَسْتَفْتُوْنَكَ ؕ— قُلِ اللّٰهُ یُفْتِیْكُمْ فِی الْكَلٰلَةِ ؕ— اِنِ امْرُؤٌا هَلَكَ لَیْسَ لَهٗ وَلَدٌ وَّلَهٗۤ اُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ ۚ— وَهُوَ یَرِثُهَاۤ اِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّهَا وَلَدٌ ؕ— فَاِنْ كَانَتَا اثْنَتَیْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثٰنِ مِمَّا تَرَكَ ؕ— وَاِنْ كَانُوْۤا اِخْوَةً رِّجَالًا وَّنِسَآءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْاُنْثَیَیْنِ ؕ— یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اَنْ تَضِلُّوْا ؕ— وَاللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ ۟۠

তারা তোমার কাছে সমাধান চায়। বল: ‘আল্লাহ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন ‘কালালা’ (৬৪) সম্পর্কে। কোন পুরুষ যদি মারা যায়, সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তার এক বোন থাকে, তবে তার বোনের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক। আর সে মহিলা যদি সন্তানহীনা হয়, তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু যদি দুই বোন থাকে, তবে তাদের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ভাগ। আর যদি ভাই-বোন উভয়ে থাকে, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান। আল্লাহ তোমাদেরকে সুস্পষ্ট বিধান দিচ্ছেন, যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। আর আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সবিশেষ অবগত।’

Sources: Bangla translation: Rowwad Translation Center, QuranEnc.com — quranenc.com (fetched 2026-10-18) Hanafi font: DigitalKhatt IndoPak © Amine Anane, Tarteel Inc. (SIL OFL 1.1) — github.com (downloaded 2026-10-18) Madinah font: AlQuran-IndoPak by QuranWBW — github.com (v4.2.2) Quran text (Hanafi): Quranic Universal Library (QUL) by Tarteel — qul.tarteel.ai (downloaded 2026-10-18) Quran text (Madinah): Ayman Siddiqui & R. Siddiqua, QuranWBW.com / Quran.com — github.com (v9.6.1) Surah and para data: Tanzil.net (CC BY 3.0) — tanzil.net (1.0) Recitation: Abdur-Rahman as-Sudais — everyayah.com Recitation: Mishary Rashid Alafasy — everyayah.com Recitation: Abdul Basit Abdus-Samad (Murattal) — everyayah.com

The Quran between work — inside KarbarX

Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.

Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time