نٓ وَالْقَلَمِ وَمَا یَسْطُرُوْنَ ۟ۙ
নূন; কলমের শপথ এবং তারা (মানুষ কলম দিয়ে) যা লিখে, তার শপথ!
The Pen · 52 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
نٓ وَالْقَلَمِ وَمَا یَسْطُرُوْنَ ۟ۙ
নূন; কলমের শপথ এবং তারা (মানুষ কলম দিয়ে) যা লিখে, তার শপথ!
مَاۤ اَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُوْنٍ ۟ۚ
(হে রাসূল!) তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি পাগল নও।
وَاِنَّ لَكَ لَاَجْرًا غَیْرَ مَمْنُوْنٍ ۟ۚ
আর (১) নিশ্চয় তোমার জন্য রয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।
وَاِنَّكَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیْمٍ ۟
আর নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
فَسَتُبْصِرُ وَیُبْصِرُوْنَ ۟ۙ
অতঃপর শীঘ্রই তুমি দেখতে পাবে এবং (মিথ্যারোপকারী) তারাও দেখতে পাবে-
بِاَیِّىكُمُ الْمَفْتُوْنُ ۟
তোমাদের মধ্যে কে পাগল!
اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ ۪— وَهُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ ۟
নিশ্চয় তোমার রব সম্যক পরিজ্ঞাত তাদের ব্যাপারে, যারা তাঁর সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত।
فَلَا تُطِعِ الْمُكَذِّبِیْنَ ۟
কাজেই তুমি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করো না।
وَدُّوْا لَوْ تُدْهِنُ فَیُدْهِنُوْنَ ۟
তারা কামনা করে, যদি তুমি তাদের সাথে আপোষকামী হও, তবে তারাও তোমার সাথে আপোষকারী হবে।
وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَّهِیْنٍ ۟ۙ
আর তুমি (বাতিলের পক্ষে) অধিক শপথকারী, প্রত্যেক লাঞ্ছিত ব্যক্তির অনুসরণ করো না।
هَمَّازٍ مَّشَّآءٍ بِنَمِیْمٍ ۟ۙ
যে পিছনে নিন্দাকারী ও চোগলখুরী করে বেড়ায়,
مَّنَّاعٍ لِّلْخَیْرِ مُعْتَدٍ اَثِیْمٍ ۟ۙ
ভালো কাজে বাধাদানকারী, সীমালঙ্ঘনকারী পাপিষ্ঠ,
عُتُلٍّۢ بَعْدَ ذٰلِكَ زَنِیْمٍ ۟ۙ
রূঢ় স্বভাবের, তদুপরি জারজ।
اَنْ كَانَ ذَا مَالٍ وَّبَنِیْنَ ۟ؕ
(২) এ কারণে যে, সে ছিল ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির অধিকারী।
اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِ اٰیٰتُنَا قَالَ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ ۟
যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, ‘এগুলো পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনীমাত্র’।
سَنَسِمُهٗ عَلَی الْخُرْطُوْمِ ۟
অচিরেই আমি তার শুঁড়ের (নাকের) ওপর দাগ দিয়ে (বিশ্রী করে) দিবো।
اِنَّا بَلَوْنٰهُمْ كَمَا بَلَوْنَاۤ اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ ۚ— اِذْ اَقْسَمُوْا لَیَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِیْنَ ۟ۙ
নিশ্চয় আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে আমি পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদেরকে; যখন তারা এই বলে শপথ করেছিল যে, অবশ্যই তারা সকাল বেলা বাগানের ফল আহরণ করবে।
وَلَا یَسْتَثْنُوْنَ ۟
আর তারা (শপথ করার সময়) ‘ইন শা ‘ আল্লাহ’ বলেনি।
فَطَافَ عَلَیْهَا طَآىِٕفٌ مِّنْ رَّبِّكَ وَهُمْ نَآىِٕمُوْنَ ۟
অতঃপর তোমার রবের পক্ষ থেকে (রাতের বেলা) সে বাগানে এক বিপর্যয় (আগুন) এসে পড়ল, তখন তারা ছিল ঘুমন্ত।
فَاَصْبَحَتْ كَالصَّرِیْمِ ۟ۙ
ফলে তা (পুড়ে) কালো বর্ণের হয়ে গেল।
فَتَنَادَوْا مُصْبِحِیْنَ ۟ۙ
তারপর সকাল হতেই তারা একে অপরকে ডেকে বলল:
اَنِ اغْدُوْا عَلٰی حَرْثِكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰرِمِیْنَ ۟
‘তোমরা যদি (সত্যিই) ফল আহরণ করতে চাও, তাহলে সকাল সকাল তোমাদের বাগানে চলো।’
فَانْطَلَقُوْا وَهُمْ یَتَخَافَتُوْنَ ۟ۙ
তারপর তারা নিম্নস্বরে একথা বলতে বলতে (বাগানের দিকে) চলতে লাগলো,
اَنْ لَّا یَدْخُلَنَّهَا الْیَوْمَ عَلَیْكُمْ مِّسْكِیْنٌ ۟ۙ
(যাতে) ‘আজ সেখানে তোমাদের কাছে যেন কোন অভাবী প্রবেশ করতে না পারে।’
وَّغَدَوْا عَلٰی حَرْدٍ قٰدِرِیْنَ ۟
আর তারা ভোর বেলা (৩) দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাগানে গেল।
فَلَمَّا رَاَوْهَا قَالُوْۤا اِنَّا لَضَآلُّوْنَ ۟ۙ
তারপর তারা যখন (ভস্মীভূত অবস্থায়) বাগানটি দেখল, তখন তারা বলল, ‘অবশ্যই আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি।’
بَلْ نَحْنُ مَحْرُوْمُوْنَ ۟
‘বরং (৪) আমরা তো বঞ্চিত।’
قَالَ اَوْسَطُهُمْ اَلَمْ اَقُلْ لَّكُمْ لَوْلَا تُسَبِّحُوْنَ ۟
তাদের মধ্যকার ভালো ব্যক্তিটি বললো: ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা কেন আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করছ না (৫) ?’
قَالُوْا سُبْحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ ۟
তারা বললো: ‘আমরা আমাদের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমরা (৬)যালিম ছিলাম।’
فَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَلَاوَمُوْنَ ۟
তারপর তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল।
قَالُوْا یٰوَیْلَنَاۤ اِنَّا كُنَّا طٰغِیْنَ ۟
তারা বললো: ‘হায়, আমাদের ধ্বংস! নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম।’
عَسٰی رَبُّنَاۤ اَنْ یُّبْدِلَنَا خَیْرًا مِّنْهَاۤ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا رٰغِبُوْنَ ۟
আশা করা যায়, আমাদের রব (এ বাগানের পরিবর্তে) আমাদেরকে এর চেয়েও উৎকৃষ্টতর বিনিময় দিবেন। অবশ্যই আমরা আমাদের রবের অভিমুখী হওয়ার এবং তার কাছে (ক্ষমার) আশাবাদী।
كَذٰلِكَ الْعَذَابُ ؕ— وَلَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَكْبَرُ ۘ— لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ ۟۠
(যারা আমার অবাধ্য হয় তাদেরকে) এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি। আর পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরো মারাত্মক; যদি তারা জানত।
اِنَّ لِلْمُتَّقِیْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ ۟
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে নি‘আমতপূর্ণ জান্নাত।
اَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِیْنَ كَالْمُجْرِمِیْنَ ۟ؕ
তবে কি আমি মুসলিমদেরকে অপরাধীদের (কাফিরদের) মতই গণ্য করবো?(৭)
مَا لَكُمْ ۫— كَیْفَ تَحْكُمُوْنَ ۟ۚ
হে মুশরিকরা! তোমাদের কী হল, তোমরা কিভাবে (এ অবিচারমূলক) ফয়সালা করছো?
اَمْ لَكُمْ كِتٰبٌ فِیْهِ تَدْرُسُوْنَ ۟ۙ
তোমাদের কাছে কি কোন কিতাব আছে, যাতে তোমরা (৮) পাঠ করছ?
اِنَّ لَكُمْ فِیْهِ لَمَا تَخَیَّرُوْنَ ۟ۚ
নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে, তোমরা যা পছন্দ করো ?
اَمْ لَكُمْ اَیْمَانٌ عَلَیْنَا بَالِغَةٌ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ ۙ— اِنَّ لَكُمْ لَمَا تَحْكُمُوْنَ ۟ۚ
অথবা তোমাদের জন্য কি আমার ওপর কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ এমন কোন পাকাপোক্ত অঙ্গীকার রয়েছে যে, তোমরা তাই পাবে, যা তোমরা ফয়সালা করবে?
سَلْهُمْ اَیُّهُمْ بِذٰلِكَ زَعِیْمٌ ۟ۚۛ
হে রাসূল! তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো, এ ব্যাপারে কে যিম্মাদার?
اَمْ لَهُمْ شُرَكَآءُ ۛۚ— فَلْیَاْتُوْا بِشُرَكَآىِٕهِمْ اِنْ كَانُوْا صٰدِقِیْنَ ۟
অথবা তাদের জন্য কি (আল্লাহ ছাড়া) অনেক শরীক (মনগড়া উপাস্যরা) আছে?(৯) তাহলে তারা তাদের শরীকদেরকে উপস্থিত করুক; যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে।
یَوْمَ یُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَّیُدْعَوْنَ اِلَی السُّجُوْدِ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ ۟ۙ
সেদিন (মহান আল্লাহর) পায়ের গোছা উন্মোচন করা হবে। আর মানুষকে সাজদাহ করার জন্য ডাকা হবে; কিন্তু তারা (মুনাফিক ও কাফিররা) সাজদাহ করতে সক্ষম হবে না।
خَاشِعَةً اَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ؕ— وَقَدْ كَانُوْا یُدْعَوْنَ اِلَی السُّجُوْدِ وَهُمْ سٰلِمُوْنَ ۟
তাদের চক্ষুসমূহ অবনত অবস্থায় থাকবে, অপমান তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে; অথচ তাদেরকে তো (দুনিয়াতে) সুস্থ-নিরাপদ অবস্থায় সাজদাহ করার জন্য ডাকা হতো (তখন তো তারা সাজদাহ করেনি) ।
فَذَرْنِیْ وَمَنْ یُّكَذِّبُ بِهٰذَا الْحَدِیْثِ ؕ— سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَیْثُ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟ۙ
অতএব, আমাকে এবং যারা এ বাণীকে মিথ্যা বলে তাদেরকে ছেড়ে দাও। আমি তাদেরকে ধাপে ধাপে এমনভাবে (শাস্তির দিকে) নিয়ে যাব যে, তারা টেরও পাবে না।
وَاُمْلِیْ لَهُمْ ؕ— اِنَّ كَیْدِیْ مَتِیْنٌ ۟
আমি তাদেরকে কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দেই। অবশ্যই আমার কৌশল অত্যন্ত শক্তিশালী।
اَمْ تَسْـَٔلُهُمْ اَجْرًا فَهُمْ مِّنْ مَّغْرَمٍ مُّثْقَلُوْنَ ۟ۚ
হে রাসূল! তুমি কি তাদের কাছে (সত্যের দিকে আহ্বানের বিনিময়ে) পারিশ্রমিক চাচ্ছ? ফলে তারা ঋণের কারণে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে!
اَمْ عِنْدَهُمُ الْغَیْبُ فَهُمْ یَكْتُبُوْنَ ۟
নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে? ফলে তারা (নিজেদের পছন্দ মতো) তা লিখে রাখছে।
فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُنْ كَصَاحِبِ الْحُوْتِ ۘ— اِذْ نَادٰی وَهُوَ مَكْظُوْمٌ ۟ؕ
অতএব, (হে রাসূল!) তুমি তোমার রবের ফয়সালার জন্য ধৈর্যধারণ করো। আর মাছের সঙ্গী (ইউনুস)-এর মতো হয়ো না, যখন সে অন্তরবেদনায় অবদমিত অবস্থায় তার রবকে ডেকেছিল।
لَوْلَاۤ اَنْ تَدٰرَكَهٗ نِعْمَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ لَنُبِذَ بِالْعَرَآءِ وَهُوَ مَذْمُوْمٌ ۟
যদি তার রবের অনুগ্রহ তার কাছে না পৌঁছত, তাহলে সে নিন্দিত অবস্থায় উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হতো।
فَاجْتَبٰىهُ رَبُّهٗ فَجَعَلَهٗ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟
তারপর তার রব তাকে (পুনরায়) মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।
وَاِنْ یَّكَادُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَیُزْلِقُوْنَكَ بِاَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَیَقُوْلُوْنَ اِنَّهٗ لَمَجْنُوْنٌ ۟ۘ
আর কাফিররা যখন এ উপদেশবাণী (আল-কুরআন) শোনে, তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টির দ্বারা তোমাকে ফেলে দিতেই উদ্যত হয়। আর তারা বলে, ‘সে তো অবশ্যই এক পাগল।’
وَمَا هُوَ اِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعٰلَمِیْنَ ۟۠
আর এ আল-কুরআন তো সৃষ্টিকুলের জন্য শুধুই উপদেশবাণী।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time