KarbarX
বাংলা Free trial

7. Al-A'raaf الأعراف

The Heights · 206 ayahs

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟

7:1

الٓمّٓصٓ ۟ۚ

আলিফ, লাম, মীম, সোয়াদ।

7:2

كِتٰبٌ اُنْزِلَ اِلَیْكَ فَلَا یَكُنْ فِیْ صَدْرِكَ حَرَجٌ مِّنْهُ لِتُنْذِرَ بِهٖ وَذِكْرٰی لِلْمُؤْمِنِیْنَ ۟

এটি কিতাব, যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তার সম্পর্কে তোমার অন্তরে যেন কোন সঙ্কীর্ণতা ও সন্দেহ না থাকে, যাতে তুমি এর দ্বারা সতর্ক করতে পারো এবং এটি মু’মিনদের জন্য উপদেশ।

7:3

اِتَّبِعُوْا مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءَ ؕ— قَلِیْلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَ ۟

(হে মানুষ!) তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে (আল্লাহকে) ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবকরূপে অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।

7:4

وَكَمْ مِّنْ قَرْیَةٍ اَهْلَكْنٰهَا فَجَآءَهَا بَاْسُنَا بَیَاتًا اَوْ هُمْ قَآىِٕلُوْنَ ۟

আর এমন বহু জনপদ রয়েছে, যা আমি (শাস্তির মাধ্যমে) ধ্বংস করে দিয়েছি। (যখনই তারা কুফরি ও ভ্রষ্টতার ওপর অটল ছিল) তখনই আমার শাস্তি রাতে অথবা দুপুরে তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল, যখন তারা বিশ্রাম করছিল।

7:5

فَمَا كَانَ دَعْوٰىهُمْ اِذْ جَآءَهُمْ بَاْسُنَاۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْۤا اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ ۟

অতঃপর যখন আমার শাস্তি তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল, তখন তাদের মুখে শুধু এ কথাই ছিল যে, ‘অবশ্যই আমরা যালিম ছিলাম।’

7:6

فَلَنَسْـَٔلَنَّ الَّذِیْنَ اُرْسِلَ اِلَیْهِمْ وَلَنَسْـَٔلَنَّ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۙ

অতঃপর আমি (কিয়ামতের দিন) অবশ্যই যাদের কাছে রাসূল পাঠানো হয়েছিল তাদেরকে জিজ্ঞেস করব(১) এবং অবশ্যই রাসূলগণকেও জিজ্ঞেস করব।(২)

7:7

فَلَنَقُصَّنَّ عَلَیْهِمْ بِعِلْمٍ وَّمَا كُنَّا غَآىِٕبِیْنَ ۟

অতঃপর অবশ্যই আমি তাদের কাছে পূর্ণ জ্ঞানের সাথে তাদের কাজগুলো বর্ণনা করব। আর আমি তো তাদের নিকট থেকে অনুপস্থিতও ছিলাম না।

7:8

وَالْوَزْنُ یَوْمَىِٕذِ ١لْحَقُّ ۚ— فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ۟

আর সেদিন পরিমাপ হবে যথাযথ। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম।

7:9

وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَظْلِمُوْنَ ۟

আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই হবে সেই সব লোক, যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি যুলম করত।

7:10

وَلَقَدْ مَكَّنّٰكُمْ فِی الْاَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِیْهَا مَعَایِشَ ؕ— قَلِیْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ ۟۠

আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে জমিনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং সেখানে তোমাদের জন্যে জীবনোপকরণসমূহ তৈরি করে দিয়েছি। অথচ তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।

7:11

وَلَقَدْ خَلَقْنٰكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنٰكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ ۖۗ— فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ— لَمْ یَكُنْ مِّنَ السّٰجِدِیْنَ ۟

আর অবশ্যই আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে (তোমাদের আদি পিতা আদমকে) সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদের আকৃতি দিয়েছি। তারপর ফিরিশতাদেরকে বলেছি: ‘তোমরা আদমকে সাজদা করো।’ অতঃপর তারা সকলেই সাজদা করল ইবলিস ছাড়া। সে (অহংকার ও হঠকারিতাবশত) সাজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

7:12

قَالَ مَا مَنَعَكَ اَلَّا تَسْجُدَ اِذْ اَمَرْتُكَ ؕ— قَالَ اَنَا خَیْرٌ مِّنْهُ ۚ— خَلَقْتَنِیْ مِنْ نَّارٍ وَّخَلَقْتَهٗ مِنْ طِیْنٍ ۟

তিনি বললেন, (হে ইবলিস!) আমি যখন তোমাকে আদেশ করেছিলাম, তখন সাজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? সে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে।

7:13

قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا یَكُوْنُ لَكَ اَنْ تَتَكَبَّرَ فِیْهَا فَاخْرُجْ اِنَّكَ مِنَ الصّٰغِرِیْنَ ۟

তিনি বললেন: ‘তাহলে তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও, এখানে থেকে অহংকার করার কোনো অধিকার তোমার নেই। সুতরাং তুমি বের হয়ে যাও। নিশ্চয় তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত।’

7:14

قَالَ اَنْظِرْنِیْۤ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ ۟

ইবলিস বললো: ‘ আমাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন।’

7:15

قَالَ اِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِیْنَ ۟

আল্লাহ বললেন: ‘ নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।’(৩)

7:16

قَالَ فَبِمَاۤ اَغْوَیْتَنِیْ لَاَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِیْمَ ۟ۙ

সে বলল: ‘আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সরল সঠিক পথে বসে থাকব।’

7:17

ثُمَّ لَاٰتِیَنَّهُمْ مِّنْ بَیْنِ اَیْدِیْهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ اَیْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَآىِٕلِهِمْ ؕ— وَلَا تَجِدُ اَكْثَرَهُمْ شٰكِرِیْنَ ۟

‘তারপর অবশ্যই আমি তাদের কাছে আসব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পিছন থেকে, তাদের ডানদিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে(৪) এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে অকৃতজ্ঞ পাবেন।’

7:18

قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُوْمًا مَّدْحُوْرًا ؕ— لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَاَمْلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ اَجْمَعِیْنَ ۟

আল্লাহ বললেন: ‘তুমি লাঞ্ছিত আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত অবস্থায় এখান (জান্নাত) থেকে বের হয়ে যাও । অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে যে তোমার অনুসরণ করবে, আমি তোমাদের সবাইকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম ভরে দিবো।’

7:19

وَیٰۤاٰدَمُ اسْكُنْ اَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَیْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُوْنَا مِنَ الظّٰلِمِیْنَ ۟

আর ‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো। অতঃপর সেখানকার হতে যা ইচ্ছা তা খাও; কিন্তু এ গাছের ধারে–কাছেও যেও না, তাহলে তোমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’

7:20

فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّیْطٰنُ لِیُبْدِیَ لَهُمَا مَا وٗرِیَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْاٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهٰىكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَا مَلَكَیْنِ اَوْ تَكُوْنَا مِنَ الْخٰلِدِیْنَ ۟

তারপর শয়তান তাদের দুজনকে কুমন্ত্রণা দিল, যাতে তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। আর সে বলল: ‘তোমাদের রব তোমাদেরকে এ গাছকে নিষিদ্ধ করেছেন, কারণ তোমরা উভয় ফিরিশতা হয়ে না যাও কিংবা তোমরা স্থায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে না পড়ো।’

7:21

وَقَاسَمَهُمَاۤ اِنِّیْ لَكُمَا لَمِنَ النّٰصِحِیْنَ ۟ۙ

আর সে আল্লাহর শপথ করে বলল: ‘ নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের জন্য কল্যাণকামীদের একজন।’

7:22

فَدَلّٰىهُمَا بِغُرُوْرٍ ۚ— فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْاٰتُهُمَا وَطَفِقَا یَخْصِفٰنِ عَلَیْهِمَا مِنْ وَّرَقِ الْجَنَّةِ ؕ— وَنَادٰىهُمَا رَبُّهُمَاۤ اَلَمْ اَنْهَكُمَا عَنْ تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَاَقُلْ لَّكُمَاۤ اِنَّ الشَّیْطٰنَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ ۟

অতঃপর শয়তান তাদের উভয়কে ধোঁকার মাধ্যমে তাদেরকে তাদের পূর্বের সম্মানজনক অবস্থান থেকে নিচে নামিয়ে আনল। এরপর তারা উভয়ে যখন সে গাছের ফল খেলো, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের পরস্পরের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান আবৃত করতে লাগল। তখন তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললেন: ‘আমি কি তোমাদের জন্য এ গাছকে নিষিদ্ধ করিনি এবং আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় শয়তান তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য শত্রু?।’

7:23

قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا ٚ— وَاِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ ۟

তারা বলল: ‘হে আমাদের রব ! আমরা নিজেদের প্রতি যুলম করছি। আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তাহলে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’

7:24

قَالَ اهْبِطُوْا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۚ— وَلَكُمْ فِی الْاَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَّمَتَاعٌ اِلٰی حِیْنٍ ۟

আল্লাহ বললেন: ‘তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অন্যের শত্রু। পৃথিবীতে তোমাদের কিছুদিনের জন্য বসবাস ও জীবিকার ব্যবস্থা থাকবে।’

7:25

قَالَ فِیْهَا تَحْیَوْنَ وَفِیْهَا تَمُوْتُوْنَ وَمِنْهَا تُخْرَجُوْنَ ۟۠

তিনি বললেন: ‘ তোমরা সেখানেই জীবন যাপন করবে এবং সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে। আর সেখান থেকেই তোমাদেরকে বের করা হবে।’

7:26

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ قَدْ اَنْزَلْنَا عَلَیْكُمْ لِبَاسًا یُّوَارِیْ سَوْاٰتِكُمْ وَرِیْشًا ؕ— وَلِبَاسُ التَّقْوٰی ۙ— ذٰلِكَ خَیْرٌ ؕ— ذٰلِكَ مِنْ اٰیٰتِ اللّٰهِ لَعَلَّهُمْ یَذَّكَّرُوْنَ ۟

‘হে আদম সন্তান! অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি, তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য ও সাজসজ্জার ও শোভাবর্ধক হিসেবে। আর তাকওয়ার পোষাক, এটাই উত্তম। এটা আল্লাহর নিদর্শসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

7:27

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ لَا یَفْتِنَنَّكُمُ الشَّیْطٰنُ كَمَاۤ اَخْرَجَ اَبَوَیْكُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ یَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِیُرِیَهُمَا سَوْاٰتِهِمَا ؕ— اِنَّهٗ یَرٰىكُمْ هُوَ وَقَبِیْلُهٗ مِنْ حَیْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ ؕ— اِنَّا جَعَلْنَا الشَّیٰطِیْنَ اَوْلِیَآءَ لِلَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ ۟

‘হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে(৫), যেভাবে সে তোমাদের পিতামাতাকেজান্নাত থেকে বের করেছিল। সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাবার জন্য বিবস্ত্র করেছিল। নিশ্চয় সে ও তার বংশধররা তোমাদেরকে দেখতে পায়, যেখানে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। নিশ্চয় আমি শয়তানদেরকে তাদের অভিভাবক বানিয়েছি, যারা ঈমান আনায়ন করে না।’

7:28

وَاِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً قَالُوْا وَجَدْنَا عَلَیْهَاۤ اٰبَآءَنَا وَاللّٰهُ اَمَرَنَا بِهَا ؕ— قُلْ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَاْمُرُ بِالْفَحْشَآءِ ؕ— اَتَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۟

আর যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে(৬), তখন বলে: ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এর ওপর পেয়েছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এরই নির্দেশ দিয়েছেন।’ ‘ বলে দাও: আল্লাহ অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহ সম্বদ্ধে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না।’

7:29

قُلْ اَمَرَ رَبِّیْ بِالْقِسْطِ ۫— وَاَقِیْمُوْا وُجُوْهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَّادْعُوْهُ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ؕ۬— كَمَا بَدَاَكُمْ تَعُوْدُوْنَ ۟ؕ

বলো: ‘আমার রব আমাকে ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন।’(৭) আর তোমরা প্রত্যেক মসজিদে তোমাদের লক্ষ্য একমাত্র আল্লাহকেই নির্ধারণ করো এবং তাঁকে খাঁটি আনুগত্যের ভিত্তিতে এককভাবে ডাকো। তিনি যেভাবে তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, তোমরা সেভাবেই ফিরে আসবে।’

7:30

فَرِیْقًا هَدٰی وَفَرِیْقًا حَقَّ عَلَیْهِمُ الضَّلٰلَةُ ؕ— اِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّیٰطِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَیَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ ۟

একদলকে তিনি হিদায়াত করেছেন। আর আরেক দলের ওপর ভ্রষ্টতা নির্ধারিত হয়ে গেছে। নিশ্চয় তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে তাদের অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে এবং তারা ধারণা করছে যে, তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।

7:31

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِیْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَّكُلُوْا وَاشْرَبُوْا وَلَا تُسْرِفُوْا ؕۚ— اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُسْرِفِیْنَ ۟۠

হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক মসজিদের সময় সুন্দর সাজে সুসজ্জিত হও। আর তোমরা খাও ও পান করো; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।

7:32

قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِیْنَةَ اللّٰهِ الَّتِیْۤ اَخْرَجَ لِعِبَادِهٖ وَالطَّیِّبٰتِ مِنَ الرِّزْقِ ؕ— قُلْ هِیَ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا خَالِصَةً یَّوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ— كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ ۟

বলো: ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের জন্যে যেসব সৌন্দর্য সামগ্রী এবং পবিত্র রিযক সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো কে হারাম করেছে?’ তুমি বলো: ‘দুনিয়ার জীবনে এসব জিনিস ঈমানদারদের জন্যে (যদিও কাফিররা তাতে অংশীদার হয়), তবে তা কিয়ামতের দিন তাদের জন্যেই নির্দিষ্ট থাকবে।’ এভাবেই আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি।’

7:33

قُلْ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّیَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْاِثْمَ وَالْبَغْیَ بِغَیْرِ الْحَقِّ وَاَنْ تُشْرِكُوْا بِاللّٰهِ مَا لَمْ یُنَزِّلْ بِهٖ سُلْطٰنًا وَّاَنْ تَقُوْلُوْا عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۟

তুমি বল: ‘নিশ্চয় আমার রব হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, সকল প্রকারের গুনাহের কাজ, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করা, কোনো কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক করা-যার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি এবং না জেনে-বুঝে আল্লাহরব্যাপারে তাঁর উপর মিথ্যারোপ করা।’

7:34

وَلِكُلِّ اُمَّةٍ اَجَلٌ ۚ— فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ لَا یَسْتَاْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا یَسْتَقْدِمُوْنَ ۟

আর প্রত্যেক জাতির রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়। অতঃপর যখন তাদের সময় আসবে, তখন তারা মুহূর্তকালও বিলম্ব করতে পারবে না এবং এগিয়েও আনতে পারবে না।

7:35

یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ اِمَّا یَاْتِیَنَّكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ یَقُصُّوْنَ عَلَیْكُمْ اٰیٰتِیْ ۙ— فَمَنِ اتَّقٰی وَاَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ ۟

হে আদম সন্তান! যখন তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ এসে আমার আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করবে(৮), তখন যারা তাঁকে ভয় করবে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করবে, (কিয়ামতের দিন) তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

7:36

وَالَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَاسْتَكْبَرُوْا عَنْهَاۤ اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ— هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۟

তবে যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করবে এবং অহংকারবশত তার থেকে বিরত থাকবে, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

7:37

فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ كَذَّبَ بِاٰیٰتِهٖ ؕ— اُولٰٓىِٕكَ یَنَالُهُمْ نَصِیْبُهُمْ مِّنَ الْكِتٰبِ ؕ— حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتْهُمْ رُسُلُنَا یَتَوَفَّوْنَهُمْ ۙ— قَالُوْۤا اَیْنَ مَا كُنْتُمْ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ— قَالُوْا ضَلُّوْا عَنَّا وَشَهِدُوْا عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ اَنَّهُمْ كَانُوْا كٰفِرِیْنَ ۟

সুতরাং তার চেয়ে বড় যালিম আর কে, যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রটনা করে(৯) কিংবা তাঁর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে? তাদের জন্য যে অংশ লেখা আছে, তা তাদের কাছে পৌঁছবে। অবশেষে যখন আমার ফিরিশতাগণ তাদের জান কবজের জন্য তাদের কাছে আসবে, তখন তারা জিজ্ঞেস করবে: ‘আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে, তারা এখন কোথায়?' তারা বলবে: ‘তারা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে।’ আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় তারা কাফির ছিল।

7:38

قَالَ ادْخُلُوْا فِیْۤ اُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ فِی النَّارِ ؕ— كُلَّمَا دَخَلَتْ اُمَّةٌ لَّعَنَتْ اُخْتَهَا ؕ— حَتّٰۤی اِذَا ادَّارَكُوْا فِیْهَا جَمِیْعًا ۙ— قَالَتْ اُخْرٰىهُمْ لِاُوْلٰىهُمْ رَبَّنَا هٰۤؤُلَآءِ اَضَلُّوْنَا فَاٰتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ ؕ۬— قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَّلٰكِنْ لَّا تَعْلَمُوْنَ ۟

আল্লাহ বলবেন: ‘তোমাদের আগে যে জিন ও মানবজাতি গত হয়েছে, তাদের সাথে তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ করো।’ যখনই কোনো একদল তাতে প্রবেশ করবে তখনই তারা অন্য দলকে অভিসম্পাত করবে। অবশেষে যখন সবাই তাতে একত্র হবে, তখন তাদের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবে: ‘হে আমাদের রব! এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। কাজেই এদেরকে দ্বিগুণ আগুনের শাস্তি দিন।’ আল্লাহ বলবেন: ‘প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি; কিন্তু তোমরা তা জান না।’

7:39

وَقَالَتْ اُوْلٰىهُمْ لِاُخْرٰىهُمْ فَمَا كَانَ لَكُمْ عَلَیْنَا مِنْ فَضْلٍ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْسِبُوْنَ ۟۠

আর তাদের পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে বলবে: ‘আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কাজেই তোমরা (কুফরি ও গুনাহের) যা অর্জন করেছিলে তার জন্য শাস্তি ভোগ করো ।

7:40

اِنَّ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَاسْتَكْبَرُوْا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ اَبْوَابُ السَّمَآءِ وَلَا یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتّٰی یَلِجَ الْجَمَلُ فِیْ سَمِّ الْخِیَاطِ ؕ— وَكَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُجْرِمِیْنَ ۟

নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে এবং তা সম্বন্ধে অহংকার করেছে, (তারা মারা গেলে) তাদের (রূহগুলোর) জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে (যা সম্পূর্ণ অসম্ভব)। আর এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দেই।

7:41

لَهُمْ مِّنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَّمِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ ؕ— وَكَذٰلِكَ نَجْزِی الظّٰلِمِیْنَ ۟

তাদের জন্যে থাকবে জাহান্নামের বিছানা এবং তাদের ওপরের আচ্ছাদনও। আর এভাবেই আমি যালিমদেরকে প্রতিফল দেই।

7:42

وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَاۤ ؗ— اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ ۚ— هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۟

পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে, বস্তুত আমি কারো ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত ভার চাপিয়ে দেই না। আর তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।

7:43

وَنَزَعْنَا مَا فِیْ صُدُوْرِهِمْ مِّنْ غِلٍّ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ ۚ— وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ هَدٰىنَا لِهٰذَا ۫— وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِیَ لَوْلَاۤ اَنْ هَدٰىنَا اللّٰهُ ۚ— لَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ ؕ— وَنُوْدُوْۤا اَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟

আর আমি তাদের অন্তরসমূহ থেকে হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে দিবো, তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ। আর তারা বলবে: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদেরকে এ পথের হিদায়াত দান করেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত না করলে, আমরা কখনো হিদায়াত পেতাম না। অবশ্যই আমাদের রবের প্রেরিত রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন।’ আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে: ‘তোমাদের নেক আমলের কারণে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকার করা হয়েছে।’

7:44

وَنَادٰۤی اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ اَصْحٰبَ النَّارِ اَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُّمْ مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا ؕ— قَالُوْا نَعَمْ ۚ— فَاَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَیْنَهُمْ اَنْ لَّعْنَةُ اللّٰهِ عَلَی الظّٰلِمِیْنَ ۟ۙ

আর জান্নাতবাসীগণ জাহান্নামীদেরকে ডেকে বলবে: ‘আমাদের রব আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমরা তা বাস্তবেও নিশ্চিতভাবে পেয়েছি। (হে কাফিররা!) তোমাদের রব তোমাদেরকে যে (জাহান্নামের) ওয়াদা দিয়েছিল, তোমরা কি তা বাস্তবে নিশ্চিতভাবে পেয়েছো?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর একজন ঘোষণাকারী তাদের মধ্যে ঘোষণা করবে: ‘যালিমদের ওপর আল্লাহর (স্থায়ী) অভিসম্পাত।

7:45

الَّذِیْنَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَیَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ۚ— وَهُمْ بِالْاٰخِرَةِ كٰفِرُوْنَ ۟ۘ

যারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করতো এবং তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়াতো(১০) এবং তারা ছিল, আখিরাতকে অস্বীকারকারী।’

7:46

وَبَیْنَهُمَا حِجَابٌ ۚ— وَعَلَی الْاَعْرَافِ رِجَالٌ یَّعْرِفُوْنَ كُلًّا بِسِیْمٰىهُمْ ۚ— وَنَادَوْا اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ اَنْ سَلٰمٌ عَلَیْكُمْ ۫— لَمْ یَدْخُلُوْهَا وَهُمْ یَطْمَعُوْنَ ۟

আর তাদের উভয়ের (জান্নাতী ও জাহান্নামীদের) মধ্যে পর্দা থাকবে। আর আ’রাফে(১১) কিছু লোক থাকবে, যারা (জান্নাতবাসী ও জাহান্নামী) প্রত্যেককে তাদের চিহ্ন দেখে চিনতে পারবে।(১২) আর তারা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে (সম্মানার্থে) বলবে: ‘তোমাদের ওপর সালাম তথা শান্তি বর্ষিত হোক।’ তারা তখনো জান্নাতে প্রবেশ করেনি; কিন্তু (আল্লাহর রহমতে সেখানে প্রবেশের) আশা করে।

7:47

وَاِذَا صُرِفَتْ اَبْصَارُهُمْ تِلْقَآءَ اَصْحٰبِ النَّارِ ۙ— قَالُوْا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ ۟۠

আর যখন আ‘রাফবাসীদের দৃষ্টি জাহান্নামবাসীদের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, তখন তারাবলবে: ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করবেন না।’

7:48

وَنَادٰۤی اَصْحٰبُ الْاَعْرَافِ رِجَالًا یَّعْرِفُوْنَهُمْ بِسِیْمٰىهُمْ قَالُوْا مَاۤ اَغْنٰی عَنْكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُوْنَ ۟

আর আ‘রাফের অধিবাসীরা এমন লোকদেরকে ডাকবে, যাদেরকে তারা তাদের চি‎‎হ্ন দ্বারা চিনবে, তারা তাদেরকে ডেকে বলবে: ‘তোমাদের প্রচুর সম্পদ ও জনবল এবং তোমাদের অহংকার কোনো কাজে আসল না।’

7:49

اَهٰۤؤُلَآءِ الَّذِیْنَ اَقْسَمْتُمْ لَا یَنَالُهُمُ اللّٰهُ بِرَحْمَةٍ ؕ— اُدْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَیْكُمْ وَلَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَ ۟

এরাই কি তারা যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করে বলতে যে, আল্লাহ তাদেরকে দয়া করবেন না? ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদের কোনো ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না।’

7:50

وَنَادٰۤی اَصْحٰبُ النَّارِ اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ اَنْ اَفِیْضُوْا عَلَیْنَا مِنَ الْمَآءِ اَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُ ؕ— قَالُوْۤا اِنَّ اللّٰهَ حَرَّمَهُمَا عَلَی الْكٰفِرِیْنَ ۟ۙ

আর জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে: ‘আমাদের ওপর কিছু পানি অথবা তোমাদেরকে আল্লাহ যে রিযক দিয়েছেন, তা ঢেলে দাও।’ তারা বলবে: ‘নিশ্চয় আল্লাহ তো এ দুটি কাফিরদের ওপর হারাম করেছেন।’

7:51

الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا دِیْنَهُمْ لَهْوًا وَّلَعِبًا وَّغَرَّتْهُمُ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا ۚ— فَالْیَوْمَ نَنْسٰىهُمْ كَمَا نَسُوْا لِقَآءَ یَوْمِهِمْ هٰذَا ۙ— وَمَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَجْحَدُوْنَ ۟

যারা তাদের দীনকে ঠাট্টার পাত্র ও খেল-তামাশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আর দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছিল। কাজেই আজ আমি তাদেরকে ভুলে যাবো, যেমনিভাবে তারা তাদের এ দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিলো। উপরন্তু তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল।

7:52

وَلَقَدْ جِئْنٰهُمْ بِكِتٰبٍ فَصَّلْنٰهُ عَلٰی عِلْمٍ هُدًی وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟

আর অবশ্যই আমি তাদের নিকট নিয়ে এসেছি এমন এক কিতাব যা আমি পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি এবং এটি মু’মিনদের জন্য পথনির্দেশনা ও রহমতস্বরূপ।

7:53

هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّا تَاْوِیْلَهٗ ؕ— یَوْمَ یَاْتِیْ تَاْوِیْلُهٗ یَقُوْلُ الَّذِیْنَ نَسُوْهُ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ ۚ— فَهَلْ لَّنَا مِنْ شُفَعَآءَ فَیَشْفَعُوْا لَنَاۤ اَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَیْرَ الَّذِیْ كُنَّا نَعْمَلُ ؕ— قَدْ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ۟۠

তারা কি শুধু সে পরিণামের অপেক্ষা করছে? যেদিন তার পরিণাম প্রকাশ হবে, সেদিন যারা আগে সেটার কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে: ‘আমাদের রবের রাসূলগণ তো সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের কি এমন কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে, কিংবা আমাদেরকে কি আবার ফেরত পাঠানো হবে, যেন আমরা আগে যা করতাম তা থেকে ভিন্ন আমল করতে পারি? অবশ্যই তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা যে মিথ্যা রটাত, তা তাদের থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

7:54

اِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ فِیْ سِتَّةِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ ۫— یُغْشِی الَّیْلَ النَّهَارَ یَطْلُبُهٗ حَثِیْثًا ۙ— وَّالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُوْمَ مُسَخَّرٰتٍ بِاَمْرِهٖ ؕ— اَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْاَمْرُ ؕ— تَبٰرَكَ اللّٰهُ رَبُّ الْعٰلَمِیْنَ ۟

(হে মানুষ!) নিশ্চয় তোমাদের রব তো তিনিই (আল্লাহ), যিনি আসমানসমূহ ও জমিন (পূর্ব নমুনা ছাড়াই) ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর ওঠেছেন। তিনিই দিনকে রাত দিয়ে ঢেকে দেন(১৩), তাদের একটি অন্যটিকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে(১৪)। আর সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি (তিনিই সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলো) তাঁরই হুকুমের অনুগত। জেনে রাখো, সৃষ্টিও তাঁর, আদেশও একমাত্র তাঁরই। সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ কত না বরকতময়!

7:55

اُدْعُوْا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَّخُفْیَةً ؕ— اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُعْتَدِیْنَ ۟ۚ

তোমরা তোমাদের রবকে ডাক অনুনয় বিনয় করে ও গোপনে। নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

7:56

وَلَا تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ بَعْدَ اِصْلَاحِهَا وَادْعُوْهُ خَوْفًا وَّطَمَعًا ؕ— اِنَّ رَحْمَتَ اللّٰهِ قَرِیْبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِیْنَ ۟

আর তোমরা জমিনে শান্তি স্থাপনের পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না এবং তাঁকে ডাক ভয় ও আশা নিয়ে। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের অতি নিকটে।

7:57

وَهُوَ الَّذِیْ یُرْسِلُ الرِّیٰحَ بُشْرًاۢ بَیْنَ یَدَیْ رَحْمَتِهٖ ؕ— حَتّٰۤی اِذَاۤ اَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنٰهُ لِبَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَنْزَلْنَا بِهِ الْمَآءَ فَاَخْرَجْنَا بِهٖ مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ— كَذٰلِكَ نُخْرِجُ الْمَوْتٰی لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ ۟

আর তিনিই তাঁর রহমত বর্ষণের আগে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রবাহিত করেন। অবশেষে যখন সেটা ভারী মেঘমালা ধারণ করে, তখন আমি সেটাকে মৃত জনপদের দিকে হাঁকিয়ে নেই। অতঃপর আমি তা দ্বারা বৃষ্টি বর্ষণ করি, তারপর তা দিয়ে সব রকমের ফল-ফসল উৎপাদন করি। এভাবেই আমি মৃতদেরকে বের করব। যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।

7:58

وَالْبَلَدُ الطَّیِّبُ یَخْرُجُ نَبَاتُهٗ بِاِذْنِ رَبِّهٖ ۚ— وَالَّذِیْ خَبُثَ لَا یَخْرُجُ اِلَّا نَكِدًا ؕ— كَذٰلِكَ نُصَرِّفُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّشْكُرُوْنَ ۟۠

আর উৎকৃষ্ট ভূমি থেকে তার রবের আদেশে ফসল উৎপন্ন হয়।(১৫) আর যা নিকৃষ্ট ভূমিতে কঠোর পরিশ্রম না করলে, কিছুই জন্মে না।(১৬) এভাবে আমি কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য (সত্যের পক্ষে) নিদর্শনসমূহ বিভিন্নভাবে বর্ণনা করি।

7:59

لَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِهٖ فَقَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ— اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْكُمْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟

অবশ্যই আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি বলেছিলেন: 'হে আমার সম্প্রদায়! এক আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর (কিয়ামতের) ভয়াবহ দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।’

7:60

قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِهٖۤ اِنَّا لَنَرٰىكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟

তার সম্প্রদায়ের নেতারা বলেছিল: ‘আমরা তো তোমাকে অবশ্যই সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।’

7:61

قَالَ یٰقَوْمِ لَیْسَ بِیْ ضَلٰلَةٌ وَّلٰكِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟

সে বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়, আমার মধ্যে কোন ভ্রষ্টতা নেই(১৭); বরং আমি তো সৃষ্টির রবের পক্ষ থেকে রাসূল।’

7:62

اُبَلِّغُكُمْ رِسٰلٰتِ رَبِّیْ وَاَنْصَحُ لَكُمْ وَاَعْلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۟

‘আমি তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাত (অহী) পৌঁছাচ্ছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি।(১৮) আর আমি আল্লাহর কাছ থেকে সেসব বিষয় জানি, যা তোমরা জানো না।’

7:63

اَوَعَجِبْتُمْ اَنْ جَآءَكُمْ ذِكْرٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ عَلٰی رَجُلٍ مِّنْكُمْ لِیُنْذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوْا وَلَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ ۟

‘তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছো যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেএক ব্যক্তির নিকট উপদেশ এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে (কঠিন শাস্তি হতে) সতর্ক করে, আর যাতে তোমরা তাঁকে ভয় করো এবং যাতে তোমরা (তাঁর প্রতি ঈমান এনে) রহমতপ্রাপ্ত হও’?

7:64

فَكَذَّبُوْهُ فَاَنْجَیْنٰهُ وَالَّذِیْنَ مَعَهٗ فِی الْفُلْكِ وَاَغْرَقْنَا الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ؕ— اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا عَمِیْنَ ۟۠

অতঃপর তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলো। ফলে আমি তাকে ও তার সাথে নৌকায় যারা ছিল, তাদেরকে রক্ষা করলাম। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করেছিল, তাদেরকে আমি ডুবিয়ে দেই। নিশ্চয় তারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায় ।

7:65

وَاِلٰی عَادٍ اَخَاهُمْ هُوْدًا ؕ— قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ— اَفَلَا تَتَّقُوْنَ ۟

আর ‘আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হূদকে প্রেরণ করলাম। সে বলল: ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তোমরা কি তাঁকে ভয় করবে না?(১৯)

7:66

قَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖۤ اِنَّا لَنَرٰىكَ فِیْ سَفَاهَةٍ وَّاِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكٰذِبِیْنَ ۟

তার সম্প্রদায়ের কাফির নেতৃবৃন্দরা বলল: ‘নিশ্চয় আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতায় দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা অবশ্যই তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি।’

7:67

قَالَ یٰقَوْمِ لَیْسَ بِیْ سَفَاهَةٌ وَّلٰكِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟

সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোন নির্বুদ্ধিতা নেই; বরং আমি সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল।’

7:68

اُبَلِّغُكُمْ رِسٰلٰتِ رَبِّیْ وَاَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ اَمِیْنٌ ۟

‘আমি তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাতসমূহ পৌঁছাচ্ছি। আর আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।’

7:69

اَوَعَجِبْتُمْ اَنْ جَآءَكُمْ ذِكْرٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ عَلٰی رَجُلٍ مِّنْكُمْ لِیُنْذِرَكُمْ ؕ— وَاذْكُرُوْۤا اِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَآءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوْحٍ وَّزَادَكُمْ فِی الْخَلْقِ بَصْۜطَةً ۚ— فَاذْكُرُوْۤا اٰلَآءَ اللّٰهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ۟

‘তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছো যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির নিকট উপদেশ বাণী এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে? আর তোমরা স্মরণ করো, যখন তিনি নূহের সম্প্রদায়ের পর তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং সৃষ্টিতে তোমাদেরকে অধিক হৃষ্ট-পুষ্ট ও বলিষ্ঠ করেছেন।(২০) সুতরাং তোমরা আল্লাহর নি‘আমতসমূহের কথা স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’

7:70

قَالُوْۤا اَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللّٰهَ وَحْدَهٗ وَنَذَرَ مَا كَانَ یَعْبُدُ اٰبَآؤُنَا ۚ— فَاْتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟

তারা বলল: ‘ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছো যে, আমরা যেন এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা যার ইবাদত করত তা ছেড়ে দেই? কাজেই তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ, তা নিয়ে এসো।’

7:71

قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَیْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ رِجْسٌ وَّغَضَبٌ ؕ— اَتُجَادِلُوْنَنِیْ فِیْۤ اَسْمَآءٍ سَمَّیْتُمُوْهَاۤ اَنْتُمْ وَاٰبَآؤُكُمْ مَّا نَزَّلَ اللّٰهُ بِهَا مِنْ سُلْطٰنٍ ؕ— فَانْتَظِرُوْۤا اِنِّیْ مَعَكُمْ مِّنَ الْمُنْتَظِرِیْنَ ۟

সে বললো: ‘নিশ্চয় তোমাদের ওপর তোমাদের রবের পক্ষ থেকে শাস্তি ও ক্রোধ নির্ধারিত হয়েই আছে। তোমরা কি আমার সাথে এমন নামসমূহের ব্যাপারে বিবাদ করছ, তোমরা যেগুলোকে নামকরণ করেছো, যার ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি? সুতরাং তোমরা অপেক্ষা করো। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।’

7:72

فَاَنْجَیْنٰهُ وَالَّذِیْنَ مَعَهٗ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَمَا كَانُوْا مُؤْمِنِیْنَ ۟۠

অবশেষে আমি তাকে ও তার সাথীদেরকে আমার বিশেষ রহমতে মুক্তি দান করেছি। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং যারা মু’মিন ছিল না, তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে মূলোৎপাটন করেছি।

7:73

وَاِلٰی ثَمُوْدَ اَخَاهُمْ صٰلِحًا ۘ— قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ— قَدْ جَآءَتْكُمْ بَیِّنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ ؕ— هٰذِهٖ نَاقَةُ اللّٰهِ لَكُمْ اٰیَةً فَذَرُوْهَا تَاْكُلْ فِیْۤ اَرْضِ اللّٰهِ وَلَا تَمَسُّوْهَا بِسُوْٓءٍ فَیَاْخُذَكُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟

আর ছামূদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহকে প্রেরণ করেছি। তিনি তাদেরকে বললেন: ‘হে আমার জাতি! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই। নিশ্চয় তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ(২১) এসেছে। এটি আল্লাহর উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন। সুতরাং তোমরা তাকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও(২২) এবং তাকে কোনো কষ্ট দিও না, দিলে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।’

7:74

وَاذْكُرُوْۤا اِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَآءَ مِنْ بَعْدِ عَادٍ وَّبَوَّاَكُمْ فِی الْاَرْضِ تَتَّخِذُوْنَ مِنْ سُهُوْلِهَا قُصُوْرًا وَّتَنْحِتُوْنَ الْجِبَالَ بُیُوْتًا ۚ— فَاذْكُرُوْۤا اٰلَآءَ اللّٰهِ وَلَا تَعْثَوْا فِی الْاَرْضِ مُفْسِدِیْنَ ۟

আর স্মরণ করো, যখন ‘আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং তোমাদেরকে জমিনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছো এবং পাহাড় কেটে বাড়িঘর বানাচ্ছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নি‘আমতসমূহ স্মরণ করো এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না।

7:75

قَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ لِلَّذِیْنَ اسْتُضْعِفُوْا لِمَنْ اٰمَنَ مِنْهُمْ اَتَعْلَمُوْنَ اَنَّ صٰلِحًا مُّرْسَلٌ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ— قَالُوْۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرْسِلَ بِهٖ مُؤْمِنُوْنَ ۟

তাঁর সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতারা সে সম্প্রদায়ের শক্তি-সামর্থ্যহীন মু’মিনদেরকে বললো: ‘ তোমরা কি এটা জানো যে, সালিহ তার রব এর পক্ষ থেকে (সত্যিকারার্থেই) প্রেরিত হয়েছেন?’ তারা বললো: ‘নিশ্চয় তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, আমরা তাতে বিশ্বাসী।(২৩)

7:76

قَالَ الَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْۤا اِنَّا بِالَّذِیْۤ اٰمَنْتُمْ بِهٖ كٰفِرُوْنَ ۟

তার সম্প্রদায়ের অহংকারীরা বললো: ‘নিশ্চয় তোমরা যার প্রতি ঈমান এনেছ, আমরা সেটাকে অস্বীকার করি।’

7:77

فَعَقَرُوا النَّاقَةَ وَعَتَوْا عَنْ اَمْرِ رَبِّهِمْ وَقَالُوْا یٰصٰلِحُ ائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الْمُرْسَلِیْنَ ۟

অতঃপর তারা সেই উষ্ট্রীকে হত্যা করে এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করে। উপরন্তু তারা বললো: ‘হে সালিহ! তুমি আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ, তা নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যিই রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকো?’

7:78

فَاَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَاَصْبَحُوْا فِیْ دَارِهِمْ جٰثِمِیْنَ ۟

অতঃপর তাদেরকে প্রচণ্ড ভূমিকম্প পাকড়াও করল। ফলে তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।

7:79

فَتَوَلّٰی عَنْهُمْ وَقَالَ یٰقَوْمِ لَقَدْ اَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَةَ رَبِّیْ وَنَصَحْتُ لَكُمْ وَلٰكِنْ لَّا تُحِبُّوْنَ النّٰصِحِیْنَ ۟

এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো এবং বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার রবের রিসালত তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছি; কিন্তু তোমরা কল্যাণকামীদেরকে পছন্দ কর না।’

7:80

وَلُوْطًا اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اَتَاْتُوْنَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ اَحَدٍ مِّنَ الْعٰلَمِیْنَ ۟

আর আমি লূতকেও পাঠিয়েছিলাম। যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন: ‘তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সৃষ্টিকুলের কেউ করেনি’?

7:81

اِنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُوْنِ النِّسَآءِ ؕ— بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ ۟

‘তোমরা তো যৌন তাড়না নিবারণের জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের সাথে মিলিত হচ্ছো; বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।

7:82

وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْۤا اَخْرِجُوْهُمْ مِّنْ قَرْیَتِكُمْ ۚ— اِنَّهُمْ اُنَاسٌ یَّتَطَهَّرُوْنَ ۟

আর তাঁর সম্প্রদায়ের উত্তর কেবল এই ছিল যে, তারা বললো: ‘তোমরা তাদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। নিশ্চয় তারা এমন লোক, যারা অতি পবিত্র হতে চায়।’

7:83

فَاَنْجَیْنٰهُ وَاَهْلَهٗۤ اِلَّا امْرَاَتَهٗ ۖؗ— كَانَتْ مِنَ الْغٰبِرِیْنَ ۟

অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে রক্ষা করেছিলাম, তাঁর স্ত্রী ছাড়া, কারণ সে ছিল পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।(২৪)

7:84

وَاَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ مَّطَرًا ؕ— فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِیْنَ ۟۠

আর আমি তাদের ওপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম।(২৫) সুতরাং (হে রাসূল!) দেখো, এ অপরাধীদের পরিণতি কীরূপ ছিল?

7:85

وَاِلٰی مَدْیَنَ اَخَاهُمْ شُعَیْبًا ؕ— قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ— قَدْ جَآءَتْكُمْ بَیِّنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ فَاَوْفُوا الْكَیْلَ وَالْمِیْزَانَ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ اَشْیَآءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ بَعْدَ اِصْلَاحِهَا ؕ— ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟ۚ

আর আমি মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শু‘আইবকে পাঠিয়েছিলাম।সে বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। সুতরাং তোমরা পরিমাণে ও ওজনে পরিপূর্ণ দাও এবং লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দেবে না। আর তোমরা জমিনে শান্তি স্থাপনের পর বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা মু`মিন হও।’

7:86

وَلَا تَقْعُدُوْا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوْعِدُوْنَ وَتَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ مَنْ اٰمَنَ بِهٖ وَتَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ۚ— وَاذْكُرُوْۤا اِذْ كُنْتُمْ قَلِیْلًا فَكَثَّرَكُمْ ۪— وَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِیْنَ ۟

আর মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে, যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিতে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করতে তোমরা প্রতিটি পথে বসে থেকো না।’ উপরন্তু স্মরণ করো, ‘তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। আরো লক্ষ্য করে দেখো, জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কীরূপ হয়েছিল?

7:87

وَاِنْ كَانَ طَآىِٕفَةٌ مِّنْكُمْ اٰمَنُوْا بِالَّذِیْۤ اُرْسِلْتُ بِهٖ وَطَآىِٕفَةٌ لَّمْ یُؤْمِنُوْا فَاصْبِرُوْا حَتّٰی یَحْكُمَ اللّٰهُ بَیْنَنَا ۚ— وَهُوَ خَیْرُ الْحٰكِمِیْنَ ۟

আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তাতে যদি তোমাদের কোনো একদল ঈমান আনে এবং আরেক দল ঈমান না আনে, তবে অপেক্ষা করো; যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেন। আর তিনিই সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।

7:88

قَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ لَنُخْرِجَنَّكَ یٰشُعَیْبُ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَكَ مِنْ قَرْیَتِنَاۤ اَوْ لَتَعُوْدُنَّ فِیْ مِلَّتِنَا ؕ— قَالَ اَوَلَوْ كُنَّا كٰرِهِیْنَ ۟ۚ

তাঁর সম্প্রদায়ের অহংকারী নেতারা বললো: ‘হে শু'আইব! আমরা অবশ্যই তোমাকে ও তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দিবো। অন্যথায় তোমাদেরকে আমাদের আদর্শে ফিরে আসতে হবে।’ সে বললো: ‘যদিও আমরা সেটাকে ঘৃণা করি, তবুও?’(২৬)

7:89

قَدِ افْتَرَیْنَا عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اِنْ عُدْنَا فِیْ مِلَّتِكُمْ بَعْدَ اِذْ نَجّٰىنَا اللّٰهُ مِنْهَا ؕ— وَمَا یَكُوْنُ لَنَاۤ اَنْ نَّعُوْدَ فِیْهَاۤ اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ اللّٰهُ رَبُّنَا ؕ— وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَیْءٍ عِلْمًا ؕ— عَلَی اللّٰهِ تَوَكَّلْنَا ؕ— رَبَّنَا افْتَحْ بَیْنَنَا وَبَیْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَاَنْتَ خَیْرُ الْفٰتِحِیْنَ ۟

‘আমরা তো আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপকারী হয়ে যাবো- যদি আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে যাই- যে ধর্ম থেকে আল্লাহ আমাদেরকে মুক্ত করেছেন। আর আমাদের জন্য উচিত হবে না, তোমাদের ধর্মে ফিরে যাওয়া; তবে আমাদের রব আল্লাহ চাইলে সেটা ভিন্ন কথা।(১৭) সবকিছুই আমাদের রবের জ্ঞানের সীমায় রয়েছে। আমরা আল্লাহরই ওপর তাওয়াক্কুল করি। হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে ফয়সালা করে দিন।(১৮) আর আপনিই তো শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।’

7:90

وَقَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ لَىِٕنِ اتَّبَعْتُمْ شُعَیْبًا اِنَّكُمْ اِذًا لَّخٰسِرُوْنَ ۟

আর তার সম্প্রদায়ের কাফির নেতারা বললো: ‘তোমরা যদি শু'আইবকে অনুসরণ করো, তবে নিশ্চয় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

7:91

فَاَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَاَصْبَحُوْا فِیْ دَارِهِمْ جٰثِمِیْنَ ۟

অতঃপর (নবীর বিরোধিতা করার কারণে) প্রচণ্ড ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করল। ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে (মরে) রইল।

7:92

الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا شُعَیْبًا كَاَنْ لَّمْ یَغْنَوْا فِیْهَا ۛۚ— اَلَّذِیْنَ كَذَّبُوْا شُعَیْبًا كَانُوْا هُمُ الْخٰسِرِیْنَ ۟

শু'আইবকে যারা মিথ্যাবাদী বলেছিল, ‘মনে হলো তারা যেন কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শু'আইবকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

7:93

فَتَوَلّٰی عَنْهُمْ وَقَالَ یٰقَوْمِ لَقَدْ اَبْلَغْتُكُمْ رِسٰلٰتِ رَبِّیْ وَنَصَحْتُ لَكُمْ ۚ— فَكَیْفَ اٰسٰی عَلٰی قَوْمٍ كٰفِرِیْنَ ۟۠

অতঃপর সে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো এবং বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার রবের রিসালাত আমি তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছি । সুতরাং আমি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য কি করে আক্ষেপ করি?

7:94

وَمَاۤ اَرْسَلْنَا فِیْ قَرْیَةٍ مِّنْ نَّبِیٍّ اِلَّاۤ اَخَذْنَاۤ اَهْلَهَا بِالْبَاْسَآءِ وَالضَّرَّآءِ لَعَلَّهُمْ یَضَّرَّعُوْنَ ۟

আর আমি যে জনপদেই নবী প্রেরণ করেছি, এর অধিবাসীকে আমি অর্থসংকট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পাকড়াও করেছি, যেন তারা অনুনয় বিনয় করে।

7:95

ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ السَّیِّئَةِ الْحَسَنَةَ حَتّٰی عَفَوْا وَّقَالُوْا قَدْ مَسَّ اٰبَآءَنَا الضَّرَّآءُ وَالسَّرَّآءُ فَاَخَذْنٰهُمْ بَغْتَةً وَّهُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟

অতঃপর আমি অকল্যাণকে কল্যাণে পরিবর্তন করি। অবশেষে তারা প্রচুর প্রাচুর্যের অধিকারী হয়ে যায় এবং বলে: 'আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও তো দু:খ-দুর্দশা ও আনন্দ স্পর্শ করেছে।’(১৯) অতঃপর হঠাৎ আমি তাদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করি যে, তারা টেরও পায় না।

7:96

وَلَوْ اَنَّ اَهْلَ الْقُرٰۤی اٰمَنُوْا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ وَلٰكِنْ كَذَّبُوْا فَاَخَذْنٰهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ ۟

আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করতো, তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম; কিন্তু তারা মিথ্যারোপ করেছিল। কাজেই আমি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করেছি।

7:97

اَفَاَمِنَ اَهْلُ الْقُرٰۤی اَنْ یَّاْتِیَهُمْ بَاْسُنَا بَیَاتًا وَّهُمْ نَآىِٕمُوْنَ ۟ؕ

তবে কি জনপদের অধিবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে যে, রাতের বেলায় তাদের নিকট আমার শাস্তি আসবে না, যখন তারা গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকবে?

7:98

اَوَاَمِنَ اَهْلُ الْقُرٰۤی اَنْ یَّاْتِیَهُمْ بَاْسُنَا ضُحًی وَّهُمْ یَلْعَبُوْنَ ۟

নাকি জনপদের অধিবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে যে, দিনের বেলায় তাদের ওপর আমার শাস্তি আসবে না, যখন তারা খেলাধুলায় মগ্ন থাকবে?

7:99

اَفَاَمِنُوْا مَكْرَ اللّٰهِ ۚ— فَلَا یَاْمَنُ مَكْرَ اللّٰهِ اِلَّا الْقَوْمُ الْخٰسِرُوْنَ ۟۠

তারা কি আল্লাহর কৌশল ও পরিকল্পনা থেকেও নিরাপদ হয়ে গেছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে কেউ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে না।

7:100

اَوَلَمْ یَهْدِ لِلَّذِیْنَ یَرِثُوْنَ الْاَرْضَ مِنْ بَعْدِ اَهْلِهَاۤ اَنْ لَّوْ نَشَآءُ اَصَبْنٰهُمْ بِذُنُوْبِهِمْ ۚ— وَنَطْبَعُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَهُمْ لَا یَسْمَعُوْنَ ۟

কোনো জনপদের অধিবাসীদের পর যারা তার উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কাছে কি এ ব্যাপারটি সুস্পষ্ট নয় যে, আমি চাইলে তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি? এমনকি আমি তাদের অন্তরেও মোহর মেরে দিতে পারি। ফলে তারা আর শুনবে না।

7:101

تِلْكَ الْقُرٰی نَقُصُّ عَلَیْكَ مِنْ اَنْۢبَآىِٕهَا ۚ— وَلَقَدْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ ۚ— فَمَا كَانُوْا لِیُؤْمِنُوْا بِمَا كَذَّبُوْا مِنْ قَبْلُ ؕ— كَذٰلِكَ یَطْبَعُ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِ الْكٰفِرِیْنَ ۟

এসব জনপদের(২০) কিছু সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছিল; কিন্তু পূর্বে তারা যে বিষয়কে একবার মিথ্যারোপ করেছিল, এর ওপর তদের ঈমান আনার ছিল না।(২১) এভাবেই আল্লাহ কাফিরদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।(২২)

7:102

وَمَا وَجَدْنَا لِاَكْثَرِهِمْ مِّنْ عَهْدٍ ۚ— وَاِنْ وَّجَدْنَاۤ اَكْثَرَهُمْ لَفٰسِقِیْنَ ۟

আর তাদের অধিকাংশকে আমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাইনি; বরং আমি তাদের অধিকাংশকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছি ।

7:103

ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُّوْسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرْعَوْنَ وَمَلَاۡىِٕهٖ فَظَلَمُوْا بِهَا ۚ— فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِیْنَ ۟

অতঃপর আমি তাদের পরে মূসাকে আমার নিদর্শনসহ ফির’আউন ও তার সভাসদদের কাছে প্রেরণ করেছি; কিন্তু তারা সেগুলোর সাথে যুলম করেছে।(২৩) সুতরাং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কি হয়েছিল তা তুমি লক্ষ্য করো।

7:104

وَقَالَ مُوْسٰی یٰفِرْعَوْنُ اِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ

মূসা বললো: ‘হে ফির‘আউন, আমি তো সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল।’

7:105

حَقِیْقٌ عَلٰۤی اَنْ لَّاۤ اَقُوْلَ عَلَی اللّٰهِ اِلَّا الْحَقَّ ؕ— قَدْ جِئْتُكُمْ بِبَیِّنَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ فَاَرْسِلْ مَعِیَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ

‘আমার উচিত তাঁর ব্যাপারে সত্য ছাড়া আর কিছু না বলা। আমি তোমাদের রবের কাছ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে, তোমাদের কাছে এসেছি। কাজেই বানূ ইসরাঈলকে তুমি আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।’

7:106

قَالَ اِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِاٰیَةٍ فَاْتِ بِهَاۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟

ফির’আউন বললো: ‘যদি তুমি কোনো নিদর্শন এনে থাকো, তবে তুমি সত্যবাদী হলে, তা পেশ করো।’

7:107

فَاَلْقٰی عَصَاهُ فَاِذَا هِیَ ثُعْبَانٌ مُّبِیْنٌ ۟ۚۖ

অতঃপর মূসা তাঁর হাতের লাঠি নিক্ষেপ করলেন এবং সাথে সাথেই তা স্পষ্ট এক অজগর সাপে পরিণত হলো।

7:108

وَّنَزَعَ یَدَهٗ فَاِذَا هِیَ بَیْضَآءُ لِلنّٰظِرِیْنَ ۟۠

আর তিনি তাঁর হাত বের করলেন। ফলে তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল-সাদা হয়ে দেখা দিল।

7:109

قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِیْمٌ ۟ۙ

ফির’আউনের সম্প্রদায়ের সভাসদরা বললো: ‘নিশ্চয় এ তো একজন সুদক্ষ যাদুকর।’

7:110

یُّرِیْدُ اَنْ یُّخْرِجَكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ ۚ— فَمَاذَا تَاْمُرُوْنَ ۟

সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। অতএব, এখন তোমরা এ ব্যাপারে কি পরামর্শ দাও?

7:111

قَالُوْۤا اَرْجِهْ وَاَخَاهُ وَاَرْسِلْ فِی الْمَدَآىِٕنِ حٰشِرِیْنَ ۟ۙ

তারা বললো: ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু সময় দিন এবং নগরে নগরে লোক পাঠান।’

7:112

یَاْتُوْكَ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ ۟

‘তারা আপনার কাছে সকল বিজ্ঞ যাদুকর নিয়ে আসবে।’

7:113

وَجَآءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوْۤا اِنَّ لَنَا لَاَجْرًا اِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغٰلِبِیْنَ ۟

যাদুকররা ফির‘আউনের কাছে এসে বললো: ‘যদি আমরাই বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্য কি সত্যিই পুরস্কার থাকবে?‘

7:114

قَالَ نَعَمْ وَاِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِیْنَ ۟

সে বললো: হ্যাঁ , উপরন্তু তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

7:115

قَالُوْا یٰمُوْسٰۤی اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِیَ وَاِمَّاۤ اَنْ نَّكُوْنَ نَحْنُ الْمُلْقِیْنَ ۟

তারা বললো: ‘হে মূসা, তুমিনিক্ষেপ করবে, না আমরাই নিক্ষেপ করব?’

7:116

قَالَ اَلْقُوْا ۚ— فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا سَحَرُوْۤا اَعْیُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوْهُمْ وَجَآءُوْ بِسِحْرٍ عَظِیْمٍ ۟

সে (মূসা) বললো: ‘তোমরাই নিক্ষেপ কর।’ যখন তারা নিক্ষেপ করলো, তখন তারা মানুষের চোখে যাদু করলো এবং তাদেরকে আতঙ্কিত করলো। আসলেই তারা এক বিশাল শক্তিশালী যাদু নিয়ে এলো।

7:117

وَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاكَ ۚ— فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ۟ۚ

আর আমি মূসার প্রতি অহী পাঠালাম যে, ‘তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’ তৎক্ষণাৎ সেটা তারা যে অলীক বস্তু বানিয়েছিল, তা গিলে ফেলতে লাগল।

7:118

فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟ۚ

অবশেষে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং তারা যা কিছু করছিল, তা বাতিল হয়ে গেল।

7:119

فَغُلِبُوْا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَ ۟ۚ

তাই সেখানে তারা পরাজিত হলো, উপরন্তু তারা লাঞ্ছিত ও পরাজিত হয়ে ফিরে গেলো।

7:120

وَاُلْقِیَ السَّحَرَةُ سٰجِدِیْنَ ۟ۙ

আর যাদুকররা সাজদায় লুটিয়ে পড়ল।

7:121

قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ

তারা বললো: ‘আমরা সৃষ্টিকুলের রবের প্রতি ঈমান আনলাম।’

7:122

رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ۟

‘যিনি মূসা ও হারূনের রব।’

7:123

قَالَ فِرْعَوْنُ اٰمَنْتُمْ بِهٖ قَبْلَ اَنْ اٰذَنَ لَكُمْ ۚ— اِنَّ هٰذَا لَمَكْرٌ مَّكَرْتُمُوْهُ فِی الْمَدِیْنَةِ لِتُخْرِجُوْا مِنْهَاۤ اَهْلَهَا ۚ— فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ۟

ফির'আউন বললো: ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগে তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? এটা তো এক বড় ষড়যন্ত্র; তোমরা নগরবাসীদেরকে এখান থেকে বের করে দেয়ার জন্য এ ষড়যন্ত্র করেছো। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই এর পরিণাম জানতে পারবে।’

7:124

لَاُقَطِّعَنَّ اَیْدِیَكُمْ وَاَرْجُلَكُمْ مِّنْ خِلَافٍ ثُمَّ لَاُصَلِّبَنَّكُمْ اَجْمَعِیْنَ ۟

‘আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে টুকরো করে ফেলবো। তারপর অবশ্যই তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।’

7:125

قَالُوْۤا اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا مُنْقَلِبُوْنَ ۟ۚ

তারা বললো: ‘অবশ্যই আমরা তো আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।’

7:126

وَمَا تَنْقِمُ مِنَّاۤ اِلَّاۤ اَنْ اٰمَنَّا بِاٰیٰتِ رَبِّنَا لَمَّا جَآءَتْنَا ؕ— رَبَّنَاۤ اَفْرِغْ عَلَیْنَا صَبْرًا وَّتَوَفَّنَا مُسْلِمِیْنَ ۟۠

‘আর তুমি তো আমাদেরকে শাস্তি দিচ্ছ শুধু এ জন্যে যে, আমরা আমাদের রবের নিদর্শনের ওপর ঈমান এনেছি, যখন তা আমাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে। হে আমাদের রব! আমাদেরকে পরিপূর্ণ ধৈর্য দান করুন এবং মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে মৃত্যু দিন।’

7:127

وَقَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اَتَذَرُ مُوْسٰی وَقَوْمَهٗ لِیُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ وَیَذَرَكَ وَاٰلِهَتَكَ ؕ— قَالَ سَنُقَتِّلُ اَبْنَآءَهُمْ وَنَسْتَحْیٖ نِسَآءَهُمْ ۚ— وَاِنَّا فَوْقَهُمْ قٰهِرُوْنَ ۟

আর ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের সভাসদগণ বললো: ‘আপনি কি মূসা ও তার সম্প্রদায়কে ছেড়ে দিবেন, যাতে তারা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?’ সে বললো: ‘অচিরেই আমরা তাদের পুত্রসন্তানদেরকে হত্যা করবো, আর তাদের কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখবো। আর নিশ্চয় আমরা তাদের ওপর শক্তিধর।’

7:128

قَالَ مُوْسٰی لِقَوْمِهِ اسْتَعِیْنُوْا بِاللّٰهِ وَاصْبِرُوْا ۚ— اِنَّ الْاَرْضَ لِلّٰهِ ۙ۫— یُوْرِثُهَا مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ ؕ— وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِیْنَ ۟

মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বললো: ‘তোমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয় জমিন আল্লাহরই। তিনিই তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে এর উত্তরাধিকারী বানান। আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যেই।’

7:129

قَالُوْۤا اُوْذِیْنَا مِنْ قَبْلِ اَنْ تَاْتِیَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا ؕ— قَالَ عَسٰی رَبُّكُمْ اَنْ یُّهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَیَسْتَخْلِفَكُمْ فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرَ كَیْفَ تَعْمَلُوْنَ ۟۠

তারা বললো: ‘ তুমি আমাদের কাছে আসার আগেও আমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তুমি আমাদের কাছে আসার পরেও।’(২৪) সে বললো: ‘আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং জমিনে তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। অতঃপর তিনি দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ করো।’(২৫)

7:130

وَلَقَدْ اَخَذْنَاۤ اٰلَ فِرْعَوْنَ بِالسِّنِیْنَ وَنَقْصٍ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّهُمْ یَذَّكَّرُوْنَ ۟

আর আমি ফির‘আউনের অনুসারীদেরকে বছরের পর বছর দুর্ভিক্ষ ও ফল- ফলাদির ক্ষয়-ক্ষতির মাধ্যমে আক্রান্ত করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

7:131

فَاِذَا جَآءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوْا لَنَا هٰذِهٖ ۚ— وَاِنْ تُصِبْهُمْ سَیِّئَةٌ یَّطَّیَّرُوْا بِمُوْسٰی وَمَنْ مَّعَهٗ ؕ— اَلَاۤ اِنَّمَا طٰٓىِٕرُهُمْ عِنْدَ اللّٰهِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟

অতঃপর যখনই তাদের কাছে কল্যাণ আসত, তখন তারা বলত: ‘এটা তো আমাদের প্রাপ্য।’(২৬) আর যখন তাদের কাছে অকল্যাণ পৌঁছত, তখন তারা মূসা ও তার সঙ্গীদেরকে অলক্ষুণে মনে করত। সাবধান! তাদের অকল্যাণ তো কেবল আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

7:132

وَقَالُوْا مَهْمَا تَاْتِنَا بِهٖ مِنْ اٰیَةٍ لِّتَسْحَرَنَا بِهَا ۙ— فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِیْنَ ۟

আর তারা বললো: ‘তুমি আমাদেরকে যাদু করার জন্য যে কোন নিদর্শন আমাদের কাছে নিয়ে আস না কেন, আমরা তো তোমার প্রতি ঈমান আনবো না।’

7:133

فَاَرْسَلْنَا عَلَیْهِمُ الطُّوْفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ اٰیٰتٍ مُّفَصَّلٰتٍ ۫— فَاسْتَكْبَرُوْا وَكَانُوْا قَوْمًا مُّجْرِمِیْنَ ۟

অতঃপর আমি তাদের উপর তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে প্রেরণ করি। এরপরও তারা অহংকার করল। আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।

7:134

وَلَمَّا وَقَعَ عَلَیْهِمُ الرِّجْزُ قَالُوْا یٰمُوْسَی ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ ۚ— لَىِٕنْ كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ۚ

আর যখন তাদের ওপর শাস্তি আসত হতো তখন তারা বলতো: ‘হে মূসা তুমি আমাদের জন্যে তোমার রবের কাছে দুআ করো, তিনি যে ওয়াদা তোমার সাথে করেছেন, সে অনুযায়ী।(২৭) যদি তুমি আমাদের ওপর থেকে শাস্তি সরিয়ে দাও, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো এবং বানূ ইসরাঈলকে অবশ্যই তোমার সাথে যেতে দিবো।’

7:135

فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الرِّجْزَ اِلٰۤی اَجَلٍ هُمْ بٰلِغُوْهُ اِذَا هُمْ یَنْكُثُوْنَ ۟

যখনই আমি তাদের ওপর থেকে শাস্তি দূর করে দিতাম এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, যা তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা তখনই তাদের কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করত।(২৮)

7:136

فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَاَغْرَقْنٰهُمْ فِی الْیَمِّ بِاَنَّهُمْ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَكَانُوْا عَنْهَا غٰفِلِیْنَ ۟

অতঃপর আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম। ফলে, তাদেরকে গভীর সমুদ্রে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং এ সম্পর্কে তারা ছিল গাফিল।

7:137

وَاَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِیْنَ كَانُوْا یُسْتَضْعَفُوْنَ مَشَارِقَ الْاَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِیْ بٰرَكْنَا فِیْهَا ؕ— وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ الْحُسْنٰی عَلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۙ۬— بِمَا صَبَرُوْا ؕ— وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ یَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهٗ وَمَا كَانُوْا یَعْرِشُوْنَ ۟

আর যে জাতিকে একদা দুর্বল মনে করা হতো, তাদেরকে আমি বরকতপ্রাপ্ত ভূমির পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম(২৯) এবং বানূ ইসরাঈলের ওপর তোমার রবের উত্তম বাণী পূর্ণতা লাভ করলো।(৩০) কারণ তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর ধ্বংস করে দিলাম ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায় যা কিছু তৈরি করেছিল এবং তারা যেসব প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল সেগুলোকে।

7:138

وَجٰوَزْنَا بِبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ الْبَحْرَ فَاَتَوْا عَلٰی قَوْمٍ یَّعْكُفُوْنَ عَلٰۤی اَصْنَامٍ لَّهُمْ ۚ— قَالُوْا یٰمُوْسَی اجْعَلْ لَّنَاۤ اِلٰهًا كَمَا لَهُمْ اٰلِهَةٌ ؕ— قَالَ اِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُوْنَ ۟

আর আমি বানূ ইসরাঈলকে সাগর পার করিয়ে দেই। অতঃপর তারা এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, যারা নিজেদের মূর্তিগুলোর পূজায় নিমগ্ন ছিল। তারা বললো: ‘হে মূসা! তাদের যেমন উপাস্য আছে, আমাদের জন্যও তেমনি একজন উপাস্য নির্ধারণ করে দাও।’ সে বললো: ‘নিশ্চয় তোমরা এক মূর্খ সম্প্রদায়।’(৩১)

7:139

اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ مُتَبَّرٌ مَّا هُمْ فِیْهِ وَبٰطِلٌ مَّا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟

‘নিশ্চয় এসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে তার জন্য তারা তো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবেই এবং তারা যা করছে, তাও বাতিল হয়ে যাবে।’

7:140

قَالَ اَغَیْرَ اللّٰهِ اَبْغِیْكُمْ اِلٰهًا وَّهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَی الْعٰلَمِیْنَ ۟

সে আরো বললো: ‘আল্লাহ ছাড়া আমি কি তোমাদের জন্য অন্য ইলাহ সন্ধান করব; অথচ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টিকুলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন?’

7:141

وَاِذْ اَنْجَیْنٰكُمْ مِّنْ اٰلِ فِرْعَوْنَ یَسُوْمُوْنَكُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِ ۚ— یُقَتِّلُوْنَ اَبْنَآءَكُمْ وَیَسْتَحْیُوْنَ نِسَآءَكُمْ ؕ— وَفِیْ ذٰلِكُمْ بَلَآءٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ عَظِیْمٌ ۟۠

আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফির‘আউনের লোকদের থেকে উদ্ধার করেছিলাম। তারা তোমাদেরকে কঠিন নিকৃষ্ট শাস্তি দিত। তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখত। আর এতে(৩২) ছিল তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মহাপরীক্ষা।

7:142

وَوٰعَدْنَا مُوْسٰی ثَلٰثِیْنَ لَیْلَةً وَّاَتْمَمْنٰهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِیْقَاتُ رَبِّهٖۤ اَرْبَعِیْنَ لَیْلَةً ۚ— وَقَالَ مُوْسٰی لِاَخِیْهِ هٰرُوْنَ اخْلُفْنِیْ فِیْ قَوْمِیْ وَاَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِیْلَ الْمُفْسِدِیْنَ ۟

আর আমি মূসাকে ত্রিশ রাতের ওয়াদা দিয়েছিলাম এবং আরো দশ বাড়িয়ে তা পূর্ণ করেছিলাম। এভাবে তার রবের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাত পূর্ণ হয়। মূসা তার ভাই হারূনকে বললো: ‘আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করো, সংশোধন করো, আর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না(৩৩)।’

7:143

وَلَمَّا جَآءَ مُوْسٰی لِمِیْقَاتِنَا وَكَلَّمَهٗ رَبُّهٗ ۙ— قَالَ رَبِّ اَرِنِیْۤ اَنْظُرْ اِلَیْكَ ؕ— قَالَ لَنْ تَرٰىنِیْ وَلٰكِنِ انْظُرْ اِلَی الْجَبَلِ فَاِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهٗ فَسَوْفَ تَرٰىنِیْ ۚ— فَلَمَّا تَجَلّٰی رَبُّهٗ لِلْجَبَلِ جَعَلَهٗ دَكًّا وَّخَرَّ مُوْسٰی صَعِقًا ۚ— فَلَمَّاۤ اَفَاقَ قَالَ سُبْحٰنَكَ تُبْتُ اِلَیْكَ وَاَنَا اَوَّلُ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟

আর মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে (ও স্থানে) উপস্থিত হয়েছিল এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন, তখন সে (তার রবকে) বললো: ‘হে আমার রব! আমাকে দেখা দিন, আমি আপনাকে দেখতে চাই।’ তিনি বললেন: ‘(দুনিয়াতে) তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না; বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও, সেটা যদি (প্রতিক্রিয়া ছাড়াই) নিজের জায়গায় স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে (অচিরেই দুনিয়াতে) দেখতে পাবে।’ যখন তার রব পাহাড়ে বিকশিত হলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করল(৩৪) এবং মূসা বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলো। যখন সে জ্ঞান ফিরে পেলো তখন বললো: ‘(হে আমার রব!) আপনি পবিত্র মহান, আমি (দুনিয়াতে আপনাকে দেখার আবেদন থেকে অনুতপ্ত হয়ে) আপনার কাছে তাওবাহ করলাম এবং আমি (আমার সম্প্রদায়ের) মু’মিনদের মধ্যে প্রথম।’

7:144

قَالَ یٰمُوْسٰۤی اِنِّی اصْطَفَیْتُكَ عَلَی النَّاسِ بِرِسٰلٰتِیْ وَبِكَلَامِیْ ۖؗ— فَخُذْ مَاۤ اٰتَیْتُكَ وَكُنْ مِّنَ الشّٰكِرِیْنَ ۟

তিনি বললেন: ‘হে মূসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দিয়ে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। কাজেই আমি তোমাকে যা প্রদান করলাম, তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞতা আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’

7:145

وَكَتَبْنَا لَهٗ فِی الْاَلْوَاحِ مِنْ كُلِّ شَیْءٍ مَّوْعِظَةً وَّتَفْصِیْلًا لِّكُلِّ شَیْءٍ ۚ— فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ وَّاْمُرْ قَوْمَكَ یَاْخُذُوْا بِاَحْسَنِهَا ؕ— سَاُورِیْكُمْ دَارَ الْفٰسِقِیْنَ ۟

আর আমি তার জন্য ফলকসমূহে প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ এবং সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি। সুতরাং তা শক্ত করে ধরো এবং তোমার সম্প্রদায়কে নির্দেশ দাও, তারা যেন এর উত্তম বিষয়গুলো গ্রহণ করে ।(৩৫) আমি অচিরেই তোমাদেরকে ফাসিকদের আবাস দেখাব ।(৩৬)

7:146

سَاَصْرِفُ عَنْ اٰیٰتِیَ الَّذِیْنَ یَتَكَبَّرُوْنَ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ ؕ— وَاِنْ یَّرَوْا كُلَّ اٰیَةٍ لَّا یُؤْمِنُوْا بِهَا ۚ— وَاِنْ یَّرَوْا سَبِیْلَ الرُّشْدِ لَا یَتَّخِذُوْهُ سَبِیْلًا ۚ— وَاِنْ یَّرَوْا سَبِیْلَ الْغَیِّ یَتَّخِذُوْهُ سَبِیْلًا ؕ— ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَكَانُوْا عَنْهَا غٰفِلِیْنَ ۟

যারা অন্যায়ভাবে জমিনে অহংকার করে বেড়ায়, আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ থেকে অবশ্যই ফিরিয়ে রাখবো।(৩৭) আর তারা সকল নিদর্শন দেখলেও তার ওপর ঈমান আনবে না এবং তারা সৎপথ দেখলেও সেটাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে না। কিন্তু তারা ভ্রান্ত পথ দেখলেই সেটাকেপথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এটা এ জন্য যে, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যারোপ করেছে এবং সে ব্যাপারে তারা গাফিল ছিল ।

7:147

وَالَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَلِقَآءِ الْاٰخِرَةِ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ ؕ— هَلْ یُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟۠

আর যারা আমার আয়াতসমূহ ও আখিরাতের সাক্ষাতকে(৩৮) অস্বীকার করেছে, তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে। তারা যা করে, সে অনুযায়ীই তাদের প্রতিফল দেয়া হবে।

7:148

وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوْسٰی مِنْ بَعْدِهٖ مِنْ حُلِیِّهِمْ عِجْلًا جَسَدًا لَّهٗ خُوَارٌ ؕ— اَلَمْ یَرَوْا اَنَّهٗ لَا یُكَلِّمُهُمْ وَلَا یَهْدِیْهِمْ سَبِیْلًا ۘ— اِتَّخَذُوْهُ وَكَانُوْا ظٰلِمِیْنَ ۟

আর মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদি দিয়ে একটি গো-বাছুরের দেহাবয়ব তৈরি করল, যার থেকে 'হাম্বা’ ধ্বনি বের হতো। তারা কি দেখেনি যে, এটা তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদেরকে পথও দেখায় না? তারা এটাকে গ্রহণ করল আর তারা ছিল যালিম।

7:149

وَلَمَّا سُقِطَ فِیْۤ اَیْدِیْهِمْ وَرَاَوْا اَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوْا ۙ— قَالُوْا لَىِٕنْ لَّمْ یَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَیَغْفِرْ لَنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ ۟

আর যখন তারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত হলো এবং দেখলো যে, তারা তো পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তখন তারা বললো: ‘আমাদের রব যদি আমাদের প্রতি রহম না করেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’

7:150

وَلَمَّا رَجَعَ مُوْسٰۤی اِلٰی قَوْمِهٖ غَضْبَانَ اَسِفًا ۙ— قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُوْنِیْ مِنْ بَعْدِیْ ۚ— اَعَجِلْتُمْ اَمْرَ رَبِّكُمْ ۚ— وَاَلْقَی الْاَلْوَاحَ وَاَخَذَ بِرَاْسِ اَخِیْهِ یَجُرُّهٗۤ اِلَیْهِ ؕ— قَالَ ابْنَ اُمَّ اِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُوْنِیْ وَكَادُوْا یَقْتُلُوْنَنِیْ ۖؗ— فَلَا تُشْمِتْ بِیَ الْاَعْدَآءَ وَلَا تَجْعَلْنِیْ مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ ۟

আর মূসা যখন ক্ষুব্ধ ও দু:খ ভারাক্রান্ত হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসল, তখন সে বললো: ‘আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কত খারাপ প্রতিনিধিত্ব করেছ! তোমাদের রবের আদেশের আগেই তোমরা তাড়াহুড়া করলে?’ আর সে ফলকগুলো ফেলে দিল এবং স্বীয় ভাইয়ের মাথা ধরে নিজের দিকে টেনে আনতে লাগল। সে বললো: ‘হে আমার সহোদর! এ জাতি আমাকে দুর্বল মনে করেছে এবং আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। তাই তুমি আমার সাথে এমন আচরণ করো না, যাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।’

7:151

قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَلِاَخِیْ وَاَدْخِلْنَا فِیْ رَحْمَتِكَ ۖؗ— وَاَنْتَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِیْنَ ۟۠

সে বললো: ‘হে আমার রব! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করুন এবং আপনার রহমতের মধ্যে আমাদেরকে প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।‘

7:152

اِنَّ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَیَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؕ— وَكَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُفْتَرِیْنَ ۟

নিশ্চয় যারা গো-বাছুরকে গ্রহণ করেছে, অচিরেই দুনিয়ার জীবনে তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্রোধ ও লাঞ্ছনা তাদেরকে আক্রান্ত করবে । আর এভাবেই আমি মিথ্যা রটনাকারীদের প্রতিফল দান করি।

7:153

وَالَّذِیْنَ عَمِلُوا السَّیِّاٰتِ ثُمَّ تَابُوْا مِنْ بَعْدِهَا وَاٰمَنُوْۤا ؗ— اِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟

আর যারা মন্দ কাজ করল(১), তারপর (অনুতপ্ত হয়ে) তাওবা করল এবং(পরিপূর্ণ) ঈমান আনল, নিশ্চয় তোমার রব এরপরও (তাদের প্রতি ) ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

7:154

وَلَمَّا سَكَتَ عَنْ مُّوْسَی الْغَضَبُ اَخَذَ الْاَلْوَاحَ ۖۚ— وَفِیْ نُسْخَتِهَا هُدًی وَّرَحْمَةٌ لِّلَّذِیْنَ هُمْ لِرَبِّهِمْ یَرْهَبُوْنَ ۟

অবশেষে যখন মূসার ক্রোধ থেমে গেল, তখন সে ফলকগুলো তুলে নিল। যারা নিজেদের রবকে ভয় করে এর লেখাগুলোতে তাদের জন্যে হিদায়াত ও রহমত ছিলো ।

7:155

وَاخْتَارَ مُوْسٰی قَوْمَهٗ سَبْعِیْنَ رَجُلًا لِّمِیْقَاتِنَا ۚ— فَلَمَّاۤ اَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ اَهْلَكْتَهُمْ مِّنْ قَبْلُ وَاِیَّایَ ؕ— اَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَآءُ مِنَّا ۚ— اِنْ هِیَ اِلَّا فِتْنَتُكَ ؕ— تُضِلُّ بِهَا مَنْ تَشَآءُ وَتَهْدِیْ مَنْ تَشَآءُ ؕ— اَنْتَ وَلِیُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَاَنْتَ خَیْرُ الْغٰفِرِیْنَ ۟

আর মূসা তার সম্প্রদায় থেকে সত্তর জন লোককে আমার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসার জন্যে নির্বাচন করল। অতঃপর যখন ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করল, তখন সে বললো: ‘হে আমার রব, আপনি চাইলে ইতঃপূর্বে এদের এবং আমাকেও ধ্বংস করতে পারতেন । আমাদের মধ্যে নির্বোধরা যা করেছে, তার কারণে কি আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? এটাতো আপনার পরীক্ষা ছাড়া কিছু না। এর মাধ্যমে যাকে চান আপনি পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হিদায়াত দান করেন। আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আর ক্ষমাশীলদের মধ্যে আপনিই তো শ্রেষ্ঠ।’

7:156

وَاكْتُبْ لَنَا فِیْ هٰذِهِ الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ اِنَّا هُدْنَاۤ اِلَیْكَ ؕ— قَالَ عَذَابِیْۤ اُصِیْبُ بِهٖ مَنْ اَشَآءُ ۚ— وَرَحْمَتِیْ وَسِعَتْ كُلَّ شَیْءٍ ؕ— فَسَاَكْتُبُهَا لِلَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ وَیُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَالَّذِیْنَ هُمْ بِاٰیٰتِنَا یُؤْمِنُوْنَ ۟ۚ

আর আপনি আমাদের জন্য এ দুনিয়াতে কল্যাণ লিখে দিন এবং আখেরাতেও । নিশ্চয় আমরা আপনার কাছেই ফিরে এসেছি।’ আল্লাহ বললেন: ‘আমার শাস্তি যাকে ইচ্ছে দিয়ে থাকি বটে; কিন্তু আমার রহমত তো প্রত্যেক বস্তুকে ঘিরে আছেই। কাজেই আমিই তা লিখে দিবো তাদের জন্য, যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করে, যাকাত দেয় ও আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে।’

7:157

اَلَّذِیْنَ یَتَّبِعُوْنَ الرَّسُوْلَ النَّبِیَّ الْاُمِّیَّ الَّذِیْ یَجِدُوْنَهٗ مَكْتُوْبًا عِنْدَهُمْ فِی التَّوْرٰىةِ وَالْاِنْجِیْلِ ؗ— یَاْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوْفِ وَیَنْهٰىهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَیُحِلُّ لَهُمُ الطَّیِّبٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیْهِمُ الْخَبٰٓىِٕثَ وَیَضَعُ عَنْهُمْ اِصْرَهُمْ وَالْاَغْلٰلَ الَّتِیْ كَانَتْ عَلَیْهِمْ ؕ— فَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِهٖ وَعَزَّرُوْهُ وَنَصَرُوْهُ وَاتَّبَعُوا النُّوْرَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ مَعَهٗۤ ۙ— اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ۟۠

যারা অনুসরণ করে রাসূল উম্মী নবীর(৪০), যার উল্লেখ তারা তাদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিপিবদ্ধ পায়। সে তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর সে তাদেরকে তাদের কঠিন বিধানাদি দূর করে ও শৃঙ্খল হতে মুক্ত করে, যা তাদের ওপর ছিল। কাজেই যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং যে নূর তার সাথে নাযিল হয়েছে সেটার অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।

7:158

قُلْ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنِّیْ رَسُوْلُ اللّٰهِ اِلَیْكُمْ جَمِیْعَا ١لَّذِیْ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ۚ— لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ یُحْیٖ وَیُمِیْتُ ۪— فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِهِ النَّبِیِّ الْاُمِّیِّ الَّذِیْ یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَكَلِمٰتِهٖ وَاتَّبِعُوْهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ ۟

‘হে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই, তিনি (মৃতকে) জীবিত করেন ও (জীবিতকে) মৃত করেন। কাজেই তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের(৪১) প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ করো, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।’

7:159

وَمِنْ قَوْمِ مُوْسٰۤی اُمَّةٌ یَّهْدُوْنَ بِالْحَقِّ وَبِهٖ یَعْدِلُوْنَ ۟

মূসার সম্প্রদায় থেকে এমন এক দল রয়েছে, যারা অন্যকে ন্যায়ভাবে পথ প্রদর্শন করে এবং তার ভিত্তিতেই ইনসাফ করে।

7:160

وَقَطَّعْنٰهُمُ اثْنَتَیْ عَشْرَةَ اَسْبَاطًا اُمَمًا ؕ— وَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اِذِ اسْتَسْقٰىهُ قَوْمُهٗۤ اَنِ اضْرِبْ بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ۚ— فَانْۢبَجَسَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَیْنًا ؕ— قَدْ عَلِمَ كُلُّ اُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ؕ— وَظَلَّلْنَا عَلَیْهِمُ الْغَمَامَ وَاَنْزَلْنَا عَلَیْهِمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوٰی ؕ— كُلُوْا مِنْ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقْنٰكُمْ ؕ— وَمَا ظَلَمُوْنَا وَلٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۟

আর আমি তাদেরকে বারোটি গোত্রে বিভক্ত করেছি। আর মূসার সম্প্রদায় যখন তার কাছে পানি চাইল, তখন আমরা তার প্রতি অহী পাঠালাম যে, ‘তুমি তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো। ’ ফলে এ থেকে বারোটি ঝর্ণা উৎসারিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজেদের পানি পানের জায়গা চিনে নিল। আর আমি তাদের ওপর মেঘমালার ছায়া দিয়েছিলাম(৪২) এবং তাদের ওপর নাযিল করেছিলাম মান্না ও সালওয়া।(৪৩) ‘তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার করো।’ আর তারা আমার প্রতি যুলম করেনি; বরং তারা নিজেদের ওপরই যুলম করেছে।

7:161

وَاِذْ قِیْلَ لَهُمُ اسْكُنُوْا هٰذِهِ الْقَرْیَةَ وَكُلُوْا مِنْهَا حَیْثُ شِئْتُمْ وَقُوْلُوْا حِطَّةٌ وَّادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطِیْٓـٰٔتِكُمْ ؕ— سَنَزِیْدُ الْمُحْسِنِیْنَ ۟

আর স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল: ‘তোমরা এ জনপদে বসবাস করো এবং সেখানের যেখান থেকে ইচ্ছা আহার করো এবং বলো ‘হিত্তাহ’ । আর নতশিরে দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। তাহলে আমি তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবো। অবশ্যই আমি সৎকর্মশীলদেরকে বাড়িয়ে দিবো।

7:162

فَبَدَّلَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْهُمْ قَوْلًا غَیْرَ الَّذِیْ قِیْلَ لَهُمْ فَاَرْسَلْنَا عَلَیْهِمْ رِجْزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا كَانُوْا یَظْلِمُوْنَ ۟۠

অতঃপর তাদের মধ্যে যারা যালিম ছিল, তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে তারা অন্য কথা বলল।(৪৪) ফলে তাদের যুলমের কারণে আমি আসমান থেকে তাদের প্রতি শাস্তি পাঠালাম।

7:163

وَسْـَٔلْهُمْ عَنِ الْقَرْیَةِ الَّتِیْ كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ ۘ— اِذْ یَعْدُوْنَ فِی السَّبْتِ اِذْ تَاْتِیْهِمْ حِیْتَانُهُمْ یَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَّیَوْمَ لَا یَسْبِتُوْنَ ۙ— لَا تَاْتِیْهِمْ ۛۚ— كَذٰلِكَ ۛۚ— نَبْلُوْهُمْ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ ۟

আর তাদের কাছে জিজ্ঞেস করো সাগর তীরের(৪৫) জনপদবাসী সম্বন্ধে, যখন তাদের কাছে শনিবারে তাদের মাছগুলো ভেসে আসত তখন তারা শনিবারে সীমালঙ্ঘন করত; । আর যেদিন তারা ‘শনিবার’ পালন করত না, সেদিন তা তাদের কাছে আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম। কারণ তারা পাপাচার করত।(৪৬)

7:164

وَاِذْ قَالَتْ اُمَّةٌ مِّنْهُمْ لِمَ تَعِظُوْنَ قَوْمَا ۙ— ١للّٰهُ مُهْلِكُهُمْ اَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِیْدًا ؕ— قَالُوْا مَعْذِرَةً اِلٰی رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ ۟

আর স্মরণ করো, যখন তাদের একদল বলেছিল: ‘তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ এমন সম্প্রদায়কে, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন কিংবা কঠিন শাস্তি দিবেন’? তারা বললো: ‘তোমাদের রবের নিকট ওযর পেশ করার জন্যে এবং যাতে তারা সাবধান হয়।’

7:165

فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِهٖۤ اَنْجَیْنَا الَّذِیْنَ یَنْهَوْنَ عَنِ السُّوْٓءِ وَاَخَذْنَا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا بِعَذَابٍۭ بَىِٕیْسٍ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ ۟

অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, যখন তারা তা ভুলে গেল, তখন যারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করত তাদেরকে আমি মুক্তি দিয়েছিলাম। আর যারা যুলম করেছিল, তাদেরকে আমি কঠোর শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম, কারণ তারা পাপাচারে লিপ্ত ছিল।

7:166

فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَّا نُهُوْا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُوْنُوْا قِرَدَةً خٰسِىِٕیْنَ ۟

অতঃপর যখন তারা নিষিদ্ধ কাজ সীমালঙ্ঘনের সাথে করতে লাগল, তখন আমি তাদেরকে বললাম: ‘তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।’

7:167

وَاِذْ تَاَذَّنَ رَبُّكَ لَیَبْعَثَنَّ عَلَیْهِمْ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ مَنْ یَّسُوْمُهُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِ ؕ— اِنَّ رَبَّكَ لَسَرِیْعُ الْعِقَابِ ۖۚ— وَاِنَّهٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟

আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব ঘোষণা করলেন যে, অবশ্যই তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের ওপর এমন লোকদেরকে পাঠাবেন , যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে।(৪৭) আর নিশ্চয় তোমার রব অত্যন্ত ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

7:168

وَقَطَّعْنٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اُمَمًا ۚ— مِنْهُمُ الصّٰلِحُوْنَ وَمِنْهُمْ دُوْنَ ذٰلِكَ ؗ— وَبَلَوْنٰهُمْ بِالْحَسَنٰتِ وَالسَّیِّاٰتِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ۟

আর আমি তাদেরকে জমিনে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করেছি; তাদের কেউ কেউ সৎকর্মপরায়ণ আর কেউ অন্য রকম । আর আমি তাদেরকে কল্যাণ ও অকল্যাণ(৪৮) দ্বারা পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা ফিরে আসে।

7:169

فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَّرِثُوا الْكِتٰبَ یَاْخُذُوْنَ عَرَضَ هٰذَا الْاَدْنٰی وَیَقُوْلُوْنَ سَیُغْفَرُ لَنَا ۚ— وَاِنْ یَّاْتِهِمْ عَرَضٌ مِّثْلُهٗ یَاْخُذُوْهُ ؕ— اَلَمْ یُؤْخَذْ عَلَیْهِمْ مِّیْثَاقُ الْكِتٰبِ اَنْ لَّا یَقُوْلُوْا عَلَی اللّٰهِ اِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوْا مَا فِیْهِ ؕ— وَالدَّارُ الْاٰخِرَةُ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ ؕ— اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ۟

অতঃপর একটি নিকৃষ্ট দল একের পর এক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা এ নগণ্য (দুনিয়ার) সামগ্রী গ্রহণ করে। আর তারা বলে: ‘শীঘ্রই আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ কিন্তু পরক্ষণে যদি অনুরূপ সামগ্রী তাদের সামনে আসে তবে তারা তা গ্রহণ করবে। তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া কোন কথা বলবে না? আর তারা তো কিতাবে যা আছে, তা পাঠ করেছে। যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে চলে আখিরাতের আবাস তাদের জন্য উত্তম। তোমরা কি বুঝ না?

7:170

وَالَّذِیْنَ یُمَسِّكُوْنَ بِالْكِتٰبِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوةَ ؕ— اِنَّا لَا نُضِیْعُ اَجْرَ الْمُصْلِحِیْنَ ۟

আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সালাত কায়িম করে। নিশ্চয় আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।

7:171

وَاِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَاَنَّهٗ ظُلَّةٌ وَّظَنُّوْۤا اَنَّهٗ وَاقِعٌ بِهِمْ ۚ— خُذُوْا مَاۤ اٰتَیْنٰكُمْ بِقُوَّةٍ وَّاذْكُرُوْا مَا فِیْهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ ۟۠

আর স্মরণ করো, যখন আমি তাদের ওপর পাহাড় তুলে ধরলাম, যেন তা একখণ্ড মেঘ এবং তারা মনে করল যে, নিশ্চয় তা তাদের ওপর ভেঙ্গে পড়বে। ‘আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা শক্তভাবে ধরো এবং তাতে যা আছে, তা স্মরণ করো। আশা করা যায়, তোমরা তাকওয়াবান হতে পারবে।’

7:172

وَاِذْ اَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِیْۤ اٰدَمَ مِنْ ظُهُوْرِهِمْ ذُرِّیَّتَهُمْ وَاَشْهَدَهُمْ عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ ۚ— اَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ ؕ— قَالُوْا بَلٰی ۛۚ— شَهِدْنَا ۛۚ— اَنْ تَقُوْلُوْا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ اِنَّا كُنَّا عَنْ هٰذَا غٰفِلِیْنَ ۟ۙ

আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব আদম-সন্তানের পিঠ থেকে তাদের বংশধরকে বের করেছিলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর নিজেদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা সমস্বরে বলেছিলো: ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা সাক্ষী রইলাম।’ এটা এ জন্যে যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন বলতে না পারো: ‘আমরা তো এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম।’

7:173

اَوْ تَقُوْلُوْۤا اِنَّمَاۤ اَشْرَكَ اٰبَآؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّیَّةً مِّنْ بَعْدِهِمْ ۚ— اَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُوْنَ ۟

অথবা তোমরা যাতে বলতে না পারো: ‘আমাদের পিতৃ-পুরুষরাই পূর্বে শিরক করেছে, আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর। তবে কি বাতিলপন্থিরা যে আমল করেছে, তার কারণে আপনি কি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন’?

7:174

وَكَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ وَلَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ۟

আর আমি এভাবেই আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি, যাতে তারা ফিরে আসে।

7:175

وَاتْلُ عَلَیْهِمْ نَبَاَ الَّذِیْۤ اٰتَیْنٰهُ اٰیٰتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَاَتْبَعَهُ الشَّیْطٰنُ فَكَانَ مِنَ الْغٰوِیْنَ ۟

আর তুমি তাদেরকে সে ব্যক্তির(৪৯) সংবাদ পাঠ করে শোনাও, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে তা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতঃপর শয়তান তার পেছনে লাগে। ফলে সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।

7:176

وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنٰهُ بِهَا وَلٰكِنَّهٗۤ اَخْلَدَ اِلَی الْاَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوٰىهُ ۚ— فَمَثَلُهٗ كَمَثَلِ الْكَلْبِ ۚ— اِنْ تَحْمِلْ عَلَیْهِ یَلْهَثْ اَوْ تَتْرُكْهُ یَلْهَثْ ؕ— ذٰلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ۚ— فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ یَتَفَكَّرُوْنَ ۟

আর আমি ইচ্ছা করলে উক্ত নিদর্শনাবলীর দ্বারা তাকে অবশ্যই উচ্চ মর্যাদা দিতাম; কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং সে তার কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে, কুকুরের মতো । যদি তার ওপর বোঝা চাপিয়ে দাও, তাহলে সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে, আর বোঝা না চাপালেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে। এটি হচ্ছে সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব, তুমি এ ঘটনাগুলো তাদের কাছে বর্ণনা করো, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করতে পারে।

7:177

سَآءَ مَثَلَا ١لْقَوْمُ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَاَنْفُسَهُمْ كَانُوْا یَظْلِمُوْنَ ۟

সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত কতই না মন্দ! যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করে। আর তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতিই যুলম করত।

7:178

مَنْ یَّهْدِ اللّٰهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِیْ ۚ— وَمَنْ یُّضْلِلْ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ ۟

আল্লাহ যাকে সঠিক পথ দেখান, সে-ই সঠিক পথ পায় এবং তিনি যাদেরকে পথভ্রষ্ট করেন, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

7:179

وَلَقَدْ ذَرَاْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِیْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ ۖؗ— لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ بِهَا ؗ— وَلَهُمْ اَعْیُنٌ لَّا یُبْصِرُوْنَ بِهَا ؗ— وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا یَسْمَعُوْنَ بِهَا ؕ— اُولٰٓىِٕكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ ؕ— اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ ۟

আর আমি অবশ্যই বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর আছে; কিন্তু তা দ্বারা তারা অনুধাবন করতে পারে না। তাদের চোখ আছে; তবে তা দ্বারা তারাদেখে না। আর তাদের কান আছে; কিন্তু তা দ্বারা তারা শুনে না। মূলত তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তারা এর চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হচ্ছে প্রকৃত গাফিল।

7:180

وَلِلّٰهِ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی فَادْعُوْهُ بِهَا ۪— وَذَرُوا الَّذِیْنَ یُلْحِدُوْنَ فِیْۤ اَسْمَآىِٕهٖ ؕ— سَیُجْزَوْنَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟

আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করো। অচিরেই তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেয়া হবে।

7:181

وَمِمَّنْ خَلَقْنَاۤ اُمَّةٌ یَّهْدُوْنَ بِالْحَقِّ وَبِهٖ یَعْدِلُوْنَ ۟۠

আর আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একদল আছে, যারা ন্যায়ভাবে সঠিক পথ দেখায় এবং তার ভিত্তিতেই ন্যায়বিচার করে।

7:182

وَالَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَیْثُ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟ۚ

আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে এমনভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না।

7:183

وَاُمْلِیْ لَهُمْ ؕ— اِنَّ كَیْدِیْ مَتِیْنٌ ۟

আর আমি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি। নিশ্চয় আমার কৌশল অতি শক্তিশালী।

7:184

اَوَلَمْ یَتَفَكَّرُوْا ٚ— مَا بِصَاحِبِهِمْ مِّنْ جِنَّةٍ ؕ— اِنْ هُوَ اِلَّا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ۟

তারা কি কখনো চিন্তা-ভাবনা করেনি যে, তাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন মস্তিষ্ক বিকৃতি নেই; সে তো স্পষ্ট সতর্ককারী।

7:185

اَوَلَمْ یَنْظُرُوْا فِیْ مَلَكُوْتِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللّٰهُ مِنْ شَیْءٍ ۙ— وَّاَنْ عَسٰۤی اَنْ یَّكُوْنَ قَدِ اقْتَرَبَ اَجَلُهُمْ ۚ— فَبِاَیِّ حَدِیْثٍ بَعْدَهٗ یُؤْمِنُوْنَ ۟

তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌম কর্তৃত্ব সম্পর্কে এবং এতদুভয়ের মাঝে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সে সম্পর্কে? আর এর প্রতি যে, হয়তো তাদের নির্ধারিত সময় নিকটে এসে গিয়েছে?(৫০) সুতরাং তারাএরপর আর কোন কথার প্রতি ঈমান আনবে?

7:186

مَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَا هَادِیَ لَهٗ ؕ— وَیَذَرُهُمْ فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ ۟

আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন হিদায়াতকারী নেই এবং তিনি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায়(৫১) ছেড়ে দেন, ফলে তারা দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

7:187

یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ السَّاعَةِ اَیَّانَ مُرْسٰىهَا ؕ— قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّیْ ۚ— لَا یُجَلِّیْهَا لِوَقْتِهَاۤ اِلَّا هُوَ ؔؕۘ— ثَقُلَتْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— لَا تَاْتِیْكُمْ اِلَّا بَغْتَةً ؕ— یَسْـَٔلُوْنَكَ كَاَنَّكَ حَفِیٌّ عَنْهَا ؕ— قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللّٰهِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟

তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে: ‘তা কখন সংঘটিত হবে’? তুমি বলো: ‘এর জ্ঞান তো রয়েছে আমার রবের নিকট। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। আসমানসমূহ ও জমিনের ওপর তা অত্যন্ত কঠিন হবে। সেটি তোমাদের কাছে আকস্মিক এসে পড়বে। তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে যেন, তুমি এ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত আছো। তুমি বলো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’

7:188

قُلْ لَّاۤ اَمْلِكُ لِنَفْسِیْ نَفْعًا وَّلَا ضَرًّا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُ ؕ— وَلَوْ كُنْتُ اَعْلَمُ الْغَیْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَیْرِ ۛۚ— وَمَا مَسَّنِیَ السُّوْٓءُ ۛۚ— اِنْ اَنَا اِلَّا نَذِیْرٌ وَّبَشِیْرٌ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟۠

তুমি বলো: ‘আমি আমার নিজের কোনো উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। আর আমি যদি গায়িবের খবর জানতাম, তাহলে আমি অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোনো ক্ষতিই স্পর্শ করতো না। আমি তো ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে) একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আর কিছুই নই।

7:189

هُوَ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ وَّجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِیَسْكُنَ اِلَیْهَا ۚ— فَلَمَّا تَغَشّٰىهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِیْفًا فَمَرَّتْ بِهٖ ۚ— فَلَمَّاۤ اَثْقَلَتْ دَّعَوَا اللّٰهَ رَبَّهُمَا لَىِٕنْ اٰتَیْتَنَا صَالِحًا لَّنَكُوْنَنَّ مِنَ الشّٰكِرِیْنَ ۟

তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে তার কাছে প্রশান্তি পায়। অতঃপর যখন স্বামী তার স্ত্রীর সাথে মিলন করলো, তখন সে হালকা গর্ভধারণ করলো এবং এটা নিয়ে সে অনায়াসে চলাফেরা করতে লাগল। অতঃপর গর্ভ যখন বড় হয়ে ভারী হয়ে আসে তখন তারা উভয়ে তাদের রব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, ‘যদি আপনি আমাদেরকে একটি পূর্ণাঙ্গ সুসন্তান দান করেন, তাহলে অবশ্যই আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।’

7:190

فَلَمَّاۤ اٰتٰىهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهٗ شُرَكَآءَ فِیْمَاۤ اٰتٰىهُمَا ۚ— فَتَعٰلَی اللّٰهُ عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ۟

অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে এক পূর্ণাঙ্গ সুসন্তান দান করেন, তখন তারা তাদেরকে যা দেয়া হয়েছে, সেটাতে আল্লাহর বহু শরিক নির্ধারণ করে।(৫২) কিন্তু তারা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করে, তিনি তাদের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।

7:191

اَیُشْرِكُوْنَ مَا لَا یَخْلُقُ شَیْـًٔا وَّهُمْ یُخْلَقُوْنَ ۟ۚ

তারা কি এমন বস্তুকে আল্লাহর শরিক বানাচ্ছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না? বরং এরা নিজেরাই সৃষ্ট।

7:192

وَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ لَهُمْ نَصْرًا وَّلَاۤ اَنْفُسَهُمْ یَنْصُرُوْنَ ۟

এরা না তাদেরকে সাহায্য করতে করতে পারে, আর না নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে।(৫৩)

7:193

وَاِنْ تَدْعُوْهُمْ اِلَی الْهُدٰی لَا یَتَّبِعُوْكُمْ ؕ— سَوَآءٌ عَلَیْكُمْ اَدَعَوْتُمُوْهُمْ اَمْ اَنْتُمْ صَامِتُوْنَ ۟

আর তোমরা তাদেরকে সৎপথে ডাকলেও তারা তোমাদেরকে অনুসরণ করবে না। তোমরা ওদেরকে ডাক বা চুপ থাক, তোমাদের জন্য উভয়ই সমান(৫৪)।

7:194

اِنَّ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ عِبَادٌ اَمْثَالُكُمْ فَادْعُوْهُمْ فَلْیَسْتَجِیْبُوْا لَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟

আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা তো তোমাদেরই মত বান্দা।(৫৫) সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাকতে থাকো, অতঃপর তারা যেনো তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

7:195

اَلَهُمْ اَرْجُلٌ یَّمْشُوْنَ بِهَاۤ ؗ— اَمْ لَهُمْ اَیْدٍ یَّبْطِشُوْنَ بِهَاۤ ؗ— اَمْ لَهُمْ اَعْیُنٌ یُّبْصِرُوْنَ بِهَاۤ ؗ— اَمْ لَهُمْ اٰذَانٌ یَّسْمَعُوْنَ بِهَا ؕ— قُلِ ادْعُوْا شُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ كِیْدُوْنِ فَلَا تُنْظِرُوْنِ ۟

ওদের কি পা আছে, যা দিয়ে ওরা চলে? ওদের কি হাত আছে, যা দিয়ে ওরা ধরে? কিংবা ওদের কি চোখ আছে, যা দিয়ে ওরা দেখে? কিংবা ওদের কি কান আছে, যা দিয়ে ওরা শুনে? বলো: ‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক করেছো তাদেরকে ডাকো, তারপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো এবং আমাকে অবকাশ দিও না।’

7:196

اِنَّ وَلِیِّ اللّٰهُ الَّذِیْ نَزَّلَ الْكِتٰبَ ۖؗ— وَهُوَ یَتَوَلَّی الصّٰلِحِیْنَ ۟

নিশ্চয় আমার অভিভাবক তো হলেন সেই আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তিনিই সৎকর্মপরায়ণদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন।

7:197

وَالَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَكُمْ وَلَاۤ اَنْفُسَهُمْ یَنْصُرُوْنَ ۟

আর তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে ডাকো, তারা তোমাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে না এবং তারা নিজেদেরকেও সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে না।(৫৬)

7:198

وَاِنْ تَدْعُوْهُمْ اِلَی الْهُدٰی لَا یَسْمَعُوْا ؕ— وَتَرٰىهُمْ یَنْظُرُوْنَ اِلَیْكَ وَهُمْ لَا یُبْصِرُوْنَ ۟

আর যদি তোমরা তাদেরকে সৎপথের দিকে আহ্বান করো, তবে তারা কিছুই শুনতে পাবে না। আর তুমি দেখতে পাবে যে, তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে; অথচ তারা দেখে না।

7:199

خُذِ الْعَفْوَ وَاْمُرْ بِالْعُرْفِ وَاَعْرِضْ عَنِ الْجٰهِلِیْنَ ۟

তুমি ক্ষমা প্রদর্শন করো এবং ভালো কাজের আদেশ দাও। আর মূর্খদের উপেক্ষা করে চলো।(৫৭)

7:200

وَاِمَّا یَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّیْطٰنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ ؕ— اِنَّهٗ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ ۟

আর যদি শয়তানের কোন কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

7:201

اِنَّ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا اِذَا مَسَّهُمْ طٰٓىِٕفٌ مِّنَ الشَّیْطٰنِ تَذَكَّرُوْا فَاِذَا هُمْ مُّبْصِرُوْنَ ۟ۚ

নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে(৫৮), তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।(৫৯)

7:202

وَاِخْوَانُهُمْ یَمُدُّوْنَهُمْ فِی الْغَیِّ ثُمَّ لَا یُقْصِرُوْنَ ۟

আর সঙ্গী-সাথীরা তাদেরকে ভ্রষ্টতার দিকে টেনে নিয়ে যায়। অতঃপর এ বিষয়ে(৬০) তারা কোনো ত্রুটি করে না।

7:203

وَاِذَا لَمْ تَاْتِهِمْ بِاٰیَةٍ قَالُوْا لَوْلَا اجْتَبَیْتَهَا ؕ— قُلْ اِنَّمَاۤ اَتَّبِعُ مَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ مِنْ رَّبِّیْ ۚ— هٰذَا بَصَآىِٕرُ مِنْ رَّبِّكُمْ وَهُدًی وَّرَحْمَةٌ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟

তুমি যখন তাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে না আসো, তখন তারা বলে: ‘তুমি নিজেই একটি নিদর্শন বানিয়ে নাও না কেন?’ বলো: ‘আমার রবের পক্ষ থেকে যা আমার কাছে ওহী হিসেবে প্রেরণ করা হয়, আমি তো শুধু তারই অনুসরণ করি। এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ। আর তা হিদায়াত ও রহমত এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা ঈমান আনে।’

7:204

وَاِذَا قُرِئَ الْقُرْاٰنُ فَاسْتَمِعُوْا لَهٗ وَاَنْصِتُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ ۟

আর যখন আল-কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমরা রহমত লাভ করো।

7:205

وَاذْكُرْ رَّبَّكَ فِیْ نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَّخِیْفَةً وَّدُوْنَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغٰفِلِیْنَ ۟

আর তুমি তোমার রবকে সকাল-সন্ধ্যায় নিজ মনে স্মরণ করো, অনুনয়বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চস্বরে। উপরন্তু গাফিল হয়ো না।

7:206

اِنَّ الَّذِیْنَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِهٖ وَیُسَبِّحُوْنَهٗ وَلَهٗ یَسْجُدُوْنَ ۟

নিশ্চয় তোমার রবের সান্নিধ্যে যারা আছে, তারা তাঁর ইবাদাতের ব্যাপারে অহংকার করে না এবং তারা তাঁরই তাসবীহ পাঠ করে। আর তাঁর জন্যই সাজদা করে।

Sources: Bangla translation: Rowwad Translation Center, QuranEnc.com — quranenc.com (fetched 2026-10-18) Hanafi font: DigitalKhatt IndoPak © Amine Anane, Tarteel Inc. (SIL OFL 1.1) — github.com (downloaded 2026-10-18) Madinah font: AlQuran-IndoPak by QuranWBW — github.com (v4.2.2) Quran text (Hanafi): Quranic Universal Library (QUL) by Tarteel — qul.tarteel.ai (downloaded 2026-10-18) Quran text (Madinah): Ayman Siddiqui & R. Siddiqua, QuranWBW.com / Quran.com — github.com (v9.6.1) Surah and para data: Tanzil.net (CC BY 3.0) — tanzil.net (1.0) Recitation: Abdur-Rahman as-Sudais — everyayah.com Recitation: Mishary Rashid Alafasy — everyayah.com Recitation: Abdul Basit Abdus-Samad (Murattal) — everyayah.com

The Quran between work — inside KarbarX

Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.

Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time