KarbarX
English ফ্রি ট্রায়াল

10. Yunus يونس

Jonas · 109 আয়াত

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟

10:1

الٓرٰ ۫— تِلْكَ اٰیٰتُ الْكِتٰبِ الْحَكِیْمِ ۟

আলিফ-লাম-রা। এগুলো সুদৃঢ় (সুস্পষ্ট) কিতাবের আয়াত।

10:2

اَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا اَنْ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی رَجُلٍ مِّنْهُمْ اَنْ اَنْذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؔؕ— قَالَ الْكٰفِرُوْنَ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ مُّبِیْنٌ ۟

এটা কি মানুষের জন্য আশ্চর্যের বিষয় যে, আমি তাদের মধ্য থেকেই একজনের কাছে অহী প্রেরণ করেছি এ মর্মে যে, ‘তুমি মানুষকে (আল্লাহর শাস্তি থেকে) সতর্ক করো এবং মু’মিনদেরকে এ সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে উঁচু মর্যাদা।’ (এর পরিপ্রেক্ষিতে) কাফিররা বলতে লাগলো: ‘এ তো এক সুস্পষ্ট যাদুকর!’

10:3

اِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ فِیْ سِتَّةِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ یُدَبِّرُ الْاَمْرَ ؕ— مَا مِنْ شَفِیْعٍ اِلَّا مِنْ بَعْدِ اِذْنِهٖ ؕ— ذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ ؕ— اَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ ۟

‘নিশ্চয় তোমাদের রব হলেন সেই আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি ‘আরশের ওপর উঠলেন। তিনি সব বিষয় একাই সিদ্ধান্ত নেন ও পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ব্যতীত কোন সুপারিশকারী সুপারিশ করতে পারে না। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা (একনিষ্ঠভাবে) তাঁরই ইবাদত করো। (তাঁর একত্ববাদের ওপর এতো দলিল-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও) তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

10:4

اِلَیْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِیْعًا ؕ— وَعْدَ اللّٰهِ حَقًّا ؕ— اِنَّهٗ یَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ لِیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ بِالْقِسْطِ ؕ— وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِیْمٍ وَّعَذَابٌ اَلِیْمٌ بِمَا كَانُوْا یَكْفُرُوْنَ ۟

(কিয়ামতের দিন) তাঁরই কাছে তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে।(১) আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। তিনিই (পূর্বের নমুনা ব্যতীত) সৃষ্টিকে প্রথম অস্তিত্বে আনেন, মৃত্যুর পর তিনি আবার তাকে সৃষ্টি করবেন, যাতে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদেরকে ইনসাফপূর্ণ প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য রয়েছে, অত্যন্ত গরম পানীয় (যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে ফেলবে)। উপরন্তু (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাথে) কুফরি করার কারণে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

10:5

هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ الشَّمْسَ ضِیَآءً وَّالْقَمَرَ نُوْرًا وَّقَدَّرَهٗ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوْا عَدَدَ السِّنِیْنَ وَالْحِسَابَ ؕ— مَا خَلَقَ اللّٰهُ ذٰلِكَ اِلَّا بِالْحَقِّ ۚ— یُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ ۟

তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিমান ও চাঁদকে আলোকময় এবং তার জন্য মনযিল(১) নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তোমরা (চন্দ্র ও সূর্যের মাধ্যমে) বছর গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এগুলোকে (অনর্থকভাবে নয়; বরং) উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানীদের জন্যে এসব নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করেন।

10:6

اِنَّ فِی اخْتِلَافِ الَّیْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللّٰهُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَّقُوْنَ ۟

নিশ্চয় দিন ও রাতের আবর্তনে(২) এবং আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাতে নিদর্শন রয়েছে, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্যকারী মুত্তাকী সম্প্রদায়ের জন্য।

10:7

اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا وَرَضُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَاطْمَاَنُّوْا بِهَا وَالَّذِیْنَ هُمْ عَنْ اٰیٰتِنَا غٰفِلُوْنَ ۟ۙ

নিশ্চয় যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, (আখিরাতের স্থায়ী জীবনের পরিবর্তে) দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট হয়েছে এবং এতেই পরিতৃপ্ত থাকে, আর যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে গাফিল।

10:8

اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ ۟

তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম।

10:9

اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ یَهْدِیْهِمْ رَبُّهُمْ بِاِیْمَانِهِمْ ۚ— تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ ۟

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের রব তাদের ঈমান আনার কারণে তাদেরকে উত্তম আমলের পথ দেখান, (যা তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে পৌঁছিয়ে দেয়)। উপরন্তু আল্লাহ তাদেরকে (কিয়ামতের দিন) নিয়ামতে ভরপুর স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেখানে তাদের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে, নদ-নদী-ঝর্ণাধারা।

10:10

دَعْوٰىهُمْ فِیْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِیَّتُهُمْ فِیْهَا سَلٰمٌ ۚ— وَاٰخِرُ دَعْوٰىهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟۠

সেখানে (জান্নাতে) তাদের দু‘আ হবে: ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা’ (হে আল্লাহ! আপনি মহান, পবিত্র।) এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে: ‘সালাম’ (শান্তি ও নিরাপত্তা হোক!) আর তাদের দু‘আর পরিসমাপ্তি হবে: ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামীন!’

10:11

وَلَوْ یُعَجِّلُ اللّٰهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَیْرِ لَقُضِیَ اِلَیْهِمْ اَجَلُهُمْ ؕ— فَنَذَرُ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ ۟

আর (ভেবে দেখো,) আল্লাহ যদি মানুষের (রাগের সময় কৃত) অকল্যাণের দু‘আ দ্রুত কবুল করেন, যেভাবে তিনি তাদের কল্যাণের দু‘আ দ্রুত কবুল করেন, তবে অবশ্যই তাদের ধ্বংসের সময় এসে যেত।(৩) কাজেই যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, তাদেরকে আমি তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দেই।

10:12

وَاِذَا مَسَّ الْاِنْسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنْۢبِهٖۤ اَوْ قَاعِدًا اَوْ قَآىِٕمًا ۚ— فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهٗ مَرَّ كَاَنْ لَّمْ یَدْعُنَاۤ اِلٰی ضُرٍّ مَّسَّهٗ ؕ— كَذٰلِكَ زُیِّنَ لِلْمُسْرِفِیْنَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟

আর মানুষকে যখন দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। অতঃপর আমি যখন (প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে) তার দুঃখ-দুর্দশা দূর করি, তখন সে এমনভাবে চলতে থাকে, যেন তাকে স্পর্শ করা দুঃখ-দুর্দশার প্রতি আমাকে ডাকেইনি। এভাবে(৪) সীমালংঘনকারীদের কর্মসমূহ তাদের কাছে শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে।(৫)

10:13

وَلَقَدْ اَهْلَكْنَا الْقُرُوْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَمَّا ظَلَمُوْا ۙ— وَجَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ وَمَا كَانُوْا لِیُؤْمِنُوْا ؕ— كَذٰلِكَ نَجْزِی الْقَوْمَ الْمُجْرِمِیْنَ ۟

আর (হে মুশরিকরা!) অবশ্যই আমি তোমাদের আগে বহু জাতিকে ধ্বংস করেছি, যখন তারা যুলম করেছিল। আর তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল; কিন্তু তারা ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এভাবে আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি।(৬)

10:14

ثُمَّ جَعَلْنٰكُمْ خَلٰٓىِٕفَ فِی الْاَرْضِ مِنْ بَعْدِهِمْ لِنَنْظُرَ كَیْفَ تَعْمَلُوْنَ ۟

তারপর আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি, তোমরা কীরূপ কাজ করো তা দেখার জন্যে।

10:15

وَاِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیَاتُنَا بَیِّنٰتٍ ۙ— قَالَ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا ائْتِ بِقُرْاٰنٍ غَیْرِ هٰذَاۤ اَوْ بَدِّلْهُ ؕ— قُلْ مَا یَكُوْنُ لِیْۤ اَنْ اُبَدِّلَهٗ مِنْ تِلْقَآئِ نَفْسِیْ ۚ— اِنْ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ ۚ— اِنِّیْۤ اَخَافُ اِنْ عَصَیْتُ رَبِّیْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟

আর যখন আমার (একত্ববাদ প্রমাণকারী) সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তাদের কাছে পাঠ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, তারা বলে: ‘(হে মুহাম্মাদ! তুমি) এটির পরিবর্তে অন্য এক কুরআন নিয়ে আসো(৭) অথবা এর মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন করো।' (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘নিজে থেকে এটা পরিবর্তন ও রূপান্তর করা আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা অহী নাযিল হয়, আমি শুধু তারই অনুসরণ করি। আমি আমার রবের অবাধ্যতা করলে, অবশ্যই (কিয়ামতের) মহা দিনের শাস্তির আশঙ্কা করি।’

10:16

قُلْ لَّوْ شَآءَ اللّٰهُ مَا تَلَوْتُهٗ عَلَیْكُمْ وَلَاۤ اَدْرٰىكُمْ بِهٖ ۖؗۗ— فَقَدْ لَبِثْتُ فِیْكُمْ عُمُرًا مِّنْ قَبْلِهٖ ؕ— اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ۟

(হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘আল্লাহ যদি চাইতেন, আমিও তোমাদের কাছে এটা তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনিও তোমাদেরকে এ বিষয়ে জানাতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মধ্যে জীবনের দীর্ঘকাল অবস্থান করেছি।(৮) তবুও কি তোমরা বুঝতে পার না?’(৯)

10:17

فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ كَذَّبَ بِاٰیٰتِهٖ ؕ— اِنَّهٗ لَا یُفْلِحُ الْمُجْرِمُوْنَ ۟

অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রটায় বা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে! নিশ্চয় (সীমারেখা অতিক্রমকারী) অপরাধীরা সফলকাম হবে না।

10:18

وَیَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَضُرُّهُمْ وَلَا یَنْفَعُهُمْ وَیَقُوْلُوْنَ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنْدَ اللّٰهِ ؕ— قُلْ اَتُنَبِّـُٔوْنَ اللّٰهَ بِمَا لَا یَعْلَمُ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الْاَرْضِ ؕ— سُبْحٰنَهٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ۟

আর তারা (মুশরিকরা) আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ‘ইবাদত করছে, যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। উপরন্তু তারা বলে: ‘এগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।‘ (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘তোমরা কি (সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত) আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছো, যা তিনি জানেন না? তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে (তাঁর সাথে মিথ্যা) শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।

10:19

وَمَا كَانَ النَّاسُ اِلَّاۤ اُمَّةً وَّاحِدَةً فَاخْتَلَفُوْا ؕ— وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَّبِّكَ لَقُضِیَ بَیْنَهُمْ فِیْمَا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ۟

আর সকল মানুষ একই উম্মত (একত্ববাদী মু’মিন) ছিল। অতঃপর তারা (বিভিন্ন বিষয়ে ) মতানৈক্য সৃষ্টি করে।(১০) আর তোমার রবের পূর্ব থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না থাকলে তারা যে বিষয়ে মতানৈক্য ঘটায়, তার মীমাংসা তো (দুনিয়াতেই) হয়েই যেত।(১১)

10:20

وَیَقُوْلُوْنَ لَوْلَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْهِ اٰیَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ ۚ— فَقُلْ اِنَّمَا الْغَیْبُ لِلّٰهِ فَانْتَظِرُوْا ۚ— اِنِّیْ مَعَكُمْ مِّنَ الْمُنْتَظِرِیْنَ ۟۠

আর তারা (মুশরিকরা) বলে: ‘মুহাম্মাদের ওপর কেন তার রবের পক্ষ থেকে (তার সত্যতা প্রমাণকারী) নিদর্শন নাযিল হয় না?’ (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘গায়িবের জ্ঞান তো শুধু আল্লাহরই আছে। কাজেই তোমরা (প্রস্তাবিত নিদর্শনসমূহের) অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।’

10:21

وَاِذَاۤ اَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً مِّنْ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُمْ اِذَا لَهُمْ مَّكْرٌ فِیْۤ اٰیَاتِنَا ؕ— قُلِ اللّٰهُ اَسْرَعُ مَكْرًا ؕ— اِنَّ رُسُلَنَا یَكْتُبُوْنَ مَا تَمْكُرُوْنَ ۟

আর (মানুষের স্বভাব হলো) দুঃখ-দুর্দশা তাদেরকে স্পর্শ করার পর যখন আমি মানুষকে (বৃষ্টি ও সজীবতার মাধ্যমে আমার) রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তারা তখনই আমার আয়াতসমূহের বিরুদ্ধে কূটকৌশল করে। (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘কৌশল অবলম্বনে আল্লাহ আরো বেশি দ্রুততর।‘ নিশ্চয় তোমরা যে কূটকৌশল করো, তা আমার (সংরক্ষণকারী) ফিরিশতারা লিখে রাখে।

10:22

هُوَ الَّذِیْ یُسَیِّرُكُمْ فِی الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ؕ— حَتّٰۤی اِذَا كُنْتُمْ فِی الْفُلْكِ ۚ— وَجَرَیْنَ بِهِمْ بِرِیْحٍ طَیِّبَةٍ وَّفَرِحُوْا بِهَا جَآءَتْهَا رِیْحٌ عَاصِفٌ وَّجَآءَهُمُ الْمَوْجُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَّظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ اُحِیْطَ بِهِمْ ۙ— دَعَوُا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ۚ۬— لَىِٕنْ اَنْجَیْتَنَا مِنْ هٰذِهٖ لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الشّٰكِرِیْنَ ۟

একমাত্র আল্লাহই তোমাদেরকে জলে-স্থলে (পদযুগলে, পশুর পিঠে এবং নৌকা বা জাহাজে ) ভ্রমণ করান। এমনকি তোমরা যখন নৌযানে আরোহণ করো এবং সেগুলো তোমাদের নিয়ে অনুকূল আবহাওয়ায় (সাগরে) চলতে থাকলে, আরোহীরা আনন্দিত হয়। তারপর যখন ঝড়-বাতাস বইতে শুরু করে এবং চারদিক থেকে সাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা ধেয়ে আসে, আর তারা নিশ্চিত ধারণা করে যে, এবার তারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে (এবং তারা ধ্বংস হবে), তখন নিজেদের আনুগত্যকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারণ করে(১২) একমাত্র তাঁকেই ডাকতে থাকে এবং বলে: ‘আপনি যদি আমাদের এ থেকে উদ্ধার করেন, তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’

10:23

فَلَمَّاۤ اَنْجٰىهُمْ اِذَا هُمْ یَبْغُوْنَ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ ؕ— یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّمَا بَغْیُكُمْ عَلٰۤی اَنْفُسِكُمْ ۙ— مَّتَاعَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؗ— ثُمَّ اِلَیْنَا مَرْجِعُكُمْ فَنُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟

অতঃপর তিনি যখন (দু‘আ কবুল করে) তাদেরকে বিপদমুক্ত করেন তখন তারা (কুফরি, গুনাহ ও পাপে নিমজ্জিত হয়ে) জমিনে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করতে থাকে। হে মানুষ! তোমাদের সীমালঙ্ঘন কেবল তোমাদের নিজেদের ওপরই বর্তাবে।(১৩) এর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনের সুখ ভোগ করে নাও, পরে (কিয়ামতের দিন) আমারই কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। তখন আমি তোমাদেরকে তোমাদের আমলসমূহ জানিয়ে দিবো।

10:24

اِنَّمَا مَثَلُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا كَمَآءٍ اَنْزَلْنٰهُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخْتَلَطَ بِهٖ نَبَاتُ الْاَرْضِ مِمَّا یَاْكُلُ النَّاسُ وَالْاَنْعَامُ ؕ— حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذَتِ الْاَرْضُ زُخْرُفَهَا وَازَّیَّنَتْ وَظَنَّ اَهْلُهَاۤ اَنَّهُمْ قٰدِرُوْنَ عَلَیْهَاۤ ۙ— اَتٰىهَاۤ اَمْرُنَا لَیْلًا اَوْ نَهَارًا فَجَعَلْنٰهَا حَصِیْدًا كَاَنْ لَّمْ تَغْنَ بِالْاَمْسِ ؕ— كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ ۟

(আসলে) দুনিয়ার জীবনের (আনন্দ-উল্লাস দ্রুত নিঃশেষ হওয়ার) উদাহরণ তো এরূপ যেমন আমি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি, যা দ্বারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে উদ্‌গত হয়, যা থেকে মানুষ ও জীব-জন্তু খেয়ে থাকে। তারপর যখন জমিন তার সজীবতা ধারণ করে রকমারি উদ্ভিদে সুশোভিত ও নয়নাভিরাম হলো, তখন তার মালিকরা মনে করে যে, সেটা তাদের আয়ত্ত(১৪), তখন দিনে বা রাতে আমার (ধ্বংসের) নির্দেশ এসে পড়ে। তারপর আমি তা এমনভাবে নির্মূল করে দেই, যেন গতকালও সেটার অস্তিত্ব ছিল না। এভাবে আমি (দুনিয়ার অবস্থা ও তা দ্রুত শেষ হওয়া সংক্রান্ত) আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

10:25

وَاللّٰهُ یَدْعُوْۤا اِلٰی دَارِ السَّلٰمِ ؕ— وَیَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۟

আর আল্লাহ (মানুষকে) শান্তির আবাস জান্নাতের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছে, সরল পথে পরিচালিত করেন।

10:26

لِلَّذِیْنَ اَحْسَنُوا الْحُسْنٰی وَزِیَادَةٌ ؕ— وَلَا یَرْهَقُ وُجُوْهَهُمْ قَتَرٌ وَّلَا ذِلَّةٌ ؕ— اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ ۚ— هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۟

যারা ইহসানের সাথে আমল করে তাদের জন্য আছে জান্নাত এবং আরো বেশী (আল্লাহর দর্শন)। (কিয়ামতের দিনে) কোনো কলঙ্ক-কালিমা এবং লাঞ্ছনা ও অবমাননা তাদের মুখমণ্ডলকে আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

10:27

وَالَّذِیْنَ كَسَبُوا السَّیِّاٰتِ جَزَآءُ سَیِّئَةٍ بِمِثْلِهَا ۙ— وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ؕ— مَا لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ عَاصِمٍ ۚ— كَاَنَّمَاۤ اُغْشِیَتْ وُجُوْهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ الَّیْلِ مُظْلِمًا ؕ— اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ— هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۟

আর যারা মন্দ কাজ উপার্জন করেছে, একটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই সমান; আর লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের রক্ষা করার মতো কোনো আশ্রয়কারী থাকবে না। তাদের মুখমণ্ডল এমনভাবে আচ্ছাদিত হবে, যেন অন্ধকার রাতের টুকরো দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

10:28

وَیَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِیْعًا ثُمَّ نَقُوْلُ لِلَّذِیْنَ اَشْرَكُوْا مَكَانَكُمْ اَنْتُمْ وَشُرَكَآؤُكُمْ ۚ— فَزَیَّلْنَا بَیْنَهُمْ وَقَالَ شُرَكَآؤُهُمْ مَّا كُنْتُمْ اِیَّانَا تَعْبُدُوْنَ ۟

আর (হে রাসূল!) তুমি স্মরণ করো, যেদিন (কিয়ামতের দিন) আমি সকল সৃষ্টিকে একত্র করবো, অতঃপর মুশরিকদেরকে বলবো: ‘তোমরা এবং তোমরা যাদেরকে (আমার সাথে) শরীক করেছিলে, তারা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো।’ অতঃপর আমি তাদেরকে (‘ইবাদতকারী ও তাদের ভ্রান্ত মা’বূদদেরকে) পরস্পর থেকে পৃথক করে দিবো আর তারা যাদেরকে (যে-সব মা‘বূদদেরকে) শরীক করেছিল তারা (সম্পর্কচ্ছেদ করে) বলবে: ‘তোমরা তো (দুনিয়াতে) আমাদের ‘ইবাদাত করতে না।’

10:29

فَكَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًا بَیْنَنَا وَبَیْنَكُمْ اِنْ كُنَّا عَنْ عِبَادَتِكُمْ لَغٰفِلِیْنَ ۟

‘সুতরাং আল্লাহই আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। নিশ্চয় আমরা তোমাদের ‘ইবাদাত থেকে গাফিল ছিলাম।’(১৫)

10:30

هُنَالِكَ تَبْلُوْا كُلُّ نَفْسٍ مَّاۤ اَسْلَفَتْ وَرُدُّوْۤا اِلَی اللّٰهِ مَوْلٰىهُمُ الْحَقِّ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ۟۠

সেখানেই তারা প্রত্যেকে তাদের (দুনিয়ার জীবনের) নিজ নিজ কৃতকর্ম পরীক্ষা করে নিবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তখন তারা যে মূর্তিগুলোর সুপারিশের অমূলক দাবি করতো, তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

10:31

قُلْ مَنْ یَّرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ اَمَّنْ یَّمْلِكُ السَّمْعَ وَالْاَبْصَارَ وَمَنْ یُّخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَیُخْرِجُ الْمَیِّتَ مِنَ الْحَیِّ وَمَنْ یُّدَبِّرُ الْاَمْرَ ؕ— فَسَیَقُوْلُوْنَ اللّٰهُ ۚ— فَقُلْ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ ۟

(হে রাসূল! আল্লাহর সাথে শিরককারীদেরকে) বলে দাও:, ‘কে তোমাদেরকে আসমান (থেকে বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে) এবং জমিন থেকে (উদ্ভিদ উৎপন্ন করে) রিযক দেয়? অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বে আছে? কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন? এবং কে মৃতকে জীবিত হতে বের করেন? আর কে (আসমান ও জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝের) সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন?’ তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। সুতরাং তুমি তাদেরকে বলে দাও: ‘তোমরা কি এ ব্যাপারটি জেনেও (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে) তাঁকে ভয় করবে না?’

10:32

فَذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبُّكُمُ الْحَقُّ ۚ— فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ اِلَّا الضَّلٰلُ ۚ— فَاَنّٰی تُصْرَفُوْنَ ۟

অতএব, (হে মানুষ! যিনি এসব করেন) তিনিই আল্লাহ, তোমাদের সত্য রব। সত্য জানার পরে তা ত্যাগ করা, বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে? কাজেই (এ সুস্পষ্ট সত্য থেকে) তোমাদেরকে কোথায় ফেরানো হচ্ছে?

10:33

كَذٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَی الَّذِیْنَ فَسَقُوْۤا اَنَّهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ ۟

(হে নবী! দেখো) এমনিভাবে তোমার রবের বাণী সত্য বলে সাব্যস্ত হয়েছে তাদের ওপর, যারা অবাধ্য হয়েছে, যে তারা কখনো ঈমান আনবে না।

10:34

قُلْ هَلْ مِنْ شُرَكَآىِٕكُمْ مَّنْ یَّبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ ؕ— قُلِ اللّٰهُ یَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ فَاَنّٰی تُؤْفَكُوْنَ ۟

(হে রাসূল! তুমি মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে (পূর্ব নমুনা ছাড়া) প্রথম সৃষ্টি করে, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়?’(১৬) বলো: ‘আল্লাহই (পূর্ব নমুনা ছাড়া) প্রথম সৃষ্টি করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন।’ অতএব তোমাদেরকে (সত্য থেকে) কোথায় ফিরানো হচ্ছে?

10:35

قُلْ هَلْ مِنْ شُرَكَآىِٕكُمْ مَّنْ یَّهْدِیْۤ اِلَی الْحَقِّ ؕ— قُلِ اللّٰهُ یَهْدِیْ لِلْحَقِّ ؕ— اَفَمَنْ یَّهْدِیْۤ اِلَی الْحَقِّ اَحَقُّ اَنْ یُّتَّبَعَ اَمَّنْ لَّا یَهِدِّیْۤ اِلَّاۤ اَنْ یُّهْدٰی ۚ— فَمَا لَكُمْ ۫— كَیْفَ تَحْكُمُوْنَ ۟

(হে রাসূল! মুশরিকদেরকে) বলে দাও: ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে সত্যের পথ দেখায়? বলো: ‘আল্লাহই সত্যের পথ দেখান। অতএব, যিনি সত্যের পথ দেখান, তিনিই কি আনুগত্যের অধিকতর হকদার, নাকি সে (উপাস্য), যাকে পথ দেখানো ছাড়া পথই খুঁজে পায় না? সুতরাং তোমাদের কী হলো? তোমরা কেমন বিচার করছো?(১৭)

10:36

وَمَا یَتَّبِعُ اَكْثَرُهُمْ اِلَّا ظَنًّا ؕ— اِنَّ الظَّنَّ لَا یُغْنِیْ مِنَ الْحَقِّ شَیْـًٔا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِمَا یَفْعَلُوْنَ ۟

আর তাদের (মুশরিকদের) অধিকাংশ কেবল ধারণার অনুসরণ করে। নিশ্চয় সত্যের বিপরীতে ধারণা কোনো কাজে আসে না। তারা যা করে, সে বিষয়ে নিশ্চয় আল্লাহ সম্যক অবগত।

10:37

وَمَا كَانَ هٰذَا الْقُرْاٰنُ اَنْ یُّفْتَرٰی مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلٰكِنْ تَصْدِیْقَ الَّذِیْ بَیْنَ یَدَیْهِ وَتَفْصِیْلَ الْكِتٰبِ لَا رَیْبَ فِیْهِ مِنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟۫

আর এ আল-কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর রচনা হওয়া সম্ভব নয়। বরং এটি পূর্বের নাযিলকৃত কিতাবগুলোর সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর (সংক্ষিপ্ত বিধানের) বিস্তারিত বর্ণনাকারী। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।

10:38

اَمْ یَقُوْلُوْنَ افْتَرٰىهُ ؕ— قُلْ فَاْتُوْا بِسُوْرَةٍ مِّثْلِهٖ وَادْعُوْا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟

নাকি তারা বলতে চায় যে, ‘সে (মুহাম্মাদ) এ কুরআন বানিয়েছে? (হে রাসূল! তাদেরকে) বলো: ‘(আমি মানুষ হয়ে এ কুরআন রচনা করতে পারলে) তবে তোমরাও তার মতো একটি সূরা (বানিয়ে) নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো (এ কাজে সহযোগিতার জন্য) ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’

10:39

بَلْ كَذَّبُوْا بِمَا لَمْ یُحِیْطُوْا بِعِلْمِهٖ وَلَمَّا یَاْتِهِمْ تَاْوِیْلُهٗ ؕ— كَذٰلِكَ كَذَّبَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظّٰلِمِیْنَ ۟

বরং তারা সেই বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যার জ্ঞান তারা সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করতে পারেনি,(১৮) অথচ যার (ওয়াদা করা হযেছে তার) বাস্তব ব্যাখ্যা এখনও তাদের সামনে প্রকাশ পায়নি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। সুতরাং দেখো, জালিমদের পরিণতি কী হয়েছিল।

10:40

وَمِنْهُمْ مَّنْ یُّؤْمِنُ بِهٖ وَمِنْهُمْ مَّنْ لَّا یُؤْمِنُ بِهٖ ؕ— وَرَبُّكَ اَعْلَمُ بِالْمُفْسِدِیْنَ ۟۠

আর তাদের (মুশরিকদের) মধ্যে কেউ কেউ (মৃত্যুর পূর্বে) কুরআনের প্রতি ঈমান আনবে এবং কেউ কেউ (মৃত্যু পর্যন্ত) তাতে ঈমান আনবে না। আর তোমার রব ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের(১৯) ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত।

10:41

وَاِنْ كَذَّبُوْكَ فَقُلْ لِّیْ عَمَلِیْ وَلَكُمْ عَمَلُكُمْ ۚ— اَنْتُمْ بَرِیْٓـُٔوْنَ مِمَّاۤ اَعْمَلُ وَاَنَا بَرِیْٓءٌ مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ ۟

আর (হে রাসূল!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তুমি তাদেরকে বলো: ‘আমার কর্ম আমার, আর তোমাদের কর্ম তোমাদের। আমি যা আমল করি, তোমরা তা থেকে দায়মুক্ত এবং তোমরা যা আমল কর, আমি তা থেকে দায়মুক্ত।’

10:42

وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّسْتَمِعُوْنَ اِلَیْكَ ؕ— اَفَاَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ وَلَوْ كَانُوْا لَا یَعْقِلُوْنَ ۟

আর তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে, যারা (আনুগত্যের উদ্দেশ্য ছাড়া) তোমার তিলাওয়াত শোনে। তবে তুমি কি বধিরদেরকে শুনাতে পারবে, যদিও তারা বুঝে না?

10:43

وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّنْظُرُ اِلَیْكَ ؕ— اَفَاَنْتَ تَهْدِی الْعُمْیَ وَلَوْ كَانُوْا لَا یُبْصِرُوْنَ ۟

আর তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা তোমার দিকে (বাহ্যিক দৃষ্টিতে) তাকিয়ে থাকে, তবে তুমি কি অন্ধদেরকে পথ দেখাতে পারবে, যদিও তারা দেখে না?(২০)

10:44

اِنَّ اللّٰهَ لَا یَظْلِمُ النَّاسَ شَیْـًٔا وَّلٰكِنَّ النَّاسَ اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۟

নিশ্চয় আল্লাহ মানষের প্রতি কোনো যুলম করেন না; বরং মানুষই (নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করে) নিজেদের প্রতি যুলম করে থাকে।(২১)

10:45

وَیَوْمَ یَحْشُرُهُمْ كَاَنْ لَّمْ یَلْبَثُوْۤا اِلَّا سَاعَةً مِّنَ النَّهَارِ یَتَعَارَفُوْنَ بَیْنَهُمْ ؕ— قَدْ خَسِرَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِلِقَآءِ اللّٰهِ وَمَا كَانُوْا مُهْتَدِیْنَ ۟

আর যেদিন (কিয়ামতের দিন) তিনি তাদেরকে একত্র করবেন, (সেদিন তাদের মনে হবে দুনিয়াতে) যেন তারা দিবসের মুহূর্তকালমাত্র অবস্থান করেছে। তারা একে অপরকে চিনতে পারবে। তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করেছে। আর তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না।

10:46

وَاِمَّا نُرِیَنَّكَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّكَ فَاِلَیْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ اللّٰهُ شَهِیْدٌ عَلٰی مَا یَفْعَلُوْنَ ۟

আর (হে রাসূল!) আমি তাদেরকে যে (শাস্তির) প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার কিছু যদি তোমাকে (তোমার মৃত্যুর পূর্বেই) দেখিয়ে দেই, অথবা (এর পূর্বেই যদি) তোমাকে মৃত্যু দেই, তবে (উভয় অবস্থায়ই কিয়ামতের দিন) তাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। অতঃপর আল্লাহই তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাক্ষী।

10:47

وَلِكُلِّ اُمَّةٍ رَّسُوْلٌ ۚ— فَاِذَا جَآءَ رَسُوْلُهُمْ قُضِیَ بَیْنَهُمْ بِالْقِسْطِ وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۟

আর (পূর্ববর্তী) প্রত্যেক উম্মতের জন্যই ছিলো রাসূল। অতঃপর যখন তাদের রাসূল (অহী নিয়ে) আসে,(২২) তখন তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক মীমাংসা করা হয়(২৩) এবং তাদের প্রতি সামান্যটুকুও যুলম করা হয় না।

10:48

وَیَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟

আর তারা (কাফিররা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে) বলে: ‘(তোমরা আমাদের সাথে যে শাস্তির ওয়াদা করেছিলে বলো) ‘কখন এর প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে; যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

10:49

قُلْ لَّاۤ اَمْلِكُ لِنَفْسِیْ ضَرًّا وَّلَا نَفْعًا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُ ؕ— لِكُلِّ اُمَّةٍ اَجَلٌ ؕ— اِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ فَلَا یَسْتَاْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا یَسْتَقْدِمُوْنَ ۟

(হে রাসূল!) বলো: ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া আমি নিজের কোন ক্ষতি বা উপকারের অধিকার রাখি না।’ প্রত্যেক উম্মতের জন্যে (আল্লাহর ওয়াদাকৃত শাস্তির) নির্দিষ্ট একটি সময় রয়েছে। যখন তাদের (শাস্তির) সময় আসবে, তখন এক মুহূর্তও পিছাতে পারে না এবং আগাতেও পারে না।

10:50

قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ اَتٰىكُمْ عَذَابُهٗ بَیَاتًا اَوْ نَهَارًا مَّاذَا یَسْتَعْجِلُ مِنْهُ الْمُجْرِمُوْنَ ۟

বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তাঁর আযাব তোমাদের ওপর রাতের বেলা, (যখন তোমরা ঘুমিয়ে থাকো,) অথবা দিনের বেলা, (যখন তোমরা উদাসীন থাকো,) এসে পড়ে, তবে অপরাধীরা এর (শাস্তি বা সুসংবাদ হতে) কোনটি তাড়াহুড়া করে চাইছে?

10:51

اَثُمَّ اِذَا مَا وَقَعَ اٰمَنْتُمْ بِهٖ ؕ— آٰلْـٰٔنَ وَقَدْ كُنْتُمْ بِهٖ تَسْتَعْجِلُوْنَ ۟

তবে কি তোমরা যখন প্রতিশ্রুত শাস্তি নেমে আসবে, তখন তার প্রতি ঈমান আনবে? (আর তখন বলা হবে) এখন?২৪) অথচ এর আগেই তো তোমরা এটিকেই তাড়াতাড়ি পেতে চেয়েছিলে!

10:52

ثُمَّ قِیْلَ لِلَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ذُوْقُوْا عَذَابَ الْخُلْدِ ۚ— هَلْ تُجْزَوْنَ اِلَّا بِمَا كُنْتُمْ تَكْسِبُوْنَ ۟

অতঃপর যালিমদেরকে (শাস্তিতে প্রবেশ করানো হলে এবং তারা তা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আবেদন করলে) বলা হবে, (জাহান্নামের) চিরস্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। তোমরা যা উপার্জন করতে, তারই প্রতিফল ছাড়া আর কিছু কি তোমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে?

10:53

وَیَسْتَنْۢبِـُٔوْنَكَ اَحَقٌّ هُوَ ؔؕ— قُلْ اِیْ وَرَبِّیْۤ اِنَّهٗ لَحَقٌّ ؔؕ— وَمَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ ۟۠

আর তারা (মুশরিকরা) তোমাকে জিজ্ঞেস করে, (আমাদেরকে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে,) তা কি সত্যিই বাস্তব? (তাদেরকে) বলো, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তা অবশ্যই সত্য; আর তোমরা তা থেকে কখনোই রক্ষা পেতে পারবে না।(২৫)

10:54

وَلَوْ اَنَّ لِكُلِّ نَفْسٍ ظَلَمَتْ مَا فِی الْاَرْضِ لَافْتَدَتْ بِهٖ ؕ— وَاَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَاَوُا الْعَذَابَ ۚ— وَقُضِیَ بَیْنَهُمْ بِالْقِسْطِ وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۟

আর যদি (কিয়ামতের দিন শাস্তির সম্মুখীন) প্রত্যেক যুলমকারী (শিরককারী) ব্যক্তি জমিনে যা রয়েছে, তার সবকিছুর মালিক হয়ে যায়, তবে (আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য) সে তা মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিবে এবং যখন তারা শাস্তি দেখবে, তখন তারা (কুফরি করার) লজ্জা গোপন করার চেষ্টা করবে। আর তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করা হবে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না।

10:55

اَلَاۤ اِنَّ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— اَلَاۤ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ وَّلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟

জেনে রেখো, নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, তা সবই আল্লাহর। জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

10:56

هُوَ یُحْیٖ وَیُمِیْتُ وَاِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۟

তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং তাঁর কাছেই (কিয়ামতের দিন) তোমাদের ফিরে যেতে হবে।

10:57

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوْرِ ۙ۬— وَهُدًی وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ ۟

হে মানুষ! নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক উপদেশ এসেছে, যা অন্তরসমূহে যা কিছু (সন্দেহ ও সংশয়) আছে তার জন্য আরোগ্য(২৬), আর তা মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত।

10:58

قُلْ بِفَضْلِ اللّٰهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْیَفْرَحُوْا ؕ— هُوَ خَیْرٌ مِّمَّا یَجْمَعُوْنَ ۟

(হে রাসূল!) তুমি বলো: ‘এটি (আল-কুরআন) আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর রহমতে (প্রেরিত হয়েছে); সুতরাং এতে তারা যেন আনন্দিত হয়। তারা যা (দুনিয়াতে ধন-সম্পদ) সঞ্চয় করে, তার চেয়ে এটি উত্তম।

10:59

قُلْ اَرَءَیْتُمْ مَّاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ لَكُمْ مِّنْ رِّزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِّنْهُ حَرَامًا وَّحَلٰلًا ؕ— قُلْ آٰللّٰهُ اَذِنَ لَكُمْ اَمْ عَلَی اللّٰهِ تَفْتَرُوْنَ ۟

(হে রাসূল! তুমি এ মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযক দিয়েছেন, তারপর তোমরা (নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো) তার কিছু হালাল ও কিছু হারাম করেছ।’ বলো: ‘আল্লাহ কি তোমাদেরকে এটার অনুমতি দিয়েছেন, নাকি আল্লাহর ওপর তোমরা মিথ্যা রটনা করছ?’

10:60

وَمَا ظَنُّ الَّذِیْنَ یَفْتَرُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَذُوْ فَضْلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَشْكُرُوْنَ ۟۠

আর যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটাচ্ছে, কিয়ামতের দিন (তাদের পরিণতি) সম্পর্কে তাদের কী ধারণা?(২৭) নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল;(২৮) কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

10:61

وَمَا تَكُوْنُ فِیْ شَاْنٍ وَّمَا تَتْلُوْا مِنْهُ مِنْ قُرْاٰنٍ وَّلَا تَعْمَلُوْنَ مِنْ عَمَلٍ اِلَّا كُنَّا عَلَیْكُمْ شُهُوْدًا اِذْ تُفِیْضُوْنَ فِیْهِ ؕ— وَمَا یَعْزُبُ عَنْ رَّبِّكَ مِنْ مِّثْقَالِ ذَرَّةٍ فِی الْاَرْضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ وَلَاۤ اَصْغَرَ مِنْ ذٰلِكَ وَلَاۤ اَكْبَرَ اِلَّا فِیْ كِتٰبٍ مُّبِیْنٍ ۟

আর (হে রাসূল!) তুমি যে অবস্থাতেই থাকো না কেন, আর আল্লাহর পক্ষ হতে আল-কুরআন থেকে যা কিছু তিলাওয়াত করো না কেন এবং (হে মানুষ !) তোমরা যে আমলই করো না কেন, আমি তোমাদের ওপর (যাবতীয় কাজে ) সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে নিমগ্ন হও। আর আসমানসমূহ ও জমিনের অণু পরিমাণও তোমার রবের দৃষ্টির বাইরে নয় এবং তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর কিছুই নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে (সংরক্ষিত) নেই।

10:62

اَلَاۤ اِنَّ اَوْلِیَآءَ اللّٰهِ لَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ ۟ۚ

জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের (কিয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে) কোনো ভয় নেই, আর তারা (দুনিয়ার কোন সুবিধা হারিয়ে) চিন্তিতও হবে না।

10:63

الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَكَانُوْا یَتَّقُوْنَ ۟ؕ

(এই ওলিরাই হলেন তারা,) যারা ঈমান এনেছেন এবং তাকওয়া অবলম্বন করতেন।

10:64

لَهُمُ الْبُشْرٰی فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَفِی الْاٰخِرَةِ ؕ— لَا تَبْدِیْلَ لِكَلِمٰتِ اللّٰهِ ؕ— ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ ۟ؕ

তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতেও। আল্লাহর বাণীসমূহে কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই মহাসাফল্য।

10:65

وَلَا یَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْ ۘ— اِنَّ الْعِزَّةَ لِلّٰهِ جَمِیْعًا ؕ— هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۟

আর (হে রাসূল!) তাদের কথা (উপহাস ও সমালোচনা) যেনো তোমাকে দুঃখ না দেয়। নিশ্চয় সকল মর্যাদা আল্লাহর। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।(২৯)

10:66

اَلَاۤ اِنَّ لِلّٰهِ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنْ فِی الْاَرْضِ ؕ— وَمَا یَتَّبِعُ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ شُرَكَآءَ ؕ— اِنْ یَّتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنْ هُمْ اِلَّا یَخْرُصُوْنَ ۟

জেনে রেখো, নিশ্চয় আসমানসমূহে যারা আছে এবং জমিনে যারা আছে, তারা সবাই আল্লাহরই এবং যারা (মুশরিকরা) আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর শরীক বানিয়ে ডাকে, তারা মূলত কার অনুসরণ করছে? বস্তুত তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে। আসলেই তারা (শরীকদেরকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে) শুধু মিথ্যা কথাই বলে।

10:67

هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الَّیْلَ لِتَسْكُنُوْا فِیْهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّسْمَعُوْنَ ۟

তিনিই সে সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো এবং দিনকে করেছেন আলোকময়।(৩০)নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শনাবলি এমন সম্প্রদায়ের জন্যে, যারা কথা শোনে (ও গ্রহণ করে)।

10:68

قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰهُ وَلَدًا سُبْحٰنَهٗ ؕ— هُوَ الْغَنِیُّ ؕ— لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— اِنْ عِنْدَكُمْ مِّنْ سُلْطٰنٍ بِهٰذَا ؕ— اَتَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ۟

তারা (মুশরিকদের একদল) বলে: ‘আল্লাহ (ফিরিশতাদেরকে মেয়ে হিসেবে) সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি (এমন জঘন্য কথা থেকে) পবিত্র মহান! তিনি অভাবমুক্ত! যা কিছু আছে আসমানসমূহে ও যা কিছু আছে জমিনে, তা (সবকিছুর মালিকানা) তাঁরই। তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে (আল্লাহ সন্তান গ্রহণের প্রসঙ্গে) কোনো প্রমাণ নেই। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে (দলিলবিহীন) এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না?

10:69

قُلْ اِنَّ الَّذِیْنَ یَفْتَرُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ لَا یُفْلِحُوْنَ ۟ؕ

(হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘যারা আল্লাহর প্রসঙ্গে (সন্তান গ্রহণকে সম্পৃক্ত করে) মিথ্যা রটনা করবে, তারা সফলকাম হবে না।‘

10:70

مَتَاعٌ فِی الدُّنْیَا ثُمَّ اِلَیْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ نُذِیْقُهُمُ الْعَذَابَ الشَّدِیْدَ بِمَا كَانُوْا یَكْفُرُوْنَ ۟۠

দুনিয়াতে তাদের জন্য রয়েছে, কিছু ভোগসামগ্রী। অতঃপর (কিয়ামতের দিন) আমার কাছেই তাদেরকে ফিরে আসতে হবে। তারপর তাদের কুফরির কারণে তাদেরকে কঠোর শাস্তি আস্বাদন করাবো।

10:71

وَاتْلُ عَلَیْهِمْ نَبَاَ نُوْحٍ ۘ— اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖ یٰقَوْمِ اِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَیْكُمْ مَّقَامِیْ وَتَذْكِیْرِیْ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ فَعَلَی اللّٰهِ تَوَكَّلْتُ فَاَجْمِعُوْۤا اَمْرَكُمْ وَشُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ لَا یَكُنْ اَمْرُكُمْ عَلَیْكُمْ غُمَّةً ثُمَّ اقْضُوْۤا اِلَیَّ وَلَا تُنْظِرُوْنِ ۟

আর (হে রাসূল! তুমি) তাদেরকে (এ অস্বীকারকারী মুশরিকদেরকে) নূহের সংবাদ তিলাওয়াত করে শুনাও, যখন সে তার জাতিকে বলেছিল: ‘হে আমার জাতি! (তোমাদের মাঝে ) আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের কাছে দুঃসহ মনে হয়,(১) তবে আমি আল্লাহর ওপরই তাওয়াক্কুল করলাম। সুতরাং তোমরা তোমাদের কর্তব্য স্থির করে নাও এবং (প্রয়োজনে) তোমাদের শরীকদেরও ডেকে নাও। তারপর তোমাদের ষড়যন্ত্রটুকু যেন অস্পষ্ট ও গোপনীয় না হয়। এরপর আমার (হত্যার) ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করো এবং আমাকে অবকাশ দিও না।’

10:72

فَاِنْ تَوَلَّیْتُمْ فَمَا سَاَلْتُكُمْ مِّنْ اَجْرٍ ؕ— اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ ۙ— وَاُمِرْتُ اَنْ اَكُوْنَ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ ۟

অতঃপর তোমরা যদি (আমার দাওয়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে (তোমরা তো জানোই) আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর কাছেই। আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্যই আদিষ্ট হয়েছি ।’

10:73

فَكَذَّبُوْهُ فَنَجَّیْنٰهُ وَمَنْ مَّعَهٗ فِی الْفُلْكِ وَجَعَلْنٰهُمْ خَلٰٓىِٕفَ وَاَغْرَقْنَا الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ۚ— فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِیْنَ ۟

অবশেষে তারা (তার সম্প্রদায়) তাকে মিথ্যাবাদী বললো। তাই আমি তাকে ও তার সাথে থাকা মু’মিনদেরকে নৌকায় চড়িয়ে উদ্ধার করলাম এবং তাদেরকে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত বানালাম। আর ডুবিয়ে দিলাম তাদেরকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল। অতএব (হে রাসূল! তুমি) দেখো, কেমন ছিল তাদের পরিণতি, যাদেরকে (ঈমান না আনার পরিণতি সম্পর্কে) সতর্ক করা হয়েছে।

10:74

ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهٖ رُسُلًا اِلٰی قَوْمِهِمْ فَجَآءُوْهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ فَمَا كَانُوْا لِیُؤْمِنُوْا بِمَا كَذَّبُوْا بِهٖ مِنْ قَبْلُ ؕ— كَذٰلِكَ نَطْبَعُ عَلٰی قُلُوْبِ الْمُعْتَدِیْنَ ۟

অতঃপর আমরা তার (নূহের) পরে অনেক রাসূলকে তাদের জাতির কাছে পাঠিয়েছি এবং তারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা (কাফিররা) আগে যা মিথ্যারোপ করেছিল, তাতে ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এমনিভাবে আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তরে মোহর মেরে দেই।

10:75

ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُّوْسٰی وَهٰرُوْنَ اِلٰی فِرْعَوْنَ وَمَلَاۡىِٕهٖ بِاٰیٰتِنَا فَاسْتَكْبَرُوْا وَكَانُوْا قَوْمًا مُّجْرِمِیْنَ ۟

অতঃপর তাদের (এ রাসূলগণের প্রস্থানের কিছুকাল) পরে আমি মূসা ও হারূনকে ফির‘আউন ও তার সভাসদদের কাছে আমার আয়াতসমূহ দিয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা (তাদের আনীত বিধানের প্রতি ঈমান আনার ব্যাপারে) অহংকার করেছে। আর তারা ছিল অপরাধী জাতি।

10:76

فَلَمَّا جَآءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوْۤا اِنَّ هٰذَا لَسِحْرٌ مُّبِیْنٌ ۟

অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সত্য এলো, তারা বললো: ‘নিশ্চয় এটি সুস্পষ্ট যাদু।’

10:77

قَالَ مُوْسٰۤی اَتَقُوْلُوْنَ لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَكُمْ ؕ— اَسِحْرٌ هٰذَا ؕ— وَلَا یُفْلِحُ السّٰحِرُوْنَ ۟

মূসা (বিস্ময় ও প্রতিবাদ প্রকাশ করে তাদেরকে) বললেন: তোমাদের কাছে সত্য আসার পর কি তোমরা তাকে জাদু বলছ?! এটা কি যাদু? আর যাদুকররা তো কখনো সফলকাম হয় না।

10:78

قَالُوْۤا اَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَیْهِ اٰبَآءَنَا وَتَكُوْنَ لَكُمَا الْكِبْرِیَآءُ فِی الْاَرْضِ ؕ— وَمَا نَحْنُ لَكُمَا بِمُؤْمِنِیْنَ ۟

তারা (ফির‘আউনের সম্প্রদায়) মূসাকে বলল: “তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ, যাতে তুমি আমাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে দাও, যার ওপর আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি (৩১)এবং যেন এই ভূখণ্ডে তোমাদের দু’জনের (মূসা ও হারূনের প্রভাব ও) কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়? আর আমরা তো কখনোই তোমাদের প্রতি ঈমান আনয়নকারী নই।”

10:79

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِیْ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ ۟

এবং ফির‘আউন (তার সম্প্রদায়কে) বললো: ‘তোমরা প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরদেরকে আমার কাছে নিয়ে আসো।’

10:80

فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤی اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ ۟

অতঃপর যখন যাদুকররা (ফির‘আউনের নিকট) এলো, মূসা তাদেরকে বললো: ‘(হে যাদুকররা!) তোমরা যা নিক্ষেপ করতে চাও, তা নিক্ষেপ করো।’

10:81

فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰی مَا جِئْتُمْ بِهِ ۙ— السِّحْرُ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ سَیُبْطِلُهٗ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَا یُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِیْنَ ۟

অতঃপর যখন তারা (তাদের যাদুর রশি ও লাঠি) নিক্ষেপ করল, তখন মূসা তাদেরকে বললো: ‘তোমরা যা আনলে, তা মূলত যাদু। নিশ্চয় আল্লাহ সেগুলোকে অসার করে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের আমল পরিশুদ্ধ করেন না।’

10:82

وَیُحِقُّ اللّٰهُ الْحَقَّ بِكَلِمٰتِهٖ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ ۟۠

আর আল্লাহ তাঁর বাণীসমূহের(৩২) মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা, তা অপছন্দ করে।

10:83

فَمَاۤ اٰمَنَ لِمُوْسٰۤی اِلَّا ذُرِّیَّةٌ مِّنْ قَوْمِهٖ عَلٰی خَوْفٍ مِّنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَاۡىِٕهِمْ اَنْ یَّفْتِنَهُمْ ؕ— وَاِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِی الْاَرْضِ ۚ— وَاِنَّهٗ لَمِنَ الْمُسْرِفِیْنَ ۟

কিন্তু ফির’আউন এবং তার পরিষদবর্গ নির্যাতন করবে এ আশঙ্কায় মূসার সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র একটি (যুবকের) দল ছাড়া আর কেউ তার প্রতি ঈমান আনেনি। আর নিশ্চয় ফির‘আউন ছিল (মিসরের) জমিনে পরাক্রমশীল এবং নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

10:84

وَقَالَ مُوْسٰی یٰقَوْمِ اِنْ كُنْتُمْ اٰمَنْتُمْ بِاللّٰهِ فَعَلَیْهِ تَوَكَّلُوْۤا اِنْ كُنْتُمْ مُّسْلِمِیْنَ ۟

আর মূসা বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা (সত্যিকারার্থে) আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তোমরা তাঁরই ওপর তাওয়াক্কুল করো; যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো।’

10:85

فَقَالُوْا عَلَی اللّٰهِ تَوَكَّلْنَا ۚ— رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ ۟ۙ

তখন তারা (মূসার উপদেশের উত্তরে) বললো: ‘আমরা আল্লাহর ওপরই তাওয়াক্কুল করলাম। হে আমাদের রব, তুমি আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের নির্যাতনের পাত্র বানাবেন না।’

10:86

وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ ۟

‘আর আমাদেরকে আপনার অনুগ্রহে কাফির সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।’

10:87

وَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰی وَاَخِیْهِ اَنْ تَبَوَّاٰ لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُیُوْتًا وَّاجْعَلُوْا بُیُوْتَكُمْ قِبْلَةً وَّاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ ؕ— وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟

আর আমি মূসা ও তার ভাইয়ের (হারূনের) কাছে ওহী পাঠালাম যে, ‘তোমরা তোমাদের জাতির জন্য মিসরে গৃহ তৈরি করো এবং তোমাদের গৃহগুলোকে কিবলা (‘ইবাদাতের স্থান) বানাও।(৩৩) আর সালাত কায়িম করো এবং মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও।’

10:88

وَقَالَ مُوْسٰی رَبَّنَاۤ اِنَّكَ اٰتَیْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَاَهٗ زِیْنَةً وَّاَمْوَالًا فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۙ— رَبَّنَا لِیُضِلُّوْا عَنْ سَبِیْلِكَ ۚ— رَبَّنَا اطْمِسْ عَلٰۤی اَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَلَا یُؤْمِنُوْا حَتّٰی یَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِیْمَ ۟

আর মূসা বললেন: হে আমাদের রব! আপনি তো ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে শোভা-সজ্জা ও ধন-সম্পদ দান করেছেন। হে আমাদের রব! যেন তারা (এর দ্বারা মানুষকে) আপনার পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। হে আমাদের রব! তাদের ধন-সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন এবং তাদের হৃদয়কে কঠোর করে দিন, ফলে তারা ঈমান আনবে না, যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।(৩৪)

10:89

قَالَ قَدْ اُجِیْبَتْ دَّعْوَتُكُمَا فَاسْتَقِیْمَا وَلَا تَتَّبِعٰٓنِّ سَبِیْلَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟

আল্লাহ বললেন: ‘(হে মূসা ও হারূন!) তোমাদের উভয়ের দু‘আ কবুল করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা (নিজেদের ধর্মের ওপর) অটল থাকো এবং যারা জানে না, তোমরা তাদের পথ অনুসরণ করো না।’

10:90

وَجٰوَزْنَا بِبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ الْبَحْرَ فَاَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُوْدُهٗ بَغْیًا وَّعَدْوًا ؕ— حَتّٰۤی اِذَاۤ اَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ اٰمَنْتُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا الَّذِیْۤ اٰمَنَتْ بِهٖ بَنُوْۤا اِسْرَآءِیْلَ وَاَنَا مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ ۟

আর আমি বানূ ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিলাম। আর ফির‘আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য সহকারে ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে তাদের পিছু নিল। অবশেষে যখন সে ডুবে যেতে লাগল, তখন সে বলল: ‘আমি ঈমান আনলাম যে, নিশ্চয় তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, যার প্রতি বানূ ইসরাঈল ঈমান এনেছে। আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হলাম।’

10:91

آٰلْـٰٔنَ وَقَدْ عَصَیْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِیْنَ ۟

‘(তুমি জীবন থেকে নিরাশ হয়ে) এখন ঈমান এনেছো? অথচ (শাস্তি নাযিল হওয়ার) পূর্বে তুমি (আল্লাহর সাথে কুফরি এবং তাঁর পথে বাধা সৃষ্টি করার মাধ্যমে) নাফরমানি করেছো। আর তুমি ছিলে, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’

10:92

فَالْیَوْمَ نُنَجِّیْكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُوْنَ لِمَنْ خَلْفَكَ اٰیَةً ؕ— وَاِنَّ كَثِیْرًا مِّنَ النَّاسِ عَنْ اٰیٰتِنَا لَغٰفِلُوْنَ ۟۠

‘সুতরাং (হে ফির‘আউন!) আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক।(৩৫) আর নিশ্চয় অনেক মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে গাফিল।’

10:93

وَلَقَدْ بَوَّاْنَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ مُبَوَّاَ صِدْقٍ وَّرَزَقْنٰهُمْ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ۚ— فَمَا اخْتَلَفُوْا حَتّٰی جَآءَهُمُ الْعِلْمُ ؕ— اِنَّ رَبَّكَ یَقْضِیْ بَیْنَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ فِیْمَا كَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ۟

আর অবশ্যই আমি বানূ ইসরাঈলকে উৎকৃষ্ট আবাসভূমিতে বসবাস করতে দিলাম এবং তাদেরকে উত্তম রিযক দিলাম। অতঃপর তাদের কাছে জ্ঞান (আল-কুরআন) আসলে তারা (নিজেদের ধর্মকে নিয়ে) বিভেদ সৃষ্টি করল। নিশ্চয় তোমার রব কিয়ামতের দিন সে (দ্বন্দ্বপূর্ণ) বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করতো।

10:94

فَاِنْ كُنْتَ فِیْ شَكٍّ مِّمَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ فَسْـَٔلِ الَّذِیْنَ یَقْرَءُوْنَ الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلِكَ ۚ— لَقَدْ جَآءَكَ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ فَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِیْنَ ۟ۙ

সুতরাং (হে রাসূল!) আমি তোমার নিকট যা নাযিল করেছি, তা নিয়ে যদি তুমি সন্দেহে থাকো, তবে যারা তোমার আগের কিতাব পাঠ করে তাদেরকে (মু’মিন ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদেরকে) জিজ্ঞাসা করো।(৩৬) অবশ্যই তোমার নিকট তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য এসেছে। সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

10:95

وَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ فَتَكُوْنَ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ ۟

আর তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।(৩৭)

10:96

اِنَّ الَّذِیْنَ حَقَّتْ عَلَیْهِمْ كَلِمَتُ رَبِّكَ لَا یُؤْمِنُوْنَ ۟ۙ

(হে রাসূল! পাপের উপর অটল থাকার কারণে) যাদের ব্যাপারে তোমার রবের বাণী বাস্তবায়িত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না।

10:97

وَلَوْ جَآءَتْهُمْ كُلُّ اٰیَةٍ حَتّٰی یَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِیْمَ ۟

যদিও তাদের নিকট (শরীয়ত ও দুনিয়ার) সকল নিদর্শনও এসে উপস্থিত হয়; যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে(৩৮)।

10:98

فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْیَةٌ اٰمَنَتْ فَنَفَعَهَاۤ اِیْمَانُهَاۤ اِلَّا قَوْمَ یُوْنُسَ ۚؕ— لَمَّاۤ اٰمَنُوْا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْیِ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَمَتَّعْنٰهُمْ اِلٰی حِیْنٍ ۟

অতঃপর কোনো জনপদের অধিবাসীরা কেন এমন হলো না যে, তারা ঈমান আনতো এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসতো? তবে ইউনুসের সম্প্রদায় ছাড়া, তারা যখন ঈমান আনল, তখন আমি তাদের থেকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাকর শাস্তি সরিয়ে দিলাম এবং আমি তাদেরকে একটি সময় পর্যন্ত ভোগ-বিলাস করতে দিলাম।

10:99

وَلَوْ شَآءَ رَبُّكَ لَاٰمَنَ مَنْ فِی الْاَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِیْعًا ؕ— اَفَاَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتّٰی یَكُوْنُوْا مُؤْمِنِیْنَ ۟

(হে রাসূল!) আর যদি তোমার রব চাইতেন, তবে জমিনের সকলেই ঈমান আনতো। (তিনি যেহেতু তা চাননি) তাহলে তুমি কি মানুষকে মু’মিন হওয়ার জন্যে বাধ্য করবে?

10:100

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تُؤْمِنَ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ— وَیَجْعَلُ الرِّجْسَ عَلَی الَّذِیْنَ لَا یَعْقِلُوْنَ ۟

আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়। আর যারা (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও প্রমাণাদি) বুঝতে চায় না, তিনি তাদের ওপর তাঁর শাস্তি ও লাঞ্ছনা অবধারিত করেন।

10:101

قُلِ انْظُرُوْا مَاذَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— وَمَا تُغْنِی الْاٰیٰتُ وَالنُّذُرُ عَنْ قَوْمٍ لَّا یُؤْمِنُوْنَ ۟

(হে রাসূল!) বলো: ‘আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, সেগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখো। আর (কুফরির ওপর গোঁয়ার্তুমির কারণে) যারা ঈমান আনে না, নিদর্শনাবলি ও ভীতি প্রদর্শন এমন সম্প্রদায়ের কোনো কাজে আসে না।’

10:102

فَهَلْ یَنْتَظِرُوْنَ اِلَّا مِثْلَ اَیَّامِ الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ— قُلْ فَانْتَظِرُوْۤا اِنِّیْ مَعَكُمْ مِّنَ الْمُنْتَظِرِیْنَ ۟

তবে কি তারা কেবল তাদের আগের (মিথ্যারোপকারী) লোকদের সাথে যা ঘটেছিল সেটার (সে ভয়াবহ দিনগুলোরই) অপেক্ষা করছে? (হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘তবে তোমরা (আল্লাহর শাস্তির) অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে (আমার রবের ওয়াদার) অপেক্ষা করছি।’

10:103

ثُمَّ نُنَجِّیْ رُسُلَنَا وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كَذٰلِكَ ۚ— حَقًّا عَلَیْنَا نُنْجِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟۠

তারপর আমি (তাদের ওপর শাস্তি অবতীর্ণ করি আর) আমার রাসূলগণকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে উদ্ধার করি। এভাবে মু’মিনদেরকে উদ্ধার করা আমার দায়িত্ব।

10:104

قُلْ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنْ كُنْتُمْ فِیْ شَكٍّ مِّنْ دِیْنِیْ فَلَاۤ اَعْبُدُ الَّذِیْنَ تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلٰكِنْ اَعْبُدُ اللّٰهَ الَّذِیْ یَتَوَفّٰىكُمْ ۖۚ— وَاُمِرْتُ اَنْ اَكُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟ۙ

(হে রাসূল!) বলো: ‘হে মানুষ, তোমরা যদি আমার দীনের (ইসলামের) ব্যাপারে সন্দেহে থাকো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ ছাড়া তোমরা যার ‘ইবাদত করো, আমি তার ‘ইবাদাত করি না; বরং আমি ‘ইবাদাত করি সেই আল্লাহর, যিনি তোমাদের মৃত্যু দেন। আর আমি মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি।’

10:105

وَاَنْ اَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّیْنِ حَنِیْفًا ۚ— وَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ ۟

আর আমাকে আরো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ‘তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’

10:106

وَلَا تَدْعُ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَنْفَعُكَ وَلَا یَضُرُّكَ ۚ— فَاِنْ فَعَلْتَ فَاِنَّكَ اِذًا مِّنَ الظّٰلِمِیْنَ ۟

‘আর (হে রাসূল!) তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকবে না, যারা তোমার কোন উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না। অতএব তুমি যদি সেগুলোর ‘ইবাদাত করো, তাহলে নিশ্চয় তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

10:107

وَاِنْ یَّمْسَسْكَ اللّٰهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهٗۤ اِلَّا هُوَ ۚ— وَاِنْ یُّرِدْكَ بِخَیْرٍ فَلَا رَآدَّ لِفَضْلِهٖ ؕ— یُصِیْبُ بِهٖ مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ ؕ— وَهُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُ ۟

‘আর (হে রাসূল!) আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো ক্ষতির স্পর্শ করান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোনো প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।‘

10:108

قُلْ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَكُمُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكُمْ ۚ— فَمَنِ اهْتَدٰی فَاِنَّمَا یَهْتَدِیْ لِنَفْسِهٖ ۚ— وَمَنْ ضَلَّ فَاِنَّمَا یَضِلُّ عَلَیْهَا ؕ— وَمَاۤ اَنَا عَلَیْكُمْ بِوَكِیْلٍ ۟ؕ

(হে রাসূল! তুমি) বলো: ‘হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সত্য (আল-কুরআন) এসেছে। সুতরাং যে হিদায়াত গ্রহণ করবে, সে নিজের জন্যই হিদায়াত গ্রহণ করবে। আর যে পথভ্রষ্ট হবে, সে নিজের ক্ষতির জন্য পথভ্রষ্ট হবে। আর আমি তোমাদের অভিভাবক (সংরক্ষক) নই।’

10:109

وَاتَّبِعْ مَا یُوْحٰۤی اِلَیْكَ وَاصْبِرْ حَتّٰی یَحْكُمَ اللّٰهُ ۚ— وَهُوَ خَیْرُ الْحٰكِمِیْنَ ۟۠

আর (হে রাসূল!) তোমার নিকট যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তুমি তার অনুসরণ করো এবং ধৈর্য ধারণ করো; যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন। আর তিনিই সর্বোত্তম ফয়সালা প্রদানকারী।(৩৯)

সূত্র: Bangla translation: Rowwad Translation Center, QuranEnc.com — quranenc.com (fetched 2026-10-18) Hanafi font: DigitalKhatt IndoPak © Amine Anane, Tarteel Inc. (SIL OFL 1.1) — github.com (downloaded 2026-10-18) Madinah font: AlQuran-IndoPak by QuranWBW — github.com (v4.2.2) Quran text (Hanafi): Quranic Universal Library (QUL) by Tarteel — qul.tarteel.ai (downloaded 2026-10-18) Quran text (Madinah): Ayman Siddiqui & R. Siddiqua, QuranWBW.com / Quran.com — github.com (v9.6.1) Surah and para data: Tanzil.net (CC BY 3.0) — tanzil.net (1.0) তিলাওয়াত: Abdur-Rahman as-Sudais — everyayah.com তিলাওয়াত: Mishary Rashid Alafasy — everyayah.com তিলাওয়াত: Abdul Basit Abdus-Samad (Murattal) — everyayah.com

কাজের ফাঁকে কুরআন — KarbarX-এর ভেতরেই

দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।

৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়