اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ عَلٰی عَبْدِهِ الْكِتٰبَ وَلَمْ یَجْعَلْ لَّهٗ عِوَجًا ۟ؕٚ
সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর বান্দা (মুহাম্মাদ) এর প্রতি কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।
The Cave · 110 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ عَلٰی عَبْدِهِ الْكِتٰبَ وَلَمْ یَجْعَلْ لَّهٗ عِوَجًا ۟ؕٚ
সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর বান্দা (মুহাম্মাদ) এর প্রতি কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।
قَیِّمًا لِّیُنْذِرَ بَاْسًا شَدِیْدًا مِّنْ لَّدُنْهُ وَیُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِیْنَ الَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَهُمْ اَجْرًا حَسَنًا ۟ۙ
(বরং এ কিতাবকে) সুদৃঢ় করেছেন, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।
مَّاكِثِیْنَ فِیْهِ اَبَدًا ۟ۙ
তারা সেখানে (এই সাওয়াবের মধ্যে) চিরকাল বসবাস করবে।
وَّیُنْذِرَ الَّذِیْنَ قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰهُ وَلَدًا ۟ۗ
এবং যাতে তিনি তাদের সতর্ক করেন, যারা(১) বলে, ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।
مَا لَهُمْ بِهٖ مِنْ عِلْمٍ وَّلَا لِاٰبَآىِٕهِمْ ؕ— كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ اَفْوَاهِهِمْ ؕ— اِنْ یَّقُوْلُوْنَ اِلَّا كَذِبًا ۟
এ ব্যাপারে(২) তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। বড় মারাত্মক কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়! মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না।
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلٰۤی اٰثَارِهِمْ اِنْ لَّمْ یُؤْمِنُوْا بِهٰذَا الْحَدِیْثِ اَسَفًا ۟
তারা যদি এ বাণীর(আল কুরআনের) প্রতি ঈমান না আনে, তবে মনে হয় তুমি তাদের পেছনে আফসোস করতে করতে নিজেকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলবে।(৩)
اِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَی الْاَرْضِ زِیْنَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ اَیُّهُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا ۟
নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীর উপর যা কিছু আছে, তা তাকে শোভামণ্ডিত করার জন্য করেছি, যাতে আমি তাদের পরীক্ষা করি, তাদের মধ্যে কে আমলে সবচেয়ে উত্তম।
وَاِنَّا لَجٰعِلُوْنَ مَا عَلَیْهَا صَعِیْدًا جُرُزًا ۟ؕ
আর তার (জমিনের) ওপর যা আছে, তা অবশ্যই আমি উদ্ভিদশূন্য শুষ্ক ময়দানে পরিণত করবো।
اَمْ حَسِبْتَ اَنَّ اَصْحٰبَ الْكَهْفِ وَالرَّقِیْمِ كَانُوْا مِنْ اٰیٰتِنَا عَجَبًا ۟
(হে রাসূল!) তুমি কি মনে করো যে, গুহা ও রাকীমের(৪) অধিবাসীরা ছিল আমার নিদর্শনসমূহের মধ্যকার এক বিস্ময়?(৫)
اِذْ اَوَی الْفِتْیَةُ اِلَی الْكَهْفِ فَقَالُوْا رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً وَّهَیِّئْ لَنَا مِنْ اَمْرِنَا رَشَدًا ۟
যখন যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল, তখন (তারা তাদের রবের কাছে দু‘আ করে) বললো: ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড(৬) সঠিক করে দিন।’
فَضَرَبْنَا عَلٰۤی اٰذَانِهِمْ فِی الْكَهْفِ سِنِیْنَ عَدَدًا ۟ۙ
অতঃপর আমি তাদের কানের উপর গভীর ঘৃুম ঢেলে দিলাম, ফলে তারা গুহায় বহু বছর অবস্থান করলো।
ثُمَّ بَعَثْنٰهُمْ لِنَعْلَمَ اَیُّ الْحِزْبَیْنِ اَحْصٰی لِمَا لَبِثُوْۤا اَمَدًا ۟۠
তারপর (তাদের দীর্ঘ ঘুমের পর) আমি তাদেরকে জাগিয়ে তুললাম, যাতে আমি জানতে পারি যে, কতটুকু সময় তারা (গুহায়) অবস্থান করেছিল, দু’দলের মধ্যে কে তা অধিক সঠিকভাবে নির্ণয়কারী?
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَیْكَ نَبَاَهُمْ بِالْحَقِّ ؕ— اِنَّهُمْ فِتْیَةٌ اٰمَنُوْا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنٰهُمْ هُدًی ۟ۗۖ
(হে রাসূল!) আমিই তোমাকে তাদের সংবাদ সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। নিশ্চয় তারা কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
وَّرَبَطْنَا عَلٰی قُلُوْبِهِمْ اِذْ قَامُوْا فَقَالُوْا رَبُّنَا رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ لَنْ نَّدْعُوَاۡ مِنْ دُوْنِهٖۤ اِلٰهًا لَّقَدْ قُلْنَاۤ اِذًا شَطَطًا ۟
আর আমি তাদের অন্তরগুলোকে দৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা (কাফীর বাদশাহর সামনে এক আল্লাহর ওপর তাদের ঈমানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়ার জন্য) উঠে দাঁড়িয়েছিল, তখন তারা বলেছিল: ‘আমাদের রব আসমানসমূহ ও জমিনের রব। তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহকে আমরা কখনো ডাকবো না। (যদি ডাকি) তাহলে নিশ্চয় আমরা (সত্য বহির্ভূত) গর্হিত কথা বলবো।’
هٰۤؤُلَآءِ قَوْمُنَا اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَةً ؕ— لَوْلَا یَاْتُوْنَ عَلَیْهِمْ بِسُلْطٰنٍ بَیِّنٍ ؕ— فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا ۟ؕ
(তারপর তারা নিজেরা পরস্পরকে বলল,) ‘এরা আমাদের জাতি, তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে। (তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে) কেন তারা তাদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না? অতএব যে আল্লাহর ব্যাপারে (অংশীদার সাব্যস্ত করে) মিথ্যা রটায়, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে?
وَاِذِ اعْتَزَلْتُمُوْهُمْ وَمَا یَعْبُدُوْنَ اِلَّا اللّٰهَ فَاْوٗۤا اِلَی الْكَهْفِ یَنْشُرْ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِّنْ رَّحْمَتِهٖ وَیُهَیِّئْ لَكُمْ مِّنْ اَمْرِكُمْ مِّرْفَقًا ۟
আর (তারা পরস্পরকে বললো:) যখন তোমরা নিজেদের সম্প্রদায় থেকে আলাদা হয়েছ এবং আল্লাহ ছাড়া যাদের তারা উপাসনা করে তাদের থেকেও, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করো। তাহলে তোমাদের রব তোমাদের জন্য তাঁর রহমত উন্মুক্ত করে দিবেন এবং তোমাদের জন্য তোমাদের জীবনোপকরণের বিষয়টি সহজ করে দিবেন।
وَتَرَی الشَّمْسَ اِذَا طَلَعَتْ تَّزٰوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْیَمِیْنِ وَاِذَا غَرَبَتْ تَّقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ وَهُمْ فِیْ فَجْوَةٍ مِّنْهُ ؕ— ذٰلِكَ مِنْ اٰیٰتِ اللّٰهِ ؕ— مَنْ یَّهْدِ اللّٰهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ۚ— وَمَنْ یُّضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهٗ وَلِیًّا مُّرْشِدًا ۟۠
আর তুমি দেখতে সূর্য যখন উদিত হয় তখন তা তাদের গুহার ডান পাশ দিয়ে হেলে যায়, আর যখন অস্ত যায় তখন তাদেরকে বাম দিক দিয়ে অতিক্রম করে; আর তারা গুহার প্রশস্ত স্থানে অবস্থান করছিল।(৭)এটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি।(৮) আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন সেই তো সঠিক পথপ্রাপ্ত; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক কখনোই পাবে না।
وَتَحْسَبُهُمْ اَیْقَاظًا وَّهُمْ رُقُوْدٌ ۖۗ— وَّنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْیَمِیْنِ وَذَاتَ الشِّمَالِ ۖۗ— وَكَلْبُهُمْ بَاسِطٌ ذِرَاعَیْهِ بِالْوَصِیْدِ ؕ— لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَیْهِمْ لَوَلَّیْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَّلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا ۟
তুমি তাদেরকে মনে করতে জাগ্রত; অথচ তারা ছিল ঘুমন্ত। আমি তাদেরকে (ঘুমের মাঝে) কখনো ডানে আবার কখনো বাঁয়ে পার্শ্ব পরিবর্তন করাতাম এবং তাদের কুকুরটি গুহার প্রবেশ পথে তার সামনের পা দু’টো মেলে আছে। যদি তুমি তাদেরকে উঁকি মেরে দেখতে, তবে নিশ্চয় (ভয়ে) তাদের থেকে পেছনে ফিরে পালিয়ে যেতে এবং অবশ্যই তোমার হৃদয় আতঙ্কে ভরে যেতো।
وَكَذٰلِكَ بَعَثْنٰهُمْ لِیَتَسَآءَلُوْا بَیْنَهُمْ ؕ— قَالَ قَآىِٕلٌ مِّنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ ؕ— قَالُوْا لَبِثْنَا یَوْمًا اَوْ بَعْضَ یَوْمٍ ؕ— قَالُوْا رَبُّكُمْ اَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ ؕ— فَابْعَثُوْۤا اَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هٰذِهٖۤ اِلَی الْمَدِیْنَةِ فَلْیَنْظُرْ اَیُّهَاۤ اَزْكٰی طَعَامًا فَلْیَاْتِكُمْ بِرِزْقٍ مِّنْهُ وَلَا یُشْعِرَنَّ بِكُمْ اَحَدًا ۟
আর এভাবেই আমি তাদেরকে (দীর্ঘ ঘুমের পরে) জাগিয়ে তুলেছিলাম, যাতে তারা (ঘুমন্ত অবস্থার সময়ের ব্যাপারে) একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললো: ‘তোমরা কত সময় (ঘুমের মধ্যে) অবস্থান করলে?’ তাদের কেউ কেউ উত্তরে বললো: ‘আমরা একদিন কিংবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি।’ তাদের কেউ কেউ বললো: ‘তোমরা কত সময় অবস্থান করেছ, তা তোমাদের রবই ভালো জানেন। সুতরাং তোমরা তোমাদের কাউকে তোমাদের এই রৌপ্যমুদ্রাগুলো দিয়ে শহরে পাঠাও। অতঃপর সে যেন দেখে কোন খাদ্য উত্তম, তারপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য তোমাদের জন্য নিয়ে আসে। আর সে অবশ্যই যেন (শহরে প্রবেশ করা, বের হওয়া ও লেনদেনের সময়) বিচক্ষণতার সাথে কাজ করে এবং কাউকে যেন তোমাদের (অবস্থানের) ব্যাপারে না জানায়।’
اِنَّهُمْ اِنْ یَّظْهَرُوْا عَلَیْكُمْ یَرْجُمُوْكُمْ اَوْ یُعِیْدُوْكُمْ فِیْ مِلَّتِهِمْ وَلَنْ تُفْلِحُوْۤا اِذًا اَبَدًا ۟
‘নিশ্চয় তারা যদি তোমাদের অবস্থান সম্পর্কে জেনে যায়, তাহলে তারা তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে তাদের (মিথ্যা) ধর্মে ফিরিয়ে নিবে। আর তখন তোমরা (দুনিয়াতে ও আখিরাতে) কোনোভাবেই সফল হবে না।’(৯)
وَكَذٰلِكَ اَعْثَرْنَا عَلَیْهِمْ لِیَعْلَمُوْۤا اَنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ وَّاَنَّ السَّاعَةَ لَا رَیْبَ فِیْهَا ۚۗ— اِذْ یَتَنَازَعُوْنَ بَیْنَهُمْ اَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوْا عَلَیْهِمْ بُنْیَانًا ؕ— رَبُّهُمْ اَعْلَمُ بِهِمْ ؕ— قَالَ الَّذِیْنَ غَلَبُوْا عَلٰۤی اَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَیْهِمْ مَّسْجِدًا ۟
আর এমনিভাবে আমি তাদের ব্যাপারে (শহরবাসী লোকদেরকে) জানিয়ে দিলাম, যাতে তারা জানতে পারে যে, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামতের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের বিষয়টি (গুহাবাসীদের ব্যাপারে করণীয় বিষয়) নিয়ে বিতর্ক করছিল, তখন তাদের একদল বললো: ‘তাদের ওপর তোমরা একটি ভবন (স্মৃতি সৌধ) নির্মাণ করো।’ তাদের রবই তাদের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত। (গুহাবাসীদের ব্যাপারে) নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রাধান্য লাভ করেছিল, তারা বললো: ‘আমরা অবশ্যই তাদের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করবো।’
سَیَقُوْلُوْنَ ثَلٰثَةٌ رَّابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ ۚ— وَیَقُوْلُوْنَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًا بِالْغَیْبِ ۚ— وَیَقُوْلُوْنَ سَبْعَةٌ وَّثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ ؕ— قُلْ رَّبِّیْۤ اَعْلَمُ بِعِدَّتِهِمْ مَّا یَعْلَمُهُمْ اِلَّا قَلِیْلٌ ۫۬— فَلَا تُمَارِ فِیْهِمْ اِلَّا مِرَآءً ظَاهِرًا ۪— وَّلَا تَسْتَفْتِ فِیْهِمْ مِّنْهُمْ اَحَدًا ۟۠
(গুহাবাসী যুবকদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করতে গিয়ে) অচিরেই কিছু সংখ্যক লোক বলবে: ‘তারা ছিল তিন জন, চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর।’ আর কেউ কেউ বলবে: ‘তারা ছিল পাঁচজন, ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর।’ (এরা উভয় দল যা বললো) এসবই অজানা বিষয়ে অনুমান করে বলেছে। আর তাদের কেউ কেউ বলবে: ‘তারা ছিল সাতজন; অষ্টম হলো তাদের কুকুর।’ (হে রাসূল! তুমি এদেরকে) বলো: ‘আমার রবই তাদের সংখ্যা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।’ কম সংখ্যক লোকই তাদের (সঠিক সংখ্যা) সম্পর্কে জানে। সুতরাং সাধারণ আলোচনা ছাড়া তুমি তাদের ব্যাপারে বিতর্ক করো না। আর তাদের ব্যাপারে (বিস্তারিত জানতে) এদের কাউকেও জিজ্ঞেস করো না।(১০)
وَلَا تَقُوْلَنَّ لِشَایْءٍ اِنِّیْ فَاعِلٌ ذٰلِكَ غَدًا ۟ۙ
আর কোনো বিষয়ে (দৃঢ় সংকল্প করে) কখনো বলবে না, ‘আমি তা আগামীকাল করব।’(১১)
اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ اللّٰهُ ؗ— وَاذْكُرْ رَّبَّكَ اِذَا نَسِیْتَ وَقُلْ عَسٰۤی اَنْ یَّهْدِیَنِ رَبِّیْ لِاَقْرَبَ مِنْ هٰذَا رَشَدًا ۟
তবে (আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে তা যুক্ত করে) বলো: “ইনশা আল্লাহ” (যদি আল্লাহ চান)। আর যখন ভুলে যাও, তখন তোমার রবকে স্মরণ করো এবং বলো: ‘আশা করি আমার রব আমাকে এর চেয়েও নিকটতর সঠিক পথের দিকে হিদায়াত করবেন।’
وَلَبِثُوْا فِیْ كَهْفِهِمْ ثَلٰثَ مِائَةٍ سِنِیْنَ وَازْدَادُوْا تِسْعًا ۟
আর তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছে তিনশ’ বছর এবং এর সাথে অতিরিক্ত হয়েছিল নয় বছর।
قُلِ اللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوْا ۚ— لَهٗ غَیْبُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— اَبْصِرْ بِهٖ وَاَسْمِعْ ؕ— مَا لَهُمْ مِّنْ دُوْنِهٖ مِنْ وَّلِیٍّ ؗ— وَّلَا یُشْرِكُ فِیْ حُكْمِهٖۤ اَحَدًا ۟
(হে রাসূল!) বলো: ‘তারা কত কাল অবস্থান করেছিল, সে ব্যাপারে আল্লাহই অধিক জানেন।’ আসমানসমূহ ও জমিনের গায়িবের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই। তিনি কতই না উত্তম দ্রষ্টা ও উত্তম শ্রোতা! তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই। তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে কাউকে শরীক করেন না।
وَاتْلُ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ ؕ— لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمٰتِهٖ ۫ۚ— وَلَنْ تَجِدَ مِنْ دُوْنِهٖ مُلْتَحَدًا ۟
আর (হে রাসূল!) তুমি তোমার রবের কিতাব থেকে যা তোমার প্রতি ওহী করা হয়েছে তা তিলাওয়াত করো। তাঁর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তনকারী নেই এবং তুমি তাঁকে ছাড়া কখনো কোনো আশ্রয়স্থল পাবে না।
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدٰوةِ وَالْعَشِیِّ یُرِیْدُوْنَ وَجْهَهٗ وَلَا تَعْدُ عَیْنٰكَ عَنْهُمْ ۚ— تُرِیْدُ زِیْنَةَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ— وَلَا تُطِعْ مَنْ اَغْفَلْنَا قَلْبَهٗ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوٰىهُ وَكَانَ اَمْرُهٗ فُرُطًا ۟
আর (হে রাসূল!) তুমি নিজেকে (ধৈর্যের সাথে) অবিচলভাবে সম্পৃক্ত রাখো তাদের সাথে, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তারা তাঁর চেহারা দেখতে চায় এবং তুমি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তোমার দু’চোখ যেন তাদের থেকে অন্যত্র ফিরে না যায়।(১২) আর ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার অন্তরকে আমি আমার যিকর থেকে গাফিল করে দিয়েছি এবং যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং যার কর্ম বিনষ্ট হয়েছে।
وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكُمْ ۫— فَمَنْ شَآءَ فَلْیُؤْمِنْ وَّمَنْ شَآءَ فَلْیَكْفُرْ ۚ— اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلظّٰلِمِیْنَ نَارًا اَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا ؕ— وَاِنْ یَّسْتَغِیْثُوْا یُغَاثُوْا بِمَآءٍ كَالْمُهْلِ یَشْوِی الْوُجُوْهَ ؕ— بِئْسَ الشَّرَابُ ؕ— وَسَآءَتْ مُرْتَفَقًا ۟
আর (হে রাসূল!) বলো: ‘সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসে গেছে। সুতরাং যে ইচ্ছা করে, সে যেন ঈমান আনে এবং যে ইচ্ছা করে, সে যেন কুফরী করে। (তবে জেনে রেখো!) নিশ্চয় আমি যালিমদের জন্য প্রস্তুত করেছি আগুন, যার (চার পাশের) প্রাচীরগুলো তাদেরকে বেষ্টন করে রেখেছে। (পিপাসায় কাতর হয়ে সেখানে) তারা পানি চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি, যা তাদের চেহারাগুলো ঝলসে দিবে; কী নিকৃষ্ট পানীয়! আর কী মন্দ বিশ্রামস্থল!
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اِنَّا لَا نُضِیْعُ اَجْرَ مَنْ اَحْسَنَ عَمَلًا ۟ۚ
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, (তারাই সাওয়াব লাভে ধন্য হবে,) নিশ্চয় আমি উত্তম আমলকারীদের কর্মফল বিনষ্ট করি না।
اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ جَنّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ یُحَلَّوْنَ فِیْهَا مِنْ اَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّیَلْبَسُوْنَ ثِیَابًا خُضْرًا مِّنْ سُنْدُسٍ وَّاِسْتَبْرَقٍ مُّتَّكِـِٕیْنَ فِیْهَا عَلَی الْاَرَآىِٕكِ ؕ— نِعْمَ الثَّوَابُ ؕ— وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا ۟۠
এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে থাকবে হেলান দিয়ে সুসজ্জিত আসনে। কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান! আর কতই না সুন্দর বিশ্রামস্থল!
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلًا رَّجُلَیْنِ جَعَلْنَا لِاَحَدِهِمَا جَنَّتَیْنِ مِنْ اَعْنَابٍ وَّحَفَفْنٰهُمَا بِنَخْلٍ وَّجَعَلْنَا بَیْنَهُمَا زَرْعًا ۟ؕ
আর (হে রাসূল!) তুমি তাদের কাছে দুই ব্যক্তির দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করো, তাদের একজনকে আমি দু’টি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং উভয় বাগানকে পরিবেষ্টিত করেছিলাম খেজুর গাছ দ্বারা এবং উভয়ের মাঝখানে রেখেছি শস্যক্ষেত।
كِلْتَا الْجَنَّتَیْنِ اٰتَتْ اُكُلَهَا وَلَمْ تَظْلِمْ مِّنْهُ شَیْـًٔا ۙ— وَّفَجَّرْنَا خِلٰلَهُمَا نَهَرًا ۟ۙ
উভয় বাগান (ফসল, আঙুর ও খেজুর জাতীয় প্রচুর) ফল দিয়েছে, তাতে কিছুই ত্রুটি করেনি এবং আমি উভয়ের মাঝ দিয়ে নদী প্রবাহিত করেছি।
وَّكَانَ لَهٗ ثَمَرٌ ۚ— فَقَالَ لِصَاحِبِهٖ وَهُوَ یُحَاوِرُهٗۤ اَنَا اَكْثَرُ مِنْكَ مَالًا وَّاَعَزُّ نَفَرًا ۟
আর এ বাগানদ্বয়ের মালিকের ছিল বিপুল (সম্পদ ও) ফল-ফলাদি। তাই সে তার (মু’মিন) সঙ্গীকে (অহংকারবশত) কথায় কথায় বললো: ‘সম্পদে আমি তোমার চেয়ে অধিক এবং জনবলেও অনেক শক্তিশালী।’
وَدَخَلَ جَنَّتَهٗ وَهُوَ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهٖ ۚ— قَالَ مَاۤ اَظُنُّ اَنْ تَبِیْدَ هٰذِهٖۤ اَبَدًا ۟ۙ
আর সে (কাফির ব্যক্তি মু’মিন বন্ধুকে সাথে নিয়ে) তার বাগানে প্রবেশ করলো, নিজের প্রতি যুলমরত অবস্থায়। সে (অহংকার করে) বললো: ‘আমি মনে করি না যে, এটি কখনো ধ্বংস হবে।’
وَّمَاۤ اَظُنُّ السَّاعَةَ قَآىِٕمَةً ۙ— وَّلَىِٕنْ رُّدِدْتُّ اِلٰی رَبِّیْ لَاَجِدَنَّ خَیْرًا مِّنْهَا مُنْقَلَبًا ۟ۚ
‘আর আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর যদিও (পুনরুত্থিত করে) আমাকে আমার রবের কাছে ফিরিয়ে নেয়া হয়, তবে নিশ্চয় আমি এর (এই বাগানের) চেয়েও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।’
قَالَ لَهٗ صَاحِبُهٗ وَهُوَ یُحَاوِرُهٗۤ اَكَفَرْتَ بِالَّذِیْ خَلَقَكَ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ سَوّٰىكَ رَجُلًا ۟ؕ
তার (মু’মিন) সাথী কথোপকথনের সময় তাকে বলল: ‘তুমি কি সেই সত্তার সাথে কুফরি করছ, যিনি তোমাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর বীর্য থেকে, অতঃপর তোমাকে সুগঠিত করে পূর্ণাঙ্গ মানুষ (পুরুষ) বানিয়েছেন?’(১৩)
لٰكِنَّاۡ هُوَ اللّٰهُ رَبِّیْ وَلَاۤ اُشْرِكُ بِرَبِّیْۤ اَحَدًا ۟
‘কিন্তু তিনিই আল্লাহ, আমার রব। আর আমি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক করি না।’
وَلَوْلَاۤ اِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَآءَ اللّٰهُ ۙ— لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللّٰهِ ۚ— اِنْ تَرَنِ اَنَا اَقَلَّ مِنْكَ مَالًا وَّوَلَدًا ۟ۚ
‘আর যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন তুমি এ কথা বললে না যে, ‘মাশাআল্লাহ’! (আল্লাহ যা চেয়েছেন, তাই হয়েছে) আল্লাহর তৌফিক ছাড়া কোনো কিছু করার শক্তি নেই। যদিও তুমি দেখো যে, আমি সম্পদে ও সন্তানে তোমার চেয়ে কম।
فَعَسٰی رَبِّیْۤ اَنْ یُّؤْتِیَنِ خَیْرًا مِّنْ جَنَّتِكَ وَیُرْسِلَ عَلَیْهَا حُسْبَانًا مِّنَ السَّمَآءِ فَتُصْبِحَ صَعِیْدًا زَلَقًا ۟ۙ
তবে আমি আশা করছি যে, ‘আমার রব আমাকে তোমার বাগানের চেয়ে উত্তম (কিছু) দান করবেন এবং তোমার বাগানের ওপর আসমান থেকে বজ্র পাঠাবেন। ফলে তা অনুর্বর উদ্ভিদশূন্য জমিনে পরিণত হবে।’
اَوْ یُصْبِحَ مَآؤُهَا غَوْرًا فَلَنْ تَسْتَطِیْعَ لَهٗ طَلَبًا ۟
‘কিংবা তার (তোমার বাগানের) পানি জমিনের গভীরে চলে যাবে, ফলে তা তুমি কোনোভাবেই খুঁজে পাবে না।’(১৪)
وَاُحِیْطَ بِثَمَرِهٖ فَاَصْبَحَ یُقَلِّبُ كَفَّیْهِ عَلٰی مَاۤ اَنْفَقَ فِیْهَا وَهِیَ خَاوِیَةٌ عَلٰی عُرُوْشِهَا وَیَقُوْلُ یٰلَیْتَنِیْ لَمْ اُشْرِكْ بِرَبِّیْۤ اَحَدًا ۟
আর বিপর্যয় তার ফল-ফলাদিকে পরিবেষ্টন করে নিলো। ফলে তাতে সে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য (আফসোস ও লজ্জায় নিজের) হাত কচলাতে লাগল এবং সেটি মাচানসহ ভূমিসাৎ হয়ে গেল । আর সে বলছিল: ‘হায় আফসোস! আমি যদি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক না করতাম!’
وَلَمْ تَكُنْ لَّهٗ فِئَةٌ یَّنْصُرُوْنَهٗ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَمَا كَانَ مُنْتَصِرًا ۟ؕ
আর আল্লাহ ছাড়া তার (এ কাফিরের) এমন কোনো লোকবলও ছিল না, যারা তাকে সাহায্য করবে এবং সে (আল্লাহর ধ্বংস থেকে রক্ষায়) সাহায্যপ্রাপ্তও ছিল না।
هُنَالِكَ الْوَلَایَةُ لِلّٰهِ الْحَقِّ ؕ— هُوَ خَیْرٌ ثَوَابًا وَّخَیْرٌ عُقْبًا ۟۠
এখানে অভিভাবকত্ব আল্লাহর, যিনি সত্য। তিনিই পুরস্কার প্রদানে সর্বোত্তম এবং পরিণাম নির্ধারণে শ্রেষ্ঠ।
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا كَمَآءٍ اَنْزَلْنٰهُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخْتَلَطَ بِهٖ نَبَاتُ الْاَرْضِ فَاَصْبَحَ هَشِیْمًا تَذْرُوْهُ الرِّیٰحُ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ مُّقْتَدِرًا ۟
আর (হে রাসূল!) তুমি তাদের জন্য(১৫) দুনিয়ার জীবনের দৃষ্টান্ত পেশ করো, (ধ্বংস ও দ্রুত নিঃশেষ হওয়ার ক্ষেত্রে) দুনিয়ার জীবন হলো (বৃষ্টির) পানির মতো, যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করেছি। তারপর তা মাটির উদ্ভিদজাতির সঙ্গে মিশে যায় (এবং সবুজ স্নিগ্ধ উদ্ভিদ জন্ম দেয়), তারপর সেগুলো শুকিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। ফলে বাতাস সেগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
اَلْمَالُ وَالْبَنُوْنَ زِیْنَةُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ— وَالْبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّخَیْرٌ اَمَلًا ۟
ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভা। আর স্থায়ী সৎকাজ(১৬) তোমার রবের নিকট প্রতিদানে উত্তম এবং প্রত্যাশাতেও উত্তম।
وَیَوْمَ نُسَیِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَی الْاَرْضَ بَارِزَةً ۙ— وَّحَشَرْنٰهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ اَحَدًا ۟ۚ
আর (হে রাসূল! স্মরণ করো সে দিনের কথা) যেদিন আমি পাহাড়গুলোকে চলমান করবো এবং জমিনকে তুমি দেখতে পাবে দৃশ্যমান।(১৭) আর আমি তাদেরকে (সকল সৃষ্টিকে হাশরের ময়দানে) একত্রিত করবো। অতঃপর তাদের কাউকেই (পুনরুত্থান না করে) ছাড়বো না।
وَعُرِضُوْا عَلٰی رَبِّكَ صَفًّا ؕ— لَقَدْ جِئْتُمُوْنَا كَمَا خَلَقْنٰكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍ ؗ— بَلْ زَعَمْتُمْ اَلَّنْ نَّجْعَلَ لَكُمْ مَّوْعِدًا ۟
আর সেদিন তাদেরকে তোমার রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে। (আল্লাহ বলবেন:) ‘তোমরা আমার কাছে তেমনভাবে(১৮) এসেছো, যেমন আমি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম; বরং তোমরা মনে করেছিলে যে আমরা তোমাদের কোনো সময়সীমা স্থির করব না।
وَوُضِعَ الْكِتٰبُ فَتَرَی الْمُجْرِمِیْنَ مُشْفِقِیْنَ مِمَّا فِیْهِ وَیَقُوْلُوْنَ یٰوَیْلَتَنَا مَالِ هٰذَا الْكِتٰبِ لَا یُغَادِرُ صَغِیْرَةً وَّلَا كَبِیْرَةً اِلَّاۤ اَحْصٰىهَا ۚ— وَوَجَدُوْا مَا عَمِلُوْا حَاضِرًا ؕ— وَلَا یَظْلِمُ رَبُّكَ اَحَدًا ۟۠
আর (সেদিন) আমলনামা সামনে রাখা হবে। (হে রাসূল!) তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখতে পাবে ভীত আতঙ্কগ্রস্ত, তাতে যা (যে কুফরী ও পাপরাশি) রয়েছে তার কারণে। আর তারা (আফসোস করে) বলবে: ‘হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! কী হলো এ কিতাবের! তা ছোট-বড় কোন কিছুই বাদ না দিয়ে (গুণে গুণে) সংরক্ষণ করে রেখেছে।’ আর তারা (দুনিয়ার জীবনে) যা করেছে, তা সামনে উপস্থিত পাবে। আর তোমার রব কারো প্রতি যুলম করেন না।
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ— كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ اَمْرِ رَبِّهٖ ؕ— اَفَتَتَّخِذُوْنَهٗ وَذُرِّیَّتَهٗۤ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِیْ وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ ؕ— بِئْسَ لِلظّٰلِمِیْنَ بَدَلًا ۟
আর (হে রাসূল! স্মরণ করো সেদিনের কথা) যখন আমি ফিরিশতাদের বলেছিলাম, তোমরা আদমকে (সম্মানার্থে) সাজদা করো। অতঃপর তারা সাজদা করলো, ইবলীস ছাড়া। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার রবের নির্দেশ অমান্য করলো। তোমরা কি তাকে ও তার বংশকে আমার পরিবর্তে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? যালিমদের জন্য কী নিকৃষ্ট বিনিময়!(১৯)
مَاۤ اَشْهَدْتُّهُمْ خَلْقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَلَا خَلْقَ اَنْفُسِهِمْ ۪— وَمَا كُنْتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّیْنَ عَضُدًا ۟
আমি তাদেরকে আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করাইনি, এমনকি তাদের নিজেদের সৃষ্টিও নয়। আর আমি পথভ্রষ্টকারীদেরকে(২০) (কখনো) সহকারী হিসেবে গ্রহণ করি না।
وَیَوْمَ یَقُوْلُ نَادُوْا شُرَكَآءِیَ الَّذِیْنَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ یَسْتَجِیْبُوْا لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَیْنَهُمْ مَّوْبِقًا ۟
আর যেদিন তিনি বলবেন: ‘তোমরা ডাকো আমার শরীকদের, যাদেরকে তোমরা (শরীক) মনে করতে।’ তখন তারা তাদেরকে ডাকবে; কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। আর আমি তাদের উভয়ের মধ্যে এক ধ্বংসগহ্বর (জাহান্নাম) স্থাপন করব।
وَرَاَ الْمُجْرِمُوْنَ النَّارَ فَظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ مُّوَاقِعُوْهَا وَلَمْ یَجِدُوْا عَنْهَا مَصْرِفًا ۟۠
আর তখন অপরাধীরা আগুন দেখবে, অতঃপর তারা নিশ্চিতরূপে জানতে পারবে যে, নিশ্চয় তারা তাতে নিপতিত হবে এবং তারা তা থেকে বাঁচার কোনো জায়গা (পরিত্রাণের জন্যে) খুঁজে পাবে না ।
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِیْ هٰذَا الْقُرْاٰنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ ؕ— وَكَانَ الْاِنْسَانُ اَكْثَرَ شَیْءٍ جَدَلًا ۟
আর আমি এই আলকুরআনে মানুষের জন্য সকল প্রকার দৃষ্টান্ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি।(২১) তবে মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝগড়াটে, বিতর্কপ্রিয়।
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ اَنْ یُّؤْمِنُوْۤا اِذْ جَآءَهُمُ الْهُدٰی وَیَسْتَغْفِرُوْا رَبَّهُمْ اِلَّاۤ اَنْ تَاْتِیَهُمْ سُنَّةُ الْاَوَّلِیْنَ اَوْ یَاْتِیَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا ۟
মানুষদেরকে ঈমান আনা থেকে, যখন তাদের কাছে হিদায়াত এসেছে এবং তাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে কোনো কিছুই বিরত রাখেনি; তবে (তাদের অবাধ্যতা ও ঔদ্ধত্যের কারণে) তারা এটাই কামনা করেছে যে, তাদের ওপর পূর্ববর্তী জাতিদের মতো (আল্লাহর নির্ধারিত) শাস্তির নিয়ম নেমে আসুক, অথবা তাদের সামনে সরাসরি শাস্তি এসে উপস্থিত হোক।
وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِیْنَ اِلَّا مُبَشِّرِیْنَ وَمُنْذِرِیْنَ ۚ— وَیُجَادِلُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِالْبَاطِلِ لِیُدْحِضُوْا بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُوْۤا اٰیٰتِیْ وَمَاۤ اُنْذِرُوْا هُزُوًا ۟
আর আমি তো রাসূলদেরকে (ঈমানদারদের জন্যে) সুসংবাদদাতা ও (কাফিরদের জন্য) সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি এবং যারা কুফরী করেছে তারা বাতিল অবলম্বনে তর্ক করে, যাতে তার মাধ্যমে সত্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। আর তারা আমার আয়াতসমূহকে এবং যা দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, সেগুলোকে উপহাস হিসেবে গ্রহণ করে।
وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّهٖ فَاَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِیَ مَا قَدَّمَتْ یَدٰهُ ؕ— اِنَّا جَعَلْنَا عَلٰی قُلُوْبِهِمْ اَكِنَّةً اَنْ یَّفْقَهُوْهُ وَفِیْۤ اٰذَانِهِمْ وَقْرًا ؕ— وَاِنْ تَدْعُهُمْ اِلَی الْهُدٰی فَلَنْ یَّهْتَدُوْۤا اِذًا اَبَدًا ۟
আর তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা থেকে (উপদেশ গ্রহণ না করে) বিমুখ হয়েছে এবং সে ভুলে গেছে যা তার দু-হাত পেশ করেছে? নিশ্চয় আমি তাদের অন্তরসমূহের উপর পর্দা দিয়ে দিয়েছি, যাতে তারা তা (আলকুরআন) বুঝতে না পারে। আর তাদের কর্ণসমূহে রয়েছে বধিরতা(২২) এবং তুমি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করলেও তারা কখনো হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে না।
وَرَبُّكَ الْغَفُوْرُ ذُو الرَّحْمَةِ ؕ— لَوْ یُؤَاخِذُهُمْ بِمَا كَسَبُوْا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ ؕ— بَلْ لَّهُمْ مَّوْعِدٌ لَّنْ یَّجِدُوْا مِنْ دُوْنِهٖ مَوْىِٕلًا ۟
আর (হে রাসূল!) তোমার রব ক্ষমাশীল, দয়াময়। তারা যা উপার্জন করেছে, তার কারণে তিনি যদি তাদেরকে (শাস্তি দিতে) পাকড়াও করতেন, তবে অবশ্যই তিনি তাদের জন্য (দুনিয়াতেই) শাস্তি ত্বরান্বিত করতেন।(২৩) বরং তাদের জন্য রয়েছে প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা কোনো আশ্রয়স্থল পাবে না।
وَتِلْكَ الْقُرٰۤی اَهْلَكْنٰهُمْ لَمَّا ظَلَمُوْا وَجَعَلْنَا لِمَهْلِكِهِمْ مَّوْعِدًا ۟۠
আর এগুলো সেসব জনপদ, যেগুলো আমি ধ্বংস করেছি(২৪) যখন তারা (কুফরী ও গুনাহের মাধ্যমে নিজেদের ওপর) যুলম করেছে এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছিলাম।
وَاِذْ قَالَ مُوْسٰی لِفَتٰىهُ لَاۤ اَبْرَحُ حَتّٰۤی اَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَیْنِ اَوْ اَمْضِیَ حُقُبًا ۟
আর (হে রাসূল! তুমি সে সময়ের কথা) স্মরণ করো, যখন মূসা তার (খাদেম) যুবকটিকে(২৫ বললো, ‘আমি চলতেই থাকব, যতক্ষণ না আমি দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে পৌঁছাই; অথবা আমি দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকব’—(সেই নেক বান্দার সাথে সাক্ষাৎ করে তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে)।
فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَیْنِهِمَا نَسِیَا حُوْتَهُمَا فَاتَّخَذَ سَبِیْلَهٗ فِی الْبَحْرِ سَرَبًا ۟
অতঃপর যখন তারা উভয়ে দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে পৌঁছল, তখন তারা তাদের (সঙ্গে থাকা) মাছের কথা ভুলে গেলো। ফলে মাছটি সুড়ঙ্গের ন্যায় একটি পথ তৈরি করে সমুদ্রে নেমে গেল।
فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتٰىهُ اٰتِنَا غَدَآءَنَا ؗ— لَقَدْ لَقِیْنَا مِنْ سَفَرِنَا هٰذَا نَصَبًا ۟
অতঃপর যখন তারা সে জায়গা অতিক্রম করলো তখন সে (মূসা) তার সঙ্গী যুবককে বললো: ‘আমাদের দুপুরের খাবার নিয়ে আসো। আমাদের এই সফরে আমরা অনেক ক্লান্তির সম্মুখীন হয়েছি।’
قَالَ اَرَءَیْتَ اِذْ اَوَیْنَاۤ اِلَی الصَّخْرَةِ فَاِنِّیْ نَسِیْتُ الْحُوْتَ ؗ— وَمَاۤ اَنْسٰىنِیْهُ اِلَّا الشَّیْطٰنُ اَنْ اَذْكُرَهٗ ۚ— وَاتَّخَذَ سَبِیْلَهٗ فِی الْبَحْرِ ۖۗ— عَجَبًا ۟
সে (সঙ্গী যুবকটি) বললো: ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, যখন আমরা পাথরটির ওপর বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। আর শয়তানই মূলত আপনাকে তা স্মরণ করিয়ে দিতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। আর মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে সমুদ্রে তার পথ তৈরি করে নিয়েছে।’
قَالَ ذٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ ۖۗ— فَارْتَدَّا عَلٰۤی اٰثَارِهِمَا قَصَصًا ۟ۙ
সে (মূসা যুবকটিকে) বললো: ‘ঐ স্থানটিই আমরা খুঁজছি।(২৬) তাই তারা তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে পেছনে ফিরে গেলো।’
فَوَجَدَا عَبْدًا مِّنْ عِبَادِنَاۤ اٰتَیْنٰهُ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِنَا وَعَلَّمْنٰهُ مِنْ لَّدُنَّا عِلْمًا ۟
অতঃপর (তারা মাছ হারানোর জায়গায় পৌঁছালো) তারা আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দাকে(২৭) পেল, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছি এবং তাকে আমার পক্ষ থেকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি।
قَالَ لَهٗ مُوْسٰی هَلْ اَتَّبِعُكَ عَلٰۤی اَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا ۟
মূসা তাঁকে বললো: ‘আমি কি আপনাকে (এই শর্তে) অনুসরণ করতে পারি যে, আপনাকে যে ইলম শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তা থেকে সত্যপথ প্রদর্শনকারী ইলম আমাকে শিক্ষা দিবেন?’
قَالَ اِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِیْعَ مَعِیَ صَبْرًا ۟
সে (খাদির) বললো: ‘আপনি কখনো আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না।’(২৮)
وَكَیْفَ تَصْبِرُ عَلٰی مَا لَمْ تُحِطْ بِهٖ خُبْرًا ۟
আর আপনি কীভাবে ধৈর্যধারণ করবেন সেই বিষয়ে, যার সম্পর্কে আপনার পূর্ণ ইলম নেই?
قَالَ سَتَجِدُنِیْۤ اِنْ شَآءَ اللّٰهُ صَابِرًا وَّلَاۤ اَعْصِیْ لَكَ اَمْرًا ۟
সে (মূসা) বললো: ‘ইন শা আল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং কোনো বিষয়ে আমি আপনার অবাধ্য হবো না।’
قَالَ فَاِنِ اتَّبَعْتَنِیْ فَلَا تَسْـَٔلْنِیْ عَنْ شَیْءٍ حَتّٰۤی اُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا ۟۠
সে (খাদির) বললো: ‘তবে আপনি যদি আমাকে অনুসরণই করেন, তাহলে কোনো বিষয় সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করবেন না; যতক্ষণ না আমি (নিজের থেকে) সে সম্পর্কে আপনাকে জানাই।’
فَانْطَلَقَا ۫— حَتّٰۤی اِذَا رَكِبَا فِی السَّفِیْنَةِ خَرَقَهَا ؕ— قَالَ اَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ اَهْلَهَا ۚ— لَقَدْ جِئْتَ شَیْـًٔا اِمْرًا ۟
অতঃপর তারা দুইজন চলতে লাগল। অবশেষে যখন তারা (বিনা ভাড়ার) নৌকায় চড়লো, সে (খাদির) তা ফুটো করে দিলো। সে (মূসা) বললো: ‘আপনি কি তার আরোহীদের ডুবানোর জন্য তা ফুটো করে দিলেন? আপনি অবশ্যই গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।’
قَالَ اَلَمْ اَقُلْ اِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِیْعَ مَعِیَ صَبْرًا ۟
সে (খাদির) বললো: ‘আমি কি বলিনি, আপনি (আমার কর্মকাণ্ড দেখে) আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না?’
قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِیْ بِمَا نَسِیْتُ وَلَا تُرْهِقْنِیْ مِنْ اَمْرِیْ عُسْرًا ۟
সে (মূসা) বললো: আপনি আমাকে আমার ভুলে যাওয়ার কারণে দোষ দিবেন না এবং আমার কর্মের কারণে আমাকে কষ্টে ফেলবেন না।
فَانْطَلَقَا ۫— حَتّٰۤی اِذَا لَقِیَا غُلٰمًا فَقَتَلَهٗ ۙ— قَالَ اَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِیَّةً بِغَیْرِ نَفْسٍ ؕ— لَقَدْ جِئْتَ شَیْـًٔا نُّكْرًا ۟
অতঃপর তারা (সাগরের পাড়ে) চলতে লাগলো। অবশেষে যখন তারা এক বালকের সাক্ষাৎ পেলো, তখন সে (খাদির) তাকে হত্যা করলো। সে (মূসা) বললো: ‘আপনি নিষ্পাপ ব্যক্তিকে হত্যা করলেন, যে কাউকে হত্যা করেনি? আপনি তো মারাত্মক অন্যায় কাজ করলেন।’
قَالَ اَلَمْ اَقُلْ لَّكَ اِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِیْعَ مَعِیَ صَبْرًا ۟
সে (খাদির) বললো: ‘আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কখনই ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না’?
قَالَ اِنْ سَاَلْتُكَ عَنْ شَیْ بَعْدَهَا فَلَا تُصٰحِبْنِیْ ۚ— قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَّدُنِّیْ عُذْرًا ۟
মূসা বললো: ‘এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করি, তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। আমার পক্ষ থেকে আপনি ওযর পেয়ে গেছেন।’(২৯)
فَانْطَلَقَا ۫— حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَیَاۤ اَهْلَ قَرْیَةِ ١سْتَطْعَمَاۤ اَهْلَهَا فَاَبَوْا اَنْ یُّضَیِّفُوْهُمَا فَوَجَدَا فِیْهَا جِدَارًا یُّرِیْدُ اَنْ یَّنْقَضَّ فَاَقَامَهٗ ؕ— قَالَ لَوْ شِئْتَ لَتَّخَذْتَ عَلَیْهِ اَجْرًا ۟
অতঃপর তারা দু’জন সামনের দিকে চলতে লাগল। অবশেষে তারা যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছলো তখন তাদের কাছে কিছু খাবার চাইলো; কিন্তু তারা তাদেরকে মেহমানদারি করতে অস্বীকার করলো। অতঃপর তারা সেখানে একটি প্রাচীর দেখতে পেলো, যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। সে (খাদির) তখন প্রাচীরটি সোজাভাবে দাঁড় করিয়ে দিলো। মূসা বললো: ‘আপনি ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন।’
قَالَ هٰذَا فِرَاقُ بَیْنِیْ وَبَیْنِكَ ۚ— سَاُنَبِّئُكَ بِتَاْوِیْلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَّلَیْهِ صَبْرًا ۟
সে (খাদির) বলল: ‘এখানেই (৩০) আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন (বিচ্ছেদ) হয়ে গেলো। (ইতঃপূর্বে সংঘটিত) যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেননি, আমি এখন আপনাকে সেগুলোর ব্যাখ্যা দিচ্ছি।’
اَمَّا السَّفِیْنَةُ فَكَانَتْ لِمَسٰكِیْنَ یَعْمَلُوْنَ فِی الْبَحْرِ فَاَرَدْتُّ اَنْ اَعِیْبَهَا وَكَانَ وَرَآءَهُمْ مَّلِكٌ یَّاْخُذُ كُلَّ سَفِیْنَةٍ غَصْبًا ۟
‘(প্রথমেই) নৌকাটির বিষয় হলো, তা ছিলো কিছু দরিদ্র লোকের, যারা সমুদ্রে কাজ করত। আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি; কারণ তাদের সামনে ছিলো এক (অত্যাচারী) রাজা, যে (ভাল) নৌকাগুলো জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিচ্ছিলো।’
وَاَمَّا الْغُلٰمُ فَكَانَ اَبَوٰهُ مُؤْمِنَیْنِ فَخَشِیْنَاۤ اَنْ یُّرْهِقَهُمَا طُغْیَانًا وَّكُفْرًا ۟ۚ
‘আর বালকটির বিষয় হলো, তার পিতামাতা ছিলো মু’মিন। অতঃপর আমরা আশঙ্কা করলাম যে, সে (সাবালক হয়ে) সীমালঙ্ঘন ও কুফরী দ্বারা তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে।’(৩১)
فَاَرَدْنَاۤ اَنْ یُّبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَیْرًا مِّنْهُ زَكٰوةً وَّاَقْرَبَ رُحْمًا ۟
‘তাই আমরা চাইলাম, তাদের রব তাদেরকে তার (বালকটির) পরিবর্তে এমন সন্তান দান করবেন, যে হবে তার চেয়ে পবিত্রতায় উত্তম এবং (পিতামাতার প্রতি) দয়ামায়ায় অধিক ঘনিষ্ঠ।’
وَاَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلٰمَیْنِ یَتِیْمَیْنِ فِی الْمَدِیْنَةِ وَكَانَ تَحْتَهٗ كَنْزٌ لَّهُمَا وَكَانَ اَبُوْهُمَا صَالِحًا ۚ— فَاَرَادَ رَبُّكَ اَنْ یَّبْلُغَاۤ اَشُدَّهُمَا وَیَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا ۖۗ— رَحْمَةً مِّنْ رَّبِّكَ ۚ— وَمَا فَعَلْتُهٗ عَنْ اَمْرِیْ ؕ— ذٰلِكَ تَاْوِیْلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَّلَیْهِ صَبْرًا ۟ؕ۠
‘আর প্রাচীরটির বিষয় হলো, তা ছিল শহরের দু’জন ইয়াতীম বালকের এবং তার নিচে তাদের গুপ্তধন লুকায়িত ছিল। আর তাদের (মৃত) পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তাই আপনার রব চাইলেন যে, তারা দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের গুপ্তধন বের করে নেবে। এ সবই আপনার রবের রহমত স্বরূপ। আমি নিজ থেকে তা করিনি(৩২)। এ হলো সে বিষয়ের ব্যাখ্যা, যে সম্পর্কে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেননি।’
وَیَسْـَٔلُوْنَكَ عَنْ ذِی الْقَرْنَیْنِ ؕ— قُلْ سَاَتْلُوْا عَلَیْكُمْ مِّنْهُ ذِكْرًا ۟ؕ
আর (হে রাসূল!) তারা (মুশরিক ও ইয়াহূদীরা) তোমাকে যুলকারনাইন(৩৩) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। বলো: ‘আমি এখন তার সম্পর্কে তোমাদের নিকট বর্ণনা দিচ্ছি।’
اِنَّا مَكَّنَّا لَهٗ فِی الْاَرْضِ وَاٰتَیْنٰهُ مِنْ كُلِّ شَیْءٍ سَبَبًا ۟ۙ
আমি তাকে জমিনে কর্তৃত্ব দান করেছিলাম এবং সববিষয়ের উপায়-উপকরণ দান করেছিলাম।(৩৪)
فَاَتْبَعَ سَبَبًا ۟
অতঃপর সে একটি পথ ধরে (সূর্যাস্তের দিকে) রওয়ানা করলো।
حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِیْ عَیْنٍ حَمِئَةٍ وَّوَجَدَ عِنْدَهَا قَوْمًا ؕ۬— قُلْنَا یٰذَا الْقَرْنَیْنِ اِمَّاۤ اَنْ تُعَذِّبَ وَاِمَّاۤ اَنْ تَتَّخِذَ فِیْهِمْ حُسْنًا ۟
অবশেষে যখন সে (ভ্রমণ করতে করতে) সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছলো, তখন সে সূর্যকে একটি কর্দমাক্ত পানির ঝর্ণায় ডুবতে দেখতে পেলো এবং সে এর কাছে একটি জাতির দেখা পেলো। আমি বললাম: ‘হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তিও দিতে পার অথবা তাদের ব্যাপারে সদাচরণও করতে পার।’
قَالَ اَمَّا مَنْ ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهٗ ثُمَّ یُرَدُّ اِلٰی رَبِّهٖ فَیُعَذِّبُهٗ عَذَابًا نُّكْرًا ۟
সে বললো: ‘যে ব্যক্তি (আল্লাহর ইবাদাতের দিকে আহ্বানের পর তাঁর সাথে শিরক করে) যুলম করবে, আমরা অচিরেই তাকে (হত্যার মাধ্যমে) শাস্তি দিবো। অতঃপর তাকে তার রবের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে। তখন তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দেবেন।’
وَاَمَّا مَنْ اٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهٗ جَزَآءَ ١لْحُسْنٰی ۚ— وَسَنَقُوْلُ لَهٗ مِنْ اَمْرِنَا یُسْرًا ۟ؕ
‘আর যে ব্যক্তি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে, তার জন্য প্রতিদান স্বরূপ রয়েছে উত্তম প্রতিদান (জান্নাত) এবং আমিও তার প্রতি ব্যবহারের সময়, তার সাথে কোমল-নমনীয় কথা বলবো।’
ثُمَّ اَتْبَعَ سَبَبًا ۟
তারপর সে আরেকটি পথ ধরে (সূর্য উদয়ের দিকে) অগ্রসর হলো।
حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلٰی قَوْمٍ لَّمْ نَجْعَلْ لَّهُمْ مِّنْ دُوْنِهَا سِتْرًا ۟ۙ
অবশেষে সে যখন (চলতে চলতে) সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছলো তখন সে দেখতে পেলো, তা এমন এক জাতির ওপর উদিত হচ্ছে, যাদের জন্য সূর্যতাপ হতে কোনো অন্তরাল আমরা সৃষ্টি করিনি। (৩৫)
كَذٰلِكَ ؕ— وَقَدْ اَحَطْنَا بِمَا لَدَیْهِ خُبْرًا ۟
(যুলকারনাইনের) প্রকৃত ঘটনা এটাই। আর তার নিকট যা (ক্ষমতা ও শক্তি) ছিল, আমি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত।
ثُمَّ اَتْبَعَ سَبَبًا ۟
অতঃপর সে (সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পথ বাদ দিয়ে) আরেক পথ ধরে অগ্রসর হলো।
حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ بَیْنَ السَّدَّیْنِ وَجَدَ مِنْ دُوْنِهِمَا قَوْمًا ۙ— لَّا یَكَادُوْنَ یَفْقَهُوْنَ قَوْلًا ۟
অবশেষে (যেতে যেতে) যখন সে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছল, তখন সেখানে সে এমন এক জাতির সাক্ষাত পেল, যারা তার কথা তেমন একটা বুঝতে পারছিল না।
قَالُوْا یٰذَا الْقَرْنَیْنِ اِنَّ یَاْجُوْجَ وَمَاْجُوْجَ مُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلٰۤی اَنْ تَجْعَلَ بَیْنَنَا وَبَیْنَهُمْ سَدًّا ۟
তারা বললো: ‘হে যুলকারনাইন! নিশ্চয় ইয়া’জূজ ও মা’জূজ(৩৬) জমিনে অশান্তি সৃষ্টি করছে। তাই আমরা কি আপনাকে এ জন্য কিছু খরচ (অনুদান) দেব যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি (প্রতিবন্ধক) প্রাচীর নির্মাণ করে দিবেন?’
قَالَ مَا مَكَّنِّیْ فِیْهِ رَبِّیْ خَیْرٌ فَاَعِیْنُوْنِیْ بِقُوَّةٍ اَجْعَلْ بَیْنَكُمْ وَبَیْنَهُمْ رَدْمًا ۟ۙ
সে (যুলকারনাইন) বললো: ‘আমার রব আমাকে যে (রাষ্ট্র ও ক্ষমতার মাধ্যমে) সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটাই উত্তম। সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য করো, আমি তোমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দিবো।’
اٰتُوْنِیْ زُبَرَ الْحَدِیْدِ ؕ— حَتّٰۤی اِذَا سَاوٰی بَیْنَ الصَّدَفَیْنِ قَالَ انْفُخُوْا ؕ— حَتّٰۤی اِذَا جَعَلَهٗ نَارًا ۙ— قَالَ اٰتُوْنِیْۤ اُفْرِغْ عَلَیْهِ قِطْرًا ۟ؕ
‘তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও’। অবশেষে যখন (লোহার স্তুপের দ্বারা) সে দু’পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা সমান করে দিলো, তখন সে বললো: ‘তোমরা (আগুন জ্বালিয়ে) হাঁপরে দম দিতে থাক।’ অতঃপর যখন সে তা আগুনে পরিণত করলো, তখন বললো: ‘তোমরা আমাকে কিছু তামা এনে দাও, আমি তা এর ওপর ঢেলে দিই।’
فَمَا اسْطَاعُوْۤا اَنْ یَّظْهَرُوْهُ وَمَا اسْتَطَاعُوْا لَهٗ نَقْبًا ۟
এরপর (প্রাচীরটি উঁচু হওয়ায়) তারা প্রাচীরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারলো না এবং (সুদৃঢ় হওয়ায়) নিচ দিয়েও তা (ছিদ্র করে) ভেদ করতে পারলো না।
قَالَ هٰذَا رَحْمَةٌ مِّنْ رَّبِّیْ ۚ— فَاِذَا جَآءَ وَعْدُ رَبِّیْ جَعَلَهٗ دَكَّآءَ ۚ— وَكَانَ وَعْدُ رَبِّیْ حَقًّا ۟ؕ
সে (যুলকারনাইন) বললো: ‘এটা আমার রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ। অতঃপর যখন আমার রবের ওয়াদাকৃত সময় আসবে(৩৭) তখন তিনি তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবেন। আর আমার রবের ওয়াদা সত্য।’
وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ یَوْمَىِٕذٍ یَّمُوْجُ فِیْ بَعْضٍ وَّنُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَجَمَعْنٰهُمْ جَمْعًا ۟ۙ
আর আমি সেদিন তাদেরকে(৩৮) এমন অবস্থায় ছেড়ে দিবো যে, তারা একদল আরেক দলের ওপর তরঙ্গমালার মতো আছড়ে পড়বে এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকে (হিসাব ও প্রতিদানের জন্য) একত্র করবো।
وَّعَرَضْنَا جَهَنَّمَ یَوْمَىِٕذٍ لِّلْكٰفِرِیْنَ عَرْضَا ۟ۙ
এবং আমি সেদিন কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে (স্বচক্ষে দেখাতে) সরাসরি উপস্থিত করবো।
١لَّذِیْنَ كَانَتْ اَعْیُنُهُمْ فِیْ غِطَآءٍ عَنْ ذِكْرِیْ وَكَانُوْا لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ سَمْعًا ۟۠
আমার স্মরণ থেকে যাদের চোখ (দুনিয়াতে) ছিল আবরণে ঢাকা এবং যারা (আমার আয়াতসমূহ) শুনতেও অক্ষম ছিল।
اَفَحَسِبَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنْ یَّتَّخِذُوْا عِبَادِیْ مِنْ دُوْنِیْۤ اَوْلِیَآءَ ؕ— اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكٰفِرِیْنَ نُزُلًا ۟
যারা কুফরী করছে, তারা কি মনে করেছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে(৩৯) অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয় আমি জাহান্নামকে কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করেছি।
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْاَخْسَرِیْنَ اَعْمَالًا ۟ؕ
(হে রাসূল!) তুমি বলো: ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাবো, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?’
اَلَّذِیْنَ ضَلَّ سَعْیُهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَهُمْ یَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ یُحْسِنُوْنَ صُنْعًا ۟
এরাই তারা, (কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে যে,) দুনিয়ার জীবনে তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে; অথচ তারা মনে করছে যে, তারা সৎকাজই করছে।’
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ وَلِقَآىِٕهٖ فَحَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِیْمُ لَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَزْنًا ۟
‘তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে (কুফরীর কারণে) তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোনো ওজনের ব্যবস্থা রাখবো না।’ (বরং তারা বিনা হিসেবে জাহান্নামী হবে।)
ذٰلِكَ جَزَآؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوْا وَاتَّخَذُوْۤا اٰیٰتِیْ وَرُسُلِیْ هُزُوًا ۟
‘তাদের প্রতিফল জাহান্নাম। কেননা তারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও আমার রাসূলগণকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের বিষয়বস্তু বানিয়েছে।’
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنّٰتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا ۟ۙ
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য (প্রস্তুত ) রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَا لَا یَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا ۟
সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও যেতে চাইবে না।
قُلْ لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمٰتِ رَبِّیْ لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ اَنْ تَنْفَدَ كَلِمٰتُ رَبِّیْ وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهٖ مَدَدًا ۟
(হে রাসূল!) তুমি বলো: ‘আমার রবের বাণী লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায়, তবে আমার রবের বাণীগুলো শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্রের পানি নিঃশেষ হয়ে যাবে; যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো একটি সমুদ্রও নিয়ে আসি, তবে সেটাও (যথেষ্ট হবে না)।’
قُلْ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ یُوْحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ— فَمَنْ كَانَ یَرْجُوْا لِقَآءَ رَبِّهٖ فَلْیَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَّلَا یُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهٖۤ اَحَدًا ۟۠
(হে রাসূল!) তুমি বলো: ‘আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ। আমার নিকট ওয়াহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।’
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time