كٓهٰیٰعٓصٓ ۟
কাফ-হা-ইয়া-‘আঈন-সোয়াদ।(১)
Mary · 98 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
كٓهٰیٰعٓصٓ ۟
কাফ-হা-ইয়া-‘আঈন-সোয়াদ।(১)
ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهٗ زَكَرِیَّا ۟ۖۚ
(হে নবী!) এটা তোমার রবের তাঁর বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি রহমতের বিবরণ।
اِذْ نَادٰی رَبَّهٗ نِدَآءً خَفِیًّا ۟
যখন সে তার রবকে গোপনে ডেকেছিল।
قَالَ رَبِّ اِنِّیْ وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّیْ وَاشْتَعَلَ الرَّاْسُ شَیْبًا وَّلَمْ اَكُنْ بِدُعَآىِٕكَ رَبِّ شَقِیًّا ۟
সে বলেছিল: ‘হে আমার রব! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং (বার্ধক্যবশত) আমার মাথার চুলগুলো সাদা হয়ে গেছে। হে আমার রব! আপনার নিকট দু‘আ করে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি।’
وَاِنِّیْ خِفْتُ الْمَوَالِیَ مِنْ وَّرَآءِیْ وَكَانَتِ امْرَاَتِیْ عَاقِرًا فَهَبْ لِیْ مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا ۟ۙ
‘আর আমি আমার (মৃত্যুর) পরে আত্মীয়-স্বজনদের সম্পর্কে (দুনিয়াদারীতে নিমগ্ন থাকার) আশঙ্কাবোধ করছি। এদিকে আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা। অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে একজন উত্তরাধিকারী (পুত্র সন্তান) দান করুন।’
یَّرِثُنِیْ وَیَرِثُ مِنْ اٰلِ یَعْقُوْبَ ۗ— وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِیًّا ۟
‘যে আমার (নবুওয়াতের) উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকূবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার রব! আপনি তাকে (ধর্ম, চরিত্র ও জ্ঞানে) পছন্দনীয় বানিয়ে দিন।’
یٰزَكَرِیَّاۤ اِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلٰمِ ١سْمُهٗ یَحْیٰی ۙ— لَمْ نَجْعَلْ لَّهٗ مِنْ قَبْلُ سَمِیًّا ۟
(প্রার্থনার সাড়া দিয়ে আল্লাহ তাকে বললেন:) ‘হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম ইয়াহইয়া। আমি ইতঃপূর্বে এ নামে অন্য কারো নাম রাখিনি।’
قَالَ رَبِّ اَنّٰی یَكُوْنُ لِیْ غُلٰمٌ وَّكَانَتِ امْرَاَتِیْ عَاقِرًا وَّقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِیًّا ۟
সে (যাকারিয়্যা) বললো: ‘হে আমার রব! আমার কীভাবে পুত্র সন্তান হবে; অথচ আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি।’
قَالَ كَذٰلِكَ ۚ— قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَیَّ هَیِّنٌ وَّقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَیْـًٔا ۟
সে (সংবাদদাতা ফিরিশতা) বললো: ‘এভাবেই হবে।’ তোমার রব বলেছেন: ‘এটা (বন্ধ্যা মা এবং বৃদ্ধ পিতা থেকে কাউকে সৃষ্টি করা) আমার জন্য খুবই সহজ। আমি তো ইতঃপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি, তখন তুমি কিছুই ছিলে না।’
قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِّیْۤ اٰیَةً ؕ— قَالَ اٰیَتُكَ اَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَ لَیَالٍ سَوِیًّا ۟
সে বললো: ‘হে আমার রব! আমার জন্য (সুসংবাদ লাভের) একটি নিদর্শন ঠিক করে দিন।’ তিনি বললেন: ‘তোমার জন্য এটাই নিদর্শন যে, তুমি সুস্থ থেকেও তিনদিন কারো সাথে কথা বলবে না।’
فَخَرَجَ عَلٰی قَوْمِهٖ مِنَ الْمِحْرَابِ فَاَوْحٰۤی اِلَیْهِمْ اَنْ سَبِّحُوْا بُكْرَةً وَّعَشِیًّا ۟
অতঃপর সে মিহরাব(২) হতে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে আসলো এবং ইশারায় তাদেরকে বললো যে, ‘তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ কর।’
یٰیَحْیٰی خُذِ الْكِتٰبَ بِقُوَّةٍ ؕ— وَاٰتَیْنٰهُ الْحُكْمَ صَبِیًّا ۟ۙ
(পরিণত বয়সে উপনীত হলে আল্লাহ তাকে সম্বোধন করে বললেন:) ‘হে ইয়াহইয়া! তুমি কিতাবটিকে (তাওরাতকে) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।’ আমি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞান(৩) দান করেছি।
وَّحَنَانًا مِّنْ لَّدُنَّا وَزَكٰوةً ؕ— وَكَانَ تَقِیًّا ۟ۙ
আর আমি তাকে নিজ পক্ষ থেকে (দয়াপরবশ হয়ে) স্নেহ-মমতা ও পবিত্রতা দান করেছি। আর সে ছিল, (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানা সত্যিকারেরই) মুত্তাকী।
وَّبَرًّا بِوَالِدَیْهِ وَلَمْ یَكُنْ جَبَّارًا عَصِیًّا ۟
আর সে ছিল তার পিতামাতার সাথে সদাচারী। আর সে (তার রব ও পিতামাতার প্রতি) উদ্ধত, অবাধ্য ছিল না।
وَسَلٰمٌ عَلَیْهِ یَوْمَ وُلِدَ وَیَوْمَ یَمُوْتُ وَیَوْمَ یُبْعَثُ حَیًّا ۟۠
আর তার ওপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) শান্তি ও নিরাপত্তা, যেদিন সে জন্ম লাভ করেছিল, যেদিন সে মারা যাবে এবং যেদিন তাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে।
وَاذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ مَرْیَمَ ۘ— اِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ اَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِیًّا ۟ۙ
আর (হে রাসূল!) তুমি কিতাবে মারইয়াম-এর কথা উল্লেখ কর, যখন সে তাঁর পরিবার থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের এক নির্জন স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলো।
فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُوْنِهِمْ حِجَابًا ۫— فَاَرْسَلْنَاۤ اِلَیْهَا رُوْحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِیًّا ۟
তখন সে তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য একটি পর্দা গ্রহণ করল। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ (জিবরীলকে) প্রেরণ করলাম, আর সে তার সামনে এক পরিপূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।(৪)
قَالَتْ اِنِّیْۤ اَعُوْذُ بِالرَّحْمٰنِ مِنْكَ اِنْ كُنْتَ تَقِیًّا ۟
মারইয়াম বললো: ‘আমি তোমার থেকে পরম করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি; যদি তুমি মুত্তাকী হও।’
قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوْلُ رَبِّكِ ۖۗ— لِاَهَبَ لَكِ غُلٰمًا زَكِیًّا ۟
জিবরীল বললেন: আমি তো তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল। (তিনি আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন,) যাতে আমি তোমাকে এক পবিত্র সন্তান দান করি।
قَالَتْ اَنّٰی یَكُوْنُ لِیْ غُلٰمٌ وَّلَمْ یَمْسَسْنِیْ بَشَرٌ وَّلَمْ اَكُ بَغِیًّا ۟
মারইয়াম বললো: ‘কীভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোনো (পুরুষ) মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আর আমি তো ব্যভিচারিণীও নই।’
قَالَ كَذٰلِكِ ۚ— قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَیَّ هَیِّنٌ ۚ— وَلِنَجْعَلَهٗۤ اٰیَةً لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا ۚ— وَكَانَ اَمْرًا مَّقْضِیًّا ۟
সে (জিবরীল) বললো: ‘এভাবেই হবে।’ তোমার রব বলেছেন: ‘এটা (পিতা ছাড়া সন্তান জন্ম দেয়া) আমার জন্য খুবই সহজ। আর যেন আমি তাকে করে দেই মানুষের জন্য নিদর্শন(৫) এবং আমার পক্ষ থেকে রহমত। আর এটি (এ সন্তানের জন্ম) একটি সিদ্ধান্তকৃত বিষয়।
فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِهٖ مَكَانًا قَصِیًّا ۟
তারপর (ফিরিশতার ফুঁয়ের পর) সে তাকে (‘ঈসাকে) গর্ভে ধারণ করলো এবং তাকে নিয়ে দূরবর্তী একটি স্থানে(৬) চলে গেলো।
فَاَجَآءَهَا الْمَخَاضُ اِلٰی جِذْعِ النَّخْلَةِ ۚ— قَالَتْ یٰلَیْتَنِیْ مِتُّ قَبْلَ هٰذَا وَكُنْتُ نَسْیًا مَّنْسِیًّا ۟
অতঃপর (গর্ভধারণের সময় পূর্ণ হবার পর) প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের গোড়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। (প্রসবের যাতনা ও লোকলজ্জার ভয়ে আর্তনাদ করে) সে বললো: ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতাম।(৭)
فَنَادٰىهَا مِنْ تَحْتِهَاۤ اَلَّا تَحْزَنِیْ قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِیًّا ۟
তখন তার নিচ থেকে সে(৮) তাকে ডেকে বললো যে, ‘তুমি চিন্তা করো না। তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝরনা সৃষ্টি করেছেন।’
وَهُزِّیْۤ اِلَیْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسٰقِطْ عَلَیْكِ رُطَبًا جَنِیًّا ۟ؗ
আর (খাবারের প্রয়োজন হলে) তুমি খেজুর গাছের কাণ্ডটি নিজের দিকে ঝাঁকাও; তা তোমার ওপর তাজা পাকা খেজুর ঝরিয়ে দেবে।
فَكُلِیْ وَاشْرَبِیْ وَقَرِّیْ عَیْنًا ۚ— فَاِمَّا تَرَیِنَّ مِنَ الْبَشَرِ اَحَدًا ۙ— فَقُوْلِیْۤ اِنِّیْ نَذَرْتُ لِلرَّحْمٰنِ صَوْمًا فَلَنْ اُكَلِّمَ الْیَوْمَ اِنْسِیًّا ۟ۚ
‘অতঃপর তুমি (তাজা খেজুর) খাও, (পানি) পান করো এবং (নিজ সন্তানকে দেখে) চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোনো লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলবো না।’
فَاَتَتْ بِهٖ قَوْمَهَا تَحْمِلُهٗ ؕ— قَالُوْا یٰمَرْیَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَیْـًٔا فَرِیًّا ۟
তারপর মারইয়াম তাকে (সন্তান ‘ঈসাকে) কোলে নিয়ে নিজ জাতির নিকট আসলো। তারা বললো: ‘হে মারইয়াম! তুমি তো একটি জঘন্য পাপের কাজ করে ফেলেছো!’(৯)
یٰۤاُخْتَ هٰرُوْنَ مَا كَانَ اَبُوْكِ امْرَاَ سَوْءٍ وَّمَا كَانَتْ اُمُّكِ بَغِیًّا ۟ۖۚ
‘হে হারূনের বোন!(১০) (এমন একটা ঘটনা তুমি কিভাবে ঘটালে?) তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিলো না। আর তোমার মা-ও ব্যভিচারিণী ছিল না।’
فَاَشَارَتْ اِلَیْهِ ۫ؕ— قَالُوْا كَیْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِی الْمَهْدِ صَبِیًّا ۟
তখন মারইয়াম শিশুটির দিকে ইশারা করলো। তারা (আশ্চর্য হয়ে) বললো: ‘আমরা কীভাবে একটি কোলের শিশুর সাথে কথা বলবো?’
قَالَ اِنِّیْ عَبْدُ اللّٰهِ ۫ؕ— اٰتٰىنِیَ الْكِتٰبَ وَجَعَلَنِیْ نَبِیًّا ۟ۙ
শিশুটি বললো: ‘নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব (ইন্জীল) দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন।’
وَّجَعَلَنِیْ مُبٰرَكًا اَیْنَ مَا كُنْتُ ۪— وَاَوْصٰنِیْ بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ مَا دُمْتُ حَیًّا ۟ۙ
‘আর আমি যেখানেই থাকি না কেনো তিনি আমাকে (তাঁর বান্দাদের জন্য) বরকতময় করেছেন এবং যতদিন আমি জীবিত থাকি তিনি আমাকে সালাত ও যাকাত আদায় করতে আদেশ করেছেন।’
وَّبَرًّا بِوَالِدَتِیْ ؗ— وَلَمْ یَجْعَلْنِیْ جَبَّارًا شَقِیًّا ۟
‘আর তিনি আমাকে আমার মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ করেছেন এবং আমাকে (আমার রবের প্রতি) অপ্রচণ্ড অহংকারী, বিদ্রোহী বানাননি।’
وَالسَّلٰمُ عَلَیَّ یَوْمَ وُلِدْتُّ وَیَوْمَ اَمُوْتُ وَیَوْمَ اُبْعَثُ حَیًّا ۟
‘আর আমার ওপর শান্তি ও নিরাপত্তা, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন আমি মারা যাবো আর যেদিন (কিয়ামতের দিনে) আমাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে।’(১১)
ذٰلِكَ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ ۚ— قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِیْ فِیْهِ یَمْتَرُوْنَ ۟
এই(১২) হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা। এটিই হলো তাঁর ব্যাপারে চূড়ান্ত সত্য কথা, যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করছে।
مَا كَانَ لِلّٰهِ اَنْ یَّتَّخِذَ مِنْ وَّلَدٍ ۙ— سُبْحٰنَهٗ ؕ— اِذَا قَضٰۤی اَمْرًا فَاِنَّمَا یَقُوْلُ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ ۟ؕ
সন্তান গ্রহণ করা তো আল্লাহর কাজ নয়। তিনি পবিত্র মহান। তিনি যখন কোন কিছু করতে চান তখন তদুদ্দেশ্যে শুধু বলেন: ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।(১৩)
وَاِنَّ اللّٰهَ رَبِّیْ وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ ؕ— هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ ۟
আর নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদাত করো। এটাই সরল-সঠিক পথ।
فَاخْتَلَفَ الْاَحْزَابُ مِنْ بَیْنِهِمْ ۚ— فَوَیْلٌ لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ مَّشْهَدِ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟
অতঃপর (‘ঈসার ব্যাপারটি নিয়ে) তাদের মধ্যে দলগুলো বিভক্ত হয়ে গেল(১৪); অতএব, দুর্ভাগা হোক সেই কাফেরদের, যখন তারা এক মহান দিনের দৃশ্যের মুখোমুখি হবে।
اَسْمِعْ بِهِمْ وَاَبْصِرْ ۙ— یَوْمَ یَاْتُوْنَنَا لٰكِنِ الظّٰلِمُوْنَ الْیَوْمَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟
যেদিন তারা আমার কাছে আসবে, সেদিন তারা কতই না স্পষ্টভাবে শুনতে পাবে এবং দেখতে পাবে! কিন্তু যালিমরা আজ স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে।
وَاَنْذِرْهُمْ یَوْمَ الْحَسْرَةِ اِذْ قُضِیَ الْاَمْرُ ۘ— وَهُمْ فِیْ غَفْلَةٍ وَّهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ ۟
আর (হে রাসূল! তুমি) মানুষদেরকে সতর্ক করে দাও পরিতাপ দিবস সম্পর্কে, যখন সব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে; অথচ তারা (দুনিয়ার জীবনে সে ব্যাপারে) রয়েছে উদাসীনতায় বিভোর এবং তারা ঈমান আনছে না।
اِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْاَرْضَ وَمَنْ عَلَیْهَا وَاِلَیْنَا یُرْجَعُوْنَ ۟۠
নিশ্চয় আমি জমিন ও এর ওপরে যারা আছে, তাদের সবাইর চূড়ান্ত মালিক হবো এবং আমারই নিকট তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
وَاذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ اِبْرٰهِیْمَ ؕ۬— اِنَّهٗ كَانَ صِدِّیْقًا نَّبِیًّا ۟
আর (হে রাসূল!) কিতাবে (আল-কুরআনে) ইব্রাহীম-এর কথা উল্লেখ করো; নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নবী।
اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ یٰۤاَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا یَسْمَعُ وَلَا یُبْصِرُ وَلَا یُغْنِیْ عَنْكَ شَیْـًٔا ۟
যখন সে তার বাবা (আযর)কে বলল, হে বাবা! তুমি কেন এমন কিছুকে ইবাদাত করছ যা শোনে না, দেখে না এবং যা তোমার কোনো উপকারও করতে পারে না?
یٰۤاَبَتِ اِنِّیْ قَدْ جَآءَنِیْ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ یَاْتِكَ فَاتَّبِعْنِیْۤ اَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِیًّا ۟
‘হে আমার পিতা! আমার কাছে (অহীর মাধ্যমে) এমন জ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে আসেনি। সুতরাং তুমি আমার অনুসরণ করো, তাহলে আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাবো।’
یٰۤاَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّیْطٰنَ ؕ— اِنَّ الشَّیْطٰنَ كَانَ لِلرَّحْمٰنِ عَصِیًّا ۟
‘হে আমার পিতা! তুমি শয়তানের ইবাদাত করো না। নিশ্চয় শয়তান হলো পরম করুণাময়ের অবাধ্য।’
یٰۤاَبَتِ اِنِّیْۤ اَخَافُ اَنْ یَّمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحْمٰنِ فَتَكُوْنَ لِلشَّیْطٰنِ وَلِیًّا ۟
‘হে আমার পিতা! আমি আশংকা করছি যে, পরম করুণাময়ের (পক্ষ থেকে) তোমাকে শাস্তি স্পর্শ করবে (যদি কুফরীর ওপর মারা যাও), ফলে তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।’
قَالَ اَرَاغِبٌ اَنْتَ عَنْ اٰلِهَتِیْ یٰۤاِبْرٰهِیْمُ ۚ— لَىِٕنْ لَّمْ تَنْتَهِ لَاَرْجُمَنَّكَ وَاهْجُرْنِیْ مَلِیًّا ۟
সে (আযর তার ছেলেকে) বললো: ‘হে ইবরাহীম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি (আমার মূর্তিগুলোকে গালি দেয়া থেকে) বিরত না হও, তবে অবশ্যই আমি তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব। আর তুমি চিরতরে আমাকে ছেড়ে চলে যাও।’
قَالَ سَلٰمٌ عَلَیْكَ ۚ— سَاَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّیْ ؕ— اِنَّهٗ كَانَ بِیْ حَفِیًّا ۟
(ইবরাহীম তার পিতাকে) বললো: ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা (ও হিদায়াত) চাইব।(১৫) নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল।’
وَاَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَاَدْعُوْا رَبِّیْ ۖؗ— عَسٰۤی اَلَّاۤ اَكُوْنَ بِدُعَآءِ رَبِّیْ شَقِیًّا ۟
আর (শুনে রেখো) আমি তোমাদের এবং তোমরা যাদেরকে আল্লাহ ছাড়া ডাকছো, তাদের থেকে নিজেকে আলাদা করব এবং আমি আমার রবেকে ডাকব(১৬); হয়তো আমি আমার রবকে ডাকার মাধ্যমে দুর্ভাগা হব না।
فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا یَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ۙ— وَهَبْنَا لَهٗۤ اِسْحٰقَ وَیَعْقُوْبَ ؕ— وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِیًّا ۟
অতঃপর, যখন সে তাদের এবং তারা আল্লাহ ছাড়া যার ইবাদাত করত তা থেকে নিজেকে আলাদা করল, আমরা তাকে (পরিবার ত্যাগ করার বিকল্প হিসেবে) ইসহাক ও ইয়াকুব দান করলাম এবং আমরা প্রত্যেককে নবী বানালাম।
وَوَهَبْنَا لَهُمْ مِّنْ رَّحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِیًّا ۟۠
আর আমি তাদেরকে (নবুওয়াতের পাশাপাশি) আমার অনুগ্রহ দান করলাম। আর আমি (আমার বান্দাদের মুখে মুখে) তাদের সুনাম সুখ্যাতিকে সমুচ্চ করলাম।
وَاذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ مُوْسٰۤی ؗ— اِنَّهٗ كَانَ مُخْلَصًا وَّكَانَ رَسُوْلًا نَّبِیًّا ۟
আর (হে রাসূল!) কিতাবে মূসাকে স্মরণ কর; নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন বিশেষভাবে নির্বাচিত এবং একজন রাসূল ও নবী।
وَنَادَیْنٰهُ مِنْ جَانِبِ الطُّوْرِ الْاَیْمَنِ وَقَرَّبْنٰهُ نَجِیًّا ۟
আমি তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে ডেকেছিলাম এবং অন্তরঙ্গ আলাপের উদ্দেশ্যে তাকে নৈকট্য দান করেছিলাম।
وَوَهَبْنَا لَهٗ مِنْ رَّحْمَتِنَاۤ اَخَاهُ هٰرُوْنَ نَبِیًّا ۟
আর আমি স্বীয় অনুগ্রহে তার জন্য তার ভাই হারূনকে নবীরূপে দান করলাম।
وَاذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ اِسْمٰعِیْلَ ؗ— اِنَّهٗ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُوْلًا نَّبِیًّا ۟ۚ
আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো কিতাবে (আল-কুরআনে) ইসমাঈলকে; নিশ্চয় সে ছিল অঙ্গীকারে সত্যনিষ্ঠ এবং রাসূল ও নবী।
وَكَانَ یَاْمُرُ اَهْلَهٗ بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ ۪— وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهٖ مَرْضِیًّا ۟
আর সে তার পরিবার পরিজনকে সালাত কায়িম ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতো এবং সে ছিল তার রবের সন্তোষভাজন।
وَاذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ اِدْرِیْسَ ؗ— اِنَّهٗ كَانَ صِدِّیْقًا نَّبِیًّا ۟ۗۙ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো এই কিতাবে (আলকুরআনে) ইদরীসকে। সে ছিলো পরম সত্যনিষ্ঠ নবী।
وَّرَفَعْنٰهُ مَكَانًا عَلِیًّا ۟
আর আমি তাকে (নবুওয়াত দিয়ে) উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করেছিলাম।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ مِّنَ النَّبِیّٖنَ مِنْ ذُرِّیَّةِ اٰدَمَ ۗ— وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوْحٍ ؗ— وَّمِنْ ذُرِّیَّةِ اِبْرٰهِیْمَ وَاِسْرَآءِیْلَ ؗ— وَمِمَّنْ هَدَیْنَا وَاجْتَبَیْنَا ؕ— اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُ الرَّحْمٰنِ خَرُّوْا سُجَّدًا وَّبُكِیًّا ۟
বস্তুত, এরাই ঐসব নবী-রাসূল, আদম সন্তানের মধ্য থেকে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং যাদের আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। আর ইবরাহীম ও ইসরা‘ঈলের বংশোদ্ভূত এবং যাদেরকে আমি (ইসলামের প্রতি) পথপ্রদর্শন করেছিলাম ও (নবী হিসেবে) মনোনীত করেছিলাম। যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, তারা (আল্লাহর ভয়ে) কাঁদতে কাঁদতে সাজদায় লুটিয়ে পড়তো।
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوٰتِ فَسَوْفَ یَلْقَوْنَ غَیًّا ۟ۙ
তাদের (এসব মনোনীত নবীদের) পরে আসলো এমন এক অসৎ বংশধর যারা সালাত বিনষ্ট করলো এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করলো। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামে অনিষ্ট ও ব্যর্থতার সাক্ষাৎ পাবে(১৭)।
اِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَاُولٰٓىِٕكَ یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَلَا یُظْلَمُوْنَ شَیْـًٔا ۟ۙ
তবে তারা নয়, যারা (ত্রুটি ও অপকর্ম থেকে) তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে। তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনো যুলম করা হবে না।
جَنّٰتِ عَدْنِ ١لَّتِیْ وَعَدَ الرَّحْمٰنُ عِبَادَهٗ بِالْغَیْبِ ؕ— اِنَّهٗ كَانَ وَعْدُهٗ مَاْتِیًّا ۟
চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের গায়িবের মাধ্যমে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাঁর ওয়াদাকৃত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।
لَا یَسْمَعُوْنَ فِیْهَا لَغْوًا اِلَّا سَلٰمًا ؕ— وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِیْهَا بُكْرَةً وَّعَشِیًّا ۟
তারা সেখানে ‘সালাম’ (শান্তি) ছাড়া কোনো অর্থহীন ও অশ্লীল কথা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে তাদের রিযক।
تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِیْ نُوْرِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَنْ كَانَ تَقِیًّا ۟
সেই জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যারা মুত্তাকী।
وَمَا نَتَنَزَّلُ اِلَّا بِاَمْرِ رَبِّكَ ۚ— لَهٗ مَا بَیْنَ اَیْدِیْنَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَیْنَ ذٰلِكَ ۚ— وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِیًّا ۟ۚ
(হে জিবরীল! মুহাম্মাদকে বলে দাও:) ‘আর আমরা আপনার রবের নির্দেশ ছাড়া (জমিনে) অবতরণ করি না। আমাদের সামনে (আখিরাতে) যা কিছু আছে, আর যা আছে আমাদের পিছনে (দুনিয়াতে) এবং যা রয়েছে এতদুভয়ের মধ্যে, সব তাঁরই মালিকানাধীন। আর (হে রাসূল!) তোমার রব ভুলে যান না।
رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَمَا بَیْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهٖ ؕ— هَلْ تَعْلَمُ لَهٗ سَمِیًّا ۟۠
আসমানসমূহ, জমিন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, এর প্রতিটি জিনিসেরই তিনি রব। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদাত করো এবং তাঁরই ইবাদাতে অটল থাকো। তুমি কি (ইবাদাতের ক্ষেত্রে) তাঁর সমগুণ সম্পন্ন কাউকে জানো?
وَیَقُوْلُ الْاِنْسَانُ ءَاِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ اُخْرَجُ حَیًّا ۟
আর (পুনরুত্থান অস্বীকারকারী কাফির) মানুষ বলে, আমি মরলে কি আমাকে আবার জীবিত করা হবে?(১৮)
اَوَلَا یَذْكُرُ الْاِنْسَانُ اَنَّا خَلَقْنٰهُ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ یَكُ شَیْـًٔا ۟
মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি, অথচ সে কিছুও ছিল না?(১৯)
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّیٰطِیْنَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِیًّا ۟ۚ
অতএব (হে রাসূল!) তোমার রবের শপথ ! আমি অবশ্যই তাদেরকে ও শয়তানদেরকে (কবর থেকে হাশরের ময়দানে) সমবেত করবোই, অতঃপর জাহান্নামের চারপাশে লাঞ্ছিত ও নতজানু অবস্থায় তাদেরকে হাজির করবোই।
ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِیْعَةٍ اَیُّهُمْ اَشَدُّ عَلَی الرَّحْمٰنِ عِتِیًّا ۟ۚ
তারপর আমি প্রত্যেক (পথভ্রষ্ট) দল থেকে, পরম করুণাময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্যকে টেনে বের করবোই।
ثُمَّ لَنَحْنُ اَعْلَمُ بِالَّذِیْنَ هُمْ اَوْلٰی بِهَا صِلِیًّا ۟
উপরন্তু আমিই সর্বাধিক ভালো জানি তাদের সম্পর্কে, যারা জাহান্নামে প্রবেশের এবং দগ্ধীভূত হওয়ার অধিক উপযুক্ত।
وَاِنْ مِّنْكُمْ اِلَّا وَارِدُهَا ۚ— كَانَ عَلٰی رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِیًّا ۟ۚ
আর (হে মানুষ!) তোমাদের প্রত্যেককেই তা (জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলসিরাত) অতিক্রম করতে হবে। এটি তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
ثُمَّ نُنَجِّی الَّذِیْنَ اتَّقَوْا وَّنَذَرُ الظّٰلِمِیْنَ فِیْهَا جِثِیًّا ۟
তারপর আমি সেই সকলকে রক্ষা করব, যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে; আর যালিমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব।
وَاِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا ۙ— اَیُّ الْفَرِیْقَیْنِ خَیْرٌ مَّقَامًا وَّاَحْسَنُ نَدِیًّا ۟
আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফিররা মুমিনদের বলে, দুই দলের মধ্যে কে মর্যাদায় উত্তম এবং আসর (সমাবেশস্থল)-এর দিক থেকে অধিক উত্তম?
وَكَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنْ قَرْنٍ هُمْ اَحْسَنُ اَثَاثًا وَّرِﺋْﻴًﺎ ۟
আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্ম ধ্বংস করেছি, যারা সম্পদ-সামগ্রী এবং বাহ্যিক সৌন্দর্যে ছিল তাদের চেয়ে আরও মনোহর।
قُلْ مَنْ كَانَ فِی الضَّلٰلَةِ فَلْیَمْدُدْ لَهُ الرَّحْمٰنُ مَدًّا ۚ۬— حَتّٰۤی اِذَا رَاَوْا مَا یُوْعَدُوْنَ اِمَّا الْعَذَابَ وَاِمَّا السَّاعَةَ ؕ۬— فَسَیَعْلَمُوْنَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّاَضْعَفُ جُنْدًا ۟
(হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলে দাও: ‘যে পথভ্রষ্টতায় রয়েছে, তাকে পরম করুণাময় প্রচুর অবকাশ দিবেন(২০); যতক্ষণ না যে বিষয়ে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা তারা প্রত্যক্ষ করবে, চাই তা শাস্তি হোক অথবা কিয়ামত। তখন তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দুর্বল।(২১)
وَیَزِیْدُ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اهْتَدَوْا هُدًی ؕ— وَالْبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّخَیْرٌ مَّرَدًّا ۟
আর যারা হিদায়াতের পথে চলে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিবেন। আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার রবের কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং পরিণতি হিসেবেও অতি উত্তম।
اَفَرَءَیْتَ الَّذِیْ كَفَرَ بِاٰیٰتِنَا وَقَالَ لَاُوْتَیَنَّ مَالًا وَّوَلَدًا ۟ؕ
(হে রাসূল!) তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে: ‘(আমি মরে গেলে আমাকে পুনরুত্থান করা হলেও) আমাকে অবশ্যই প্রচুর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে?’
اَطَّلَعَ الْغَیْبَ اَمِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًا ۟ۙ
সে কি গায়িব সম্পর্কে অবহিত হয়েছে, নাকি পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে?(২২)
كَلَّا ؕ— سَنَكْتُبُ مَا یَقُوْلُ وَنَمُدُّ لَهٗ مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا ۟ۙ
ব্যাপারটি কখনোই সে রকম নয় (যা তারা ধারণা করছে), সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তির মাত্রা বাড়াতেই থাকব।
وَّنَرِثُهٗ مَا یَقُوْلُ وَیَاْتِیْنَا فَرْدًا ۟
আর সে যে বিষয়ে কথা বলে, তা আমার অধিকারে থাকবে(২৩) এবং (কিয়ামতের দিন) আমার কাছে সে একাকী আসবে।
وَاتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اٰلِهَةً لِّیَكُوْنُوْا لَهُمْ عِزًّا ۟ۙ
আর তারা (মুশরিকরা) আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্যে বহু ‘ইলাহ’ গ্রহণ করেছে, যাতে ওরা তাদের সাহায্যকারী হতে পারে।
كَلَّا ؕ— سَیَكْفُرُوْنَ بِعِبَادَتِهِمْ وَیَكُوْنُوْنَ عَلَیْهِمْ ضِدًّا ۟۠
ব্যাপারটি কখনোই সে রকম নয় (যা তারা ধারণা করছে), এরা (ভ্রান্ত মা‘বূদরা) তাদের ইবাদাতের কথা অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরোধী শত্রু হয়ে যাবে।
اَلَمْ تَرَ اَنَّاۤ اَرْسَلْنَا الشَّیٰطِیْنَ عَلَی الْكٰفِرِیْنَ تَؤُزُّهُمْ اَزًّا ۟ۙ
(হে রাসূল!) তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আমি কাফিরদের জন্য শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি; ওরা তাদেরকে (গুনাহের কাজে এবং আল্লাহর দ্বীন থেকে সরিয়ে নেয়ার কাজে) বিশেষভাবে প্ররোচিত করে।
فَلَا تَعْجَلْ عَلَیْهِمْ ؕ— اِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمْ عَدًّا ۟ۚ
সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদের (ধ্বংসের) ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না; আমি তো কেবল তাদের জন্য নির্ধারিত কাল গণনা করছি।
یَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِیْنَ اِلَی الرَّحْمٰنِ وَفْدًا ۟ۙ
যেদিন আমি পরম করুণাময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করবো।
وَّنَسُوْقُ الْمُجْرِمِیْنَ اِلٰی جَهَنَّمَ وِرْدًا ۟ۘ
আর অপরাধীদেরকে (কাফিরদেরকে) তৃষ্ণার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবো।
لَا یَمْلِكُوْنَ الشَّفَاعَةَ اِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًا ۟ۘ
যারা পরম করুণাময়ের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে, তারা ছাড়া অন্য কেউ সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে না।(২৪)
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمٰنُ وَلَدًا ۟ؕ
আর তারা (ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান ও কিছু মুশরিকরা) বলে: ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’
لَقَدْ جِئْتُمْ شَیْـًٔا اِدًّا ۟ۙ
অবশ্যই তোমরা এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করেছ।
تَكَادُ السَّمٰوٰتُ یَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْاَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا ۟ۙ
এতে (এ জঘন্যতম কথার কারণে) আসমানসমূহ ফেটে পড়ার, জমিন বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।
اَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمٰنِ وَلَدًا ۟ۚ
কারণ তারা পরম করুণাময়ের সন্তান আছে বলে দাবি করে।(২৫)
وَمَا یَنْۢبَغِیْ لِلرَّحْمٰنِ اَنْ یَّتَّخِذَ وَلَدًا ۟ؕ
অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম করুণাময়ের জন্য শোভনীয় নয়।
اِنْ كُلُّ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ اِلَّاۤ اٰتِی الرَّحْمٰنِ عَبْدًا ۟ؕ
আসমানসমূহ ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে বান্দা হিসেবে পরম করুণাময়ের কাছে উপস্থিত হবে না।
لَقَدْ اَحْصٰىهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا ۟ؕ
তিনি তাদের সংখ্যা জানেন এবং তাদেরকে যথাযথভাবে গণনা করে রেখেছেন।(২৬)
وَكُلُّهُمْ اٰتِیْهِ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ فَرْدًا ۟
আর তাদের সবাই কিয়ামতের দিন একাকী অবস্থায় তাঁর নিকট আসবে (উপস্থিত হবে)।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَیَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمٰنُ وُدًّا ۟
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, পরম করুণাময় অবশ্যই (বান্দাদের হৃদয়ে) তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন।(২৭)
فَاِنَّمَا یَسَّرْنٰهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِیْنَ وَتُنْذِرَ بِهٖ قَوْمًا لُّدًّا ۟
আর (হে রাসূল!) আমি তো তোমার ভাষায় আলকুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর দ্বারা মুত্তাকীদেরকে (জান্নাতের) সুসংবাদ দিতে পারো এবং কলহপ্রিয় জাতিকে তদ্বারা (জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন করে) সতর্ক করতে পারো।
وَكَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنْ قَرْنٍ ؕ— هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِّنْ اَحَدٍ اَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا ۟۠
আর আমি তাদের পূর্বে কত সম্প্রদায়কেই তো ধ্বংস করে দিয়েছি! তুমি কি তাদের কারো অস্তিত্ব অনুভব করতে পার, কিংবা শুনতে পাও তাদের কোনো ক্ষীণ আওয়াজ?
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time