اِقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِیْ غَفْلَةٍ مُّعْرِضُوْنَ ۟ۚ
মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় (কিয়ামত) আসন্ন; অথচ তারা উদাসীনতায় (আখিরাত হতে) মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
The Prophets · 112 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
اِقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِیْ غَفْلَةٍ مُّعْرِضُوْنَ ۟ۚ
মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় (কিয়ামত) আসন্ন; অথচ তারা উদাসীনতায় (আখিরাত হতে) মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
مَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ ذِكْرٍ مِّنْ رَّبِّهِمْ مُّحْدَثٍ اِلَّا اسْتَمَعُوْهُ وَهُمْ یَلْعَبُوْنَ ۟ۙ
যখনই তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের নিকট (আলকুরআনের) কোনো নতুন উপদেশ আসে, তখন তারা তা কৌতুক ভরে (তামাশার ছলে) শ্রবণ করে।
لَاهِیَةً قُلُوْبُهُمْ ؕ— وَاَسَرُّوا النَّجْوَی ۖۗ— الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ۖۗ— هَلْ هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ۚ— اَفَتَاْتُوْنَ السِّحْرَ وَاَنْتُمْ تُبْصِرُوْنَ ۟
(তারা তা শুনে অথচ;) তাদের অন্তর থাকে অমনোযোগী এবং যালিমরা গোপনে পরামর্শ করে, ‘এ তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। এরপরও কি তোমরা দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে?’
قٰلَ رَبِّیْ یَعْلَمُ الْقَوْلَ فِی السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ ؗ— وَهُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۟
সে (রাসূলুল্লাহ) বললো: ‘আমার রব আসমানসমূহ ও জমিনের সমস্ত কথাই জানেন এবং তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’
بَلْ قَالُوْۤا اَضْغَاثُ اَحْلَامٍ بَلِ افْتَرٰىهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ ۖۚ— فَلْیَاْتِنَا بِاٰیَةٍ كَمَاۤ اُرْسِلَ الْاَوَّلُوْنَ ۟
বরং তারা (কাফিররা) বলে: ‘এগুলো(১) অলীক কল্পনা, হয় সে এটি মন থেকে বানিয়েছে, নয়তো সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে এমন নিদর্শন নিয়ে আসুক, যেরূপ নিদর্শনসহ প্রেরিত হয়েছিল পূর্ববর্তীগণ।’
مَاۤ اٰمَنَتْ قَبْلَهُمْ مِّنْ قَرْیَةٍ اَهْلَكْنٰهَا ۚ— اَفَهُمْ یُؤْمِنُوْنَ ۟
তাদের পূর্বে যে জনপদই (তাদের প্রস্তাবকৃত নিদর্শন নাযিলের পরেও) ঈমান আনেনি, তাদেরকে আমি ধ্বংস করেছি। তবে কি এরা ঈমান আনবে?
وَمَاۤ اَرْسَلْنَا قَبْلَكَ اِلَّا رِجَالًا نُّوْحِیْۤ اِلَیْهِمْ فَسْـَٔلُوْۤا اَهْلَ الذِّكْرِ اِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ۟
আর (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে শুধু পুরুষ মানুষদের নিকটই ওয়াহী পাঠিয়েছি।(২) সুতরাং তোমরা (পূর্বেকার কিতাবধারী) জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা করো, যদি তোমরা না জানো।
وَمَا جَعَلْنٰهُمْ جَسَدًا لَّا یَاْكُلُوْنَ الطَّعَامَ وَمَا كَانُوْا خٰلِدِیْنَ ۟
আর আমি তাদেরকে (প্রেরিত রাসূলদেরকে) এমন দেহবিশিষ্ট করিনি যে, তারা খাদ্য গ্রহণ করত না, আর তারা (দুনিয়াতে) চিরস্থায়ীও ছিল না।
ثُمَّ صَدَقْنٰهُمُ الْوَعْدَ فَاَنْجَیْنٰهُمْ وَمَنْ نَّشَآءُ وَاَهْلَكْنَا الْمُسْرِفِیْنَ ۟
অতঃপর আমি রাসূলদের সাথে কৃত (সাহায্য ও বিজয়ের) ওয়াদা পূর্ণ করলাম। আর আমি তাদেরকে ও যাদেরকে ইচ্ছে রক্ষা করলাম এবং সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ধ্বংস করে দিলাম।
لَقَدْ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكُمْ كِتٰبًا فِیْهِ ذِكْرُكُمْ ؕ— اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ۟۠
নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে তোমাদের জন্য সম্মান ও গৌরব রয়েছে।(৩) তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
وَكَمْ قَصَمْنَا مِنْ قَرْیَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَّاَنْشَاْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا اٰخَرِیْنَ ۟
আর আমি কত জনপদকে ধ্বংস করেছি, যারা ছিলো যালিম এবং তাদের পরবর্তীতে সেখানে অন্য জাতিকে সৃষ্টি করেছি।
فَلَمَّاۤ اَحَسُّوْا بَاْسَنَاۤ اِذَا هُمْ مِّنْهَا یَرْكُضُوْنَ ۟ؕ
অতঃপর তারা যখন আমার শাস্তি দেখল, তখনই তারা (ধ্বংস থেকে বাঁচার জন্য) জনপদ ছেড়ে পালাতে লাগলো।
لَا تَرْكُضُوْا وَارْجِعُوْۤا اِلٰی مَاۤ اُتْرِفْتُمْ فِیْهِ وَمَسٰكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْـَٔلُوْنَ ۟
(তাদেরকে তিরস্কারের সুরে বলা হলো) ‘পলায়ন করো না; বরং তোমরা যে আনন্দ-ফুর্তি আস্বাদনে মত্ত ছিলে তাতে এবং নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে যাও। সম্ভবত তোমাদেরকে (তোমাদের দুনিয়া সম্পর্কে) আজ কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে।’
قَالُوْا یٰوَیْلَنَاۤ اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ ۟
তারা বললো: ‘হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো (আল্লাহর সাথে কুফরী করার কারণে) আসলেই যালিম ছিলাম।’
فَمَا زَالَتْ تِّلْكَ دَعْوٰىهُمْ حَتّٰی جَعَلْنٰهُمْ حَصِیْدًا خٰمِدِیْنَ ۟
অতঃপর তাদের এই বিলাপ(৪) চলতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাদেরকে কেটে ফেলা শস্য ও নিভে যাওয়া আগুন সদৃশ ( সমূলে ধ্বংস ) করে দিলাম।
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَآءَ وَالْاَرْضَ وَمَا بَیْنَهُمَا لٰعِبِیْنَ ۟
আর আসমানসমূহ, জমিন ও এতদুভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, তার কোনো কিছুই আমি খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।(৫)
لَوْ اَرَدْنَاۤ اَنْ نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنٰهُ مِنْ لَّدُنَّاۤ ۖۗ— اِنْ كُنَّا فٰعِلِیْنَ ۟
আমি যদি খেলার উপকরণ(৬) গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমার কাছে যা আছে, তা দিয়েই করতাম; কিন্তু আমি তা করিনি।(৭)
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَی الْبَاطِلِ فَیَدْمَغُهٗ فَاِذَا هُوَ زَاهِقٌ ؕ— وَلَكُمُ الْوَیْلُ مِمَّا تَصِفُوْنَ ۟
বরং আমি (রাসূলের নিকট ওয়াহী করা) সত্যকে দিয়ে (কাফিরদের বাতিলের) মিথ্যার ওপর আঘাত হানি; ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং নিমিষেই তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আর তোমরা (আল্লাহকে যে গুণে গুণান্বিত করে) যা কিছু বলছো, (৮) তার জন্য তোমাদের রয়েছে দুর্ভোগ।
وَلَهٗ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— وَمَنْ عِنْدَهٗ لَا یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِهٖ وَلَا یَسْتَحْسِرُوْنَ ۟ۚ
আর আসমানসমূহে ও জমিনে যারা আছে, তারা সবাই তাঁর; আর তাঁর কাছে যারা (যেসব ফিরিশতারা) আছে তারা অহংকারবশত তাঁর ইবাদাত হতে বিমুখ হয় না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না।
یُسَبِّحُوْنَ الَّیْلَ وَالنَّهَارَ لَا یَفْتُرُوْنَ ۟
তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে, তারা শিথিলতা দেখায় না (এবং বিরক্তও হয় না )।
اَمِ اتَّخَذُوْۤا اٰلِهَةً مِّنَ الْاَرْضِ هُمْ یُنْشِرُوْنَ ۟
তারা (মুশরিকরা) কি পৃথিবী থেকে এমন উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা মৃতকে জীবিত করতে পারে?
لَوْ كَانَ فِیْهِمَاۤ اٰلِهَةٌ اِلَّا اللّٰهُ لَفَسَدَتَا ۚ— فَسُبْحٰنَ اللّٰهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا یَصِفُوْنَ ۟
যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকতো, তবে (তাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে) উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেতো। সুতরাং তারা যা বলে, আরশের রব আল্লাহ তা থেকে পূত-পবিত্র।
لَا یُسْـَٔلُ عَمَّا یَفْعَلُ وَهُمْ یُسْـَٔلُوْنَ ۟
তিনি যা করেন, সে ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না; বরং তাদেরকেই (তাদের আমল সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করা হবে।
اَمِ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَةً ؕ— قُلْ هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ ۚ— هٰذَا ذِكْرُ مَنْ مَّعِیَ وَذِكْرُ مَنْ قَبْلِیْ ؕ— بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ۙ— الْحَقَّ فَهُمْ مُّعْرِضُوْنَ ۟
তারা কি আল্লাহকে ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে? (হে রাসূল! তুমি মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আসো। আমার সাথে যারা আছে, এটি তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্বে যারা ছিল, তাদের জন্যও এটাই ছিল উপদেশ।’ কিন্তু তাদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্যকে জানে না; ফলে তারা (সত্য গ্রহণ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا نُوْحِیْۤ اِلَیْهِ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعْبُدُوْنِ ۟
আর (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই মর্মে ওয়াহী নাযিল করিনি যে, ‘আমি (আল্লাহ) ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত কর।’
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمٰنُ وَلَدًا سُبْحٰنَهٗ ؕ— بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُوْنَ ۟ۙ
আর মুশরিকরা বলে: ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ (পক্ষান্তরে তাদের মিথ্যা উক্তি থেকে) তিনি পূত-পবিত্র। বরং তারা (ফিরিশতাগণ) সম্মানিত বান্দা।
لَا یَسْبِقُوْنَهٗ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِاَمْرِهٖ یَعْمَلُوْنَ ۟
তারা তাঁর আগ বাড়িয়ে কোনো কথা বলে না, আর তারা তাঁর নির্দেশেই কাজ করে।
یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا یَشْفَعُوْنَ ۙ— اِلَّا لِمَنِ ارْتَضٰی وَهُمْ مِّنْ خَشْیَتِهٖ مُشْفِقُوْنَ ۟
তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, সবই তিনি (আল্লাহ) জানেন। আর তারা (ফিরিশতারা) শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে, যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। আর তারা তাঁর ভয়ে সর্বদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে।
وَمَنْ یَّقُلْ مِنْهُمْ اِنِّیْۤ اِلٰهٌ مِّنْ دُوْنِهٖ فَذٰلِكَ نَجْزِیْهِ جَهَنَّمَ ؕ— كَذٰلِكَ نَجْزِی الظّٰلِمِیْنَ ۟۠
আর তাদের (ফিরিশতাদের) মধ্যে কেউ যদি বলে: ‘আল্লাহ নয়, আমিও একজন ইলাহ’, তাকেই আমি প্রতিদান হিসেবে জাহান্নাম দিবো। এভাবেই আমি যালিমদের (শাস্তির) প্রতিদান দিয়ে থাকি।
اَوَلَمْ یَرَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنٰهُمَا ؕ— وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَآءِ كُلَّ شَیْءٍ حَیٍّ ؕ— اَفَلَا یُؤْمِنُوْنَ ۟
যারা কুফরী করে, তারা কি ভেবে দেখে না যে, আসমানসমূহ ও জমিন (প্রথমেই) একটির সাথে অন্যটি লাগানো ছিলো, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম। আর আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা (এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে) ঈমান আনবে না?
وَجَعَلْنَا فِی الْاَرْضِ رَوَاسِیَ اَنْ تَمِیْدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِیْهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَّعَلَّهُمْ یَهْتَدُوْنَ ۟
আর আমি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছি, যাতে তা তাদেরকে নিয়ে দুলে না ওঠে; এবং তাতে বিস্তৃত পথ-প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করেছি, যাতে তারা (চলাচলের) পথপ্রাপ্ত হয়।
وَجَعَلْنَا السَّمَآءَ سَقْفًا مَّحْفُوْظًا ۖۚ— وَّهُمْ عَنْ اٰیٰتِهَا مُعْرِضُوْنَ ۟
আর আমি আসমানকে করেছি (খুঁটিবিহীন) সুরক্ষিত ছাদ; কিন্তু তারা তার নিদর্শনাবলি হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وَهُوَ الَّذِیْ خَلَقَ الَّیْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ؕ— كُلٌّ فِیْ فَلَكٍ یَّسْبَحُوْنَ ۟
আর একমাত্র আল্লাহই রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।
وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ ؕ— اَفَاۡىِٕنْ مِّتَّ فَهُمُ الْخٰلِدُوْنَ ۟
আর তোমার পূর্বে কোনো মানুষকে আমি স্থায়ী জীবন দান করিনি। সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে, তারা কি (এ দুনিয়াতে) অনন্ত জীবনসম্পন্ন হয়ে (বেচে) থাকবে?
كُلُّ نَفْسٍ ذَآىِٕقَةُ الْمَوْتِ ؕ— وَنَبْلُوْكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَیْرِ فِتْنَةً ؕ— وَاِلَیْنَا تُرْجَعُوْنَ ۟
প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর আমরা তোমাদেরকে ভালো-মন্দের মাধ্যমে পরীক্ষা করি। অতঃপর তোমরা আমাদেরই কাছে ফিরে আসবে।
وَاِذَا رَاٰكَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ یَّتَّخِذُوْنَكَ اِلَّا هُزُوًا ؕ— اَهٰذَا الَّذِیْ یَذْكُرُ اٰلِهَتَكُمْ ۚ— وَهُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمٰنِ هُمْ كٰفِرُوْنَ ۟
আর (হে রাসূল!) কাফিররা যখনই তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে কেবল উপহাসের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বলে: ‘এ-ই কি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেবতাদের সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই (আলকুরআনকে অস্বীকার করে) ‘রহমান’-এর স্মরণকে অস্বীকার (কুফরী) করে।
خُلِقَ الْاِنْسَانُ مِنْ عَجَلٍ ؕ— سَاُورِیْكُمْ اٰیٰتِیْ فَلَا تَسْتَعْجِلُوْنِ ۟
মানুষকে তাড়াহুড়া প্রবণ করে সৃষ্টি করা হয়েছে। অচিরেই আমি তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাব। সুতরাং তোমরা (আমার শাস্তি নেমে আসার জন্যে) তাড়াহুড়া করো না।
وَیَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟
আর তারা বলে: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বল, ‘এ প্রতিশ্রুতি (পুনরুত্থান দিবসের আগমন ) কখন পূর্ণ হবে?’
لَوْ یَعْلَمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا حِیْنَ لَا یَكُفُّوْنَ عَنْ وُّجُوْهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَنْ ظُهُوْرِهِمْ وَلَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ ۟
হায়! কাফিররা যদি সে সময়ের কথা জানতো, যখন তারা তাদের সামনে ও পেছন থেকে (জাহান্নামের) আগুন প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না (তাহলে তারা দ্রুত শাস্তি কামনা করত না);
بَلْ تَاْتِیْهِمْ بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ ۟
বরং (সে শাস্তি) আকস্মিকভাবে তাদের ওপর এসে পড়বে এবং তা তাদেরকে হতভম্ব করে দিবে। ফলে তারা তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে না এবং তাদেরকে (তাওবার জন্য) অবকাশও দেয়া হবে না।
وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِیْنَ سَخِرُوْا مِنْهُمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟۠
আর (হে মুহাম্মাদ!) তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলের প্রতি (এভাবেই) ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছিলো। পরিণামে বিদ্রুপকারীরা যে অকাট্য সত্য নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল, অবশেষে সেটাই তাদের ওপর চেপে বসেছিলো।
قُلْ مَنْ یَّكْلَؤُكُمْ بِالَّیْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمٰنِ ؕ— بَلْ هُمْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِمْ مُّعْرِضُوْنَ ۟
বলো, ‘কে তোমাদেরকে রাত ও দিনে পরম দয়াময় (আল্লাহ) থেকে রক্ষা করতে পারে?’ বরং তারা তাদের রবের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
اَمْ لَهُمْ اٰلِهَةٌ تَمْنَعُهُمْ مِّنْ دُوْنِنَا ؕ— لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَ اَنْفُسِهِمْ وَلَا هُمْ مِّنَّا یُصْحَبُوْنَ ۟
তাদের কি এমন উপাস্য আছে, যারা আমার পরিবর্তে তাদেরকে রক্ষা করতে পারে? তারা তো নিজেদেরকেই সাহায্য করতে সক্ষম নয়(৯), আর আমার পক্ষ থেকেও তারা কোনো সহায়তা পাবে না।
بَلْ مَتَّعْنَا هٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَهُمْ حَتّٰی طَالَ عَلَیْهِمُ الْعُمُرُ ؕ— اَفَلَا یَرَوْنَ اَنَّا نَاْتِی الْاَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ اَطْرَافِهَا ؕ— اَفَهُمُ الْغٰلِبُوْنَ ۟
বরং আমিই তাদেরকে ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে উপভোগ করতে দিয়েছিলাম; উপরন্তু তাদের আয়ুষ্কালও হয়েছিল দীর্ঘ।(১০) তারা কি দেখে না যে, আমি চতুর্দিক থেকে তাদের দেশকে সংকুচিত করে দিচ্ছি?(১১) তবুও কি তারা বিজয়ী হবে? বরং আমিই তাদেরকে ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে উপভোগ করতে দিয়েছিলাম; ফলে তাদের আয়ুষ্কাল দীর্ঘ হয়েছিল দীর্ঘ।(১০) তারা কি দেখে না যে, আমি পৃথিবীতে প্রবেশ করি এবং তার প্রান্ত থেকে প্রান্ত পর্যন্ত ধ্বংস করি(১১), তবু কি তারা বিজয়ী হবে?
قُلْ اِنَّمَاۤ اُنْذِرُكُمْ بِالْوَحْیِ ۖؗ— وَلَا یَسْمَعُ الصُّمُّ الدُّعَآءَ اِذَا مَا یُنْذَرُوْنَ ۟
(হে রাসূল!) বলো, আমি তো কেবল আমার প্রতি প্রেরিত ওয়াহীর মাধ্যমে তোমাদেরকে (আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে) সতর্ক করি। কিন্তু বধিররা যখন তাদের সতর্ক করা হয়, সে আহ্বান শোনে না।
وَلَىِٕنْ مَّسَّتْهُمْ نَفْحَةٌ مِّنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَیَقُوْلُنَّ یٰوَیْلَنَاۤ اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ ۟
আর তোমার রবের শাস্তির সামান্য কিছুও যদি তাদেরকে স্পর্শ করে, তবে তারা অবশ্যই বলে উঠবে: ‘হায় দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো অবশ্যই যালিম ছিলাম।’
وَنَضَعُ الْمَوَازِیْنَ الْقِسْطَ لِیَوْمِ الْقِیٰمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَیْـًٔا ؕ— وَاِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ اَتَیْنَا بِهَا ؕ— وَكَفٰی بِنَا حٰسِبِیْنَ ۟
আর কিয়ামতের দিন আমি ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবো। সুতরাং কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। কারো আমল যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, তবুও আমি তা উপস্থিত করবো। আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট।
وَلَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ الْفُرْقَانَ وَضِیَآءً وَّذِكْرًا لِّلْمُتَّقِیْنَ ۟ۙ
আর নিশ্চয়ই আমি মূসা ও হারূনকে দিয়েছিলাম ফুরকান, (যা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী) এবং (তা ছিল) আলো ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।
الَّذِیْنَ یَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَیْبِ وَهُمْ مِّنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُوْنَ ۟
যারা না দেখেও তাদের রবকে ভয় করে এবং তারা কিয়ামত সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে।
وَهٰذَا ذِكْرٌ مُّبٰرَكٌ اَنْزَلْنٰهُ ؕ— اَفَاَنْتُمْ لَهٗ مُنْكِرُوْنَ ۟۠
আর এটা (আলকুরআন) বরকতময় উপদেশ, যা আমি নাযিল করেছি। তবুও কি তোমরা তা অস্বীকার করবে?
وَلَقَدْ اٰتَیْنَاۤ اِبْرٰهِیْمَ رُشْدَهٗ مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا بِهٖ عٰلِمِیْنَ ۟ۚ
আর আমি তো ইতঃপূর্বে ইবরাহীমকে সঠিক পথের জ্ঞান দিয়েছিলাম এবং আমি তার সম্পর্কে ছিলাম সম্যক অবগত।
اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ وَقَوْمِهٖ مَا هٰذِهِ التَّمَاثِیْلُ الَّتِیْۤ اَنْتُمْ لَهَا عٰكِفُوْنَ ۟
যখন সে (ইব্রাহীম ) তার পিতা (আযর) ও তার জাতিকে বললো: ‘যেগুলোর পূজায় তোমরা রত রয়েছ, এ মূর্তিগুলো আসলে কী?’
قَالُوْا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا لَهَا عٰبِدِیْنَ ۟
তারা বললো: ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি।’(১২)
قَالَ لَقَدْ كُنْتُمْ اَنْتُمْ وَاٰبَآؤُكُمْ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟
সে বললো: ‘তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা সবাই স্পষ্ট পথভ্রষ্টায় রয়েছ।’
قَالُوْۤا اَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ اَمْ اَنْتَ مِنَ اللّٰعِبِیْنَ ۟
তারা বললো: ‘তুমি কি আমাদের নিকট সত্য নিয়ে এসেছো, নাকি তুমি তামাশাকারী?’
قَالَ بَلْ رَّبُّكُمْ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ الَّذِیْ فَطَرَهُنَّ ۖؗ— وَاَنَا عَلٰی ذٰلِكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِیْنَ ۟
সে বললো: ‘না; বরং তোমাদের রব তো আসমানসমূহ ও জমিনের রব; যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন। আর এ বিষয়ে আমি অন্যতম সাক্ষী।’
وَتَاللّٰهِ لَاَكِیْدَنَّ اَصْنَامَكُمْ بَعْدَ اَنْ تُوَلُّوْا مُدْبِرِیْنَ ۟
(সে মনে মনে আরো বললো:) ‘ আল্লাহর শপথ! তোমরা (ঈদের দিকে) চলে যাওয়ার পর আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর (ধ্বংসের ) ব্যাপারে অবশ্যই কৌশল অবলম্বন করব।’
فَجَعَلَهُمْ جُذٰذًا اِلَّا كَبِیْرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ اِلَیْهِ یَرْجِعُوْنَ ۟
অতঃপর সে বড়টিকে বাদ রেখে তাদের মূর্তিগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল , যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে।(১৩)
قَالُوْا مَنْ فَعَلَ هٰذَا بِاٰلِهَتِنَاۤ اِنَّهٗ لَمِنَ الظّٰلِمِیْنَ ۟
তারা (ফিরে এসে মূর্তিগুলোকে ভাঙ্গা দেখে) বললো: ‘আমাদের দেব-দেবীগুলোর সাথে কে এমনটি করলো? নিশ্চয় সে যালিমদের অন্তর্ভুক্ত।’
قَالُوْا سَمِعْنَا فَتًی یَّذْكُرُهُمْ یُقَالُ لَهٗۤ اِبْرٰهِیْمُ ۟ؕ
লোকেরা বললো: ‘আমরা শুনেছি, ‘এক যুবক এই মূর্তিগুলোর সমালোচনা করে। তাকে বলা হয়, ইবরাহীম।’
قَالُوْا فَاْتُوْا بِهٖ عَلٰۤی اَعْیُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَشْهَدُوْنَ ۟
তারা (নেতৃস্থানীয়রা) বললো: ‘তাহলে তাকে লোকজনের সামনে ধরে নিয়ে এসো, যাতে তারা তার কর্মকাণ্ডের স্বীকারোক্তির ওপর সাক্ষী হতে পারে।’
قَالُوْۤا ءَاَنْتَ فَعَلْتَ هٰذَا بِاٰلِهَتِنَا یٰۤاِبْرٰهِیْمُ ۟ؕ
তারা জিজ্ঞাসা করলো: ‘হে ইবরাহীম, তুমিই কি আমাদের দেবদেবীগুলোর সাথে এরূপ করেছ?’
قَالَ بَلْ فَعَلَهٗ ۖۗ— كَبِیْرُهُمْ هٰذَا فَسْـَٔلُوْهُمْ اِنْ كَانُوْا یَنْطِقُوْنَ ۟
ইবরাহীম (মূর্তিগুলোর অক্ষমতা প্রকাশ করে) বললো: ‘বরং তাদের এ বড়টিই এ কাজ করেছে। তাই এদেরকেই জিজ্ঞাসা করো, যদি এরা কথা বলতে পারে।’
فَرَجَعُوْۤا اِلٰۤی اَنْفُسِهِمْ فَقَالُوْۤا اِنَّكُمْ اَنْتُمُ الظّٰلِمُوْنَ ۟ۙ
তখন তারা (চিন্তা-ভাবনা করতে করতে) নিজেদের দিকে ফিরে গেল এবং একে অন্যকে বলতে লাগল, ‘তোমরাই তো যালিম।’(১৪)
ثُمَّ نُكِسُوْا عَلٰی رُءُوْسِهِمْ ۚ— لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هٰۤؤُلَآءِ یَنْطِقُوْنَ ۟
তারপর তারা আবার ধৃষ্টতা এবং অস্বীকারে ফিরে গেল। তারা বলল: ‘নিশ্চয়ই, তুমি জানো যে, এরা কথা বলতে পারে না।’(১৫)
قَالَ اَفَتَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَنْفَعُكُمْ شَیْـًٔا وَّلَا یَضُرُّكُمْ ۟ؕ
ইবরাহীম বললো: ‘তাহলে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদাত করো, যা তোমাদের কোনো উপকার করতে পারে না এবং কোনো ক্ষতিও করতে পারে না?’
اُفٍّ لَّكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ— اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ۟
‘ধিক তোমাদেরকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যেসব মূর্তির ইবাদাত করো তাদেরকেও! ‘তবুও কি তোমরা বুঝো না?’
قَالُوْا حَرِّقُوْهُ وَانْصُرُوْۤا اٰلِهَتَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ فٰعِلِیْنَ ۟
তারা বললো: ‘তাকে (ইবরাহীমকে) আগুনে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের দেবদেবীদেরকে সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।’
قُلْنَا یٰنَارُ كُوْنِیْ بَرْدًا وَّسَلٰمًا عَلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ ۟ۙ
আমি (আল্লাহ) বললাম: ‘হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাও।’
وَاَرَادُوْا بِهٖ كَیْدًا فَجَعَلْنٰهُمُ الْاَخْسَرِیْنَ ۟ۚ
আর তারা তার বিরুদ্ধে (আগুনে জ্বালানোর) চক্রান্ত করেছিল; কিন্তু আমি তাদেরকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম।
وَنَجَّیْنٰهُ وَلُوْطًا اِلَی الْاَرْضِ الَّتِیْ بٰرَكْنَا فِیْهَا لِلْعٰلَمِیْنَ ۟
আর আমি তাকে (ইরবাহীমকে) ও লূতকে (অবিশ্বাসীদের কবল থেকে) উদ্ধার করে সে দেশে (সিরিয়ায়) নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত ও কল্যাণ রেখেছি।
وَوَهَبْنَا لَهٗۤ اِسْحٰقَ ؕ— وَیَعْقُوْبَ نَافِلَةً ؕ— وَكُلًّا جَعَلْنَا صٰلِحِیْنَ ۟
আর আমি তাকে (তার রবের কাছে দু‘আর বদৌলতে) দান করেছিলাম ইসহাককে এবং বাড়তি হিসেবে ইয়াকূবকে দান করলাম। আর তাদের প্রত্যেককেই আমি সৎকর্মশীল করেছিলাম।
وَجَعَلْنٰهُمْ اَىِٕمَّةً یَّهْدُوْنَ بِاَمْرِنَا وَاَوْحَیْنَاۤ اِلَیْهِمْ فِعْلَ الْخَیْرٰتِ وَاِقَامَ الصَّلٰوةِ وَاِیْتَآءَ الزَّكٰوةِ ۚ— وَكَانُوْا لَنَا عٰبِدِیْنَ ۟ۙ
আর আমি তাদেরকে নেতা বানিয়েছিলাম, তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে সঠিক পথ দেখাতো। আমি তাদের প্রতি এ মর্মে অহী প্রেরণ করেছিলাম যে, তোমরা কল্যাণকর কাজ করো, সালাত কায়িম কর এবং যাকাত প্রদান কর। আর তারা আমারই ইবাদাত করতো।
وَلُوْطًا اٰتَیْنٰهُ حُكْمًا وَّعِلْمًا وَّنَجَّیْنٰهُ مِنَ الْقَرْیَةِ الَّتِیْ كَانَتْ تَّعْمَلُ الْخَبٰٓىِٕثَ ؕ— اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمَ سَوْءٍ فٰسِقِیْنَ ۟ۙ
আর লূতকে আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। আমি তাকে এমন এক জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যার অধিবাসীরা (সমকামিতার ন্যায়) নিকৃষ্টতম কাজে লিপ্ত ছিলো। তারা ছিলো এক মন্দ ও পাপাচারী জাতি।
وَاَدْخَلْنٰهُ فِیْ رَحْمَتِنَا ؕ— اِنَّهٗ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟۠
আর আমি তাকে আমার রহমতের মধ্যে শামিল করে নিয়েছিলাম। সে ছিলো সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
وَنُوْحًا اِذْ نَادٰی مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ فَنَجَّیْنٰهُ وَاَهْلَهٗ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِیْمِ ۟ۚ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো নূহের কথা, ইতঃপূর্বে যখন সে আমাকে ডেকেছিল, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। অতঃপর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে আমি মহাবিপদ (মহাপ্লাবন) থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
وَنَصَرْنٰهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ؕ— اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمَ سَوْءٍ فَاَغْرَقْنٰهُمْ اَجْمَعِیْنَ ۟
আর আমি তাকে সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিলো। বস্তুত তারা ছিল এক নিকৃষ্ট জাতি। তাই আমি তাদের সকলকেই পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছি।
وَدَاوٗدَ وَسُلَیْمٰنَ اِذْ یَحْكُمٰنِ فِی الْحَرْثِ اِذْ نَفَشَتْ فِیْهِ غَنَمُ الْقَوْمِ ۚ— وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شٰهِدِیْنَ ۟ۙ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো দাঊদ ও সুলায়মানের কথা, যখন তারা শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল, যাতে রাতের বেলায় কোনো জাতির মেষ ঢুকে পড়েছিল। আর আমি তাদের বিচার কাজের সাক্ষী ছিলাম।(১৬)
فَفَهَّمْنٰهَا سُلَیْمٰنَ ۚ— وَكُلًّا اٰتَیْنَا حُكْمًا وَّعِلْمًا ؗ— وَّسَخَّرْنَا مَعَ دَاوٗدَ الْجِبَالَ یُسَبِّحْنَ وَالطَّیْرَ ؕ— وَكُنَّا فٰعِلِیْنَ ۟
অতঃপর আমি এ বিষয়ের মীমাংসা (দাঊদকে না বুঝিয়ে) সুলায়মানকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। আর আমি তাদের প্রত্যেককেই দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান। আর আমি পর্বতমালা ও পাখিদেরকে দাঊদের অধীন করে দিয়েছিলাম, তারা দাঊদের সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। আর এসব কিছু আমিই করছিলাম।
وَعَلَّمْنٰهُ صَنْعَةَ لَبُوْسٍ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِّنْ بَاْسِكُمْ ۚ— فَهَلْ اَنْتُمْ شٰكِرُوْنَ ۟
আমি তাকে তোমাদের জন্য বর্ম (যুদ্ধের পোশাক) তৈরির কৌশল শিখিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদেরকে তোমাদের পারস্পরিক যুদ্ধের আঘাত থেকে রক্ষা করে। সুতরাং, তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে?
وَلِسُلَیْمٰنَ الرِّیْحَ عَاصِفَةً تَجْرِیْ بِاَمْرِهٖۤ اِلَی الْاَرْضِ الَّتِیْ بٰرَكْنَا فِیْهَا ؕ— وَكُنَّا بِكُلِّ شَیْءٍ عٰلِمِیْنَ ۟
আর আমি সুলায়মানের জন্য অনুগত করে দিয়েছিলাম প্রবল হাওয়াকে, যা তার নির্দেশে প্রবাহিত হতো সেই দেশের (সিরিয়ার) দিকে, যেখানে আমি প্রচুর বরকত রেখেছি। আর আমি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কেই অবগত ছিলাম।
وَمِنَ الشَّیٰطِیْنِ مَنْ یَّغُوْصُوْنَ لَهٗ وَیَعْمَلُوْنَ عَمَلًا دُوْنَ ذٰلِكَ ۚ— وَكُنَّا لَهُمْ حٰفِظِیْنَ ۟ۙ
আর শয়তানদের মধ্যে কতক তার জন্য ডুবুরীর কাজ করত, এছাড়া অন্যান্য কাজও করতো। আর আমিই তাদের জন্য হিফাযতকারী ছিলাম।
وَاَیُّوْبَ اِذْ نَادٰی رَبَّهٗۤ اَنِّیْ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَاَنْتَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِیْنَ ۟ۚۖ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো আইউবের কথা, যখন (তার ওপর বিপদ নেমে আসলে) সে তার রবকে ডেকে বলেছিল: ‘(হে আমার রব!) আমি রোগাক্রান্ত (এবং পরিবারহারা) হয়ে গেছি। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ فَكَشَفْنَا مَا بِهٖ مِنْ ضُرٍّ وَّاٰتَیْنٰهُ اَهْلَهٗ وَمِثْلَهُمْ مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِنَا وَذِكْرٰی لِلْعٰبِدِیْنَ ۟
তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম। আর তার যত অসুখ (দুঃখ-কষ্ট) ছিল তা দূর করে দিলাম এবং তাকে তার পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম। আর তাদের সাথে তাদের অনুরূপ আরো দিলাম, আমার পক্ষ থেকে রহমত এবং ইবাদাতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।
وَاِسْمٰعِیْلَ وَاِدْرِیْسَ وَذَا الْكِفْلِ ؕ— كُلٌّ مِّنَ الصّٰبِرِیْنَ ۟
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো ইসমাঈল, ইদরীস ও যুল্ কিফল এর কথা, তাদের প্রত্যেকেই (দায়িত্ব পালনে ও বিপদ-আপদে) ধৈর্যশীল ছিল।
وَاَدْخَلْنٰهُمْ فِیْ رَحْمَتِنَا ؕ— اِنَّهُمْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟
আর আমি তাদেরকে আমার রহমতে শামিল করেছিলাম। তারা ছিলো সৎকর্মপরায়ণ।
وَذَا النُّوْنِ اِذْ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنْ لَّنْ نَّقْدِرَ عَلَیْهِ فَنَادٰی فِی الظُّلُمٰتِ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ ۖۗ— اِنِّیْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ ۟ۚۖ
আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো যুন-নূন (১৭) এর কথা, যখন সে (তার সম্প্রদায়ের অবিরত গুনাহে লিপ্ত হওয়ার দরুন) রাগান্বিত অবস্থায় চলে গিয়েছিলো এবং সে মনে করেছিলো যে, আমি তাকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করবো না। তারপর সে অন্ধকার(১৮) থেকে ডেকে বলেছিলো, ‘(হে আমার রব!) আপনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি।’
فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ ۙ— وَنَجَّیْنٰهُ مِنَ الْغَمِّ ؕ— وَكَذٰلِكَ نُـجِی الْمُؤْمِنِیْنَ ۟
অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং দুশ্চিন্তা থেকে তাকে উদ্ধার করেছিলাম। আর এভাবেই আমি মু’মিনদেরকে (বিপদ থেকে) উদ্ধার করে থাকি।
وَزَكَرِیَّاۤ اِذْ نَادٰی رَبَّهٗ رَبِّ لَا تَذَرْنِیْ فَرْدًا وَّاَنْتَ خَیْرُ الْوٰرِثِیْنَ ۟ۚۖ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো যাকারিয়্যার কথা, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিলো, ‘হে আমার রব! আমাকে একা (নিঃসন্তান) রেখো না, তুমি তো সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।’(১৯)
فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ ؗ— وَوَهَبْنَا لَهٗ یَحْیٰی وَاَصْلَحْنَا لَهٗ زَوْجَهٗ ؕ— اِنَّهُمْ كَانُوْا یُسٰرِعُوْنَ فِی الْخَیْرٰتِ وَیَدْعُوْنَنَا رَغَبًا وَّرَهَبًا ؕ— وَكَانُوْا لَنَا خٰشِعِیْنَ ۟
অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে দান করেছিলাম পুত্র ইয়াহইয়াকে। আর তার জন্য তার স্ত্রীকে (গর্ভধারণের) উপযোগী করেছিলাম। তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত। আর তারা আমাকে আগ্রহ ও ভীতি সহকারে ডাকত। আর তারা ছিল আমার নিকট একান্ত বিনয়ী।
وَالَّتِیْۤ اَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِیْهَا مِنْ رُّوْحِنَا وَجَعَلْنٰهَا وَابْنَهَاۤ اٰیَةً لِّلْعٰلَمِیْنَ ۟
আর (হে রাসূল! তুমি আরো) স্মরণ করো সে নারীর (মারইয়ামের) কথা, যে নিজ সতীত্ব রক্ষা করেছিলো। অতঃপর আমি (জিবরীলের মাধ্যমে) তার মধ্যে আমার ‘রূহ’ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পুত্র (`ঈসা) কে বিশ্ববাসীর জন্য করেছিলাম (আল্লাহর অসীম ক্ষমতার) এক নিদর্শন।
اِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً ۖؗ— وَّاَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْنِ ۟
(হে মানুষ!) নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি তো একই জাতি। আর আমিই তোমাদের রব। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো।
وَتَقَطَّعُوْۤا اَمْرَهُمْ بَیْنَهُمْ ؕ— كُلٌّ اِلَیْنَا رٰجِعُوْنَ ۟۠
কিন্তু তারা নিজেদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে।(২০) সকলেই (কিয়ামতের দিন) আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে।
فَمَنْ یَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْیِهٖ ۚ— وَاِنَّا لَهٗ كٰتِبُوْنَ ۟
সুতরাং যে মু’মিন অবস্থায় সৎকাজ করে, তার প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা হবে না। আমি তো তা লিখে রাখি।
وَحَرٰمٌ عَلٰی قَرْیَةٍ اَهْلَكْنٰهَاۤ اَنَّهُمْ لَا یَرْجِعُوْنَ ۟
আর আমি যে জনপদকে (কুফরীর দরুন) ধ্বংস করেছি, তার সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তার অধিবাসীবৃন্দ আর (পৃথিবীতে) ফিরে আসবে না।
حَتّٰۤی اِذَا فُتِحَتْ یَاْجُوْجُ وَمَاْجُوْجُ وَهُمْ مِّنْ كُلِّ حَدَبٍ یَّنْسِلُوْنَ ۟
অবশেষে যখন ইয়া’জূজ ও মা’জূজকে (দেয়াল খুলে আবদ্ধ অবস্থা থেকে ) মুক্তি দেয়া হবে, তখন তারা জমিনের প্রতিটি উঁচু ভূমি হতে দ্রুত বেরিয়ে আসবে।
وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَاِذَا هِیَ شَاخِصَةٌ اَبْصَارُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ— یٰوَیْلَنَا قَدْ كُنَّا فِیْ غَفْلَةٍ مِّنْ هٰذَا بَلْ كُنَّا ظٰلِمِیْنَ ۟
আর সত্য প্রতিশ্রুত (কিয়ামত) নিকটবর্তী হলে হঠাৎই কাফিরদের দৃষ্টিগুলো স্থির হয়ে যাবে। (তারা বলবে,) ‘হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! আমরা তো এ ব্যাপারে ছিলাম সম্পূর্ণ গাফিল(২১); বরং আমরা ছিলাম জালিম।’
اِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ ؕ— اَنْتُمْ لَهَا وٰرِدُوْنَ ۟
(হে মুশরিকরা!) নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের পূজা করো, সেগুলো তো জাহান্নামের জ্বালানী। তোমরা (এবং তোমাদের মা‘বূদরা) সেখানে প্রবেশ করবে।
لَوْ كَانَ هٰۤؤُلَآءِ اٰلِهَةً مَّا وَرَدُوْهَا ؕ— وَكُلٌّ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۟
যদি এরা (যাদেরকে উপাস্য মনে করা হয়) সত্যিই উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে (জাহান্নামে) প্রবেশ করত না। আর তারা সবাই তাতে চিরস্থায়ী থাকবে।
لَهُمْ فِیْهَا زَفِیْرٌ وَّهُمْ فِیْهَا لَا یَسْمَعُوْنَ ۟
সেখানে (যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণে) থাকবে তাদের চিৎকার-আর্তনাদ, আর সেখানে (কঠিন বিভীষিকা ও ভয়াবহতার কারণে কোন আওয়াজই) তারা শুনতে পাবে না।
اِنَّ الَّذِیْنَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِّنَّا الْحُسْنٰۤی ۙ— اُولٰٓىِٕكَ عَنْهَا مُبْعَدُوْنَ ۟ۙ
নিশ্চয় আমার পক্ষ থেকে যাদের জন্য পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে, তাদেরকে তা (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে।
لَا یَسْمَعُوْنَ حَسِیْسَهَا ۚ— وَهُمْ فِیْ مَا اشْتَهَتْ اَنْفُسُهُمْ خٰلِدُوْنَ ۟ۚ
( এত দূরে যে) তারা জাহান্নামের ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না। সেখানে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত ভোগবিলাসে চিরকাল থাকবে।
لَا یَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْاَكْبَرُ وَتَتَلَقّٰىهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ ؕ— هٰذَا یَوْمُكُمُ الَّذِیْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ ۟
মহাভীতি(২৩) তাদেরকে পেরেশান করবে না। আর ফিরিশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে: ‘এটাই তোমাদের সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিলো।’
یَوْمَ نَطْوِی السَّمَآءَ كَطَیِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ؕ— كَمَا بَدَاْنَاۤ اَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِیْدُهٗ ؕ— وَعْدًا عَلَیْنَا ؕ— اِنَّا كُنَّا فٰعِلِیْنَ ۟
সে দিন আমি আসমানসমূহকে গুটিয়ে নিব, যেভাবে গুটিয়ে রাখা হয় লিখিত দলিল পত্রাদি। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব। এটা আমার কৃত প্রতিশ্রুতি (যার বরখেলাফ হবে না)। নিশ্চয় আমি তা পালন করবই।
وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِی الزَّبُوْرِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ اَنَّ الْاَرْضَ یَرِثُهَا عِبَادِیَ الصّٰلِحُوْنَ ۟
“আর আমি ‘যিকর’ (লাওহে মাহফূজ)-এর পর ‘যাবূর’-এ (আসমানী কিতাবসমূহে) লিখে দিয়েছি যে, আমার নেককার বান্দাগণই জমিনের উত্তরাধিকারী হবে।’
اِنَّ فِیْ هٰذَا لَبَلٰغًا لِّقَوْمٍ عٰبِدِیْنَ ۟ؕ
নিশ্চয় এতে ইবাদাতকারী সম্প্রদায়ের জন্য উপদেশ বাণী রয়েছে।
وَمَاۤ اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا رَحْمَةً لِّلْعٰلَمِیْنَ ۟
আর (হে রাসূল!) আমি তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য কেবল রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।
قُلْ اِنَّمَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ— فَهَلْ اَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ ۟
(হে রাসুল! তুমি তাদেরকে ) বলো: ‘আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ একক ইলাহ। সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?’
فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ اٰذَنْتُكُمْ عَلٰی سَوَآءٍ ؕ— وَاِنْ اَدْرِیْۤ اَقَرِیْبٌ اَمْ بَعِیْدٌ مَّا تُوْعَدُوْنَ ۟
আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলে দাও: ‘আমি যথাযথভাবে তোমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। আর আমি জানি না, তোমাদেরকে যে বিষয়ের (শাস্তির) প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা কি নিকটবর্তী না দূরবর্তী?’
اِنَّهٗ یَعْلَمُ الْجَهْرَ مِنَ الْقَوْلِ وَیَعْلَمُ مَا تَكْتُمُوْنَ ۟
নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য কথা সম্পর্কেও জানেন এবং তোমরা যা গোপন কর, তাও জানেন।
وَاِنْ اَدْرِیْ لَعَلَّهٗ فِتْنَةٌ لَّكُمْ وَمَتَاعٌ اِلٰی حِیْنٍ ۟
আর আমি জানি না, হয়তো তা (শাস্তি দিতে বিলম্ব করা) তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা এবং কিছু কালের জন্য উপভোগের সুযোগ।
قٰلَ رَبِّ احْكُمْ بِالْحَقِّ ؕ— وَرَبُّنَا الرَّحْمٰنُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰی مَا تَصِفُوْنَ ۟۠
রাসূল (তার রবকে ডেকে) বলেছিল: ‘হে আমার রব! আপনি (আমাদের ও আমাদের জাতির মাঝে) ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করে দিন।’ আর (হে মানুষ!) আমাদের রব তো পরম করুণাময়। তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে তিনিই একমাত্র সহায়স্থল।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time