طٰهٰ ۟
ত্ব-হা।
Taa-Haa · 135 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
طٰهٰ ۟
ত্ব-হা।
مَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْكَ الْقُرْاٰنَ لِتَشْقٰۤی ۟ۙ
(হে রাসূল!) আমি তোমার প্রতি এ আলকুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি দুর্ভোগ পোহাবে।
اِلَّا تَذْكِرَةً لِّمَنْ یَّخْشٰی ۟ۙ
বরং যে (আল্লাহকে) ভয় করে তার জন্য (এ কুরআন) উপদেশ স্বরূপ।
تَنْزِیْلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْاَرْضَ وَالسَّمٰوٰتِ الْعُلٰی ۟ؕ
যিনি জমিন ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন, তাঁর নিকট থেকে (এ আলকুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে।
اَلرَّحْمٰنُ عَلَی الْعَرْشِ اسْتَوٰی ۟
পরম করুণাময় (আল্লাহ) ‘আরশের ওপর উঠেছেন।(১)
لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ وَمَا بَیْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرٰی ۟
যা আছে আসমানসমূহে, জমিনে ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং যা আছে মাটির নিচে তা সব তাঁরই।(২)
وَاِنْ تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَاِنَّهٗ یَعْلَمُ السِّرَّ وَاَخْفٰی ۟
আর (হে রাসূল!) তুমি যদি উচ্চস্বরে কথা বলো, তবুও (জেনে রাখো) তিনি গোপন ও আরও গোপন বিষয়ও জানেন।
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ— لَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی ۟
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; তাঁরই জন্যে রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।
وَهَلْ اَتٰىكَ حَدِیْثُ مُوْسٰی ۟ۘ
আর (হে রাসূল!) তোমার কাছে কি মূসার (বৃত্তান্ত) সংবাদ পৌঁছেছে?
اِذْ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَهْلِهِ امْكُثُوْۤا اِنِّیْۤ اٰنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّیْۤ اٰتِیْكُمْ مِّنْهَا بِقَبَسٍ اَوْ اَجِدُ عَلَی النَّارِ هُدًی ۟
যখন সে আগুন দেখলো, তখন সে নিজ পরিবারকে বললো: ‘তোমরা (এ জায়গায়) অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি। আশা করি আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারবো অথবা আগুনের নিকট পথনির্দেশ পাবো।’(৩)
فَلَمَّاۤ اَتٰىهَا نُوْدِیَ یٰمُوْسٰی ۟ؕ
যখন সে আগুনের কাছে আসলো, তখন তাকে ডেকে বলা হলো: ‘হে মূসা।’
اِنِّیْۤ اَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَیْكَ ۚ— اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًی ۟ؕ
নিশ্চয় আমিই তোমার রব। সুতরাং (সাক্ষাতের প্রস্তুতি স্বরূপ) তুমি তোমার জুতাজোড়া খুলে ফেলো। নিশ্চয় তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ।’
وَاَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا یُوْحٰی ۟
‘আর আমি তোমাকে (রিসালাতের জন্যে) মনোনীত করেছি। সুতরাং তোমার কাছে যা ওয়াহীরূপে পাঠানো হচ্ছে ,তা মনোযোগ দিয়ে শোন।’
اِنَّنِیْۤ اَنَا اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعْبُدْنِیْ ۙ— وَاَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكْرِیْ ۟
‘নিশ্চয় আমিই আল্লাহ। আমি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং তুমি এককভাবে আমারই ইবাদাত করো এবং আমার স্মরণার্থে (পরিপূর্ণরূপে) সালাত কায়িম করো।’
اِنَّ السَّاعَةَ اٰتِیَةٌ اَكَادُ اُخْفِیْهَا لِتُجْزٰی كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعٰی ۟
নিশ্চয়ই কিয়ামত আসন্ন; আমি যেন তা গোপনই রাখতে চাই, যাতে প্রতিটি মানুষকে তার (দুনিয়ার ভাল বা মন্দ) কর্মের প্রতিফল দেওয়া হয়।
فَلَا یَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَّا یُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوٰىهُ فَتَرْدٰی ۟
অতএব যে ব্যক্তি কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে না এবং স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে কিছুতেই তার ওপর ঈমান আনা থেকে ফিরিয়ে না রাখে; অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
وَمَا تِلْكَ بِیَمِیْنِكَ یٰمُوْسٰی ۟
আর (আল্লাহ মূসাকে সম্বোধন করে বলেনঃ ) ‘হে মূসা, তোমার ডান হাতে ওটা কী?’
قَالَ هِیَ عَصَایَ ۚ— اَتَوَكَّؤُا عَلَیْهَا وَاَهُشُّ بِهَا عَلٰی غَنَمِیْ وَلِیَ فِیْهَا مَاٰرِبُ اُخْرٰی ۟
জবাবে সে (মূসা) বললো: ‘এটি আমার লাঠি; (চলার সময়) আমি এর ওপর ভর করি, এটি দিয়ে আমি আমার মেষপালের জন্য গাছের পাতা পাড়ি। এ ছাড়াও এটি আমার আরো অনেক কাজে লাগে।’
قَالَ اَلْقِهَا یٰمُوْسٰی ۟
আল্লাহ বললেন: ‘হে মূসা! তুমি ওটা নিক্ষেপ করো।’
فَاَلْقٰىهَا فَاِذَا هِیَ حَیَّةٌ تَسْعٰی ۟
অতঃপর সে তা নিক্ষেপ করলো, অমনি তা সাপ হয়ে (ক্ষিপ্র বেগে) ছুটতে লাগলো।
قَالَ خُذْهَا وَلَا تَخَفْ ۫— سَنُعِیْدُهَا سِیْرَتَهَا الْاُوْلٰی ۟
তিনি বললেন: ‘ওটাকে ধর এবং ভয় করো না। আমি ওকে ওর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিবো।’
وَاضْمُمْ یَدَكَ اِلٰی جَنَاحِكَ تَخْرُجْ بَیْضَآءَ مِنْ غَیْرِ سُوْٓءٍ اٰیَةً اُخْرٰی ۟ۙ
আর তোমার হাতকে তোমার বগলের সঙ্গে মিলাও, তখন তা কোনো দোষ ছাড়া সাদা হয়ে বের হবে, এটি আরও একটি নিদর্শন।
لِنُرِیَكَ مِنْ اٰیٰتِنَا الْكُبْرٰی ۟ۚ
(হে মূসা! আমি তোমাকে এ দু’টি আলামত দেখালাম) এটা এজন্য যে, আমি তোমাকে আমার বড় বড় নিদর্শনসমূহের কিছু দেখাব।
اِذْهَبْ اِلٰی فِرْعَوْنَ اِنَّهٗ طَغٰی ۟۠
‘তুমি ফিরা‘ঊনের কাছে যাও। নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘন করেছে।’
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِیْ صَدْرِیْ ۟ۙ
সে (মূসা) বললো: ‘হে আমার রব, আপনি আমার বুক প্রশস্ত করে দিন।’
وَیَسِّرْ لِیْۤ اَمْرِیْ ۟ۙ
এবং আমার কাজকে আমার জন্য সহজ করে দিন।
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِّسَانِیْ ۟ۙ
আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন।(৪)
یَفْقَهُوْا قَوْلِیْ ۪۟
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
وَاجْعَلْ لِّیْ وَزِیْرًا مِّنْ اَهْلِیْ ۟ۙ
আর আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন।
هٰرُوْنَ اَخِی ۟ۙ
আমার ভাই হারূনকে।
اشْدُدْ بِهٖۤ اَزْرِیْ ۟ۙ
তার দ্বারা আমার শক্তিকে সুদৃঢ় করুন।
وَاَشْرِكْهُ فِیْۤ اَمْرِیْ ۟ۙ
এবং তাকে আমার (রিসালাতের) কাজে শরীক করুন।
كَیْ نُسَبِّحَكَ كَثِیْرًا ۟ۙ
যাতে আমরা বেশি করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি।
وَّنَذْكُرَكَ كَثِیْرًا ۟ؕ
এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।
اِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِیْرًا ۟
আপনিই তো আমাদের বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।’
قَالَ قَدْ اُوْتِیْتَ سُؤْلَكَ یٰمُوْسٰی ۟
আল্লাহ বললেন: ‘হে মূসা, তুমি যা চেয়েছো তা তোমাকে দেয়া হলো।’
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَیْكَ مَرَّةً اُخْرٰۤی ۟ۙ
আর নিশ্চয়ই আমি তোমার উপর আরও একবার অনুগ্রহ করেছি।
اِذْ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰۤی اُمِّكَ مَا یُوْحٰۤی ۟ۙ
যখন আমি তোমার মাতাকে ওয়াহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছিলাম, যা জানানোর ছিলো।(৫)
اَنِ اقْذِفِیْهِ فِی التَّابُوْتِ فَاقْذِفِیْهِ فِی الْیَمِّ فَلْیُلْقِهِ الْیَمُّ بِالسَّاحِلِ یَاْخُذْهُ عَدُوٌّ لِّیْ وَعَدُوٌّ لَّهٗ ؕ— وَاَلْقَیْتُ عَلَیْكَ مَحَبَّةً مِّنِّیْ ۚ۬— وَلِتُصْنَعَ عَلٰی عَیْنِیْ ۟ۘ
তুমি তাকে (মূসাকে) সিন্ধুকের মধ্যে রেখে দাও। তারপর তাকে সাগরে ভাসিয়ে দাও। যেন সাগর তাকে তীরে ঠেলে দেয়। ফলে তাকে আমার শত্রু ও তার শত্রু (ফিরা‘ঊন) উঠিয়ে নিবে। আর (হে মূসা) আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম(৬), যাতে তুমি আমার চোখের সামনে(৭) প্রতিপালিত হও।’
اِذْ تَمْشِیْۤ اُخْتُكَ فَتَقُوْلُ هَلْ اَدُلُّكُمْ عَلٰی مَنْ یَّكْفُلُهٗ ؕ— فَرَجَعْنٰكَ اِلٰۤی اُمِّكَ كَیْ تَقَرَّ عَیْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ ؕ۬— وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّیْنٰكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنّٰكَ فُتُوْنًا ۫۬— فَلَبِثْتَ سِنِیْنَ فِیْۤ اَهْلِ مَدْیَنَ ۙ۬— ثُمَّ جِئْتَ عَلٰی قَدَرٍ یّٰمُوْسٰی ۟
যখন তোমার বোন (সিন্দুকটি যেদিকে ভেসে যায়, সেদিকেই সাথে সাথে) চলছিল। অতঃপর সে গিয়ে (যারা তোমাকে উঠিয়ে নিয়েছে তাদেরকে) বললো: ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একজনের সন্ধান দিব, যে এর দায়িত্বভার নিতে পারবে?’ অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুশ্চিন্তায় না থাকে। আর তুমি (ক্বিবতী সম্প্রদায়ের) এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে। তখন আমি তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে নাজাত দিলাম এবং তোমাকে আমি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছ। তারপর হে মূসা! (তোমার সাথে কথা বলার) নির্ধারিত সময়ে তুমি এসে উপস্থিত হয়েছো।
وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِیْ ۟ۚ
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের (রিসালাত প্রদানের) জন্য প্রস্তুত করেছি।
اِذْهَبْ اَنْتَ وَاَخُوْكَ بِاٰیٰتِیْ وَلَا تَنِیَا فِیْ ذِكْرِیْ ۟ۚ
(হে মূসা!) তুমি ও তোমার ভাই (হারূন) আমার (ক্ষমতা ও একত্ববাদের) আয়াতসমূহ নিয়ে (ফিরা‘ঊনের কাছে) যাও এবং আমাকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে কোনোরূপ শৈথিল্য কর না।(৮)
اِذْهَبَاۤ اِلٰی فِرْعَوْنَ اِنَّهٗ طَغٰی ۟ۚۖ
তোমরা দু’জন ফিরা‘ঊনের নিকট যাও; কেননা সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে।
فَقُوْلَا لَهٗ قَوْلًا لَّیِّنًا لَّعَلَّهٗ یَتَذَكَّرُ اَوْ یَخْشٰی ۟
তোমরা তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বলবে। হয়তোবা সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা (আল্লাহকে) ভয় করবে।
قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنْ یَّفْرُطَ عَلَیْنَاۤ اَوْ اَنْ یَّطْغٰی ۟
তারা দুজন বললো: ‘হে আমাদের রব! আমরা তো আশঙ্কা করছি যে, (তাকে পরিপূর্ণরূপে দা‘ওয়াত দেয়ার আগেই) সে আমাদের উপর (দ্রুত শাস্তি দিয়ে) বাড়াবাড়ি করবে অথবা (হত্যা, ইত্যাদির মাধ্যমে) সীমালঙ্ঘন করবে।’
قَالَ لَا تَخَافَاۤ اِنَّنِیْ مَعَكُمَاۤ اَسْمَعُ وَاَرٰی ۟
আল্লাহ (তাদেরকে) বললেন: ‘তোমরা দুজন ভয় করো না। (সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে) আমি তো তোমাদের সাথেই আছি। আমি সবকিছু শুনছি ও দেখছি।’
فَاْتِیٰهُ فَقُوْلَاۤ اِنَّا رَسُوْلَا رَبِّكَ فَاَرْسِلْ مَعَنَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۙ۬— وَلَا تُعَذِّبْهُمْ ؕ— قَدْ جِئْنٰكَ بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّكَ ؕ— وَالسَّلٰمُ عَلٰی مَنِ اتَّبَعَ الْهُدٰی ۟
সুতরাং তোমরা দু’জন তার (ফিরা‘ঊনের) কাছে যাও, অতঃপর বলো: ‘আমরা তোমার রবের দু’জন রাসূল। সুতরাং তুমি বানূ ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও এবং (ছেলেদেরকে হত্যা করে এবং মেয়েদেরকে বাঁচিয়ে রেখে) তাদেরকে নির্যাতন করো না। আমরা তোমার কাছে এসেছি তোমার রবের পক্ষ থেকে (আমাদের সত্যতার) প্রমাণ নিয়ে। আর তাদের প্রতি শান্তি, যারা হিদায়েতের পথ অনুসরণ করে ।’
اِنَّا قَدْ اُوْحِیَ اِلَیْنَاۤ اَنَّ الْعَذَابَ عَلٰی مَنْ كَذَّبَ وَتَوَلّٰی ۟
নিশ্চয় আমাদের নিকট (আল্লাহর পক্ষ থেকে) ওয়াহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, (দুনিয়া ও আখিরাতের) শাস্তি তো তার জন্য, যে (আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি) মিথ্যারোপ করে এবং (রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছে, তা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।
قَالَ فَمَنْ رَّبُّكُمَا یٰمُوْسٰی ۟
ফিরা‘ঊন বললো: ‘হে মূসা, তাহলে কে তোমাদের রব?’
قَالَ رَبُّنَا الَّذِیْۤ اَعْطٰی كُلَّ شَیْءٍ خَلْقَهٗ ثُمَّ هَدٰی ۟
মূসা জবাবে বললো: ‘আমাদের রব তিনিই, যিনি সকল বস্তুকে তার (উপযুক্ত) আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সবাইকে সঠিক পথ নির্দেশ করেছেন।’
قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُوْنِ الْاُوْلٰی ۟
ফিরা‘ঊন বললো: ‘তাহলে পূর্বের জাতিগুলোর অবস্থা কী? (যারা কুফরীর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলো)।’
قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّیْ فِیْ كِتٰبٍ ۚ— لَا یَضِلُّ رَبِّیْ وَلَا یَنْسَی ۟ؗ
মূসা বললো: ‘এর জ্ঞান আমার রবের নিকট (লাওহে মাহফূযে) একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। আমার রব (সেগুলো জানতে) কোন ভুল করেন না এবং ভুলেও যান না।’
الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ مَهْدًا وَّسَلَكَ لَكُمْ فِیْهَا سُبُلًا وَّاَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ؕ— فَاَخْرَجْنَا بِهٖۤ اَزْوَاجًا مِّنْ نَّبَاتٍ شَتّٰی ۟
‘যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য চলার (উপযুক্ত) পথ করে দিয়েছেন। উপরন্তু আসমান থেকে তিনি পানি বর্ষণ করেছেন , অতঃপর তা দিয়ে আমরা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ জোড়ায় জোড়ায় উৎপন্ন করেছি।
كُلُوْا وَارْعَوْا اَنْعَامَكُمْ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّهٰی ۟۠
( তা থেকে) তোমরা নিজেরা খাও এবং তোমাদের গবাদি পশুদেরকে (তাতে) চরাও। অবশ্যই এতে বিবেকসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
مِنْهَا خَلَقْنٰكُمْ وَفِیْهَا نُعِیْدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرٰی ۟
মাটি থেকেই আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিবো এবং মাটি থেকেই পুনরায় তোমাদেরকে (কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের জন্য) বের করে আনবো।
وَلَقَدْ اَرَیْنٰهُ اٰیٰتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَاَبٰی ۟
নিশ্চয়ই আমি ফিরা‘ঊনকে আমার সকল নিদর্শন দেখিয়েছিলাম; কিন্তু সে তা মিথ্যারোপ করেছে এবং (আমার প্রতি ঈমান আনতে) অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
قَالَ اَجِئْتَنَا لِتُخْرِجَنَا مِنْ اَرْضِنَا بِسِحْرِكَ یٰمُوْسٰی ۟
সে বললো: ‘হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছো যে, তোমার যাদুর দ্বারা তুমি আমাদেরকে আমাদের দেশ (মিশর) থেকে বের করে দিবে?’
فَلَنَاْتِیَنَّكَ بِسِحْرٍ مِّثْلِهٖ فَاجْعَلْ بَیْنَنَا وَبَیْنَكَ مَوْعِدًا لَّا نُخْلِفُهٗ نَحْنُ وَلَاۤ اَنْتَ مَكَانًا سُوًی ۟
‘তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার নিকট অনুরূপ যাদু নিয়ে আসবো। সুতরাং (যাদুবিদ্যার প্রতিযোগিতার জন্য) একটি মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের ও তোমার মিলিত হওয়ার জন্য একটি সময় নির্ধারণ করো, যা আমরাও লঙ্ঘন করবো না, তুমিও করবে না।’
قَالَ مَوْعِدُكُمْ یَوْمُ الزِّیْنَةِ وَاَنْ یُّحْشَرَ النَّاسُ ضُحًی ۟
মূসা বললেন: ‘তোমাদের নির্ধারিত সময় হলো উৎসবের দিন এবং সে দিনে মানুষদের পূর্বাহ্নে (সকালে) একত্র করা হবে।’
فَتَوَلّٰی فِرْعَوْنُ فَجَمَعَ كَیْدَهٗ ثُمَّ اَتٰی ۟
অতঃপর ফিরা‘ঊন উঠে গেলো। তারপর সে তার কৌশল একত্র করলো, তারপর সে (নির্দিষ্ট স্থানে ও সময়ে প্রতিযোগিতার জন্য) আসলো।
قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰی وَیْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوْا عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا فَیُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍ ۚ— وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرٰی ۟
মূসা তাদেরকে বললো: ‘তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা (যাদুর মাধ্যমে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে) আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করো না। তা করলে তিনি এক (কঠিন) শাস্তি দ্বারা তোমাদের মূলোৎপাটন করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে, সে-ই ব্যর্থ হয়।’
فَتَنَازَعُوْۤا اَمْرَهُمْ بَیْنَهُمْ وَاَسَرُّوا النَّجْوٰی ۟
তখন তারা (যাদুকররা) নিজেদের মধ্যে তাদের কর্ম সম্বন্ধে বাক-বিতণ্ডা করলো এবং তারা গোপনে পরামর্শ করলো।
قَالُوْۤا اِنْ هٰذٰنِ لَسٰحِرٰنِ یُرِیْدٰنِ اَنْ یُّخْرِجٰكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَیَذْهَبَا بِطَرِیْقَتِكُمُ الْمُثْلٰی ۟
তারা (যাদুকর পরস্পর) বললো: ‘এ দু’জন অবশ্যই যাদুকর। তারা চায় তাদের যাদুর মাধ্যমে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ (মিশর) থেকে বের করে দিতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে।’
فَاَجْمِعُوْا كَیْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوْا صَفًّا ۚ— وَقَدْ اَفْلَحَ الْیَوْمَ مَنِ اسْتَعْلٰی ۟
কাজেই তোমরা তোমাদের সকল কলাকৌশল একত্রিত করো। তারপর তোমরা সবাই সারিবদ্ধভাবে আসো।(৯) আর আজ যে (প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর) বিজয়ী হবে, সে-ই সফল হবে।’
قَالُوْا یٰمُوْسٰۤی اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِیَ وَاِمَّاۤ اَنْ نَّكُوْنَ اَوَّلَ مَنْ اَلْقٰی ۟
তারা বললো: হে মূসা, হয় তুমি (যাদু) নিক্ষেপ করো, না হয় আমরাই প্রথমে (যাদু) নিক্ষেপকারী হই।
قَالَ بَلْ اَلْقُوْا ۚ— فَاِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِیُّهُمْ یُخَیَّلُ اِلَیْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ اَنَّهَا تَسْعٰی ۟
তিনি বললেন: বরং তোমরাই (আগে) নিক্ষেপ করো। তারপর হঠাৎ তাদের রশি ও লাঠিগুলো তাদের জাদুর কারণে তার কাছে এমন মনে হলো যেন সেগুলো দৌড়াচ্ছে।
فَاَوْجَسَ فِیْ نَفْسِهٖ خِیْفَةً مُّوْسٰی ۟
তখন মূসা তার অন্তরে কিছুটা ভীতি অনুভব করলো।
قُلْنَا لَا تَخَفْ اِنَّكَ اَنْتَ الْاَعْلٰی ۟
আমি (আল্লাহ) বললাম: ‘তুমি ভয় পেয়ো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে।’
وَاَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ— اِنَّمَا صَنَعُوْا كَیْدُ سٰحِرٍ ؕ— وَلَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی ۟
‘আর তুমি নিজের ডান হাতে যা (যে লাঠি) আছে, তা নিক্ষেপ করো। ফলে তারা যা করেছে, এটা (সাপে রূপান্তরিত হয়ে) সেগুলো খেয়ে ফেলবে। তারা যা করেছে, তাতো কেবল যাদুকরের কৌশল। আর যাদুকর যেখানেই আসুক না কেনো, সে সফল হবে না।’
فَاُلْقِیَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ هٰرُوْنَ وَمُوْسٰی ۟
অতঃপর যাদুকরেরা সাজদায় লুটিয়ে পড়ল। তারা বললো: ‘আমরা হারূন ও মূসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম।’(১০)
قَالَ اٰمَنْتُمْ لَهٗ قَبْلَ اَنْ اٰذَنَ لَكُمْ ؕ— اِنَّهٗ لَكَبِیْرُكُمُ الَّذِیْ عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ ۚ— فَلَاُقَطِّعَنَّ اَیْدِیَكُمْ وَاَرْجُلَكُمْ مِّنْ خِلَافٍ وَّلَاُوصَلِّبَنَّكُمْ فِیْ جُذُوْعِ النَّخْلِ ؗ— وَلَتَعْلَمُنَّ اَیُّنَاۤ اَشَدُّ عَذَابًا وَّاَبْقٰی ۟
ফিরা‘ঊন (যাদুকরদেরকে) বললো: ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে-ই (মূসাই) তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। সুতরাং আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলবো এবং আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে (মৃত্যু পর্যন্ত) শূলবিদ্ধ করবোই। আর তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে, আমাদের মধ্যে কার শাস্তি বেশি কঠোর এবং বেশি স্থায়ী (আমি, না কি মূসার রবের?! )।’
قَالُوْا لَنْ نُّؤْثِرَكَ عَلٰی مَا جَآءَنَا مِنَ الْبَیِّنٰتِ وَالَّذِیْ فَطَرَنَا فَاقْضِ مَاۤ اَنْتَ قَاضٍ ؕ— اِنَّمَا تَقْضِیْ هٰذِهِ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا ۟ؕ
যাদুকররা (ফিরা‘ঊনকে) বললো: ‘আমাদের নিকট যে সকল স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তার ওপর আমরা তোমাকে কিছুতেই প্রাধান্য দিবো না। সুতরাং তুমি যা ফয়সালা করতে চাও, তাই করো। তুমি তো শুধু এ দুনিয়ার জীবনের ওপর কর্তৃত্ব করতে পার।’
اِنَّاۤ اٰمَنَّا بِرَبِّنَا لِیَغْفِرَ لَنَا خَطٰیٰنَا وَمَاۤ اَكْرَهْتَنَا عَلَیْهِ مِنَ السِّحْرِ ؕ— وَاللّٰهُ خَیْرٌ وَّاَبْقٰی ۟
‘নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে তিনি আমাদের অপরাধসমূহ এবং যে যাদু তুমি আমাদেরকে করতে বাধ্য করেছো, তা ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।’(১১)
اِنَّهٗ مَنْ یَّاْتِ رَبَّهٗ مُجْرِمًا فَاِنَّ لَهٗ جَهَنَّمَ ؕ— لَا یَمُوْتُ فِیْهَا وَلَا یَحْیٰی ۟
নিশ্চয়ই (কিয়ামতের দিবসে) যে তার রবের নিকট অপরাধী অবস্থায় আসবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না।
وَمَنْ یَّاْتِهٖ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصّٰلِحٰتِ فَاُولٰٓىِٕكَ لَهُمُ الدَّرَجٰتُ الْعُلٰی ۟ۙ
আর যারা তাঁর নিকট আসবে মু’মিন অবস্থায়, সৎকর্ম করে, তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা।
جَنّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ— وَذٰلِكَ جَزٰٓؤُا مَنْ تَزَكّٰی ۟۠
(সে সুউচ্চ মর্যাদা হলো) চিরস্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে প্রবাহিত হবে নদী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আর এটা হলো সেসব লোকদের প্রতিদান যারা (কুফরী ও গুনাহ থেকে) পবিত্র রয়েছে।
وَلَقَدْ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی ۙ۬— اَنْ اَسْرِ بِعِبَادِیْ فَاضْرِبْ لَهُمْ طَرِیْقًا فِی الْبَحْرِ یَبَسًا ۙ— لَّا تَخٰفُ دَرَكًا وَّلَا تَخْشٰی ۟
আর অবশ্যই আমি মূসার প্রতি ওহী করেছি যে, তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিতে বের হয়ে যাও; তারপর (লাঠি দিয়ে আঘাত করে) তাদের জন্য সমুদ্রের মধ্যে শুকনো পথ তৈরি করো। তুমি (পিছনে) ধরা পড়ার ভয় করবে না এবং (সামনে ডুবে যাওয়ার) কোনো আশঙ্কাও করবে না।
فَاَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ بِجُنُوْدِهٖ فَغَشِیَهُمْ مِّنَ الْیَمِّ مَا غَشِیَهُمْ ۟ؕ
তারপর ফিরা‘ঊন তার সেনাবাহিনীসহ তাদের পিছু নিলো। অতঃপর সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করলো।
وَاَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهٗ وَمَا هَدٰی ۟
ফেরাউন (কুফরীকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে) তার জাতিকে পথভ্রষ্ট করল এবং সে তাদেরকে হিদায়াতের পথ দেখাল না।
یٰبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ قَدْ اَنْجَیْنٰكُمْ مِّنْ عَدُوِّكُمْ وَوٰعَدْنٰكُمْ جَانِبَ الطُّوْرِ الْاَیْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَیْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوٰی ۟
হে বানূ ইসরাঈল! আমিই তোমাদেরকে তোমাদের শত্রুর হাত থেকে নাজাত দিয়েছি। আর তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম তূর পাহাড়ের ডান পাশের(১২) এবং আমি তোমাদের জন্য অবতরণ করেছিলাম ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’।(১৩)
كُلُوْا مِنْ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقْنٰكُمْ وَلَا تَطْغَوْا فِیْهِ فَیَحِلَّ عَلَیْكُمْ غَضَبِیْ ۚ— وَمَنْ یَّحْلِلْ عَلَیْهِ غَضَبِیْ فَقَدْ هَوٰی ۟
আমি তোমাদেরকে যে রিযক দান করেছি, তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ খাও এবং এতে সীমালঙ্ঘন করো না। করলে তোমাদের ওপর আমার গজব পতিত হবে। আর যার ওপর আমার গজব পতিত হয়, সে (দুনিয়া ও আখিরাতে) অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
وَاِنِّیْ لَغَفَّارٌ لِّمَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدٰی ۟
আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তারপর সৎপথে অবিচল থাকে।
وَمَاۤ اَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ یٰمُوْسٰی ۟
হে মূসা! তোমার সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলে তোমাকে তাড়াহুড়া করতে বাধ্য করল কিসে?
قَالَ هُمْ اُولَآءِ عَلٰۤی اَثَرِیْ وَعَجِلْتُ اِلَیْكَ رَبِّ لِتَرْضٰی ۟
মূসা বললো: ‘এই তো তারা আমার পিছনেই আছে। হে আমার রব! আমি তাড়াহুড়া করে আপনার নিকট এসেছি, যাতে আপনি আমার ওপর সন্তুষ্ট হন।’
قَالَ فَاِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِنْ بَعْدِكَ وَاَضَلَّهُمُ السَّامِرِیُّ ۟
আল্লাহ বললেন: ‘তোমার চলে আসার পর আমি তো তোমার সম্প্রদায়কে (গো-বাছুর পূজার) পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছি। আর সামেরী তাদেরকে (পূজার জন্য আহ্বান করে) পথভ্রষ্ট করেছে।’
فَرَجَعَ مُوْسٰۤی اِلٰی قَوْمِهٖ غَضْبَانَ اَسِفًا ۚ۬— قَالَ یٰقَوْمِ اَلَمْ یَعِدْكُمْ رَبُّكُمْ وَعْدًا حَسَنًا ؕ۬— اَفَطَالَ عَلَیْكُمُ الْعَهْدُ اَمْ اَرَدْتُّمْ اَنْ یَّحِلَّ عَلَیْكُمْ غَضَبٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ فَاَخْلَفْتُمْ مَّوْعِدِیْ ۟
অতঃপর (তাদের গো-বাছুর পূজার কারণে) মূসা রাগান্বিত ও মর্মাহত হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলো। সে বললো: ‘হে আমার জাতি! তোমাদের রব কি তোমাদেরকে এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি?(১৪) তোমাদের কাছে কি সেই প্রতিশ্রুতির সময় দীর্ঘ হয়ে গেছে? নাকি তোমরা চেয়েছো যে, তোমাদের ওপর তোমাদের রবের গজব পতিত হোক? তাই তোমরা আমার সাথে (আনুগত্যের ওপর অটল থাকার) কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে?’
قَالُوْا مَاۤ اَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَلٰكِنَّا حُمِّلْنَاۤ اَوْزَارًا مِّنْ زِیْنَةِ الْقَوْمِ فَقَذَفْنٰهَا فَكَذٰلِكَ اَلْقَی السَّامِرِیُّ ۟ۙ
তারা জবাবে বললো: ‘আমরা তো স্বেচ্ছায় আপনার সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করিনি; বরং জাতির অলংকারের বোঝা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই আমরা তা আগুনে নিক্ষেপ করেছি, অনুরূপভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করেছে।’(১৫)
فَاَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًا جَسَدًا لَّهٗ خُوَارٌ فَقَالُوْا هٰذَاۤ اِلٰهُكُمْ وَاِلٰهُ مُوْسٰی ۚۙ۬— فَنَسِیَ ۟ؕ
তখন সামিরী তাদের জন্য একটি বাছুরের অবয়ব (রূহবিহীন মূর্তি) বের করে আনল, যার ছিল হাম্বা ধ্বনি। তখন তারা বলল, ‘এটাই তোমাদের উপাস্য এবং মূসারও উপাস্য; কিন্তু সে (মূসা) তা ভুলে গেছে।’(১৬)
اَفَلَا یَرَوْنَ اَلَّا یَرْجِعُ اِلَیْهِمْ قَوْلًا ۙ۬— وَّلَا یَمْلِكُ لَهُمْ ضَرًّا وَّلَا نَفْعًا ۟۠
তারা কি দেখে না যে, এটা (গো-বাছুরটি) তাদের কোনো কথার জবাব দিতে পারে না, আর তাদের কোনো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতাও রাখে না?
وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هٰرُوْنُ مِنْ قَبْلُ یٰقَوْمِ اِنَّمَا فُتِنْتُمْ بِهٖ ۚ— وَاِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمٰنُ فَاتَّبِعُوْنِیْ وَاَطِیْعُوْۤا اَمْرِیْ ۟
আর মূসা তাদের নিকট ফিরে আসার আগেই হারূন তাদেরকে বলেছিল: ‘হে আমার সম্প্রদায়! এটা দ্বারা তো কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। আর তোমাদের রব তো পরম করুণাময়। তাই তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ মেনে চল।’
قَالُوْا لَنْ نَّبْرَحَ عَلَیْهِ عٰكِفِیْنَ حَتّٰی یَرْجِعَ اِلَیْنَا مُوْسٰی ۟
তারা বলল: ‘আমরা এর পূজা করেই যাবো; যতক্ষণ না মূসা আমাদের কাছে ফিরে আসে।’
قَالَ یٰهٰرُوْنُ مَا مَنَعَكَ اِذْ رَاَیْتَهُمْ ضَلُّوْۤا ۟ۙ
তিনি (মূসা ফিরে এসে) বললেন, ‘হে হারূন! যখন তুমি দেখলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন কিসে তোমাকে বাধা দিল,
اَلَّا تَتَّبِعَنِ ؕ— اَفَعَصَیْتَ اَمْرِیْ ۟
যে তুমি (তাদেরকে ছেড়ে) আমার কাছে আসলে না?(১৭)তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করলে?
قَالَ یَبْنَؤُمَّ لَا تَاْخُذْ بِلِحْیَتِیْ وَلَا بِرَاْسِیْ ۚ— اِنِّیْ خَشِیْتُ اَنْ تَقُوْلَ فَرَّقْتَ بَیْنَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِیْ ۟
সে (হারূন) বললো: ‘হে আমার সহোদর! আমার দাড়িও ধরো না, মাথার চুলও ধরো না। আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, তুমি বলবে, তুমি বানূ ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো এবং আমার কথা রক্ষা করোনি।’(১৮)
قَالَ فَمَا خَطْبُكَ یٰسَامِرِیُّ ۟
তিনি (মূসা) বললেন, ‘হে সামিরী! তোমার ব্যাপার কী?
قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ یَبْصُرُوْا بِهٖ فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِّنْ اَثَرِ الرَّسُوْلِ فَنَبَذْتُهَا وَكَذٰلِكَ سَوَّلَتْ لِیْ نَفْسِیْ ۟
সে (সামিরীকে ) বললো: ‘আমি এমন কিছু দেখেছি, যা ওরা দেখেনি। তারপর আমি দূতের (জিবরীলের)(১৯) পায়ের চিহ্ন থেকে এক মুষ্টি মাটি নিয়েছিলাম। অতঃপর তা (গলানো স্বর্ণের ওপর) নিক্ষেপ করেছিলাম। আর আমার মন আমার জন্য এরূপ করাটা শোভন করেছিল।’
قَالَ فَاذْهَبْ فَاِنَّ لَكَ فِی الْحَیٰوةِ اَنْ تَقُوْلَ لَا مِسَاسَ ۪— وَاِنَّ لَكَ مَوْعِدًا لَّنْ تُخْلَفَهٗ ۚ— وَانْظُرْ اِلٰۤی اِلٰهِكَ الَّذِیْ ظَلْتَ عَلَیْهِ عَاكِفًا ؕ— لَنُحَرِّقَنَّهٗ ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهٗ فِی الْیَمِّ نَسْفًا ۟
মূসা (সামিরীকে) বললো: ‘তুমি এখান থেকে চলে যাও। তোমার শাস্তি হলো, জীবদ্দশায় তুমি বলতে থাকবে, ‘আমাকে স্পর্শ করো না।’ আর তোমার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় (কিয়ামতের দিন) রইলো যার কখনো ব্যতিক্রম হবে না। আর তুমি তোমার (গো-বাছুর) ইলাহের প্রতি চেয়ে দেখো, যার পূজায় তুমি রত ছিলে, আমরা তা অবশ্যই জ্বালিয়ে দিবো। তারপর বিক্ষিপ্ত করে তা সাগরে নিক্ষেপ করবোই।’
اِنَّمَاۤ اِلٰهُكُمُ اللّٰهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ— وَسِعَ كُلَّ شَیْءٍ عِلْمًا ۟
নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোনো (সত্য) উপাস্য নেই; তিনি জ্ঞানে সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছেন।
كَذٰلِكَ نَقُصُّ عَلَیْكَ مِنْ اَنْۢبَآءِ مَا قَدْ سَبَقَ ۚ— وَقَدْ اٰتَیْنٰكَ مِنْ لَّدُنَّا ذِكْرًا ۟ۖۚ
(হে রাসূল! তোমার) পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ এভাবেই আমি তোমার কাছে বর্ণনা করি। আর আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে যিকর (আলকুরআন) দান করেছি।
مَنْ اَعْرَضَ عَنْهُ فَاِنَّهٗ یَحْمِلُ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وِزْرًا ۟ۙ
যে (তোমার ওপর নাযিলকৃত) আলকুরআন থেকে বিমুখ হবে, অবশ্যই সে কিয়ামতের দিন পাপের বোঝা বহন করবে।
خٰلِدِیْنَ فِیْهِ ؕ— وَسَآءَ لَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ حِمْلًا ۟ۙ
সেখানে (শাস্তির মধ্যে) তারা স্থায়ী হবে এবং কিয়ামতের দিন এটা তাদের জন্য বোঝা হিসেবে কতোই না মন্দ হবে!
یَّوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِیْنَ یَوْمَىِٕذٍ زُرْقًا ۟
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে, আর সেদিন আমি অপরাধীদেরকে দৃষ্টিহীন (নীল চোখবিশিষ্ট) অবস্থায় সমবেত করব।
یَّتَخَافَتُوْنَ بَیْنَهُمْ اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا عَشْرًا ۟
তারা নিজেদের মধ্যে আস্তে আস্তে বলাবলি করবে, ‘তোমরা তো (দুনিয়ায়) দশদিনের বেশি অবস্থান করোনি।’
نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَا یَقُوْلُوْنَ اِذْ یَقُوْلُ اَمْثَلُهُمْ طَرِیْقَةً اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا یَوْمًا ۟۠
তারা যা বলে, সে বিষয়ে আমিই অধিক অবগত; যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুবিবেচক ব্যক্তি বলবে, ‘তোমরা তো মাত্র একদিনই অবস্থান করেছিলে।’
وَیَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ یَنْسِفُهَا رَبِّیْ نَسْفًا ۟ۙ
আর (হে রাসূল!) তারা তোমাকে (কিয়ামতের দিনের) পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: ‘আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে (সেগুলোকে ধূলিকণার ন্যায়) ছিটিয়ে দিবেন।‘
فَیَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا ۟ۙ
তারপর তিনি জমিনকে উদ্ভিদশূন্য সমতল করে দিবেন।
لَّا تَرٰی فِیْهَا عِوَجًا وَّلَاۤ اَمْتًا ۟ؕ
তাতে তুমি কোনো বক্রতা ও উঁচু-নিচু দেখবে না।
یَوْمَىِٕذٍ یَّتَّبِعُوْنَ الدَّاعِیَ لَا عِوَجَ لَهٗ ۚ— وَخَشَعَتِ الْاَصْوَاتُ لِلرَّحْمٰنِ فَلَا تَسْمَعُ اِلَّا هَمْسًا ۟
সেদিন তারা (কিয়ামতের ময়দানের দিকে) আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, যার মধ্যে কোনো বিচ্যুতি থাকবে না। আর দয়াময়ের সামনে সব আওয়াজ নত হয়ে যাবে; তখন তুমি ফিসফিস শব্দ ছাড়া কিছুই শুনতে পাবে না।
یَوْمَىِٕذٍ لَّا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ اِلَّا مَنْ اَذِنَ لَهُ الرَّحْمٰنُ وَرَضِیَ لَهٗ قَوْلًا ۟
সেদিন পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দিবেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, তার সুপারিশ ছাড়া কারো সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না।
یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِهٖ عِلْمًا ۟
তিনি তাদের আগের ও পরের সবকিছুই জানেন; কিন্তু তারা জ্ঞানের দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারবে না।
وَعَنَتِ الْوُجُوْهُ لِلْحَیِّ الْقَیُّوْمِ ؕ— وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا ۟
আর চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে সকলেই অবনত হবে। আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, যে যুলমের (পাপের) বোঝা করবে।
وَمَنْ یَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا یَخٰفُ ظُلْمًا وَّلَا هَضْمًا ۟
এবং যে মু’মিন অবস্থায় ভালো কাজ করবে, তার কোনো অবিচারের বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।
وَكَذٰلِكَ اَنْزَلْنٰهُ قُرْاٰنًا عَرَبِیًّا وَّصَرَّفْنَا فِیْهِ مِنَ الْوَعِیْدِ لَعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ اَوْ یُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا ۟
এভাবেই(২০) আমি এটিকে আরবী কুরআন হিসেবে নাযিল করেছি এবং এতে বিভিন্নভাবে শাস্তির সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা এই কুরআন তাদের জন্য একটি উপদেশ সৃষ্টি করবে।
فَتَعٰلَی اللّٰهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۚ— وَلَا تَعْجَلْ بِالْقُرْاٰنِ مِنْ قَبْلِ اَنْ یُّقْضٰۤی اِلَیْكَ وَحْیُهٗ ؗ— وَقُلْ رَّبِّ زِدْنِیْ عِلْمًا ۟
অতএব মহান ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক। আর (হে নবী!) তোমার প্রতি ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কুরআন (পাঠে) তাড়াহুড়া করো না। আর বলো, ‘হে আমার রব! আমাকে ইলম বৃদ্ধি করে দিন।’
وَلَقَدْ عَهِدْنَاۤ اِلٰۤی اٰدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِیَ وَلَمْ نَجِدْ لَهٗ عَزْمًا ۟۠
আর নিশ্চয়ই আমি পূর্বে আদমের কাছে (একটি নির্দিষ্ট গাছের ফল না খাওয়ার) অঙ্গীকার নিয়েছিলাম; কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প পাইনি।
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ— اَبٰی ۟
আর (হে রাসূল! স্মরণ করো:) যখন আমি ফিরিশতাদের বললাম, ‘তোমরা আদমকে সিজদা করো’, তখন তারা সবাই সাজদা করল; কিন্তু ইবলীস অস্বীকার করল।
فَقُلْنَا یٰۤاٰدَمُ اِنَّ هٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا یُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقٰی ۟
অতঃপর আমি (আদমকে ডেকে) বললাম: ‘হে আদম, নিশ্চয় এ ইবলীস তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সুতরাং সে যেন (কুমন্ত্রণা দিয়ে) তোমাদের উভয়কে জান্নাত থেকে কিছুতেই বের করে না দেয়, তাহলে তোমরা দুর্ভোগ পোহাবে।’
اِنَّ لَكَ اَلَّا تَجُوْعَ فِیْهَا وَلَا تَعْرٰی ۟ۙ
‘নিশ্চয় তোমার জন্য (জান্নাতে) এ ব্যবস্থা রয়েছে যে, ‘তুমি সেখানে ক্ষুধার্তও হবে না এবং নগ্নও হবে না।’
وَاَنَّكَ لَا تَظْمَؤُا فِیْهَا وَلَا تَضْحٰی ۟
এবং সেখানে তুমি তৃষ্ণার্ত হবে না এবং রৌদ্রের তাপে কষ্টও পাবে না।
فَوَسْوَسَ اِلَیْهِ الشَّیْطٰنُ قَالَ یٰۤاٰدَمُ هَلْ اَدُلُّكَ عَلٰی شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا یَبْلٰی ۟
অতঃপর শয়তান তাকে (আদমকে) কুমন্ত্রণা দিল এবং তাকে বললো: ‘হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব, অমর গাছ(২১) এবং অক্ষয় রাজত্ব সম্পর্কে?’
فَاَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْاٰتُهُمَا وَطَفِقَا یَخْصِفٰنِ عَلَیْهِمَا مِنْ وَّرَقِ الْجَنَّةِ ؗ— وَعَصٰۤی اٰدَمُ رَبَّهٗ فَغَوٰی ۪۟ۖ
অতঃপর তারা উভয়েই (আদম ও হাওয়া) সে গাছ থেকে ফল খেলো। ফলে তাদের উভয়ের লজ্জাস্থান তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা ছিঁড়ে তা দিয়ে নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগলো। এভাবে আদম তার রবের হুকুম অমান্য করলো; ফলে সে বিভ্রান্ত হলো।
ثُمَّ اجْتَبٰهُ رَبُّهٗ فَتَابَ عَلَیْهِ وَهَدٰی ۟
এরপর তার রব তাকে (ক্ষমা ও অনুগ্রহ দানের জন্য অথবা নবী হিসেবে) মনোনীত করলেন। তিনি তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথনির্দেশ করলেন।
قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِیْعًا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۚ— فَاِمَّا یَاْتِیَنَّكُمْ مِّنِّیْ هُدًی ۙ۬— فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَایَ فَلَا یَضِلُّ وَلَا یَشْقٰی ۟
আল্লাহ (আদম ও হাওয়াকে) বললেন: ‘তোমরা উভয়েই জান্নাত হতে এক সাথে (জমিনে) নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যখন তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না এবং (আখিরাতে শাস্তির সম্মুখীন হয়ে) দুর্ভাগাও হবে না।
وَمَنْ اَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِیْ فَاِنَّ لَهٗ مَعِیْشَةً ضَنْكًا وَّنَحْشُرُهٗ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ اَعْمٰی ۟
আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, নিশ্চয় তার জন্য (দুনিয়া ও বরযখে) হবে এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়।’
قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِیْۤ اَعْمٰی وَقَدْ كُنْتُ بَصِیْرًا ۟
সে বলবে: ‘হে আমার রব, কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো (দুনিয়াতে) দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিলাম?’
قَالَ كَذٰلِكَ اَتَتْكَ اٰیٰتُنَا فَنَسِیْتَهَا ۚ— وَكَذٰلِكَ الْیَوْمَ تُنْسٰی ۟
প্রত্যুত্তরে আল্লাহ বলবেন: ‘এমনিভাবেই (দুনিয়াতে) তোমার নিকট আমার নিদর্শনাবলি এসেছিল; কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে(২২) এবং সেভাবে আজ তোমাকেও (জাহান্নামে) বিস্মৃত করে রাখা হবে।’
وَكَذٰلِكَ نَجْزِیْ مَنْ اَسْرَفَ وَلَمْ یُؤْمِنْ بِاٰیٰتِ رَبِّهٖ ؕ— وَلَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَشَدُّ وَاَبْقٰی ۟
আর এভাবেই আমি (দুনিয়াতেই ) প্রতিফল দান করি তাকে, যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার রবের নিদর্শনাবলিতে ঈমান আনে না। আর আখিরাতের শাস্তি তো অবশ্যই কঠোরতর ও অধিকতর স্থায়ী।
اَفَلَمْ یَهْدِ لَهُمْ كَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنَ الْقُرُوْنِ یَمْشُوْنَ فِیْ مَسٰكِنِهِمْ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّهٰی ۟۠
আচ্ছ, এটি কি তাদেরকে সৎপথ দেখালো না যে, আমি তাদের পূর্বে কতো মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসভূমিতে তারা বিচরণ করে থাকে? নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য নিদর্শন।
وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَّاَجَلٌ مُّسَمًّی ۟ؕ
আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে (প্রমাণ দাঁড় করানো ছাড়া কাউকে শাস্তি না দেওয়ার) পূর্ব সিদ্ধান্ত ও একটি কাল নির্ধারিত হয়ে না থাকতো, তবে আশু শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হতো।
فَاصْبِرْ عَلٰی مَا یَقُوْلُوْنَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا ۚ— وَمِنْ اٰنَآئِ الَّیْلِ فَسَبِّحْ وَاَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضٰی ۟
সুতরাং (হে রাসূল!) এরা যা বলে তার ওপর ধৈর্য ধর এবং তাসবীহ পাঠ কর তোমার রবের প্রশংসা জানিয়ে, সূর্যোদয়ের পূর্বে (ফজরের সালাতে), সূর্যাস্তের পূর্বে (আসরের সালাতে), রাতের কিছু অংশে (‘ইশার সালাতে) এবং দিনের প্রান্তসমূহে (যোহর ও মাগরিবের সালাতে), যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো।
وَلَا تَمُدَّنَّ عَیْنَیْكَ اِلٰی مَا مَتَّعْنَا بِهٖۤ اَزْوَاجًا مِّنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۙ۬— لِنَفْتِنَهُمْ فِیْهِ ؕ— وَرِزْقُ رَبِّكَ خَیْرٌ وَّاَبْقٰی ۟
আর (হে রাসূল!) তুমি কখনো প্রসারিত করো না তোমার দু’চোখ সে সবের প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি। যাতে আমি সে বিষয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করে নিতে পারি। আর তোমার রবের প্রদত্ত রিযক সর্বোৎকৃষ্ট ও অধিকতর স্থায়ী।
وَاْمُرْ اَهْلَكَ بِالصَّلٰوةِ وَاصْطَبِرْ عَلَیْهَا ؕ— لَا نَسْـَٔلُكَ رِزْقًا ؕ— نَحْنُ نَرْزُقُكَ ؕ— وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوٰی ۟
আর (হে রাসূল! তুমি) তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে (তোমার নিজের জন্য অথবা অন্য কারো জন্য) কোনো রিযক চাই না। আমিই তোমাকে রিযক দেই। আর (দুনিয়া ও আখিরাতের) উত্তম পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।
وَقَالُوْا لَوْلَا یَاْتِیْنَا بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ— اَوَلَمْ تَاْتِهِمْ بَیِّنَةُ مَا فِی الصُّحُفِ الْاُوْلٰی ۟
আর তারা বলে: ‘সে (মুহাম্মাদ) তার রবের কাছ থেকে আমাদের নিকট (তাঁর সত্যতা ও রাসূল হওয়া প্রমাণস্বরূপ) কোনো নিদর্শন নিয়ে আসে না কেনো?’ পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে যে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তা কি তাদের কাছে আসেনি?
وَلَوْ اَنَّاۤ اَهْلَكْنٰهُمْ بِعَذَابٍ مِّنْ قَبْلِهٖ لَقَالُوْا رَبَّنَا لَوْلَاۤ اَرْسَلْتَ اِلَیْنَا رَسُوْلًا فَنَتَّبِعَ اٰیٰتِكَ مِنْ قَبْلِ اَنْ نَّذِلَّ وَنَخْزٰی ۟
আর যদি আমি তাদেরকে ইতঃপূর্বে (রাসূল ও কিতাব পাঠানোর আগেই) কোনো শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলতো: ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদের কাছে কোনো রাসূল পাঠালেন না কেনো? তাহলে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার পূর্বে, আপনার নিদর্শনাবলি অনুসরণ করতাম।’
قُلْ كُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوْا ۚ— فَسَتَعْلَمُوْنَ مَنْ اَصْحٰبُ الصِّرَاطِ السَّوِیِّ وَمَنِ اهْتَدٰی ۟۠
(হে রাসূল! তুমি এ মিথ্যারোপকারীদেরকে) বলো: ‘প্রত্যেকেই (আল্লাহর ফায়সালার জন্য) প্রতীক্ষা করছে। অতএব তোমরাও প্রতীক্ষায় থাকো। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কারা সঠিক পথের ওপর রয়েছে এবং কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।’
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time