طٰسٓ ۫— تِلْكَ اٰیٰتُ الْقُرْاٰنِ وَكِتَابٍ مُّبِیْنٍ ۟ۙ
ত্বা-সীন; এগুলো আল-কুরআন ও সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
The Ant · 93 আয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
طٰسٓ ۫— تِلْكَ اٰیٰتُ الْقُرْاٰنِ وَكِتَابٍ مُّبِیْنٍ ۟ۙ
ত্বা-সীন; এগুলো আল-কুরআন ও সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
هُدًی وَّبُشْرٰی لِلْمُؤْمِنِیْنَ ۟ۙ
মু’মিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ।
الَّذِیْنَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَیُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَهُمْ بِالْاٰخِرَةِ هُمْ یُوْقِنُوْنَ ۟
যারা সালাত কায়িম করে এবং যাকাত দেয়। আর তারাই আখিরাতের প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।
اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ زَیَّنَّا لَهُمْ اَعْمَالَهُمْ فَهُمْ یَعْمَهُوْنَ ۟ؕ
নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের জন্য তাদের আমলসমূহকে সুশোভিত করে দিয়েছি। ফলে তারা (নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাঝে) বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ لَهُمْ سُوْٓءُ الْعَذَابِ وَهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ هُمُ الْاَخْسَرُوْنَ ۟
এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি; আর আখিরাতে তারাই হবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।
وَاِنَّكَ لَتُلَقَّی الْقُرْاٰنَ مِنْ لَّدُنْ حَكِیْمٍ عَلِیْمٍ ۟
আর (হে রাসূল!) নিশ্চয় তুমি প্রজ্ঞাময় মহাজ্ঞানী (আল্লাহ) এর পক্ষ থেকে আল কুরআন প্রাপ্ত।
اِذْ قَالَ مُوْسٰی لِاَهْلِهٖۤ اِنِّیْۤ اٰنَسْتُ نَارًا ؕ— سَاٰتِیْكُمْ مِّنْهَا بِخَبَرٍ اَوْ اٰتِیْكُمْ بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُوْنَ ۟
যখন মূসা তাঁর পরিবারকে বললেন, ‘নিশ্চয় আমি এক আগুন দেখেছি; আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোনো সংবাদ নিয়ে আসব, অথবা একটি জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব, যাতে তোমরা উষ্ণতা লাভ করতে পারো।’
فَلَمَّا جَآءَهَا نُوْدِیَ اَنْ بُوْرِكَ مَنْ فِی النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا ؕ— وَسُبْحٰنَ اللّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟
অতঃপর সে যখন আগুনের নিকট এসে পৌঁছল, তখন ডেকে বলা হলো: ‘বরকতময়, যা এ আলোর মধ্যে ও এর চারপাশে আছে।(১) আর সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ মহাপবিত্র।’
یٰمُوْسٰۤی اِنَّهٗۤ اَنَا اللّٰهُ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟ۙ
মূসা! নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
وَاَلْقِ عَصَاكَ ؕ— فَلَمَّا رَاٰهَا تَهْتَزُّ كَاَنَّهَا جَآنٌّ وَّلّٰی مُدْبِرًا وَّلَمْ یُعَقِّبْ ؕ— یٰمُوْسٰی لَا تَخَفْ ۫— اِنِّیْ لَا یَخَافُ لَدَیَّ الْمُرْسَلُوْنَ ۟ۗۖ
আর তুমি তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ করো । তারপর যখন সে ওটাকে সাপের মতো ছোটাছুটি করতে দেখলো, তখন (ভয় পেয়ে ) সে পেছনের দিকে ছুটতে লাগলো এবং পেছনে ফিরেও তাকালো না। (তখন বলা হলো,) ‘হে মূসা! তুমি ভয় করো না। নিশ্চয় আমার কাছে রাসূলগণ (সাপ বা অন্য কিছু দেখে) ভয় পায় না।’
اِلَّا مَنْ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوْٓءٍ فَاِنِّیْ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟
‘তবে যে (নিজের ওপর) যলুম করে, তারপর অসৎকাজের পরিবর্তে সৎকাজ করে, তবে (সে জেনে রাখুক) অবশ্যই আমি (তাদের প্রতি) অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
وَاَدْخِلْ یَدَكَ فِیْ جَیْبِكَ تَخْرُجْ بَیْضَآءَ مِنْ غَیْرِ سُوْٓءٍ ۫— فِیْ تِسْعِ اٰیٰتٍ اِلٰی فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهٖ ؕ— اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا فٰسِقِیْنَ ۟
‘আর তুমি তোমার হাত (জামার গলার ফাঁকা দিয়ে) বগলে প্রবেশ করাও, তা কোন দোষ বা অনিষ্ট ব্যতীত (বরফের মতো) ধবধবে সাদা হয়ে বের হয়ে আসবে (যা কোন শ্বেত রোগ নয়), এগুলো ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে আনীত নয়টি নিদর্শনের(২) অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় তারা ছিল ফাসিক (আল্লাহর অস্বীকারকারী) সম্প্রদায়।’
فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ اٰیٰتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ ۟ۚ
তারপর যখন আমার নিদর্শনগুলো দৃশ্যমান হয়ে তাদের কাছে আসলো, তখন তারা (ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়) বললো: ‘এটা তো সুস্পষ্ট যাদু।’
وَجَحَدُوْا بِهَا وَاسْتَیْقَنَتْهَاۤ اَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَّعُلُوًّا ؕ— فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِیْنَ ۟۠
আর তারা যলুম ও দাম্ভিকতার সাথে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করলো; যদিও তাদের অন্তর তা (সত্য বলে) নিশ্চিত বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।
وَلَقَدْ اٰتَیْنَا دَاوٗدَ وَسُلَیْمٰنَ عِلْمًا ۚ— وَقَالَا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ فَضَّلَنَا عَلٰی كَثِیْرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟
আর অবশ্যই আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছি এবং তারা উভয়ে (আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ার্থে) বললো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, যিনি তাঁর অনেক মু’মিন বান্দাদের ওপর আমাদেরকে মর্যাদা দান করেছেন।’(৩)
وَوَرِثَ سُلَیْمٰنُ دَاوٗدَ وَقَالَ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّیْرِ وَاُوْتِیْنَا مِنْ كُلِّ شَیْءٍ ؕ— اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِیْنُ ۟
আর সুলাইমান দাঊদের উত্তরাধিকারী(৪) হলো এবং সে বললো: ‘হে মানুষ, আমাদেরকে পাখির ভাষা শেখানো হয়েছে এবং আমাদেরকে সকল কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’
وَحُشِرَ لِسُلَیْمٰنَ جُنُوْدُهٗ مِنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ وَالطَّیْرِ فَهُمْ یُوْزَعُوْنَ ۟
আর সুলাইমানের জন্য তার সেনাবাহিনী থেকে জিন, মানুষ ও পাখিদের সমবেত করা হলো। তারপর তাদেরকে (সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত করতে) বিভিন্ন দলে বিন্যস্ত করা হলো।
حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَوْا عَلٰی وَادِ النَّمْلِ ۙ— قَالَتْ نَمْلَةٌ یّٰۤاَیُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوْا مَسٰكِنَكُمْ ۚ— لَا یَحْطِمَنَّكُمْ سُلَیْمٰنُ وَجُنُوْدُهٗ ۙ— وَهُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟
অবশেষে যখন তারা পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছাল(৫), তখন এক পিঁপড়া বলল, ‘হে পিঁপড়ারা! তোমরা নিজেদের বাসায় প্রবেশ করো, যেন সুলাইমান ও তার সৈন্যবাহিনী অজান্তেই তোমাদের পিষে না ফেলে।’
فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِّنْ قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ اَوْزِعْنِیْۤ اَنْ اَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتَ عَلَیَّ وَعَلٰی وَالِدَیَّ وَاَنْ اَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضٰىهُ وَاَدْخِلْنِیْ بِرَحْمَتِكَ فِیْ عِبَادِكَ الصّٰلِحِیْنَ ۟
অতঃপর সুলাইমান তার কথায় মুচকি হাসলো এবং (তার রবকে ডেকে) বললো: ‘হে আমার রব, তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছো তার জন্য আমাকে তোমার শুকরিয়া আদায় করার তাওফীক দাও। আর আমি যাতে এমন সৎকাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো। আর তোমার অনুগ্রহে তুমি আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো।’
وَتَفَقَّدَ الطَّیْرَ فَقَالَ مَا لِیَ لَاۤ اَرَی الْهُدْهُدَ ۖؗ— اَمْ كَانَ مِنَ الْغَآىِٕبِیْنَ ۟
আর সুলাইমান পাখিদের খোঁজ-খবর খবর নিলো। তারপর (হুদহুদকে দেখতে না পেয়ে) সে বললো: ‘কী ব্যাপার, আমি হুদহুদকে দেখছি না; নাকি সে অনুপস্থিতদের অন্তর্ভুক্ত?’
لَاُعَذِّبَنَّهٗ عَذَابًا شَدِیْدًا اَوْ لَاَاذْبَحَنَّهٗۤ اَوْ لَیَاْتِیَنِّیْ بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ ۟
(তার অনুপস্থিতির ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হলে সুলাইমান বললো:) ‘অবশ্যই আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিবো অথবা তাকে যবহ করবো অথবা সে আমার কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসবে।’
فَمَكَثَ غَیْرَ بَعِیْدٍ فَقَالَ اَحَطْتُّ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهٖ وَجِئْتُكَ مِنْ سَبَاٍ بِنَبَاٍ یَّقِیْنٍ ۟
কিছুক্ষণ পরেই হুদহুদ উপস্থিত হয়ে (সুলাইমানকে ) বললো: ‘আমি এমন কিছু জানতে পেরেছি, যা আপনি জানতে পারেননি। আমি সাবা (রাজ্য) থেকে আপনার জন্য নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।’
اِنِّیْ وَجَدْتُّ امْرَاَةً تَمْلِكُهُمْ وَاُوْتِیَتْ مِنْ كُلِّ شَیْءٍ وَّلَهَا عَرْشٌ عَظِیْمٌ ۟
‘আমি এক নারীকে দেখতে পেলাম, সে তাদের ওপর রাজত্ব করছে। তাকে (শক্তি ও ক্ষমতার) সব কিছু দেওয়া হয়েছে। আর তার আছে এক বিশাল সিংহাসন।’
وَجَدْتُّهَا وَقَوْمَهَا یَسْجُدُوْنَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَزَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ فَهُمْ لَا یَهْتَدُوْنَ ۟ۙ
‘আমি তাকে ও তার জাতিকে দেখতে পেলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সাজদা করছে। আর শয়তান তাদের (শিরক ও গুনাহের) কার্যাবলীকে তাদের জন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত করেছে, ফলে তারা হিদায়াত পায় না।’
اَلَّا یَسْجُدُوْا لِلّٰهِ الَّذِیْ یُخْرِجُ الْخَبْءَ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَیَعْلَمُ مَا تُخْفُوْنَ وَمَا تُعْلِنُوْنَ ۟
(শয়তান তাদেরকে সৎ পথ থেকে ফিরিয়ে রেখেছে) যাতে তারা আল্লাহকে সাজদা না করে, যিনি আসমান ও জমিনের লুকায়িত বস্তুকে বের করেন। আর তোমরা যা গোপন করো এবং তোমরা যা প্রকাশ করো তিনি সবই জানেন।
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِیْمِ ۟
আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। তিনি মহান আরশের রব।
قَالَ سَنَنْظُرُ اَصَدَقْتَ اَمْ كُنْتَ مِنَ الْكٰذِبِیْنَ ۟
সুলাইমান (হুদহুদকে) বললো: ‘আমি দেখবো, তুমি কি সত্য বলেছো, নাকি তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।’
اِذْهَبْ بِّكِتٰبِیْ هٰذَا فَاَلْقِهْ اِلَیْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانْظُرْ مَاذَا یَرْجِعُوْنَ ۟
তুমি এই আমার পত্রটি নিয়ে যাও, তারপর তা তাদের কাছে নিক্ষেপ কর (পৌঁছে দাও)। এরপর তাদের থেকে সরে দাঁড়াও এবং লক্ষ্য করো, তারা কী জবাব দেয়।
قَالَتْ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَؤُا اِنِّیْۤ اُلْقِیَ اِلَیَّ كِتٰبٌ كَرِیْمٌ ۟
সে (রানি) বলল, ‘হে সভাসদগণ! আমার কাছে এক সম্মানিত পত্র নিক্ষিপ্ত (প্রেরিত) হয়েছে।’
اِنَّهٗ مِنْ سُلَیْمٰنَ وَاِنَّهٗ بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟ۙ
‘নিশ্চয় এটা সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা (শুরু করা হয়েছে) পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।’
اَلَّا تَعْلُوْا عَلَیَّ وَاْتُوْنِیْ مُسْلِمِیْنَ ۟۠
আমার বিরুদ্ধে উদ্ধত হয়ো না; আর আমার নিকট আনুগত্যশীল (মুসলিম) হয়ে উপস্থিত হও।
قَالَتْ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَؤُا اَفْتُوْنِیْ فِیْۤ اَمْرِیْ ۚ— مَا كُنْتُ قَاطِعَةً اَمْرًا حَتّٰی تَشْهَدُوْنِ ۟
সে (রানি) বলল, হে পরিষদবর্গ! আমার এ বিষয়ে তোমরা মতামত দাও; তোমাদের উপস্থিতি (ও পরামর্শ) ছাড়া আমি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।
قَالُوْا نَحْنُ اُولُوْا قُوَّةٍ وَّاُولُوْا بَاْسٍ شَدِیْدٍ ۙ۬— وَّالْاَمْرُ اِلَیْكِ فَانْظُرِیْ مَاذَا تَاْمُرِیْنَ ۟
তারা (পরিষদবর্গ) বললো: ‘আমরা শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা। আর সিদ্ধান্ত আপনার কাছেই। অতএব চিন্তা করে দেখুন, আপনি কী নির্দেশ দিবেন।’
قَالَتْ اِنَّ الْمُلُوْكَ اِذَا دَخَلُوْا قَرْیَةً اَفْسَدُوْهَا وَجَعَلُوْۤا اَعِزَّةَ اَهْلِهَاۤ اَذِلَّةً ۚ— وَكَذٰلِكَ یَفْعَلُوْنَ ۟
সে (রানি) বললো: ‘নিশ্চয় রাজা-বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে তখন (হত্যা, ছিনতাই ও লুটের মাধ্যমে) সেই জনপদকে বিপর্যস্ত করে এবং সেখানকার সম্মানিত অধিবাসীদেরকে অপদস্থ করে। আর তা-ই তারা করবে।’
وَاِنِّیْ مُرْسِلَةٌ اِلَیْهِمْ بِهَدِیَّةٍ فَنٰظِرَةٌ بِمَ یَرْجِعُ الْمُرْسَلُوْنَ ۟
‘বরং আমি তাদের কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, তারপর দেখি (আমার) দূতেরা কী (সংবাদ) নিয়ে ফিরে আসে।’
فَلَمَّا جَآءَ سُلَیْمٰنَ قَالَ اَتُمِدُّوْنَنِ بِمَالٍ ؗ— فَمَاۤ اٰتٰىنِ اللّٰهُ خَیْرٌ مِّمَّاۤ اٰتٰىكُمْ ۚ— بَلْ اَنْتُمْ بِهَدِیَّتِكُمْ تَفْرَحُوْنَ ۟
অতঃপর দূত যখন সুলাইমানের কাছে আসলো, তখন সুলাইমান (তাদেরকে) বললো: ‘তোমরা কি আমাকে সম্পদ দ্বারা সাহায্য করতে চাচ্ছো? সুতরাং আল্লাহ আমাকে যা (যে নবুওয়্যাত, ক্ষমতা ও সম্পদ) দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা থেকে উত্তম; (এসব উপঢৌকনে আমার কোন কাজ নেই) বরং তোমরা তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে খুশি হও।’
اِرْجِعْ اِلَیْهِمْ فَلَنَاْتِیَنَّهُمْ بِجُنُوْدٍ لَّا قِبَلَ لَهُمْ بِهَا وَلَنُخْرِجَنَّهُمْ مِّنْهَاۤ اَذِلَّةً وَّهُمْ صٰغِرُوْنَ ۟
‘তোমরা তাদের কাছে ফিরে যাও। তারপর আমি অবশ্যই তাদের কাছে এমন সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসবো যাদের মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আর (তারা আত্মসমর্পণ না করলে) আমি অবশ্যই তাদেরকে সেখান থেকে লাঞ্ছিত অবস্থায় বের করে দিবো, এবং (পরিণামে) তারা হবে অপদস্থ।’
قَالَ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَؤُا اَیُّكُمْ یَاْتِیْنِیْ بِعَرْشِهَا قَبْلَ اَنْ یَّاْتُوْنِیْ مُسْلِمِیْنَ ۟
সুলাইমান বললো: ‘হে পরিষদবর্গ, তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার (রানির) সিংহাসন আমার কাছে নিয়ে আসতে পারবে?’
قَالَ عِفْرِیْتٌ مِّنَ الْجِنِّ اَنَا اٰتِیْكَ بِهٖ قَبْلَ اَنْ تَقُوْمَ مِنْ مَّقَامِكَ ۚ— وَاِنِّیْ عَلَیْهِ لَقَوِیٌّ اَمِیْنٌ ۟
এক শক্তিশালী জিন উত্তরে বললো: ‘আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বেই আমি তা এনে দিবো। আমি নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে শক্তিমান, বিশ্বস্ত।’
قَالَ الَّذِیْ عِنْدَهٗ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتٰبِ اَنَا اٰتِیْكَ بِهٖ قَبْلَ اَنْ یَّرْتَدَّ اِلَیْكَ طَرْفُكَ ؕ— فَلَمَّا رَاٰهُ مُسْتَقِرًّا عِنْدَهٗ قَالَ هٰذَا مِنْ فَضْلِ رَبِّیْ ۫— لِیَبْلُوَنِیْۤ ءَاَشْكُرُ اَمْ اَكْفُرُ ؕ— وَمَنْ شَكَرَ فَاِنَّمَا یَشْكُرُ لِنَفْسِهٖ ۚ— وَمَنْ كَفَرَ فَاِنَّ رَبِّیْ غَنِیٌّ كَرِیْمٌ ۟
যার কাছে আল্লাহর কিতাবের এক বিশেষ জ্ঞান ছিল সে বললো: ‘আমি চোখের পলক পড়ার পূর্বেই সিংহাসনটি আপনার কাছে নিয়ে আসবো।’ অতঃপর যখন সুলাইমান তার সামনে (রানির সিংহাসনটি) স্থির দেখতে পেলো, তখন সে (আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে) বললো: ‘এটি আমার রবের অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না কি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আর যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তো তার নিজের কল্যাণেই তা করে, আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হবে, তবে নিশ্চয় আমার রব অভাবমুক্ত, অধিক দাতা।’
قَالَ نَكِّرُوْا لَهَا عَرْشَهَا نَنْظُرْ اَتَهْتَدِیْۤ اَمْ تَكُوْنُ مِنَ الَّذِیْنَ لَا یَهْتَدُوْنَ ۟
সুলাইমান বললো: ‘তোমরা তার সিংহাসনটির আকার-আকৃতি একটু পরিবর্তন করে দাও। দেখবো সে তার সিংহাসনটি চিনতে পারে, নাকি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে, যারা সঠিক পথের দিশা পায় না।’(৬)
فَلَمَّا جَآءَتْ قِیْلَ اَهٰكَذَا عَرْشُكِ ؕ— قَالَتْ كَاَنَّهٗ هُوَ ۚ— وَاُوْتِیْنَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِیْنَ ۟
অতঃপর যখন সে (রানি) আসলো, তখন তাকে বলা হলো: ‘এরূপই কি তোমার সিংহাসন?’ সে বললো: ‘এটি যেন সেটিই।’ আর (সুলাইমান) বললো: ‘আমাদেরকে ইতঃপূর্বেই (নবুওয়্যাতের) সঠিক জ্ঞান দান করা হয়েছিল এবং আমরা (আল্লাহর নিকট) আত্মসমর্পণ করেছিলাম।’(৭)
وَصَدَّهَا مَا كَانَتْ تَّعْبُدُ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ— اِنَّهَا كَانَتْ مِنْ قَوْمٍ كٰفِرِیْنَ ۟
আর সে আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত করত, তা-ই তাকে (সঠিক পথে আসা থেকে) বাধা দিয়েছিল। নিশ্চয়ই সে ছিল এক কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
قِیْلَ لَهَا ادْخُلِی الصَّرْحَ ۚ— فَلَمَّا رَاَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَّكَشَفَتْ عَنْ سَاقَیْهَا ؕ— قَالَ اِنَّهٗ صَرْحٌ مُّمَرَّدٌ مِّنْ قَوَارِیْرَ ؕ۬— قَالَتْ رَبِّ اِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ وَاَسْلَمْتُ مَعَ سُلَیْمٰنَ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟۠
(অতঃপর) তাকে (রানিকে) বলা হল: ‘তুমি প্রাসাদটিতে প্রবেশ করো।’ অতঃপর যখন সে তা দেখলো, সে তাকে এক গভীর জলাশয় ধারণা করলো এবং তার পায়ের গোছাদ্বয় খুলে ফেললো। সুলাইমান বললো: ‘এটি আসলে স্বচ্ছ কাঁচ-নির্মিত প্রাসাদ।’ সে বললো: ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি (এতো দিন তোমার সাথে অন্যের পূজা করে) আমার নিজের প্রতি যলুম করেছি। আমি এখন সুলাইমানের সাথে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।’
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَاۤ اِلٰی ثَمُوْدَ اَخَاهُمْ صٰلِحًا اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ فَاِذَا هُمْ فَرِیْقٰنِ یَخْتَصِمُوْنَ ۟
আর অবশ্যই আমি সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে (এ মর্মে) পাঠিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো। অতঃপর তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে বিতর্ক করছিল।
قَالَ یٰقَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُوْنَ بِالسَّیِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ ۚ— لَوْلَا تَسْتَغْفِرُوْنَ اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ ۟
সালিহ (তাদের) বলল: ‘হে আমার জাতি, তোমরা কল্যাণের (রহমতের) পূর্বে কেনো অকল্যাণকে (শাস্তিকে) ত্বরান্বিত করতে চাইছো? কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছো না, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পারো ?’
قَالُوا اطَّیَّرْنَا بِكَ وَبِمَنْ مَّعَكَ ؕ— قَالَ طٰٓىِٕرُكُمْ عِنْدَ اللّٰهِ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُوْنَ ۟
তারা বললো: ‘আমি তুমি ও তোমার সাথে যারা আছে তাদেরকে অশুভ মনে করছি।’ সে (সালিহ) বললো: ‘তোমাদের অশুভ আল্লাহর নিকট। বরং তোমরা এমন এক জাতি যাদেরকে (কল্যাণের বিস্তৃতি ও অকল্যাণ দিয়ে) পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
وَكَانَ فِی الْمَدِیْنَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ یُّفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ وَلَا یُصْلِحُوْنَ ۟
আর সেই (হিজর) শহরে ছিল নয়জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, যারা (কুফরী ও গুনাহর মাধমে) জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতো এবং সংস্কার-সংশোধনমূলক কিছু করতো না।
قَالُوْا تَقَاسَمُوْا بِاللّٰهِ لَنُبَیِّتَنَّهٗ وَاَهْلَهٗ ثُمَّ لَنَقُوْلَنَّ لِوَلِیِّهٖ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ اَهْلِهٖ وَاِنَّا لَصٰدِقُوْنَ ۟
তারা পরস্পর আল্লাহর কসম করে বলল: ‘আমরা অবশ্যই রাতের বেলায় তার (সালিহের) উপর ও তার পরিবারের উপর আক্রমণ করব, তারপর তার অভিভাবককে অবশ্যই বলব: ‘আমরা তার পরিবারের ধ্বংসের সময় উপস্থিত ছিলাম না এবং নিশ্চয়ই আমরা সত্যবাদী।’
وَمَكَرُوْا مَكْرًا وَّمَكَرْنَا مَكْرًا وَّهُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟
আর তারা (সালিহ ও তার মু’মিন অনুসারীদেরকে হত্যার) এক চক্রান্ত করলো এবং আমিও (কাফিরদেরকে ধ্বংস করার) কৌশল অবলম্বন করলাম; অথচ তারা উপলদ্ধিও করতে পারলো না।
فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ مَكْرِهِمْ ۙ— اَنَّا دَمَّرْنٰهُمْ وَقَوْمَهُمْ اَجْمَعِیْنَ ۟
অতএব দেখো, তাদের চক্রান্তের পরিণাম কীরূপ হয়েছিল। আমি তাদেরকে ও তাদের জাতির সকলকে (শাস্তির মাধ্যমে) মূলোৎপাটন করে দিয়েছি।
فَتِلْكَ بُیُوْتُهُمْ خَاوِیَةً بِمَا ظَلَمُوْا ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ ۟
সুতরাং (ছাদসমেত ধসে পড়া) ঐগুলো তাদের বাড়িঘর, যা তাদের যুলমের কারণে বিরান হয়ে আছে। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে সে জাতির জন্য যারা জ্ঞান রাখে।
وَاَنْجَیْنَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَكَانُوْا یَتَّقُوْنَ ۟
আর আমি মু’মিনদের মুক্তি দিলাম এবং তারা ছিল আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয়কারী।
وَلُوْطًا اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اَتَاْتُوْنَ الْفَاحِشَةَ وَاَنْتُمْ تُبْصِرُوْنَ ۟
আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো লূতের কথা, যখন সে তার জাতিকে বলেছিল, ‘তোমরা জেনে-শুনে প্রকাশ্যে কেন অশ্লীল কাজ (সমকামিতা) করছো?’
اَىِٕنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُوْنِ النِّسَآءِ ؕ— بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُوْنَ ۟
‘তোমরা কি যৌনতৃপ্তি নিবারণের জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছেই আসবে? বরং তোমরা এক মূর্খ জাতি।’
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْۤا اَخْرِجُوْۤا اٰلَ لُوْطٍ مِّنْ قَرْیَتِكُمْ ۚ— اِنَّهُمْ اُنَاسٌ یَّتَطَهَّرُوْنَ ۟
তখন তার জাতির একমাত্র জবাব এই ছিল যে, ‘লূতের পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। নিশ্চয় এরা এমন লোক, যারা (নাপাক ও অশ্লীল কাজ থেকে) পবিত্র থাকতে চায়।’
فَاَنْجَیْنٰهُ وَاَهْلَهٗۤ اِلَّا امْرَاَتَهٗ ؗ— قَدَّرْنٰهَا مِنَ الْغٰبِرِیْنَ ۟
অতএব আমি তাকে ও তার পরিবারকে মুক্তি দিলাম; তবে তার স্ত্রীকে ছাড়া। আমি তাকে ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম।
وَاَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ مَّطَرًا ۚ— فَسَآءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِیْنَ ۟۠
আর আমি তাদের ওপর মুষলধারে পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। (শাস্তির) ভয়-ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য কতইনা নিকৃষ্ট ছিল এই বৃষ্টি!
قُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ وَسَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِهِ الَّذِیْنَ اصْطَفٰی ؕ— ءٰٓاللّٰهُ خَیْرٌ اَمَّا یُشْرِكُوْنَ ۟
(হে রাসূল! তুমি আল্লাহর প্রশংসা করে) বলো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহরই। আর শান্তি তাঁর বান্দাদের প্রতি যাদের তিনি মনোনীত করেছেন।(৮) আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, না কি যাদের এরা শরীক করে তারা’?
اَمَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَاَنْزَلَ لَكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ— فَاَنْۢبَتْنَا بِهٖ حَدَآىِٕقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ ۚ— مَا كَانَ لَكُمْ اَنْ تُنْۢبِتُوْا شَجَرَهَا ؕ— ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ— بَلْ هُمْ قَوْمٌ یَّعْدِلُوْنَ ۟ؕ
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি আসমানসমূহ ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য তিনি আসমান থেকে (বৃষ্টির) পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম বাগান সৃষ্টি করি। এ বাগানগুলোর বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন একজাতি যারা শিরক করে।
اَمَّنْ جَعَلَ الْاَرْضَ قَرَارًا وَّجَعَلَ خِلٰلَهَاۤ اَنْهٰرًا وَّجَعَلَ لَهَا رَوَاسِیَ وَجَعَلَ بَیْنَ الْبَحْرَیْنِ حَاجِزًا ؕ— ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ— بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟ؕ
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি জমিনকে আবাসযোগ্য করেছেন এবং তার মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং (লবণাক্ত ও সুমিষ্ট পানির) দুই সাগরের মধ্যখানে সৃষ্টি করেছেন অন্তরায়। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
اَمَّنْ یُّجِیْبُ الْمُضْطَرَّ اِذَا دَعَاهُ وَیَكْشِفُ السُّوْٓءَ وَیَجْعَلُكُمْ خُلَفَآءَ الْاَرْضِ ؕ— ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ— قَلِیْلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَ ۟ؕ
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি নিরুপায় ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেন, যখন সে (বিপদের পড়ে) তাঁকে ডাকে এবং তিনি বিপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি বানান। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।
اَمَّنْ یَّهْدِیْكُمْ فِیْ ظُلُمٰتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَنْ یُّرْسِلُ الرِّیٰحَ بُشْرًاۢ بَیْنَ یَدَیْ رَحْمَتِهٖ ؕ— ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ— تَعٰلَی اللّٰهُ عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ۟ؕ
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি তোমাদেরকে (তারকা ও নিদর্শনাবলির মাধ্যমে) স্থলে ও সমুদ্রের (গভীর) অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি স্বীয় রহমতের (বৃষ্টি নাযিল হওয়ার) প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন ইলাহ আছে? তারা যা কিছু শরীক করে আল্লাহ তা থেকে ঊর্ধ্বে (পূত ও পবিত্র)।
اَمَّنْ یَّبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ وَمَنْ یَّرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ ؕ— ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ— قُلْ هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি (মাতৃগর্ভে) সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি মৃত্যুর পর তাকে আবারো জীবিত করবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও জমিন থেকে রিযক দান করেন। আল্লাহর সাথে কি কোনো ইলাহ আছে? (হে রাসূল! তুমি এ মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’
قُلْ لَّا یَعْلَمُ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ الْغَیْبَ اِلَّا اللّٰهُ ؕ— وَمَا یَشْعُرُوْنَ اَیَّانَ یُبْعَثُوْنَ ۟
(হে রাসূল!) বলো: ‘আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহে ও জমিনে যারা আছে তারা কেউ গায়িব জানে না। আর (প্রতিদানের জন্য কবর থেকে) কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে, তাও তারা অনুভব করতে পারে না।’
بَلِ ادّٰرَكَ عِلْمُهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ ۫— بَلْ هُمْ فِیْ شَكٍّ مِّنْهَا ۫— بَلْ هُمْ مِّنْهَا عَمُوْنَ ۟۠
বরং আখিরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়ে গেছে; মূলত তারা এ বিষয়ে সন্দেহে আছে; বরং তারা (তাদের দূরদৃষ্টি) এ ব্যাপারে (সম্পূর্ণ) অন্ধ।
وَقَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا ءَاِذَا كُنَّا تُرٰبًا وَّاٰبَآؤُنَاۤ اَىِٕنَّا لَمُخْرَجُوْنَ ۟
আর কাফিররা বলে: ‘আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষরা যখন মাটি হয়ে যাবো, তখনোও কি আমাদেরকে পুনরায় (জীবিত করে) বের করা করা হবে?’
لَقَدْ وُعِدْنَا هٰذَا نَحْنُ وَاٰبَآؤُنَا مِنْ قَبْلُ ۙ— اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ ۟
ইতঃপূর্বে আমাদেরকে ও আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে (পুনরুত্থানের) এ বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হয়েছিল(৯), ‘এটি প্রাচীন লোকদের উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।’
قُلْ سِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِیْنَ ۟
(হে রাসূল! তুমি পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদেরকে) বলো: ‘তোমরা জমিনে ভ্রমণ করে দেখো, কিরূপ পরিণতি হয়েছিল অপরাধীদের?’
وَلَا تَحْزَنْ عَلَیْهِمْ وَلَا تَكُنْ فِیْ ضَیْقٍ مِّمَّا یَمْكُرُوْنَ ۟
আর (হে রাসূল! মুশরিকদের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন) তাদের জন্য দুঃখ করো না এবং তারা যে ষড়যন্ত্র করে, তাতে মনক্ষুণ্ন হয়ো না।
وَیَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟
আর তারা বলে, ‘(শাস্তির) এই প্রতিশ্রুতি কবে (বাস্তবায়িত হবে বলো), যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’
قُلْ عَسٰۤی اَنْ یَّكُوْنَ رَدِفَ لَكُمْ بَعْضُ الَّذِیْ تَسْتَعْجِلُوْنَ ۟
(হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘আশা করা যায়, তোমরা (শাস্তি নাযিলের) যে বিষয় দ্রুত কামনা করছো, তা অতি নিকটে।’
وَاِنَّ رَبَّكَ لَذُوْ فَضْلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَشْكُرُوْنَ ۟
আর নিশ্চয় তোমার রব, মানুষের প্রতি অতি অনুগ্রহশীল(১০); কিন্তু তাদের অধিকাংশই (এ নি‘আমতের) কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।
وَاِنَّ رَبَّكَ لَیَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُوْرُهُمْ وَمَا یُعْلِنُوْنَ ۟
আর তোমার রব অবশ্যই জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে।
وَمَا مِنْ غَآىِٕبَةٍ فِی السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ اِلَّا فِیْ كِتٰبٍ مُّبِیْنٍ ۟
আর আসমান ও জমিনে এমন কোনো অদৃশ্য বিষয় নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফূযে) লিপিবদ্ধ নেই।
اِنَّ هٰذَا الْقُرْاٰنَ یَقُصُّ عَلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اَكْثَرَ الَّذِیْ هُمْ فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ۟
বানূ ইসরাঈল যে সব বিষয়ে মতভেদ করত, নিশ্চয় এ আল কুরআন তাদের কাছে তার অধিকাংশই বর্ণনা করে।
وَاِنَّهٗ لَهُدًی وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ ۟
আর নিশ্চয় এটি মু’মিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।
اِنَّ رَبَّكَ یَقْضِیْ بَیْنَهُمْ بِحُكْمِهٖ ۚ— وَهُوَ الْعَزِیْزُ الْعَلِیْمُ ۟ۚ
নিশ্চয় তোমার রব (কিয়ামতের দিন) নিজের ন্যায়বিচার-প্রজ্ঞা দ্বারা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।
فَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ— اِنَّكَ عَلَی الْحَقِّ الْمُبِیْنِ ۟
অতএব (হে রাসূল! তুমি সকল ব্যাপারে) আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো; কারণ তুমি সুস্পষ্ট সত্যের ওপর অধিষ্ঠিত আছো।
اِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتٰی وَلَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَآءَ اِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِیْنَ ۟
(হে রাসূল!) তুমি মৃতদের শুনাতে পারো না, আর বধিরদেরও আহ্বান শুনাতে পারো না, যখন তারা পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়।
وَمَاۤ اَنْتَ بِهٰدِی الْعُمْیِ عَنْ ضَلٰلَتِهِمْ ؕ— اِنْ تُسْمِعُ اِلَّا مَنْ یُّؤْمِنُ بِاٰیٰتِنَا فَهُمْ مُّسْلِمُوْنَ ۟
আর তুমি (সত্য দেখার ব্যাপারে) অন্ধদেরকে তাদের ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াতকারী নও। তুমি কেবল তাদেরকেই (হিদায়াতের ডাক) শোনাতে পারবে, যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, আর তারাই আত্মসমর্পণকারী।
وَاِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَیْهِمْ اَخْرَجْنَا لَهُمْ دَآبَّةً مِّنَ الْاَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ ۙ— اَنَّ النَّاسَ كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا لَا یُوْقِنُوْنَ ۟۠
আর যখন (কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে) তাদের ওপর ঘোষিত শাস্তি আসবে, তখন আমি জমিন থেকে একটি জন্তু (দাব্বাতুল আরদ)(১১) বের করব, যে তাদের সাথে কথা বলবে। কারণ মানুষ আমার আয়াতসমূহে সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখতো না।
وَیَوْمَ نَحْشُرُ مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّنْ یُّكَذِّبُ بِاٰیٰتِنَا فَهُمْ یُوْزَعُوْنَ ۟
আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো সেদিনের কথা, যেদিন আমি দলে দলে সমবেত করবো, প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একেকটি দলকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করতো। অতঃপর তাদেরকে (হিসাবের দিকে) হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْ قَالَ اَكَذَّبْتُمْ بِاٰیٰتِیْ وَلَمْ تُحِیْطُوْا بِهَا عِلْمًا اَمَّاذَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟
অবশেষে যখন তারা (আল্লাহর কাছে) উপস্থিত হবে, তখন তিনি বলবেন: ‘তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে, অথচ সেগুলোকে যথার্থভাবে বুঝে উঠতে পারনি? নাকি (এসবের ব্যাপারে) তোমরা কী করছিলে—(বিশ্বাস না অবিশ্বাস)?’(১২)
وَوَقَعَ الْقَوْلُ عَلَیْهِمْ بِمَا ظَلَمُوْا فَهُمْ لَا یَنْطِقُوْنَ ۟
আর যুলমের কারণে(১৩) তাদের ওপর ঘোষিত শাস্তি পতিত হবে, ফলে তারা (নিজেদের অক্ষমতা ও বাতিলের কারণে) কিছুই বলতে পারবে না।
اَلَمْ یَرَوْا اَنَّا جَعَلْنَا الَّیْلَ لِیَسْكُنُوْا فِیْهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟
তারা (এ পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা) কি দেখে না যে, আমি রাতকে সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং (তাদের কাজের প্রতি মনোনিবেশ করতে) দিনকে করেছি আলোকিত? নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলি রয়েছে সেই জাতির জন্য যারা ঈমান এনেছে।
وَیَوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ فَفَزِعَ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنْ فِی الْاَرْضِ اِلَّا مَنْ شَآءَ اللّٰهُ ؕ— وَكُلٌّ اَتَوْهُ دٰخِرِیْنَ ۟
আর যেদিন শিঙ্গায় (প্রথম বার) ফুঁক দেয়া হবে, সেদিন আসমানসমূহ ও জমিনে যারা আছে সবাই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে; তবে আল্লাহ যাদেরকে চাইবেন তারা ছাড়া। আর সেদিন সবাই তাঁর কাছে হীন-অনুগত অবস্থায় উপস্থিত হবে।
وَتَرَی الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَّهِیَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ؕ— صُنْعَ اللّٰهِ الَّذِیْۤ اَتْقَنَ كُلَّ شَیْءٍ ؕ— اِنَّهٗ خَبِیْرٌ بِمَا تَفْعَلُوْنَ ۟
আর তুমি পাহাড়গুলোকে দেখবে, তুমি সেগুলোকে স্থির মনে করবে, অথচ সেগুলো মেঘের মতো চলমান। এটি আল্লাহর নিপুণ সৃষ্টি, যিনি সবকিছুকে সুদৃঢ়ভাবে নির্মাণ করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে বিষয়ে তিনি সম্যক অবহিত।
مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهٗ خَیْرٌ مِّنْهَا ۚ— وَهُمْ مِّنْ فَزَعٍ یَّوْمَىِٕذٍ اٰمِنُوْنَ ۟
(কিয়ামতের দিন) যে ব্যক্তি (ঈমান ও) সৎকাজ নিয়ে আসবে, তার জন্য থাকবে, তা থেকে উত্তম প্রতিদান (জান্নাত) এবং তারা সেদিনের ভীতিকর অবস্থা থেকে নিরাপদ থাকবে।
وَمَنْ جَآءَ بِالسَّیِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوْهُهُمْ فِی النَّارِ ؕ— هَلْ تُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟
আর যারা মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (তাদেরকে বলা হবে:) ‘তোমরা কি তোমাদের কর্মেরই প্রতিফল ব্যতীত অন্য কিছু পাচ্ছ?’
اِنَّمَاۤ اُمِرْتُ اَنْ اَعْبُدَ رَبَّ هٰذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِیْ حَرَّمَهَا وَلَهٗ كُلُّ شَیْءٍ ؗ— وَّاُمِرْتُ اَنْ اَكُوْنَ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ ۟ۙ
(হে রাসূল! তুমি বলে দাও:) আমাকে কেবল এই নগরের রবের ইবাদত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যিনি একে সম্মানিত ও নিরাপদ করেছেন। আর সবকিছুর মালিকানা কেবল তাঁরই। আমাকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।
وَاَنْ اَتْلُوَا الْقُرْاٰنَ ۚ— فَمَنِ اهْتَدٰی فَاِنَّمَا یَهْتَدِیْ لِنَفْسِهٖ ۚ— وَمَنْ ضَلَّ فَقُلْ اِنَّمَاۤ اَنَا مِنَ الْمُنْذِرِیْنَ ۟
‘আর (আমাকে আরো আদেশ করা হয়েছে) আমি যেন আল কুরআন তিলাওয়াত করি। অতঃপর যে হিদায়াত লাভ করলো, সে নিজের জন্যই হিদায়াত লাভ করলো। আর যে পথভ্রষ্ট হলো তাকে তুমি বলো: ‘আমি তো (আল্লাহর শাস্তি থেকে) একজন সতর্ককারী মাত্র।’
وَقُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ سَیُرِیْكُمْ اٰیٰتِهٖ فَتَعْرِفُوْنَهَا ؕ— وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ ۟۠
আর (হে রাসূল! তুমি আল্লাহর নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করে) বলো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর; অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ(২০) দেখাবেন, তখন তোমরা তা চিনতে পারবে। আর তোমরা যা আমল করো, সে ব্যাপারে তোমাদের রব গাফিল নন।’
দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়