الٓمّٓ ۟ۚ
আলিফ-লাম-মীম।
The Spider · 69 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
الٓمّٓ ۟ۚ
আলিফ-লাম-মীম।
اَحَسِبَ النَّاسُ اَنْ یُّتْرَكُوْۤا اَنْ یَّقُوْلُوْۤا اٰمَنَّا وَهُمْ لَا یُفْتَنُوْنَ ۟
মানুষ কি মনে করে নিয়েছে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’, বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদেরকে (ঈমানের সত্যতার) পরীক্ষা করা হবে না?
وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَیَعْلَمَنَّ اللّٰهُ الَّذِیْنَ صَدَقُوْا وَلَیَعْلَمَنَّ الْكٰذِبِیْنَ ۟
আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নিবেন, কারা (ঈমানের ক্ষেত্রে) সত্য বলে এবং অবশ্যই তিনি জেনে নিবেন, কারা মিথ্যাবাদী।
اَمْ حَسِبَ الَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ السَّیِّاٰتِ اَنْ یَّسْبِقُوْنَا ؕ— سَآءَ مَا یَحْكُمُوْنَ ۟
নাকি যারা (শিরক ও অন্যান্য) পাপ কাজ করে তারা মনে করে নিয়েছে যে, তারা আমার আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে?(১) কতইনা নিকৃষ্ট, যা তারা ফয়সালা করে!
مَنْ كَانَ یَرْجُوْا لِقَآءَ اللّٰهِ فَاِنَّ اَجَلَ اللّٰهِ لَاٰتٍ ؕ— وَهُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۟
যে ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাক্ষাৎ কামনা করে (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয় আল্লাহর নির্ধারিত সময় আসবেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
وَمَنْ جٰهَدَ فَاِنَّمَا یُجَاهِدُ لِنَفْسِهٖ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَغَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ ۟
আর যে চেষ্টা করে সে তো তার নিজের জন্যই চেষ্টা করে। নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের ওপর অটল এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকতে এবং তাঁর রাস্তায় জিহাদ করতে প্রাণপণ চেষ্টা করে।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَلَنَجْزِیَنَّهُمْ اَحْسَنَ الَّذِیْ كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟
আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমি তাদের থেকে তাদের পাপসমূহ দূর করে দিবো এবং আমি অবশ্যই তাদের (দুনিয়ার) আমলের চেয়ে তাদেরকে (পরকালে) আরো উত্তম প্রতিদান দিবো।
وَوَصَّیْنَا الْاِنْسَانَ بِوَالِدَیْهِ حُسْنًا ؕ— وَاِنْ جٰهَدٰكَ لِتُشْرِكَ بِیْ مَا لَیْسَ لَكَ بِهٖ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ؕ— اِلَیَّ مَرْجِعُكُمْ فَاُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟
আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছুকে শরীক করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো ইলম নেই, তাহলে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না। আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন; অতঃপর আমি তোমাদের জানিয়ে দেব তোমরা যা করতে।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُدْخِلَنَّهُمْ فِی الصّٰلِحِیْنَ ۟
আর যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমি তাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করবো।
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ فَاِذَاۤ اُوْذِیَ فِی اللّٰهِ جَعَلَ فِتْنَةَ النَّاسِ كَعَذَابِ اللّٰهِ ؕ— وَلَىِٕنْ جَآءَ نَصْرٌ مِّنْ رَّبِّكَ لَیَقُوْلُنَّ اِنَّا كُنَّا مَعَكُمْ ؕ— اَوَلَیْسَ اللّٰهُ بِاَعْلَمَ بِمَا فِیْ صُدُوْرِ الْعٰلَمِیْنَ ۟
আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি’, অতঃপর যখন আল্লাহর পথে (ঈমানের ব্যাপারে) তাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়, তখন তারা মানুষের নিপীড়নকে আল্লাহর শাস্তির মতো মনে করে। আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে কোনো বিজয় আসে, তখন অবশ্যই তারা বলে, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে ছিলাম।’ সৃষ্টিকুলের অন্তরসমূহে যা কিছু আছে, আল্লাহ কি তা সম্পর্কে সম্যক অবগত নন?
وَلَیَعْلَمَنَّ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَلَیَعْلَمَنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ ۟
আর আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা ঈমান এনেছে এবং অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মুনাফিক।
وَقَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّبِعُوْا سَبِیْلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطٰیٰكُمْ ؕ— وَمَا هُمْ بِحٰمِلِیْنَ مِنْ خَطٰیٰهُمْ مِّنْ شَیْءٍ ؕ— اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ ۟
আর কাফিররা মুমিনদেরকে বলে: ‘তোমরা আমাদের পথ (ধর্ম) অনুসরণ করো। তাহলে আমরা তোমাদের গুনাহসমূহের বোঝা বহন করব।’ অথচ তারা তাদের গুনাহসমূহের কিছুই বহন করবে না। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
وَلَیَحْمِلُنَّ اَثْقَالَهُمْ وَاَثْقَالًا مَّعَ اَثْقَالِهِمْ ؗ— وَلَیُسْـَٔلُنَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ عَمَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ۟۠
আর অবশ্যই তারা বহন করবে, তাদের (পাপের)বোঝা এবং তাদের (পাপের) বোঝার সাথে আরো কিছু (অনুসারীদের পাপের) বোঝা। আর তারা কিয়ামতের দিন অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে সে সম্পর্কে, যা তারা মিথ্যা বানাতো।
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِهٖ فَلَبِثَ فِیْهِمْ اَلْفَ سَنَةٍ اِلَّا خَمْسِیْنَ عَامًا ؕ— فَاَخَذَهُمُ الطُّوْفَانُ وَهُمْ ظٰلِمُوْنَ ۟
আর আমি অবশ্যই নূহকে তার জাতির নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম এক হাজার (৯৫০) বছর অবস্থান করেছিলো। অতঃপর ( কুফরীর কারণে) মহা-প্লাবন তাদেরকে গ্রাস করলো, এমতাবস্থায় যে, তারা ছিলো যালিম।
فَاَنْجَیْنٰهُ وَاَصْحٰبَ السَّفِیْنَةِ وَجَعَلْنٰهَاۤ اٰیَةً لِّلْعٰلَمِیْنَ ۟
অতঃপর আমি তাকে এবং নৌকার সঙ্গীদেরকে উদ্ধার করলাম এবং সেটিকে সৃষ্টিকুলের জন্য একটি নিদর্শন বানালাম।
وَاِبْرٰهِیْمَ اِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَاتَّقُوْهُ ؕ— ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ۟
আর তুমি স্মরণ করো ইবরাহীমকে, যখন সে তার জাতিকে বলেছিল: ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং (আদেশ-নিষেধ মেনে) তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করো; এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।’
اِنَّمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَوْثَانًا وَّتَخْلُقُوْنَ اِفْكًا ؕ— اِنَّ الَّذِیْنَ تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ لَا یَمْلِكُوْنَ لَكُمْ رِزْقًا فَابْتَغُوْا عِنْدَ اللّٰهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوْهُ وَاشْكُرُوْا لَهٗ ؕ— اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۟
তোমরা তো আল্লাহ ছাড়া কেবল মূর্তিগুলোরই ইবাদত করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। নিশ্চয় তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত করো, তারা তোমাদের জন্য কোনো রিযিকের মালিক নয়। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছেই রিযিক তালাশ কর, তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। তাঁরই কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
وَاِنْ تُكَذِّبُوْا فَقَدْ كَذَّبَ اُمَمٌ مِّنْ قَبْلِكُمْ ؕ— وَمَا عَلَی الرَّسُوْلِ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ ۟
আর যদি তোমরা (মুহাম্মাদ-এর আনিত বিধানকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করো, তবে তোমাদের পূর্বে অনেক জাতিও (এ ভাবেই) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলো। মূলত রাসূলের ওপর দায়িত্ব তো কেবল আমার বাণী সুস্পষ্টভাবে পৌঁছানো।
اَوَلَمْ یَرَوْا كَیْفَ یُبْدِئُ اللّٰهُ الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ ؕ— اِنَّ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرٌ ۟
তারা কি দেখে না, আল্লাহ কীভাবে সৃষ্টিকে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, তারপর তিনি তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন? নিশ্চয় এটি আল্লাহর জন্য সহজ।
قُلْ سِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ بَدَاَ الْخَلْقَ ثُمَّ اللّٰهُ یُنْشِئُ النَّشْاَةَ الْاٰخِرَةَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ عَلٰى كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۟ۚ
তুমি (তাদেরকে) বলো: ‘তোমরা জমিনে ভ্রমণ করো এবং দেখো’ কীভাবে তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছিলেন, তারপর (মৃত্যুর পর) তিনিই দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
یُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ وَیَرْحَمُ مَنْ یَّشَآءُ ۚ— وَاِلَیْهِ تُقْلَبُوْنَ ۟
তিনি যাকে ইচ্ছা (ইনসাফের ভিত্তিতে) শাস্তি দিবেন এবং যাকে ইচ্ছা দয়া করবেন, আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
وَمَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ فِی الْاَرْضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ ؗ— وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیْرٍ ۟۠
আর তোমরা পৃথিবীতেও (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারবে না, আকাশেও না। আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সাহায্যকারীও নেই।
وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَلِقَآىِٕهٖۤ اُولٰٓىِٕكَ یَىِٕسُوْا مِنْ رَّحْمَتِیْ وَاُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟
আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ ও (কিয়ামত দিবসে) তাঁর সাক্ষাৎ অস্বীকার করে, তারাই আমার রহমত থেকে হতাশ হবে এবং তাদের জন্যই রয়েছে (জাহান্নামের) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوا اقْتُلُوْهُ اَوْ حَرِّقُوْهُ فَاَنْجٰىهُ اللّٰهُ مِنَ النَّارِ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟
অতঃপর ( তাওহীদের দাওয়াত দিলে) ইবরাহীমের জাতির জবাব শুধু এটাই ছিলো যে, তারা বললো: ‘ওকে তোমরা হত্যা করো অথবা জ্বালিয়ে দাও।’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা আগুন থেকে তাকে রক্ষা করলেন। নিশ্চয় এই ঘটনার মধ্যে বহু নিদর্শন রয়েছে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্যে।
وَقَالَ اِنَّمَا اتَّخَذْتُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَوْثَانًا ۙ— مَّوَدَّةَ بَیْنِكُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ— ثُمَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ یَكْفُرُ بَعْضُكُمْ بِبَعْضٍ وَّیَلْعَنُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ؗ— وَّمَاْوٰىكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ ۟ۗۖ
আর ইবরাহীম (তার সম্প্রদায়কে) বললো: ‘দুনিয়ার জীবনে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও পরিচয় রক্ষা করার জন্যই তো তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিদেরকে গ্রহণ করেছো। তারপর কিয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং পরস্পর পরস্পরকে লা‘নত করবে, আর তোমাদের আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম এবং (সেদিন) তোমাদের জন্য থাকবে না কোনো সাহায্যকারী।’
فَاٰمَنَ لَهٗ لُوْطٌ ۘ— وَقَالَ اِنِّیْ مُهَاجِرٌ اِلٰی رَبِّیْ ؕ— اِنَّهٗ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟
আর লূত তার (ইবরাহীমের)ওপর ঈমান আনলো। আর ইবরাহীম বললো: ‘আমি আমার রবের দিকে হিজরত করছি। নিশ্চয় তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
وَوَهَبْنَا لَهٗۤ اِسْحٰقَ وَیَعْقُوْبَ وَجَعَلْنَا فِیْ ذُرِّیَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتٰبَ وَاٰتَیْنٰهُ اَجْرَهٗ فِی الدُّنْیَا ۚ— وَاِنَّهٗ فِی الْاٰخِرَةِ لَمِنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟
আর আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করলাম এবং তার বংশধরদের মধ্যে নবুওয়াত ও কিতাব প্রদান করলাম। আর আমি তাকে দুনিয়াতে তার প্রতিদান দিয়েছিলাম এবং নিশ্চয় সে আখিরাতে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
وَلُوْطًا اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اِنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الْفَاحِشَةَ ؗ— مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ اَحَدٍ مِّنَ الْعٰلَمِیْنَ ۟
আর স্মরণ করো লূত- এর কথা, যখন সে তার জাতির লোকদেরকে বলেছিলো: ‘নিশ্চয় তোমরা এমন অশ্লীল (সমকামিতা) কাজ করো, যা সৃষ্টিকুলের কেউ তোমাদের আগে করেনি।’
اَىِٕنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُوْنَ السَّبِیْلَ ۙ۬— وَتَاْتُوْنَ فِیْ نَادِیْكُمُ الْمُنْكَرَ ؕ— فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوا ائْتِنَا بِعَذَابِ اللّٰهِ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟
তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য পুরুষদের কাছে গমন করছ, রাহাজানি করছ এবং নিজেদের মজলিসে প্রকাশ্য গর্হিত(২) কাজ করছ? জবাবে তার সম্প্রদায় কেবল বলল: ‘আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’
قَالَ رَبِّ انْصُرْنِیْ عَلَی الْقَوْمِ الْمُفْسِدِیْنَ ۟۠
সে বলল: ‘হে আমার রব! আমাকে এই (নিকৃষ্ট গুনাহের মাধ্যমে) বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করুন।’
وَلَمَّا جَآءَتْ رُسُلُنَاۤ اِبْرٰهِیْمَ بِالْبُشْرٰی ۙ— قَالُوْۤا اِنَّا مُهْلِكُوْۤا اَهْلِ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ ۚ— اِنَّ اَهْلَهَا كَانُوْا ظٰلِمِیْنَ ۟ۚۖ
আর আমার ফিরিশতারা যখন ইবরাহীমের কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল(৩) তখন তারা বলেছিলো: ‘নিশ্চয় আমরা এ (সাদূম) জনপদের অধিবাসীদেরকে ধ্বংস করবো। নিশ্চয় এর অধিবাসীরা যালিম।
قَالَ اِنَّ فِیْهَا لُوْطًا ؕ— قَالُوْا نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَنْ فِیْهَا ؗ— لَنُنَجِّیَنَّهٗ وَاَهْلَهٗۤ اِلَّا امْرَاَتَهٗ ؗ— كَانَتْ مِنَ الْغٰبِرِیْنَ ۟
ইবরাহীম বললো: ‘নিশ্চয় সেখানে লূত আছে।’ ফিরিশতাগণ বললো: ‘আমরা ভালো করেই জানি সেখানে কারা আছে। আমরা অবশ্যই তাকে ও তার পরিবারকে (ধ্বংস থেকে) রক্ষা করবো; তবে তার স্ত্রীকে নয়, সে হবে পিছনে পড়ে থাকা লোকদের একজন।’
وَلَمَّاۤ اَنْ جَآءَتْ رُسُلُنَا لُوْطًا سِیْٓءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَّقَالُوْا لَا تَخَفْ وَلَا تَحْزَنْ ۫— اِنَّا مُنَجُّوْكَ وَاَهْلَكَ اِلَّا امْرَاَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْغٰبِرِیْنَ ۟
আর যখন আমার ফিরিশতারা লূতের কাছে আসলো, তখন তাদের জন্যে সে চিন্তিত হয়ে পড়লো এবং তাদের রক্ষায় নিজেকে অক্ষম মনে করলো। আর ফিরিশতারা বললো: ‘আপনি ভয় পাবেন না এবং চিন্তিত হবেন না; আপনাকে ও আপনার পরিবারকে আমরা (ধ্বংস থেকে) রক্ষা করবো; তবে আপনার স্ত্রীকে নয়, সে হবে পিছনে পড়ে থাকা (ধ্বংসপ্রাপ্ত) লোকদের একজন।’
اِنَّا مُنْزِلُوْنَ عَلٰۤی اَهْلِ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ رِجْزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ ۟
নিশ্চয় আমরা এ জনপদবাসীর ওপর আসমান থেকে শাস্তি নাযিল করবো। কারণ তারা (সমকামীতার) পাপাচার করতো।
وَلَقَدْ تَّرَكْنَا مِنْهَاۤ اٰیَةً بَیِّنَةً لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ۟
আর অবশ্যই আমি (ধ্বংসপ্রাপ্ত) ঐ জনপদে সুস্পষ্ট নিদর্শন রেখে দিয়েছি বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য।
وَاِلٰی مَدْیَنَ اَخَاهُمْ شُعَیْبًا ۙ— فَقَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَارْجُوا الْیَوْمَ الْاٰخِرَ وَلَا تَعْثَوْا فِی الْاَرْضِ مُفْسِدِیْنَ ۟
আর আমি মাদইয়ানে পাঠিয়েছিলাম তাদের ভাই শু‘আইবকে। অতঃপর সে বললো: ‘হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, (তাঁর ইবাদাতের মাধ্যমে) শেষ দিবসের প্রতিদানের আশা করো এবং জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িও না।
فَكَذَّبُوْهُ فَاَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَاَصْبَحُوْا فِیْ دَارِهِمْ جٰثِمِیْنَ ۟ؗ
কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করলো; ফলে ভূমিকম্প তাদেরকে আক্রান্ত করলো। অতঃপর নিজেদের বাড়ি-ঘরেই তারা চেহারার উপর উপুড় হয়ে মরে রইলো।
وَعَادًا وَّثَمُوْدَاۡ وَقَدْ تَّبَیَّنَ لَكُمْ مِّنْ مَّسٰكِنِهِمْ ۫— وَزَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ وَكَانُوْا مُسْتَبْصِرِیْنَ ۟ۙ
আর ‘আদ ও সামূদ জাতিকেও (আমি ধ্বংস করেছি)। নিশ্চয়ই তাদের বসতভিটা(৪) থেকে তোমাদের জন্য তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। শয়তান তাদের কাজকর্মকে তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখিয়েছিল, ফলে সে তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বিরত রেখেছিল; অথচ তারা ছিল বোধশক্তিসম্পন্ন।
وَقَارُوْنَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامٰنَ ۫— وَلَقَدْ جَآءَهُمْ مُّوْسٰی بِالْبَیِّنٰتِ فَاسْتَكْبَرُوْا فِی الْاَرْضِ وَمَا كَانُوْا سٰبِقِیْنَ ۟ۚ
আর আমি কারূন, ফির‘আউন ও হামানকে (ধ্বংস করেছি)। অবশ্যই তাদের কাছে মূসা প্রমাণসহ এসেছিলো। অতঃপর তারা জমিনে অহংকার করেছিলো; এতৎসত্ত্বেও তারা আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি।
فَكُلًّا اَخَذْنَا بِذَنْۢبِهٖ ۚ— فَمِنْهُمْ مَّنْ اَرْسَلْنَا عَلَیْهِ حَاصِبًا ۚ— وَمِنْهُمْ مَّنْ اَخَذَتْهُ الصَّیْحَةُ ۚ— وَمِنْهُمْ مَّنْ خَسَفْنَا بِهِ الْاَرْضَ ۚ— وَمِنْهُمْ مَّنْ اَغْرَقْنَا ۚ— وَمَا كَانَ اللّٰهُ لِیَظْلِمَهُمْ وَلٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۟
অতঃপর প্রত্যেককেই আমি তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছিলাম। তাদের মধ্যে কাউকে আমি প্রেরণ করেছিলাম প্রস্তরবৃষ্টি(৫), কাউকে আঘাত করেছিল বিকট চিৎকার(৬), কাউকে আমি ভূগর্ভে ধসিয়ে দিয়েছিলাম(৭) এবং কাউকে আমি ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।(৮) আর আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল।
مَثَلُ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَوْلِیَآءَ كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوْتِ ۚ— اِتَّخَذَتْ بَیْتًا ؕ— وَاِنَّ اَوْهَنَ الْبُیُوْتِ لَبَیْتُ الْعَنْكَبُوْتِ ۘ— لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ ۟
যারা ( উপকার ও সুপারিশের আশায়) আল্লাহ ছাড়া বহু অভিভাবক গ্রহণ করে, তাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সার ন্যায়, যে (আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য) ঘর বানায়। অথচ মাকড়সার ঘরই সবচাইতে দুর্বল ঘর; যদি তারা জানতো।
اِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ مِنْ شَیْءٍ ؕ— وَهُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟
নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন তারা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে আহ্বান করে তাদের কোনোই অস্তিত্ব নেই (তারা কিছুই নয়)। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
وَتِلْكَ الْاَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ ۚ— وَمَا یَعْقِلُهَاۤ اِلَّا الْعٰلِمُوْنَ ۟
আর এসব দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্যই পেশ করে থাকি; কিন্তু জ্ঞানীরা ছাড়া কেউ তা বুঝে না।
خَلَقَ اللّٰهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ بِالْحَقِّ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّلْمُؤْمِنِیْنَ ۟۠
আল্লাহ যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে মু’মিনদের জন্য।
اُتْلُ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ مِنَ الْكِتٰبِ وَاَقِمِ الصَّلٰوةَ ؕ— اِنَّ الصَّلٰوةَ تَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَالْمُنْكَرِ ؕ— وَلَذِكْرُ اللّٰهِ اَكْبَرُ ؕ— وَاللّٰهُ یَعْلَمُ مَا تَصْنَعُوْنَ ۟
(হে রাসূল!) তোমার প্রতি যে কিতাব (আল কুরআন) ওয়াহী করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত করো এবং সালাত কায়িম করো। নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন, যা কিছু তোমরা করো।
وَلَا تُجَادِلُوْۤا اَهْلَ الْكِتٰبِ اِلَّا بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ ؗ— اِلَّا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْهُمْ وَقُوْلُوْۤا اٰمَنَّا بِالَّذِیْۤ اُنْزِلَ اِلَیْنَا وَاُنْزِلَ اِلَیْكُمْ وَاِلٰهُنَا وَاِلٰهُكُمْ وَاحِدٌ وَّنَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ ۟
তোমরা উত্তম (ও যুক্তিসঙ্গত ) পন্থা ছাড়া আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না; তবে তাদের মধ্যে যারা যুলম করেছে, তাদের কথা আলাদা। আর তোমরা (কিতাবীদেরকে) বলো: ‘আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তার প্রতি এবং আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো একই। আর আমরা তাঁরই সমীপে আত্মসমর্পণকারী।’
وَكَذٰلِكَ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ ؕ— فَالَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْكِتٰبَ یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ ۚ— وَمِنْ هٰۤؤُلَآءِ مَنْ یُّؤْمِنُ بِهٖ ؕ— وَمَا یَجْحَدُ بِاٰیٰتِنَاۤ اِلَّا الْكٰفِرُوْنَ ۟
আর এভাবেই আমি তোমার প্রতি কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি। অতএব, আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা এর প্রতি ঈমান রাখে(৯) এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ কেউ এর প্রতি ঈমান রাখে। আর কাফিররা ছাড়া আমার আয়াতসমূহকে কেউ অস্বীকার করে না।
وَمَا كُنْتَ تَتْلُوْا مِنْ قَبْلِهٖ مِنْ كِتٰبٍ وَّلَا تَخُطُّهٗ بِیَمِیْنِكَ اِذًا لَّارْتَابَ الْمُبْطِلُوْنَ ۟
আর এর পূর্বে তুমি কোনো কিতাব পাঠ করতে না এবং নিজ হাতে তা লিখতে না; (যদি তুমি এমন করতে) তবে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।
بَلْ هُوَ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ فِیْ صُدُوْرِ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ ؕ— وَمَا یَجْحَدُ بِاٰیٰتِنَاۤ اِلَّا الظّٰلِمُوْنَ ۟
বরং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে এটি একটি সুষ্পষ্ট নিদর্শন। আর যালিমরা ছাড়া আমার আয়াতসমূহকে কেউ অস্বীকার করে না।
وَقَالُوْا لَوْلَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْهِ اٰیٰتٌ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ— قُلْ اِنَّمَا الْاٰیٰتُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ— وَاِنَّمَاۤ اَنَا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ۟
আর তারা (মুশরিকরা) বলে: ‘তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে নিদর্শনসমূহ নাযিল করা হয় না কেনো?’ তুমি (তাদেরকে) বলো: ‘নিদর্শনসমূহ তো আল্লাহর কাছে রয়ছে। (১০) আর আমি তো কেবল একজন প্রকাশ্য সতর্ককারী।’
اَوَلَمْ یَكْفِهِمْ اَنَّاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْكَ الْكِتٰبَ یُتْلٰی عَلَیْهِمْ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَرَحْمَةً وَّذِكْرٰی لِقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟۠
এটা কি তাদের জন্য (নিদর্শন হিসেবে) যথেষ্ট নয় যে, নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যা তাদের নিকট তিলাওয়াত করা হয়? নিশ্চয় এর মধ্যে রহমত ও উপদেশ রয়েছে সেই জাতির জন্য, যারা ঈমান আনে।
قُلْ كَفٰی بِاللّٰهِ بَیْنِیْ وَبَیْنَكُمْ شَهِیْدًا ۚ— یَعْلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِالْبَاطِلِ وَكَفَرُوْا بِاللّٰهِ ۙ— اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ ۟
(হে রাসূল!) বলো: ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, তা তিনি জানেন। আর যারা বাতিলে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’
وَیَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالْعَذَابِ ؕ— وَلَوْلَاۤ اَجَلٌ مُّسَمًّی لَّجَآءَهُمُ الْعَذَابُ ؕ— وَلَیَاْتِیَنَّهُمْ بَغْتَةً وَّهُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟
আর তারা তোমাকে দ্রুত শাস্তি এনে দিতে বলে। যদি নির্ধারিত সময় না থাকতো, তবে তাদের ওপর অবশ্যই শাস্তি আসতো এবং তা আকস্মিকভাবে তাদের ওপর আসবেই; অথচ তারা টেরও পাবে না।
یَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالْعَذَابِ ؕ— وَاِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِیْطَةٌ بِالْكٰفِرِیْنَ ۟ۙ
তারা তোমাকে দ্রুত শাস্তি এনে দিতে বলে। আর নিশ্চয় জাহান্নাম কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করবে।
یَوْمَ یَغْشٰىهُمُ الْعَذَابُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَمِنْ تَحْتِ اَرْجُلِهِمْ وَیَقُوْلُ ذُوْقُوْا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟
যেদিন তাদের উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকেও শাস্তি তাদেরকে ঢেকে ফেলবে, আর আল্লাহ বলবেন: ‘তোমরা যা করতে, তারই স্বাদ গ্রহণ কর।’
یٰعِبَادِیَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنَّ اَرْضِیْ وَاسِعَةٌ فَاِیَّایَ فَاعْبُدُوْنِ ۟
হে আমার বান্দারা যারা ঈমান এনেছো, নিশ্চয় আমার জমিন প্রশস্ত(১১); সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত করো।
كُلُّ نَفْسٍ ذَآىِٕقَةُ الْمَوْتِ ۫— ثُمَّ اِلَیْنَا تُرْجَعُوْنَ ۟
প্রতিটি জীবকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُبَوِّئَنَّهُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ— نِعْمَ اَجْرُ الْعٰمِلِیْنَ ۟ۗۖ
আর যারা ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে, তাদেরকে অবশ্যই আমি জান্নাতে এমন অট্টালিকায় বসবাস করতে দিবো, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে।সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। কতইনা উত্তম আমলকারীদের প্রতিদান!
الَّذِیْنَ صَبَرُوْا وَعَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَ ۟
যারা ধৈর্যধারণ করে এবং তাদের রবের ওপরই তাওয়াক্কুল করে।
وَكَاَیِّنْ مِّنْ دَآبَّةٍ لَّا تَحْمِلُ رِزْقَهَا ۖۗؗ— اَللّٰهُ یَرْزُقُهَا وَاِیَّاكُمْ ۖؗ— وَهُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۟
আর (একটু ভেবে দেখো) এমন কত জীব-জন্তু তো এমন রয়েছে, যারা নিজেদের রিযক নিজেরা সঞ্চয় করে না। আল্লাহই তাদের রিযক দেন এবং তোমাদেরকেও। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।
وَلَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ ۚ— فَاَنّٰی یُؤْفَكُوْنَ ۟
আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করোঃ ‘কে আসমানসমূহ ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন এবং চাঁদ ও সূর্যকে (তোমাদের জন্যে) নিয়োজিত করেছেন?’ তারা অবশ্যই বলবে: ‘আল্লাহ’। তাহলে (এক আল্লাহকে বাদ দিয়ে) কোথায় তাদের ফিরানো হচ্ছে?
اَللّٰهُ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ وَیَقْدِرُ لَهٗ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ ۟
তিনি আল্লাহ, যিনি (তাঁর হিকমত অনুযায়ী) তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযক প্রশস্ত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছা সংকীর্ণ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।
وَلَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ نَّزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحْیَا بِهِ الْاَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ ؕ— قُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ ؕ— بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْقِلُوْنَ ۟۠
আর (হে রাসূল!) তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, ‘কে আসমান থেকে (বৃষ্টির) পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা জমিনকে তার মৃত্যুর (শুকিয়ে যাওয়ার) পর সঞ্জীবিত করেন?’ তবে তারা অবশ্যই বলবে: ‘আল্লাহ’। (হে মুহাম্মাদ! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর।’ কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বুঝে না।
وَمَا هٰذِهِ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا لَهْوٌ وَّلَعِبٌ ؕ— وَاِنَّ الدَّارَ الْاٰخِرَةَ لَهِیَ الْحَیَوَانُ ۘ— لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ ۟
আর এ দুনিয়ার জীবন বিনোদন ও খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং নিশ্চয় আখিরাতের নিবাসই হলো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানতো।
فَاِذَا رَكِبُوْا فِی الْفُلْكِ دَعَوُا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ۚ۬— فَلَمَّا نَجّٰىهُمْ اِلَی الْبَرِّ اِذَا هُمْ یُشْرِكُوْنَ ۟ۙ
অতঃপর যখন তারা নৌকায় আরোহন করে, তখন তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে; কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে স্থলে পৌঁছে দেন, তখনই তারা শিরকে লিপ্ত হয়।
لِیَكْفُرُوْا بِمَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ ۙۚ— وَلِیَتَمَتَّعُوْا ۥ— فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ ۟
যাতে আমি তাদেরকে যা (যে নি‘আমত) দিয়েছি, তারা তা অস্বীকার করে এবং (পার্থিব) ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে। অতঃপর শীঘ্রই তারা (এর পরিণাম) জানতে পারবে।
اَوَلَمْ یَرَوْا اَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا اٰمِنًا وَّیُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ ؕ— اَفَبِالْبَاطِلِ یُؤْمِنُوْنَ وَبِنِعْمَةِ اللّٰهِ یَكْفُرُوْنَ ۟
তারা কি দেখে না যে, আমি ‘হারাম’ (মক্কা) কে নিরাপদ স্থান বানিয়েছি; অথচ তাদের আশ পাশ থেকে মানুষদেরকে ছিনিয়ে নেয়া হয়?(১২) এরপরও কি তারা বাতিলকেই (ভ্রান্ত দেবতার উপরই) বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ كَذَّبَ بِالْحَقِّ لَمَّا جَآءَهٗ ؕ— اَلَیْسَ فِیْ جَهَنَّمَ مَثْوًی لِّلْكٰفِرِیْنَ ۟
আর সে ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নিকট সত্য আসার পরও তা অস্বীকার করে? আর জাহান্নামই কি কাফিরদের উপযুক্ত আবাসস্থল নয়?
وَالَّذِیْنَ جٰهَدُوْا فِیْنَا لَنَهْدِیَنَّهُمْ سُبُلَنَا ؕ— وَاِنَّ اللّٰهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِیْنَ ۟۠
আর যারা আমার পথে সাধনা ও সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ (হিদায়াত, সাহায্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে) সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time