KarbarX
বাংলা Free trial

30. Ar-Room الروم

The Romans · 60 ayahs

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟

30:1

الٓمّٓ ۟ۚ

আলিফ-লাম-মীম।

30:2

غُلِبَتِ الرُّوْمُ ۟ۙ

(পারস্য কর্তৃক) রোমানরা পরাজিত হয়েছে।

30:3

فِیْۤ اَدْنَی الْاَرْضِ وَهُمْ مِّنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَیَغْلِبُوْنَ ۟ۙ

নিকটবর্তী অঞ্চলে (সিরিয়ায়), কিন্তু তারা তাদের এ পরাজয়ের পর অচিরেই বিজয় লাভ করবে,

30:4

فِیْ بِضْعِ سِنِیْنَ ؕ۬— لِلّٰهِ الْاَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ ؕ— وَیَوْمَىِٕذٍ یَّفْرَحُ الْمُؤْمِنُوْنَ ۟ۙ

কয়েক বছরের মধ্যেই(১)। (এ ঘটনার) পূর্বের ও পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই। আর (রোমকদের বিজয়ে) সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে,

30:5

بِنَصْرِ اللّٰهِ ؕ— یَنْصُرُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ— وَهُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۟ۙ

আল্লাহর সাহায্যে।(২) তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

30:6

وَعْدَ اللّٰهِ ؕ— لَا یُخْلِفُ اللّٰهُ وَعْدَهٗ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟

এটা আল্লাহর ওয়াদা। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।

30:7

یَعْلَمُوْنَ ظَاهِرًا مِّنَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۖۚ— وَهُمْ عَنِ الْاٰخِرَةِ هُمْ غٰفِلُوْنَ ۟

তারা দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, আর আখিরাত সম্পর্কে তারা গাফিল।(৩)

30:8

اَوَلَمْ یَتَفَكَّرُوْا فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ ۫— مَا خَلَقَ اللّٰهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَمَا بَیْنَهُمَاۤ اِلَّا بِالْحَقِّ وَاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ— وَاِنَّ كَثِیْرًا مِّنَ النَّاسِ بِلِقَآئِ رَبِّهِمْ لَكٰفِرُوْنَ ۟

তারা কি নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে না, আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিন এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সব কিছুই যথাযথভাবে ও এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন? আর নিশ্চয় বহু লোক (কিয়ামত দিবসে) তাদের রবের সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।

30:9

اَوَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ— كَانُوْۤا اَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَّاَثَارُوا الْاَرْضَ وَعَمَرُوْهَاۤ اَكْثَرَ مِمَّا عَمَرُوْهَا وَجَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ ؕ— فَمَا كَانَ اللّٰهُ لِیَظْلِمَهُمْ وَلٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۟ؕ

তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি, যাতে দেখে নিতে পারে তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল? তারা তো এদের চেয়ে শক্তিতে ছিল অধিক; তারা জমিন চাষ করেছে এবং তা এদের চেয়ে বেশি আবাদ করেছে। তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছিলেন। ফলে আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেননি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করতো।

30:10

ثُمَّ كَانَ عَاقِبَةَ الَّذِیْنَ اَسَآءُوا السُّوْٓاٰۤی اَنْ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَكَانُوْا بِهَا یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟۠

তারপর যারা (শিরক ও পাপের মাধ্যমে) মন্দ কাজ করেছিলো তাদের পরিণামও মন্দ হয়েছিলো। কারণ তারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছিলো এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো।

30:11

اَللّٰهُ یَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ ثُمَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۟

আল্লাহ ( পূর্ব নমুনা ছাড়াই ) সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই তার পুনরাবৃত্তি করবেন। তারপর তাঁর কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

30:12

وَیَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ یُبْلِسُ الْمُجْرِمُوْنَ ۟

আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা (আল্লাহর রহমত থেকে) হতাশ হয়ে পড়বে।

30:13

وَلَمْ یَكُنْ لَّهُمْ مِّنْ شُرَكَآىِٕهِمْ شُفَعٰٓؤُا وَكَانُوْا بِشُرَكَآىِٕهِمْ كٰفِرِیْنَ ۟

আর তাদের শরীকরা তাদের জন্য সুপারিশকারী হবে না এবং তারা তাদের শরীকদেরকে (উপাস্যগুলোকে) অস্বীকার করবে।

30:14

وَیَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ یَوْمَىِٕذٍ یَّتَفَرَّقُوْنَ ۟

আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন তারা (আমলের ভিন্নতার দরুন বিভিন্ন দলে) বিভক্ত হয়ে পড়বে।

30:15

فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّلِحٰتِ فَهُمْ فِیْ رَوْضَةٍ یُّحْبَرُوْنَ ۟

অতএব যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা (সেদিন) জান্নাতের বাগিচায় আনন্দ উৎফুল্লে থাকবে।

30:16

وَاَمَّا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَكَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَلِقَآئِ الْاٰخِرَةِ فَاُولٰٓىِٕكَ فِی الْعَذَابِ مُحْضَرُوْنَ ۟

পক্ষান্তরে যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে ও আখিরাতের সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে, তাদেরকে (জাহান্নামের ভয়াবহ) শাস্তির মধ্যে উপস্থিত করা হবে।

30:17

فَسُبْحٰنَ اللّٰهِ حِیْنَ تُمْسُوْنَ وَحِیْنَ تُصْبِحُوْنَ ۟

কাজেই তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে এবং সকালে উঠবে।(৪)

30:18

وَلَهُ الْحَمْدُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَعَشِیًّا وَّحِیْنَ تُظْهِرُوْنَ ۟

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা; আর সন্ধ্যাকালে (আসরের সময়) এবং যখন তোমরা (যোহরের সময়) মধ্যাহ্নে উপনীত হও (তখনও তাঁরই প্রশংসা)।

30:19

یُخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَیُخْرِجُ الْمَیِّتَ مِنَ الْحَیِّ وَیُحْیِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ— وَكَذٰلِكَ تُخْرَجُوْنَ ۟۠

তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন।(৫) আর তিনি জমিনকে জীবিত (সজীব) করেন তার মৃত্যুর (শুকিয়ে যাওয়ার) পর। আর এভাবেই তোমাদেরকে (মাটির নিচ থেকে ) বের করা হবে।

30:20

وَمِنْ اٰیٰتِهٖۤ اَنْ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ اِذَاۤ اَنْتُمْ بَشَرٌ تَنْتَشِرُوْنَ ۟

আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন; তারপর হঠাৎই তোমরা মানুষ হয়ে (বংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে) সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছ।

30:21

وَمِنْ اٰیٰتِهٖۤ اَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوْۤا اِلَیْهَا وَجَعَلَ بَیْنَكُمْ مَّوَدَّةً وَّرَحْمَةً ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ ۟

আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে জাতির জন্য, যারা চিন্তা করে।

30:22

وَمِنْ اٰیٰتِهٖ خَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافُ اَلْسِنَتِكُمْ وَاَلْوَانِكُمْ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّلْعٰلِمِیْنَ ۟

আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও তোমাদের বর্ণের ভিন্নতা। নিশ্চয় এর মধ্যে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।

30:23

وَمِنْ اٰیٰتِهٖ مَنَامُكُمْ بِالَّیْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَآؤُكُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّسْمَعُوْنَ ۟

আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে জাতির জন্য যারা (উপদেশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে) শোনে।

30:24

وَمِنْ اٰیٰتِهٖ یُرِیْكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَّطَمَعًا وَّیُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَیُحْیٖ بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ۟

আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে তিনি তোমাদেরকে ভয় ও আশার সঞ্চারকরূপে বিদ্যুৎচমক দেখান, আর আসমান থেকে (বৃষ্টির) পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা জমিনকে তার মৃত্যুর (শুকিয়ে যাওয়ার) পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে বোধশক্তিসম্পন্ন জাতির জন্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে।(৬)

30:25

وَمِنْ اٰیٰتِهٖۤ اَنْ تَقُوْمَ السَّمَآءُ وَالْاَرْضُ بِاَمْرِهٖ ؕ— ثُمَّ اِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً ۖۗ— مِّنَ الْاَرْضِ اِذَاۤ اَنْتُمْ تَخْرُجُوْنَ ۟

আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তাঁর আদেশেই আকাশ ও পৃথিবী স্থিত রয়েছে; তারপর তিনি যখন তোমাদেরকে পৃথিবী থেকে একবার আহ্বান করবেন, তখনই তোমরা (কবর থেকে) বেরিয়ে আসবে।

30:26

وَلَهٗ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— كُلٌّ لَّهٗ قٰنِتُوْنَ ۟

আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। সবকিছু তাঁরই অনুগত।

30:27

وَهُوَ الَّذِیْ یَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ وَهُوَ اَهْوَنُ عَلَیْهِ ؕ— وَلَهُ الْمَثَلُ الْاَعْلٰى فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ۚ— وَهُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟۠

আর তিনিই সৃষ্টিকে প্রথমবার শুরু করেন, তারপর তিনি তা পুনরায় ফিরিয়ে আনেন; আর এটি তাঁর জন্য আরও সহজ। আর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ উপমা (গুণাবলি) তাঁরই জন্য। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

30:28

ضَرَبَ لَكُمْ مَّثَلًا مِّنْ اَنْفُسِكُمْ ؕ— هَلْ لَّكُمْ مِّنْ مَّا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ مِّنْ شُرَكَآءَ فِیْ مَا رَزَقْنٰكُمْ فَاَنْتُمْ فِیْهِ سَوَآءٌ تَخَافُوْنَهُمْ كَخِیْفَتِكُمْ اَنْفُسَكُمْ ؕ— كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ۟

তিনি তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য একটি উপমা পেশ করেন। আমি তোমাদের যে জীবিকা দান করেছি, তাতে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের মধ্যে কি কেউ অংশীদার আছে, ফলে তোমরা ও তারা এতে সমান হয়ে যাও এবং তোমরা তাদেরকে তেমনই ভয় কর যেমন নিজেদের সমপর্যায়ের লোককে ভয় কর?(৭) এভাবেই আমি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি এমন জাতির জন্য যারা চিন্তা করে।

30:29

بَلِ اتَّبَعَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْۤا اَهْوَآءَهُمْ بِغَیْرِ عِلْمٍ ۚ— فَمَنْ یَّهْدِیْ مَنْ اَضَلَّ اللّٰهُ ؕ— وَمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ ۟

বরং যালিমরা কোনো জ্ঞান ছাড়া নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। অতএব, আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাকে কে সৎপথে পরিচালিত করতে পারে? আর তাদের জন্য (আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করার) কোনো সাহায্যকারীও নেই।

30:30

فَاَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّیْنِ حَنِیْفًا ؕ— فِطْرَتَ اللّٰهِ الَّتِیْ فَطَرَ النَّاسَ عَلَیْهَا ؕ— لَا تَبْدِیْلَ لِخَلْقِ اللّٰهِ ؕ— ذٰلِكَ الدِّیْنُ الْقَیِّمُ ۙۗ— وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟ۗۙ

সুতরাং তুমি একনিষ্ঠ হয়ে তোমার মুখমণ্ডল (সমস্ত মনোযোগ) এই দীনের দিকে স্থির রাখো, একেবারে খাঁটি তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে। এটি আল্লাহর সেই স্বভাবগত দীন (ফিতরাত), যার ওপর তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত দীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।

30:31

مُنِیْبِیْنَ اِلَیْهِ وَاتَّقُوْهُ وَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَلَا تَكُوْنُوْا مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ ۟ۙ

তোমরা (তাওবা করে) তাঁর অভিমুখী হও এবং তাঁকে ভয় করো, সালাত কায়িম করো, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

30:32

مِنَ الَّذِیْنَ فَرَّقُوْا دِیْنَهُمْ وَكَانُوْا شِیَعًا ؕ— كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَیْهِمْ فَرِحُوْنَ ۟

তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না(৮)—যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়েছে; প্রত্যেক দলই নিজেদের কাছে যা আছে, তা নিয়েই আত্মতুষ্ট-উল্লসিত।

30:33

وَاِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرٌّ دَعَوْا رَبَّهُمْ مُّنِیْبِیْنَ اِلَیْهِ ثُمَّ اِذَاۤ اَذَاقَهُمْ مِّنْهُ رَحْمَةً اِذَا فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ بِرَبِّهِمْ یُشْرِكُوْنَ ۟ۙ

আর মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবের প্রতি বিনীতভাবে ফিরে এসে তাঁকে ডাকতে থাকে। তারপর যখন তিনি তাদের স্বীয় রহমত আস্বাদন করান (বিপদ সরিয়ে দেন), তখন তাদের মধ্যকার একটি দল তাদের রবের সাথে শরীক করে;

30:34

لِیَكْفُرُوْا بِمَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ ؕ— فَتَمَتَّعُوْا ۥ— فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ۟

ফলে আমি তাদের যা দিয়েছি তার প্রতি তারা অকৃতজ্ঞ হয়। সুতরাং তোমরা (দুনিয়াতে) ভোগ করে নাও; শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।(৯) (৯) মুশরিকরা কিয়ামতের দিন বিপদমুক্তির নিয়ামতের কুফরীর পরিণাম নিজ চোখে দেখতে পাবে।

30:35

اَمْ اَنْزَلْنَا عَلَیْهِمْ سُلْطٰنًا فَهُوَ یَتَكَلَّمُ بِمَا كَانُوْا بِهٖ یُشْرِكُوْنَ ۟

নাকি আমি তাদের উপর এমন কোনো প্রমাণ (কিতাব বা দলিল) নাযিল করেছি, যা তাদের সেই শিরকের পক্ষেই কথা বলে, যাতে তারা লিপ্ত ছিল?

30:36

وَاِذَاۤ اَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً فَرِحُوْا بِهَا ؕ— وَاِنْ تُصِبْهُمْ سَیِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْهِمْ اِذَا هُمْ یَقْنَطُوْنَ ۟

আর আমি যখন মানুষকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই তখন তারা তাতে আনন্দিত হয়। পক্ষান্তরে যদি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর অকল্যাণ পৌঁছে তখন তারা (আল্লাহর নি‘আমত থেকে) নিরাশ হয়ে পড়ে।

30:37

اَوَلَمْ یَرَوْا اَنَّ اللّٰهَ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ وَیَقْدِرُ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ۟

তারা কি লক্ষ্য করে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলি রয়েছে সে জাতির জন্য, যারা ঈমান আনে।

30:38

فَاٰتِ ذَا الْقُرْبٰى حَقَّهٗ وَالْمِسْكِیْنَ وَابْنَ السَّبِیْلِ ؕ— ذٰلِكَ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ یُرِیْدُوْنَ وَجْهَ اللّٰهِ ؗ— وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ۟

অতএব আত্মীয়-স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও (সম্বলহারা) মুসাফিরকেও। এটি উত্তম তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে। আর তারাই তো সফলকাম।

30:39

وَمَاۤ اٰتَیْتُمْ مِّنْ رِّبًا لِّیَرْبُوَاۡ فِیْۤ اَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا یَرْبُوْا عِنْدَ اللّٰهِ ۚ— وَمَاۤ اٰتَیْتُمْ مِّنْ زَكٰوةٍ تُرِیْدُوْنَ وَجْهَ اللّٰهِ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُضْعِفُوْنَ ۟

আর তোমরা যে সুদ দাও, মানুষের সম্পদে তা বৃদ্ধি পাওয়ার উদ্দেশ্যে, তা আল্লাহর নিকট বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে, তোমরা যে যাকাত প্রদান কর আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় (তা-ই বৃদ্ধি পায়), তারাই হলো প্রকৃত বহুগুণে বৃদ্ধি প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।

30:40

اَللّٰهُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ ثُمَّ یُمِیْتُكُمْ ثُمَّ یُحْیِیْكُمْ ؕ— هَلْ مِنْ شُرَكَآىِٕكُمْ مَّنْ یَّفْعَلُ مِنْ ذٰلِكُمْ مِّنْ شَیْءٍ ؕ— سُبْحٰنَهٗ وَتَعٰلٰى عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ۟۠

আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনিই তোমাদেরকে রিযক দিয়েছেন। এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দিবেন, পরে আবার তোমাদেরকে (পুনরুত্থানের জন্যে) জীবন দিবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এ থেকে কোনো কিছু করতে পারবে? তিনি পবিত্র এবং তারা যাদের শরীক করে, তা থেকে তিনি পবিত্র ও অনেক ঊর্ধ্বে।

30:41

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِی الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ اَیْدِی النَّاسِ لِیُذِیْقَهُمْ بَعْضَ الَّذِیْ عَمِلُوْا لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ۟

মানুষের হাতের উপার্জিত (কর্মের) কারণে স্থল ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে, যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কিছু অংশের স্বাদ আস্বাদন করান, যেন তারা ফিরে আসে।

30:42

قُلْ سِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلُ ؕ— كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّشْرِكِیْنَ ۟

হে রাসূল! তুমি মুশরিকদেরকে বলো: ‘তোমরা জমিনে ভ্রমণ করো। আর দেখো পূর্ববর্তীদের পরিণাম কীরূপ হয়েছিলো।’ তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।

30:43

فَاَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّیْنِ الْقَیِّمِ مِنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ یَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَهٗ مِنَ اللّٰهِ یَوْمَىِٕذٍ یَّصَّدَّعُوْنَ ۟

সুতরাং হে রাসূল! তুমি তোমার নিজকে সরল-সঠিক দ্বীনের উপর কায়েম রাখো, আল্লাহর পক্ষ থেকে সেদিন আসার পূর্বে, যেদিন উপস্থিত হলে তাকে রুখে দেওয়ার কেউ থাকবে না, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।(১০)

30:44

مَنْ كَفَرَ فَعَلَیْهِ كُفْرُهٗ ۚ— وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِاَنْفُسِهِمْ یَمْهَدُوْنَ ۟ۙ

যে কুফরী করে তার কুফরীর পরিণাম তার ওপরই বর্তাবে। আর যারা সৎকর্ম করে তারা তাদের নিজেদের জন্য (জান্নাতের) সুখ-শান্তির পথ সুগম করে।

30:45

لِیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّلِحٰتِ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ— اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْكٰفِرِیْنَ ۟

যাতে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে প্রতিদান দেন, যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদেরকে। নিশ্চয় তিনি কাফিরদের ভালোবাসেন না।

30:46

وَمِنْ اٰیٰتِهٖۤ اَنْ یُّرْسِلَ الرِّیٰحَ مُبَشِّرٰتٍ وَّلِیُذِیْقَكُمْ مِّنْ رَّحْمَتِهٖ وَلِتَجْرِیَ الْفُلْكُ بِاَمْرِهٖ وَلِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِهٖ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ ۟

আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমতের স্বাদ আস্বাদন করান(১) এবং তাঁর নির্দেশে নৌযান চলাচল করে; আর তোমরা যেন তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পারো(২) এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।

30:47

وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ رُسُلًا اِلٰى قَوْمِهِمْ فَجَآءُوْهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ فَانْتَقَمْنَا مِنَ الَّذِیْنَ اَجْرَمُوْا ؕ— وَكَانَ حَقًّا عَلَیْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟

আর হে রাসূল! অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে রাসূলগণকে তাদের জাতির নিকট পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল। অতঃপর যারা অপরাধ করেছিলো, আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম। আর মু’মিনদেরকে সাহায্য করা তো আমার কর্তব্য।

30:48

اَللّٰهُ الَّذِیْ یُرْسِلُ الرِّیٰحَ فَتُثِیْرُ سَحَابًا فَیَبْسُطُهٗ فِی السَّمَآءِ كَیْفَ یَشَآءُ وَیَجْعَلُهٗ كِسَفًا فَتَرَی الْوَدْقَ یَخْرُجُ مِنْ خِلٰلِهٖ ۚ— فَاِذَاۤ اَصَابَ بِهٖ مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖۤ اِذَا هُمْ یَسْتَبْشِرُوْنَ ۟

আল্লাহই বাতাস প্রেরণ করেন। ফলে তা মেঘমালাকে ধাওয়া করে; অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে খণ্ড বিখণ্ড করে দেন, ফলে তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। অতঃপর যখন তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের ওপর ইচ্ছা বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তখন তারা হয় আনন্দিত।(১৩)

30:49

وَاِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلِ اَنْ یُّنَزَّلَ عَلَیْهِمْ مِّنْ قَبْلِهٖ لَمُبْلِسِیْنَ ۟

আর যদিও এর (বৃষ্টির) আগমনের পূর্বে তারা অবশ্যই নিরাশ-হতাশ হয়ে পড়েছিল।

30:50

فَانْظُرْ اِلٰۤی اٰثٰرِ رَحْمَتِ اللّٰهِ كَیْفَ یُحْیِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ— اِنَّ ذٰلِكَ لَمُحْیِ الْمَوْتٰى ۚ— وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۟

অতএব হে রাসূল! তুমি আল্লাহর রহমতের চিহ্নসমূহের প্রতি লক্ষ্য করো। কীভাবে তিনি জমিনের মৃত্যুর (শুকিয়ে যাওয়ার) পর তা জীবিত করেন। নিশ্চয় এভাবেই তিনি মৃতকে (পুনরুত্থানের জন্যে) জীবিতকারী এবং তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।

30:51

وَلَىِٕنْ اَرْسَلْنَا رِیْحًا فَرَاَوْهُ مُصْفَرًّا لَّظَلُّوْا مِنْ بَعْدِهٖ یَكْفُرُوْنَ ۟

আর যদি আমি (তাদের ক্ষেত ও শস্যাদির ওপর) এমন বাতাস প্রেরণ করি, যার ফলে তারা সেগুলোকে হলুদ রঙের দেখতে পায়, তখন তারা অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।

30:52

فَاِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتٰى وَلَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَآءَ اِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِیْنَ ۟

নিশ্চয় তুমি মৃতকে কথা শুনাতে পারবে না, বধিরকেও পারবেন না ডাক শুনাতে, যখন তারা (উপদেশ গ্রহণ না করে) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে ফিরে যায়।

30:53

وَمَاۤ اَنْتَ بِهٰدِ الْعُمْیِ عَنْ ضَلٰلَتِهِمْ ؕ— اِنْ تُسْمِعُ اِلَّا مَنْ یُّؤْمِنُ بِاٰیٰتِنَا فَهُمْ مُّسْلِمُوْنَ ۟۠

আর তুমি অন্ধদেরকেও তাদের ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াতে আনতে পারবে না, তুমি শুধু তাদেরই শুনাতে পারবে যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে; কারণ তারা আত্মসমর্পণকারী।

30:54

اَللّٰهُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ ضُؔعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضُؔعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضُؔعْفًا وَّشَیْبَةً ؕ— یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ ۚ— وَهُوَ الْعَلِیْمُ الْقَدِیْرُ ۟

আল্লাহই তিনি, যিনি তোমাদেরকে দুর্বল বস্তু (তুচ্ছ পানি) থেকে সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি দুর্বলতার পর (যৌবনের) শক্তি দান করেছেন, তারপর শক্তির পর আবার (বার্ধক্যের) দুর্বলতা ও বার্ধক্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন; আর তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

30:55

وَیَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ یُقْسِمُ الْمُجْرِمُوْنَ ۙ۬— مَا لَبِثُوْا غَیْرَ سَاعَةٍ ؕ— كَذٰلِكَ كَانُوْا یُؤْفَكُوْنَ ۟

আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা (কবরে) মুহূর্তকালের বেশি অবস্থান করেনি।(১৪) এভাবেই তারা (দুনিয়াতে) সত্যবিমুখ থেকেছে।

30:56

وَقَالَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ وَالْاِیْمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِیْ كِتٰبِ اللّٰهِ اِلٰى یَوْمِ الْبَعْثِ ؗ— فَهٰذَا یَوْمُ الْبَعْثِ وَلٰكِنَّكُمْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ۟

আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে(১৫) তারা বলবে: ‘তোমরা আল্লাহর লিখা মতো পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত (কবরে) অবস্থান করেছ। আর এটি পুনরুত্থান দিবস। কিন্তু তা তোমরা জানতে না।’(১৬)

30:57

فَیَوْمَىِٕذٍ لَّا یَنْفَعُ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مَعْذِرَتُهُمْ وَلَا هُمْ یُسْتَعْتَبُوْنَ ۟

অতঃপর যারা যুলম করেছে, সেদিন তাদের কোনো ওযর-আপত্তি উপকারে আসবে না এবং (তাদেরকে তাওবা করে আল্লাহকে) সন্তুষ্ট করতেও তাদেরকে বলা হবে না।

30:58

وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِیْ هٰذَا الْقُرْاٰنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ ؕ— وَلَىِٕنْ جِئْتَهُمْ بِاٰیَةٍ لَّیَقُوْلَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا مُبْطِلُوْنَ ۟

আর অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এই আল কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত পেশ করেছি।(১৭) আর যদি তুমি তাদের কাছে (তোমার সত্যতার) কোনো প্রমাণ নিয়ে আসো, তবে অবশ্যই কাফিররা বলবেঃ ‘তোমরা তো বাতিলপন্থী ছাড়া আর কিছুই নও।’

30:59

كَذٰلِكَ یَطْبَعُ اللّٰهُ عَلٰى قُلُوْبِ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟

এমনিভাবে আল্লাহ মোহর মেরে দেন তাদের হৃদয়সমূহে যারা (সত্য সম্পর্কে কিছুই) জানে না।

30:60

فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ وَّلَا یَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِیْنَ لَا یُوْقِنُوْنَ ۟۠

অতএব তুমি ধৈর্য ধরো। নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর যারা (পুনরুত্থান ও চূড়ান্ত হিসাবের বিষয়ে) দৃঢ় বিশ্বাস রাখে না, তারা যেন তোমাকে অস্থির করে না দেয় (এবং ধৈর্যচ্যুত না করে)।

Sources: Bangla translation: Rowwad Translation Center, QuranEnc.com — quranenc.com (fetched 2026-10-18) Hanafi font: DigitalKhatt IndoPak © Amine Anane, Tarteel Inc. (SIL OFL 1.1) — github.com (downloaded 2026-10-18) Madinah font: AlQuran-IndoPak by QuranWBW — github.com (v4.2.2) Quran text (Hanafi): Quranic Universal Library (QUL) by Tarteel — qul.tarteel.ai (downloaded 2026-10-18) Quran text (Madinah): Ayman Siddiqui & R. Siddiqua, QuranWBW.com / Quran.com — github.com (v9.6.1) Surah and para data: Tanzil.net (CC BY 3.0) — tanzil.net (1.0) Recitation: Abdur-Rahman as-Sudais — everyayah.com Recitation: Mishary Rashid Alafasy — everyayah.com Recitation: Abdul Basit Abdus-Samad (Murattal) — everyayah.com

The Quran between work — inside KarbarX

Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.

Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time