KarbarX
English ফ্রি ট্রায়াল

3. Aal-i-Imraan آل عمران

The Family of Imraan · 200 আয়াত

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟

3:1

الٓمَّٓ ۟ۙۚ

আলিফ-লাম-মীম।(১)

3:2

اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۟ؕ

আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত ধারক।

3:3

نَزَّلَ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ وَاَنْزَلَ التَّوْرٰىةَ وَالْاِنْجِیْلَ ۟ۙ

(হে নবী) তিনি সত্যসহ তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। আর তিনিই নাযিল করেছেন তাওরাত ও ইনজীল(২)।

3:4

مِنْ قَبْلُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَاَنْزَلَ الْفُرْقَانَ ؕ۬— اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ ؕ— وَاللّٰهُ عَزِیْزٌ ذُو انْتِقَامٍ ۟ؕ

ইতোপূর্বে মানবজাতির হিদায়াতের জন্যে। আর তিনি ফুরকান (কুরআন) নাযিল করেছেন। নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ (৩) অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

3:5

اِنَّ اللّٰهَ لَا یَخْفٰی عَلَیْهِ شَیْءٌ فِی الْاَرْضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ ۟ؕ

নিশ্চয় আল্লাহর কাছে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই গোপন থাকে না।(৪)

3:6

هُوَ الَّذِیْ یُصَوِّرُكُمْ فِی الْاَرْحَامِ كَیْفَ یَشَآءُ ؕ— لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟

তিনিই সেই সত্তা, যিনি মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছে তোমাদের আকৃতি গঠন করেন।(৫) তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহনেই; তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, মহা প্রজ্ঞাময়।

3:7

هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ مِنْهُ اٰیٰتٌ مُّحْكَمٰتٌ هُنَّ اُمُّ الْكِتٰبِ وَاُخَرُ مُتَشٰبِهٰتٌ ؕ— فَاَمَّا الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ زَیْغٌ فَیَتَّبِعُوْنَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَآءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَآءَ تَاْوِیْلِهٖ ؔۚ— وَمَا یَعْلَمُ تَاْوِیْلَهٗۤ اِلَّا اللّٰهُ ۘؐ— وَالرّٰسِخُوْنَ فِی الْعِلْمِ یَقُوْلُوْنَ اٰمَنَّا بِهٖ ۙ— كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ رَبِّنَا ۚ— وَمَا یَذَّكَّرُ اِلَّاۤ اُولُوا الْاَلْبَابِ ۟

তিনিই তোমার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছেন যার কিছু আয়াত ‘মুহ্‌কাম’ (সুস্পষ্ট আয়াত), এগুলো কিতাবের মূল; আর অন্যগুলো ‘মুতাশাবিহ্‌’ (অস্পষ্ট ও একাধিক অর্থবহ )। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে শুধু তারাই ফেৎনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ এ আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ব (আলেম) তারা বলে, ‘আমরা এগুলোতে ঈমান রাখি, সবই আমাদের রবের কাছ থেকে অবতীর্ণ’। আসলেজ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা ব্যতীত আর কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।

3:8

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَیْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ— اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ ۟

হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহান দাতা।

3:9

رَبَّنَاۤ اِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِیَوْمٍ لَّا رَیْبَ فِیْهِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَا یُخْلِفُ الْمِیْعَادَ ۟۠

হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি সমস্ত মানুষকে একদিন সমবেত করবেন, যার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।

3:10

اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَنْ تُغْنِیَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَلَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللّٰهِ شَیْـًٔا ؕ— وَاُولٰٓىِٕكَ هُمْ وَقُوْدُ النَّارِ ۟ۙ

নিশ্চয় যারা কুফরী করে, আল্লাহর নিকট তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না। আর তারা হবে জাহান্নামের জ্বালানি।

3:11

كَدَاْبِ اٰلِ فِرْعَوْنَ ۙ— وَالَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ— كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ۚ— فَاَخَذَهُمُ اللّٰهُ بِذُنُوْبِهِمْ ؕ— وَاللّٰهُ شَدِیْدُ الْعِقَابِ ۟

তাদের স্বভাব চরিত্র ফিরা‘ঊন সম্প্রদায় ও তাদের পূর্ববর্তীদের স্বভাব চরিত্রের মতোই। তারা আমার আয়াতগুলোতে মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের পাপের জন্য তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন।(৬) আর আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর।

3:12

قُلْ لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا سَتُغْلَبُوْنَ وَتُحْشَرُوْنَ اِلٰی جَهَنَّمَ ؕ— وَبِئْسَ الْمِهَادُ ۟

তুমি কাফিরদেরকে বলে দাও: ‘তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে এবং তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে। আর সেটি কতইনা নিকৃষ্ট আবাসস্থল।’

3:13

قَدْ كَانَ لَكُمْ اٰیَةٌ فِیْ فِئَتَیْنِ الْتَقَتَا ؕ— فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَاُخْرٰی كَافِرَةٌ یَّرَوْنَهُمْ مِّثْلَیْهِمْ رَاْیَ الْعَیْنِ ؕ— وَاللّٰهُ یُؤَیِّدُ بِنَصْرِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّاُولِی الْاَبْصَارِ ۟

নিশ্চয় তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে দু’টি দলের মধ্যে, যারা (বদরের যুদ্ধে) পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল। একটি দল লড়াই করছিল আল্লাহর পথে এবং অপর দলটি কাফির। মু’মিনগণ তাদের বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদেরকে নিজেদের দ্বিগুণ দেখছিল।(৭) আর আল্লাহ নিজ সাহায্য দ্বারা যাকে চান শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় এতে রয়েছে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য শিক্ষা।

3:14

زُیِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوٰتِ مِنَ النِّسَآءِ وَالْبَنِیْنَ وَالْقَنَاطِیْرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَیْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْاَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ؕ— ذٰلِكَ مَتَاعُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ— وَاللّٰهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الْمَاٰبِ ۟

মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির ভালোবাসা- নারী, সন্তানাদি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চি‎‎হ্নত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত। এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী। আর একমাত্র আল্লাহর নিকটেই রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল ।

3:15

قُلْ اَؤُنَبِّئُكُمْ بِخَیْرٍ مِّنْ ذٰلِكُمْ ؕ— لِلَّذِیْنَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَاَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَّرِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ ؕ— وَاللّٰهُ بَصِیْرٌ بِالْعِبَادِ ۟ۚ

(হে রাসূল!) তুমি বলে দাও: আমি কি তোমাদেরকে এ ভোগ-বিলাসের চেয়েও উৎকৃষ্টতর কোনো কিছুর সংবাদ দিব? যারা তাকওয়া অর্জন করে, তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নদ-নদী-ঝর্ণাধারা। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর সেখানে তাদের জন্যে রয়েছে পবিত্র স্ত্রীগণ এবং আরো রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।

3:16

اَلَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ۟ۚ

(জান্নাতের অধিবাসীগণ তারাই) যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা ঈমান আনলাম।(৮) অতএব, আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’

3:17

اَلصّٰبِرِیْنَ وَالصّٰدِقِیْنَ وَالْقٰنِتِیْنَ وَالْمُنْفِقِیْنَ وَالْمُسْتَغْفِرِیْنَ بِالْاَسْحَارِ ۟

(তাদের বৈশিষ্ট্য হলো) তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, আনুগত্যকারী, ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থী।

3:18

شَهِدَ اللّٰهُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ— وَالْمَلٰٓىِٕكَةُ وَاُولُوا الْعِلْمِ قَآىِٕمًا بِالْقِسْطِ ؕ— لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟ؕ

আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আর ফিরিশতা ও জ্ঞানীগণও। আল্লাহ ন্যায় ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি মহা পরাক্রমশালী, মহা প্রজ্ঞাময়।

3:19

اِنَّ الدِّیْنَ عِنْدَ اللّٰهِ الْاِسْلَامُ ۫— وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ اِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْیًا بَیْنَهُمْ ؕ— وَمَنْ یَّكْفُرْ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ فَاِنَّ اللّٰهَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ ۟

নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দীন।(৯) আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল, তারা কেবল পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরও মতানৈক্য করেছিল। আর যে কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করবে, নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

3:20

فَاِنْ حَآجُّوْكَ فَقُلْ اَسْلَمْتُ وَجْهِیَ لِلّٰهِ وَمَنِ اتَّبَعَنِ ؕ— وَقُلْ لِّلَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ وَالْاُمِّیّٖنَ ءَاَسْلَمْتُمْ ؕ— فَاِنْ اَسْلَمُوْا فَقَدِ اهْتَدَوْا ۚ— وَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّمَا عَلَیْكَ الْبَلٰغُ ؕ— وَاللّٰهُ بَصِیْرٌ بِالْعِبَادِ ۟۠

(হে রাসূল!) যদি তারা তোমার সাথে বিতর্ক করে, তবে তুমি তাদেরকে বলো, ‘আমি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছি এবং আমার অনুসারীরাও।’ আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং নিরক্ষরদেরকে বলো, ‘তোমরা কি ইসলাম গ্রহণ করেছ’? তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তারা অবশ্যই হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তোমার দায়িত্ব শুধু পৌঁছিয়ে দেয়া। আর আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।

3:21

اِنَّ الَّذِیْنَ یَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَیَقْتُلُوْنَ النَّبِیّٖنَ بِغَیْرِ حَقٍّ ۙ— وَّیَقْتُلُوْنَ الَّذِیْنَ یَاْمُرُوْنَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ ۙ— فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ اَلِیْمٍ ۟

নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করে এবং অন্যায়ভাবে নবীদেরকে হত্যা করে, আর মানুষের মধ্য থেকে যারা ন্যায় ও ইনসাফের আদেশ দেয় তাদেরকেও হত্যা করে, তুমি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।

3:22

اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِی الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ ؗ— وَمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ ۟

এরা এমন লোক, যাদের দুনিয়া ও আখিরাতে আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে এবং তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।

3:23

اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ اُوْتُوْا نَصِیْبًا مِّنَ الْكِتٰبِ یُدْعَوْنَ اِلٰی كِتٰبِ اللّٰهِ لِیَحْكُمَ بَیْنَهُمْ ثُمَّ یَتَوَلّٰی فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ وَهُمْ مُّعْرِضُوْنَ ۟

(হে নবী!) তুমি কি তাদের (ইহুদিদের) প্রতি লক্ষ্য করনি যাদেরকে কিতাবের (তাওরাতের) অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে। অতঃপর তাদের একদল (তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী না হওয়ায়) মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তারা বিমুখ।

3:24

ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَیَّامًا مَّعْدُوْدٰتٍ ۪— وَّغَرَّهُمْ فِیْ دِیْنِهِمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ۟

এটা এ জন্যে যে, তারা বলে: ‘গুটি কয়েকদিন ব্যতীত জাহান্নামের আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না’। আর তারা যা মিথ্যা (বাতিল ও বানোয়াট) রচনা করত, তা তাদেরকে তাদের দীনের ব্যাপারে প্রতারিত করেছে।

3:25

فَكَیْفَ اِذَا جَمَعْنٰهُمْ لِیَوْمٍ لَّا رَیْبَ فِیْهِ ۫— وَوُفِّیَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۟

সুতরাং সেদিন তাদের কী অবস্থা হবে যেদিন আমি তাদেরকে একত্রিত করবো, যাতে কোন সন্দেহ নেই। আর প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেয়া হবে এবং তাদেরকে কোন ধরনের যুলম করা হবে না।

3:26

قُلِ اللّٰهُمَّ مٰلِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِی الْمُلْكَ مَنْ تَشَآءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَآءُ ؗ— وَتُعِزُّ مَنْ تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَآءُ ؕ— بِیَدِكَ الْخَیْرُ ؕ— اِنَّكَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۟

তুমি বলো: ‘হে আল্লাহ, আপনি রাজত্বের মালিক। আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন। আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন, আর যাকে চান অপমানিত করেন।(১০) আপনার হাতেই সমস্ত কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

3:27

تُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَتُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ ؗ— وَتُخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَیِّتَ مِنَ الْحَیِّ ؗ— وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ ۟

আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান(১১) এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। (১২) আর মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন।(১৩) আর যাকে চান অপরিমিত রিযক দান করেন।

3:28

لَا یَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُوْنَ الْكٰفِرِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۚ— وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ فَلَیْسَ مِنَ اللّٰهِ فِیْ شَیْءٍ اِلَّاۤ اَنْ تَتَّقُوْا مِنْهُمْ تُقٰىةً ؕ— وَیُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفْسَهٗ ؕ— وَاِلَی اللّٰهِ الْمَصِیْرُ ۟

মু’মিনরা যেন মু’মিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়।(১৪) আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোন ভয়ের আশঙ্কা থাকে।(১৫) আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন।

3:29

قُلْ اِنْ تُخْفُوْا مَا فِیْ صُدُوْرِكُمْ اَوْ تُبْدُوْهُ یَعْلَمْهُ اللّٰهُ ؕ— وَیَعْلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— وَاللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۟

তুমি বলে দাও: ‘তোমাদের অন্তরে যা আছে তা যদি তোমরা গোপন করো অথবা প্রকাশ করো, আল্লাহ তা জানেন। আর তিনি তাও জানেন, যা আছে আসমানসমূহে এবং যা আছে জমিনে। আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

3:30

یَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَیْرٍ مُّحْضَرًا ۖۚۛ— وَّمَا عَمِلَتْ مِنْ سُوْٓءٍ ۛۚ— تَوَدُّ لَوْ اَنَّ بَیْنَهَا وَبَیْنَهٗۤ اَمَدًاۢ بَعِیْدًا ؕ— وَیُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفْسَهٗ ؕ— وَاللّٰهُ رَءُوْفٌۢ بِالْعِبَادِ ۟۠

যেদিন প্রত্যেকেই উপস্থিত পাবে সে যা ভাল আমল করেছে তা, এবং সে যা মন্দ আমল করেছে তাও। সেদিন সে কামনা করবে- যদি তার এবং এর (মন্দ কর্মের) মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকত! আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সত্তার ভয় দেখাচ্ছেন। আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল।

3:31

قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوْنِیْ یُحْبِبْكُمُ اللّٰهُ وَیَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ ؕ— وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟

তুমি বলে দাও: ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো। তবে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

3:32

قُلْ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَالرَّسُوْلَ ۚ— فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ الْكٰفِرِیْنَ ۟

তুমি বলে দাও: ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো।’ তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না।

3:33

اِنَّ اللّٰهَ اصْطَفٰۤی اٰدَمَ وَنُوْحًا وَّاٰلَ اِبْرٰهِیْمَ وَاٰلَ عِمْرٰنَ عَلَی الْعٰلَمِیْنَ ۟ۙ

নিশ্চয় আল্লাহ আদম, নূহ ও ইবরাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের উপর মনোনীত করেছেন।(১)

3:34

ذُرِّیَّةً بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ ؕ— وَاللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ ۟ۚ

তারা একে অপরের বংশধর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।(১৭)

3:35

اِذْ قَالَتِ امْرَاَتُ عِمْرٰنَ رَبِّ اِنِّیْ نَذَرْتُ لَكَ مَا فِیْ بَطْنِیْ مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّیْ ۚ— اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ۟

তুমি স্মরণ কর, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল: ‘হে আমার রব, আমার গর্ভে যা আছে, নিশ্চয় আমি তা একান্তভাবেই আপনার জন্য মানত করলাম। অতএব, আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।’

3:36

فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ اِنِّیْ وَضَعْتُهَاۤ اُ ؕ— وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ ؕ— وَلَیْسَ الذَّكَرُ كَالْاُ ۚ— وَاِنِّیْ سَمَّیْتُهَا مَرْیَمَ وَاِنِّیْۤ اُعِیْذُهَا بِكَ وَذُرِّیَّتَهَا مِنَ الشَّیْطٰنِ الرَّجِیْمِ ۟

অতঃপর সে যখন তা প্রসব করল, তখন বলল: ‘হে আমার রব! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি। অথচ সে যা প্রসব করেছে সে সম্পর্কে আল্লাহ তো সর্বাধিক জানতেন। বস্তুত পুত্র সন্তান (শক্তি ও গঠনে) কন্যা সন্তানের মত নয়। এবং আমি তার নাম রেখেছি মারয়াম। আর নিশ্চয় আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।

3:37

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُوْلٍ حَسَنٍ وَّاَنْۢبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا ۙ— وَّكَفَّلَهَا زَكَرِیَّا ؕ— كُلَّمَا دَخَلَ عَلَیْهَا زَكَرِیَّا الْمِحْرَابَ ۙ— وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا ۚ— قَالَ یٰمَرْیَمُ اَنّٰی لَكِ هٰذَا ؕ— قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ یَرْزُقُ مَنْ یَّشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ ۟

অতঃপর তার রব তাকে উত্তমভাবে কবুল করলেন এবং তাকে উত্তমভাবে গড়ে তুললেন। আর তাকে যাকারিয়্যার দায়িত্বে দিলেন। যখনই যাকারিয়্যা তার কাছে তার কক্ষে প্রবেশ করতেন, তখনই তার নিকট খাদ্যসামগ্রী পেতেন। তিনি বলতেন: ‘হে মারয়াম, এ সব তুমি কোথায় পেলে?’ সে বলত, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ নিশ্চয় আল্লাহ যাকে চান অপরিমিত রিযিক দান করেন।

3:38

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِیَّا رَبَّهٗ ۚ— قَالَ رَبِّ هَبْ لِیْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّیَّةً طَیِّبَةً ۚ— اِنَّكَ سَمِیْعُ الدُّعَآءِ ۟

সেখানে (১৮) যাকারিয়্যা তাঁর রবের কাছে প্রার্থনা করে বলল: ‘হে আমার রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে পবিত্র (উত্তম) সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি দু‘আ শ্রবণকারী।’

3:39

فَنَادَتْهُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ وَهُوَ قَآىِٕمٌ یُّصَلِّیْ فِی الْمِحْرَابِ ۙ— اَنَّ اللّٰهَ یُبَشِّرُكَ بِیَحْیٰی مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ وَسَیِّدًا وَّحَصُوْرًا وَّنَبِیًّا مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟

অতঃপর যখন (সে) যাকারিয়্যা ইবাদাতের জায়গায়সালাতে দাঁড়িয়েছিল তখন ফিরিশতাগণ তাঁকে ডেকে বলল: ‘নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে ইয়াহ্‌ইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন, তিনি হবেন আল্লাহর কালেমার সত্যায়নকারী, নেতা, পরিপূর্ণ সংযমী (১৯) এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী।

3:40

قَالَ رَبِّ اَنّٰی یَكُوْنُ لِیْ غُلٰمٌ وَّقَدْ بَلَغَنِیَ الْكِبَرُ وَامْرَاَتِیْ عَاقِرٌ ؕ— قَالَ كَذٰلِكَ اللّٰهُ یَفْعَلُ مَا یَشَآءُ ۟

সে (যাকারি্য়্যা) বলল: ‘হে আমার রব! কীভাবে আমার পুত্র হবে? অথচ আমার তো বার্ধক্য এসে গেছে, তাছাড়া আমার স্ত্রী বন্ধ্যা।’ তিনি বললেন, ‘এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন।’(২০)

3:41

قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِّیْۤ اٰیَةً ؕ— قَالَ اٰیَتُكَ اَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَةَ اَیَّامٍ اِلَّا رَمْزًا ؕ— وَاذْكُرْ رَّبَّكَ كَثِیْرًا وَّسَبِّحْ بِالْعَشِیِّ وَالْاِبْكَارِ ۟۠

তিনি (যাকারি্য়্যা) বলল: ‘হে আমার রব! (এ অস্বাভাবিক ঘটনার জন্যে) আমাকে একটি নিদর্শন দিন।’ তিনি বললেন: তোমার নিদর্শন এই যে, তিন দিন তুমি ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া মানুষের সাথে কথা বলবে না। আর তোমার রবের বেশি যিকির কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ কর।

3:42

وَاِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یٰمَرْیَمُ اِنَّ اللّٰهَ اصْطَفٰىكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفٰىكِ عَلٰی نِسَآءِ الْعٰلَمِیْنَ ۟

(হে রাসূল!) তুমি সে সময়ের কথা স্মরণ কর যখন ফিরিশতারা বললো: ‘হে মারইয়াম! নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে মনোনীত করেছেন ও পবিত্র করেছেন এবং (আপনার সময়কার) বিশ্বজগতের নারীদের উপর আপনাকে মনোনীত করেছেন।

3:43

یٰمَرْیَمُ اقْنُتِیْ لِرَبِّكِ وَاسْجُدِیْ وَارْكَعِیْ مَعَ الرّٰكِعِیْنَ ۟

হে মারইয়াম! তোমার রবের জন্য বিনয়ী ও অনুগত হও,(২১) তাঁর সিজদা করো এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ করো।

3:44

ذٰلِكَ مِنْ اَنْۢبَآءِ الْغَیْبِ نُوْحِیْهِ اِلَیْكَ ؕ— وَمَا كُنْتَ لَدَیْهِمْ اِذْ یُلْقُوْنَ اَقْلَامَهُمْ اَیُّهُمْ یَكْفُلُ مَرْیَمَ ۪— وَمَا كُنْتَ لَدَیْهِمْ اِذْ یَخْتَصِمُوْنَ ۟

(হে রাসূল!) এটি (২২) গায়েবের সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমাকে অহীর মাধ্যমে জানাচ্ছি। আর তুমি তাদের নিকট ছিলে না, যখন তারা তাদের কলমগুলো (পানিতে) নিক্ষেপ করছিল (বিশেষ লটারির ব্যবস্থার জন্যে), তাদের মধ্যে কে মারয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিবে? আর তুমি তাদের নিকট ছিলে না, যখন তারা বিতর্ক করছিল।

3:45

اِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یٰمَرْیَمُ اِنَّ اللّٰهَ یُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ ۙۗ— اسْمُهُ الْمَسِیْحُ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ وَجِیْهًا فِی الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِیْنَ ۟ۙ

তুমি স্মরণ কর, যখন ফিরিশতারা বললেন: ‘হে মারয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালিমার (পুত্রের) (২৩) সুসংবাদ দিচ্ছেন। তার নাম মাসীহ ঈসা ইবনু মারয়াম, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’

3:46

وَیُكَلِّمُ النَّاسَ فِی الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَّمِنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟

আর তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলবেন এবং পরিণত বয়সেও। আর তিনি নেককার পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

3:47

قَالَتْ رَبِّ اَنّٰی یَكُوْنُ لِیْ وَلَدٌ وَّلَمْ یَمْسَسْنِیْ بَشَرٌ ؕ— قَالَ كَذٰلِكِ اللّٰهُ یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ— اِذَا قَضٰۤی اَمْرًا فَاِنَّمَا یَقُوْلُ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ ۟

সে বলল: ‘হে আমার রব! আমাকে কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি, এমতাবস্থায় আমার সন্তান হবে কীভাবে?’ তিনি বললেন: এভাবেই আল্লাহ যাকে চান (চিরাচরিত নিয়ম ছাড়াই) সৃষ্টি করেন।(২৪) তিনি যখন কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বলেন, ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।

3:48

وَیُعَلِّمُهُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرٰىةَ وَالْاِنْجِیْلَ ۟ۚ

আর তিনি তাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইনজিল শিক্ষা দিবেন।

3:49

وَرَسُوْلًا اِلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۙ۬— اَنِّیْ قَدْ جِئْتُكُمْ بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ ۙۚ— اَنِّیْۤ اَخْلُقُ لَكُمْ مِّنَ الطِّیْنِ كَهَیْـَٔةِ الطَّیْرِ فَاَنْفُخُ فِیْهِ فَیَكُوْنُ طَیْرًا بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ— وَاُبْرِئُ الْاَكْمَهَ وَالْاَبْرَصَ وَاُحْیِ الْمَوْتٰی بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ— وَاُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَاْكُلُوْنَ وَمَا تَدَّخِرُوْنَ ۙ— فِیْ بُیُوْتِكُمْ ؕ— اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟ۚ

তেমনিভাবে তিনি তাঁকে বনী ইসরাঈলদের রাসূল বানাবেন। (তিনি তাদেরকে বলবেন) ‘নিশ্চয় আমি (২৫) তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। তা হলো, অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য কাদামাটি দিয়ে পাখির আকৃতি বানাবো, অতঃপর আমি তাতে ফুঁক দেব। ফলে আল্লাহর নির্দেশে সেটি পাখি হয়ে যাবে। আর আমি আল্লাহর নির্দেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করবো এবং মৃতকে জীবিত করবো। আর তোমরা যা আহার করো এবং তোমাদের ঘরে যা জমা করে রাখো তা আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবো। নিশ্চয় এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো।

3:50

وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوْرٰىةِ وَلِاُحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِیْ حُرِّمَ عَلَیْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ ۫— فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟

আর আমার পূর্বে নাযিলকৃত তাওরাতে যা আছে, আমি তার সত্যায়নকারী হিসেবে এসেছি, তাছাড়া (পূর্বে) তোমাদের ওপর যা হারাম করা হয়েছিল তার কিছু তোমাদের জন্য হালাল করতে এবং আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন (সুষ্পষ্ট দলিল প্রমাণ) নিয়ে তোমাদের নিকট এসেছি। অতএব, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং আমার আনুগত্য করো।

3:51

اِنَّ اللّٰهَ رَبِّیْ وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ ؕ— هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ ۟

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব।(২৬) সুতরাং তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করো। এটাই সরল সঠিক পথ।(২৭)

3:52

فَلَمَّاۤ اَحَسَّ عِیْسٰی مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ اَنْصَارِیْۤ اِلَی اللّٰهِ ؕ— قَالَ الْحَوَارِیُّوْنَ نَحْنُ اَنْصَارُ اللّٰهِ ۚ— اٰمَنَّا بِاللّٰهِ ۚ— وَاشْهَدْ بِاَنَّا مُسْلِمُوْنَ ۟

অতঃপর যখন ঈসা তাদের (বানূ ইসরাঈলদের) পক্ষ হতে কুফরী উপলব্ধি করল তখন সে বলল: ‘কে আল্লাহর জন্য আমার সাহায্যকারী হবে’? হাওয়ারীগণ বললো: ‘আমরা আল্লাহর (দ্বীনের) সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি ।আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম।(২৮)

3:53

رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا بِمَاۤ اَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُوْلَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشّٰهِدِیْنَ ۟

‘হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন তার (ইঞ্জীলের) প্রতি আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা এ রাসূলের অনুসরণ করেছি। কাজেই আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

3:54

وَمَكَرُوْا وَمَكَرَ اللّٰهُ ؕ— وَاللّٰهُ خَیْرُ الْمٰكِرِیْنَ ۟۠

আর তারা কূটকৌশল ও গোপন ষড়যন্ত্র করতে লাগলো। জবাবে আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করলেন। আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠতম কৌশল অবলম্বনকারী।(২৯)

3:55

اِذْ قَالَ اللّٰهُ یٰعِیْسٰۤی اِنِّیْ مُتَوَفِّیْكَ وَرَافِعُكَ اِلَیَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَجَاعِلُ الَّذِیْنَ اتَّبَعُوْكَ فَوْقَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ ۚ— ثُمَّ اِلَیَّ مَرْجِعُكُمْ فَاَحْكُمُ بَیْنَكُمْ فِیْمَا كُنْتُمْ فِیْهِ تَخْتَلِفُوْنَ ۟

তুমি স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বললেন: ‘হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমাকে মৃত্যু ছাড়াই জান কবজ করবো (৩০), তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেবো এবং কাফিরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করবো। আর যারা তোমার আনুগত্য করেছে (৩১) তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপরে প্রাধান্য দিবো। অতঃপর আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন আমি তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবো, যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ করতে।’

3:56

فَاَمَّا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَاُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِیْدًا فِی الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ ؗ— وَمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ ۟

তারপর যারা কুফরী করেছে, আমি তাদেরকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে কঠোর শাস্তি দিবো এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।

3:57

وَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَیُوَفِّیْهِمْ اُجُوْرَهُمْ ؕ— وَاللّٰهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ ۟

আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদের প্রতিদান পুরোপুরিভাবে প্রদান করবেন। আর আল্লাহ্‌ যালিমদেরকে পছন্দ করেন না।

3:58

ذٰلِكَ نَتْلُوْهُ عَلَیْكَ مِنَ الْاٰیٰتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِیْمِ ۟

বস্তুত, এগুলো (৩২) হলো আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ, যা আমি তোমার নিকট তিলাওয়াত করছি।

3:59

اِنَّ مَثَلَ عِیْسٰی عِنْدَ اللّٰهِ كَمَثَلِ اٰدَمَ ؕ— خَلَقَهٗ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ ۟

নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো।(৩৩) তিনি তাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে বললেন: কুন-‘হও’। ফলে সে হয়ে গেল।

3:60

اَلْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ فَلَا تَكُنْ مِّنَ الْمُمْتَرِیْنَ ۟

সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে এসেছে। কাজেই তুমি সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

3:61

فَمَنْ حَآجَّكَ فِیْهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ اَبْنَآءَنَا وَاَبْنَآءَكُمْ وَنِسَآءَنَا وَنِسَآءَكُمْ وَاَنْفُسَنَا وَاَنْفُسَكُمْ ۫— ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَّعْنَتَ اللّٰهِ عَلَی الْكٰذِبِیْنَ ۟

অতঃপর তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর যে তোমার সাথে এ বিষয়ে ঝগড়া করে, তবে তুমি তাকে বল: ‘এসো আমরা আমাদের ছেলেদেরকে ও তোমাদের ছেলেদেরকে , আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে এবং আমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের নিজেদেরকে আহবান করি। তারপর আমরা বিনীত প্রার্থনা (মুবাহালা) করি, ‘মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর লা’নত করি।’

3:62

اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ ۚ— وَمَا مِنْ اِلٰهٍ اِلَّا اللّٰهُ ؕ— وَاِنَّ اللّٰهَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟

নিশ্চয় এগুলো (৩৪) সত্য বিবরণ এবং আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। আর নিশ্চয় আল্লাহ পরম পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

3:63

فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِالْمُفْسِدِیْنَ ۟۠

তবুও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদেরকে ভালোভাবেই জানেন।

3:64

قُلْ یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ تَعَالَوْا اِلٰی كَلِمَةٍ سَوَآءٍ بَیْنَنَا وَبَیْنَكُمْ اَلَّا نَعْبُدَ اِلَّا اللّٰهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهٖ شَیْـًٔا وَّلَا یَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا اَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ— فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُوْلُوا اشْهَدُوْا بِاَنَّا مُسْلِمُوْنَ ۟

তুমি বল: ‘হে আহলে কিতাব! তোমরা এমন কথার দিকে আসো, যেটি আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান। আর তা হচ্ছে, আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবো না। আর তার সাথে কোনো কিছুকেই শরীক করবো না এবং আমাদের কেউ আল্লাহ ছাড়া একে অন্যকে রব হিসেবে গ্রহণ করবো না।’ তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বল: ‘তোমরা সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম ।’

3:65

یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تُحَآجُّوْنَ فِیْۤ اِبْرٰهِیْمَ وَمَاۤ اُنْزِلَتِ التَّوْرٰىةُ وَالْاِنْجِیْلُ اِلَّا مِنْ بَعْدِهٖ ؕ— اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ۟

হে আহলে কিতাব! তোমরা ইবরাহীমের (ধর্মের) ব্যাপারে বিতর্ক করছ কেন? (৩৫) অথচ তাওরাত ও ইঞ্জীল তো তার পরেই নাযিল হয়েছে। সুতরাং তোমরা কি বুঝো না?

3:66

هٰۤاَنْتُمْ هٰۤؤُلَآءِ حَاجَجْتُمْ فِیْمَا لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَآجُّوْنَ فِیْمَا لَیْسَ لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ ؕ— وَاللّٰهُ یَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ۟

(হে আহলে কিতাব) সাবধান! তোমরা তো এমন, যেসব বিষয়ে তোমাদের কিছু জ্ঞান আছে তাতে তর্ক করলে(৩৬); তবে যেসব বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কেন তর্ক-বিতর্ক করো? আর আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না।

3:67

مَا كَانَ اِبْرٰهِیْمُ یَهُوْدِیًّا وَّلَا نَصْرَانِیًّا وَّلٰكِنْ كَانَ حَنِیْفًا مُّسْلِمًا ؕ— وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ ۟

মূলত ইবরাহীম ইয়াহূদীও ছিল না, খৃস্টানও ছিল না; বরং সে ছিল একনিষ্ঠ মুসলিম। আর সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।(৩৭)

3:68

اِنَّ اَوْلَی النَّاسِ بِاِبْرٰهِیْمَ لَلَّذِیْنَ اتَّبَعُوْهُ وَهٰذَا النَّبِیُّ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ؕ— وَاللّٰهُ وَلِیُّ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟

নিশ্চয় মানুষের মধ্যে তারাই ইবরাহীমের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিক উপযুক্ত, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে (৩৮) এবং এ নবী মুহাম্মাদ), আর (এ উম্মতের) যারা ঈমান এনেছে তারা। মূলত আল্লাহ মু’মিনদের অভিভাবক।

3:69

وَدَّتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ لَوْ یُضِلُّوْنَكُمْ ؕ— وَمَا یُضِلُّوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَمَا یَشْعُرُوْنَ ۟

আহলে কিতাবের একদল লোক কামনা করে যদি তাঁরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে পারত; অথচ তারা নিজেদেরকেই পথভ্রষ্ট করে। কিন্তু তারা বুঝতে পারে না।

3:70

یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَاَنْتُمْ تَشْهَدُوْنَ ۟

হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহকে (৩৯) অস্বীকার করছো; অথচ তোমরাই (সত্যতার) সাক্ষ্য বহন করো।

3:71

یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَلْبِسُوْنَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوْنَ الْحَقَّ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ۟۠

হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করছো (৪০) এবং সত্য গোপন করছো? (৪১) অথচ তোমরা তা জানো।

3:72

وَقَالَتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ اٰمِنُوْا بِالَّذِیْۤ اُنْزِلَ عَلَی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوْۤا اٰخِرَهٗ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ۟ۚۖ

আর আহলে কিতাবের একদল লোক বলে: ‘মু’মিনদের ওপর যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তার প্রতি দিনের প্রথমভাগে ঈমান আনো, আর শেষ ভাগে তা অস্বীকার করো; সম্ভবত তারা ঈমান থেকে ফিরে আসবে।’

3:73

وَلَا تُؤْمِنُوْۤا اِلَّا لِمَنْ تَبِعَ دِیْنَكُمْ ؕ— قُلْ اِنَّ الْهُدٰی هُدَی اللّٰهِ ۙ— اَنْ یُّؤْتٰۤی اَحَدٌ مِّثْلَ مَاۤ اُوْتِیْتُمْ اَوْ یُحَآجُّوْكُمْ عِنْدَ رَبِّكُمْ ؕ— قُلْ اِنَّ الْفَضْلَ بِیَدِ اللّٰهِ ۚ— یُؤْتِیْهِ مَنْ یَّشَآءُ ؕ— وَاللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ ۟ۚۙ

আর (তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে) তোমরা তোমাদের দীন অনুসরণকারীদের ছাড়া (কাউকে) বিশ্বাস করো না। বলুন: নিশ্চয়ই (সত্যের পথ প্রদর্শক) হেদায়াত তো আল্লাহরই হেদায়াত, (তোমরা এ কথা লুকাও) যেন কেউ তোমাদের মতো (ওহী ও ইলম) প্রাপ্ত না হয়, অথবা তারা যেন তোমাদের প্রতিপালকের কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থিত করতে না পারে। বলুন: অবশ্যই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করেন(৪২); আর আল্লাহ অগাধ করুণাময়, সর্বজ্ঞ।

3:74

یَّخْتَصُّ بِرَحْمَتِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ؕ— وَاللّٰهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِیْمِ ۟

তিনি নিজ রহমতের জন্যে যাকে ইচ্ছা তাকে নির্ধারণ করেন।(৪৩) আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।

3:75

وَمِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ مَنْ اِنْ تَاْمَنْهُ بِقِنْطَارٍ یُّؤَدِّهٖۤ اِلَیْكَ ۚ— وَمِنْهُمْ مَّنْ اِنْ تَاْمَنْهُ بِدِیْنَارٍ لَّا یُؤَدِّهٖۤ اِلَیْكَ اِلَّا مَا دُمْتَ عَلَیْهِ قَآىِٕمًا ؕ— ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْا لَیْسَ عَلَیْنَا فِی الْاُمِّیّٖنَ سَبِیْلٌ ۚ— وَیَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ وَهُمْ یَعْلَمُوْنَ ۟

আর আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও আছে, যদি তার নিকট আপনি অঢেল সম্পদ আমানত রাখেন; তবুও সে তা আপনাকে চাওয়ামাত্রই ফেরত দিবে এবং তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে, যদি আপনি তার নিকট এক দীনারও আমানত রাখেন, তবে সর্বোচ্চ তাগাদা ছাড়া সে তা আপনাকে ফেরত দিবে না। এটি এ কারণে যে, তারা বলে, ‘উম্মীদের(৪৪) (সম্পদ ভোগ করার) ব্যাপারে আমাদের ওপর কোন পাপ নেই।’(৪৫) আর তারা জেনে-শুনে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা বলে।

3:76

بَلٰی مَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِهٖ وَاتَّقٰی فَاِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَّقِیْنَ ۟

হ্যাঁ অবশ্যই, কেউ যদি অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালোবাসেন।(৪৬)

3:77

اِنَّ الَّذِیْنَ یَشْتَرُوْنَ بِعَهْدِ اللّٰهِ وَاَیْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِیْلًا اُولٰٓىِٕكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ وَلَا یُكَلِّمُهُمُ اللّٰهُ وَلَا یَنْظُرُ اِلَیْهِمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَلَا یُزَكِّیْهِمْ ۪— وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟

নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, আখিরাতে তাদের (সাওয়াবের) কোনো অংশ নেই। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

3:78

وَاِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِیْقًا یَّلْوٗنَ اَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتٰبِ لِتَحْسَبُوْهُ مِنَ الْكِتٰبِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتٰبِ ۚ— وَیَقُوْلُوْنَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ۚ— وَیَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ وَهُمْ یَعْلَمُوْنَ ۟

আর নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে একদল লোক আছে, যারা কিতাব পড়ার সময় জিহ্বা দ্বারা বিকৃতি করে (৪৭), যাতে তোমরা সেটাকে আল্লাহর কিতাবের অংশ মনে করো; অথচ সেটা কিতাবের অংশ নয়। আর তারা বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে’; অথচ সেটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করছে।

3:79

مَا كَانَ لِبَشَرٍ اَنْ یُّؤْتِیَهُ اللّٰهُ الْكِتٰبَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ یَقُوْلَ لِلنَّاسِ كُوْنُوْا عِبَادًا لِّیْ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلٰكِنْ كُوْنُوْا رَبّٰنِیّٖنَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُوْنَ الْكِتٰبَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُوْنَ ۟ۙ

এটা কোনো ব্যক্তির জন্যে সংগত নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করবেন, অতঃপর তিনি মানুষকে বলবেন: ‘তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে আমার দাস হয়ে যাও’। বরং তিনি বলবেন: ‘তোমরা আল্লাহভক্ত হয়ে যাও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দাও এবং যেহেতু তোমরা তা অধ্যয়ন করো।’

3:80

وَلَا یَاْمُرَكُمْ اَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلٰٓىِٕكَةَ وَالنَّبِیّٖنَ اَرْبَابًا ؕ— اَیَاْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ اِذْ اَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ ۟۠

অনুরূপভাবে তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দেন না যে, ফিরিশতা ও নবীগণকে রবরূপে গ্রহণ করো । তোমাদের মুসলিম হওয়ার পরও তিনি কি তোমাদেরকে আল্লাহর সাথে কুফরী করার নির্দেশ দিবেন?

3:81

وَاِذْ اَخَذَ اللّٰهُ مِیْثَاقَ النَّبِیّٖنَ لَمَاۤ اٰتَیْتُكُمْ مِّنْ كِتٰبٍ وَّحِكْمَةٍ ثُمَّ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَتَنْصُرُنَّهٗ ؕ— قَالَ ءَاَقْرَرْتُمْ وَاَخَذْتُمْ عَلٰی ذٰلِكُمْ اِصْرِیْ ؕ— قَالُوْۤا اَقْرَرْنَا ؕ— قَالَ فَاشْهَدُوْا وَاَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِیْنَ ۟

তুমি স্মরণ কর, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে এ বলে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি; তারপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারীরূপে যখন একজন রাসূল আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে।’ তিনি বললেন: ‘ তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এ ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার করলে?’ তাঁরা উত্তরে বলল: ‘আমরা স্বীকার করলাম’। তিনি বললেন: ‘তবে তোমরা এ ব্যাপারে সাক্ষী থাকো এবং আমি নিজেও তোমাদের উপর সাক্ষী থাকলাম।’

3:82

فَمَنْ تَوَلّٰی بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ ۟

সুতরাং এরপরেও (৪৮) যারা মুখ ফিরিয়ে নিলো তারাই তো ফাসিক (৪৯)।

3:83

اَفَغَیْرَ دِیْنِ اللّٰهِ یَبْغُوْنَ وَلَهٗۤ اَسْلَمَ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ طَوْعًا وَّكَرْهًا وَّاِلَیْهِ یُرْجَعُوْنَ ۟

তারা কি আল্লাহর ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য দীন চায়? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সবকিছুই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আর তাঁর দিকেই তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

3:84

قُلْ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَمَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْنَا وَمَاۤ اُنْزِلَ عَلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ وَاِسْمٰعِیْلَ وَاِسْحٰقَ وَیَعْقُوْبَ وَالْاَسْبَاطِ وَمَاۤ اُوْتِیَ مُوْسٰی وَعِیْسٰی وَالنَّبِیُّوْنَ مِنْ رَّبِّهِمْ ۪— لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ ؗ— وَنَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ ۟

হে রাসূল! তুমি বল: ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি, ইবরাহীম, ইসমা’ঈল, ইসহাক, ইয়া’কূব ও তাঁর বংশধরগণের প্রতি যা নাযিল হয়েছিল তার প্রতি এবং যা মূসা, ‘ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছিল তার প্রতিও। আমরা তাঁদের কারও মধ্যে কোনো তারতম্য করি না।(৫০) আর আমরা তাঁরই কাছে একান্তভাবে আত্মসমর্পণকারী ।

3:85

وَمَنْ یَّبْتَغِ غَیْرَ الْاِسْلَامِ دِیْنًا فَلَنْ یُّقْبَلَ مِنْهُ ۚ— وَهُوَ فِی الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ ۟

আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চায়, তার কাছ থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না। আর আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।

3:86

كَیْفَ یَهْدِی اللّٰهُ قَوْمًا كَفَرُوْا بَعْدَ اِیْمَانِهِمْ وَشَهِدُوْۤا اَنَّ الرَّسُوْلَ حَقٌّ وَّجَآءَهُمُ الْبَیِّنٰتُ ؕ— وَاللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ ۟

আল্লাহ কিভাবে সে জাতিকে হিদায়াত করবেন , যারা ঈমান আনার পর ও রাসূল কে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের কাছে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরেও কুফরী করে? আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।

3:87

اُولٰٓىِٕكَ جَزَآؤُهُمْ اَنَّ عَلَیْهِمْ لَعْنَةَ اللّٰهِ وَالْمَلٰٓىِٕكَةِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِیْنَ ۟ۙ

আসলে এরা হলো সেসব লোক, যাদের প্রতিদান হলো, তাদের উপর আল্লাহর, ফিরিশতাগণের এবং সকল মানুষের লা’নত বর্ষিত হবে।(৫১)

3:88

خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ— لَا یُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ ۟ۙ

তারা তাতে চিরকাল থাকবে, তাদের শাস্তি শিথিল করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।(৫২)

3:89

اِلَّا الَّذِیْنَ تَابُوْا مِنْ بَعْدِ ذٰلِكَ وَاَصْلَحُوْا ۫— فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟

কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা এরপরে তাওবা করেছে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

3:90

اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بَعْدَ اِیْمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوْا كُفْرًا لَّنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ ۚ— وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الضَّآلُّوْنَ ۟

নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরীতে লিপ্ত হয়েছে, তারপর তারা তাদের কুফরী বৃদ্ধি করেছে , তাদের তাওবা কখনো কবুল করা হবে না।(৫৩) আর তারাই পথভ্রষ্ট।

3:91

اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَمَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ یُّقْبَلَ مِنْ اَحَدِهِمْ مِّلْءُ الْاَرْضِ ذَهَبًا وَّلَوِ افْتَدٰی بِهٖ ؕ— اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌۙ— وَّمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ ۟۠

নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে , তাদের কারো কাছ থেকে পৃথিবী সমপরিমাণ স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করলেও তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং তাদের কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না।

3:92

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰی تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ ؕ۬— وَمَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَیْءٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیْمٌ ۟

(হে মু’মিনগণ) তোমরা যা ভালোবাসো তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো সাওয়াব ও মর্যাদা লাভ করতে পারবে না। আর তোমরা (কম-বেশি) যা কিছু ব্যয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে ভালো করেই জানেন।(৫৪)

3:93

كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلًّا لِّبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اِلَّا مَا حَرَّمَ اِسْرَآءِیْلُ عَلٰی نَفْسِهٖ مِنْ قَبْلِ اَنْ تُنَزَّلَ التَّوْرٰىةُ ؕ— قُلْ فَاْتُوْا بِالتَّوْرٰىةِ فَاتْلُوْهَاۤ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟

তাওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল (ইয়াকূব) তার নিজের উপর যা হারাম করেছিল তা ছাড়া বনী ইসরাঈলের জন্য যাবতীয় (পবিত্র) খাদ্যই হালাল ছিল।(৫৫) (হে নবী!) তুমি তাদেরকে বলে দাও: ‘যদি তোমরা (তোমাদের দাবিতে) সত্যবাদী হও, তবে তাওরাত আনো এবং তা পাঠ করে দেখাও।’

3:94

فَمَنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ مِنْ بَعْدِ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ ۟ؔ

এরপরও যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করবে, তারাই যালিম।

3:95

قُلْ صَدَقَ اللّٰهُ ۫— فَاتَّبِعُوْا مِلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ— وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ ۟

তুমি বলে দাও: ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন। (৫৬) কাজেই তোমরা একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের ধর্ম অনুসরণ করো। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

3:96

اِنَّ اَوَّلَ بَیْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِیْ بِبَكَّةَ مُبٰرَكًا وَّهُدًی لِّلْعٰلَمِیْنَ ۟ۚ

নিশ্চয় মানব জাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি বাক্কায় (মক্কা নগরীতে) অবস্থিত, যা বরকতময় ও বিশ্ববাসীর জন্যে হিদায়াত )।

3:97

فِیْهِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبْرٰهِیْمَ ۚ۬— وَمَنْ دَخَلَهٗ كَانَ اٰمِنًا ؕ— وَلِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا ؕ— وَمَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ ۟

এটিতে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দশনসমূহ। মাকামু ইবরাহীম। যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে। আর এ ঘরে পৌঁছার শক্তি-সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। আর যে কুফরী করে (৫৭), তবে নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।

3:98

قُلْ یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۖۗ— وَاللّٰهُ شَهِیْدٌ عَلٰی مَا تَعْمَلُوْنَ ۟

তুমি বলো: ‘হে আহলু কিতাব! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সাথে কেন কুফরী করছো? (৫৮) আর তোমরা যা করো আল্লাহ তার সাক্ষী।’

3:99

قُلْ یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ مَنْ اٰمَنَ تَبْغُوْنَهَا عِوَجًا وَّاَنْتُمْ شُهَدَآءُ ؕ— وَمَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ ۟

তুমি বলে দাও: ‘হে আহলু কিতাব! যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে তাকে কেন তোমরা আল্লাহর পথে তাতে বক্রতা সন্ধান করে বাধা দিচ্ছো,? অথচ তোমরা সাক্ষী। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফিল নন।(৫৯)

3:100

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تُطِیْعُوْا فَرِیْقًا مِّنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ یَرُدُّوْكُمْ بَعْدَ اِیْمَانِكُمْ كٰفِرِیْنَ ۟

হে মুমিনগণ! যাদেরকে ইতঃপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমরা যদি তাদের একটি দলেরও আনুগত্য কর, তাহলে তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পরও কাফির বানিয়ে দিবে।

3:101

وَكَیْفَ تَكْفُرُوْنَ وَاَنْتُمْ تُتْلٰی عَلَیْكُمْ اٰیٰتُ اللّٰهِ وَفِیْكُمْ رَسُوْلُهٗ ؕ— وَمَنْ یَّعْتَصِمْ بِاللّٰهِ فَقَدْ هُدِیَ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۟۠

আর কিভাবে তোমরা কুফরী করবে; অথচ আল্লাহর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছে তাঁর রাসূল ? আর যে ব্যক্তি আল্লাহকেমজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে অবশ্যই সরল-সঠিক পথের হিদায়াত লাভ করবে।

3:102

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَلَا تَمُوْتُنَّ اِلَّا وَاَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ ۟

হে মুমিনগণ! তোমরা সত্যিকারার্থে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো।(৬০) আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেয়ো না।

3:103

وَاعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللّٰهِ جَمِیْعًا وَّلَا تَفَرَّقُوْا ۪— وَاذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ اِذْ كُنْتُمْ اَعْدَآءً فَاَلَّفَ بَیْنَ قُلُوْبِكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهٖۤ اِخْوَانًا ۚ— وَكُنْتُمْ عَلٰی شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَاَنْقَذَكُمْ مِّنْهَا ؕ— كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰیٰتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ ۟

তোমরা সবাই আল্লাহর রশি (আল-কুরআন ও বিশুদ্ধ সুন্নাহকে) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু। অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা তো জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে ছিলে। তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করেছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদেরজন্যে তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা হিদায়াতের পথে পরিচালিত হও।

3:104

وَلْتَكُنْ مِّنْكُمْ اُمَّةٌ یَّدْعُوْنَ اِلَی الْخَیْرِ وَیَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَیَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ ؕ— وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ۟

তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল অবশ্যই থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দিবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই পরিপূর্ণ সফলকাম হবে।

3:105

وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ تَفَرَّقُوْا وَاخْتَلَفُوْا مِنْ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْبَیِّنٰتُ ؕ— وَاُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ ۟ۙ

তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পরও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ও নিজেদের মধ্যে বিভেদ করেছে। আর তাদের জন্য রয়েছে ।

3:106

یَّوْمَ تَبْیَضُّ وُجُوْهٌ وَّتَسْوَدُّ وُجُوْهٌ ۚ— فَاَمَّا الَّذِیْنَ اسْوَدَّتْ وُجُوْهُهُمْ ۫— اَكَفَرْتُمْ بَعْدَ اِیْمَانِكُمْ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُوْنَ ۟

সেদিন কিছু লোকের (ঈমানদারদের) চেহারা উজ্জল হবে এবং কিছু লোকের (কাফিরদের) চেহারা কালো হবে। যাদের মুখ কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে), ‘তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে? সুতরাং তোমরা (আল্লাহর) শাস্তি ভোগ করো, যেহেতু তোমরা কুফরী করতে।

3:107

وَاَمَّا الَّذِیْنَ ابْیَضَّتْ وُجُوْهُهُمْ فَفِیْ رَحْمَةِ اللّٰهِ ؕ— هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۟

আর যাদের চেহারা উজ্জল হবে, তারা তো আল্লাহর রহমতে থাকবে। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।

3:108

تِلْكَ اٰیٰتُ اللّٰهِ نَتْلُوْهَا عَلَیْكَ بِالْحَقِّ ؕ— وَمَا اللّٰهُ یُرِیْدُ ظُلْمًا لِّلْعٰلَمِیْنَ ۟

এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার প্রতি যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। আর আল্লাহ সৃষ্টিজগতের প্রতি যুলম করার ইচ্ছা পোষণ করেন না।

3:109

وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— وَاِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ ۟۠

আর আসমানসমূহ ও যমিনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরইএবং আল্লাহর কাছেই এসব কিছুকে একদিন ফিরিয়ে নেয়া হবে।

3:110

كُنْتُمْ خَیْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ ؕ— وَلَوْ اٰمَنَ اَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ— مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ وَاَكْثَرُهُمُ الْفٰسِقُوْنَ ۟

(হে উম্মতে মুহাম্মাদী!) তোমরাই শ্রেষ্ঠতম উম্মত, যাদেরকে মানব জাতির (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে। আর আহলু কিতাবরা যদি (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ঈমান আনায়ন করতো, তবে তা ছিল তাদের (দুনিয়া ও আখিরাতের) জন্যে কল্যাণকর। যদিও তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মু’মিন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফাসিক (৬১)।

3:111

لَنْ یَّضُرُّوْكُمْ اِلَّاۤ اَذًی ؕ— وَاِنْ یُّقَاتِلُوْكُمْ یُوَلُّوْكُمُ الْاَدْبَارَ ۫— ثُمَّ لَا یُنْصَرُوْنَ ۟

তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, (সাময়িক) কিছু কষ্ট দেয়া ছাড়া।(৬২) আর যদি তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তবে তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাবে। তারপর তাদেরকে সাহায্য করা হবে না।

3:112

ضُرِبَتْ عَلَیْهِمُ الذِّلَّةُ اَیْنَ مَا ثُقِفُوْۤا اِلَّا بِحَبْلٍ مِّنَ اللّٰهِ وَحَبْلٍ مِّنَ النَّاسِ وَبَآءُوْ بِغَضَبٍ مِّنَ اللّٰهِ وَضُرِبَتْ عَلَیْهِمُ الْمَسْكَنَةُ ؕ— ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَانُوْا یَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَیَقْتُلُوْنَ الْاَنْۢبِیَآءَ بِغَیْرِ حَقٍّ ؕ— ذٰلِكَ بِمَا عَصَوْا وَّكَانُوْا یَعْتَدُوْنَ ۟ۗ

তাদেরকে আল্লাহর প্রতিশ্রুতির বাইরে ও মানুষের প্রতিশ্রুতির বাইরে যেখানেই পাওয়া গেছে, সেখানেই তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছে। আর তারা আল্লাহর ক্রোধে পতিত হয়েছে। উপরন্তু তাদের উপর দারিদ্র্য চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা এ জন্যে যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করতো এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতো। তাছাড়া এজন্যও যে, তারা অবাধ্যতা করতো এবং সীমালঙ্ঘন করতো।

3:113

لَیْسُوْا سَوَآءً ؕ— مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ اُمَّةٌ قَآىِٕمَةٌ یَّتْلُوْنَ اٰیٰتِ اللّٰهِ اٰنَآءَ الَّیْلِ وَهُمْ یَسْجُدُوْنَ ۟

আহলু কিতাবের সবাই এক রকম নয়। তাদের মধ্যে একদল লোক আল্লাহর দ্বীনের উপর অবিচল । তারা রাতে সাজদারত হয়ে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে ।

3:114

یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَیَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَیَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَیُسَارِعُوْنَ فِی الْخَیْرٰتِ ؕ— وَاُولٰٓىِٕكَ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟

তারা (৬৩) আল্লাহ এবং আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনে, সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজে নিষেধ করে এবং তারা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে। আর তারাই সৎলোকের অন্তর্ভুক্ত।

3:115

وَمَا یَفْعَلُوْا مِنْ خَیْرٍ فَلَنْ یُّكْفَرُوْهُ ؕ— وَاللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالْمُتَّقِیْنَ ۟

আর তারা যে ভালো কাজ করে, তা অস্বীকার করা হবে না।(৬৪) আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।

3:116

اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَنْ تُغْنِیَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَلَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللّٰهِ شَیْـًٔا ؕ— وَاُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ— هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۟

নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর কাছে কোনো কাজে আসবে না।(৬৫) আর তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

3:117

مَثَلُ مَا یُنْفِقُوْنَ فِیْ هٰذِهِ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا كَمَثَلِ رِیْحٍ فِیْهَا صِرٌّ اَصَابَتْ حَرْثَ قَوْمٍ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ فَاَهْلَكَتْهُ ؕ— وَمَا ظَلَمَهُمُ اللّٰهُ وَلٰكِنْ اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ۟

তারা এ দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে, তার দৃষ্টান্ত সেই শীতল-বায়ুর মতো, যাতে তীব্র শীতলতা (ঠাণ্ডা হাওয়া) থাকে; যা আঘাত হানলো এমন এক সম্প্রদায়ের ফসলে, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, অতঃপর তা তাদের ফসল ধ্বংস করে দিল।(৬৬) আর আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি; বরং তারা নিজেদেরই প্রতি জুলুম করে।

3:118

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا یَاْلُوْنَكُمْ خَبَالًا ؕ— وَدُّوْا مَا عَنِتُّمْ ۚ— قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَآءُ مِنْ اَفْوَاهِهِمْ ۖۚ— وَمَا تُخْفِیْ صُدُوْرُهُمْ اَكْبَرُ ؕ— قَدْ بَیَّنَّا لَكُمُ الْاٰیٰتِ اِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ ۟

হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের বাইরে অন্যদের অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না (যাদেরকে তোমাদের গোপন বিষয়গুলো অবহিত করবে)। তারা (কাফিররা) তোমাদের ক্ষতিসাধনে কোনো ত্রুটি করে না; তারা তাই কামনা করে, যা তোমাদের মারাত্মক ক্ষতি করে (ও তোমাদেরকে কষ্ট দেয়)। তাদের মুখ থেকে বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়ে গেছে, আর তাদের অন্তরে যা লুকিয়ে আছে তা আরও বড়। আমি তোমাদের জন্য (দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের) নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছি, যদি তোমরা বুঝতে পারো।

3:119

هٰۤاَنْتُمْ اُولَآءِ تُحِبُّوْنَهُمْ وَلَا یُحِبُّوْنَكُمْ وَتُؤْمِنُوْنَ بِالْكِتٰبِ كُلِّهٖ ۚ— وَاِذَا لَقُوْكُمْ قَالُوْۤا اٰمَنَّا ۖۗۚ— وَاِذَا خَلَوْا عَضُّوْا عَلَیْكُمُ الْاَنَامِلَ مِنَ الْغَیْظِ ؕ— قُلْ مُوْتُوْا بِغَیْظِكُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ ۟

তোমরা তাদেরকে ভালোবাসো ঠিকই; কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না আর তোমরা সকল কিতাবের ওপর ঈমান রাখো (৬৭)। আর তারা যখন তোমাদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি; কিন্তু তারা নিজেরা যখন একান্তে মিলিত হয়, তখন তোমাদের প্রতি ক্রোধ ও আক্রোশে তারা নিজেদের আঙ্গুলের অগ্রভাগ দাঁত দিয়ে কামড়াতে থাকে।’ তুমি তাদেরকে বল: ‘তোমরা তোমাদের ক্রোধে ও আক্রোশেই মরো।’ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের অন্তরে যা রয়েছে, সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।

3:120

اِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ ؗ— وَاِنْ تُصِبْكُمْ سَیِّئَةٌ یَّفْرَحُوْا بِهَا ؕ— وَاِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا لَا یَضُرُّكُمْ كَیْدُهُمْ شَیْـًٔا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ بِمَا یَعْمَلُوْنَ مُحِیْطٌ ۟۠

যদি তোমাদেরকে কোন কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন তা তাদের মনে কষ্ট দেয়। আর যদি তোমাদেরকে মন্দ স্পর্শ করে, তখন তাতে তারা আনন্দিত হয়। আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের কর্মকাণ্ড পরিবেষ্টন করে আছেন।

3:121

وَاِذْ غَدَوْتَ مِنْ اَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِیْنَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ ؕ— وَاللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ ۟ۙ

আর স্মরণ কর, যখন তুমি তোমার পরিবার পরিজন থেকে সকাল বেলায় বের হয়ে মু’মিনদেরকে যুদ্ধের ঘাঁটিসমূহে বিন্যস্ত করছিলে। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

3:122

اِذْ هَمَّتْ طَّآىِٕفَتٰنِ مِنْكُمْ اَنْ تَفْشَلَا ۙ— وَاللّٰهُ وَلِیُّهُمَا ؕ— وَعَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ ۟

(হে নবী!) স্মরণ কর, যখন তোমাদের মধ্য থেকে দুটি দলের (বনূ সালিমাহ ও বনূ হারিসাহ মুনাফিকদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া দেখে) সাহস হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছিলো (এবং যুদ্ধ থেকে পিছু হটার ইচ্ছা করলো); কিন্তু আল্লাহ তাদের উভয়ের (সুদৃঢ় সাহস ফিরিয়ে দেয়ার জন্য) অভিভাবক (ও সাহায্যকারী)। আর আল্লাহর ওপরই যেন মু’মিনগণ তাওয়াক্কুল করে।

3:123

وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللّٰهُ بِبَدْرٍ وَّاَنْتُمْ اَذِلَّةٌ ۚ— فَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ ۟

আর আল্লাহ অবশ্যই তোমাদেরকে বদরের যুদ্ধে সাহায্য করেছেন; অথচ তোমরা তখন ছিলে হীনবল। অতএব তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো। আশা করা যায়, তোমরা শোকর আদায়কারী হবে।

3:124

اِذْ تَقُوْلُ لِلْمُؤْمِنِیْنَ اَلَنْ یَّكْفِیَكُمْ اَنْ یُّمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلٰثَةِ اٰلٰفٍ مِّنَ الْمَلٰٓىِٕكَةِ مُنْزَلِیْنَ ۟ؕ

স্মরণ কর, যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে: ‘তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে তিন হাজার নাযিলকৃত ফিরিশতা দ্বারা সাহায্য করবেন?(৬৮)

3:125

بَلٰۤی ۙ— اِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا وَیَاْتُوْكُمْ مِّنْ فَوْرِهِمْ هٰذَا یُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ اٰلٰفٍ مِّنَ الْمَلٰٓىِٕكَةِ مُسَوِّمِیْنَ ۟

অবশ্যই (এটা তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে)। যদি তোমরা (যুদ্ধের ময়দানে) ধৈর্যধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা (শত্রুপক্ষ সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে) আকস্মিক তোমাদের ওপর হামলা করে, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চি‎‎হ্নিত ফিরিশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন।

3:126

وَمَا جَعَلَهُ اللّٰهُ اِلَّا بُشْرٰی لَكُمْ وَلِتَطْمَىِٕنَّ قُلُوْبُكُمْ بِهٖ ؕ— وَمَا النَّصْرُ اِلَّا مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ الْعَزِیْزِ الْحَكِیْمِ ۟ۙ

আর আল্লাহ এ ব্যবস্থা করেছেন কেবল তোমাদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ এবং যাতে তোমাদের অন্তরসমূহ এর দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে। আর সাহায্য (ও সত্যিকার বিজয়) কেবল মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।(৬৯)

3:127

لِیَقْطَعَ طَرَفًا مِّنَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَوْ یَكْبِتَهُمْ فَیَنْقَلِبُوْا خَآىِٕبِیْنَ ۟

যাতে আল্লাহ কাফিরদের একটি অংশকে ধ্বংস করেন অথবা তাদের কে লাঞ্ছিত করেন। ফলে তারা নিরাশ মনে ফিরে যায়।

3:128

لَیْسَ لَكَ مِنَ الْاَمْرِ شَیْءٌ اَوْ یَتُوْبَ عَلَیْهِمْ اَوْ یُعَذِّبَهُمْ فَاِنَّهُمْ ظٰلِمُوْنَ ۟

(হে নবী!(৭০) তাদের) বিষয়টি তোমার হাতে নেই।(৭১) তিনি হয় তাদের তাওবা কবুল করবেন অথবা (তারা নিজেদের কুফরির উপর অটল থাকলে) তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন। কারণ তারা তো যালিম।

3:129

وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ— یَغْفِرُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَیُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ— وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ۟۠

আর আসমানসমূহ ও যমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

3:130

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَاْكُلُوا الرِّبٰۤوا اَضْعَافًا مُّضٰعَفَةً ۪— وَّاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ۟ۚ

হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃ্দ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর তোমরা আল্লাহর (আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর) তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমরা (দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করে) সফল হতে পারো।

3:131

وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِیْۤ اُعِدَّتْ لِلْكٰفِرِیْنَ ۟ۚ

আর তোমরা (নেক আমল করা ও হারাম পরিত্যাগের মাধ্যমে) সে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

3:132

وَاَطِیْعُوا اللّٰهَ وَالرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ ۟ۚ

আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।

3:133

وَسَارِعُوْۤا اِلٰی مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمٰوٰتُ وَالْاَرْضُ ۙ— اُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِیْنَ ۟ۙ

আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সে জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমানসমূহ ও জমিনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

3:134

الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ فِی السَّرَّآءِ وَالضَّرَّآءِ وَالْكٰظِمِیْنَ الْغَیْظَ وَالْعَافِیْنَ عَنِ النَّاسِ ؕ— وَاللّٰهُ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَ ۟ۚ

(মুত্তাকী তারাই) যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং (তাদের প্রতি জুলুমকারী) মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।

3:135

وَالَّذِیْنَ اِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً اَوْ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللّٰهَ فَاسْتَغْفَرُوْا لِذُنُوْبِهِمْ۫— وَمَنْ یَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللّٰهُ ۪۫— وَلَمْ یُصِرُّوْا عَلٰی مَا فَعَلُوْا وَهُمْ یَعْلَمُوْنَ ۟

আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে(৭২) আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা বারবার করে না।

3:136

اُولٰٓىِٕكَ جَزَآؤُهُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ وَجَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ— وَنِعْمَ اَجْرُ الْعٰمِلِیْنَ ۟ؕ

(উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের লোক) তারাই, যাদের প্রতিদান হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা(৭৩) এবং এমন জান্নাত, যার পাদদেশে দিয়ে প্রবাহিত হবে নদ-নদী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর সৎকর্মশীলদের প্রতিদান কতইনা উত্তম!

3:137

قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ ۙ— فَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ ۟

অবশ্যই তোমাদের পূর্বে অনেক জাতি(৭৪) অতিবাহিত হয়েছে।(৭৫) অতএব তোমরা জমিনে ভ্রমণ করো, অতঃপর দেখো (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদেরকে) অস্বীকারকারীদের পরিণতি কিরূপ হয়েছিল।

3:138

هٰذَا بَیَانٌ لِّلنَّاسِ وَهُدًی وَّمَوْعِظَةٌ لِّلْمُتَّقِیْنَ ۟

এটা (এ কুরআন) মানুষের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।

3:139

وَلَا تَهِنُوْا وَلَا تَحْزَنُوْا وَاَنْتُمُ الْاَعْلَوْنَ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখ করো না। তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মু’মিন হও।

3:140

اِنْ یَّمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهٗ ؕ— وَتِلْكَ الْاَیَّامُ نُدَاوِلُهَا بَیْنَ النَّاسِ ۚ— وَلِیَعْلَمَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَیَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ؕ— وَاللّٰهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ ۟ۙ

(হে মু’মিনগণ! উহুদের দিন) যদি তোমাদের আঘাত লেগে থাকে (আহত ও নিহত হয়ে থাকো), অনুরূপ আঘাত তো তাদেরও (কাফিরদেরও তো) লেগেছিল। মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আমি এ দিনগুলোর আবর্তন ঘটাই(৭৬), যাতে আল্লাহ (প্রকৃত) ’মুমিনগণকে (মুনাফিকদের থেকে আলাদা করে) জানতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যককে শহীদরূপে গ্রহণ করতে পারেন। আর আল্লাহ (জিহাদ পরিত্যাগ করে নিজের ওপর যুলমকারী) যালিমদেরকে পছন্দ করেন না।

3:141

وَلِیُمَحِّصَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَیَمْحَقَ الْكٰفِرِیْنَ ۟

আর আল্লাহ যাতে মু’মিনদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে পারেন এবং কাফিরদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেন।

3:142

اَمْ حَسِبْتُمْ اَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا یَعْلَمِ اللّٰهُ الَّذِیْنَ جٰهَدُوْا مِنْكُمْ وَیَعْلَمَ الصّٰبِرِیْنَ ۟

তোমরা কি মনে করে নিয়েছো যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনো জানেননি (৭৭) তোমাদের মধ্যে কে জিহাদকারী এবং কে ধৈর্যশীল?

3:143

وَلَقَدْ كُنْتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِنْ قَبْلِ اَنْ تَلْقَوْهُ ۪— فَقَدْ رَاَیْتُمُوْهُ وَاَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ ۟۠

আর তোমরা তো ইতঃপূর্বে মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার আগেই তা কামনা করতে। (৭৮) অতএব এখন তো তোমরা তা স্বচক্ষে দেখলে।

3:144

وَمَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوْلٌ ۚ— قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ ؕ— اَفَاۡىِٕنْ مَّاتَ اَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلٰۤی اَعْقَابِكُمْ ؕ— وَمَنْ یَّنْقَلِبْ عَلٰی عَقِبَیْهِ فَلَنْ یَّضُرَّ اللّٰهَ شَیْـًٔا ؕ— وَسَیَجْزِی اللّٰهُ الشّٰكِرِیْنَ ۟

আর মুহাম্মদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছুই নয়; তাঁর আগে অনেক রাসূল চলে গেছেন। কাজেই তিনি যদি মারা যান বা নিহত হন তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে?(৭৯) আর যে কেউ পেছনে ফিরে যাবে, সে কখনোই আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কার দান করবেন।

3:145

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تَمُوْتَ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ؕ— وَمَنْ یُّرِدْ ثَوَابَ الدُّنْیَا نُؤْتِهٖ مِنْهَا ۚ— وَمَنْ یُّرِدْ ثَوَابَ الْاٰخِرَةِ نُؤْتِهٖ مِنْهَا ؕ— وَسَنَجْزِی الشّٰكِرِیْنَ ۟

আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন প্রাণীই মরতে পারে না। কারণ মৃত্যুর সময় সুনির্ধারিত। যে ব্যক্তি পার্থিব পুরস্কার চায়, আমি তাকে তা দিয়ে দেই(৮০) এবং যে ব্যক্তি আখিরাতের পুরস্কার চায়, আমি তাকে তা দিয়ে দিবো। আর অচিরেই আমি কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কার প্রদান করবো।

3:146

وَكَاَیِّنْ مِّنْ نَّبِیٍّ قٰتَلَ ۙ— مَعَهٗ رِبِّیُّوْنَ كَثِیْرٌ ۚ— فَمَا وَهَنُوْا لِمَاۤ اَصَابَهُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَمَا ضَعُفُوْا وَمَا اسْتَكَانُوْا ؕ— وَاللّٰهُ یُحِبُّ الصّٰبِرِیْنَ ۟

আর কত নবী আছেন, যাঁদের সঙ্গে বহু রাব্বানী লোক যুদ্ধ করেছে। (তারপরও) আল্লাহর পথে যে বিপদ-আপদ তাদের ওপর এসেছে, তাতে তারা ভেঙে পড়েনি; দুর্বলতা দেখায়নি; শত্রুর কাছে নতি স্বীকারও করেনি।(৮১) আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালোবাসেন।

3:147

وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَاِسْرَافَنَا فِیْۤ اَمْرِنَا وَثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ ۟

তাদের একটিই কথা ছিলো: ‘হে আমাদের রব! আমাদের পাপ এবং আমাদের কাজের সীমালঙ্ঘন আপনি ক্ষমা করুন, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’

3:148

فَاٰتٰىهُمُ اللّٰهُ ثَوَابَ الدُّنْیَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْاٰخِرَةِ ؕ— وَاللّٰهُ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَ ۟۠

ফলে আল্লাহ তাদেরকে (বিজয় ও প্রতিষ্ঠা দান করার মাধ্যমে) দুনিয়ার পুরস্কার এবং আখিরাতের উত্তম প্রতিদান (জান্নাত) দিলেন। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।

3:149

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تُطِیْعُوا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا یَرُدُّوْكُمْ عَلٰۤی اَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوْا خٰسِرِیْنَ ۟

হে মুমিনগণ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য করো, তারা তোমাদেরকে (ঈমান আনার পরে) তোমাদের পূর্বাবস্থায় (কুফরিতে) ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ফলে তোমরা (দুনিয়া ও আখিরাতে) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

3:150

بَلِ اللّٰهُ مَوْلٰىكُمْ ۚ— وَهُوَ خَیْرُ النّٰصِرِیْنَ ۟

বরং আল্লাহই তো তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই সর্বোত্তম সাহায্যকারী।

3:151

سَنُلْقِیْ فِیْ قُلُوْبِ الَّذِیْنَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَاۤ اَشْرَكُوْا بِاللّٰهِ مَا لَمْ یُنَزِّلْ بِهٖ سُلْطٰنًا ۚ— وَمَاْوٰىهُمُ النَّارُ ؕ— وَبِئْسَ مَثْوَی الظّٰلِمِیْنَ ۟

অচিরেই আমি কাফিরদের অন্তরে কঠিন ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিবো। যেহেতু তারা আল্লাহর সাথে শরীক করেছে, যে সম্পর্কে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। আর তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম এবং যালিমদের ঠিকানা (জাহান্নাম) কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল!

3:152

وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللّٰهُ وَعْدَهٗۤ اِذْ تَحُسُّوْنَهُمْ بِاِذْنِهٖ ۚ— حَتّٰۤی اِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِی الْاَمْرِ وَعَصَیْتُمْ مِّنْ بَعْدِ مَاۤ اَرٰىكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَ ؕ— مِنْكُمْ مَّنْ یُّرِیْدُ الدُّنْیَا وَمِنْكُمْ مَّنْ یُّرِیْدُ الْاٰخِرَةَ ۚ— ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِیَبْتَلِیَكُمْ ۚ— وَلَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ ؕ— وَاللّٰهُ ذُوْ فَضْلٍ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ ۟

আর আল্লাহ তোমাদের কাছে তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত করেছিলেন, যখন তোমরা তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে হত্যা করছিলে। অবশেষে যখন তোমরা দুর্বলতা দেখালে এবং তার নির্দেশ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলে এবং তোমরা যা ভালোবাসো তা তোমাদেরকে দেখানোর পরেও তোমরা অবাধ্য হলে। মূলত তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া (গনীমত) চাচ্ছিলো আর কেউ চাচ্ছিলো আখিরাত (পরকালের সাওয়াব)। তারপর আল্লাহ পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন (৮২), যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন। আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ মু’মিনদের ওপর অনুগ্রহশীল।

3:153

اِذْ تُصْعِدُوْنَ وَلَا تَلْوٗنَ عَلٰۤی اَحَدٍ وَّالرَّسُوْلُ یَدْعُوْكُمْ فِیْۤ اُخْرٰىكُمْ فَاَثَابَكُمْ غَمًّا بِغَمٍّ لِّكَیْلَا تَحْزَنُوْا عَلٰی مَا فَاتَكُمْ وَلَا مَاۤ اَصَابَكُمْ ؕ— وَاللّٰهُ خَبِیْرٌ بِمَا تَعْمَلُوْنَ ۟

(হে মু’মিনগণ) তোমরা স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন তোমরা (উহুদের দিন যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালাতে) ওপরের (পাহাড়ের) দিকে ছুটছিলে এবং পিছন ফিরে কারো প্রতি লক্ষ্য করছিলে না(৮৩), আর রাসূল তোমাদেরকে পিছন দিক থেকে ডাকছিল(৮৪)। ফলে তিনি তোমাদেরকে বিপদের উপর বিপদ (পরাজয়ের উপর রাসূলের মৃত্যু সংবাদ) দিলেন(৮৫), যাতে তোমরা (রাসূল মারা যায়নি জেনে উহুদের দিনে) যা হারিয়েছ এবং যে বিপদ তোমাদের ওপর এসেছে তার জন্য তোমরা দুঃখিত না হও। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।

3:154

ثُمَّ اَنْزَلَ عَلَیْكُمْ مِّنْ بَعْدِ الْغَمِّ اَمَنَةً نُّعَاسًا یَّغْشٰی طَآىِٕفَةً مِّنْكُمْ ۙ— وَطَآىِٕفَةٌ قَدْ اَهَمَّتْهُمْ اَنْفُسُهُمْ یَظُنُّوْنَ بِاللّٰهِ غَیْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِیَّةِ ؕ— یَقُوْلُوْنَ هَلْ لَّنَا مِنَ الْاَمْرِ مِنْ شَیْءٍ ؕ— قُلْ اِنَّ الْاَمْرَ كُلَّهٗ لِلّٰهِ ؕ— یُخْفُوْنَ فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ مَّا لَا یُبْدُوْنَ لَكَ ؕ— یَقُوْلُوْنَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْاَمْرِ شَیْءٌ مَّا قُتِلْنَا هٰهُنَا ؕ— قُلْ لَّوْ كُنْتُمْ فِیْ بُیُوْتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِیْنَ كُتِبَ عَلَیْهِمُ الْقَتْلُ اِلٰی مَضَاجِعِهِمْ ۚ— وَلِیَبْتَلِیَ اللّٰهُ مَا فِیْ صُدُوْرِكُمْ وَلِیُمَحِّصَ مَا فِیْ قُلُوْبِكُمْ ؕ— وَاللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ ۟

অতঃপর দুঃখ ও সঙ্কীর্ণতার পর তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করলেন তন্দ্রারূপে প্রশান্তি, যা তোমাদের একদলকে ঘুমে আচ্ছন্ন করেছিল এবং আরেক দল জাহিলী যুগের অজ্ঞের ন্যায় আল্লাহ সম্বন্ধে অবাস্তব ধারণা(৮৬) করে নিজেরাই নিজেদেরকে উদ্বিগ্ন করেছিল এ বলে যে, ‘আমাদের কি কোন কিছু করার আছে?’(৮৭) হে নবী! তুমি তাদের উত্তরে বল: ‘সব বিষয় আল্লাহর ইখতিয়ারে’।(৮৮) যা তারা তোমার কাছে প্রকাশ করে না, তারা তাদের অন্তরে সেগুলো গোপন রাখে। তারা বলে: ‘এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কিছু করার থাকলে আমরা এখানে নিহত হতাম না।’(৮৯)বল: ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরে অবস্থান করতে, তবুও নিহত হওয়া যাদের ভাগ্যে লেখা ছিল তারা নিজেদের মৃত্যুস্থানে বের হত-ই। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরীক্ষা করতে চান এবং তোমাদের মনে যা আছে তা পরিশুদ্ধ করতে চান। আর অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে আল্লাহ বিশেষভাবে অবগত।

3:155

اِنَّ الَّذِیْنَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ یَوْمَ الْتَقَی الْجَمْعٰنِ ۙ— اِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّیْطٰنُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوْا ۚ— وَلَقَدْ عَفَا اللّٰهُ عَنْهُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ حَلِیْمٌ ۟۠

নিশ্চয় যেদিন দুদল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল, সেদিন তোমাদের মধ্য থেকে যারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল, তাদের এ পদস্খলনের কারণ ছিল এই যে, তাদের কোনো কৃতকর্মের কারণে শয়তান তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। অবশ্য আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।(৯০) নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও অতি সহনশীল।

3:156

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَقَالُوْا لِاِخْوَانِهِمْ اِذَا ضَرَبُوْا فِی الْاَرْضِ اَوْ كَانُوْا غُزًّی لَّوْ كَانُوْا عِنْدَنَا مَا مَاتُوْا وَمَا قُتِلُوْا ۚ— لِیَجْعَلَ اللّٰهُ ذٰلِكَ حَسْرَةً فِیْ قُلُوْبِهِمْ ؕ— وَاللّٰهُ یُحْیٖ وَیُمِیْتُ ؕ— وَاللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ ۟

হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের (মুনাফিকদের) মতো হয়ো না যারা কুফরী করে এবং তাদের ভাইয়েরা যখন (রিযিকের অনুসন্ধানে) বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে বা যুদ্ধে যায় (এবং সেখানে মারা যায়) তখন তাদের সম্পর্কে বলে: ‘তারা যদি আমাদের কাছে থাকতো তবে তারা মারা যেতো না এবং নিহতও হতো না।’ আর আল্লাহ তাদের এ ধরনের কথাকে তাদের মনের দুঃখ ও দুশ্চিন্তার কারণ বানিয়ে দেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। আর আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কার্যাবলীর ওপর দৃষ্টিদানকারী।

3:157

وَلَىِٕنْ قُتِلْتُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَوْ مُتُّمْ لَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَرَحْمَةٌ خَیْرٌ مِّمَّا یَجْمَعُوْنَ ۟

আর তোমাদেরকে যদি আল্লাহর পথে হত্যা করা হয় অথবা তোমরা মারা যাও, তাহলে তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে ক্ষমা ও দয়া লাভ করবে, তা এরা যা কিছু একত্রিত করে তার থেকে উত্তম।

3:158

وَلَىِٕنْ مُّتُّمْ اَوْ قُتِلْتُمْ لَاۡاِلَی اللّٰهِ تُحْشَرُوْنَ ۟

আর যদি তোমরা (তোমাদের যে কোন অবস্থায় ) মারা যাও অথবা তোমাদেরকে (আল্লাহর পথে) শহীদ করা হয় (তাতে কী?) তোমাদেরকে আল্লাহর নিকটই একত্রিত করা হবে।

3:159

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ لِنْتَ لَهُمْ ۚ— وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِیْظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِكَ ۪— فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِی الْاَمْرِ ۚ— فَاِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِیْنَ ۟

আল্লাহর অতীব দয়ায় তুমি তাদের প্রতি হয়েছিলে কোমল-হৃদয়ের ; যদি তুমি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতে তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে বহু দূরে সরে যেতো। কাজেই তুমি তাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কাজে কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। তারপর তুমি কোনো কাজ করার সংকল্প করলে আল্লাহর উপর নির্ভর করবে। নিশ্চয় আল্লাহ নির্ভরকারীদের ভালোবাসেন।

3:160

اِنْ یَّنْصُرْكُمُ اللّٰهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۚ— وَاِنْ یَّخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِیْ یَنْصُرُكُمْ مِّنْ بَعْدِهٖ ؕ— وَعَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ ۟

আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করলে কেউ তোমাদেরকে পরাজিত করতে পারবে না। আর তিনি তোমাদেরকে সাহায্য না করলে, তিনি ছাড়া কে এমন আছে যে তোমাদেরকে সাহায্যকরবে? (৯১) সুতরাং মু’মিনগণের আল্লাহর ওপরই নির্ভর করা উচিত।

3:161

وَمَا كَانَ لِنَبِیٍّ اَنْ یَّغُلَّ ؕ— وَمَنْ یَّغْلُلْ یَاْتِ بِمَا غَلَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ۚ— ثُمَّ تُوَفّٰی كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۟

আর কোন নবীর পক্ষে অন্যায়ভাবে (গনীমত আত্মসাৎ বা) কোনো কিছু গোপন করা সম্ভব নয়। আর যে খিয়ানত করবে (গনীমতের কোন কিছু আত্মসাৎ করে), কিয়ামতের দিনে উপস্থিত হবে তা নিয়ে, যা সে খিয়ানত করেছে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুরোপুরি (প্রতিদান) দেয়া হবে, যা সে (পার্থিব জীবনে ভালো-মন্দ) উপার্জন করেছে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না।

3:162

اَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَ اللّٰهِ كَمَنْ بَآءَ بِسَخَطٍ مِّنَ اللّٰهِ وَمَاْوٰىهُ جَهَنَّمُ ؕ— وَبِئْسَ الْمَصِیْرُ ۟

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছে, সে কি তার মতো হতে পারে যে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরে এসেছে ? আর তার আবাস হলো জাহান্নাম এবং তা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল!

3:163

هُمْ دَرَجٰتٌ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ— وَاللّٰهُ بَصِیْرٌ بِمَا یَعْمَلُوْنَ ۟

আল্লাহর নিকট (দুনিয়া ও আখিরাতে) তাদের রয়েছে বিভিন্ন স্তর ও মর্যাদা। তারা যা করে, আল্লাহ সেসব ভালোভাবে দেখেন।(৯২)

3:164

لَقَدْ مَنَّ اللّٰهُ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْ بَعَثَ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْ اَنْفُسِهِمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِهٖ وَیُزَكِّیْهِمْ وَیُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ ۚ— وَاِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟

নিশ্চয়ই আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাঁর আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করে, তাদেরকেপরিশুদ্ধ করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়; যদিও তারা আগে সুস্পষ্ট ভ্রান্তিতে ও গোমরাহীতে ছিলো।

3:165

اَوَلَمَّاۤ اَصَابَتْكُمْ مُّصِیْبَةٌ قَدْ اَصَبْتُمْ مِّثْلَیْهَا ۙ— قُلْتُمْ اَنّٰی هٰذَا ؕ— قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اَنْفُسِكُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۟

কী ব্যাপার! তোমাদের ওপর যখন বিপদ এসেছিলো তখন তোমরা বলেছিলে: ‘এটা কোত্থেকে আসলো?’ অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। তুমি তাদেরকে বল: ‘এটা তোমাদের নিজেদেরই পক্ষ থেকেই’। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।(৯৩)

3:166

وَمَاۤ اَصَابَكُمْ یَوْمَ الْتَقَی الْجَمْعٰنِ فَبِاِذْنِ اللّٰهِ وَلِیَعْلَمَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟ۙ

আর (উহুদ যুদ্ধে) যেদিন দু’দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল, সেদিন তোমাদের ওপর যে বিপর্যয়(৯৪) ঘটেছিলো, তা আল্লাহর হুকুমেই ঘটেছিল; যাতে তিনি মু’মিনদেরকে জেনে নেন।

3:167

وَلِیَعْلَمَ الَّذِیْنَ نَافَقُوْا ۖۚ— وَقِیْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَوِ ادْفَعُوْا ؕ— قَالُوْا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًا لَّاتَّبَعْنٰكُمْ ؕ— هُمْ لِلْكُفْرِ یَوْمَىِٕذٍ اَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْاِیْمَانِ ۚ— یَقُوْلُوْنَ بِاَفْوَاهِهِمْ مَّا لَیْسَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ ؕ— وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا یَكْتُمُوْنَ ۟ۚ

আর যাতে তিনি তাদেরকেও চিনে নিতে পারেন, যারা মুনাফিক। আর তাদেরকে বলা হয়েছিল: ‘এসো, তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো অথবা প্রতিরোধ করো।’ তারা বলেছিল: ‘সত্যিই যদি যুদ্ধ হবে জানতাম তবে নিশ্চিতভাবে তোমাদের অনুসরণ করতাম’।(৯৫) সেদিন তারা ঈমানের চেয়ে কুফরীর অধিকতর নিকটবর্তী ছিল। বস্তুত তারা মুখ দিয়ে এমন কথা বলে, যা তাদের অন্তরে নেই এবং তারা যা গোপন রাখে, আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন।

3:168

اَلَّذِیْنَ قَالُوْا لِاِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوْا لَوْ اَطَاعُوْنَا مَا قُتِلُوْا ؕ— قُلْ فَادْرَءُوْا عَنْ اَنْفُسِكُمُ الْمَوْتَ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟

যারা ঘরে বসে রইল এবং তারা তাদের আত্মীয়দেরকে বলল যে, ‘তারা তাদের কথামত চললে নিহত হতো না।’ হে নবী! তুমি তাদেরকে বল: ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে নিজেদেরকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করো।

3:169

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَمْوَاتًا ؕ— بَلْ اَحْیَآءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ یُرْزَقُوْنَ ۟ۙ

আর (হে নবী!) যারা আল্লাহর পথে (যুদ্ধ করে) নিহত হয়েছে, তাদেরকে তুমি মৃত মনে করিও না, বরং তারা (বিশেষ জীবনে) জীবিত। তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে রিযক দেওয়া হয়।

3:170

فَرِحِیْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ ۙ— وَیَسْتَبْشِرُوْنَ بِالَّذِیْنَ لَمْ یَلْحَقُوْا بِهِمْ مِّنْ خَلْفِهِمْ ۙ— اَلَّا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ ۟ۘ

আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত এবং তাদের পিছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের বিষয়ে তারা সুসংবাদ প্রকাশ করছে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

3:171

یَسْتَبْشِرُوْنَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ وَفَضْلٍ ۙ— وَّاَنَّ اللّٰهَ لَا یُضِیْعُ اَجْرَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۟

তারা আল্লাহর প্রাপ্ত নি‘আমত ও অনুগ্রহের জন্য আনন্দ প্রকাশ করে এবং আল্লাহ মু’মিনদের কর্মফল বিনষ্ট করেন না।

3:172

اَلَّذِیْنَ اسْتَجَابُوْا لِلّٰهِ وَالرَّسُوْلِ مِنْ بَعْدِ مَاۤ اَصَابَهُمُ الْقَرْحُ ۛؕ— لِلَّذِیْنَ اَحْسَنُوْا مِنْهُمْ وَاتَّقَوْا اَجْرٌ عَظِیْمٌ ۟ۚ

যারা আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পরও আল্লাহ এবং রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে, তাদের মধ্য থেকে যারা সৎকর্ম করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

3:173

اَلَّذِیْنَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ اِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ اِیْمَانًا ۖۗ— وَّقَالُوْا حَسْبُنَا اللّٰهُ وَنِعْمَ الْوَكِیْلُ ۟

লোকেরা তাদেরকে বলেছিল: ‘তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট বাহিনী জড়ো হয়েছে, কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো।’(৯৬) কিন্তু এ কথা শুনে আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান আরো বেড়ে গিয়েছিলো এবং তারা বলেছিলো: ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!’

3:174

فَانْقَلَبُوْا بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ وَفَضْلٍ لَّمْ یَمْسَسْهُمْ سُوْٓءٌ ۙ— وَّاتَّبَعُوْا رِضْوَانَ اللّٰهِ ؕ— وَاللّٰهُ ذُوْ فَضْلٍ عَظِیْمٍ ۟

তারপর তারা(৯৭) আল্লাহর নি‘আমত ও অনুগ্রহসহ ফিরে এসেছিল। কোনো অনিষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করেনি। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।

3:175

اِنَّمَا ذٰلِكُمُ الشَّیْطٰنُ یُخَوِّفُ اَوْلِیَآءَهٗ ۪— فَلَا تَخَافُوْهُمْ وَخَافُوْنِ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۟

সে তো শয়তান। সে তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়। কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় করো; যদি তোমরা মু’মিন হও।

3:176

وَلَا یَحْزُنْكَ الَّذِیْنَ یُسَارِعُوْنَ فِی الْكُفْرِ ۚ— اِنَّهُمْ لَنْ یَّضُرُّوا اللّٰهَ شَیْـًٔا ؕ— یُرِیْدُ اللّٰهُ اَلَّا یَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّا فِی الْاٰخِرَةِ ۚ— وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ ۟

যারা কুফরীতে দ্রুত ধাবিত হয়, তাদের আচরণ যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। তারা কখনো আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ আখিরাতে তাদেরকে কোনো অংশ দেবার ইচ্ছা করেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

3:177

اِنَّ الَّذِیْنَ اشْتَرَوُا الْكُفْرَ بِالْاِیْمَانِ لَنْ یَّضُرُّوا اللّٰهَ شَیْـًٔا ۚ— وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟

নিশ্চয় যারা ঈমানের বিনিময়ে কুফরী ক্রয় করেছে, তারা কখনো আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

3:178

وَلَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّمَا نُمْلِیْ لَهُمْ خَیْرٌ لِّاَنْفُسِهِمْ ؕ— اِنَّمَا نُمْلِیْ لَهُمْ لِیَزْدَادُوْۤا اِثْمًا ۚ— وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ ۟

আর কাফিররা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি তাদের জন্য যে অবকাশ দেই(৯৮), তা তাদের কল্যাণের জন্যে। আমি তো তাদেরকে অবকাশ দেই যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়। আর তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

3:179

مَا كَانَ اللّٰهُ لِیَذَرَ الْمُؤْمِنِیْنَ عَلٰی مَاۤ اَنْتُمْ عَلَیْهِ حَتّٰی یَمِیْزَ الْخَبِیْثَ مِنَ الطَّیِّبِ ؕ— وَمَا كَانَ اللّٰهُ لِیُطْلِعَكُمْ عَلَی الْغَیْبِ وَلٰكِنَّ اللّٰهَ یَجْتَبِیْ مِنْ رُّسُلِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ۪— فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَرُسُلِهٖ ۚ— وَاِنْ تُؤْمِنُوْا وَتَتَّقُوْا فَلَكُمْ اَجْرٌ عَظِیْمٌ ۟

আল্লাহ এমন নন যে, তিনি মু’মিনদেরকে ছেড়ে দিবেন যার ওপর তোমরা আছো; যতক্ষণ না তিনি পৃথক করবেন অপবিত্র লোকদেরকে পবিত্র লোকদের থেকে। আর আল্লাহ এমনও নন যে, তিনি তোমাদেরকে গায়িব সম্পর্কে জানাবেন।(৯৯) তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের উপর ঈমান আনো। আর যদি তোমরা ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো তাহলে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

3:180

وَلَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ یَبْخَلُوْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ هُوَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ— بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ؕ— سَیُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهٖ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ— وَلِلّٰهِ مِیْرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— وَاللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ ۟۠

আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দান করেছেন, তা থেকে যারা কৃপণতা করে(১০০), তারা যেন এই কৃপণতাকে নিজেদের জন্যে কিছুতেই কল্যাণকর মনে না করে। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। কৃপণতা করে তারা যা কিছু জমাচ্ছে, কিয়ামতের দিন সেটাই তাদের গলার বেড়ী হিসাবে পরিয়ে দেয়া হবে। আসমানসমূহ ও জমিনের সত্ত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যে আমল করো, আল্লাহ সে ব্যাপারে সম্যক জ্ঞাত।

3:181

لَقَدْ سَمِعَ اللّٰهُ قَوْلَ الَّذِیْنَ قَالُوْۤا اِنَّ اللّٰهَ فَقِیْرٌ وَّنَحْنُ اَغْنِیَآءُ ۘ— سَنَكْتُبُ مَا قَالُوْا وَقَتْلَهُمُ الْاَنْۢبِیَآءَ بِغَیْرِ حَقٍّ ۙۚ— وَّنَقُوْلُ ذُوْقُوْا عَذَابَ الْحَرِیْقِ ۟

আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন যারা বলে, ‘আল্লাহ অবশ্যই অভাবগ্রস্ত এবং আমরা অভাবমুক্ত’। তারা যা কিছু বলেছে তা এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করার বিষয়টি আমি লিখে রাখব। আর আমি বলবো: ‘তোমরা জাহান্নামের আযাবের স্বাদ ভোগ করো।’

3:182

ذٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْكُمْ وَاَنَّ اللّٰهَ لَیْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِ ۟ۚ

এ হচ্ছে, তোমাদের কৃতকর্মের প্রতিফল এবং এটা এ কারণেও যে, আল্লাহ বান্দাদের প্রতি মোটেই যালিম নন।

3:183

اَلَّذِیْنَ قَالُوْۤا اِنَّ اللّٰهَ عَهِدَ اِلَیْنَاۤ اَلَّا نُؤْمِنَ لِرَسُوْلٍ حَتّٰی یَاْتِیَنَا بِقُرْبَانٍ تَاْكُلُهُ النَّارُ ؕ— قُلْ قَدْ جَآءَكُمْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِیْ بِالْبَیِّنٰتِ وَبِالَّذِیْ قُلْتُمْ فَلِمَ قَتَلْتُمُوْهُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟

যারা বলে, ‘আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন কোনো রাসূলের প্রতি ঈমান না আনি যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমাদের কাছে এমন কুরবানী উপস্থিত না করবে, যা আগুন খেয়ে ফেলবে। তাদেরকে বলো: ‘আমার আগে অনেক রাসূল সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এবং তোমরা যা বলছ তা সহ তোমাদের কাছে এসেছিল। তারপরেও কেন তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো?

3:184

فَاِنْ كَذَّبُوْكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ جَآءُوْ بِالْبَیِّنٰتِ وَالزُّبُرِ وَالْكِتٰبِ الْمُنِیْرِ ۟

(হে নবী!) তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যারোপ করে, তবে তোমার আগে বহু রাসূলকেও মিথ্যারোপ করা হয়েছিলো, যারা সুস্পষ্ট নিদর্শন, (উপদেশভরা) আসমানী সহীফা(১০১) এবং দীপ্তিমান কিতাবসহ এসেছিলো।

3:185

كُلُّ نَفْسٍ ذَآىِٕقَةُ الْمَوْتِ ؕ— وَاِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ— فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَاُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ؕ— وَمَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ ۟

প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেবল কিয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম হবে। বস্তুত, পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

3:186

لَتُبْلَوُنَّ فِیْۤ اَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ ۫— وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْۤا اَذًی كَثِیْرًا ؕ— وَاِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ ۟

তোমাদেরকে অবশ্যই তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবনের ব্যাপারে পরীক্ষা করা হবে। তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের এবং মুশরিকদের কাছ থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো এবংতাকওয়া অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ।

3:187

وَاِذْ اَخَذَ اللّٰهُ مِیْثَاقَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ لَتُبَیِّنُنَّهٗ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُوْنَهٗ ؗۗ— فَنَبَذُوْهُ وَرَآءَ ظُهُوْرِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهٖ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؕ— فَبِئْسَ مَا یَشْتَرُوْنَ ۟

স্মরণ কর, যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের থেকে এ প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, ‘অবশ্যই তোমরা তা মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না।’ এরপরও তারা তা তাদের পেছনে ফেলে রাখে ও ও (আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার) এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে। কাজেই তারা যা ক্রয় করে,তা কতইনা নিকৃষ্ট!

3:188

لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ یَفْرَحُوْنَ بِمَاۤ اَتَوْا وَّیُحِبُّوْنَ اَنْ یُّحْمَدُوْا بِمَا لَمْ یَفْعَلُوْا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِّنَ الْعَذَابِ ۚ— وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟

যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নিজেরা যা করেনি এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে, তারা আযাব থেকে মুক্তি পাবে- এরূপ তুমি কখনো মনে করো না । আর তাদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

3:189

وَلِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ— وَاللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۟۠

আর আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌম মালিকানা একমাত্র আল্লাহরই। আর আল্লাহ সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

3:190

اِنَّ فِیْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافِ الَّیْلِ وَالنَّهَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الْاَلْبَابِ ۟ۚۖ

আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্য রয়েছে অনেক নিদর্শন।

3:191

الَّذِیْنَ یَذْكُرُوْنَ اللّٰهَ قِیٰمًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰی جُنُوْبِهِمْ وَیَتَفَكَّرُوْنَ فِیْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ۚ— رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ— سُبْحٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ۟

যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করে, আর বলে: ‘হে আমাদের রব! আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র। অতএব আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।’

3:192

رَبَّنَاۤ اِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ اَخْزَیْتَهٗ ؕ— وَمَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ اَنْصَارٍ ۟

‘হে আমাদের রব! আপনি (আপনার সৃষ্টির) কাউকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করলে তাকে তো আপনি নিশ্চয়ই লাঞ্ছিত ও অপমানিত করলেন। আর যালিমদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী নেই।’

3:193

رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِیًا یُّنَادِیْ لِلْاِیْمَانِ اَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَاٰمَنَّا ۖۗ— رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ ۟ۚ

‘হে আমাদের রব! আমরা এক আহ্‌বায়ককে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি। ‘তোমরা তোমাদের রবের উপর ঈমান আনো।’ কাজেই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দকর্ম ও ক্রটি-বিচ্যুতি বিদূরিত করুন এবং পরিশেষে আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করে মৃত্যু দিন।’

3:194

رَبَّنَا وَاٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ— اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ ۟

‘হে আমাদের রব! আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন. তা আমাদেরকে দান করুন এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।’

3:195

فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ اَنِّیْ لَاۤ اُضِیْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُ ۚ— بَعْضُكُمْ مِّنْ بَعْضٍ ۚ— فَالَّذِیْنَ هَاجَرُوْا وَاُخْرِجُوْا مِنْ دِیَارِهِمْ وَاُوْذُوْا فِیْ سَبِیْلِیْ وَقٰتَلُوْا وَقُتِلُوْا لَاُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَلَاُدْخِلَنَّهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ۚ— ثَوَابًا مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ— وَاللّٰهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ ۟

তারপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন: ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্যে আমলকারী কোনো পুরুষ বা নারীর আমল (সাওয়াব) নষ্ট করব না। তোমরা একে অপরের অংশ (সবাই সাওয়াব ও শাস্তিতে সমান)। কাজেই যারা হিজরত করেছে, যাদেরকে নিজ ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, আমার (আনুগত্যের) পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি তাদের পাপসমূহ অবশ্যই দূর করব এবং অবশ্যই তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। এটা আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার। আর আল্লাহরই কাছে রয়েছে উত্তম পুরস্কার।

3:196

لَا یَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فِی الْبِلَادِ ۟ؕ

যারা কুফরী করেছে, দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই আপনাকে বিভ্রান্ত না করে।(১০২)

3:197

مَتَاعٌ قَلِیْلٌ ۫— ثُمَّ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ— وَبِئْسَ الْمِهَادُ ۟

তো স্বল্পকালীন সময়ের সুখ-সম্ভোগ মাত্র। তারপর জাহান্নাম তাদের আবাসস্থল। আর এটা কতই না নিকৃষ্ট বাসস্থান!

3:198

لٰكِنِ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا نُزُلًا مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ— وَمَا عِنْدَ اللّٰهِ خَیْرٌ لِّلْاَبْرَارِ ۟

কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এ হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আতিথেয়তা। আর আল্লাহর কাছে সৎকর্মপরায়ণদের জন্যে যা আছে তা অতি উত্তম ও অধিক শ্রেষ্ঠ ।

3:199

وَاِنَّ مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ لَمَنْ یُّؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكُمْ وَمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِمْ خٰشِعِیْنَ لِلّٰهِ ۙ— لَا یَشْتَرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؕ— اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ ۟

আর নিশ্চয় আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হয়ে তাঁর প্রতি এবং তিনি যা তোমাদের ও তাদের প্রতি নাযিল করেছেন, তাতে ঈমান আনে। তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে না। এরা সেসব লোক, যাদের জন্যে তাদের রবের কাছে রয়েছে পুরস্কার। নিশ্চয়ই আল্লাহ (আমলের) দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

3:200

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا ۫— وَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ۟۠

হে মুমিনগণ! ধৈর্যধারণ করো, (শত্রুদের চেয়ে) বেশী ধৈর্যশীল হও (১০৩) এবং সবসময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকো। আর আল্লাহর (আদেশ-নিষেধ মেনে) তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।

সূত্র: Bangla translation: Rowwad Translation Center, QuranEnc.com — quranenc.com (fetched 2026-10-18) Hanafi font: DigitalKhatt IndoPak © Amine Anane, Tarteel Inc. (SIL OFL 1.1) — github.com (downloaded 2026-10-18) Madinah font: AlQuran-IndoPak by QuranWBW — github.com (v4.2.2) Quran text (Hanafi): Quranic Universal Library (QUL) by Tarteel — qul.tarteel.ai (downloaded 2026-10-18) Quran text (Madinah): Ayman Siddiqui & R. Siddiqua, QuranWBW.com / Quran.com — github.com (v9.6.1) Surah and para data: Tanzil.net (CC BY 3.0) — tanzil.net (1.0) তিলাওয়াত: Abdur-Rahman as-Sudais — everyayah.com তিলাওয়াত: Mishary Rashid Alafasy — everyayah.com তিলাওয়াত: Abdul Basit Abdus-Samad (Murattal) — everyayah.com

কাজের ফাঁকে কুরআন — KarbarX-এর ভেতরেই

দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।

৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়