یٰسٓ ۟ۚ
ইয়াসীন
Yaseen · 83 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
یٰسٓ ۟ۚ
ইয়াসীন
وَالْقُرْاٰنِ الْحَكِیْمِ ۟ۙ
প্রজ্ঞাময় কুরআনের শপথ।
اِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۙ
হে রাসূল! নিশ্চয় তুমি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত।
عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۟ؕ
সরল-সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
تَنْزِیْلَ الْعَزِیْزِ الرَّحِیْمِ ۟ۙ
এটি (আল কুরআন) প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَّاۤ اُنْذِرَ اٰبَآؤُهُمْ فَهُمْ غٰفِلُوْنَ ۟
যাতে তুমি এমন এক জাতিকে সতর্ক কর, যাদের পিতৃপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি।(১) কাজেই তারা (ঈমান ও একত্ববাদ থেকে) উদাসীন।
لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلٰۤی اَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ ۟
অবশ্যই তাদের অধিকাংশের ওপর আল্লাহর বাণী (শাস্তি) অবধারিত হয়েছে, ফলে তারা ঈমান আনবে না।
اِنَّا جَعَلْنَا فِیْۤ اَعْنَاقِهِمْ اَغْلٰلًا فَهِیَ اِلَی الْاَذْقَانِ فَهُمْ مُّقْمَحُوْنَ ۟
নিশ্চয় আমি তাদের গলায় শিকল পরিয়ে দিয়েছি এবং তা চিবুক পর্যন্ত (ঢেকে দিয়েছে)। ফলে তারা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আছে।(২)
وَجَعَلْنَا مِنْ بَیْنِ اَیْدِیْهِمْ سَدًّا وَّمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَاَغْشَیْنٰهُمْ فَهُمْ لَا یُبْصِرُوْنَ ۟
আর আমি তাদের (সত্য গ্রহণের পথে) সামনে একটি প্রাচীর ও তাদের পিছনে একটি প্রাচীর স্থাপন করেছি। অতঃপর আমি তাদের (৩) ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা (হিদায়াত) দেখতে পায় না। (৩) দৃষ্টিকে সত্য দেখা থেকে ঢেকে দিয়েছি, তাই তারা হিদায়াতের পথ দেখতে পায় না।
وَسَوَآءٌ عَلَیْهِمْ ءَاَنْذَرْتَهُمْ اَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ ۟
হে নবী! তুমি তাদেরকে সতর্ক কর অথবা না কর, তাদের কাছে উভয়ই সমান; তারা ঈমান আনবে না।
اِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِیَ الرَّحْمٰنَ بِالْغَیْبِ ۚ— فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَّاَجْرٍ كَرِیْمٍ ۟
তুমি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবে যে উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখেও পরম করুণাময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে তুমি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দাও।
اِنَّا نَحْنُ نُحْیِ الْمَوْتٰی وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوْا وَاٰثَارَهُمْ ؔؕ— وَكُلَّ شَیْءٍ اَحْصَیْنٰهُ فِیْۤ اِمَامٍ مُّبِیْنٍ ۟۠
নিশ্চয় আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি, আর লিখে রাখি, যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং যা পিছনে রেখে যায়।(৪) আর প্রতিটি বস্তুকেই আমি সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করে রেখেছি।
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلًا اَصْحٰبَ الْقَرْیَةِ ۘ— اِذْ جَآءَهَا الْمُرْسَلُوْنَ ۟ۚ
হে রাসূল! তুমি তাদের কাছে এক জনপদের(৫) অধিবাসীদের উপমা বর্ণনা কর, যখন তাদের কাছে রাসূলগণ এসেছিল।(৬)
اِذْ اَرْسَلْنَاۤ اِلَیْهِمُ اثْنَیْنِ فَكَذَّبُوْهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوْۤا اِنَّاۤ اِلَیْكُمْ مُّرْسَلُوْنَ ۟
যখন আমি তাদের কাছে দু’জন রাসূল পাঠিয়েছিলাম, তখন তারা তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। তারপর আমি তাদেরকে তৃতীয় একজন রাসূলের দ্বারা শক্তিশালী করেছিলাম। অতঃপর তারা বলেছিল: ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত রাসূল।’
قَالُوْا مَاۤ اَنْتُمْ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا ۙ— وَمَاۤ اَنْزَلَ الرَّحْمٰنُ مِنْ شَیْءٍ ۙ— اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا تَكْذِبُوْنَ ۟
তারা বলল: ‘তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ।(৭) আর পরম করুণাময় তো কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা শুধু মিথ্যাই বলছ।
قَالُوْا رَبُّنَا یَعْلَمُ اِنَّاۤ اِلَیْكُمْ لَمُرْسَلُوْنَ ۟
তারা (রাসূলগণ) বলল: ‘আমাদের রব জানেন, অবশ্যই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত রাসূল।’
وَمَا عَلَیْنَاۤ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ ۟
‘আর সুস্পষ্টভাবে (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়ে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব।’
قَالُوْۤا اِنَّا تَطَیَّرْنَا بِكُمْ ۚ— لَىِٕنْ لَّمْ تَنْتَهُوْا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَیَمَسَّنَّكُمْ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟
তারা (গ্রামবাসীরা রাসূলগণকে) বলল: ‘আমরা তো তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি।(৭) তোমরা যদি (একত্ববাদের দাওয়াত থেকে) বিরত না হও, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।’
قَالُوْا طَآىِٕرُكُمْ مَّعَكُمْ ؕ— اَىِٕنْ ذُكِّرْتُمْ ؕ— بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ ۟
তারা বলল, ‘তোমাদের অমঙ্গল (বা দুর্ভাগ্য) তোমাদের সঙ্গেই রয়েছে।(৮) তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে বলেই কি (তোমরা আমাদের অশুভ মনে করছ)? (না,) বরং তোমরাই সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।’
وَجَآءَ مِنْ اَقْصَا الْمَدِیْنَةِ رَجُلٌ یَّسْعٰی ؗ— قَالَ یٰقَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۙ
আর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি(৯) দৌঁড়ে এসে বলল: ‘হে আমার জাতি! তোমরা রাসূলদের অনুসরণ কর।
اتَّبِعُوْا مَنْ لَّا یَسْـَٔلُكُمْ اَجْرًا وَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ ۟
হে আমার জাতি! তোমরা তাদের অনুসরণ করো, যারা তোমাদের কাছে (দাওয়াতের বিনিময়ে) কোন প্রতিদান চায় না। আর তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।’
وَمَا لِیَ لَاۤ اَعْبُدُ الَّذِیْ فَطَرَنِیْ وَاِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۟
‘আর আমি কেন তাঁর ইবাদাত করব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।’
ءَاَتَّخِذُ مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَةً اِنْ یُّرِدْنِ الرَّحْمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّیْ شَفَاعَتُهُمْ شَیْـًٔا وَّلَا یُنْقِذُوْنِ ۟ۚ
আমি কি আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কোন ইলাহ গ্রহণ করব?(১০) যদি পরম করুণাময় আমার কোন ক্ষতি করার ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবে না ।’
اِنِّیْۤ اِذًا لَّفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟
‘এরূপ করলে(১১) নিশ্চয় আমি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হব।’
اِنِّیْۤ اٰمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُوْنِ ۟ؕ
‘নিশ্চয় আমি (আমার ও) তোমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি। অতএব তোমরা আমার কথা শোন।’
قِیْلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ ؕ— قَالَ یٰلَیْتَ قَوْمِیْ یَعْلَمُوْنَ ۟ۙ
(জাতির লোকেরা তাকে হত্যা করলে) তাকে বলা হল: ‘তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর।’ সে (১২)বলল: ‘হায়! আমার জাতি যদি জানতে পারত,
بِمَا غَفَرَ لِیْ رَبِّیْ وَجَعَلَنِیْ مِنَ الْمُكْرَمِیْنَ ۟
‘আমার রব আমাকে কীসের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিত (জান্নাতি)-দের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’
وَمَاۤ اَنْزَلْنَا عَلٰی قَوْمِهٖ مِنْ بَعْدِهٖ مِنْ جُنْدٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِیْنَ ۟
আর আমি তার (মৃত্যুর) পর তার জাতির বিরুদ্ধে আসমান থেকে কোন সৈন্য (ফিরিশতা) পাঠাইনি। আর তা পাঠানোর কোন দরকারও আমার ছিল না।(১৩)
اِنْ كَانَتْ اِلَّا صَیْحَةً وَّاحِدَةً فَاِذَا هُمْ خٰمِدُوْنَ ۟
তা (১৪) কেবল একটি বিকট আওয়াজ ছিল, ফলে তারা নিথর-নিস্তব্ধ হয়ে পড়ল।
یٰحَسْرَةً عَلَی الْعِبَادِ ۣۚ— مَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟
হায় আফসোস বান্দাদের জন্য!(১৫) যখনই তাদের কাছে কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।
اَلَمْ یَرَوْا كَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنَ الْقُرُوْنِ اَنَّهُمْ اِلَیْهِمْ لَا یَرْجِعُوْنَ ۟
তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, আমি তাদের পূর্বে কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি। নিশ্চয় তারা(১৬) তাদের কাছে ফিরে আসবে না।
وَاِنْ كُلٌّ لَّمَّا جَمِیْعٌ لَّدَیْنَا مُحْضَرُوْنَ ۟۠
আর তাদের সকলকে একত্রে আমার কাছে উপস্থিত করা হবে।
وَاٰیَةٌ لَّهُمُ الْاَرْضُ الْمَیْتَةُ ۖۚ— اَحْیَیْنٰهَا وَاَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ یَاْكُلُوْنَ ۟
আর মৃত জমিন তাদের জন্য একটি নিদর্শন, আমি এটিকে (বৃষ্টি বর্ষণ করে) জীবিত করেছি এবং তা থেকে শস্যদানা উৎপন্ন করেছি। অতঃপর তা থেকেই তারা আহার করে।(১৭)
وَجَعَلْنَا فِیْهَا جَنّٰتٍ مِّنْ نَّخِیْلٍ وَّاَعْنَابٍ وَّفَجَّرْنَا فِیْهَا مِنَ الْعُیُوْنِ ۟ۙ
আর আমি তার মাঝে খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করেছি এবং সেখানে প্রবাহিত করেছি কিছু ঝর্ণাধারা।
لِیَاْكُلُوْا مِنْ ثَمَرِهٖ ۙ— وَمَا عَمِلَتْهُ اَیْدِیْهِمْ ؕ— اَفَلَا یَشْكُرُوْنَ ۟
যাতে তারা তার ফল খেতে পারে; অথচ তাদের হাত তা বানায়নি। তবুও কি তারা (১৮) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না!
سُبْحٰنَ الَّذِیْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْۢبِتُ الْاَرْضُ وَمِنْ اَنْفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا یَعْلَمُوْنَ ۟
পবিত্র ও মহান সে সত্তা, যিনি সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন, জমিনের উৎপন্ন উদ্ভিদের মধ্যে হোক, কিংবা মানুষের নিজেদের মধ্যে বা এমন সৃষ্টির মধ্যে হোক, যাদের সম্পর্কে তারা (এখনও) জানে না ।
وَاٰیَةٌ لَّهُمُ الَّیْلُ ۖۚ— نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَاِذَا هُمْ مُّظْلِمُوْنَ ۟ۙ
আর রাত তাদের জন্য একটি নিদর্শন; আমি তা থেকে দিনকে সরিয়ে নেই, ফলে তখনই তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়।
وَالشَّمْسُ تَجْرِیْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ؕ— ذٰلِكَ تَقْدِیْرُ الْعَزِیْزِ الْعَلِیْمِ ۟ؕ
আর (আল্লাহর তাওহীদের আরেকটি নিদর্শন হলো) সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে, এটা মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ (আল্লাহ) কর্তৃক নির্ধারণ।
وَالْقَمَرَ قَدَّرْنٰهُ مَنَازِلَ حَتّٰی عَادَ كَالْعُرْجُوْنِ الْقَدِیْمِ ۟
আর চাঁদের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি মানযিলসমূহ(১৯), অবশেষে সেটি খেজুরের শুষ্ক পুরাতন শাখার মত হয়ে যায়।
لَا الشَّمْسُ یَنْۢبَغِیْ لَهَاۤ اَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا الَّیْلُ سَابِقُ النَّهَارِ ؕ— وَكُلٌّ فِیْ فَلَكٍ یَّسْبَحُوْنَ ۟
সূর্যের জন্য সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া, আর রাতের জন্য সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা। আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে ভেসে বেড়ায়।
وَاٰیَةٌ لَّهُمْ اَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّیَّتَهُمْ فِی الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِ ۟ۙ
আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হল, (নূহ নবীর যুগে) অবশ্যই আমি তাদের বংশধরদেরকে ভরপুর নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম।
وَخَلَقْنَا لَهُمْ مِّنْ مِّثْلِهٖ مَا یَرْكَبُوْنَ ۟
আর তাদের জন্য তার অনুরূপ (২০) সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে।
وَاِنْ نَّشَاْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِیْخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ یُنْقَذُوْنَ ۟ۙ
আর আমি তাদেরকে ডুবাতে চাইলে তা করতে পারি, তখন তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকে না এবং তাদেরকে উদ্ধারও করা হয় না।
اِلَّا رَحْمَةً مِّنَّا وَمَتَاعًا اِلٰی حِیْنٍ ۟
হ্যাঁ, যদি আমার পক্ষ থেকে রহমত হয় (২১) এবং কিছু সময়ের জন্য (দুনিয়াকে) উপভোগের সুযোগ দেয়া হয়।(২২)
وَاِذَا قِیْلَ لَهُمُ اتَّقُوْا مَا بَیْنَ اَیْدِیْكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ ۟
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমাদের সামনে যা আছে (পরকাল) এবং তোমাদের পিছনে যা আছে (ইহকাল) সে বিষয়ে ভয় করো, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা যায়।
وَمَا تَاْتِیْهِمْ مِّنْ اٰیَةٍ مِّنْ اٰیٰتِ رَبِّهِمْ اِلَّا كَانُوْا عَنْهَا مُعْرِضِیْنَ ۟
আর তাদের রবের (একত্ববাদের) নিদর্শনসমূহ থেকে তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসলেই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وَاِذَا قِیْلَ لَهُمْ اَنْفِقُوْا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُ ۙ— قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنُطْعِمُ مَنْ لَّوْ یَشَآءُ اللّٰهُ اَطْعَمَهٗۤ ۖۗ— اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟
আর যখন তাদেরকে বলা হয়: ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন, তা থেকে তোমরা (২৩) ব্যয় কর।’ তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে: ‘আমরা কি তাদেরকে খাওয়াবো, যাদেরকে আল্লাহ চাইলে নিজেই খাওয়াতে পারেন। ওহে মু’মিনগণ! তোমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছ।’
وَیَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟
আর তারা বলে: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বলো (কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) এ প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?
مَا یَنْظُرُوْنَ اِلَّا صَیْحَةً وَّاحِدَةً تَاْخُذُهُمْ وَهُمْ یَخِصِّمُوْنَ ۟
তারা তো কেবল এক বিকট আওয়াজের (শিঙ্গায় প্রথম ফুৎকারের) অপেক্ষা করছে, যা তাদেরকে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত অবস্থায় পাকড়াও করবে।
فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ تَوْصِیَةً وَّلَاۤ اِلٰۤی اَهْلِهِمْ یَرْجِعُوْنَ ۟۠
সুতরাং তারা কোনো (শেষ) ওসিয়ত করারও সুযোগ পাবে না(২৪) এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনের কাছেও আর ফিরে যেতে পারবে না।(২৫)
وَنُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَاِذَا هُمْ مِّنَ الْاَجْدَاثِ اِلٰی رَبِّهِمْ یَنْسِلُوْنَ ۟
আর যখন (দ্বিতীয়বার) শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা কবর থেকে তাদের রবের দিকে ছুটে আসবে।
قَالُوْا یٰوَیْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَا ۣٚۘ— هٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمٰنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُوْنَ ۟
তারা বলবে, ‘হায় আমাদের সর্বনাশ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল (কবর) থেকে জাগিয়ে তুলল?’ (তখন তাদেরকে বলা হবে,) ‘এটাই তো সেই প্রতিশ্রুতি, যা পরম করুণাময় (আল্লাহ) দিয়েছিলেন; আর রাসূলগণ সত্যই বলেছিলেন।’
اِنْ كَانَتْ اِلَّا صَیْحَةً وَّاحِدَةً فَاِذَا هُمْ جَمِیْعٌ لَّدَیْنَا مُحْضَرُوْنَ ۟
এটা হবে শুধু এক বিকট আওয়াজ; তখনই তাদের সকলকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে ।
فَالْیَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَیْـًٔا وَّلَا تُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟
সুতরাং, হে বান্দারা! আজ কাউকেই (২৬) কোন যুলম করা হবে না এবং তোমরা (দুনিয়ার জীবনে) যা আমল করছিলে, শুধু তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে।
اِنَّ اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ الْیَوْمَ فِیْ شُغُلٍ فٰكِهُوْنَ ۟ۚ
নিশ্চয় (কিয়ামতের) এ দিনে জান্নাতবাসীরা আনন্দে মশগুল থাকবে।
هُمْ وَاَزْوَاجُهُمْ فِیْ ظِلٰلٍ عَلَی الْاَرَآىِٕكِ مُتَّكِـُٔوْنَ ۟ۚ
তারা ও তাদের স্ত্রীগণ (জান্নাতের) সুশীতল ছায়ার মধ্যে সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে।
لَهُمْ فِیْهَا فَاكِهَةٌ وَّلَهُمْ مَّا یَدَّعُوْنَ ۟ۚ
সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফল-ফলাদি এবং থাকবে তারা যা চাইবে তাও।
سَلٰمٌ ۫— قَوْلًا مِّنْ رَّبٍّ رَّحِیْمٍ ۟
পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে ’সালাম’ ।(২৭)
وَامْتَازُوا الْیَوْمَ اَیُّهَا الْمُجْرِمُوْنَ ۟
‘হে অপরাধীরা! আজ তোমরা (মু’মিনদের থেকে) পৃথক হয়ে যাও।’
اَلَمْ اَعْهَدْ اِلَیْكُمْ یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ اَنْ لَّا تَعْبُدُوا الشَّیْطٰنَ ۚ— اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ ۟ۙ
হে বানূ আদম! আমি কি তোমাদেরকে এ মর্মে নির্দেশ দেইনি যে, ‘তোমরা (২৮)শয়তানের ইবাদাত করো না? নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
وَّاَنِ اعْبُدُوْنِیْ ؔؕ— هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ ۟
আর আমারই ইবাদাত কর, এটাই সরল-সঠিক পথ।
وَلَقَدْ اَضَلَّ مِنْكُمْ جِبِلًّا كَثِیْرًا ؕ— اَفَلَمْ تَكُوْنُوْا تَعْقِلُوْنَ ۟
আর অবশ্যই শয়তান তোমাদের বহু দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বোঝনি?
هٰذِهٖ جَهَنَّمُ الَّتِیْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ ۟
এটি সেই জাহান্নাম, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে (বারবার) দেওয়া হয়েছিল।
اِصْلَوْهَا الْیَوْمَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُوْنَ ۟
তোমরা যে কুফরী করতে, সে কারণে আজ তোমরা এখানে প্রবেশ কর (এবং দগ্ধ হও)।
اَلْیَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰۤی اَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَاۤ اَیْدِیْهِمْ وَتَشْهَدُ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ ۟
আজ আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দিবো এবং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে ও তাদের পা সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে, যা তারা অর্জন করত।(২৯)
وَلَوْ نَشَآءُ لَطَمَسْنَا عَلٰۤی اَعْیُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَاَنّٰی یُبْصِرُوْنَ ۟
আর আমি চাইলে তাদের দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম। তখন তারা (জান্নাতের) পথ খুঁজে পাওয়ার জন্য এগিয়ে যেত, কিন্তু তারা দেখবে কীভাবে (তাদের দৃষ্টিশক্তি তো কেড়ে নেওয়া হয়েছে)?(৩০)
وَلَوْ نَشَآءُ لَمَسَخْنٰهُمْ عَلٰی مَكَانَتِهِمْ فَمَا اسْتَطَاعُوْا مُضِیًّا وَّلَا یَرْجِعُوْنَ ۟۠
আর আমি যদি চাইতাম তবে তাদের নিজ নিজ স্থানে তাদের আকৃতি বিকৃত করে (পায়ের ওপর বসিয়ে) দিতাম। ফলে তারা সামনেও এগিয়ে যেতে পারত না এবং পিছনেও ফিরে আসতে পারত না।
وَمَنْ نُّعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِی الْخَلْقِ ؕ— اَفَلَا یَعْقِلُوْنَ ۟
আর আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, সৃষ্টি-অবয়বে আমি তার পরিবর্তন ঘটাই।(৩১) তবুও কি তারা বুঝবে না?
وَمَا عَلَّمْنٰهُ الشِّعْرَ وَمَا یَنْۢبَغِیْ لَهٗ ؕ— اِنْ هُوَ اِلَّا ذِكْرٌ وَّقُرْاٰنٌ مُّبِیْنٌ ۟ۙ
আমি রাসূলকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটি তার জন্য শোভনীয়ও নয়। এ তো শুধু এক উপদেশ ও সুস্পষ্ট আল কুরআন মাত্র।
لِّیُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَیًّا وَّیَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَی الْكٰفِرِیْنَ ۟
যাতে তা সতর্ক করতে পারে ঐ ব্যক্তিকে, যে জীবিত এবং যাতে কাফিরদের জন্য শাস্তির কথা অবধারিত হয়।
اَوَلَمْ یَرَوْا اَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِّمَّا عَمِلَتْ اَیْدِیْنَاۤ اَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مٰلِكُوْنَ ۟
তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমার হাতের তৈরি বস্তুসমূহের মধ্যে আমি তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তারা হল এগুলোর মালিক।
وَذَلَّلْنٰهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوْبُهُمْ وَمِنْهَا یَاْكُلُوْنَ ۟
আর আমি এগুলোকে তাদের বশীভূত করে দিয়েছি। ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা ভক্ষণ করে।
وَلَهُمْ فِیْهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ ؕ— اَفَلَا یَشْكُرُوْنَ ۟
আর তাদের জন্য এগুলোতে রয়েছে আরও বহু উপকারিতা ও পানীয় উপাদান।(৩২) তবুও কি তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে না?
وَاتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اٰلِهَةً لَّعَلَّهُمْ یُنْصَرُوْنَ ۟ؕ
অথচ তারা (মুশরিকরা) আল্লাহর পরিবর্তে অন্য সব ইলাহ গ্রহণ করেছে এই প্রত্যাশায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَهُمْ وَهُمْ لَهُمْ جُنْدٌ مُّحْضَرُوْنَ ۟
কিন্তু এরা তাদের কোন সাহায্য করতে সক্ষম হবে না; বরং (কিয়ামতের দিন) এগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে বাহিনীরূপে উপস্থিত করা হবে।
فَلَا یَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْ ۘ— اِنَّا نَعْلَمُ مَا یُسِرُّوْنَ وَمَا یُعْلِنُوْنَ ۟
অতএব, হে রাসূল! তাদের (অপবাদের) কথা তোমাকে যেন চিন্তিত না করে। নিশ্চয় আমি জানি, তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে।
اَوَلَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ اَنَّا خَلَقْنٰهُ مِنْ نُّطْفَةٍ فَاِذَا هُوَ خَصِیْمٌ مُّبِیْنٌ ۟
(আচ্ছা, পুনরুত্থানকে অস্বীকারকারী) মানুষ কি লক্ষ্য করে না যে আমি তাকে এক ফোঁটা শুক্র থেকে সৃষ্টি করেছি? অথচ এরপরই সে (৩৩) প্রকাশ্য এক বিতণ্ডাকারী হয়ে যায়।
وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَّنَسِیَ خَلْقَهٗ ؕ— قَالَ مَنْ یُّحْیِ الْعِظَامَ وَهِیَ رَمِیْمٌ ۟
আর সে আমার উদ্দেশ্যে উপমা পেশ করে; অথচ সে তার নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে, ‘হাড়গুলো জরাজীর্ণ হওয়া অবস্থায় কে সেগুলো জীবিত করবে?’
قُلْ یُحْیِیْهَا الَّذِیْۤ اَنْشَاَهَاۤ اَوَّلَ مَرَّةٍ ؕ— وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِیْمُ ۟ۙ
হে রাসূল! তুমি (৩৪) বল: ‘যিনি প্রথমবার এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সেগুলো পুনরায় জীবিত করবেন। আর তিনি সকল সৃষ্টি সম্পর্কেই সম্যক পরিজ্ঞাত।’
١لَّذِیْ جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الشَّجَرِ الْاَخْضَرِ نَارًا فَاِذَاۤ اَنْتُمْ مِّنْهُ تُوْقِدُوْنَ ۟
যিনি সবুজ বৃক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আগুন সৃষ্টি করেছেন। ফলে তা থেকে তোমরা আগুন জ্বালাও।(৩৫)
اَوَلَیْسَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنْ یَّخْلُقَ مِثْلَهُمْ ؔؕ— بَلٰی ۗ— وَهُوَ الْخَلّٰقُ الْعَلِیْمُ ۟
যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, তিনিই মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী।
اِنَّمَاۤ اَمْرُهٗۤ اِذَاۤ اَرَادَ شَیْـًٔا اَنْ یَّقُوْلَ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ ۟
নিশ্চয়ই তাঁর (আল্লাহর) কাজ হলো, যখন তিনি কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন তিনি শুধু বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়।
فَسُبْحٰنَ الَّذِیْ بِیَدِهٖ مَلَكُوْتُ كُلِّ شَیْءٍ وَّاِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۟۠
অতএব, পবিত্র মহান তিনি, যার হাতে রয়েছে সকল কিছুর রাজত্ব(৩৬) এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time