وَالصّٰٓفّٰتِ صَفًّا ۟ۙ
শপথ সেই ফিরিশতাদের, যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
Those drawn up in Ranks · 182 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
وَالصّٰٓفّٰتِ صَفًّا ۟ۙ
শপথ সেই ফিরিশতাদের, যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
فَالزّٰجِرٰتِ زَجْرًا ۟ۙ
অতঃপর শপথ সেই ফিরিশতাদের, যারা (আল্লাহর আদেশে মেঘমালাকে) প্রবলভাবে তাড়িত করে।
فَالتّٰلِیٰتِ ذِكْرًا ۟ۙ
অতঃপর শপথ সেই ফিরিশতাদের, যারা উপদেশবাণী (আল কুরআন) তিলাওয়াত করে।
اِنَّ اِلٰهَكُمْ لَوَاحِدٌ ۟ؕ
নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ (উপাস্য) অবশ্যই এক।
رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَمَا بَیْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشَارِقِ ۟ؕ
তিনি আসমানসমূহ, জমিন ও এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার রব এবং উদয়স্থলসমূহেরও রব।
اِنَّا زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنْیَا بِزِیْنَةِ ١لْكَوَاكِبِ ۟ۙ
নিশ্চয় আমি (জমিনের) নিকটবর্তী আসমানকে নক্ষত্ররাজির সৌন্দর্যের দ্বারা সুশোভিত করেছি।
وَحِفْظًا مِّنْ كُلِّ شَیْطٰنٍ مَّارِدٍ ۟ۚ
আর আমি ( আসমানকে) প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে (৩৭)হিফাযত করেছি।
لَا یَسَّمَّعُوْنَ اِلَی الْمَلَاِ الْاَعْلٰی وَیُقْذَفُوْنَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ ۟
ফলে তারা ঊর্ধ্বজগতের প্রত্যাদেশের কিছু শুনতে পারে না। আর তাদের প্রতি সব দিক থেকে নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিণ্ড)।
دُحُوْرًا وَّلَهُمْ عَذَابٌ وَّاصِبٌ ۟ۙ
তাদেরকে বিতাড়িত করার জন্য। আর তাদের জন্য রয়েছে (পরকালের) অব্যাহত শাস্তি।
اِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَاَتْبَعَهٗ شِهَابٌ ثَاقِبٌ ۟
তবে কেউ (শয়তান) গোপনে হঠাৎ কিছু শুনে ফেললে , তাকে পিছু তাড়া করে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড।
فَاسْتَفْتِهِمْ اَهُمْ اَشَدُّ خَلْقًا اَمْ مَّنْ خَلَقْنَا ؕ— اِنَّا خَلَقْنٰهُمْ مِّنْ طِیْنٍ لَّازِبٍ ۟
সুতরাং, হে রাসূল! তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘সৃষ্টি হিসেবে তারা বেশি শক্তিশালী, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি তা?’(২) নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠালো মাটি থেকে।
بَلْ عَجِبْتَ وَیَسْخَرُوْنَ ۪۟
বরং তুমি বিস্মিত হচ্ছো; আর তারা বিদ্রুপ করছে।
وَاِذَا ذُكِّرُوْا لَا یَذْكُرُوْنَ ۪۟
আর যখন তাদেরকে (উপদেশ বাণী) স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, তখন তারা স্মরণ করে না।(৩)
وَاِذَا رَاَوْا اٰیَةً یَّسْتَسْخِرُوْنَ ۪۟
আর যখন তারা (৪) কোনো নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রুপ করে। (৪) নবীর সত্যতার প্রমাণবাহী।
وَقَالُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ ۟ۚۖ
আর তারা বলে: ‘এতো স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়!’
ءَاِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ ۟ۙ
‘আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হবো?’
اَوَاٰبَآؤُنَا الْاَوَّلُوْنَ ۟ؕ
‘আর আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণও (পুনরুত্থিত হবে)?’
قُلْ نَعَمْ وَاَنْتُمْ دَاخِرُوْنَ ۟ۚ
হে রাসূল! তুমি তাদেরকে বলো: ‘হ্যাঁ। আর তোমরা অপমানিত-লাঞ্ছিত হবে।’
فَاِنَّمَا هِیَ زَجْرَةٌ وَّاحِدَةٌ فَاِذَا هُمْ یَنْظُرُوْنَ ۟
তা হবে কেবল এক বিকট আওয়াজ। আর তৎক্ষণাৎ তারা (৫) দেখতে পাবে।
وَقَالُوْا یٰوَیْلَنَا هٰذَا یَوْمُ الدِّیْنِ ۟
আর তারা বলবে: ‘হায় আমাদের ধ্বংস, এতাই তো (৬) প্রতিদান সেই দিবস!'
هٰذَا یَوْمُ الْفَصْلِ الَّذِیْ كُنْتُمْ بِهٖ تُكَذِّبُوْنَ ۟۠
এটাই ফয়সালা করার দিন, যা তোমরা অস্বীকার করতে।
اُحْشُرُوا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا وَاَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوْا یَعْبُدُوْنَ ۟ۙ
(সেদিন ফিরিশতাদেরকে বলা হবেঃ) ‘ একত্রিত কর যালিম ও তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে এবং তাদেরকে যাদের ইবাদাত তারা করত,
مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَاهْدُوْهُمْ اِلٰی صِرَاطِ الْجَحِیْمِ ۟
‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে । আর তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের পথে নিয়ে যাও।’
وَقِفُوْهُمْ اِنَّهُمْ مَّسْـُٔوْلُوْنَ ۟ۙ
‘আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে।’
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُوْنَ ۟
‘তোমাদের কী হল, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?’(৭)
بَلْ هُمُ الْیَوْمَ مُسْتَسْلِمُوْنَ ۟
বরং তারা হবে আজ আত্মসমর্পণকারী।(৮)
وَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَسَآءَلُوْنَ ۟
আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,
قَالُوْۤا اِنَّكُمْ كُنْتُمْ تَاْتُوْنَنَا عَنِ الْیَمِیْنِ ۟
তারা (৯) বলবে: ‘তোমরাই তো আমাদের কাছে দ্বীন ও হকের দোহাই দিয়ে আসতে।’(১০) (৯) অনুসারিরা নেতাদের উদ্দেশ্য করে।
قَالُوْا بَلْ لَّمْ تَكُوْنُوْا مُؤْمِنِیْنَ ۟ۚ
প্রতিউত্তরে তারা বলবে: (১১) ‘বরং তোমরা তো মু’মিন ছিলে না।’
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَیْكُمْ مِّنْ سُلْطٰنٍ ۚ— بَلْ كُنْتُمْ قَوْمًا طٰغِیْنَ ۟
‘আর তোমাদের ওপর তো আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না; বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’
فَحَقَّ عَلَیْنَا قَوْلُ رَبِّنَاۤ ۖۗ— اِنَّا لَذَآىِٕقُوْنَ ۟
‘তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের (শাস্তির) বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা তা আস্বাদন করব।’
فَاَغْوَیْنٰكُمْ اِنَّا كُنَّا غٰوِیْنَ ۟
‘আর আমরা তোমাদেরকে (১২) বিভ্রান্ত করেছিলাম; কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত।’
فَاِنَّهُمْ یَوْمَىِٕذٍ فِی الْعَذَابِ مُشْتَرِكُوْنَ ۟
নিশ্চয় তারা (১৩) সেদিন শাস্তিতেও একইভাবে অংশীদার হবে।
اِنَّا كَذٰلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِیْنَ ۟
অপরাধীদের সাথে আমি এমন আচরণই করে থাকি।(১৪)
اِنَّهُمْ كَانُوْۤا اِذَا قِیْلَ لَهُمْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ یَسْتَكْبِرُوْنَ ۟ۙ
নিশ্চয়ই তাদেরকে যখন বলা হতো, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’, তখন তারা অহংকার করত।
وَیَقُوْلُوْنَ اَىِٕنَّا لَتَارِكُوْۤا اٰلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُوْنٍ ۟ؕ
আর তারা বলত: ‘আমরা কি এক পাগল কবির (মুহাম্মাদের) কথায় আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দিবো?’
بَلْ جَآءَ بِالْحَقِّ وَصَدَّقَ الْمُرْسَلِیْنَ ۟
বরং তিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং পূর্ববর্তী রাসূলদের সত্যায়ন করেছেন।
اِنَّكُمْ لَذَآىِٕقُوا الْعَذَابِ الْاَلِیْمِ ۟ۚ
হে মুশরিকরা! অবশ্যই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদনকারী।
وَمَا تُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟ۙ
আর তোমরা যে আমল করতে, (আজ) শুধু তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ ۟
অবশ্য আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া (তারা তা থেকে রেহাই পাবে);
اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُوْمٌ ۟ۙ
তাদের জন্য (জান্নাতে) থাকবে নির্ধারিত রিযক,
فَوَاكِهُ ۚ— وَهُمْ مُّكْرَمُوْنَ ۟ۙ
ফলমূল; আর তারা (১৫) সম্মানিত হবে,
فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ ۟ۙ
নি‘আমত-পূর্ণ জান্নাতে,
عَلٰی سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِیْنَ ۟
তারা পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে আসনসমূহের উপর অবস্থান করবে।
یُطَافُ عَلَیْهِمْ بِكَاْسٍ مِّنْ مَّعِیْنٍ ۟ۙ
তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে প্রবাহমান ঝরনা থেকে ভরা সুরাপাত্র পরিবেশন করা হবে।(১৬)
بَیْضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشّٰرِبِیْنَ ۟ۚ
তা সাদা বর্ণের, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
لَا فِیْهَا غَوْلٌ وَّلَا هُمْ عَنْهَا یُنْزَفُوْنَ ۟
তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না।
وَعِنْدَهُمْ قٰصِرٰتُ الطَّرْفِ عِیْنٌ ۟ۙ
(জান্নাতে) তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না(১৭), ডাগরচোখা (হূর)।
كَاَنَّهُنَّ بَیْضٌ مَّكْنُوْنٌ ۟
তারা যেন সুরক্ষিত ডিম।(১৮)
فَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَسَآءَلُوْنَ ۟
অতঃপর তারা (জান্নাতীরা) মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে (১৯) জিজ্ঞাসা করবে।
قَالَ قَآىِٕلٌ مِّنْهُمْ اِنِّیْ كَانَ لِیْ قَرِیْنٌ ۟ۙ
তাদের একজন বলবে, (‘পৃথিবীতে ) আমার একজন সঙ্গী ছিল’,
یَّقُوْلُ ءَاِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِیْنَ ۟
সে বলত: ‘তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা (পুনরুত্থানে) বিশ্বাস করে।’
ءَاِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا ءَاِنَّا لَمَدِیْنُوْنَ ۟
‘আমরা যখন মরে যাব এবং (পচে-গলে) মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে’?
قَالَ هَلْ اَنْتُمْ مُّطَّلِعُوْنَ ۟
সে বলবে: ‘তোমরা কি উঁকি দিয়ে (২০) দেখতে চাও?’
فَاطَّلَعَ فَرَاٰهُ فِیْ سَوَآءِ الْجَحِیْمِ ۟
অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) জাহান্নামের মধ্যস্থলে দেখতে পাবে।
قَالَ تَاللّٰهِ اِنْ كِدْتَّ لَتُرْدِیْنِ ۟ۙ
সে বলবে: ‘আল্লাহর শপথ! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে।’.২১)
وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّیْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِیْنَ ۟
‘ আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে, আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম।’
اَفَمَا نَحْنُ بِمَیِّتِیْنَ ۟ۙ
‘তাহলে আমরা (জান্নাতবাসীরা) কি আর মৃত্যুবরণকারী হব না?
اِلَّا مَوْتَتَنَا الْاُوْلٰی وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِیْنَ ۟
‘(দুনিয়ার জীবনে) আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া। আর আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।’(২২)
اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ ۟
‘নিশ্চয় এটি(২৩) মহাসাফল্য!’
لِمِثْلِ هٰذَا فَلْیَعْمَلِ الْعٰمِلُوْنَ ۟
এরূপ সাফল্যের জন্যই আমলকারীদের আমল করা উচিত।
اَذٰلِكَ خَیْرٌ نُّزُلًا اَمْ شَجَرَةُ الزَّقُّوْمِ ۟
আপ্যায়নের জন্য এগুলো(২৪) উত্তম না যাক্কূম বৃক্ষ?(২৫)
اِنَّا جَعَلْنٰهَا فِتْنَةً لِّلظّٰلِمِیْنَ ۟
নিশ্চয় আমি তাকে (যাক্কুম বৃক্ষকে) যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষাস্বরূপ।(২৬)
اِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِیْۤ اَصْلِ الْجَحِیْمِ ۟ۙ
নিশ্চয়ই তা এমন এক বৃক্ষ, যা জাহান্নামের মূল থেকে উদ্গত হয়।
طَلْعُهَا كَاَنَّهٗ رُءُوْسُ الشَّیٰطِیْنِ ۟
এর ফল যেন শয়তানের মাথা;(২৭)
فَاِنَّهُمْ لَاٰكِلُوْنَ مِنْهَا فَمَالِـُٔوْنَ مِنْهَا الْبُطُوْنَ ۟ؕ
নিশ্চয় তারা (জাহান্নামীরা) তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
ثُمَّ اِنَّ لَهُمْ عَلَیْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِیْمٍ ۟ۚ
অতঃপর নিশ্চয়ই তাদের জন্য এর উপর থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।
ثُمَّ اِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَاۡاِلَی الْجَحِیْمِ ۟
তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের আগুনেরই দিকে।
اِنَّهُمْ اَلْفَوْا اٰبَآءَهُمْ ضَآلِّیْنَ ۟ۙ
নিশ্চয় এরা (জাহান্নামীরা) নিজেদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল;(২৮)
فَهُمْ عَلٰۤی اٰثٰرِهِمْ یُهْرَعُوْنَ ۟
ফলে তারাও (ভ্রষ্টতার পথে) তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে দ্রুত ছুটে চলেছিল।
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ اَكْثَرُ الْاَوَّلِیْنَ ۟ۙ
আর অবশ্যই তাদের পূর্বে অধিকাংশ পূর্ববর্তী লোকই পথভ্রষ্ট হয়েছিল।(২৯)
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا فِیْهِمْ مُّنْذِرِیْنَ ۟
আর অবশ্যই আমি তাদের কাছে সতর্ককারী (রাসূল)দেরকে পাঠিয়েছিলাম;
فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِیْنَ ۟ۙ
সুতরাং হে রাসূল! তুমি দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের পরিণতি কী হয়েছিল!
اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ ۟۠
তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া।
وَلَقَدْ نَادٰىنَا نُوْحٌ فَلَنِعْمَ الْمُجِیْبُوْنَ ۟ؗۖ
আর অবশ্যই নূহ (৩০) আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতইনা উত্তম সাড়াদানকারী!
وَنَجَّیْنٰهُ وَاَهْلَهٗ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِیْمِ ۟ؗۖ
আর আমি তাকে ও তার পরিজনকে মহাবিপদ (মহা প্লাবন) থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
وَجَعَلْنَا ذُرِّیَّتَهٗ هُمُ الْبٰقِیْنَ ۟ؗۖ
আর তার (মু’মিন) বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম,
وَتَرَكْنَا عَلَیْهِ فِی الْاٰخِرِیْنَ ۟ؗۖ
আর আমি পরবর্তীদের মধ্যে তার স্মরণ (সুনাম-সুখ্যাতি) রেখে দিয়েছিলাম।
سَلٰمٌ عَلٰی نُوْحٍ فِی الْعٰلَمِیْنَ ۟
সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে নূহের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় আমি এভাবে সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
اِنَّهٗ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের একজন।
ثُمَّ اَغْرَقْنَا الْاٰخَرِیْنَ ۟
তারপর আমি অন্যদের (প্লাবনে) ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
وَاِنَّ مِنْ شِیْعَتِهٖ لَاِبْرٰهِیْمَ ۟ۘ
আর নিশ্চয় ইবরাহীম তার দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত।(৩১)
اِذْ جَآءَ رَبَّهٗ بِقَلْبٍ سَلِیْمٍ ۟
হে নবী! স্মরণ করো, যখন সে (শিরকমুক্ত হয়ে) বিশুদ্ধচিত্তে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল।
اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ وَقَوْمِهٖ مَاذَا تَعْبُدُوْنَ ۟ۚ
যখন সে তার পিতা ও তার সম্পপ্রদায়কে বলেছিল: ‘তোমরা (আল্লাহর পরিবর্তে) কিসের ইবাদাত করছ?’
اَىِٕفْكًا اٰلِهَةً دُوْنَ اللّٰهِ تُرِیْدُوْنَ ۟ؕ
‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা উপাস্যগুলোকে পেতে চাও?’
فَمَا ظَنُّكُمْ بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟
‘তাহলে সৃষ্টিকুলের রব সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী?’(৩২)
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِی النُّجُوْمِ ۟ۙ
অতঃপর সে (৩৩) তারকারাজির দিকে একবার দৃষ্টি দিল।
فَقَالَ اِنِّیْ سَقِیْمٌ ۟
তারপর সে বলল: ‘আমি তো অসুস্থ।’
فَتَوَلَّوْا عَنْهُ مُدْبِرِیْنَ ۟
অতঃপর তারা তাকে পিছনে রেখে (মেলায়) চলে গেল।
فَرَاغَ اِلٰۤی اٰلِهَتِهِمْ فَقَالَ اَلَا تَاْكُلُوْنَ ۟ۚ
তারপর চুপে চুপে সে তাদের দেবতাদের কাছে গেল এবং বলল: ‘তোমরা কি (৩৪) খাবে না?’
مَا لَكُمْ لَا تَنْطِقُوْنَ ۟
‘তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা কথা বলছ না?’(৩৫)
فَرَاغَ عَلَیْهِمْ ضَرْبًا بِالْیَمِیْنِ ۟
অতঃপর সে তাদের ওপর ডান হাতে সজোরে আঘাত হানল।
فَاَقْبَلُوْۤا اِلَیْهِ یَزِفُّوْنَ ۟
তখন লোকেরা তার দিকে দ্রুত ছুটে আসল।
قَالَ اَتَعْبُدُوْنَ مَا تَنْحِتُوْنَ ۟ۙ
সে (ইবরাহীম) বলল: ‘তোমরা নিজেরা খোদাই করে যেগুলোকে বানাও, তোমরা কি সেগুলোেই উপাসনা কর?’
وَاللّٰهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُوْنَ ۟
‘অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কিছু তৈরি কর, তা সৃষ্টি করেছেন?’
قَالُوا ابْنُوْا لَهٗ بُنْیَانًا فَاَلْقُوْهُ فِی الْجَحِیْمِ ۟
তারা (৩৬) বলল: ‘তার জন্য একটি স্থাপনা (অগ্নিকুণ্ড) তৈরি কর, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর।’
فَاَرَادُوْا بِهٖ كَیْدًا فَجَعَلْنٰهُمُ الْاَسْفَلِیْنَ ۟
অতঃপর তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইচ্ছা করল(৩৭); কিন্তু আমরা (আগুনকে সুশীতল বানিয়ে) তাদেরকেই পরাজিত করলাম।
وَقَالَ اِنِّیْ ذَاهِبٌ اِلٰی رَبِّیْ سَیَهْدِیْنِ ۟
আর সে (ইবরাহীম) বলল: ‘আমি আমার রবের দিকেই (হিজরত করে) যাচ্ছি, তিনি অবশ্যই আমাকে হিদায়াত করবেন।’
رَبِّ هَبْ لِیْ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟
‘হে আমার রব! আমাকে সৎকর্মশীল একটি সুসন্তান দান করুন।’
فَبَشَّرْنٰهُ بِغُلٰمٍ حَلِیْمٍ ۟
অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْیَ قَالَ یٰبُنَیَّ اِنِّیْۤ اَرٰی فِی الْمَنَامِ اَنِّیْۤ اَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرٰی ؕ— قَالَ یٰۤاَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ؗ— سَتَجِدُنِیْۤ اِنْ شَآءَ اللّٰهُ مِنَ الصّٰبِرِیْنَ ۟
অতঃপর সে (ইসমাঈল) যখন তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল(৩৮), তখন সে বলল: ‘হে আমার প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবহ (কুরবানী) করছি। অতএব দেখ তোমার কী অভিমত।’ সে বলল: ‘হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তা-ই করুন। ইন শা’ আল্লাহ, আমাকে আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’
فَلَمَّاۤ اَسْلَمَا وَتَلَّهٗ لِلْجَبِیْنِ ۟ۚ
অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং ইবরাহীম তার পুত্রকে কাত করে শুইয়ে দিল।
وَنَادَیْنٰهُ اَنْ یّٰۤاِبْرٰهِیْمُ ۟ۙ
তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: ‘হে ইবরাহীম!
قَدْ صَدَّقْتَ الرُّءْیَا ۚ— اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ ۟
তুমি তো(৩৯) স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয়ই আমরা এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।
اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْبَلٰٓؤُا الْمُبِیْنُ ۟
‘নিশ্চয় এটা ছিল সুস্পষ্ট এক পরীক্ষা।’
وَفَدَیْنٰهُ بِذِبْحٍ عَظِیْمٍ ۟
আর আমরা তাকে এক মহান কুরবানির বিনিময়ে(৪০) মুক্ত করলাম।
وَتَرَكْنَا عَلَیْهِ فِی الْاٰخِرِیْنَ ۟ؗ
আর আমি তার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম-সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
سَلٰمٌ عَلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ ۟
ইবরাহীমের প্রতি সালাম।
كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ ۟
(৪১) এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّهٗ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় সে আমার মু’মিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
وَبَشَّرْنٰهُ بِاِسْحٰقَ نَبِیًّا مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ ۟
আর আমরা তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের, যিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী হবেন।
وَبٰرَكْنَا عَلَیْهِ وَعَلٰۤی اِسْحٰقَ ؕ— وَمِنْ ذُرِّیَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَّظَالِمٌ لِّنَفْسِهٖ مُبِیْنٌ ۟۠
আর আমি তার ওপর এবং ইসহাকের ওপর বরকত দান করেছি। আর তাদের বংশধরদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ছিল সৎকর্মশীল এবং কিছু সংখ্যক (৪২)) নিজেদের প্রতি স্পষ্ট যুলমকারী।
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلٰی مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ۟ۚ
আর নিশ্চয় আমি মূসা ও হারূনের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম,
وَنَجَّیْنٰهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِیْمِ ۟ۚ
আর আমি তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে মহাসংকট (৪৪) থেকে রক্ষা করেছিলাম।
وَنَصَرْنٰهُمْ فَكَانُوْا هُمُ الْغٰلِبِیْنَ ۟ۚ
আর আমি তাদেরকে (৪৫) সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
وَاٰتَیْنٰهُمَا الْكِتٰبَ الْمُسْتَبِیْنَ ۟ۚ
আর আমি উভয়কে (৪৬) সুস্পষ্ট কিতাব (তাওরাত) দান করেছিলাম। (৪৬) মূসা ও তার ভাই হারূনকে।
وَهَدَیْنٰهُمَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۟ۚ
আর আমি দু’জনকেই সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম।
وَتَرَكْنَا عَلَیْهِمَا فِی الْاٰخِرِیْنَ ۟ۙۖ
আর আমি তাদের জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম-সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
سَلٰمٌ عَلٰی مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ۟
মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম (শান্তি ও নিরাপত্তা)।
اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ ۟
(৪৭) আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় তারা দু’জনই ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
وَاِنَّ اِلْیَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ؕ
আর নিশ্চয় ইলইয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اَلَا تَتَّقُوْنَ ۟
যখন সে তার জাতিকে বলেছিল: ‘তোমরা কি ( ভয় করবে না?’
اَتَدْعُوْنَ بَعْلًا وَّتَذَرُوْنَ اَحْسَنَ الْخَالِقِیْنَ ۟ۙ
তোমরা কি ‘বা’ল’ ( নামক দেবতা) কেই ডাকবে আর সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তাকে (আল্লাহকে) পরিত্যাগ করবে?
اللّٰهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ اٰبَآىِٕكُمُ الْاَوَّلِیْنَ ۟
‘আল্লাহই তোমাদের একমাত্র রব এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদেরও রব?’(৪৮)
فَكَذَّبُوْهُ فَاِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَ ۟ۙ
কিন্তু তারা তাকে (ইলইয়াসকে) মিথ্যারোপ করেছিল, ফলে তাদেরকে অবশ্যই (শাস্তির জন্য) উপস্থিত করা হবে।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ ۟
আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাগণ ছাড়া।(৪৯)
وَتَرَكْنَا عَلَیْهِ فِی الْاٰخِرِیْنَ ۟ۙ
আর আমি তার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম-সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
سَلٰمٌ عَلٰۤی اِلْ یَاسِیْنَ ۟
ইলইয়াসের প্রতি সালাম ।
اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّهٗ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِیْنَ ۟
নিশ্চয় সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
وَاِنَّ لُوْطًا لَّمِنَ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ؕ
আর নিশ্চয় লূত ছিল রাসূলদেরই একজন।
اِذْ نَجَّیْنٰهُ وَاَهْلَهٗۤ اَجْمَعِیْنَ ۟ۙ
হে রাসূল! তুমি স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন আমি তাকে ও তার পরিবার পরিজন সকলকে ( শাস্তি থেকে) রক্ষা করেছিলাম।
اِلَّا عَجُوْزًا فِی الْغٰبِرِیْنَ ۟
পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত (অবিশ্বাসী) এক বৃদ্ধা ছাড়া।(৫০)
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْاٰخَرِیْنَ ۟
অতঃপর আমি (অবিশ্বাসী) অবশিষ্টদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
وَاِنَّكُمْ لَتَمُرُّوْنَ عَلَیْهِمْ مُّصْبِحِیْنَ ۟ۙ
আর (হে মক্কাবাসীরা! সিরিয়ায় গমনকালে) তোমরা নিশ্চয় তাদের (ধ্বংসাবশেষের) ওপর দিয়ে অতিক্রম করে থাক, সকালে
وَبِالَّیْلِ ؕ— اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ۟۠
এবং রাতে।(৫১) তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
وَاِنَّ یُوْنُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِیْنَ ۟ؕ
আর নিশ্চয় ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।
اِذْ اَبَقَ اِلَی الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِ ۟ۙ
হে রাসূল! তুমি স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন সে একটি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল।
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِیْنَ ۟ۚ
অতঃপর সে লটারিতে অংশ নিল, ফলে সে পরাজিতদের অন্তর্ভুক্ত হল।(৫২)
فَالْتَقَمَهُ الْحُوْتُ وَهُوَ مُلِیْمٌ ۟
অতঃপর মাছটি তাকে গিলে ফেলল, তখন তিনি ছিলেন তিরস্কারযোগ্য অবস্থায়।(৫৩)
فَلَوْلَاۤ اَنَّهٗ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِیْنَ ۟ۙ
অতঃপর সে যদি (৫৪) আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত,
لَلَبِثَ فِیْ بَطْنِهٖۤ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ ۟ۚ
তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার (মাছের) পেটেই থেকে যেত।(৫৫)
فَنَبَذْنٰهُ بِالْعَرَآءِ وَهُوَ سَقِیْمٌ ۟ۚ
অতঃপর আমি তাকে এক তৃণলতাহীন প্রান্তরে (নদীর তীরে) নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ।
وَاَنْۢبَتْنَا عَلَیْهِ شَجَرَةً مِّنْ یَّقْطِیْنٍ ۟ۚ
আর আমি একটি ইয়াকতীন(৫৬) গাছ তার ওপর উদগত করলাম।
وَاَرْسَلْنٰهُ اِلٰی مِائَةِ اَلْفٍ اَوْ یَزِیْدُوْنَ ۟ۚ
এবং আমি তাকে (তার জাতির) এক লক্ষ বা তার চেয়েও বেশি লোকের কাছে পাঠালাম।
فَاٰمَنُوْا فَمَتَّعْنٰهُمْ اِلٰی حِیْنٍ ۟ؕ
অতঃপর তারা ঈমান আনল, ফলে আমি তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত (দুনিয়াকে) উপভোগ করতে দিলাম।
فَاسْتَفْتِهِمْ اَلِرَبِّكَ الْبَنَاتُ وَلَهُمُ الْبَنُوْنَ ۟ۙ
অতএব, হে রাসূল! তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর: ‘তোমার রবের জন্য কি কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান?’(৫৭)
اَمْ خَلَقْنَا الْمَلٰٓىِٕكَةَ اِنَاثًا وَّهُمْ شٰهِدُوْنَ ۟
নাকি আমি ফেরেশতাদেরকে নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছি, আর তারা (এ বিষয়ে) প্রত্যক্ষদর্শী ছিল?(৫৮)
اَلَاۤ اِنَّهُمْ مِّنْ اِفْكِهِمْ لَیَقُوْلُوْنَ ۟ۙ
জেনে রাখ, তারা অবশ্যই তাদের মনগড়া কথা বলে যে,
وَلَدَ اللّٰهُ ۙ— وَاِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ ۟
‘আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন’ অথচ তারা অবশ্যই (এই দাবিতে) মিথ্যাবাদী।
اَصْطَفَی الْبَنَاتِ عَلَی الْبَنِیْنَ ۟ؕ
আল্লাহ কি পুত্রসন্তানদের পরিবর্তে কন্যা সন্তানদের বেছে নিয়েছেন?(৫৯)
مَا لَكُمْ ۫— كَیْفَ تَحْكُمُوْنَ ۟
হে মুশরিকরা! তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন বিচার করছ!(৬০)
اَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ ۟ۚ
তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
اَمْ لَكُمْ سُلْطٰنٌ مُّبِیْنٌ ۟ۙ
নাকি তোমাদের কোন সুস্পষ্ট দলীল- প্রমাণ আছে?
فَاْتُوْا بِكِتٰبِكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟
অতএব তোমরা (নিজেদের দাবিতে) সত্যবাদী হলে, তোমাদের (প্রমাণবিশিষ্ট) কিতাব নিয়ে আস।
وَجَعَلُوْا بَیْنَهٗ وَبَیْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا ؕ— وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ اِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَ ۟ۙ
আর তারা আল্লাহ ও জিন জাতির মধ্যে একটা বংশসম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে; অথচ জিন জাতি জানে যে, নিশ্চয় তাদেরকেও (৬১) উপস্থিত করা হবে।
سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یَصِفُوْنَ ۟ۙ
তারা আল্লাহ সম্পর্কে যা আরোপ করে(৬২), তা থেকে আল্লাহ সম্পূর্ণ পবিত্র।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ ۟
তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাগণ ছাড়া।(৬৩)
فَاِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُوْنَ ۟ۙ
সুতরাং তোমরা এবং তোমরা যাদের উপাসনা কর,
مَاۤ اَنْتُمْ عَلَیْهِ بِفٰتِنِیْنَ ۟ۙ
তোমরা তার বিরুদ্ধে কাউকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম নও।
اِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِیْمِ ۟
শুধু জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশকারী ছাড়া। (৬৪)
وَمَا مِنَّاۤ اِلَّا لَهٗ مَقَامٌ مَّعْلُوْمٌ ۟ۙ
আর (ফিরিশতাগণ বললেনঃ) আমাদের প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্ধারিত স্থান রয়েছে।
وَّاِنَّا لَنَحْنُ الصَّآفُّوْنَ ۟ۚ
‘আর আমরা (৬৫) তো সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান
وَاِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُوْنَ ۟
এবং আমরা অবশ্যই তাঁর পবিত্ৰতা ও মহিমা ঘোষণাকারী।’
وَاِنْ كَانُوْا لَیَقُوْلُوْنَ ۟ۙ
আর তারা অবশ্যই বলে আসছিল,
لَوْ اَنَّ عِنْدَنَا ذِكْرًا مِّنَ الْاَوَّلِیْنَ ۟ۙ
‘যদি আমাদের কাছে পূর্বর্তীদের মত কোন উপদেশ (কিতাব) থাকত,
لَكُنَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ ۟
‘তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হতাম।’(৬৬)
فَكَفَرُوْا بِهٖ فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ ۟
অতঃপর তারা তা (আল কুরআন) অস্বীকার করল। অতএব শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (৬৭) ।
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚۖ
আর নিশ্চয় আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা পূর্ব নির্ধারিত হয়েছে যে,
اِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُوْرُوْنَ ۪۟
নিশ্চয় তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
وَاِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغٰلِبُوْنَ ۟
আর নিশ্চয় আমার বাহিনীই (শত্রুদের ওপর) বিজয়ী হবে।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتّٰی حِیْنٍ ۟ۙ
অতএব, হে রাসূল! তুমি তাদের থেকে কিছু কাল পর্যন্ত(৬৮) মুখ ফিরিয়ে থাক।
وَّاَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ یُبْصِرُوْنَ ۟
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর(৬৯), অচিরেই তারাও দেখবে (শাস্তি)।
اَفَبِعَذَابِنَا یَسْتَعْجِلُوْنَ ۟
তারা কি আমার শাস্তির জন্যে তাড়াহুড়ো করছে?
فَاِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَآءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِیْنَ ۟
আর যখন আল্লাহর শাস্তি তাদের আঙিনায় নেমে আসবে, তখন সতর্ককৃতদের সকাল কতই না মন্দ হবে!
وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتّٰی حِیْنٍ ۟ۙ
হে রাসূল! তুমি আরো কিছু কাল পর্যন্ত(৭০) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাক।
وَّاَبْصِرْ فَسَوْفَ یُبْصِرُوْنَ ۟
আর হে রাসূল! তুমি তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করো, অচিরেই তারা (শাস্তি) দেখতে পাবে।
سُبْحٰنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا یَصِفُوْنَ ۟ۚ
তারা যা আরোপ করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, সম্মান ও ক্ষমতার মালিক।
وَسَلٰمٌ عَلَی الْمُرْسَلِیْنَ ۟ۚ
আর রাসূলদের প্রতি সালাম ।
وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟۠
আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time