وَالطُّوْرِ ۟ۙ
শপথ তূর পর্বতের,
The Mount · 49 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
وَالطُّوْرِ ۟ۙ
শপথ তূর পর্বতের,
وَكِتٰبٍ مَّسْطُوْرٍ ۟ۙ
শপথ লিখিত কিতাবের,
فِیْ رَقٍّ مَّنْشُوْرٍ ۟ۙ
উন্মুক্ত কাগজের পাতায় (লিপিবদ্ধ)।
وَّالْبَیْتِ الْمَعْمُوْرِ ۟ۙ
শপথ বায়তুল মা’মূরের(১),
وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوْعِ ۟ۙ
আর শপথ সমুন্নত ছাদ তথা আকাশের,
وَالْبَحْرِ الْمَسْجُوْرِ ۟ۙ
এবং শপথ উত্তাল সমুদ্রের,
اِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ ۟ۙ
নিশ্চয় তোমার রবের শাস্তি অবশ্যম্ভাবী।
مَّا لَهٗ مِنْ دَافِعٍ ۟ۙ
তা প্রতিহত করার কেউ থাকবে না।
یَّوْمَ تَمُوْرُ السَّمَآءُ مَوْرًا ۟
যেদিন তীব্রভাবে আকাশ প্রকম্পিত হবে,
وَّتَسِیْرُ الْجِبَالُ سَیْرًا ۟ؕ
আর পর্বতমালা দ্রুতগতিতে চলতে থাকবে,
فَوَیْلٌ یَّوْمَىِٕذٍ لِّلْمُكَذِّبِیْنَ ۟ۙ
অতএব, সেদিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য রয়েছে ধ্বংস।
الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ خَوْضٍ یَّلْعَبُوْنَ ۟ۘ
যারা (দুনিয়ায়) খেল-তামাশায় মত্ত থাকে।
یَوْمَ یُدَعُّوْنَ اِلٰی نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا ۟ؕ
সেদিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে শক্তভাবে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
هٰذِهِ النَّارُ الَّتِیْ كُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُوْنَ ۟
‘এটি সেই জাহান্নাম যা তোমরা অস্বীকার করতে।’
اَفَسِحْرٌ هٰذَاۤ اَمْ اَنْتُمْ لَا تُبْصِرُوْنَ ۟
‘এটি (এই শাস্তি) কি যাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না!’
اِصْلَوْهَا فَاصْبِرُوْۤا اَوْ لَا تَصْبِرُوْا ۚ— سَوَآءٌ عَلَیْكُمْ ؕ— اِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟
(আজ) তোমরা এই আগুনে দগ্ধ হও, তারপর (এখানে) তোমরা ধৈর্যধারণ করো বা না করো, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান; তোমরা যা (২) করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।
اِنَّ الْمُتَّقِیْنَ فِیْ جَنّٰتٍ وَّنَعِیْمٍ ۟ۙ
নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও অবারিত মহা ভোগসামগ্রীতে।
فٰكِهِیْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمْ رَبُّهُمْ ۚ— وَوَقٰىهُمْ رَبُّهُمْ عَذَابَ الْجَحِیْمِ ۟
তাদের রব তাদেরকে যা দিয়েছেন (সেখানে) তারা তা উপভোগ করবে, আর তাদের রব তাদেরকে বাঁচাবেন জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে।
كُلُوْا وَاشْرَبُوْا هَنِیْٓـًٔا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟ۙ
‘তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান কর, (দুনিয়ায় ) তোমরা যে আমল করতে তার প্রতিফল স্বরূপ।
مُتَّكِـِٕیْنَ عَلٰی سُرُرٍ مَّصْفُوْفَةٍ ۚ— وَزَوَّجْنٰهُمْ بِحُوْرٍ عِیْنٍ ۟
তারা সারিবদ্ধ সুসজ্জিত পালঙ্কে হেলান দিয়ে বসবে; আর আমি তাদেরকে ডাগরচোখা হূরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দিবো।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّیَّتُهُمْ بِاِیْمَانٍ اَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّیَّتَهُمْ وَمَاۤ اَلَتْنٰهُمْ مِّنْ عَمَلِهِمْ مِّنْ شَیْءٍ ؕ— كُلُّ امْرِىۢ بِمَا كَسَبَ رَهِیْنٌ ۟
আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান-সন্ততিরাও ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি (৩) তাদের সাথে (জান্নাতে) তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাবো এবং তাদের (পিতামাতার) কর্মের (সাওয়াবের) কোন অংশই হ্রাস করবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ কৃতকর্মের জন্যই দায়ী।
وَاَمْدَدْنٰهُمْ بِفَاكِهَةٍ وَّلَحْمٍ مِّمَّا یَشْتَهُوْنَ ۟
আর আমি তাদেরকে বহু রকমের ফলমূল ও গোশতের যোগান দিতে থাকব, যা তারা কামনা করবে।
یَتَنَازَعُوْنَ فِیْهَا كَاْسًا لَّا لَغْوٌ فِیْهَا وَلَا تَاْثِیْمٌ ۟
সেখানে তারা পরস্পরের মধ্যে পানপাত্র বিনিময় করবে; তথায় থাকবে না কোন অনর্থক কথাবার্তা এবং কোন পাপকাজও।
وَیَطُوْفُ عَلَیْهِمْ غِلْمَانٌ لَّهُمْ كَاَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَّكْنُوْنٌ ۟
আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘুরতে থাকবে কিশোরেরা; তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা।
وَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَسَآءَلُوْنَ ۟
আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে (৪) জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
قَالُوْۤا اِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِیْۤ اَهْلِنَا مُشْفِقِیْنَ ۟
তারা বলবে, ‘নিশ্চয় পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম।’
فَمَنَّ اللّٰهُ عَلَیْنَا وَوَقٰىنَا عَذَابَ السَّمُوْمِ ۟
‘অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আগুনের শাস্তি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।’
اِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلُ نَدْعُوْهُ ؕ— اِنَّهٗ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِیْمُ ۟۠
নিশ্চয় আগেও আমরা আল্লাহকেই ডাকতাম। নিশ্চয় তিনি ইহসানকারী, পরম দয়ালু।
فَذَكِّرْ فَمَاۤ اَنْتَ بِنِعْمَتِ رَبِّكَ بِكَاهِنٍ وَّلَا مَجْنُوْنٍ ۟ؕ
অতএব, হে রাসূল! তুমি উপদেশ দিতে থাকো; কারণ তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি গণকও নও এবং পাগলও নও।
اَمْ یَقُوْلُوْنَ شَاعِرٌ نَّتَرَبَّصُ بِهٖ رَیْبَ الْمَنُوْنِ ۟
নাকি তারা বলে, ‘সে (মুহাম্মাদ) একজন কবি? আমরা তার মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছি।’
قُلْ تَرَبَّصُوْا فَاِنِّیْ مَعَكُمْ مِّنَ الْمُتَرَبِّصِیْنَ ۟ؕ
হে রাসূল! (৫) বলো: ‘তোমরা (আমার মৃত্যুর) অপেক্ষায় থাকো! আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’
اَمْ تَاْمُرُهُمْ اَحْلَامُهُمْ بِهٰذَاۤ اَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُوْنَ ۟ۚ
নাকি তাদের বুদ্ধি-বিবেচনাই তাদেরকে(৬) এ ধরনের কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করে? বরং তারা তো সীমালঙ্ঘনকারী এক জাতি।
اَمْ یَقُوْلُوْنَ تَقَوَّلَهٗ ۚ— بَلْ لَّا یُؤْمِنُوْنَ ۟ۚ
নাকি তারা বলে, ‘সে (মুহাম্মাদ) নিজেই এটি রচনা করেছে’? বরং তারা ঈমান আনে না।
فَلْیَاْتُوْا بِحَدِیْثٍ مِّثْلِهٖۤ اِنْ كَانُوْا صٰدِقِیْنَ ۟ؕ
অতএব, তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে এটার অনুরূপ কোনো বাণী নিয়ে আসুক।
اَمْ خُلِقُوْا مِنْ غَیْرِ شَیْءٍ اَمْ هُمُ الْخٰلِقُوْنَ ۟ؕ
তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না কি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?
اَمْ خَلَقُوا السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ— بَلْ لَّا یُوْقِنُوْنَ ۟ؕ
তারা কি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা (৭) দৃঢ় বিশ্বাস করে না।
اَمْ عِنْدَهُمْ خَزَآىِٕنُ رَبِّكَ اَمْ هُمُ الْمُصَۜیْطِرُوْنَ ۟ؕ
তোমার রবের (রিযকের) গুপ্তভাণ্ডার কি তাদের কাছে আছে, না কি তারা সব কিছু নিয়ন্ত্রণকারী?
اَمْ لَهُمْ سُلَّمٌ یَّسْتَمِعُوْنَ فِیْهِ ۚ— فَلْیَاْتِ مُسْتَمِعُهُمْ بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ ۟ؕ
নাকি তাদের কোন সিঁড়ি আছে, যাতে চড়ে তারা (ঊর্ধ্বলোকের কথা) শুনতে পায়; তাদের শ্রোতা স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক না?
اَمْ لَهُ الْبَنٰتُ وَلَكُمُ الْبَنُوْنَ ۟ؕ
তবে কি (৮) আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান; আর তোমাদের নিজেদের জন্যে পুত্র সন্তান?
اَمْ تَسْـَٔلُهُمْ اَجْرًا فَهُمْ مِّنْ مَّغْرَمٍ مُّثْقَلُوْنَ ۟ؕ
নাকি হে রাসূল! তুমি তাদের কাছে (৯) পারিশ্রমিক চাও, যা তাদের কাছে জরিমানার বোঝা মনে হচ্ছে?
اَمْ عِنْدَهُمُ الْغَیْبُ فَهُمْ یَكْتُبُوْنَ ۟ؕ
নাকি তাদের কাছে গায়িবের জ্ঞান আছে, যা তারা লিখছে?
اَمْ یُرِیْدُوْنَ كَیْدًا ؕ— فَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا هُمُ الْمَكِیْدُوْنَ ۟ؕ
নাকি তারা (তোমার বিরুদ্ধে) ষড়যন্ত্র করতে চায়? অতএব যারা কুফরী করে তারাই ষড়যন্ত্রের শিকার হবে।
اَمْ لَهُمْ اِلٰهٌ غَیْرُ اللّٰهِ ؕ— سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ۟
নাকি আল্লাহ ব্যতীত তাদের অন্য কোন ইলাহ আছে? তারা যে শিরক করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।
وَاِنْ یَّرَوْا كِسْفًا مِّنَ السَّمَآءِ سَاقِطًا یَّقُوْلُوْا سَحَابٌ مَّرْكُوْمٌ ۟
আর আকাশের কোন খণ্ড ভেঙ্গে পড়তে দেখলে তারা বলবে, ‘এটি তো এক পুঞ্জীভূত মেঘমালা!(১০)
فَذَرْهُمْ حَتّٰی یُلٰقُوْا یَوْمَهُمُ الَّذِیْ فِیْهِ یُصْعَقُوْنَ ۟ۙ
অতএব, হে রাসূল! তুমি তাদেরকে ছেড়ে দাও সেদিন পর্যন্ত যেদিন তারা বজ্রাঘাতে বেহুঁশ হয়ে ধ্বংস হবে।
یَوْمَ لَا یُغْنِیْ عَنْهُمْ كَیْدُهُمْ شَیْـًٔا وَّلَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ ۟ؕ
যেদিন তাদের কোনো দুরভিসন্ধি কাজে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
وَاِنَّ لِلَّذِیْنَ ظَلَمُوْا عَذَابًا دُوْنَ ذٰلِكَ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟
আর নিশ্চয় যারা যুলম করবে তাদের জন্যথাকবে এছাড়া আরো শাস্তি(১১); কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَاِنَّكَ بِاَعْیُنِنَا وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ حِیْنَ تَقُوْمُ ۟ۙ
হে রাসূল! তোমার রবের সিদ্ধান্তের ওপর ধৈর্যধারণ করো; কারণ তুমি আমার চোখের সামনেই আছো(১২) এবং যখন তুমি (শয্যা ত্যাগ করে) জেগে ওঠো তখন তোমার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করো।
وَمِنَ الَّیْلِ فَسَبِّحْهُ وَاِدْبَارَ النُّجُوْمِ ۟۠
আর রাতের কিছু অংশে(১৩) এবং (রাত্রি শেষে) নক্ষত্রের অস্ত যাবার পর(১৪) তার তাসবীহ পাঠ করো।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time