وَالنَّجْمِ اِذَا هَوٰی ۟ۙ
শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।
The Star · 62 ayahs
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
وَالنَّجْمِ اِذَا هَوٰی ۟ۙ
শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوٰی ۟ۚ
তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পথভ্রষ্ট হয়নি এবং বিপথগামীও হয়নি।
وَمَا یَنْطِقُ عَنِ الْهَوٰی ۟ؕۚ
আর সে (কখনই) মনগড়া কোন কথা বলে না।
اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْیٌ یُّوْحٰی ۟ۙ
এই আল-কুরআন ওহী ব্যতীত আর কিছুই নয়, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়।
عَلَّمَهٗ شَدِیْدُ الْقُوٰی ۟ۙ
তাকে (আল-কুরআন) শিক্ষা দিয়েছে প্রবল শক্তিধর (১৫),
ذُوْ مِرَّةٍ ؕ— فَاسْتَوٰی ۟ۙ
যিনি প্রবল শক্তি ও পূর্ণ সামর্থ্যের অধিকারী; অতঃপর সে(১৬) নিজ প্রকৃত রূপে প্রকাশিত হলো।
وَهُوَ بِالْاُفُقِ الْاَعْلٰی ۟ؕ
তখন সে (জিবরীল) ছিলো ঊর্ধ্ব দিগন্তে।
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلّٰی ۟ۙ
তারপর জিবরীল (মুহাম্মাদের) নিকটবর্তী হলো, এরপর আরো নিকবর্তী হলো।
فَكَانَ قَابَ قَوْسَیْنِ اَوْ اَدْنٰی ۟ۚ
তখন তাদের মধ্যে ব্যবধান ছিল দু’ ধনুকের পরিমাণ, অথবা তারও কম।
فَاَوْحٰۤی اِلٰی عَبْدِهٖ مَاۤ اَوْحٰی ۟ؕ
অতঃপর আল্লাহ তাঁর বান্দা (মুহাম্মাদ)-র প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন।
مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَاٰی ۟
সে (মুহাম্মাদ) যা দেখেছে, অন্তকরণ সে সম্পর্কে মিথ্যা বলেনি।
اَفَتُمٰرُوْنَهٗ عَلٰی مَا یَرٰی ۟
সে যা দেখেছে, সে সম্পর্কে তোমরা কি তার সাথে বিতর্ক করবে?
وَلَقَدْ رَاٰهُ نَزْلَةً اُخْرٰی ۟ۙ
আর সে তো তাকে (১৭) আরেকবার দেখেছিল।
عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهٰی ۟
‘সিদরাতুল মুনতাহা’-র নিকট।
عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَاْوٰی ۟ؕ
যার কাছে জান্নাতুল মা’ওয়া অবস্থিত।
اِذْ یَغْشَی السِّدْرَةَ مَا یَغْشٰی ۟ۙ
যখন (আল্লাহ) কুল গাছটিকে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল।
مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغٰی ۟
তার (মুহাম্মাদের) দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি এবং (তার দৃষ্টি) সীমাও অতিক্রম করেনি।(১৮)
لَقَدْ رَاٰی مِنْ اٰیٰتِ رَبِّهِ الْكُبْرٰی ۟
নিশ্চয় সে (মুহাম্মাদ) তার রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ থেকে দেখেছে।(১৯) নিশ্চয় সে(১৯) তাঁর রবের মহান নিদর্শনসমূহের কিছু প্রত্যক্ষ করেছিলো।
اَفَرَءَیْتُمُ اللّٰتَ وَالْعُزّٰی ۟ۙ
(হে মুশরিকরা!) তোমরা কি লাত ও ‘উযযা দেবতা সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?’
وَمَنٰوةَ الثَّالِثَةَ الْاُخْرٰی ۟
এবং তৃতীয় আরেকটি (দেবতা) মানাত সম্পর্কে?(২০)
اَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْاُ ۟
তোমাদের জন্য কি পুত্র সন্তান, আর আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান?
تِلْكَ اِذًا قِسْمَةٌ ضِیْزٰی ۟
এটাতো এক অসঙ্গত বণ্টন!
اِنْ هِیَ اِلَّاۤ اَسْمَآءٌ سَمَّیْتُمُوْهَاۤ اَنْتُمْ وَاٰبَآؤُكُمْ مَّاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ بِهَا مِنْ سُلْطٰنٍ ؕ— اِنْ یَّتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَی الْاَنْفُسُ ۚ— وَلَقَدْ جَآءَهُمْ مِّنْ رَّبِّهِمُ الْهُدٰی ۟ؕ
এগুলো তো কতিপয় (অর্থহীন) নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলিল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেদের কুপ্রবৃত্তির যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে (নবীর মাধ্যমে) হিদায়াত এসেছে।
اَمْ لِلْاِنْسَانِ مَا تَمَنّٰی ۟ؗۖ
মানুষ যা চায়, তাই কি সে পায়?
فَلِلّٰهِ الْاٰخِرَةُ وَالْاُوْلٰی ۟۠
বস্তুতঃ আখিরাত ও দুনিয়া আল্লাহরই।(২১)
وَكَمْ مِّنْ مَّلَكٍ فِی السَّمٰوٰتِ لَا تُغْنِیْ شَفَاعَتُهُمْ شَیْـًٔا اِلَّا مِنْ بَعْدِ اَنْ یَّاْذَنَ اللّٰهُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَیَرْضٰی ۟
আর আকাশমণ্ডলীতে এমন কত ফিরিশতা রয়েছে, যাদের সুপারিশ কোনো উপকারেই আসবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ও যার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তার জন্য অনুমতি প্রদান করেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ لَیُسَمُّوْنَ الْمَلٰٓىِٕكَةَ تَسْمِیَةَ الْاُ ۟
নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফিরিশতাদেরকে নারীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।(২২)
وَمَا لَهُمْ بِهٖ مِنْ عِلْمٍ ؕ— اِنْ یَّتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ ۚ— وَاِنَّ الظَّنَّ لَا یُغْنِیْ مِنَ الْحَقِّ شَیْـًٔا ۟ۚ
অথচ (২৩) এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই নেই। তারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে। আর নিশ্চয় অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনই কাজে আসে না।
فَاَعْرِضْ عَنْ مَّنْ تَوَلّٰی ۙ۬— عَنْ ذِكْرِنَا وَلَمْ یُرِدْ اِلَّا الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا ۟ؕ
অতএব, হে রাসূল! তুমি তাকে উপেক্ষা করে চল, যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয় এবং কেবল দুনিয়ার জীবনই কামনা করে।
ذٰلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِّنَ الْعِلْمِ ؕ— اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ وَهُوَ اَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدٰی ۟
এটাই তাদের জ্ঞানের শেষসীমা। নিশ্চয় তোমার রবই সবচেয়ে ভালো জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন কে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে।
وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ۙ— لِیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اَسَآءُوْا بِمَا عَمِلُوْا وَیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اَحْسَنُوْا بِالْحُسْنٰی ۟ۚ
আর আসমানসমূহে ও জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুর মালিকানা আল্লাহরই। যাতে তিনি তাদের কাজের প্রতিফল (জাহান্নাম) দিতে পারেন যারা মন্দ কাজ করে এবং তাদেরকে তিনি উত্তম পুরস্কার (জান্নাত) দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে।
اَلَّذِیْنَ یَجْتَنِبُوْنَ كَبٰٓىِٕرَ الْاِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ اِلَّا اللَّمَمَ ؕ— اِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ ؕ— هُوَ اَعْلَمُ بِكُمْ اِذْ اَنْشَاَكُمْ مِّنَ الْاَرْضِ وَاِذْ اَنْتُمْ اَجِنَّةٌ فِیْ بُطُوْنِ اُمَّهٰتِكُمْ ۚ— فَلَا تُزَكُّوْۤا اَنْفُسَكُمْ ؕ— هُوَ اَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقٰی ۟۠
যারা ছোট খাটো দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব (তাদেরকে) ক্ষমার ব্যাপারে উদার। তিনি তোমাদের ব্যাপারে (তখন থেকেই) ভালো করে জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক অবগত কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে।
اَفَرَءَیْتَ الَّذِیْ تَوَلّٰی ۟ۙ
(হে রাসূল!) তবে তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে?(২৪)
وَاَعْطٰی قَلِیْلًا وَّاَكْدٰی ۟
আর সামান্য দান করে, পরে (সেটুকুও) বন্ধ করে দেয়?
اَعِنْدَهٗ عِلْمُ الْغَیْبِ فَهُوَ یَرٰی ۟
তার কাছে কি গায়িবের জ্ঞান আছে যে, সে দেখছে?
اَمْ لَمْ یُنَبَّاْ بِمَا فِیْ صُحُفِ مُوْسٰی ۟ۙ
নাকি তাকে জানানো হয়নি, যা আছে মূসার সহীফাসমূহে ,
وَاِبْرٰهِیْمَ الَّذِیْ وَ ۟ۙ
এবং যা রয়েছে ইবরাহীমের সহীফাসমূহে, যে পূর্ণ করেছিলো (তার অঙ্গীকার)।
اَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ اُخْرٰی ۟ۙ
কোন বোঝা বহনকারী অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।
وَاَنْ لَّیْسَ لِلْاِنْسَانِ اِلَّا مَا سَعٰی ۟ۙ
আর মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।
وَاَنَّ سَعْیَهٗ سَوْفَ یُرٰی ۟
আর তার প্রচেষ্টার ফল শীঘ্রই তাকে দেখানো হবে।
ثُمَّ یُجْزٰىهُ الْجَزَآءَ الْاَوْفٰی ۟ۙ
তারপর তাকে পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করা হবে।
وَاَنَّ اِلٰی رَبِّكَ الْمُنْتَهٰی ۟ۙ
আর নিশ্চয় তোমার রবের নিকটই হলো (বান্দাদের) শেষ গন্তব্য।
وَاَنَّهٗ هُوَ اَضْحَكَ وَاَبْكٰی ۟ۙ
আর নিশ্চয় তিনিই (যাকে ইচ্ছা) হাসান এবং তিনিই কাঁদান।
وَاَنَّهٗ هُوَ اَمَاتَ وَاَحْیَا ۟ۙ
আর নিশ্চয় তিনিই মৃত্যু দেন এবং তিনিই (২৫) জীবন দেন।
وَاَنَّهٗ خَلَقَ الزَّوْجَیْنِ الذَّكَرَ وَالْاُ ۟ۙ
আর তিনিই পুরুষ ও নারী উভয় প্রকার যুগল সৃষ্টি করেন।
مِنْ نُّطْفَةٍ اِذَا تُمْنٰی ۪۟
(২৬) এক ফোঁটা শুক্রবিন্দু থেকে যখন তা (গর্ভাশয়ে) নিক্ষিপ্ত হয়।
وَاَنَّ عَلَیْهِ النَّشْاَةَ الْاُخْرٰی ۟ۙ
আর নিশ্চয় পুনরায় সৃষ্টির দায়িত্ব তাঁর ওপরই।
وَاَنَّهٗ هُوَ اَغْنٰی وَاَقْنٰی ۟ۙ
আর তিনিই (২৭) অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন।
وَاَنَّهٗ هُوَ رَبُّ الشِّعْرٰی ۟ۙ
আর তিনিই (২৮) শি’রা নক্ষত্রের রব।
وَاَنَّهٗۤ اَهْلَكَ عَادَا ١لْاُوْلٰی ۟ۙ
আর তিনিই প্রাচীন ‘আদ জাতিকে ধ্বংস করেছেন।(২৯)
وَثَمُوْدَاۡ فَمَاۤ اَبْقٰی ۟ۙ
আর সামূদ জাতিকেও (ধ্বংস করেছেন)। তিনি তাদের কাউকে অবশিষ্ট রাখেন নি।
وَقَوْمَ نُوْحٍ مِّنْ قَبْلُ ؕ— اِنَّهُمْ كَانُوْا هُمْ اَظْلَمَ وَاَطْغٰی ۟ؕ
আর পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেও ধ্বংস করেছেন। নিশ্চয় তারা ছিল ভীষণ যালিম ও চরম অবাধ্য।
وَالْمُؤْتَفِكَةَ اَهْوٰی ۟ۙ
আর তিনি উল্টানো আবাসভূমিকে (ওপরে তুলে জমিনে) নিক্ষেপ করেছিলেন।(৩০)
فَغَشّٰىهَا مَا غَشّٰی ۟ۚ
অতঃপর সে জনপদের ওপর তিনি আচ্ছন্ন করেছিলেন, যা আচ্ছন্ন করার ছিল।(৩১)
فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّكَ تَتَمَارٰی ۟
সুতরাং, হে মানুষ! তুমি তোমার রবের কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে?
هٰذَا نَذِیْرٌ مِّنَ النُّذُرِ الْاُوْلٰی ۟
অতীত সতর্ককারী নবীদের মত এই নবীও একজন সতর্ককারী।
اَزِفَتِ الْاٰزِفَةُ ۟ۚ
কিয়ামত নিকটবর্তী।
لَیْسَ لَهَا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ كَاشِفَةٌ ۟ؕ
আল্লাহ ছাড়া কেউই তা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
اَفَمِنْ هٰذَا الْحَدِیْثِ تَعْجَبُوْنَ ۟ۙ
তোমরা কি এ কথায়(৩২) বিস্ময় বোধ করছ?
وَتَضْحَكُوْنَ وَلَا تَبْكُوْنَ ۟ۙ
আর (সেটিকে নিয়ে) তোমরা হাসি-ঠাট্টা করছো এবং কাঁদছ না?
وَاَنْتُمْ سٰمِدُوْنَ ۟
আর তোমরা তো গাফিল।
فَاسْجُدُوْا لِلّٰهِ وَاعْبُدُوْا ۟
সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদা করো এবং ইবাদাত করো।
Read and listen, set a daily goal and get salat reminders right inside your shop software — for you and your staff.
Start your 7-day free trial No card needed · cancel any time