তিনিই তোমাদেরকে কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর একটা সময় নির্দিষ্ট করেছেন এবং আর একটি নির্ধারিত সময় আছে, যা শুধু তিনিই জানেন। এরপরও তোমরা সন্দেহ করো!
আর আসমানসমূহ ও জমিনে তিনিই আল্লাহ। তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য (কথা, কাজ ও নিয়ত) সবকিছুই তিনি জানেন এবং তোমরা (ভালো-মন্দ) যা উপার্জন করো, তাও তিনি উত্তমরূপে জানেন।
তারা (এ কাফিররা) কি দেখে না যে, আমি তাদের আগে বহু (যালিম) জাতিকে ধ্বংস করেছি? তাদেরকে জমিনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমনটি তোমাদেরকেও করিনি এবং তাদের উপর অবিরাম বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। আর তাদের (ঘরগুলোর) পাদদেশে নদী প্রবাহিত করেছিলাম। তারপর তাদের পাপের জন্য তাদেরকে ধ্বংস করেছি এবং তাদের পর অন্য জাতিকে সৃষ্টি করেছি।
আর আমি যদি কাগজে লিখিত কিতাব তোমার ওপর নাযিল করতাম, অতঃপর তারা তা নিজেদের হাত দিয়ে স্পর্শ করত; তবুও যারা কুফরী করেছে তারা বলত: ‘এ তো প্রকাশ্য যাদু ছাড়া আর কিছুই না।’(১)
তাছাড়া আমি যদি কোনো ফিরিশতাকেও রাসূল করে পাঠাতাম, তবে তাঁকে পুরুষ মানুষের আকৃতিতেই পাঠাতাম।(২) আর তাদেরকে সেরকম বিভ্রান্তিতে ফেলতাম, যেরূপ বিভ্রান্তিতে তারা এখন রয়েছে।(৩)
আর (হে মুহাম্মাদ!) তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছিলো।(৪) কিন্তু বিদ্রুপকারীরা যে অকাট্য সত্য নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল, অবশেষে সেটাই (অস্বীকারকৃত শাস্তিই) তাদের ওপর চেপে বসেছিলো।
বল, ‘আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, তা কার?’ বল, ‘আল্লাহরই ।’ তিনি তাঁর নিজের ওপর দয়া করা লিখে নিয়েছেন । তিনি তোমাদেরকে কিয়ামতের দিনে অবশ্যই একত্র করবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, তারা ঈমান আনবে না।
বল: ‘আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা? তিনি আহার দেন, তাঁকে আহার দেওয়া হয় না।’ বল: ‘নিশ্চয় আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্যে যেন আমি প্রথম ব্যক্তি হই।’ আর ’তুমি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’
আর আল্লাহ তোমাকে যদি কোন দুঃখ- দুর্দশায় ফেলেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমাকে কোন কল্যাণ দান করেন, তবে তিনিই তো সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
বল: ‘কোন জিনিস সবচেয়ে বড় সাক্ষী?’ বল: ’আল্লাহই আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষ্যদাতা। আর এ কুরআন আমার নিকট অহী করা হয়েছে, যেন তোমাদেরকে এবং যার নিকট তা পৌঁছবে তাদের এ দ্বারা সতর্ক করতে পারি। তোমরা কি এমন সাক্ষ্য দিতে পারবে যে, আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহও আছে? বলো: ‘ আমি সে সাক্ষ্য দেই না ।’ বলো: ’অবশ্যই তিনি একমাত্র ইলাহ এবং তোমরা যা শরীক করো, তা থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত।’
আর তাদের কেউ কেউ তোমার প্রতি কান পেতে শোনে; কিন্তু আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ করে দিয়েছি, যেন তারা তা উপলব্ধি করতে না পারে। তাছাড়া আমি তাদের কানে পর্দা লাগিয়ে দিয়েছি। আর তারা যদি প্রতিটি আয়াতও দেখে, তারা তার প্রতি ঈমান আনবে না। এমনকি যখন তারা তোমার কাছে উপস্থিত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়, যারা কুফরী করেছে তারা বলে: ‘এটা পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।’
আর তুমি যদি দেখতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবে: ‘হায় আফসোস! যদি আমাদেরকে ফেরত পাঠানো হতো, তাহলে আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করতাম না এবং আমরা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম!’
না; বরং তারা ইতঃপূর্বে যা গোপন করত, তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে গেছে। আর যদি তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়, অবশ্যই যা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিলো, তারা তার দিকেই ফিরে যেতো। আর নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।
আর যদি তুমি তাদেরকে (পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদেরকে) দেখতে যখন তাদেরকে দাঁড় করানো হবে তাদের রবের সামনে এবং তিনি বলবেন: ‘এটা (পুনরুত্থান) কি সত্য নয়’? তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, আমাদের রবের শপথ!’(এটা বাস্তব সত্য) । তিনি বলবেন: ‘সুতরাং তোমরা যে কুফরী করতে তার কারণে, আজ তোমরা (জাহান্নামের) শাস্তি আস্বাদন করো।’
যারা (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাক্ষাতকে(৫)) অস্বীকার করেছে, তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি যখন হঠাৎ তাদের কাছে কিয়ামত উপস্থিত হবে, তখন তারা বলবে: ‘হায় আফসোস! দুনিয়াতে আমরা যে (আল্লাহকে অস্বীকার করে ও কিয়ামতের জন্যে প্রস্তুতি না নিয়ে) ত্রুটি করেছি তার জন্যে।’ তারা তাদের পাপসমূহ তাদের পিঠে বহন করবে। সাবধান! তারা যা বহন করবে, তা কতই না নিকৃষ্ট!
আর তোমার আগেও অনেক রাসূলের উপর মিথ্যারোপ করা হয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ও কষ্ট দেওয়ার পরও তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে আমার সাহায্য এসে পৌঁছে। আর আল্লাহর বাণীসমূহের(৬) কোনো পরিবর্তনকারী নেই। আর অবশ্যই রাসূলগণের কিছু সংবাদ তোমার কাছে এসেছে।(৭)
আর (হে রাসূল!) যদি তোমার কাছে তাদের (কাফিরদের মিথ্যারোপ ও) উপেক্ষা কষ্টকর হয়, তাহলে পারলে ভূগর্ভে সুড়ঙ্গ বা আকাশে সিঁড়ি খোঁজ করো এবং তাদের কাছে (আমার দেওয়া প্রমাণ ছাড়া অন্য) কোনো নিদর্শন নিয়ে আসো। আর আল্লাহ ইচ্ছে করলে, তাদের সবাইকে অবশ্যই হিদায়েতের পথে একত্র করতেন(৮)। কাজেই তুমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আর জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণী এবং ডানার সাহায্যে উড়ে এমন প্রতিটি পাখি, (সৃষ্টি ও রিযকের ক্ষেত্রে) তোমাদের মত এক একটি জাতি। আমি কিতাবে (লাওহে মাহফূযে) কোনো কিছু বাদ দেইনি। অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে।
আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তারা বধির, বোবা এবং অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে। আল্লাহ যাকে চান, তাকে পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান, তাকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
বলো: ‘তোমরা চিন্তা করে দেখো, তোমাদের ওপর যদি আল্লাহর শাস্তি এসে যায় অথবা কিয়ামত এসে পড়ে, তবে কি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকেডাকবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
বরং তোমরা তাঁকেই ডাকবে। অতঃপর তোমরা যে দুঃখ দূর করতে তাঁকে ডাকছ, তিনি ইচ্ছে করলে, তোমাদের সে দুঃখ দূর করবেন। আর তোমরা যাকে শরীক করো, তা তোমরা ভুলে যাবে (১০)।
আর অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে বিভিন্ন জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেছি। অতঃপর আমি তাদেরকে দুর্ভিক্ষ ও দুঃখ-কষ্ট দিয়ে পাকড়াও করেছি, যাতে তারা বিনয়ী ও অনুগত হয়।
সুতরাং যখন আমার শাস্তি তাদের ওপর আপতিত হল, তখন তারা কেন বিনীত হলো না? কিন্তু তাদের হৃদয় নিষ্ঠুর হয়েছিল। আর তারা যা করছিল, শয়তান তাদের জন্য তা শোভিত করেছে ।
অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের জন্য সবকিছুর দরজা খুলে দিলাম।(১১) অবশেষে যখন তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল তার কারণে তারা উৎফুল হলো, তখন আমি আকস্মিকভাবে তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা হতাশ হয়ে গেল।
বল: ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহে মোহর মেরে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া কি কোন ইলাহ আছেন, যে তোমাদেরকে এগুলো ফিরিয়ে দিবেন?‘ দেখো, কেমন করে আমি বিভিন্নভাবে আয়াতসমূহ বর্ণনা করি; এরপরও তারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আর আমি রাসূলদেরকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করি। অতএব যারা ঈমান এনেছে ও নিজেকে সংশোধন করে নিয়েছে, তাদের ওপর কোনো ভয় নেই এবং তারা (দুনিয়ার কোন সুবিধা হারানোর জন্য) চিন্তিতও হবে না।
বল: ‘আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ আছে, আর আমি গায়িবও জানি না এবং আমি একথাও বলি না যে, নিশ্চয় আমি ফিরিশতা। আমি শুধু তাই অনুসরণ করি, যা আমার কাছে অহী রূপে প্রেরণ করা হয়।’বলো: ‘অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? অতএব তোমরা কি চিন্তা করবে না?
আর এর দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করো, যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে। তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক কিংবা সুপারিশকারী থাকবে না। হয়ত তারা তাঁকেই ভয় করবে।
আর তুমি তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ো না, যারা নিজ রবকে সকাল সন্ধ্যায় ডাকে, তারা তাঁর চেহারা দেখতে চায়। তাদের কোনো কাজের জবাবদিহিতার দায়িত্ব তোমার ওপর নেই এবং তোমারও কোনো জবাবদিহিতার দায়িত্ব তাদের ওপর নেই যে, তুমি তাদেরকে তাড়িয়ে দিবে, ফলে তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আর এভাবেই আমি তাদের একদল লোককে দিয়ে আরেক দলকে পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা বলে: ‘আমাদের মধ্যে কি এদের প্রতিই আল্লাহ অনুগ্রহ করলেন?’ আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্বদ্ধে সবিশেষ অবগত নন?
আর যারা আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, তারা যখন তোমার কাছে আসে, তখন তাদেরকে বলো: ‘তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।’ তোমাদের রব দয়া করাকে নিজের ওপর কর্তব্য বলে তিনি লিখে নিয়েছেন। নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে কেউ না জেনে যদি খারাপ কাজ করে, তারপর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তাহলে তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
বলো: ‘নিশ্চয় তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাক, তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।’ বলো: ‘ আমি তোমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করি না, করলে নিশ্চয় আমি পথভ্রষ্ট হবো এবং আমি হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো না।
বলো: ‘নিশ্চয় আমি আমার রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর আছি ; অথচ তোমরা তা অস্বীকার করছো। তোমরা যা নিয়ে তাড়াহুড়া করছো, তা আমার কাছে নেই। হুকম কেবল আল্লাহরই । তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনি সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।’
বলো: ‘তোমরা যা নিয়ে তাড়াহুড়া করছো, তা যদি আমার কাছে থাকত, অবশ্যই আমার ও তোমাদের মাঝে বিষয়টির মীমাংসা হয়ে যেত। আর আল্লাহ যালিমদের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত।’(১২)
আর গায়িবের চাবিসমূহ তাঁরই কাছে। তিনি ছাড়া তা কেউ জানে না। আর স্থলে ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহে যা কিছু আছে, তা তিনিই অবগত আছেন। গাছের একটি পাতাও পড়ে না, তাঁর অবগতি ছাড়া। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না বা আদ্র কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।
আর তিনিই রাতে তোমাদেরকে মৃত্যু দেন এবং দিনে তোমরা যা উপার্জ ন করো তিনি তা জানেন। তারপর তিনি তোমাদেরকে দিনে পুনরায় জাগিয়ে তুলেন, যাতে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করা হয়। তারপর তাঁর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর তোমরা যা যা করতে, তিনি তোমাদেরকে সে বিষয়ে অবহিত করবেন।
আর তিনিই নিজ বান্দাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী এবং তোমাদের ওপর প্রেরণ করেন হিফাযতকারীদেরকে।(১৩) অবশেষে যখন তোমাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে, আমার প্রেরিত দূতগণ তার মৃত্যু ঘটায়। আর তারা কোন ত্রুটি করে না।
বল: ‘কে তোমাদেরকে উদ্ধার করেন স্থল ও সমুদ্রের যাবতীয় অন্ধকার থেকে? তোমরা তখন তাকে ডাকো অনুনয় বিনয় করে ও চুপিসারে, ‘যদি তিনি আমাদেরকে এ থেকে উদ্ধার করেন, আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’
(হে নবী! তুমি) বলো: ‘তিনি তো তোমাদের ওপর থেকে (পাথর, বজ্র ও তুফানের শাস্তি) অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে (ভূমি ধস ও ভূমিকম্পন দিয়ে) তোমাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করতে, অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দিতে এবং তোমাদের একদলকে অন্য দলের শাস্তির আস্বাদন করাতে সক্ষম।‘ দেখ, কীভাবে আমি আয়াতসমূহ (বিভিন্ন দলিল ও অকাট্য প্রমাণসহ) নানাভাবে বর্ণনা করি, যাতে তারা ভালোভাবে বুঝতে পারে।
আর যখন তুমি তাদেরকে দেখো, তারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে উপহাসমূলক সমালোচনায় রত আছে, তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, যতক্ষণ না তারা অন্য কথাবার্তায় লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণের পর যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসো না।
আর যারা তাদের দীনকে খেল-তামাশারূপে গ্রহণ করে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে প্রতারিত করে, তুমি তাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করো। আর তুমি আলকুরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিতে থাকো, যাতে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে ধ্বংসের শিকার না হয়। তার জন্য তো আল্লাহ ছাড়া নেই কোন অভিভাবক এবং নেই কোন সুপারিশকারী। আর যদি সে মুক্তিপণ হিসেবে সব কিছু দেয়, তবুও তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। এরাই তারা, যারা নিজেদের কৃতকর্মের কারণে ধ্বংসের শিকার হয়েছে। তাদের কুফরীর কারণে তাদের জন্যে রয়েছে ফুটন্ত পানীয় এবং বেদনাদায়ক শাস্তি।
বল: ‘আমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডাকব, যা আমাদেরকে কোন উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না? আর আল্লাহ আমাদেরকে পথ দেখানোর পর আমাদেরকে কি ফিরানো হবে আমাদের পশ্চাতে সেই ব্যক্তির ন্যায়, যাকে শয়তান জমিনে এমন শক্তভাবে পেয়ে বসেছে যে, সে দিশেহারা? অথচ তার রয়েছে কিছু সহচর, যারা তাকে সত্য-সঠিক পথের দিকে আহ্বান করে বলে: ‘আমাদের কাছে আসো ।’ বলো: ‘আল্লাহর পথই সঠিক পথ। আর আমরা রাব্বুল আলামীনের আনুগত্য করতে আদিষ্ট হয়েছি।’
আর তিনিই, আসমানসমূহ ও জমিনকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন। আর যেদিন তিনি বলবেন: ‘হও’ তখন হয়ে যাবে।(১৪) তাঁর কথাই সত্য। আর যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তাঁর জন্যই রয়েছে সেদিনের রাজত্ব। তিনি গায়িব ও উপস্থিত বিষয়ে পরিজ্ঞাত এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, অধিক অবহিত।
অতঃপর যখন রাতের অন্ধকার তার ওপর আচ্ছন্ন হলো, সে একটি তারকা দেখে, বলল: ‘এ আমার রব।’ অতঃপর যখন সেটা অস্তমিত হলো, তখন সে বললো: ‘যা অস্তমিত হয় আমি তা ভালোবাসি না।’
অতঃপর যখন সে চাঁদকে উজ্জ্বলরূপে উদীয়মান দেখল, বললো: ‘এই আমার রব।’ পরে যখন সেটাও অস্তমিত হলো, সে বললো: ‘যদি আমার রব আমাকে হিদায়াত না করেন, নিশ্চয় আমি পথহারা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।’
অতঃপর যখন সে সূর্যকে উজ্জ্বলরূপে উদীয়মান দেখলো, বললো: ‘এই আমার রব, এটি সবচেয়ে বড়।’ পরে যখন তা অস্তমিত হয়ে গেলো, তখন সে বললো: ‘হে আমার জাতি, তোমরা যা শরীক করো, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত।’
আর তার সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো। সে বললো: ‘তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে বিতর্ক করছো? অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দান করেছেন? তোমরা তাঁর সাথে যাদের শরীক করছো, আমি তাদেরকে ভয় করি না, তবে আমার রব যদি কিছু করতে চান, সেটা ভিন্ন কথা। আমার রব ইলম দ্বারা সব কিছু পরিব্যাপ্ত করে আছেন। অতঃপর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?’
‘তোমরা যাদেরকে শরীক করছো, তাদেরকে আমি কীভাবে ভয় করবো? তোমরা তো মহান আল্লাহর সাথে শরীক করতে আল্লাহকে ভয় করছো না; অথচ তাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক বানানোর প্রসঙ্গে তিনি তোমাদের নিকট কোন দলিল- প্রমাণ নাযিল করেননি। অতএব কোন দলটি নিরাপত্তার বেশি হকদার? যদি তোমাদের জানা থাকে?
আর ওটাই আমার দলিল–প্রমাণ, যা আমি ইবরাহীমকে তার জাতির মোকাবেলার জন্যে দান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা অনেক উঁচু মর্যাদায় উন্নীত করি। নিশ্চয় তোমার রব প্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞানী।
আর আমি তাকে দান করেছি ইসহাক ও ইয়াকূবকে। প্রত্যেককে আমি হিদায়াত দিয়েছি এবং নূহকে পূর্বে হিদায়াত দিয়েছি। আর তার সন্তানদের মধ্য থেকে দাঊদ, সুলায়মান, আইয়ূব, ইউসুফ, মূসা ও হারূনকে । আর আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদেরকেও প্রতিদান দেই।
এরাই তারা (সেসব নবীগণ), যাদেরকে আমি কিতাব, হিকমাত ও নবুওয়্যাত দান করেছি। অতএব তারা (তোমার সম্প্রদায়) যদি (উপরিউক্ত তিনটি বিষয়) এর সাথে কুফরী করে, তবে (কোনো পরওয়া নেই, কারণ) আমি এগুলোর তত্ত্বাবধায়ক এমন সম্প্রদায়কে করেছি, যারা এগুলোর অস্বীকারকারী (কাফির) নয়।(১৫)
এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত করেছেন। অতএব তুমি তাদের হিদায়াত অনুসরণ করো।বলো: ‘আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে কোনো বিনিময় চাই না। এটা তো সৃষ্টিকুলের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছুই না।
আর তারা আল্লাহকে যথার্থ সম্মান দেয়নি, যখন তারা বলছে: আল্লাহ কোন মানুষের ওপর কিছুই নাযিল করেননি। বল: ‘কে নাযিল করেছে মূসার আনীত কিতাব ? যা মানুষের জন্য আলো ও হিদায়াতস্বরূপ, যা তোমরা বিভিন্ন কাগজে লিখে রাখতে, তোমরা তার কিছু প্রকাশ করতে, আর অনেকাংশ গোপন রাখতে। আর তোমাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়েছিল, যা তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা জানতে না? বলো: ‘আল্লাহই’। অতঃপর তাদেরকে তাদের অযাচিত সমালোচনার ওপর ছেড়ে দাও, তারা খেলতে থাকুক।
আর এটি বরকতময় কিতাব, যা আমি নাযিল করেছি। এটি তার পূর্বের সব কিতাবের সত্যায়নকারী এবং এর দ্বারা যেন তুমি মক্কা ও তার চারপাশের মানুষদেরকে সতর্ক করতে পারো। আর যারা আখিরাতের ওপর ঈমান রাখে, তারা এ কিতাবের প্রতিও ঈমান রাখে এবং তারা তাদের সালাতের হিফাযত করে।
আর তার চেয়ে বড় যালিম কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে অথবা বলে: ‘আমার ওপর অহী প্রেরণ করা হয়েছে; অথচ তার প্রতি কোনো অহীই প্রেরণ করা হয়নি? আর বলে: ‘আমি অচিরেই এমন কিছু নাযিল করব, যেরূপ আল্লাহ নাযিল করেছেন?’ আর (হে নবী) তুমি যদি ঐ সময়ের অবস্থা দেখতে, যালিমরা যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকবে, এমতাবস্থায় ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে (তাদেরকে শাস্তি দিবে এবং ধমক দিয়ে) বলবে: ‘তোমাদের প্রাণগুলো বের করো। আজ তোমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে অবমাননাকর শাস্তি; কারণ তোমরা আল্লাহর ওপর অসত্য বলতে এবং তোমরা তাঁর আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে।’
আর অবশ্যই তোমরা আমার কাছে একা একা এসেছ, যেমন আমি প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম। আর আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা তোমরা তোমাদের পিছনে ফেলে এসেছ। আর তোমরা যাদেরকে তোমাদের ব্যাপারে শরীক মনে করতে, তোমাদের সে সুপারিশকারীদেরকেও আমি তোমাদের সাথে দেখছি না। তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক অবশ্যই ছিন্ন হয়েছে এবং যা ধারণা করেছিলে, তাও তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ শস্য-বীজ ও আঁটি অংকুরিত করেন। তিনিই মৃত (বীর্য) থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন।(১৬) তিনিই তো তোমাদের আল্লাহ। কাজেই তোমাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে?
আর তিনিই তোমাদের জন্যে নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা এ দ্বারা স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথপ্রাপ্ত হও। অবশ্যই আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে আমার আয়াতসমূহকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।
আর তিনিই তোমাদেরকে একই ব্যক্তি (আদম) থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের জন্যে রয়েছে একটি অবস্থানস্থল (নারীদের গর্ভাশয়) ও আরেকটি অবস্থানস্থল (পুরুষদের ঔরষ)।(১৭) অবশ্যই আমি (আল্লাহর বাণী বুঝে এমন) বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ এভাবেই বিশদভাবে বর্ণনা করেছি।
আর তিনিই আসমান থেকে বৃষ্টির পানি বর্ষণ করেন, তারপর তা দ্বারা আমি সকল প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি। অতঃপর সে উদ্ভিদ থেকে সবুজ গাছপালা উদ্গত করি। তা থেকে আমি ঘন ঘন নিবিড় শস্য-দানা উৎপন্ন করি। অনুরূপভাবে খেজুর গাছের মাথা থেকে ঝুলন্ত কাঁদি, আঙ্গুরের বাগান, যায়তুন ও আনার উৎপন্ন করি, যার ফলসমূহ পরস্পরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, আবার প্রতিটি পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্যেরও অধিকারী। লক্ষ্য করো এ ফলগুলোর দিকে, যখন সেগুলো ফলবান হয় এবং যখন তা পাকে। নিশ্চয় মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্যে এগুলোর মধ্যে রয়েছে নিদর্শনাবলি।
আর তারা (মুশরিকরা) জিনকে আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করে; অথচ তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।(১৮) আর তারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সন্তান নির্ধারণ করেছে। অথচ তারা তাকে যে গুণে গুণান্বিত করে, তিনি তার থেকে পবিত্র, মহিমান্বিত এবং অনেক ঊর্ধ্বে।
তিনিই আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা। কীভাবে তাঁর সন্তান হবে; অথচ তাঁর কোন স্ত্রী নেই! আর তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক বস্তু সম্বন্ধে তিনি সবিশেষ অবগত।
নিশ্চয় তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে চাক্ষুষ প্রমাণাদি এসেছে। অতএব যে চক্ষুষ্মান , সে নিজের জন্যেই কল্যাণ সাধন করবে। আর যে অন্ধ সাজবে , সে নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আর আমি তোমাদের ওপর সংরক্ষক নই।
আর এভাবেই আমি (আল্লাহ আমার কুদরত বিষয়ক) নিদর্শনসমূহ নানাভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে তারা (মুশরিকরা) বলে: তুমি পাঠ করেছ(১৯)। আর আমি যাতে এটাকে (কুরআনকে) সুস্পষ্টভাবে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বর্ণনা করি।
আর তারা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাকে, তোমরা তাদেরকে গালমন্দ করো না। ফলে তারাও অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে, আল্লাহকে গালমন্দ করবে। এভাবেই আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য তাদের কর্ম শোভিত করে দিয়েছি। তারপর তাদের রবের কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি তাদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন।
আর তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে বলে: তাদের কাছে যদি কোন নিদর্শন আসত, তবে তারা অবশ্যই তার ওপর ঈমান আনত। বলো: ‘নিদর্শন তো আল্লাহর কাছেই।’ আর তোমাদের কীভাবে বুঝানো যাবে যে, তাএলেও তারা ঈমান আনবে না!
আর আমি তাদের অন্তরসমূহ ও দৃষ্টিসমূহ উল্টিয়ে দিবো, যেমন তারা আলকুরআনের প্রতি প্রথমবারে ঈমান আনেনি। আর আমি তাদেরকে তাদের বাড়াবাড়ি করার মধ্যে বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দিবো।
আর যদি আমি তাদের নিকট ফিরিশতা নাযিল করতাম এবং মৃতরা তাদের সাথে কথা বলত আর তাদের সামনে সবকিছু এনেও যদি হাজির করতাম, তবুও তারা ঈমান আনতো না, তবে আল্লাহ চাইলে ভিন্ন কথা। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মূর্খ।
আর এভাবেই আমি মানবজাতি ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদেরকে প্রত্যেক নবীর শত্রু বানিয়ে দিয়েছি। তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে মুখরোচক কথা বলে। যদি তোমার রব ইচ্ছে করতেন তবে তারা এসব করত না(২১)। কাজেই তুমি তাদেরকে ও তাদের মিথ্যা রটনাকে পরিহার করো।
আর তারা এ উদ্দেশ্যে পরস্পরকে কুমন্ত্রণা দেয় যে, পরকালে অবিশ্বাসীদের অন্তরগুলো যেন সে চমকপ্রদ কথার প্রতি অনুরাগী হয় এবং তাতে যেন তারা সন্তুষ্ট হয়। আর তারা যে অপকর্ম করে, তাতে যেন তারা নিমজ্জিত থাকে।
আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বিচারক হিসেবে মেনে নিবো? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি প্রত্যেক জিনিসের পরিপূর্ণ বর্ণনাকারী হিসেবে কিতাব নাযিল করেছেন। আর যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম তারা জানত যে, তা (আল-কুরআন) তোমার রবের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে নাযিলকৃত। সুতরাং তুমি কখনো সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আর তুমি যদি বিশ্বের অধিকাংশ লোকের কথামতো চলো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা শুধু ধারণারই অনুসরণ করে এবং তারা নিছক আন্দাজ-অনুমান করে ।
আর তোমাদের কী হয়েছে, (যবহকালে ) যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তোমরা তা থেকে খাবে না?অথচ তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যা তোমাদের ওপর হারাম করেছেন। তবে তোমরা নিরুপায় হলে তা ভিন্ন কথা।(২২) নিশ্চয় অনেকে অজ্ঞতাবশত তাদের খেয়াল-খুশি দ্বারা অন্যকে পথভ্রষ্ট করে। নিশ্চয় তোমার রব সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।
আর যে পশুতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি তার কিছুই তোমারা খেও না। কারণ তা গর্হিত কাজ । নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে প্ররোচনা দেয়। আর যদি তোমারা তাদের অনুগত্য করো, তবে তোমারা অবশ্যই মুশরিক।
যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি (আল্লাহ) তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে মানুষের মধ্যে চলার জন্য আলো দিয়েছি, সে কি তার মত, যে ব্যক্তি (ঘোর অন্ধকারে রয়েছে, যেখান থেকে সে বের হতে পারে না?(২৩) এভাবেই কাফিরদের জন্য তাদের কৃতকর্ম সুশোভিত করা হয়েছে ।
আর (২৪) এভাবেই আমি প্রত্যেক জনপদে সেখানকার অপরাধীদের প্রধানকে সেখানে চক্রান্ত করতে দিয়েছি। কিন্তু তারা শুধু তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করে; অথচ তারা তা বুঝতে পারে না।
আর যখনই তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে তখন তারা বলে: ‘আল্লাহর রাসূলগণকে যা দেয়া হয়েছিল আমাদেরকেও তা দেওয়া না হলে, আমরা কখনোই ঈমান আনবো না।’ আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব কার ওপর অর্পণ করবেন। যারা অপরাধ করেছে, তাদের চক্রান্তের কারণে অচিরেই তারা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তিতে নিপতিত হবে।
সুতরাং আল্লাহ কাউকে হিদায়াত দান করতে চাইলে, তিনি তার বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন। অন্যদিকে কাউকে বিপথগামী করতে চাইলে, তিনি তার বক্ষকে অতিশয় সংকীর্ণ করে দেন। তখন (তার কাছে ইসলামে প্রবেশ করাটা) মনে হয়, সে কষ্ট করে আকাশে সিঁড়ি বেয়ে উঠছে(২৫)। যারা ঈমান আনে না, আল্লাহ এভাবেই তাদের ওপর অপবিত্রতা আরোপ করেন।
আর যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্র করবেন এবং বলবেন: ‘হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা তো অনেক লোককে পথভ্রষ্ট করেছিলে।’ তখন তাদের অনুসারী মানুষরা বলবে: ’হে আমাদের রব! আমরা একে অপরের দ্বারা লাভবান হয়েছি(২৬) এবং আমরা সে সময়ে উপনীত হয়েছি, যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ আল্লাহ বলবেন: ‘আগুনই তোমাদের বাসস্থান, তোমরা সেখানে স্থায়ী হবে, তবে আল্লাহ অন্য কিছু চাইলে সেটা ভিন্ন কথা।(২৭) নিশ্চয় তোমার রব প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।’
হে জিন ও মানবজাতি, তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের নিকট রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করত এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে তোমাদেরকে সতর্ক করত?’ তারা বলবে: ‘আজ আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি।’ আর দুনিয়ার জীবন তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে। আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে যে, তারা ছিল কাফির।
আর তোমার রব অমুখাপেক্ষী, দয়ালু। তিনি ইচ্ছে করলে, তোমাদেরকে সরিয়ে নিবেন এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন, যেমন তিনি তোমাদেরকে অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশধারা থেকে সৃষ্টি করেছেন।
(হে রাসূল!) বলো: ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদের অবস্থানে (কুফরি ও ভ্রষ্টতার উপর অবিচল) থেকে কাজ করো, নিশ্চয় আমিও কাজ করছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার পরিণাম হবে কল্যাণময়।(১) নিশ্চয়ই যালিমরা কিছুতেই সফল হবে না।’
আর আল্লাহ যে শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তারা
আল্লাহর জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করে এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী বলে: ‘এটা আল্লাহর জন্য এবং এটা আমাদের শরিকদের জন্য।’ অতঃপর যা তাদের শরিকদের অংশ, তা আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; অথচ আল্লাহর অংশ তাদের শরিকদের কাছে পৌঁছায়।(৩০) তাদের ফয়সালা কতই না নিকৃষ্ট!
আর এভাবে তাদের শরিক শয়তানরা বহু মুশরিকদের নিকট তাদের সন্তানদের হত্যাকে সুশোভিত করেছে , তাদের ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এবং তাদের দীন সম্বন্ধে তাদের বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যে। আর আল্লাহ ইচ্ছে করলে, তারা এসব করতে পারতো না। কাজেই তাদেরকে তাদের মিথ্যা রটনা নিয়েই থাকতে দাও।
আর তারা তাদের ভ্রান্ত ধারণা অনুযায়ী বলে: ‘এসব গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ(৩১); আমরা যাকে চাইবো সে ছাড়া কেউ এসব খেতে পারবে না।’ তাছাড়া কিছু সংখ্যক গবাদি পশুর পিঠে আরোহণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে(৩২) এবং কিছু সংখ্যক গবাদি পশু যবহ করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয় না(৩৩)। তাদের এসব বিধি নিষেধ মূলত আল্লাহর ওপর ডাহা মিথ্যা রটনা। তিনি অবশ্যই তাদেরকে তাদের এ মিথ্যা রটনার শাস্তি অচিরেই প্রদান করবেন।
তারা আরো বলে: ‘এ চতুষ্পদ জন্তুগুলোর পেটে যা আছে, তা আমাদের পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট এবং এটা আমাদের স্ত্রীদের জন্য হারাম। কিন্তু সেটা যদি মৃত হয়, তবে সবাই এতে অংশীদার।’ অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের এরূপ বিধিনিষেধ আরোপের শাস্তি প্রদান করবেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
অবশ্যই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতাবশত নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করেছে এবং আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে আল্লাহর দেয়া রিযক হারাম করেছে। তারা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা কখনোই হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না।
আর তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন এমন বাগানসমূহ, যার কিছু মাচায় তোলা হয়, আর কিছু তোলা হয় না(৩৪) এবং খেজুর গাছ ও বিভিন্ন আকৃতি ও স্বাদের ফসল, আর যায়তুন ও আনার, এগুলো একটি অন্যটির মত, তবে ভিন্ন ভিন্ন রকমের। যখন ওগুলো ফলবান হবে, তখন সেগুলোর ফল খাবে এবং ফসল তোলার দিন সে সবের হক প্রদান করবে। আর তোমরা সীমারেখা অতিক্রম করো না। কারণ আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ভালোবাসেন না।(৩৫)
আর তিনি গবাদি পশুর মধ্যে কিছু ভারবাহী ও কিছু ছোট পশু সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ যা রিযক হিসেবে তোমাদেরকে দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কারণ, সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শক্র।
তিনি আট প্রকারের পশু সৃষ্টি করেছেন(৩৬), মেষের দুটি ও ছাগলের দুটি। তুমি বলো: ‘নর দুটিই কি তিনি হারাম করেছেন কিংবা মাদি দুটিই অথবা মাদি দুটির গর্ভে যা আছে, তা হারাম করেছেন? তোমরা সত্যবাদী হলে, প্রমাণসহ আমাকে অবহিত করো।
আর উট থেকে দু’টি ও গাভি থেকে দু’টি। বলো: ‘নর দুটিই কি তিনি হারাম করেছেন কিংবা মাদি দুটিই অথবা মাদি দুটির গর্ভে যা আছে, তা তিনি হারাম করেছেন? নাকি আল্লাহ যখন তোমাদেরকে এসব নির্দেশ দান করেছেন তখন তোমরা উপস্থিত ছিলে?’ কাজেই যে ব্যক্তি না জেনে, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর উপর মিথ্যা রটনা করে, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।
বল: ‘আমার প্রতি যে অহী নাযিল হয়েছে তাতে, লোকে যা খায় তার মধ্যে আমি মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের মাংস ছাড়া আর কিছু হারাম পাই না। কেননা এগুলো অবশ্যই অপবিত্র অথবা এমন অবৈধ, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।’ তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘন না করে তা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে । কারণ নিশ্চয় তোমার রব পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
আর আমি ইয়াহূদীদের জন্য সমস্ত নখরধারী(৩৭) (প্রাণী) হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগলের চর্বিও তাদের জন্য হারাম করেছিলাম; তবে এগুলোর পিঠের অথবা অন্ত্রের কিংবা হাড়ের সাথে লেগে থাকা চর্বি ছাড়া। তাদের অবাধ্যতার জন্য আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম। আর নিশ্চয় আমিসত্যবাদী।
অতঃপর তারা যদি তোমার ওপর মিথ্যারোপ করে, তবে তাদেরকে বলো, ‘তোমাদের রব প্রশস্ত অনুগ্রহের মালিক। আর তাঁর শাস্তি অপরাধী সম্প্রদায়ের ওপর থেকে ফেরানো হয় না।’
অচিরেই মুশরিকরা বলবে: ‘আল্লাহ যদি চাইতেন, আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষরা শিরক করতাম না এবং আমরা কোন কিছু হারাম করতাম না।’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যারোপ করেছে, যে পর্যন্ত না তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। বলো: ‘তোমাদের কাছে কি কোন জ্ঞান আছে, যা তোমরা আমাদের জন্য প্রকাশ করবে?(৩৮) তোমরা তো শুধু কল্পনারই অনুসরণ করো এবং শুধু মনগড়া কথা বলো।'
বল: ‘আল্লাহ যে এটা হারাম করেছেন, এ ব্যাপারে যারা সাক্ষ্য দিবে, তাদেরকে হাজির করো।(৩৯) তারা সাক্ষ্য দিলেও, তুমি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিবে না।(৪০) আর তুমি তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা আমার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে এবং আখিরাতে ঈমান রাখে না। আর তারাই তাদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায়।’
বল: ‘এসো তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন, আমি তা তোমাদেরকে তিলাওয়াত করে শুনাচ্ছি। সেগুলো হচ্ছে: ‘তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে, দারিদ্রের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, আমিই তোমাদেরকে ও তাদেরকে রিযক দিয়ে থাকি। প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে, অশ্লীল কাজের ধারে-কাছেও যাবে না। আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তোমরা তাকে হত্যা করবে না।’ তিনি তোমাদেরকে এ আদেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝতে পারো।
‘ইয়াতীম বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উত্তম পন্থা ছাড়া তোমরা তার(৪১) সম্পদের নিকটবর্তীও হয়ো না ।(৪২) আর পরিমাপ ও ওজনে ইনসাফের সাথে পরিপূর্ণ দাও। আমি কাউকে তার সাধ্যের চেয়ে বেশি দায়িত্বভার অর্পণ করি না। আর যখন তোমরা কথা বলবে , তখন ন্যায্য কথা বলবে; যদিও তা আত্মীয়-স্বজনের বিপক্ষে হয় এবং আল্লাহকে দেয়া অঙ্গীকার পূর্ণ করো। এ বিষয়গুলোর নির্দেশ তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।’
আর এ পথই আমার সরল সঠিক পথ। কাজেই তোমরা এর অনুসরণ করো এবং বিভিন্ন পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।(৪৩) এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা তাঁকে ভয় করতে পারো।
অতঃপর আমি মূসাকে প্রদান করেছি কিতাব, যা ছিল সৎকর্মপরায়ণদের জন্যে পরিপূর্ণতা, সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হিদায়াত এবং রহমতস্বরূপ, যাতে তারা তাদের রবের সাক্ষাতের ব্যাপারে ঈমান রাখে।
যেন তোমরা এ কথা বলতে না পারো যে, ‘কিতাব তো শুধু আমাদের পূর্বে দুটি সম্প্রদায়ের প্রতিই নাযিল হয়েছিল; অথচ আমরা তাদের কিতাবগুলো পাঠ করতে কিছুতেই সক্ষম নই।’(৪৪)
যাতে তোমরা এ কথাও বলতে না পারো যে, ‘যদি আমাদের প্রতি কিতাব নাযিল হত, তবে আমরা তো তাদের চেয়ে বেশি হিদায়াত প্রাপ্ত হতাম।’ এখন তো তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ, হিদায়াত ও রহমত এসেছে।(৪৫) অতঃপর যে আল্লাহর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করবে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? যারা আমার আয়াতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের বিমুখ হওয়ার কারণে, অচিরেই আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিবো।
তারা শুধু এরই তো প্রতীক্ষা করে যে, তাদের কাছেফিরিশতা আসবে, কিংবা তোমার রব আসবেন, কিংবা তোমার রবের কোনো নিদর্শন আসবে? যেদিন তোমার রবের কোন নিদর্শন আসবে সেদিন তার ঈমান কোনো কাজে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি অথবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে ইতঃপূর্বে কল্যাণ লাভ করেনি। বল: ‘তোমরা প্রতীক্ষা করো , আমরাও প্রতীক্ষায় রইলাম।’
নিশ্চয় যারা তাদের দীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন দায়িত্ব তোমার নেই। তাদের ফয়সালার দায়িত্ব তো আল্লাহর ওপর। অতঃপর তিনি তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করবেন।
বল: ‘আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন রব অনুসন্ধান করব? অথচ তিনিই সব কিছুর রব।’ আর প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী এবং কেউ অন্য কারো ভার গ্রহণ করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে তোমাদের রবের নিকটই ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন, যেসব বিষয়ে তোমরা মতবিরোধ করেছিলে।
আর তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানিয়েছেন এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, সে বিষয়ে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তোমাদের কিছু লোককে অন্যের উপর উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। নিশ্চয় তোমার রব দ্রুত শাস্তি প্রদানকারী এবং নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।