হে রাসূল! যখন তোমার কাছে মুনাফিকরা আসে, তখন তারা বলে: ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল।’ এবং আল্লাহ জানেন যে, অবশ্যই তুমি তাঁর রাসূল। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, অবশ্যই মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।
তারা তাদের (ঈমানের দাবির ওপর কৃত) শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। অতঃপর (এর আড়ালে মানুষকে) তারা আল্লাহর পথ থেকে বিরত রেখেছে। নিশ্চয় তারা যা করে এসেছে, তা কতই না নিকৃষ্ট!
তারা (যখন তোমার বৈঠকে বসে) যেন দেয়ালে ঠেস দেয়া (নিষ্প্রাণ) কাঠের গুঁড়ি (অপদার্থ)। তারা প্রত্যেক আওয়াজকেই নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই প্রকৃত শত্রু; অতএব, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকো। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! তারা কীভাবে সত্য থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে!"
আর এ সব মুনাফিককে যখন বলা হয়, ‘এসো, আল্লাহর রাসূল তোমাদের (প্রকাশিত অপরাধের) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন’, তখন তারা অবজ্ঞাভরে তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয়। আর তুমি তাদেরকে দেখতে পাবে, তারা অহংকারভরে বিমুখ হয়ে আছে।
হে রাসূল! তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।
তারাই (এসব মুনাফিকরাই) বলে: যারা আল্লাহর রাসূলের কাছে আছে, তোমরা তাদের জন্য খরচ করো না; যতক্ষণ না তারা তার কাছ থেকে সরে যায়। আর আসমানসমূহ ও জমিনের ধন-ভাণ্ডার তো আল্লাহরই; কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।
তারা বলে: ‘(এবার) যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই তাহলে সেখান থেকে (আমাদের) শক্তিশালীরা(২) অবশ্যই দুর্বলদেরকে(৩) বহিষ্কার করবে।’ অথচ সকল মর্যাদা তো আল্লাহর, তাঁর রাসূলের ও মু’মিনদেরই; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।
হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ (সালাত ইত্যাদি) থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
আর আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করো, তোমাদের মৃত্যু আসার পূর্বে। কেননা (মৃত্যু আসলে) তখন সে বলবে: হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সাদাকা করতাম এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।