تَبٰرَكَ الَّذِیْ بِیَدِهِ الْمُلْكُ ؗ— وَهُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرُ ۟ۙ
বরকতময় ও মহিমান্বিত সেই সত্ত্বা (আল্লাহ), যাঁর হাতে রয়েছে সর্বময় কর্তৃত্ব ও রাজত্ব। আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
The Sovereignty · 30 আয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
تَبٰرَكَ الَّذِیْ بِیَدِهِ الْمُلْكُ ؗ— وَهُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرُ ۟ۙ
বরকতময় ও মহিমান্বিত সেই সত্ত্বা (আল্লাহ), যাঁর হাতে রয়েছে সর্বময় কর্তৃত্ব ও রাজত্ব। আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
١لَّذِیْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَیٰوةَ لِیَبْلُوَكُمْ اَیُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا ؕ— وَهُوَ الْعَزِیْزُ الْغَفُوْرُ ۟ۙ
যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম? আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।
الَّذِیْ خَلَقَ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا ؕ— مَا تَرٰی فِیْ خَلْقِ الرَّحْمٰنِ مِنْ تَفٰوُتٍ ؕ— فَارْجِعِ الْبَصَرَ ۙ— هَلْ تَرٰی مِنْ فُطُوْرٍ ۟
যিনি সাত আসমান (১) স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্যতা (খুঁত) দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফেরাও, কোনো ত্রুটি (ফাটল) দেখতে পাও কি?
ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَیْنِ یَنْقَلِبْ اِلَیْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَّهُوَ حَسِیْرٌ ۟
অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফেরাও, সেই দৃষ্টি লাঞ্ছিত ও ক্লান্ত হয়ে (২) তোমার দিকেই ফিরে আসবে ।
وَلَقَدْ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنْیَا بِمَصَابِیْحَ وَجَعَلْنٰهَا رُجُوْمًا لِّلشَّیٰطِیْنِ وَاَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِیْرِ ۟
আমি (পৃথিবীর) নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপমালা (নক্ষত্ররাজি) দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি।(৩) আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি, জ্বলন্ত আগুনের আযাব।
وَلِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ ؕ— وَبِئْسَ الْمَصِیْرُ ۟
আর যারা তাদের রবের সাথে কুফরী করেছে, (কিয়ামত দিবসে) তাদের জন্য রয়েছে, জাহান্নামের শাস্তি। আর কতই না নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!
اِذَاۤ اُلْقُوْا فِیْهَا سَمِعُوْا لَهَا شَهِیْقًا وَّهِیَ تَفُوْرُ ۟ۙ
যখন তাদেরকে সেখানে (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা (৪) উথলাতে থাকবে।
تَكَادُ تَمَیَّزُ مِنَ الْغَیْظِ ؕ— كُلَّمَاۤ اُلْقِیَ فِیْهَا فَوْجٌ سَاَلَهُمْ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمْ یَاْتِكُمْ نَذِیْرٌ ۟
প্রচণ্ড ক্রোধে তা (জাহান্নাম) ছিন্ন-ভিন্ন হওয়ার উপক্রম হবে। যখনই তাতে (কাফিরদের) কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা (ফিরিশতাগণ) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে: ‘(দুনিয়াতে) তোমাদের নিকট কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?’
قَالُوْا بَلٰی قَدْ جَآءَنَا نَذِیْرٌ ۙ۬— فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللّٰهُ مِنْ شَیْءٍ ۖۚ— اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ كَبِیْرٍ ۟
তারা (কাফিররা) বলবে: ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের নিকট সতর্ককারী (রাসূল) এসেছিল। তখন আমরা তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলাম: ‘আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।’
وَقَالُوْا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ اَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِیْۤ اَصْحٰبِ السَّعِیْرِ ۟
আর তারা (আফসোস করে) বলবে: ‘যদি আমরা (৫) শুনতাম অথবা (৬) বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না।’
فَاعْتَرَفُوْا بِذَنْۢبِهِمْ ۚ— فَسُحْقًا لِّاَصْحٰبِ السَّعِیْرِ ۟
অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَیْبِ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّاَجْرٌ كَبِیْرٌ ۟
নিশ্চয় যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে, (সেই রবের পক্ষ থেকে) ক্ষমা ও বড় প্রতিদান (জান্নাত)।
وَاَسِرُّوْا قَوْلَكُمْ اَوِ اجْهَرُوْا بِهٖ ؕ— اِنَّهٗ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ ۟
আর হে মানুষ! তোমরা তোমাদের কথা গোপন করো অথবা তা প্রকাশ করো, নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে, সে বিষয়ে সম্যক অবগত।
اَلَا یَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ ؕ— وَهُوَ اللَّطِیْفُ الْخَبِیْرُ ۟۠
(৭) যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি (গোপন বস্তুর খবর) জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, পূর্ণ অবহিত।
هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ ذَلُوْلًا فَامْشُوْا فِیْ مَنَاكِبِهَا وَكُلُوْا مِنْ رِّزْقِهٖ ؕ— وَاِلَیْهِ النُّشُوْرُ ۟
তিনিই তো তোমাদের (বসবাসের) জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ করো এবং তাঁর রিযক থেকে তোমরা আহার করো। আর তাঁর নিকটই (তোমাদের) পুনরুত্থান।
ءَاَمِنْتُمْ مَّنْ فِی السَّمَآءِ اَنْ یَّخْسِفَ بِكُمُ الْاَرْضَ فَاِذَا هِیَ تَمُوْرُ ۟ۙ
তোমরা কি এ ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছ যে, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরসহ জমিনকে ধসিয়ে দেবেন না? তখন তা প্রবলভাবে কেঁপে উঠবে।
اَمْ اَمِنْتُمْ مَّنْ فِی السَّمَآءِ اَنْ یُّرْسِلَ عَلَیْكُمْ حَاصِبًا ؕ— فَسَتَعْلَمُوْنَ كَیْفَ نَذِیْرِ ۟
নাকি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছো যে, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের ওপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠাবেন না ? তখন অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।(৮)
وَلَقَدْ كَذَّبَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَكَیْفَ كَانَ نَكِیْرِ ۟
আর অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরাও (এভাবেই) অস্বীকার করেছিল। ফলে কেমন ছিল, আমার প্রত্যাখ্যান (এর শাস্তি)?
اَوَلَمْ یَرَوْا اِلَی الطَّیْرِ فَوْقَهُمْ صٰٓفّٰتٍ وَّیَقْبِضْنَ ؕۘؔ— مَا یُمْسِكُهُنَّ اِلَّا الرَّحْمٰنُ ؕ— اِنَّهٗ بِكُلِّ شَیْءٍ بَصِیْرٌ ۟
তারা কি তাদের ওপর উড্ডয়নরত পাখিদের দিকে লক্ষ্য করে না, যারা কখনো ডানা প্রসারিত করে, আবার কখনো গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া আর কেউই তাদেরকে (আকাশে) ধরে রাখেন না। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু সম্যক দ্রষ্টা।
اَمَّنْ هٰذَا الَّذِیْ هُوَ جُنْدٌ لَّكُمْ یَنْصُرُكُمْ مِّنْ دُوْنِ الرَّحْمٰنِ ؕ— اِنِ الْكٰفِرُوْنَ اِلَّا فِیْ غُرُوْرٍ ۟ۚ
(আল্লাহ যদি তোমাদেরকে শাস্তি দিতে চান) পরম করুণাময় ছাড়া এমন কে আছে, যে তোমাদের জন্য সৈন্যবাহিনী হয়ে তোমাদের সাহায্য করবে? কাফিররা তো কেবল প্রতারণার মধ্যেই নিমজ্জিত।
اَمَّنْ هٰذَا الَّذِیْ یَرْزُقُكُمْ اِنْ اَمْسَكَ رِزْقَهٗ ۚ— بَلْ لَّجُّوْا فِیْ عُتُوٍّ وَّنُفُوْرٍ ۟
অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযক দান করবে যদি আল্লাহ তাঁর রিযক বন্ধ করে দেন? বরং কাফিররা অহংকার ও সত্য বিমুখতায় অবিচল রয়েছে।
اَفَمَنْ یَّمْشِیْ مُكِبًّا عَلٰی وَجْهِهٖۤ اَهْدٰۤی اَمَّنْ یَّمْشِیْ سَوِیًّا عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۟
যে ব্যক্তি (মুশরিক অবস্থায়) উপুড় হয়ে মুখের ওপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই (মু’মিন) ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?
قُلْ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْشَاَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْاَبْصَارَ وَالْاَفْـِٕدَةَ ؕ— قَلِیْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ ۟
হে রাসূল! তুমি বলো: ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তরসমূহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করো।
قُلْ هُوَ الَّذِیْ ذَرَاَكُمْ فِی الْاَرْضِ وَاِلَیْهِ تُحْشَرُوْنَ ۟
হে রাসূল! তুমি বলো: ‘তিনিই তোমাদেরকে জমিনে সৃষ্টি করে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে (কিয়ামত দিবসে) সমবেত করা হবে।’
وَیَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟
আর তারা (পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা) বলে: যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো, তাহলে বলো, ‘সে অঙ্গীকার কখন বাস্তবায়িত হবে?
قُلْ اِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللّٰهِ ۪— وَاِنَّمَاۤ اَنَا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ۟
হে রাসূল! বলো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।’
فَلَمَّا رَاَوْهُ زُلْفَةً سِیْٓـَٔتْ وُجُوْهُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَقِیْلَ هٰذَا الَّذِیْ كُنْتُمْ بِهٖ تَدَّعُوْنَ ۟
অতঃপর তারা যখন তা (কিয়ামত দিবস) আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং তাদেরকে বলা হবে: ‘এটাই হলো তা, যা (সংঘটিত হওয়ার জন্যে) তোমরা দাবী করছিলে।’
قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ اَهْلَكَنِیَ اللّٰهُ وَمَنْ مَّعِیَ اَوْ رَحِمَنَا ۙ— فَمَنْ یُّجِیْرُ الْكٰفِرِیْنَ مِنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍ ۟
(হে রাসূল!) বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সাথীদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে কে রক্ষা করবে?’
قُلْ هُوَ الرَّحْمٰنُ اٰمَنَّا بِهٖ وَعَلَیْهِ تَوَكَّلْنَا ۚ— فَسَتَعْلَمُوْنَ مَنْ هُوَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟
হে রাসূল! তুমি বলো: ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে, কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে?’
قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ اَصْبَحَ مَآؤُكُمْ غَوْرًا فَمَنْ یَّاْتِیْكُمْ بِمَآءٍ مَّعِیْنٍ ۟۠
হে রাসূল! তুমি বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে?’
দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়