هَلْ اَتٰی عَلَی الْاِنْسَانِ حِیْنٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ یَكُنْ شَیْـًٔا مَّذْكُوْرًا ۟
মানুষের উপর কি এমন এক সুদীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
Man · 31 আয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
هَلْ اَتٰی عَلَی الْاِنْسَانِ حِیْنٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ یَكُنْ شَیْـًٔا مَّذْكُوْرًا ۟
মানুষের উপর কি এমন এক সুদীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
اِنَّا خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ اَمْشَاجٍ ۖۗ— نَّبْتَلِیْهِ فَجَعَلْنٰهُ سَمِیْعًا بَصِیْرًا ۟ۚ
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি (পুরুষ ও নারীর) মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব(১), ফলে আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
اِنَّا هَدَیْنٰهُ السَّبِیْلَ اِمَّا شَاكِرًا وَّاِمَّا كَفُوْرًا ۟
অবশ্যই আমি তাকে (রাসূলগণের মাধ্যমে) হিদায়াতের পথ প্রদর্শন করেছি, হয় সে (সে পথ অনুসরণ করে) কৃতজ্ঞ হবে অথবা (সে পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে) অকৃতজ্ঞ হবে।
اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ سَلٰسِلَاۡ وَاَغْلٰلًا وَّسَعِیْرًا ۟
নিশ্চয় আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শেকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত আগুন।
اِنَّ الْاَبْرَارَ یَشْرَبُوْنَ مِنْ كَاْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوْرًا ۟ۚ
নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা জান্নাতে এমন পানপাত্র থেকে (পবিত্র শরাব) পান করবে যাতে মিশ্রণ করা হবে (সুগন্ধ) কাফূর (কর্পূর)।
عَیْنًا یَّشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللّٰهِ یُفَجِّرُوْنَهَا تَفْجِیْرًا ۟
এমন এক ঝর্ণা যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা এটিকে যথেচ্ছা প্রবাহিত করবে।
یُوْفُوْنَ بِالنَّذْرِ وَیَخَافُوْنَ یَوْمًا كَانَ شَرُّهٗ مُسْتَطِیْرًا ۟
তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে, যার অকল্যাণ হবে অনেক বিস্তীর্ণ।
وَیُطْعِمُوْنَ الطَّعَامَ عَلٰی حُبِّهٖ مِسْكِیْنًا وَّیَتِیْمًا وَّاَسِیْرًا ۟
তারা খাদ্যের প্রতি (নিজেদের প্রয়োজন ও) আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে।
اِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللّٰهِ لَا نُرِیْدُ مِنْكُمْ جَزَآءً وَّلَا شُكُوْرًا ۟
তারা বলে: ‘আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান চাই না এবং কোন কৃতজ্ঞতাও না।
اِنَّا نَخَافُ مِنْ رَّبِّنَا یَوْمًا عَبُوْسًا قَمْطَرِیْرًا ۟
(তারা বলে:) আমরা আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ংকর ভীতিপ্রদ দিবসের ভয় করি।
فَوَقٰىهُمُ اللّٰهُ شَرَّ ذٰلِكَ الْیَوْمِ وَلَقّٰىهُمْ نَضْرَةً وَّسُرُوْرًا ۟ۚ
ফলে আল্লাহ তাদেরকে সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা।
وَجَزٰىهُمْ بِمَا صَبَرُوْا جَنَّةً وَّحَرِیْرًا ۟ۙ
আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে পুরস্কারস্বরূপ প্রদান করবেন জান্নাত ও রেশমি বস্ত্র।
مُّتَّكِـِٕیْنَ فِیْهَا عَلَی الْاَرَآىِٕكِ ۚ— لَا یَرَوْنَ فِیْهَا شَمْسًا وَّلَا زَمْهَرِیْرًا ۟ۚ
তারা সেখানে সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যধিক ঠাণ্ডা।
وَدَانِیَةً عَلَیْهِمْ ظِلٰلُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا تَذْلِیْلًا ۟
তাদের ওপর (জান্নাতের) গাছের ছায়া ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ তাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তাধীন করা হবে।
وَیُطَافُ عَلَیْهِمْ بِاٰنِیَةٍ مِّنْ فِضَّةٍ وَّاَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِیْرَ ۟ۙ
আর তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে রৌপ্যের পাত্র ও স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানপাত্রে (পানীয়) পরিবেশন করা হবে।
قَوَارِیْرَ مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوْهَا تَقْدِیْرًا ۟
রূপার ন্যায় স্বচ্ছ স্ফটিক পাত্র; যা পরিবেশনকারীরা (পানকারীদের চাহিদা অনুযায়ী) পরিমাপ করে পূর্ণ করবে।
وَیُسْقَوْنَ فِیْهَا كَاْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِیْلًا ۟ۚ
সেখানে তাদেরকে এমন এক পানপাত্র পান করানো হবে, যার মিশ্রণ হবে আদা।(২)
عَیْنًا فِیْهَا تُسَمّٰی سَلْسَبِیْلًا ۟
জান্নাতের এক ঝর্ণা যার নাম হবে, সালসাবীল।
وَیَطُوْفُ عَلَیْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُوْنَ ۚ— اِذَا رَاَیْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَّنْثُوْرًا ۟
আর তাদের চারপাশে ঘুরাফেরা করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে মনে করবে, তারা যেন কতিপয় বিক্ষিপ্ত মুক্তা।
وَاِذَا رَاَیْتَ ثَمَّ رَاَیْتَ نَعِیْمًا وَّمُلْكًا كَبِیْرًا ۟
আর তুমি যখন সেখানে দেখবে, তখন দেখতে পাবে নি‘আমতরাজি ও বিশাল সাম্রাজ্য।
عٰلِیَهُمْ ثِیَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَّاِسْتَبْرَقٌ ؗ— وَّحُلُّوْۤا اَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ ۚ— وَسَقٰىهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُوْرًا ۟
তাদের পরনের কাপড় হবে অতি সূক্ষ্ম সবুজ রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক। আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।
اِنَّ هٰذَا كَانَ لَكُمْ جَزَآءً وَّكَانَ سَعْیُكُمْ مَّشْكُوْرًا ۟۠
(তাদেরকে বলা হবেঃ) ‘নিশ্চয় এটি তোমাদের পুরস্কার। আর তোমাদের প্রচেষ্টা (আমলসমূহ) ছিল প্রশংসাযোগ্য।’
اِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَیْكَ الْقُرْاٰنَ تَنْزِیْلًا ۟ۚ
হে রাসূল! নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি পর্যায়ক্রমে আল-কুরআন নাযিল করেছি।
فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ اٰثِمًا اَوْ كَفُوْرًا ۟ۚ
কাজেই তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্যধারণ করো এবং তাদের মধ্য থেকে কোন পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞ কাফিরের আনুগত্য করো না।
وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَّاَصِیْلًا ۟ۖۚ
আর সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের নাম স্মরণ করো,
وَمِنَ الَّیْلِ فَاسْجُدْ لَهٗ وَسَبِّحْهُ لَیْلًا طَوِیْلًا ۟
আর রাতের একাংশে (মাগরিব ও ‘ইশা) তার উদ্দেশ্যে সাজদাবনত হও এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবীহ পাঠ করো (৩)।
اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ یُحِبُّوْنَ الْعَاجِلَةَ وَیَذَرُوْنَ وَرَآءَهُمْ یَوْمًا ثَقِیْلًا ۟
নিশ্চয় এরা দুনিয়ার জীবনকে ভালোবাসে আর তাদের সামনের এক কঠিন দিনকে উপেক্ষা করে চলে।
نَحْنُ خَلَقْنٰهُمْ وَشَدَدْنَاۤ اَسْرَهُمْ ۚ— وَاِذَا شِئْنَا بَدَّلْنَاۤ اَمْثَالَهُمْ تَبْدِیْلًا ۟
আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাদের জোড়াগুলো আমিই শক্ত করে দিয়েছি। আর আমি চাইলে (তাদেরকে ধ্বংস করে) তাদের পরিবর্তে অনুরূপ জাতি সৃষ্টি করতে পারি।
اِنَّ هٰذِهٖ تَذْكِرَةٌ ۚ— فَمَنْ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰی رَبِّهٖ سَبِیْلًا ۟
নিশ্চয় এটি (এ সূরাটি) উপদেশ; অতএব যে চায় সে তার রবের পথ অবলম্বন করুক।
وَمَا تَشَآءُوْنَ اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ اللّٰهُ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟
আর আল্লাহ না চাইলে তোমরা ইচ্ছা করতে সক্ষম হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।
یُّدْخِلُ مَنْ یَّشَآءُ فِیْ رَحْمَتِهٖ ؕ— وَالظّٰلِمِیْنَ اَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا ۟۠
তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে প্রবেশ করাবেন(৪) এবং যালিমদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন (জাহান্নামের) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়