লোকেরা তোমাকে আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তুমি বলো: ‘যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও রাসূলের জন্যে।(১) সুতরাং তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং পরস্পরের মধ্যকার অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো; যদি তোমরা মু’মিন হও।’
মু’মিন তো তারাই, যাদের সামনে আল্লাহকে স্মরণ করা হলে, তাদের অন্তর কেঁপে উঠে এবং তাঁর আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করা হলে, তা তাদের ঈমান বর্ধিত করে। আর তারা তাদের রবের ওপরই নির্ভর করে।
আর তোমরা স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে দু’দলের একটির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, নিশ্চয় তা তোমাদের আয়ত্তাধীন হবে। আর তোমরা কামনা করছিলে যে, নিরস্ত্র দলটি তোমাদের আয়ত্তাধীন হোক। কিন্তু আল্লাহ চাচ্ছিলেন যে, তিনি তাঁর বাণীসমূহের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং কাফিরদেরকে নির্মূল করবেন।
তোমরা স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকটে সহযোগিতার প্রার্থনা করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন যে, অবশ্যই আমি তোমাদেরকে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক আগমনকারী এক হাজার ফিরিশতা দিয়ে সাহায্য করবো।’
আর আল্লাহ এটা করেছেন শুধু সুসংবাদ স্বরূপ এবং যাতে তোমাদের অন্তরসমূহ এর দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে। আর সাহায্য তো শুধু আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
তোমরা স্মরণ করো, যখন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে স্বস্তির জন্য তোমাদেরকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেন এবং আকাশ থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, যাতে এর মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করেন, তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করেন, তোমাদের অন্তরসমূহ সুদৃঢ় রাখেন এবং এর মাধ্যমে তোমাদের পাসমূহ স্থির রাখেন।
স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফিরিশতাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে আছি। সুতরাং তোমরা মু’মিনদের মনোবলকে অবিচল রাখো।’ যারা কুফরি করেছে অচিরেই আমি তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করবো। কাজেই তোমরা আঘাত করো তাদের ঘাড়ের ওপরে এবং আঘাত করো তাদের গিরায় গিরায়।(৪)
আর যে ব্যক্তি সেদিন যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন অথবা নিজ দলে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্য ব্যতীত তাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, তাহলে সে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরে আসবে এবং তার আশ্রয় হবে জাহান্নাম। আর সেটি কতইনা নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!
সুতরাং তোমরা তাদেরকে (মুশরিকদেরকে) হত্যা করোনি; বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি (মুশরিকদের দিকে ধূলি) নিক্ষেপ করোনি, যখন তুমি নিক্ষেপ করেছিলে; বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছেন। আর তিনি তা এ জন্য করেছেন, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে মু’মিনদেরকে উত্তমভাবে পরীক্ষা করতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
যদি তোমরা বিজয় কামনা করে থাকো, তাহলে তো তোমাদের নিকট বিজয় এসে গিয়েছে।(৮) আর যদি তোমরা বিরত হও, তাহলে সেটি তোমাদের জন্যই কল্যাণকর। কিন্তু যদি তোমরা আবার যুদ্ধ করতে আসো, তবে আমিও আবার শাস্তি নিয়ে আসবো। আর তোমাদের দল সংখ্যায় বেশী হলেও, তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। আর নিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদের সাথে আছেন।
আর আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কোন কল্যাণ আছে বলে জানতেন, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে (কল্যাণকর কিছু) শুনাতেন। কিন্তু তিনি তাদেরকে শুনালেও তারা উপেক্ষা করে (হঠকারিতাবশত ঈমান থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিতো।
হে মুমিনগণ! রাসূল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে ডাকে, যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে, তখন তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের সেই ডাকে সাড়া দাও। জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ ব্যক্তি ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হন।(৯) আর নিশ্চয় তাঁর নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।
আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে অল্প সংখ্যক, পৃথিবীতে তোমাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো। তোমরা আশঙ্কা করতে যে, লোকেরা তোমাদেরকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন, নিজ সাহায্য দ্বারা তোমাদেরকে শক্তিশালী করেছেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র রিযক দান করেছেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করো, তাহলে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান দান করবেন, তোমাদের থেকে তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।
আর তুমি স্মরণ করো, যখন কাফিররা তোমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছিল, তোমাকে বন্দী করতে অথবা তোমাকে হত্যা করতে কিংবা তোমাকে দেশ থেকে বের করে দিতে। আর তারা ষড়যন্ত্র করছিল এবং আল্লাহও পাল্টা কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী।
আর তাদের কাছে যখন আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তারা বলে: ‘আমরা তো শুনলাম। ইচ্ছে করলে আমরাও এর মত করে বলতে পারি। এতো পূর্বসূরিদের কল্পকাহিনি ছাড়া আর কিছু নয়।’
আর স্মরণ করো, যখন তারা বলেছিল: ‘হে আল্লাহ, এটি যদি সত্য হয়, তাহলে আপনি আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন কিংবা আমাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে আসুন।’
আর আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকাবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন।(১১) আর আল্লাহ তাদেরকে শাস্তিদানকারীও নন, এমতাবস্থায় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে।
আর তাদের কী ওযর আছে যে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না?(১২) যখন তারা আল-মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেয়। অথচ তারা আল্লাহর বন্ধু নয়, আল্লাহর বন্ধু তো কেবল মুত্তাকীগণই; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে তা না।
নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, আল্লাহর রাস্তা হতে বাধা প্রদান করতে তারা নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। তারা অচিরেই তাদের সম্পদগুলো আরো ব্যয় করবে; অত:পর এটি তাদের আক্ষেপের কারণ হবে, এরপর তারা পরাজিত হবে। আর যারা কুফরী করেছে, তাদেরকে জাহান্নামে সমবেত করা হবে।
যাতে আল্লাহ নিকৃষ্ট দলকে পবিত্র দল থেকে পৃথক করতে পারেন। আর যেন তিনি সকল অপবিত্রকে একটিকে আরেকটির উপর স্তূপ করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে পারেন। বস্তুত তারাই তো আসল ক্ষতিগ্রস্ত।
যারা কুফরী করে তাদেরকে বলো: ‘যদি তারা বিরত হয়, তবে তাদের পূর্বেকার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে; কিন্তু তারা যদি অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি করে, তবে পুর্ববর্তী লোকদের রীতি তো গত হয়েছেই।(১৩)
আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও; যতক্ষণ না ফিতনার অবসান হয় এবং দীন পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। তবে যদি তারা বিরত হয়, তবে নিশ্চয় তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক দ্রষ্টা।
আর তোমরা জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু গনীমতরূপে পেয়েছ, নিশ্চয় তার এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের(১৪), নিকট আত্মীয়(১৫), ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরের জন্য নির্ধারণ করা হলো; যদি তোমরা ঈমান এনে থাকো আল্লাহর প্রতি এবং হক ও বাতিলের ফয়সালার দিন আমি আমার বান্দার ওপর যা নাযিল করেছি তার প্রতি, যেদিন দু’টি দল(১৬) পরস্পরের মোকাবেলা করেছিল। আর আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
তোমরা স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন তোমরা উপত্যকার নিকটবর্তী পাশে অবস্থান করছিলে (মদিনার দিক থেকে); আর তারা (মুশরিকরা) ছিল তার (উপত্যকার) দূরবর্তী পাশে (মক্কার দিক থেকে) এবং (মক্কার ব্যবসায়ী) কাফিলাটি ছিল (লোহিত সাগরের পাড়ের দিকে) তোমাদের চেয়ে নিম্নভূমিতে। আর যদি তোমরা (ও মুশরিকরা বদরের যুদ্ধে মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে) পরস্পর ওয়াদাবদ্ধ হতে , তাহলে অবশ্যই সে ওয়াদার ক্ষেত্রে তোমরা মতবিরোধ (ওয়াদা ভঙ্গ) করতে; কিন্তু আল্লাহ (তাদেরকে একত্র করেছেন) যাতে তিনি সম্পন্ন করেন এমন কাজ, যা হওয়ারই ছিল।(১৭) যে ধ্বংস হওয়ার, সে যাতে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর ধ্বংস হয়, আর যে জীবিত থাকার, সে যাতে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর জীবিত থাকে। আর নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
স্মরণ করো, আল্লাহ যখন তোমাকে স্বপ্নে তাদের সংখ্যায় কম দেখিয়েছিলেন । তিনি যদি তোমাকে তাদের সংখ্যা বেশি দেখাতেন, তাহলে অবশ্যই তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। তিনি অবশ্যই অন্তরে যা আছে, সে সম্বন্ধে সবিশেষে অবগত।
আর তোমরা স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে, তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন(১৮), যাতে আল্লাহ সম্পন্ন করেন এমন কাজ যা ঘটারই ছিল।(১৯) আর আল্লাহর দিকেই সব কিছু প্রত্যাবর্তন করা হবে।
আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর ঝগড়া করবে না, তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি ও প্রভাব নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর তোমরা ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।
আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা দাম্ভিকতা প্রদর্শন ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে তাদের ঘর থেকে বের হয়েছিল এবং তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করে। আর তারা যা করে, আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন।
আর তোমরা আল্লাহর সে নি‘আমতের কথা স্মরণ করো, যখন শয়তান তাদের জন্য তাদের আমলসমূহ সুশোভিত করেছিল এবং বলেছিল: ‘আজ মানুষের মধ্য থেকে কেউ তোমাদের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না এবং নিশ্চয় আমি তোমাদের পার্শ্বে অবস্থানকারী ।’ অতঃপর যখন দু’দল একে অপরকে দেখলো, তখন সে পিছু হটল এবং বললো: ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের থেকে দায়ভারমুক্ত। নিশ্চয় আমি এমন কিছু দেখছি, যা তোমরা দেখছ না। অবশ্যই আমি আল্লাহকে ভয় করি এবং আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।’
স্মরণ করো, যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা বলছিল: ‘এদেরকে তাদের ধর্মই ধোঁকায় ফেলেছে।‘(২০) বস্তুত যে কেউ আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তো প্রবল পরাক্রান্তশালী , প্রজ্ঞাময়।
তাদের অভ্যাস ফির’আউনের বংশধর ও তাদের পূর্ববর্তীদের অভ্যাসের মতো, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের পাপের জন্য তাদেরকে পাকড়াও করেন। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিমান, কঠোর শাস্তিদাতা।
এ কঠিন শাস্তি এ কারণে যে, আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি যে অনুগ্রহ দান করেন, তা তিনি পরিবর্তন করেন না (প্রত্যাহার করেন না), যতক্ষণ না তারা নিজেদের (ভালো অবস্থাকে খারাপ অবস্থায়) পরিবর্তন ঘটায়।(২১) আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
ফির’আউনের বংশধর ও তাদের পূর্ববর্তীদের অভ্যাসের মতো, তারা তাদের রবের আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে তাদের পাপের কারণে আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছি এবং ফির’আউনের বংশধরকে নিমজ্জিত করেছি। আর তারা সকলেই ছিল যালিম।
সুতরাং তুমি যদি তাদেরকে যুদ্ধে নাগালে পাও, তাহলে তাদেরকে কঠোর শাস্তি দানের মাধ্যমে তাদের পিছনে যারা আছে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দাও, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
আর যদি তুমি কোন সম্প্রদায়ের থেকে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা করো, তাহলে তাদের দিকে সোজা নিক্ষেপ করো। নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের
কখনো পছন্দ করেন না।
আর তোমরা তাদের সাথে মোকাবিলার জন্যে যথাসাধ্য প্রস্তুত রাখো শক্তি ও অশ্ব বাহিনী, তা দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে এবং এরা ছাড়া অন্যদেরকে, যাদেরকে তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন।(২৩) আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্রও যুলম করা হবে না।
আর তিনি তাদের পরস্পরের অন্তরে সম্প্রীতি স্থাপন করেছেন। যদি তুমি জমিনে যা আছে, তার সবকিছু ব্যয় করতে, তবুও তাদের অন্তরে সম্প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
হে নবী, তুমি মু’মিনদেরকে যুদ্ধের জন্যে উদ্বুদ্ধ করো।(২৫) যদি তোমাদের মধ্য থেকে বিশজন ধৈর্যশীল থাকে, তরে তারা দু’শ কাফিরের ওপর বিজয়ী হবে, আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ’ জন থাকে, তবে তারা এক হাজার কাফিরের ওপর বিজয়ী হবে। কারণ, তারা এমন সম্প্রদায়, যারা বুঝে না।
এখন আল্লাহ তোমাদের থেকে দায়িত্বভার হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি জানেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। অতএব যদি তোমাদের মধ্যে একশ’ জন ধৈর্যশীল থাকে, তারা দু’শ জন কাফিরের ওপর বিজয়ী হবে এবং যদি তোমাদের মধ্যে এক হাজার জন থাকে, তবে তারা আল্লাহর হুকুমে দু’হাজার জন কাফিরের ওপর বিজয়ী হবে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
(আল্লাহর দীন নিশ্চিহ্ন করতে চাওয়া কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায়) কোনো নবীর জন্য উচিত নয় যে, (কাফিরদের ভেতর ভয় সৃষ্টি করতে) প্রচুর রক্ত প্রবাহিত করার আগেই তার কাছে (মুক্তিপণ গ্রহণ করার আশায় জীবিত) বন্দি থাকবে।(২৬) (হে মু’মিনগণ!) তোমরা দুনিয়ার সামগ্রী (মুক্তিপণ) কামনা করছ; আর আল্লাহ চান আখিরাত।(২৭) আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
হে নবী! তোমাদের হাতে যে সব যুদ্ধবন্দি আছে, তাদেরকে বলো: ‘যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহে কোন কল্যাণ আছে বলে জানেন, তাহলে তোমাদের থেকে যা নেয়া হয়েছে, তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।’(২৯)
আর যদি তারা তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার ইচ্ছা করে, তাহলে ইতঃপূর্বে তারা তো আল্লাহর সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। অতঃপর তিনি তাদের ওপর তোমাকে শক্তিশালী করেছেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে,হিজরত করেছে, জীবন ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে, তারা সকলে (সাহায্য-সহযোগিতায়) পরস্পর পরস্পরের অভিভাবক।(৩০) আর যারা ঈমান এনেছে; কিন্তু হিজরত করেনি, হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তোমাদের নেই।(৩১) আর তারা যদি দীনের ব্যাপারে তোমাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তখন তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য, তবে সে সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, যাদের সাথে তোমাদের ও তাদের মধ্যে চুক্তি রয়েছে। আর তোমরা যা করছ, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মু’মিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযক ।
আর যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে থেকে জিহাদ করেছে, তারাও তোমাদের দলেরই অন্তর্ভুক্ত। আর নিকটাত্মীয়রা আল্লাহর বিধানানুযায়ী একে অন্যের চেয়ে বেশি হকদার(৩৩)। নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়ে সম্যক অবগত।