یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اتَّقِ اللّٰهَ وَلَا تُطِعِ الْكٰفِرِیْنَ وَالْمُنٰفِقِیْنَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟ۙ
হে নবী, আল্লাহকে ভয় করো(১) এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সম্যক জ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
The Clans · 73 আয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اتَّقِ اللّٰهَ وَلَا تُطِعِ الْكٰفِرِیْنَ وَالْمُنٰفِقِیْنَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًا ۟ۙ
হে নবী, আল্লাহকে ভয় করো(১) এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সম্যক জ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
وَّاتَّبِعْ مَا یُوْحٰۤی اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا ۟ۙ
আর তোমার রবের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা ওয়াহী করা হয় তুমি তার অনুসরণ করো। নিশ্চয় তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।
وَّتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا ۟
আর তুমি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো এবং কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই (আপনার জন্য) যথেষ্ট।
مَا جَعَلَ اللّٰهُ لِرَجُلٍ مِّنْ قَلْبَیْنِ فِیْ جَوْفِهٖ ۚ— وَمَا جَعَلَ اَزْوَاجَكُمُ الّٰٓـِٔیْ تُظٰهِرُوْنَ مِنْهُنَّ اُمَّهٰتِكُمْ ۚ— وَمَا جَعَلَ اَدْعِیَآءَكُمْ اَبْنَآءَكُمْ ؕ— ذٰلِكُمْ قَوْلُكُمْ بِاَفْوَاهِكُمْ ؕ— وَاللّٰهُ یَقُوْلُ الْحَقَّ وَهُوَ یَهْدِی السَّبِیْلَ ۟
আল্লাহ কোন মানুষের অভ্যন্তরে দু’টি হৃদয় সৃষ্টি করেননি। তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, (২) তিনি তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি। আর তিনি তোমাদের পালক পুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা।(৩) আর আল্লাহই সত্য কথা বলেন। আর তিনিই সরল-সঠিক পথ দেখান।
اُدْعُوْهُمْ لِاٰبَآىِٕهِمْ هُوَ اَقْسَطُ عِنْدَ اللّٰهِ ۚ— فَاِنْ لَّمْ تَعْلَمُوْۤا اٰبَآءَهُمْ فَاِخْوَانُكُمْ فِی الدِّیْنِ وَمَوَالِیْكُمْ ؕ— وَلَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ فِیْمَاۤ اَخْطَاْتُمْ بِهٖ وَلٰكِنْ مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوْبُكُمْ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟
তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাক; আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ। আর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই এবং তোমাদের বন্ধু। আর এ বিষয়ে তোমরা অনিচ্ছাকৃত কোন ভুল করলে তোমাদের কোন পাপ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে (পাপ হবে)। আর আল্লাহ অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
اَلنَّبِیُّ اَوْلٰی بِالْمُؤْمِنِیْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهٗۤ اُمَّهٰتُهُمْ ؕ— وَاُولُوا الْاَرْحَامِ بَعْضُهُمْ اَوْلٰی بِبَعْضٍ فِیْ كِتٰبِ اللّٰهِ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُهٰجِرِیْنَ اِلَّاۤ اَنْ تَفْعَلُوْۤا اِلٰۤی اَوْلِیٰٓىِٕكُمْ مَّعْرُوْفًا ؕ— كَانَ ذٰلِكَ فِی الْكِتٰبِ مَسْطُوْرًا ۟
নবী (মুহাম্মাদ) মু’মিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়ে ঘনিষ্ঠতর। আর তার স্ত্রীগণ তাদের মাতাস্বরূপ। আর (উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে ) আল্লাহর বিধান অনুসারে মু’মিন ও মুহাজিরদের তুলনায় আত্মীয় স্বজনরা একে অপরের নিকটতর। তবে তোমরা যদি বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ভালো কিছু করতে চাও (তা করতে পার)। এটা (বিধানটা ) কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
وَاِذْ اَخَذْنَا مِنَ النَّبِیّٖنَ مِیْثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُّوْحٍ وَّاِبْرٰهِیْمَ وَمُوْسٰی وَعِیْسَی ابْنِ مَرْیَمَ ۪— وَاَخَذْنَا مِنْهُمْ مِّیْثَاقًا غَلِیْظًا ۟ۙ
আর হে নবী! স্মরণ কর, যখন আমি নবীদের থেকে (রিসালত ও নবুওয়্যাতের) অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমার থেকে, নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা থেকেও। আর আমি তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম।(৪)
لِّیَسْـَٔلَ الصّٰدِقِیْنَ عَنْ صِدْقِهِمْ ۚ— وَاَعَدَّ لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا اَلِیْمًا ۟۠
যাতে করে তিনি সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আর তিনি প্রস্তুত করে রেখেছেন কাফিরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ اِذْ جَآءَتْكُمْ جُنُوْدٌ فَاَرْسَلْنَا عَلَیْهِمْ رِیْحًا وَّجُنُوْدًا لَّمْ تَرَوْهَا ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرًا ۟ۚ
হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নি‘আমতকে স্মরণ করো, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে (যুদ্ধ করতে) এসে গিয়েছিল,(৫) তখন আমি তাদের ওপর প্রবল বায়ু ও (ফিরিশতাদের) সেনাদল প্রেরণ করলাম, যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। .
اِذْ جَآءُوْكُمْ مِّنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ اَسْفَلَ مِنْكُمْ وَاِذْ زَاغَتِ الْاَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوْبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّوْنَ بِاللّٰهِ الظُّنُوْنَا ۟ؕ
যখন তারা তোমাদের ওপরের দিক থেকে এবং তোমাদের নিচের দিক থেকে তোমাদের কাছে এসেছিল। (৬) আর যখন চোখগুলো বাঁকা হয়ে পড়েছিলো এবং প্রাণ কণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিলো। আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা পোষণ করছিলে।(৭)
هُنَالِكَ ابْتُلِیَ الْمُؤْمِنُوْنَ وَزُلْزِلُوْا زِلْزَالًا شَدِیْدًا ۟
তখন মু’মিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিলো। আর তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিলো।
وَاِذْ یَقُوْلُ الْمُنٰفِقُوْنَ وَالَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ مَّا وَعَدَنَا اللّٰهُ وَرَسُوْلُهٗۤ اِلَّا غُرُوْرًا ۟
আর স্মরণ করো, যখন মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল তারা বলছিলো: ‘আল্লাহ ও তার রাসূল আমাদেরকে (শত্রুর ওপর বিজয় ও সাহায্যের) যে ওয়াদা দিয়েছিলেন, তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।‘(৮)
وَاِذْ قَالَتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ یٰۤاَهْلَ یَثْرِبَ لَا مُقَامَ لَكُمْ فَارْجِعُوْا ۚ— وَیَسْتَاْذِنُ فَرِیْقٌ مِّنْهُمُ النَّبِیَّ یَقُوْلُوْنَ اِنَّ بُیُوْتَنَا عَوْرَةٌ ۛؕ— وَمَا هِیَ بِعَوْرَةٍ ۛۚ— اِنْ یُّرِیْدُوْنَ اِلَّا فِرَارًا ۟
আর স্মরণ করুন, যখন তাদের (মুনাফিকদের) একটি দল বলেছিল: ‘হে ইয়াসরিববাসী! (খন্দকের এখানে) তোমাদের পক্ষে অবস্থান করা সম্ভব নয়; সুতরাং তোমরা (নিজেদের ঘরে) ফিরে যাও।’ আর তাদের একদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে (ফিরে যাওয়ার) অনুমতি চাইছিল। তারা বলছিল: ‘আমাদের ঘরবাড়ি (শত্রুর আক্রমণের জন্য) উন্মুক্ত।’ অথচ সেগুলো উন্মুক্ত ছিল না; বরং তারা কেবল পলায়ন করতেই চেয়েছিল।’
وَلَوْ دُخِلَتْ عَلَیْهِمْ مِّنْ اَقْطَارِهَا ثُمَّ سُىِٕلُوا الْفِتْنَةَ لَاٰتَوْهَا وَمَا تَلَبَّثُوْا بِهَاۤ اِلَّا یَسِیْرًا ۟
আর যদি (মদীনার) চারদিক থেকে তাদের ওপর শত্রুরা প্রবেশ করত, অতঃপর তাদের কাছে ফিতনা (কুফর, শিরক ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবস্থান)-এর দাবি করা হতো, তবে তারা অবশ্যই তাতে সাড়া দিত(৯) এবং এতে তারা সামান্য সময়ের বেশি বিলম্ব করত না।
وَلَقَدْ كَانُوْا عَاهَدُوا اللّٰهَ مِنْ قَبْلُ لَا یُوَلُّوْنَ الْاَدْبَارَ ؕ— وَكَانَ عَهْدُ اللّٰهِ مَسْـُٔوْلًا ۟
অথচ, এরা পূর্বেই আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না।(১০) আর আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সম্পর্কে তাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে।
قُلْ لَّنْ یَّنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ اِنْ فَرَرْتُمْ مِّنَ الْمَوْتِ اَوِ الْقَتْلِ وَاِذًا لَّا تُمَتَّعُوْنَ اِلَّا قَلِیْلًا ۟
হে রাসূল! তুমি (মুনাফিকদেরকে) বলো: ‘যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পালাতে চাও তবে পালানো তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। আর সে ক্ষেত্রে তোমাদের সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে।’
قُلْ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَعْصِمُكُمْ مِّنَ اللّٰهِ اِنْ اَرَادَ بِكُمْ سُوْٓءًا اَوْ اَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً ؕ— وَلَا یَجِدُوْنَ لَهُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیْرًا ۟
হে রাসূল! বলো: ‘আল্লাহ থেকে কে তোমাদেরকে রক্ষা করবে, যদি তিনি তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে চান? অথবা তিনি তোমাদের প্রতি রহমত দান করতে ইচ্ছা করেন? আর তারা (শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে) আল্লাহ ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
قَدْ یَعْلَمُ اللّٰهُ الْمُعَوِّقِیْنَ مِنْكُمْ وَالْقَآىِٕلِیْنَ لِاِخْوَانِهِمْ هَلُمَّ اِلَیْنَا ۚ— وَلَا یَاْتُوْنَ الْبَاْسَ اِلَّا قَلِیْلًا ۟ۙ
আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে তাদেরকে, যারা (মানুষকে রাসূলের পক্ষে জিহাদে অংশগ্রহণ করা থেকে) বিরত রাখে(১১) এবং নিজেদের ভাইদের বলে, ‘আমাদের দিকে চলে এসো।’ আর তারা যুদ্ধে আসে খুব সামান্যই।
اَشِحَّةً عَلَیْكُمْ ۖۚ— فَاِذَا جَآءَ الْخَوْفُ رَاَیْتَهُمْ یَنْظُرُوْنَ اِلَیْكَ تَدُوْرُ اَعْیُنُهُمْ كَالَّذِیْ یُغْشٰی عَلَیْهِ مِنَ الْمَوْتِ ۚ— فَاِذَا ذَهَبَ الْخَوْفُ سَلَقُوْكُمْ بِاَلْسِنَةٍ حِدَادٍ اَشِحَّةً عَلَی الْخَیْرِ ؕ— اُولٰٓىِٕكَ لَمْ یُؤْمِنُوْا فَاَحْبَطَ اللّٰهُ اَعْمَالَهُمْ ؕ— وَكَانَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرًا ۟
তোমাদের ব্যাপারে কৃপণতার কারণে।(১২) অতঃপর যখন ভীতি আসে, তখন হে রাসূল! তুমি তাদেরকে দেখবে, তারা তোমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যে, তাদের চক্ষুগুলো মুমূর্ষু ব্যক্তির চোখের ন্যায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অতঃপর যখন ভয় চলে যায় তখন (গনীমতের) সম্পদের লোভে তোমাদেরকে তীক্ষ্ণ ভাষায় বিদ্ধ করে। এরা (প্রকৃতপক্ষে) ঈমান আনেনি। ফলে আল্লাহ তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করে দিয়েছেন। আর এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।
یَحْسَبُوْنَ الْاَحْزَابَ لَمْ یَذْهَبُوْا ۚ— وَاِنْ یَّاْتِ الْاَحْزَابُ یَوَدُّوْا لَوْ اَنَّهُمْ بَادُوْنَ فِی الْاَعْرَابِ یَسْاَلُوْنَ عَنْ اَنْۢبَآىِٕكُمْ ؕ— وَلَوْ كَانُوْا فِیْكُمْ مَّا قٰتَلُوْۤا اِلَّا قَلِیْلًا ۟۠
তারা মনে করে, সম্মিলিত বাহিনী চলে যায়নি। তবে সম্মিলিত বাহিনী যদি আবার এসে পড়ে তখন তারা কামনা করবে যে, যদি তারা মরুবাসী বেদুইনদের সাথে অবস্থান করে তোমাদের (যুদ্ধের) খবর জিজ্ঞাসা করতে পারতো (তবে ভালোই হতো)! আর যদি এরা তোমাদের মাঝেই অবস্থান করত, তাহলে তারা অল্পই যুদ্ধ করতো।
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْ رَسُوْلِ اللّٰهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللّٰهَ وَالْیَوْمَ الْاٰخِرَ وَذَكَرَ اللّٰهَ كَثِیْرًا ۟ؕ
অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।
وَلَمَّا رَاَ الْمُؤْمِنُوْنَ الْاَحْزَابَ ۙ— قَالُوْا هٰذَا مَا وَعَدَنَا اللّٰهُ وَرَسُوْلُهٗ وَصَدَقَ اللّٰهُ وَرَسُوْلُهٗ ؗ— وَمَا زَادَهُمْ اِلَّاۤ اِیْمَانًا وَّتَسْلِیْمًا ۟ؕ
আর মুমিনগণ যখন সম্মিলিত (শত্রু) বাহিনীকে দেখলো তখন তারা বললো: ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছেন, এটি তো তাই।(১৩) আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন।’ এই (এ বাহিনী দেখে) তাদের ঈমান ও আনুগত্যই বৃদ্ধি পেলো।
مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ رِجَالٌ صَدَقُوْا مَا عَاهَدُوا اللّٰهَ عَلَیْهِ ۚ— فَمِنْهُمْ مَّنْ قَضٰی نَحْبَهٗ وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّنْتَظِرُ ۖؗ— وَمَا بَدَّلُوْا تَبْدِیْلًا ۟ۙ
মু’মিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা (১৪) আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সত্যে বাস্তবায়ন করেছে। তাদের কেউ কেউ (শাহাদাত লাভ করে) তার দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, আবার কেউ কেউ (শাহাদাতের) প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা কোনো পরিবর্তনই করেনি।
لِّیَجْزِیَ اللّٰهُ الصّٰدِقِیْنَ بِصِدْقِهِمْ وَیُعَذِّبَ الْمُنٰفِقِیْنَ اِنْ شَآءَ اَوْ یَتُوْبَ عَلَیْهِمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟ۚ
যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার জন্য পুরস্কৃত করতে পারেন এবং তিনি চাইলে মুনাফিকদের শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَرَدَّ اللّٰهُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِغَیْظِهِمْ لَمْ یَنَالُوْا خَیْرًا ؕ— وَكَفَی اللّٰهُ الْمُؤْمِنِیْنَ الْقِتَالَ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ قَوِیًّا عَزِیْزًا ۟ۚ
আর আল্লাহ কাফিরদেরকে তাদের যাবতীয় ক্রোধ ও আক্রোশসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা (যুদ্ধে) কোনো কল্যাণ লাভ করেনি। যুদ্ধে মু’মিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর আল্লাহ প্রবল শক্তিমান, মহা পরাক্রমশালী।(১৫)
وَاَنْزَلَ الَّذِیْنَ ظَاهَرُوْهُمْ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ مِنْ صَیَاصِیْهِمْ وَقَذَفَ فِیْ قُلُوْبِهِمُ الرُّعْبَ فَرِیْقًا تَقْتُلُوْنَ وَتَاْسِرُوْنَ فَرِیْقًا ۟ۚ
আর আহলে কিতাবদের ( ইয়াহূদীদের) মধ্যে যারা তাদেরকে (কাফিরদেরকে) সাহায্য করেছিলো, আল্লাহ তাদেরকে অবতরণ করালেন তাদের দুর্গসমূহ থেকে এবং তাদের অন্তরসমূহে ভীতির সঞ্চার করলেন। ফলে তোমরা হত্যা করছ একদলকে, আর বন্দী করছো অন্য দলকে।
وَاَوْرَثَكُمْ اَرْضَهُمْ وَدِیَارَهُمْ وَاَمْوَالَهُمْ وَاَرْضًا لَّمْ تَطَـُٔوْهَا ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرًا ۟۠
আর আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করলেন তাদের (পরিত্যক্ত) ভূমি, তাদের ঘর-বাড়ি ও তাদের ধন-সম্পদের এবং (খাইবারের) এমন ভূমির যাতে তোমরা পদার্পণও করনি। আল্লাহ সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ اِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا وَزِیْنَتَهَا فَتَعَالَیْنَ اُمَتِّعْكُنَّ وَاُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِیْلًا ۟
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে বলো: ‘যদি তোমরা দুনিয়ার জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করো তবে আসো, আমি তোমাদের ভোগ-বিলাসের ব্যবস্থা করে দেই এবং সুন্দর পন্থায় তোমাদের (১৬) বিদায় করে দেই।’
وَاِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ وَالدَّارَ الْاٰخِرَةَ فَاِنَّ اللّٰهَ اَعَدَّ لِلْمُحْسِنٰتِ مِنْكُنَّ اَجْرًا عَظِیْمًا ۟
‘আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখিরাতের আবাস (জান্নাত) কামনা করো, তবে তোমাদের মধ্য থেকে সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহ অবশ্যই মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।’
یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ مَنْ یَّاْتِ مِنْكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُّبَیِّنَةٍ یُّضٰعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَیْنِ ؕ— وَكَانَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرًا ۟
হে নবী-পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীলতায় (বা স্পষ্ট গুনাহে) লিপ্ত হলে তার জন্য শাস্তি দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে। আর এ শাস্তি দেওয়া আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
وَمَنْ یَّقْنُتْ مِنْكُنَّ لِلّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُّؤْتِهَاۤ اَجْرَهَا مَرَّتَیْنِ ۙ— وَاَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِیْمًا ۟
হে নবী-পত্নিগণ! তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে এবং সৎকাজ করবে আমি তাকে দু’বার তার প্রতিদান দিবো এবং তার জন্য প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক রিযক (জান্নাত)।
یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ لَسْتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ اِنِ اتَّقَیْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَیَطْمَعَ الَّذِیْ فِیْ قَلْبِهٖ مَرَضٌ وَّقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوْفًا ۟ۚ
হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা (মর্যাদায়) অন্য কোনো নারীর মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তোমরা (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে (মুনাফিকীর ) ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হবে। আর তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলবে।
وَقَرْنَ فِیْ بُیُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِیَّةِ الْاُوْلٰی وَاَقِمْنَ الصَّلٰوةَ وَاٰتِیْنَ الزَّكٰوةَ وَاَطِعْنَ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ ؕ— اِنَّمَا یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَیْتِ وَیُطَهِّرَكُمْ تَطْهِیْرًا ۟ۚ
আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করো এবং প্রাক-জাহিলী যুগের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না। আর তোমরা সালাত কায়িম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। হে নবী পরিবার, আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।
وَاذْكُرْنَ مَا یُتْلٰی فِیْ بُیُوْتِكُنَّ مِنْ اٰیٰتِ اللّٰهِ وَالْحِكْمَةِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ لَطِیْفًا خَبِیْرًا ۟۠
আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে, আয়াতসমূহ ও হিকমত (১৭)পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রেখো। নিশ্চয় আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত। (১৭) এখানে হিকমত বলতে রাসূলের সুন্নাহকে বুঝানো হয়েছে।
اِنَّ الْمُسْلِمِیْنَ وَالْمُسْلِمٰتِ وَالْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ وَالْقٰنِتِیْنَ وَالْقٰنِتٰتِ وَالصّٰدِقِیْنَ وَالصّٰدِقٰتِ وَالصّٰبِرِیْنَ وَالصّٰبِرٰتِ وَالْخٰشِعِیْنَ وَالْخٰشِعٰتِ وَالْمُتَصَدِّقِیْنَ وَالْمُتَصَدِّقٰتِ وَالصَّآىِٕمِیْنَ وَالصّٰٓىِٕمٰتِ وَالْحٰفِظِیْنَ فُرُوْجَهُمْ وَالْحٰفِظٰتِ وَالذّٰكِرِیْنَ اللّٰهَ كَثِیْرًا وَّالذّٰكِرٰتِ ۙ— اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَّاَجْرًا عَظِیْمًا ۟
নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও নারী, মু’মিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়াবনত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, তাদের জন্য আল্লাহ মাগফিরাত ও মহান প্রতিদান (জান্নাত) প্রস্তুত রেখেছেন।
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَّلَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَی اللّٰهُ وَرَسُوْلُهٗۤ اَمْرًا اَنْ یَّكُوْنَ لَهُمُ الْخِیَرَةُ مِنْ اَمْرِهِمْ ؕ— وَمَنْ یَّعْصِ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًا مُّبِیْنًا ۟
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফয়সালা করে দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও কোনো মুমিন নারীর জন্য তাদের নিজেদের ব্যাপারে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকে না। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করে, সে তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত হলো।
وَاِذْ تَقُوْلُ لِلَّذِیْۤ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیْهِ وَاَنْعَمْتَ عَلَیْهِ اَمْسِكْ عَلَیْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللّٰهَ وَتُخْفِیْ فِیْ نَفْسِكَ مَا اللّٰهُ مُبْدِیْهِ وَتَخْشَی النَّاسَ ۚ— وَاللّٰهُ اَحَقُّ اَنْ تَخْشٰىهُ ؕ— فَلَمَّا قَضٰی زَیْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنٰكَهَا لِكَیْ لَا یَكُوْنَ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ حَرَجٌ فِیْۤ اَزْوَاجِ اَدْعِیَآىِٕهِمْ اِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا ؕ— وَكَانَ اَمْرُ اللّٰهِ مَفْعُوْلًا ۟
আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো, আল্লাহ যার ওপর নি‘আমত দিয়েছিলেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলে(১), তুমি যখন তাকে বলেছিলে ‘তুমি তোমার স্ত্রীকে(২) (তালাক না দিয়ে) নিজের কাছে রেখে দাও এবং আল্লাহকে (তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে) ভয় করো ‘ আর তুমি অন্তরে যা গোপন(৩) রেখেছো আল্লাহ তা প্রকাশকারী এবং তুমি মানুষকে ভয় করছো; অথচ আল্লাহই অধিকতর হকদার যে, তুমি তাকে ভয় করবে। অতঃপর যায়দ যখন (তালাক দিয়ে) তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করলো তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম, যাতে পালক পুত্রদের স্ত্রীদের (বিয়ে করার) ব্যাপারে মু’মিনদের কোনো অসুবিধা না থাকে; যখন তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে (তালাকের মাধ্যমে) বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। আর আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়ে থাকে।
مَا كَانَ عَلَی النَّبِیِّ مِنْ حَرَجٍ فِیْمَا فَرَضَ اللّٰهُ لَهٗ ؕ— سُنَّةَ اللّٰهِ فِی الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ ؕ— وَكَانَ اَمْرُ اللّٰهِ قَدَرًا مَّقْدُوْرَا ۟ؗۙ
নবীর কোনো অসুবিধা হবে না, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা করলে(২১); পূর্বে যেসব নবী অতিবাহিত হয়েছে তাদের ব্যাপারে এটিই ছিল আল্লাহর বিধান। আর আল্লাহর বিধান সুনির্ধারিত, অবশ্যম্ভাবী।
١لَّذِیْنَ یُبَلِّغُوْنَ رِسٰلٰتِ اللّٰهِ وَیَخْشَوْنَهٗ وَلَا یَخْشَوْنَ اَحَدًا اِلَّا اللّٰهَ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ حَسِیْبًا ۟
যারা আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দেয় ও তাঁকে ভয় করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না(২২)।আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ وَلٰكِنْ رَّسُوْلَ اللّٰهِ وَخَاتَمَ النَّبِیّٖنَ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا ۟۠
মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়; তবে তিনি আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। আর আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اذْكُرُوا اللّٰهَ ذِكْرًا كَثِیْرًا ۟ۙ
হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।
وَّسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّاَصِیْلًا ۟
আর সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো।
هُوَ الَّذِیْ یُصَلِّیْ عَلَیْكُمْ وَمَلٰٓىِٕكَتُهٗ لِیُخْرِجَكُمْ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوْرِ ؕ— وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِیْنَ رَحِیْمًا ۟
তিনিই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফিরিশতারা তোমাদের জন্য দু‘আ করে, যেন তিনি তোমাদেরকে (কুফরীর) অন্ধকার থেকে (ইসলামের) আলোর দিকে বের করে আনেন। আর তিনি মু’মিনদের প্রতি অতি দয়ালু।
تَحِیَّتُهُمْ یَوْمَ یَلْقَوْنَهٗ سَلٰمٌ ۖۚ— وَّاَعَدَّ لَهُمْ اَجْرًا كَرِیْمًا ۟
যেদিন তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে সেদিন তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন সম্মানজনক প্রতিদান ।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِیْرًا ۟ۙ
হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, (জান্নাতের) সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নাম থেকে) সতর্ককারীরূপে।
وَّدَاعِیًا اِلَی اللّٰهِ بِاِذْنِهٖ وَسِرَاجًا مُّنِیْرًا ۟
আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও দীপ্তমান প্রদীপরূপে।
وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِیْنَ بِاَنَّ لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ فَضْلًا كَبِیْرًا ۟
আর তুমি মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে মহাঅনুগ্রহ।(২৩)
وَلَا تُطِعِ الْكٰفِرِیْنَ وَالْمُنٰفِقِیْنَ وَدَعْ اَذٰىهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ— وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا ۟
হে রাসূল! তুমি কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না এবং তাদের নির্যাতন উপেক্ষা করো। আর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো; কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنٰتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوْهُنَّ مِنْ قَبْلِ اَنْ تَمَسُّوْهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَیْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّوْنَهَا ۚ— فَمَتِّعُوْهُنَّ وَسَرِّحُوْهُنَّ سَرَاحًا جَمِیْلًا ۟
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা মু’মিন নারীদেরকে বিবাহ করবে অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার (২৪) পূর্বেই (যদি) তালাক দিয়ে দাও, তবে তোমাদের জন্য তাদের উপর কোনো ইদ্দত নেই, যা তোমরা গণনা করবে। সুতরাং (সান্ত্বনাস্বরূপ) তোমরা তাদেরকে কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান করো এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে বিদায় দাও।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَحْلَلْنَا لَكَ اَزْوَاجَكَ الّٰتِیْۤ اٰتَیْتَ اُجُوْرَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ یَمِیْنُكَ مِمَّاۤ اَفَآءَ اللّٰهُ عَلَیْكَ وَبَنٰتِ عَمِّكَ وَبَنٰتِ عَمّٰتِكَ وَبَنٰتِ خَالِكَ وَبَنٰتِ خٰلٰتِكَ الّٰتِیْ هَاجَرْنَ مَعَكَ ؗ— وَامْرَاَةً مُّؤْمِنَةً اِنْ وَّهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِیِّ اِنْ اَرَادَ النَّبِیُّ اَنْ یَّسْتَنْكِحَهَا ۗ— خَالِصَةً لَّكَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ— قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَیْهِمْ فِیْۤ اَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ لِكَیْلَا یَكُوْنَ عَلَیْكَ حَرَجٌ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟
হে নবী! আমি তোমার জন্য তোমার স্ত্রীদেরকে হালাল করেছি যাদেরকে তুমি মোহরানা দিয়েছো এবং বৈধ করেছি ফায় (২৫) হিসেবে আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তাদের মধ্য থেকে যারা তোমার মালিকানাধীন হয়েছে তাদেরকে। আর (বিয়ের জন্য বৈধ করেছি) তোমার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা, খালার কন্যাকে, যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে, আর কোনো মু’মিনা নারী যদি নবীর জন্য নিজেকে হেবা করে, নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে সেও তার জন্য বৈধ। এটা বিশেষভাবে তোমার জন্য, অন্য মু’মিনদের জন্য নয়। আমি মু’মিনদের ওপর তাদের স্ত্রীদের ও তাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপারে যে বিধি বিধান নির্ধারণ করেছি, তা আমি নিশ্চয় জানি; যাতে তোমার কোনো অসুবিধা না হয়। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
تُرْجِیْ مَنْ تَشَآءُ مِنْهُنَّ وَتُـْٔوِیْۤ اِلَیْكَ مَنْ تَشَآءُ ؕ— وَمَنِ ابْتَغَیْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْكَ ؕ— ذٰلِكَ اَدْنٰۤی اَنْ تَقَرَّ اَعْیُنُهُنَّ وَلَا یَحْزَنَّ وَیَرْضَیْنَ بِمَاۤ اٰتَیْتَهُنَّ كُلُّهُنَّ ؕ— وَاللّٰهُ یَعْلَمُ مَا فِیْ قُلُوْبِكُمْ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَلِیْمًا ۟
হে নবী! স্ত্রীদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তার (রাত্রি যাপনের) পালা তুমি পিছিয়ে দিতে পারো, যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারো; যাকে তুমি সরিয়ে রেখেছ তাকে যদি কামনা করো তাতে তোমার কোনো অপরাধ নেই; এ বিধান এ জন্য যে, তোমার স্ত্রীদের চক্ষু শীতল হবে, তারা কষ্ট পাবে না এবং তুমি তাদের যা দিয়েছো, তাতে তারা সবাই সন্তুষ্ট হবে। আর তোমাদের অন্তরে যা আছে(২৬) আল্লাহ তা জানেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম সহনশীল।
لَا یَحِلُّ لَكَ النِّسَآءُ مِنْ بَعْدُ وَلَاۤ اَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ اَزْوَاجٍ وَّلَوْ اَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ اِلَّا مَا مَلَكَتْ یَمِیْنُكَ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ رَّقِیْبًا ۟۠
হে রাসূল! এরপর তোমার জন্য অন্য স্ত্রী গ্রহণ হালাল নয় এবং তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয়; যদিও অন্যদের সৌন্দর্য তোমাকে বিমোহিত করে; তবে তোমার মালিকানাধীন দাসী ছাড়া। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণকারী।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُیُوْتَ النَّبِیِّ اِلَّاۤ اَنْ یُّؤْذَنَ لَكُمْ اِلٰی طَعَامٍ غَیْرَ نٰظِرِیْنَ اِنٰىهُ وَلٰكِنْ اِذَا دُعِیْتُمْ فَادْخُلُوْا فَاِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوْا وَلَا مُسْتَاْنِسِیْنَ لِحَدِیْثٍ ؕ— اِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ یُؤْذِی النَّبِیَّ فَیَسْتَحْیٖ مِنْكُمْ ؗ— وَاللّٰهُ لَا یَسْتَحْیٖ مِنَ الْحَقِّ ؕ— وَاِذَا سَاَلْتُمُوْهُنَّ مَتَاعًا فَسْـَٔلُوْهُنَّ مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ ؕ— ذٰلِكُمْ اَطْهَرُ لِقُلُوْبِكُمْ وَقُلُوْبِهِنَّ ؕ— وَمَا كَانَ لَكُمْ اَنْ تُؤْذُوْا رَسُوْلَ اللّٰهِ وَلَاۤ اَنْ تَنْكِحُوْۤا اَزْوَاجَهٗ مِنْ بَعْدِهٖۤ اَبَدًا ؕ— اِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللّٰهِ عَظِیْمًا ۟
হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরা নবীর ঘরসমূহে প্রবেশ করো না; অবশ্য যদি তোমাদেরকে খাবারের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে (প্রবেশ কর), খাবারের প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে।(১) আর যখন তোমাদেরকে ডাকা হবে তখন তোমরা প্রবেশ করো এবং খাবার শেষ হলে (তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে) চলে যাও। আর কথাবার্তায় (গল্প গুজবে) লিপ্ত হয়ো না; কারণ তা নবীকে কষ্ট দেয়। সে তোমাদের (বেরিয়ে যেতে বলার) বিষয়ে সংকোচবোধ করে; কিন্তু আল্লাহ সত্য প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন না। আর যখন নবীর স্ত্রীদের কাছে তোমরা কোনো কিছু চাইবে তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে; এটি তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র। আর (কথা বলার উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করে) আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তার (মৃত্যুর) পর তার স্ত্রীদেরকে বিয়ে করা কখনো তোমাদের জন্য সংগত নয়। নিশ্চয় এটি আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ।
اِنْ تُبْدُوْا شَیْـًٔا اَوْ تُخْفُوْهُ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا ۟
যদি তোমরা কোনো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো তবে (জেনে রাখ) নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
لَا جُنَاحَ عَلَیْهِنَّ فِیْۤ اٰبَآىِٕهِنَّ وَلَاۤ اَبْنَآىِٕهِنَّ وَلَاۤ اِخْوَانِهِنَّ وَلَاۤ اَبْنَآءِ اِخْوَانِهِنَّ وَلَاۤ اَبْنَآءِ اَخَوٰتِهِنَّ وَلَا نِسَآىِٕهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُنَّ ۚ— وَاتَّقِیْنَ اللّٰهَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ شَهِیْدًا ۟
নবীর স্ত্রীদের জন্য তাদের পিতাদের, তাদের পুত্রদের, তাদের ভাইদের, তাদের ভাইয়ের ছেলেদের, তাদের বোনের ছেলেদের, তাদের নারীদের ও তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের বেলায় (হিজাব না করায়) কোনো অপরাধ নেই। আর তোমরা আল্লাহকে (তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করে) ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ সকল কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী।
اِنَّ اللّٰهَ وَمَلٰٓىِٕكَتَهٗ یُصَلُّوْنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ— یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَیْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا ۟
নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর জন্য দু‘আ করেন। হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরাও নবীর উপর দরূদ (২৮) পাঠ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম(২৯) জানাও।
اِنَّ الَّذِیْنَ یُؤْذُوْنَ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ فِی الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِیْنًا ۟
নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে লা‘নত করেন এবং (পরকালে) তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।
وَالَّذِیْنَ یُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ بِغَیْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُهْتَانًا وَّاِثْمًا مُّبِیْنًا ۟۠
আর যারা মু’মিন পুরুষ ও মু’মিনা নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই (অকারণে) কষ্ট দেয়, নিশ্চয় তারা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করলো।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ وَبَنٰتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِیْنَ یُدْنِیْنَ عَلَیْهِنَّ مِنْ جَلَابِیْبِهِنَّ ؕ— ذٰلِكَ اَدْنٰۤی اَنْ یُّعْرَفْنَ فَلَا یُؤْذَیْنَ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন নারীদেরকে বলো, তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়।(৩০) এতে তাদেরকে সহজে (স্বাধীন নারী হিসাবে) চেনা যাবে, ফলে তাদেরকে (পরাধীন নারীর মতো) কষ্ট দেওয়া হবে না। আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
لَىِٕنْ لَّمْ یَنْتَهِ الْمُنٰفِقُوْنَ وَالَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ وَّالْمُرْجِفُوْنَ فِی الْمَدِیْنَةِ لَنُغْرِیَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا یُجَاوِرُوْنَكَ فِیْهَاۤ اِلَّا قَلِیْلًا ۟ۚۛ
যদি মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তারা আর শহরে মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারীরা বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে ক্ষমতাবান করে দিবো। অতঃপর তারা এ নগরীতে তোমার প্রতিবেশী হয়ে অল্প সময়ই থাকবে,
مَّلْعُوْنِیْنَ ۛۚ— اَیْنَمَا ثُقِفُوْۤا اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِیْلًا ۟
অভিশপ্ত অবস্থায়। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, পাকড়াও করা হবে এবং নির্মমভাবে হত্যা করা হবে।
سُنَّةَ اللّٰهِ فِی الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ ۚ— وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللّٰهِ تَبْدِیْلًا ۟
ইতোপূর্বে যারা অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটাই(৩১) ছিল আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম। আর তুমি আল্লাহর চিরাচরিত নিয়মের কখনোই কোনো পরিবর্তন পাবে না।
یَسْـَٔلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ ؕ— قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللّٰهِ ؕ— وَمَا یُدْرِیْكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُوْنُ قَرِیْبًا ۟
হে রাসূল! লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বলো, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে। আর তুমি এ বিষয়টি কী করে জানবে, হয়ত কিয়ামত খুব শীঘ্রই সংঘটিত হবে!
اِنَّ اللّٰهَ لَعَنَ الْكٰفِرِیْنَ وَاَعَدَّ لَهُمْ سَعِیْرًا ۟ۙ
নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে লা‘নত করেছেন এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত রেখেছেন।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ۚ— لَا یَجِدُوْنَ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیْرًا ۟ۚ
সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। তারা না পাবে কোনো অভিভাবক এবং না কোনো সাহায্যকারী।
یَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوْهُهُمْ فِی النَّارِ یَقُوْلُوْنَ یٰلَیْتَنَاۤ اَطَعْنَا اللّٰهَ وَاَطَعْنَا الرَّسُوْلَا ۟
যেদিন জাহান্নামের আগুনে তাদের মুখমণ্ডল উল্টে-পাল্টে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে, ‘হায়! যদি আমরা আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম!’
وَقَالُوْا رَبَّنَاۤ اِنَّاۤ اَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَآءَنَا فَاَضَلُّوْنَا السَّبِیْلَا ۟
এসব লোকেরা আরো বলবে: ‘হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতৃবর্গ ও বিশিষ্ট লোকদের আনুগত্য করেছিলাম, তখন তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলো।’
رَبَّنَاۤ اٰتِهِمْ ضِعْفَیْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِیْرًا ۟۠
‘হে আমাদের রব! আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে বেশি করে লা‘নত করুন।’
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ اٰذَوْا مُوْسٰی فَبَرَّاَهُ اللّٰهُ مِمَّا قَالُوْا ؕ— وَكَانَ عِنْدَ اللّٰهِ وَجِیْهًا ۟
হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছিল। অতঃপর তারা যা বলেছিলো, তা থেকে আল্লাহ তাকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেছেন।(৩২) আর সে ছিলো আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِیْدًا ۟ۙ
হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে (তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে) ভয় করো এবং সত্য-সঠিক কথা বলো।
یُّصْلِحْ لَكُمْ اَعْمَالَكُمْ وَیَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ ؕ— وَمَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِیْمًا ۟
তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে সংশোধন করে দিবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য(৩৩) অর্জন করলো।
اِنَّا عَرَضْنَا الْاَمَانَةَ عَلَی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَالْجِبَالِ فَاَبَیْنَ اَنْ یَّحْمِلْنَهَا وَاَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْاِنْسَانُ ؕ— اِنَّهٗ كَانَ ظَلُوْمًا جَهُوْلًا ۟ۙ
নিশ্চয় আমি আসমানসমূহ, জমিন ও পর্বতমালার প্রতি এ আমানত(৩৪) পেশ করেছিলাম। অতঃপর তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হলো। আর মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয় সে ছিলো অতিশয় যালিম, একান্তই অজ্ঞ।
لِّیُعَذِّبَ اللّٰهُ الْمُنٰفِقِیْنَ وَالْمُنٰفِقٰتِ وَالْمُشْرِكِیْنَ وَالْمُشْرِكٰتِ وَیَتُوْبَ اللّٰهُ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ ؕ— وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ۟۠
যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের শাস্তি দেন। আর মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদের ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়