حٰمٓ ۟ۚ
হা-মীম।(১)
The Forgiver · 85 আয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
حٰمٓ ۟ۚ
হা-মীম।(১)
تَنْزِیْلُ الْكِتٰبِ مِنَ اللّٰهِ الْعَزِیْزِ الْعَلِیْمِ ۟ۙ
এই কিতাব তথা আল কুরআন মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে (২) অবতীর্ণ।
غَافِرِ الذَّنْۢبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِیْدِ الْعِقَابِ ذِی الطَّوْلِ ؕ— لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ— اِلَیْهِ الْمَصِیْرُ ۟
আল্লাহ পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা, মহা অনুকম্পাকারী। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তাঁর কাছেই (৩) প্রত্যাবর্তন।
مَا یُجَادِلُ فِیْۤ اٰیٰتِ اللّٰهِ اِلَّا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَلَا یَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِی الْبِلَادِ ۟
কাফিররাই কেবল আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়। সুতরাং দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ(৪) যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে।
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ وَّالْاَحْزَابُ مِنْ بَعْدِهِمْ ۪— وَهَمَّتْ كُلُّ اُمَّةٍ بِرَسُوْلِهِمْ لِیَاْخُذُوْهُ وَجٰدَلُوْا بِالْبَاطِلِ لِیُدْحِضُوْا بِهِ الْحَقَّ فَاَخَذْتُهُمْ ۫— فَكَیْفَ كَانَ عِقَابِ ۟
তাদের পূর্বে নূহের জাতি এবং তাদের পরেও অনেক দল মিথ্যারোপ করেছিল।(৫) প্রত্যেক জাতিই স্বীয় রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং সত্যকে বিদূরিত করার উদ্দেশ্যে তারা বাতিলের পক্ষে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল। ফলে আমিও তাদেরকে (শাস্তি দ্বারা) পাকড়াও করলাম। সুতরাং, ভেবে দেখো, কেমন ছিল আমার শাস্তি!
وَكَذٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَی الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّهُمْ اَصْحٰبُ النَّارِ ۟
আর (৬) এভাবেই কাফিরদের (ধ্বংসের) ক্ষেত্রে তোমার রবের বাণী সত্যে পরিণত হল যে, নিশ্চয় এরা জাহান্নামী।
اَلَّذِیْنَ یَحْمِلُوْنَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهٗ یُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَیُؤْمِنُوْنَ بِهٖ وَیَسْتَغْفِرُوْنَ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ۚ— رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَیْءٍ رَّحْمَةً وَّعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِیْنَ تَابُوْا وَاتَّبَعُوْا سَبِیْلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِیْمِ ۟
যারা (৭) আরশ বহন করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মু’মিনদের জন্য ক্ষমার দু‘আ করে বলে: ‘হে আমাদের রব! আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে আপনি রক্ষা করুন।’ (৭) যেসব ফিরিশতারা।
رَبَّنَا وَاَدْخِلْهُمْ جَنّٰتِ عَدْنِ ١لَّتِیْ وَعَدْتَّهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآىِٕهِمْ وَاَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّیّٰتِهِمْ ؕ— اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ ۟ۙ
(৮) ‘হে আমাদের রব! আর আপনি তাদেরকে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন। আর তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদেরকেও জান্নাতে প্রবেশ করান। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
وَقِهِمُ السَّیِّاٰتِ ؕ— وَمَنْ تَقِ السَّیِّاٰتِ یَوْمَىِٕذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهٗ ؕ— وَذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ ۟۠
আর তাদেরকে (সেদিনের) সব অকল্যাণ থেকে রক্ষা করুন। আর সেদিন আপনি যাকে অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন, তাকে তো আপনি অবশ্যই অনুগ্রহ করবেন। আর এটাই হলো (৯)মহাসাফল্য।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا یُنَادَوْنَ لَمَقْتُ اللّٰهِ اَكْبَرُ مِنْ مَّقْتِكُمْ اَنْفُسَكُمْ اِذْ تُدْعَوْنَ اِلَی الْاِیْمَانِ فَتَكْفُرُوْنَ ۟
নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে, তাদেরকে (কিয়ামতের দিন) উচ্চস্বরে ডেকে বলা হবে, ‘আজ তোমরা নিজেদের প্রতি যতটা ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত, আল্লাহর অসন্তোষ তার চেয়েও অনেক বেশি ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল, অথচ তোমরা কুফরি করেছিলে।’
قَالُوْا رَبَّنَاۤ اَمَتَّنَا اثْنَتَیْنِ وَاَحْیَیْتَنَا اثْنَتَیْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوْبِنَا فَهَلْ اِلٰی خُرُوْجٍ مِّنْ سَبِیْلٍ ۟
তারা বলবে: ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’বার জীবন দিয়েছেন।(১০) অতঃপর আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব (১১) বের হওয়ার কোন পথ আছে কি?’
ذٰلِكُمْ بِاَنَّهٗۤ اِذَا دُعِیَ اللّٰهُ وَحْدَهٗ كَفَرْتُمْ ۚ— وَاِنْ یُّشْرَكْ بِهٖ تُؤْمِنُوْا ؕ— فَالْحُكْمُ لِلّٰهِ الْعَلِیِّ الْكَبِیْرِ ۟
(জবাবে তাদেরকে বলা হবে) এটা এ কারণে যে, যখন একমাত্র আল্লাহকে ডাকা হতো, তখন তোমরা কুফরি করতে; আর যখন তাঁর সঙ্গে শরিক করা হতো, তখন তোমরা তা বিশ্বাস করতে। অতএব ফয়সালা তো একমাত্র মহান, সর্বোচ্চ আল্লাহরই।
هُوَ الَّذِیْ یُرِیْكُمْ اٰیٰتِهٖ وَیُنَزِّلُ لَكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ رِزْقًا ؕ— وَمَا یَتَذَكَّرُ اِلَّا مَنْ یُّنِیْبُ ۟
তিনি সেই আল্লাহ যিনি তোমাদেরকে তাঁর (১২) নিদর্শনাবলি দেখান এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্য রিযক পাঠান। আর সেই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে, যে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
فَادْعُوا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكٰفِرُوْنَ ۟
অতএব তোমরা আল্লাহকেই ডাকো, তাঁর জন্যই দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।
رَفِیْعُ الدَّرَجٰتِ ذُو الْعَرْشِ ۚ— یُلْقِی الرُّوْحَ مِنْ اَمْرِهٖ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ لِیُنْذِرَ یَوْمَ التَّلَاقِ ۟ۙ
আল্লাহ সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি, তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার প্রতি ইচ্ছা আপন নির্দেশে তিনি ওহী পাঠান, যাতে সে সাক্ষাৎ লাভের দিনটি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে।
یَوْمَ هُمْ بَارِزُوْنَ ۚ۬— لَا یَخْفٰی عَلَی اللّٰهِ مِنْهُمْ شَیْءٌ ؕ— لِمَنِ الْمُلْكُ الْیَوْمَ ؕ— لِلّٰهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ ۟
সেদিন মানুষ প্রকাশ্যভাবে সমবেত হবে। সেদিন আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। (১৩) ‘আজ রাজত্ব ও কর্তৃত্ব কার?’ (উত্তর আসবে) ’প্রবল প্রতাপশালী এক আল্লাহর।’
اَلْیَوْمَ تُجْزٰی كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ ؕ— لَا ظُلْمَ الْیَوْمَ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ ۟
আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। আজ কারো প্রতিই কোন যুলম-অবিচার নেই। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
وَاَنْذِرْهُمْ یَوْمَ الْاٰزِفَةِ اِذِ الْقُلُوْبُ لَدَی الْحَنَاجِرِ كٰظِمِیْنَ ؕ۬— مَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ حَمِیْمٍ وَّلَا شَفِیْعٍ یُّطَاعُ ۟ؕ
আর হে রাসূল! তুমি তাদের আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দাও; যখন দুঃখ, কষ্ট সংবরণ অবস্থায় তাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে। যালিমদের জন্য নেই কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু, নেই কোন সুপারিশকারী যার সুপারিশ গ্রাহ্য করা হবে।
یَعْلَمُ خَآىِٕنَةَ الْاَعْیُنِ وَمَا تُخْفِی الصُّدُوْرُ ۟
চক্ষুসমূহের খিয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন রাখে তিনি তা জানেন।
وَاللّٰهُ یَقْضِیْ بِالْحَقِّ ؕ— وَالَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ لَا یَقْضُوْنَ بِشَیْءٍ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ هُوَ السَّمِیْعُ الْبَصِیْرُ ۟۠
আর আল্লাহ ইনসাফ ভিত্তিক ফয়সালা করেন এবং তারা (মুশরিকরা) আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকে, তারা কোন কিছুর বিচার-ফয়সালা করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
اَوَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِیْنَ كَانُوْا مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ— كَانُوْا هُمْ اَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَّاٰثَارًا فِی الْاَرْضِ فَاَخَذَهُمُ اللّٰهُ بِذُنُوْبِهِمْ ؕ— وَمَا كَانَ لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ وَّاقٍ ۟
তারা তথা মুশরিকরা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? তাহলে দেখত, তাদের পূর্বে যারা ছিল, তাদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? অথচ সে সব জাতি এদের তুলনায় পৃথিবীতে শক্তিমত্তা ও (স্থাপনা নির্মাণ) কীর্তিতে অধিকতর প্রবল ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের পাপাচারের কারণে তাদেরকে পাকড়াও (ধ্বংস) করলেন। আর তাদের জন্য ছিল না, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন রক্ষাকারী।
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَانَتْ تَّاْتِیْهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ فَكَفَرُوْا فَاَخَذَهُمُ اللّٰهُ ؕ— اِنَّهٗ قَوِیٌّ شَدِیْدُ الْعِقَابِ ۟
এটি এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসত; কিন্তু তারা তাদেরকে অস্বীকার করত। ফলে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিমান, শাস্তিদানে কঠোর।
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مُوْسٰی بِاٰیٰتِنَا وَسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ ۟ۙ
আর অবশ্যই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলি ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছিলাম,
اِلٰی فِرْعَوْنَ وَهَامٰنَ وَقَارُوْنَ فَقَالُوْا سٰحِرٌ كَذَّابٌ ۟
ফির‘আউন, হামান ও কারূনের কাছে। অতঃপর তারা বলল, ‘সে এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।’
فَلَمَّا جَآءَهُمْ بِالْحَقِّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا اقْتُلُوْۤا اَبْنَآءَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَهٗ وَاسْتَحْیُوْا نِسَآءَهُمْ ؕ— وَمَا كَیْدُ الْكٰفِرِیْنَ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ ۟
অতঃপর যখন মূসা আমার কাছ থেকে সত্য(১৪) নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল, তখন তারা বলল: ‘যারা মূসার সাথে ঈমান এনেছে তোমরা তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখ।’ আর কাফিরদের ষড়যন্ত্র কেবল ব্যর্থই হবে।(১৫)
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُوْنِیْۤ اَقْتُلْ مُوْسٰی وَلْیَدْعُ رَبَّهٗ ۚؕ— اِنِّیْۤ اَخَافُ اَنْ یُّبَدِّلَ دِیْنَكُمْ اَوْ اَنْ یُّظْهِرَ فِی الْاَرْضِ الْفَسَادَ ۟
আর ফির‘আউন (পরিষদবর্গকে) বলল: ‘আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে (১৬) তার রবকে ডাকুক। নিশ্চয় আমি আশঙ্কা করছি যে, সে তোমাদের দ্বীন তথা জীবন যাপনের পদ্ধতিকে পাল্টে দিবে অথবা সে (১৭) জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
وَقَالَ مُوْسٰۤی اِنِّیْ عُذْتُ بِرَبِّیْ وَرَبِّكُمْ مِّنْ كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَّا یُؤْمِنُ بِیَوْمِ الْحِسَابِ ۟۠
মূসা বলল: ‘আমি আমার রব ও তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন প্রত্যেক অহংকারী থেকে, যে বিচার দিবসের প্রতি ঈমান রাখে না।’
وَقَالَ رَجُلٌ مُّؤْمِنٌ ۖۗ— مِّنْ اٰلِ فِرْعَوْنَ یَكْتُمُ اِیْمَانَهٗۤ اَتَقْتُلُوْنَ رَجُلًا اَنْ یَّقُوْلَ رَبِّیَ اللّٰهُ وَقَدْ جَآءَكُمْ بِالْبَیِّنٰتِ مِنْ رَّبِّكُمْ ؕ— وَاِنْ یَّكُ كَاذِبًا فَعَلَیْهِ كَذِبُهٗ ۚ— وَاِنْ یَّكُ صَادِقًا یُّصِبْكُمْ بَعْضُ الَّذِیْ یَعِدُكُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِیْ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ ۟
‘আর ফির‘আউন পরিবারের একজন মু’মিন ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রেখেছিল সে বলল: ‘তোমরা কি (নিরপরাধ) একটি মানুষকে কেবল এ কারণে হত্যা করতে চাও, যে বলে: ‘আমার রব আল্লাহ’; অথচ সে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে। যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার ওপরই বর্তাবে তার মিথ্যা; আর যদি সে সত্যবাদী হয় তবে যে বিষয়ে সে তোমাদেরকে (যে শাস্তির) ওয়াদা দিচ্ছে, তার কিছু তোমাদের ওপর আপতিত হবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না, যে সীমালঙ্ঘনকারী, চরম মিথ্যাবাদী।’
یٰقَوْمِ لَكُمُ الْمُلْكُ الْیَوْمَ ظٰهِرِیْنَ فِی الْاَرْضِ ؗ— فَمَنْ یَّنْصُرُنَا مِنْ بَاْسِ اللّٰهِ اِنْ جَآءَنَا ؕ— قَالَ فِرْعَوْنُ مَاۤ اُرِیْكُمْ اِلَّا مَاۤ اَرٰی وَمَاۤ اَهْدِیْكُمْ اِلَّا سَبِیْلَ الرَّشَادِ ۟
(সে আরও বলল:) ‘হে আমার জাতি! আজ তোমাদের হাতে (মিসরের) রাজত্ব; পৃথিবীতে তোমরাই কর্তৃত্বশীল (বিজয়ী); কিন্তু (ভেবে দেখো,) আল্লাহর শাস্তি আসলে, কে আমাদেরকে সাহায্য করবে?’ (তার বক্তব্যের মধেই) ফির‘আউন বলল: ‘আমি যা সঠিক মনে করি তা-ই আমি তোমাদেরকে দেখাই, আর আমি তোমাদেরকে কেবল সঠিক পথই দেখাই।’(১৮)
وَقَالَ الَّذِیْۤ اٰمَنَ یٰقَوْمِ اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْكُمْ مِّثْلَ یَوْمِ الْاَحْزَابِ ۟ۙ
আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল সে আরও বলল: ‘হে আমার জাতি! নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে পূর্ববর্তী দলসমূহের মতোই (বিপদসংকুল) দিনের (শাস্তির) আশঙ্কা করি’;
مِثْلَ دَاْبِ قَوْمِ نُوْحٍ وَّعَادٍ وَّثَمُوْدَ وَالَّذِیْنَ مِنْ بَعْدِهِمْ ؕ— وَمَا اللّٰهُ یُرِیْدُ ظُلْمًا لِّلْعِبَادِ ۟
‘যেমন ঘটেছিল নূহ, ‘আদ ও ছামূদের জাতি এবং তাদের পরবর্তীদের ব্যাপারে।(১৯) আর আল্লাহ বান্দাদের ওপর কোন যুলম করতে চান না।’
وَیٰقَوْمِ اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْكُمْ یَوْمَ التَّنَادِ ۟ۙ
‘ হে আমার জাতি! আমি তোমাদের জন্য পারস্পরিক ভয়ার্ত আহ্বান দিনের (২০) আশঙ্কা করি।’
یَوْمَ تُوَلُّوْنَ مُدْبِرِیْنَ ۚ— مَا لَكُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ عَاصِمٍ ۚ— وَمَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنْ هَادٍ ۟
সেদিন তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাতে থাকবে; কিন্তু আল্লাহর (শাস্তি) থেকে তোমাদের রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
وَلَقَدْ جَآءَكُمْ یُوْسُفُ مِنْ قَبْلُ بِالْبَیِّنٰتِ فَمَا زِلْتُمْ فِیْ شَكٍّ مِّمَّا جَآءَكُمْ بِهٖ ؕ— حَتّٰۤی اِذَا هَلَكَ قُلْتُمْ لَنْ یَّبْعَثَ اللّٰهُ مِنْ بَعْدِهٖ رَسُوْلًا ؕ— كَذٰلِكَ یُضِلُّ اللّٰهُ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ مُّرْتَابُ ۟ۚۖ
আর অবশ্যই ইতঃপূর্বে ইউসুফ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল। সে যা নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিল তা নিয়ে তোমরা শুধু সন্দেহ পোষণ করেছিলে; এমনকি যখন সে মারা গেল তখন তোমরা বললে: ‘আল্লাহ তার পরে কখনো কোন রাসূল পাঠাবেন না।’ এভাবেই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী, (তাঁর একত্ববাদে) সংশয়বাদীদের পথভ্রষ্ট করেন।
١لَّذِیْنَ یُجَادِلُوْنَ فِیْۤ اٰیٰتِ اللّٰهِ بِغَیْرِ سُلْطٰنٍ اَتٰىهُمْ ؕ— كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللّٰهِ وَعِنْدَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ؕ— كَذٰلِكَ یَطْبَعُ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ ۟
যারা নিজেদের কাছে দলিল-প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর নিদর্শনাবলি সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়; তাদের এ কাজ আল্লাহ ও মু’মিনদের নিকট অতি ঘৃণিত। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী স্বৈরাচারীর অন্তরে মোহর মেরে দেন।
وَقَالَ فِرْعَوْنُ یٰهَامٰنُ ابْنِ لِیْ صَرْحًا لَّعَلِّیْۤ اَبْلُغُ الْاَسْبَابَ ۟ۙ
ফির‘আউন আরও বলল: ‘হে হামান! আমার জন্য একটি উঁচু অট্টালিকা (টাওয়ার) বানাও যাতে আমি (২০) অবলম্বন পাই...
اَسْبَابَ السَّمٰوٰتِ فَاَطَّلِعَ اِلٰۤی اِلٰهِ مُوْسٰی وَاِنِّیْ لَاَظُنُّهٗ كَاذِبًا ؕ— وَكَذٰلِكَ زُیِّنَ لِفِرْعَوْنَ سُوْٓءُ عَمَلِهٖ وَصُدَّ عَنِ السَّبِیْلِ ؕ— وَمَا كَیْدُ فِرْعَوْنَ اِلَّا فِیْ تَبَابٍ ۟۠
আসমানে আরোহরণের অবলম্বন, যাতে আমি (উঁকি মেরে) মূসার ইলাহকে দেখতে পাই, আর আমি কেবল তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।’ আর এভাবে ফির‘আউনের কাছে তার মন্দ কাজ শোভিত করে দেয়া হয়েছিল এবং তাকে বাধা দেয়া হয়েছিল সৎপথ থেকে। আর ফির‘আউনের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছিল।
وَقَالَ الَّذِیْۤ اٰمَنَ یٰقَوْمِ اتَّبِعُوْنِ اَهْدِكُمْ سَبِیْلَ الرَّشَادِ ۟ۚ
আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল: ‘হে আমার জাতি! তোমরা আমার আনুগত্য কর। আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাব।’
یٰقَوْمِ اِنَّمَا هٰذِهِ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا مَتَاعٌ ؗ— وَّاِنَّ الْاٰخِرَةَ هِیَ دَارُ الْقَرَارِ ۟
‘হে আমার জাতি, এ দুনিয়ার জীবন কেবল কিছু দিনের উপভোগের বস্তু। আর নিশ্চয় আখিরাতই হল স্থায়ী আবাস।’(২১)
مَنْ عَمِلَ سَیِّئَةً فَلَا یُجْزٰۤی اِلَّا مِثْلَهَا ۚ— وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَاُولٰٓىِٕكَ یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ یُرْزَقُوْنَ فِیْهَا بِغَیْرِ حِسَابٍ ۟
‘কেউ পাপ কাজ করলে, তাকে শুধু পাপের সমান শাস্তিই দেয়া হবে। আর যে পুরুষ অথবা নারী মু’মিন হয়ে সৎকাজ করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদেরকে বেহিসাব রিযক দেয়া হবে।’
وَیٰقَوْمِ مَا لِیْۤ اَدْعُوْكُمْ اِلَی النَّجٰوةِ وَتَدْعُوْنَنِیْۤ اِلَی النَّارِ ۟ؕ
‘আর হে আমার জাতি! আমার কী হল যে, আমি তোমাদেরকে (২২) মুক্তির দিকে ডাকছি, আর তোমরা আমাকে আগুনের দিকে ডাকছ !’
تَدْعُوْنَنِیْ لِاَكْفُرَ بِاللّٰهِ وَاُشْرِكَ بِهٖ مَا لَیْسَ لِیْ بِهٖ عِلْمٌ ؗ— وَّاَنَا اَدْعُوْكُمْ اِلَی الْعَزِیْزِ الْغَفَّارِ ۟
‘তোমরা আমাকে ডাকছ, যাতে আমি আল্লাহর সাথে কুফরী করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি, যে ব্যাপারে আমার কোন জ্ঞান নেই; পক্ষান্তরে আমি তোমাদেরকে ডাকছি ,মহাপরাক্রমশালী ও পরম ক্ষমাশীলের দিকে ।’
لَا جَرَمَ اَنَّمَا تَدْعُوْنَنِیْۤ اِلَیْهِ لَیْسَ لَهٗ دَعْوَةٌ فِی الدُّنْیَا وَلَا فِی الْاٰخِرَةِ وَاَنَّ مَرَدَّنَاۤ اِلَی اللّٰهِ وَاَنَّ الْمُسْرِفِیْنَ هُمْ اَصْحٰبُ النَّارِ ۟
এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে আহ্বান করছ, সে দুনিয়া ও আখিরাতে আহ্বান (ও ইবাদত) এর কোনোই যোগ্যতা রাখে না।(২৩) আর আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহরই কাছে। আর নিশ্চয় সীমালঙ্ঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।
فَسَتَذْكُرُوْنَ مَاۤ اَقُوْلُ لَكُمْ ؕ— وَاُفَوِّضُ اَمْرِیْۤ اِلَی اللّٰهِ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ بَصِیْرٌ بِالْعِبَادِ ۟
(আজ) আমি তোমাদেরকে যা বলছি, অচিরেই তোমরা তা (সে উপদেশ) স্মরণ করবে।(২৪) আর আমি আমার সকল বিষয় আল্লাহর নিকট ন্যস্ত করলাম। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সর্বদ্রষ্টা।’
فَوَقٰىهُ اللّٰهُ سَیِّاٰتِ مَا مَكَرُوْا وَحَاقَ بِاٰلِ فِرْعَوْنَ سُوْٓءُ الْعَذَابِ ۟ۚ
অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের ষড়যন্ত্রের অশুভ পরিণাম থেকে রক্ষা করলেন। আর ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে (২৫) কঠিন শাস্তি গ্রাস করল।
اَلنَّارُ یُعْرَضُوْنَ عَلَیْهَا غُدُوًّا وَّعَشِیًّا ۚ— وَیَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ ۫— اَدْخِلُوْۤا اٰلَ فِرْعَوْنَ اَشَدَّ الْعَذَابِ ۟
(তাদের মৃত্যুর পর কবরে) আগুন সকাল-সন্ধ্যায় তাদের সামনে উপস্থাপিত করা হয়। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, (সেদিন বলা হবে) ‘ফিরআউনের অনুসারীদেরকে কঠোরতম শাস্তিতে প্রবেশ করাও।’
وَاِذْ یَتَحَآجُّوْنَ فِی النَّارِ فَیَقُوْلُ الضُّعَفٰٓؤُا لِلَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْۤا اِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ اَنْتُمْ مُّغْنُوْنَ عَنَّا نَصِیْبًا مِّنَ النَّارِ ۟
হে রাসূল! স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন জাহান্নামে তারা পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে, তখন দুর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে: ‘(দুনিয়াতে) আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, অতএব (এখন) তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ গ্রহণ করবে?'
قَالَ الَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْۤا اِنَّا كُلٌّ فِیْهَاۤ اِنَّ اللّٰهَ قَدْ حَكَمَ بَیْنَ الْعِبَادِ ۟
অহংকারী নেতারা বলবে: ‘আমরা সবাইতো এখন জাহান্নামেই আছি। নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করে ফেলেছেন।’
وَقَالَ الَّذِیْنَ فِی النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوْا رَبَّكُمْ یُخَفِّفْ عَنَّا یَوْمًا مِّنَ الْعَذَابِ ۟
আর যারা জাহান্নামে আছে তারা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে: ‘তোমরা তোমাদের রবকে একটু ডাকো না! তিনি যেন এক দিনের জন্য হলেও আমাদের শাস্তি লাঘব করে দেন।’
قَالُوْۤا اَوَلَمْ تَكُ تَاْتِیْكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَیِّنٰتِ ؕ— قَالُوْا بَلٰی ؕ— قَالُوْا فَادْعُوْا ۚ— وَمَا دُعٰٓؤُا الْكٰفِرِیْنَ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ ۟۠
জাহান্নামের রক্ষীরা (কাফিরদেরকে) বলবে: ‘তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেনি’? জাহান্নামীরা বলবে, ‘হ্যাঁ অবশ্যই এসেছেন (২৬)। রক্ষীরা (ব্যঙ্গ করে) বলবে: ‘তবে তোমরাই তোমাদের জন্যে দু‘আ কর। বস্তুত কাফিরদের দু‘আ ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
اِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَیَوْمَ یَقُوْمُ الْاَشْهَادُ ۟ۙ
অবশ্যই আমি আমার রাসূলদেরকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সাহায্য করব দুনিয়ার জীবনে এবং (পরকালে) যেদিন সাক্ষীগণ (তাদের পক্ষে কথা বলার জন্যে) দাঁড়িয়ে যাবে।(২৭)
یَوْمَ لَا یَنْفَعُ الظّٰلِمِیْنَ مَعْذِرَتُهُمْ وَلَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوْٓءُ الدَّارِ ۟
যেদিন যালিমদের কোন ওযর-আপত্তি তাদের উপকার করবে না। আর তাদের জন্য রয়েছে লা‘নত এবং তাদের জন্য রয়েছে (জাহান্নামে) নিকৃষ্ট আবাস।
وَلَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْهُدٰی وَاَوْرَثْنَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ الْكِتٰبَ ۟ۙ
আর অবশ্যই আমি মূসাকে হিদায়াত দান করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলকে (তাওরাত) কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম।
هُدًی وَّذِكْرٰی لِاُولِی الْاَلْبَابِ ۟
যা ছিল বুদ্ধিমানদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ স্বরূপ।
فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ وَّاسْتَغْفِرْ لِذَنْۢبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِیِّ وَالْاِبْكَارِ ۟
কাজেই (২৮) তুমি ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং সকাল- সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ কর।
اِنَّ الَّذِیْنَ یُجَادِلُوْنَ فِیْۤ اٰیٰتِ اللّٰهِ بِغَیْرِ سُلْطٰنٍ اَتٰىهُمْ ۙ— اِنْ فِیْ صُدُوْرِهِمْ اِلَّا كِبْرٌ مَّا هُمْ بِبَالِغِیْهِ ۚ— فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ ؕ— اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْبَصِیْرُ ۟
নিশ্চয় যারা নিজেদের কাছে কোন দলিল-প্রমাণ না আসা সত্ত্বেও আল্লাহর আয়াতসমূহ সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের অন্তরসমূহে আছে কেবল অহংকার, তারা কিছুতেই সেখানে পৌঁছবে না। কাজেই, হে রাসূল! তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ اَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ۟
অবশ্যই আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করা, মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে বহু গুণ বড় কাজ(২৯); কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।
وَمَا یَسْتَوِی الْاَعْمٰی وَالْبَصِیْرُ ۙ۬— وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَلَا الْمُسِیْٓءُ ؕ— قَلِیْلًا مَّا تَتَذَكَّرُوْنَ ۟
আর অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি কখনো সমান হতে পারে না । আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আর যারা (৩০) অপরাধী (তারাও সমান নয়)। তোমাদের অল্প সংখ্যকইউপদেশ গ্রহণ করে। (৩০) কুফুরী ও পাপাচারের কারণে।
اِنَّ السَّاعَةَ لَاٰتِیَةٌ لَّا رَیْبَ فِیْهَا ؗ— وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یُؤْمِنُوْنَ ۟
নিশ্চয় কিয়ামত আসবেই, এতে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِیْۤ اَسْتَجِبْ لَكُمْ ؕ— اِنَّ الَّذِیْنَ یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِیْ سَیَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیْنَ ۟۠
আর তোমাদের রব বলেছেন: ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। নিশ্চয় যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে(৩১), তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’
اَللّٰهُ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الَّیْلَ لِتَسْكُنُوْا فِیْهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَذُوْ فَضْلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَشْكُرُوْنَ ۟
তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পার এবং দিনকে করেছেন আলোকোজ্জ্বল (৩২)। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ (আল্লাহর নি‘আমতের) কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।
ذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبُّكُمْ خَالِقُ كُلِّ شَیْءٍ ۘ— لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؗ— فَاَنّٰی تُؤْفَكُوْنَ ۟
তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; সব কিছুর স্রষ্টা, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং তোমাদেরকে কোথায় ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে?
كَذٰلِكَ یُؤْفَكُ الَّذِیْنَ كَانُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ یَجْحَدُوْنَ ۟
(৩৩) এভাবেই ফিরিয়ে নেয়া হয় তাদেরকে, যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে।
اَللّٰهُ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ قَرَارًا وَّالسَّمَآءَ بِنَآءً وَّصَوَّرَكُمْ فَاَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُمْ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ— ذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبُّكُمْ ۖۚ— فَتَبٰرَكَ اللّٰهُ رَبُّ الْعٰلَمِیْنَ ۟
তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে স্থিতিশীল করেছেন এবং আসমানকে করেছেন ছাদ। আর তিনি তোমাদেরকে (মাতৃগর্ভে) আকৃতি দিয়েছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতিকে সুন্দর করেছেন এবং তিনি পবিত্র জীবিকা থেকে তোমাদেরকে রিযক দান করেছেন। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। সুতরাং সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ কতই না বরকতময়!
هُوَ الْحَیُّ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ فَادْعُوْهُ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ؕ— اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা তাঁকে ডাক, তাঁর ইবাদাতে-আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে (৩৪)। সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।
قُلْ اِنِّیْ نُهِیْتُ اَنْ اَعْبُدَ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ لَمَّا جَآءَنِیَ الْبَیِّنٰتُ مِنْ رَّبِّیْ ؗ— وَاُمِرْتُ اَنْ اُسْلِمَ لِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟
হে রাসূল! বল: ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাক, তাদের ইবাদাত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে, যেহেতু আমার রবের পক্ষ থেকে আমার কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এসেছে। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি সৃষ্টিকুলের রবের নিকট আত্মসমর্পণ করতে।’
هُوَ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ یُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْۤا اَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُوْنُوْا شُیُوْخًا ۚ— وَمِنْكُمْ مَّنْ یُّتَوَفّٰی مِنْ قَبْلُ وَلِتَبْلُغُوْۤا اَجَلًا مُّسَمًّی وَّلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ ۟
তিনিই তোমাদেরকে (৩৫) মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাদেরকে শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর ‘আলাকা’ (জমাট রক্ত) থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে (মাতৃগর্ভ থেকে) শিশুরূপে বের করে আনেন, যেন তোমরা তোমাদের যৌবনে পদার্পণ কর, অতঃপর যেন তোমরা বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হও। আর তোমাদের কেউ কেউ এর পূর্বেই মারা যায়। আর যাতে তোমরা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে যাও। আর যাতে তোমরা (৩৬) অনুধাবন করতে পারো।
هُوَ الَّذِیْ یُحْیٖ وَیُمِیْتُ ۚ— فَاِذَا قَضٰۤی اَمْرًا فَاِنَّمَا یَقُوْلُ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ ۟۠
তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। আর তিনি যখন কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি এজন্য শুধু বলেন: ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ یُجَادِلُوْنَ فِیْۤ اٰیٰتِ اللّٰهِ ؕ— اَنّٰی یُصْرَفُوْنَ ۟ۙۛ
হে রাসূল! তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলি সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে? তাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে?
الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِالْكِتٰبِ وَبِمَاۤ اَرْسَلْنَا بِهٖ رُسُلَنَا ۛ۫— فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ ۟ۙ
যারা কিতাব আল কুরআন এবং আমার রাসূলগণকে যা দিয়ে আমি প্রেরণ করেছি, তা অস্বীকার করে, অতএব অচিরেই তারা জানতে পারবে-
اِذِ الْاَغْلٰلُ فِیْۤ اَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلٰسِلُ ؕ— یُسْحَبُوْنَ ۟ۙ
যখন তাদের গলদেশে বেড়ি ও শিকল থাকবে, তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে-
فِی الْحَمِیْمِ ۙ۬— ثُمَّ فِی النَّارِ یُسْجَرُوْنَ ۟ۚ
(জাহান্নামের) ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে প্রজ্বলিত আগুনে পোড়ানো হবে।
ثُمَّ قِیْلَ لَهُمْ اَیْنَ مَا كُنْتُمْ تُشْرِكُوْنَ ۟ۙ
অতঃপর তাদেরকে বলা হবে: ‘কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা শরীক করতে।
مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ— قَالُوْا ضَلُّوْا عَنَّا بَلْ لَّمْ نَكُنْ نَّدْعُوْا مِنْ قَبْلُ شَیْـًٔا ؕ— كَذٰلِكَ یُضِلُّ اللّٰهُ الْكٰفِرِیْنَ ۟
আল্লাহ ছাড়া?’ তারা (কাফিররা) বলবে: ‘তারা তো আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে; বরং এর পূর্বে আমরা (দুনিয়াতে) কোন কিছুর ইবাদাতই করতাম না।’ এভাবেই আল্লাহ কাফিরদেরকে পথভ্রষ্ট করেন।
ذٰلِكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَفْرَحُوْنَ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ وَبِمَا كُنْتُمْ تَمْرَحُوْنَ ۟ۚ
এটা (এ শাস্তি) এ জন্য যে, তোমরা পার্থিব জীবনে অযথা আনন্দ-উল্লাস করতে এবং এজন্য যে, তোমরা অহংকার করতে।
اُدْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ— فَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَكَبِّرِیْنَ ۟
তোমরা চিরকাল অবস্থানের জন্য জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে প্রবেশ কর। অতএব অহংকারীদের বাসস্থান কতই না নিকৃষ্ট!
فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ ۚ— فَاِمَّا نُرِیَنَّكَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّكَ فَاِلَیْنَا یُرْجَعُوْنَ ۟
অতএব, (৩৭)তুমি ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর আমি তাদেরকে (শাস্তির) যে ওয়াদা দেই, তার কিছু অংশ যদি তোমাকে দেখাই অথবা তোমাকে মৃত্যু দেই, তাহলেও আমার কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন হবে।(৩৮)
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّنْ قَبْلِكَ مِنْهُمْ مَّنْ قَصَصْنَا عَلَیْكَ وَمِنْهُمْ مَّنْ لَّمْ نَقْصُصْ عَلَیْكَ ؕ— وَمَا كَانَ لِرَسُوْلٍ اَنْ یَّاْتِیَ بِاٰیَةٍ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ— فَاِذَا جَآءَ اَمْرُ اللّٰهِ قُضِیَ بِالْحَقِّ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْمُبْطِلُوْنَ ۟۠
হে রাসূল! অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি।(৩৯) তাদের মধ্যে কারো কারো কাহিনী আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি আর কারো কারো কাহিনী তোমার কাছে বর্ণনা করিনি। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন (মু’জিযাহ) নিয়ে আসা কোন রাসূলের কাজ নয়। তারপর যখন আল্লাহর নির্দেশ আসবে, তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করা হবে। আর তখনই বাতিলপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
اَللّٰهُ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَنْعَامَ لِتَرْكَبُوْا مِنْهَا وَمِنْهَا تَاْكُلُوْنَ ۟ؗ
আল্লাহই তোমাদের জন্য গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা এদের কতকের ওপর আরোহণ করতে পার আর কতক তোমরা খেতে পার।
وَلَكُمْ فِیْهَا مَنَافِعُ وَلِتَبْلُغُوْا عَلَیْهَا حَاجَةً فِیْ صُدُوْرِكُمْ وَعَلَیْهَا وَعَلَی الْفُلْكِ تُحْمَلُوْنَ ۟ؕ
আর এসব সৃষ্টির মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে (৪০) বহু উপকারিতা এবং যাতে তোমরা এগুলোর ওপর আরোহণ করে নিজেদের অন্তরের প্রয়োজন পূরণ করতে পারো ও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারো। আর এসবের ওপর এবং নৌযানের ওপর তোমাদেরকে আরোহণ করানো হয়।
وَیُرِیْكُمْ اٰیٰتِهٖ ۖۗ— فَاَیَّ اٰیٰتِ اللّٰهِ تُنْكِرُوْنَ ۟
আর (এভাবে) আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর (৪১) নিদর্শনাবলি দেখান। অতএব, তোমরা আল্লাহর কোন নিদর্শনকে অস্বীকার করবে?
اَفَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ— كَانُوْۤا اَكْثَرَ مِنْهُمْ وَاَشَدَّ قُوَّةً وَّاٰثَارًا فِی الْاَرْضِ فَمَاۤ اَغْنٰی عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ ۟
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি, যাতে দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি কী হয়েছিল? তারা ছিল এদের চেয়ে সংখ্যায় বেশি, শক্তিতে প্রবলতর এবং পৃথিবীতে অধিক নিদর্শন/কীর্তির অধিকারী। কিন্তু তারা যা অর্জন করেছিল, তা (আল্লাহর শাস্তি থেকে) তাদের কোনো উপকারে আসেনি।
فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ فَرِحُوْا بِمَا عِنْدَهُمْ مِّنَ الْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟
অতঃপর তাদের কাছে যখন তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল, তখন তারা (৪২) তাদের নিজেদের কাছে বিদ্যমান থাকা জ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে উৎফুল্ল হয়ে উঠল। আর যা (শাস্তি) নিয়ে তাঁরা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তা-ই তাদেরকে বেষ্টন করল।
فَلَمَّا رَاَوْا بَاْسَنَا قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَحْدَهٗ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهٖ مُشْرِكِیْنَ ۟
তারপর তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করলো তখন বলল: ‘আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম, আর যাদেরকে আমরা তার সাথে শরীক করতাম, তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম।’
فَلَمْ یَكُ یَنْفَعُهُمْ اِیْمَانُهُمْ لَمَّا رَاَوْا بَاْسَنَا ؕ— سُنَّتَ اللّٰهِ الَّتِیْ قَدْ خَلَتْ فِیْ عِبَادِهٖ ۚ— وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكٰفِرُوْنَ ۟۠
কিন্তু তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না। এটা আল্লাহর বিধান(৪৩), তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে। আর এখানে (৪৪) কাফিররাই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়