حٰمٓ ۟ۚۛ
হা-মীম।
Ornaments of gold · 89 আয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
حٰمٓ ۟ۚۛ
হা-মীম।
وَالْكِتٰبِ الْمُبِیْنِ ۟ۙۛ
সুস্পষ্ট কিতাবের (আল-কুরআনের) শপথ।
اِنَّا جَعَلْنٰهُ قُرْءٰنًا عَرَبِیًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ ۟ۚ
নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআনরূপে নাযিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।
وَاِنَّهٗ فِیْۤ اُمِّ الْكِتٰبِ لَدَیْنَا لَعَلِیٌّ حَكِیْمٌ ۟ؕ
আর নিশ্চয় তা আমার কাছে উম্মুল কিতাবে (১) সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, প্রজ্ঞাপূর্ণ।
اَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا اَنْ كُنْتُمْ قَوْمًا مُّسْرِفِیْنَ ۟
আমি কি তোমাদের কাছ থেকে এ উপদেশবাণী (আল-কুরআন) সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেব এ কারণে যে, তোমরা একটি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি!
وَكَمْ اَرْسَلْنَا مِنْ نَّبِیٍّ فِی الْاَوَّلِیْنَ ۟
আর আমি পূর্বেকার জাতিদের মাঝে বহু নবী পাঠিয়েছিলাম।
وَمَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ نَّبِیٍّ اِلَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟
আর যখনই তাদের কাছে কোনো নবী এসেছে, তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।
فَاَهْلَكْنَاۤ اَشَدَّ مِنْهُمْ بَطْشًا وَّمَضٰی مَثَلُ الْاَوَّلِیْنَ ۟
ফলে তাদের অপেক্ষা অধিক প্রতাপশালীদেরকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। আর পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত অতীত হয়ে গেছে।(২)
وَلَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ لَیَقُوْلُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِیْزُ الْعَلِیْمُ ۟ۙ
হে রাসূল! তুমি যদি (৩) জিজ্ঞাসা কর, আসমানসমূহ ও জমিন কে সৃষ্টি করেছে? তারা উত্তরে অবশ্যই বলবে: এগুলো মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন।
الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ مَهْدًا وَّجَعَلَ لَكُمْ فِیْهَا سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ ۟ۚ
যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা (সদৃশ) বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য বানিয়েছেন চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার।
وَالَّذِیْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً بِقَدَرٍ ۚ— فَاَنْشَرْنَا بِهٖ بَلْدَةً مَّیْتًا ۚ— كَذٰلِكَ تُخْرَجُوْنَ ۟
আর যিনি আসমান থেকে পরিমিতভাবে (বৃষ্টির) পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর আমি তা দ্বারা মৃত জনপদকে(৩) সঞ্জীবিত করি। এভাবেই তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
وَالَّذِیْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْفُلْكِ وَالْاَنْعَامِ مَا تَرْكَبُوْنَ ۟ۙ
আর যিনি সব কিছুই জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহণ করো।
لِتَسْتَوٗا عَلٰی ظُهُوْرِهٖ ثُمَّ تَذْكُرُوْا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ اِذَا اسْتَوَیْتُمْ عَلَیْهِ وَتَقُوْلُوْا سُبْحٰنَ الَّذِیْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَمَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِیْنَ ۟ۙ
যাতে তোমরা (ভ্রমণকালে) এর পিঠে স্থির থাকতে পারো, তারপর তোমাদের রবের অনুগ্রহ স্মরণ করবে, যখন তোমরা এর ওপর স্থির হয়ে বসবে আর বলবে: ‘পবিত্র-মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না’।
وَاِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ ۟
আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।’
وَجَعَلُوْا لَهٗ مِنْ عِبَادِهٖ جُزْءًا ؕ— اِنَّ الْاِنْسَانَ لَكَفُوْرٌ مُّبِیْنٌ ۟ؕ۠
আর তারা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ সাব্যস্ত করেছে।(৫) নিশ্চয়ই মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।
اَمِ اتَّخَذَ مِمَّا یَخْلُقُ بَنٰتٍ وَّاَصْفٰىكُمْ بِالْبَنِیْنَ ۟
হে মুশরিকরা! তিনি কি যা সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে ( নিজের জন্য) কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন, আর তোমাদের জন্যে নির্ধারন করেছেন পুত্র সন্তান?
وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمْ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهٗ مُسْوَدًّا وَّهُوَ كَظِیْمٌ ۟
আর তাদের কারো কাছে যখন সেই সন্তানের(৬) সুসংবাদ দেওয়া হয়, যাকে সে পরম করুণাময়ের জন্য উপমা হিসেবে স্থির করে, তখনই তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অন্তর্জ্বালায় দমিত হয়ে থাকে।
اَوَمَنْ یُّنَشَّؤُا فِی الْحِلْیَةِ وَهُوَ فِی الْخِصَامِ غَیْرُ مُبِیْنٍ ۟
আর (৭) যে অলংকারে সজ্জিত অবস্থায় লালিত পালিত হয় এবং সে বিতর্ককালে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানে অক্ষম।
وَجَعَلُوا الْمَلٰٓىِٕكَةَ الَّذِیْنَ هُمْ عِبٰدُ الرَّحْمٰنِ اِنَاثًا ؕ— اَشَهِدُوْا خَلْقَهُمْ ؕ— سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَیُسْـَٔلُوْنَ ۟
আর তারা রহমানের বান্দা ফিরিশতাদেরকে নারী হিসেবে গণ্য করেছে। তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে? তাদের সাক্ষ্য অবশ্যই লিখে রাখা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।(৮)
وَقَالُوْا لَوْ شَآءَ الرَّحْمٰنُ مَا عَبَدْنٰهُمْ ؕ— مَا لَهُمْ بِذٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۗ— اِنْ هُمْ اِلَّا یَخْرُصُوْنَ ۟ؕ
আর তারা বলে: ‘পরম করুণাময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের (ফিরিশতাদের) ইবাদাত করতাম না।’ মূলত এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা শুধু মনগড়া (মিথ্যা) কথা বলছে।
اَمْ اٰتَیْنٰهُمْ كِتٰبًا مِّنْ قَبْلِهٖ فَهُمْ بِهٖ مُسْتَمْسِكُوْنَ ۟
নাকি আমি তাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি(৯), ফলে তারা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছে?
بَلْ قَالُوْۤا اِنَّا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّةٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِهِمْ مُّهْتَدُوْنَ ۟
বরং তারা বলে: ‘নিশ্চয় আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে একটি দ্বীন ও মতাদর্শের উপর পেয়েছি, আর নিশ্চয় আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবো।’
وَكَذٰلِكَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِیْ قَرْیَةٍ مِّنْ نَّذِیْرٍ اِلَّا قَالَ مُتْرَفُوْهَاۤ ۙ— اِنَّا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّةٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِهِمْ مُّقْتَدُوْنَ ۟
আর এভাবেই হে নবী! তোমার পূর্বে যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী (রাসূল) পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিত্তবানরা বলেছে: ‘নিশ্চয় আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে একটি দ্বীন ও মতাদর্শের উপর পেয়েছি এবং নিশ্চয় আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করব।’
قٰلَ اَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِاَهْدٰی مِمَّا وَجَدْتُّمْ عَلَیْهِ اٰبَآءَكُمْ ؕ— قَالُوْۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرْسِلْتُمْ بِهٖ كٰفِرُوْنَ ۟
তখন সেই সতর্ককারী রাসূল বললেন, ‘তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের যে পথের ওপর পেয়েছ, আমি যদি তার চেয়েও উৎকৃষ্ট পথনির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে আসি, তবুও কি?’(১০) তারা বলল, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে যা দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করি।’
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ ۟۠
ফলে আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম। (১১) অতএব দেখ, মিথ্যারোপকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল?
وَاِذْ قَالَ اِبْرٰهِیْمُ لِاَبِیْهِ وَقَوْمِهٖۤ اِنَّنِیْ بَرَآءٌ مِّمَّا تَعْبُدُوْنَ ۟ۙ
হে রাসূল! স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন ইবরাহীম স্বীয় পিতা ও তার জাতিকে বলেছিল: ‘তোমরা যেগুলোর (মূর্তিদের) ইবাদাত (পূজা) কর, নিশ্চয় আমি তাদের থেকে সম্পর্কমুক্ত।’
اِلَّا الَّذِیْ فَطَرَنِیْ فَاِنَّهٗ سَیَهْدِیْنِ ۟
‘তবে (তিনি ব্যতীত) যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় তিনিই আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।’
وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِیَةً فِیْ عَقِبِهٖ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ۟
আর তিনি এটিকে(১২) তাঁর উত্তরসূরীদের মধ্যে এক চিরন্তন বাণী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেলেন, যাতে তারা (শিরক ও পাপাচার থেকে তাওবা করে) ফিরে আসে।
بَلْ مَتَّعْتُ هٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَهُمْ حَتّٰی جَآءَهُمُ الْحَقُّ وَرَسُوْلٌ مُّبِیْنٌ ۟
(১৩) বরং তাদের কাছে সত্য ও স্পষ্ট বর্ণনাকারী রাসূল (মুহাম্মাদ) আগমন না করা পর্যন্ত, আমি তাদের এবং তাদের পিতৃপুরুষদের ভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলাম।
وَلَمَّا جَآءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ وَّاِنَّا بِهٖ كٰفِرُوْنَ ۟
অথচ যখন সত্য (আল-কুরআন) তাদের কাছে আসল তখন তারা বলল: ‘এতো যাদু এবং নিশ্চয় আমরা তা অস্বীকার করছি।’
وَقَالُوْا لَوْلَا نُزِّلَ هٰذَا الْقُرْاٰنُ عَلٰی رَجُلٍ مِّنَ الْقَرْیَتَیْنِ عَظِیْمٍ ۟
আর তারা বলল: ‘এ আল-কুরআন কেন দুই জনপদের মধ্যকার কোন মহান ব্যক্তির ওপর নাযিল করা হল না?’(১৪)
اَهُمْ یَقْسِمُوْنَ رَحْمَتَ رَبِّكَ ؕ— نَحْنُ قَسَمْنَا بَیْنَهُمْ مَّعِیْشَتَهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِیًّا ؕ— وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَیْرٌ مِّمَّا یَجْمَعُوْنَ ۟
তারা কি তোমার রবের রহমত ভাগ-বণ্টন করে? আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করে দেই এবং তাদের একজনকে অপর জনের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি যাতে একে অপরকে অধীন হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর তারা যা সঞ্চয় করে, তোমার রবের রহমত তা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট।
وَلَوْلَاۤ اَنْ یَّكُوْنَ النَّاسُ اُمَّةً وَّاحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَنْ یَّكْفُرُ بِالرَّحْمٰنِ لِبُیُوْتِهِمْ سُقُفًا مِّنْ فِضَّةٍ وَّمَعَارِجَ عَلَیْهَا یَظْهَرُوْنَ ۟ۙ
যদি সব মানুষ একই জাতিতে পরিণত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে যারা পরম করুণাময়ের প্রতি কুফরী করে আমি তাদের গৃহসমূহের জন্য রৌপ্যনির্মিত ছাদ ও ঊর্ধ্বে আরোহণের সিঁড়ি তৈরি করে দিতাম।
وَلِبُیُوْتِهِمْ اَبْوَابًا وَّسُرُرًا عَلَیْهَا یَتَّكِـُٔوْنَ ۟ۙ
(শুধু তাই নয়)তাদের গৃহসমূহের জন্য দরজা ও হেলান দেয়ার জন্য রুপা দিয়ে নির্মিত খাট -পালঙ্ক ( বানাতাম) ।
وَزُخْرُفًا ؕ— وَاِنْ كُلُّ ذٰلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؕ— وَالْاٰخِرَةُ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِیْنَ ۟۠
আর স্বর্ণ নির্মিতও (করে দিতে পারতাম)। আর এর সব কয়টিই দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী। আর আখিরাত তো তোমার রবের কাছে মুত্তাকীদের জন্যই ।(১৫)
وَمَنْ یَّعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمٰنِ نُقَیِّضْ لَهٗ شَیْطٰنًا فَهُوَ لَهٗ قَرِیْنٌ ۟
আর যে পরম করুণাময়ের যিকির(১৬) থেকে বিমুখ থাকে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গী।
وَاِنَّهُمْ لَیَصُدُّوْنَهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ وَیَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ ۟
আর নিশ্চয় তারাই মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়; অথচ মানুষ মনে করে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।
حَتّٰۤی اِذَا جَآءَنَا قَالَ یٰلَیْتَ بَیْنِیْ وَبَیْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَیْنِ فَبِئْسَ الْقَرِیْنُ ۟
পরিশেষে যখন সে আমার নিকট আসবে তখন সে বলবে: ‘হায়, আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের ব্যবধান থাকত!’ সুতরাং কতই না নিকৃষ্ট সে সঙ্গী!
وَلَنْ یَّنْفَعَكُمُ الْیَوْمَ اِذْ ظَّلَمْتُمْ اَنَّكُمْ فِی الْعَذَابِ مُشْتَرِكُوْنَ ۟
আর আজ তা (অনুতাপ) তোমাদের কোনো উপকারেই আসবে না। যেহেতু তোমরা (১৭) যুলম করেছিলে। নিশ্চয় তোমরা শাস্তিতে পরস্পর অংশীদার হয়ে থাকবে।
اَفَاَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ اَوْ تَهْدِی الْعُمْیَ وَمَنْ كَانَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟
হে রাসূল! তুমি কি বধিরকে শুনাতে পারবে অথবা হিদায়াত করতে পারবে অন্ধকে এবং ঐ ব্যক্তিকে যে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছে?
فَاِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَاِنَّا مِنْهُمْ مُّنْتَقِمُوْنَ ۟ۙ
অতঃপর যদি আমি তোমাকে নিয়ে যাই, তবে নিশ্চয় আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব।
اَوْ نُرِیَنَّكَ الَّذِیْ وَعَدْنٰهُمْ فَاِنَّا عَلَیْهِمْ مُّقْتَدِرُوْنَ ۟
অথবা আমি তাদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা দিয়েছি, তা যদি তোমাকে প্রত্যক্ষ করাই, তবে নিশ্চয় আমি তাদের ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِیْۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ ۚ— اِنَّكَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۟
অতএব, হে রাসূল! তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে, তা তুমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো (১৮)। নিশ্চয় তুমি সরল-সঠিক পথের ওপর রয়েছ।
وَاِنَّهٗ لَذِكْرٌ لَّكَ وَلِقَوْمِكَ ۚ— وَسَوْفَ تُسْـَٔلُوْنَ ۟
নিশ্চয় এ আল-কুরআন তোমার জন্য এবং তোমার জাতির জন্য উপদেশ। আর অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।(১৯)
وَسْـَٔلْ مَنْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُّسُلِنَاۤ اَجَعَلْنَا مِنْ دُوْنِ الرَّحْمٰنِ اٰلِهَةً یُّعْبَدُوْنَ ۟۠
হে রাসূল! তোমার পূর্বে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে দেখ(২০), আমি কি রহমানের পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে ইবাদাত করার জন্যে নির্ধারণ করেছিলাম?
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مُوْسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرْعَوْنَ وَمَلَاۡىِٕهٖ فَقَالَ اِنِّیْ رَسُوْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۟
আর অবশ্যই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলিসহ ফির‘আউন ও তার নেতৃবর্গের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিল: ‘নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রবের একজন রাসূল।’
فَلَمَّا جَآءَهُمْ بِاٰیٰتِنَاۤ اِذَا هُمْ مِّنْهَا یَضْحَكُوْنَ ۟
অতঃপর যখন সে আমার নিদর্শনাবলিসহ তাদের কাছে আসল, তখন তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল।
وَمَا نُرِیْهِمْ مِّنْ اٰیَةٍ اِلَّا هِیَ اَكْبَرُ مِنْ اُخْتِهَا ؗ— وَاَخَذْنٰهُمْ بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ۟
আর আমি তাদের (২১) যে নিদর্শনই দেখাতাম, তা ছিল তার পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। আর আমি তাদেরকে শাস্তির মাধ্যমে পাকড়াও করলাম, যাতে তারা (কুফরী থেকে) ফিরে আসে।
وَقَالُوْا یٰۤاَیُّهَ السّٰحِرُ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ ۚ— اِنَّنَا لَمُهْتَدُوْنَ ۟
আর তারা (মূসাকে) বলল: ‘হে যাদুকর, তোমার রবের কাছে তুমি আমাদের জন্য তাই প্রার্থনা কর, যার ওয়াদা তিনি তোমার সাথে করেছেন।(২২) নিশ্চয় আমরা হিদায়াতের পথে আসব।’
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ اِذَا هُمْ یَنْكُثُوْنَ ۟
অতঃপর যখন আমি তাদের থেকে শাস্তি সরিয়ে নিলাম, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বসল।
وَنَادٰی فِرْعَوْنُ فِیْ قَوْمِهٖ قَالَ یٰقَوْمِ اَلَیْسَ لِیْ مُلْكُ مِصْرَ وَهٰذِهِ الْاَنْهٰرُ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِیْ ۚ— اَفَلَا تُبْصِرُوْنَ ۟ؕ
আর ফির‘আউন (দম্ভভরে) তার সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে বলল: ‘হে আমার সম্প্রদায়! মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এ সব নদ-নদী কি আমার (অট্টালিকার) পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না? তোমরা কি দেখছ না?’
اَمْ اَنَا خَیْرٌ مِّنْ هٰذَا الَّذِیْ هُوَ مَهِیْنٌ ۙ۬— وَّلَا یَكَادُ یُبِیْنُ ۟
‘আমি কি এই ব্যক্তি (মূসা) থেকে শ্রেষ্ঠ নই, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলতেও সক্ষম নয়?’
فَلَوْلَاۤ اُلْقِیَ عَلَیْهِ اَسْوِرَةٌ مِّنْ ذَهَبٍ اَوْ جَآءَ مَعَهُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ مُقْتَرِنِیْنَ ۟
‘তবে (২৩) তাকে কেন স্বর্ণের অলঙ্কারাদি প্রদান করা হল না অথবা দলবদ্ধভাবে ফিরিশতারা তার সাথে কেন আসল না?’
فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهٗ فَاَطَاعُوْهُ ؕ— اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا فٰسِقِیْنَ ۟
এভাবেই সে তার সম্প্রদায়কে বোকা বানালো, ফলে তারা তার আনুগত্য করল। নিশ্চয় তারা ছিল এক ফাসিক সম্প্রদায়।
فَلَمَّاۤ اٰسَفُوْنَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَاَغْرَقْنٰهُمْ اَجْمَعِیْنَ ۟ۙ
অতঃপর তারা যখন (কুফরীর ওপর অটল থাকার মাধ্যমে) আমাকে ক্রোধান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম এবং তাদের সকলকে (পানিতে) ডুবিয়ে দিলাম।
فَجَعَلْنٰهُمْ سَلَفًا وَّمَثَلًا لِّلْاٰخِرِیْنَ ۟۠
ফলে আমি তাদেরকে পরবর্তীদের জন্য (শিক্ষণীয়) অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত বানালাম।
وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْیَمَ مَثَلًا اِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ یَصِدُّوْنَ ۟
আর যখনই মারইয়াম পুত্র (‘ঈসা)কে দৃষ্টান্তস্বরূপ পেশ করা হয়, তখন তোমার জাতি শোরগোল শুরু করে দেয়।
وَقَالُوْۤا ءَاٰلِهَتُنَا خَیْرٌ اَمْ هُوَ ؕ— مَا ضَرَبُوْهُ لَكَ اِلَّا جَدَلًا ؕ— بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُوْنَ ۟
আর তারা বলে: ‘আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ নাকি ‘ঈসা? তারা কেবল বাক-বিতণ্ডার উদ্দেশ্যেই তাকে তোমার সামনে পেশ করে; বরং তারা এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়।
اِنْ هُوَ اِلَّا عَبْدٌ اَنْعَمْنَا عَلَیْهِ وَجَعَلْنٰهُ مَثَلًا لِّبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۟ؕ
ঈসা কেবল আমার একজন বান্দা, আমি তার ওপর অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বানূ ইসরাঈলের জন্য তাকে দৃষ্টান্ত বানিয়েছিলাম।
وَلَوْ نَشَآءُ لَجَعَلْنَا مِنْكُمْ مَّلٰٓىِٕكَةً فِی الْاَرْضِ یَخْلُفُوْنَ ۟
আর হে আদম সন্তান! আমি যদি চাইতাম, তবে আমি তোমাদের পরিবর্তে ফিরিশতাদেরকে সৃষ্টি করে (দুনিয়াতে) পাঠাতাম, যারা জমিনে তোমাদের উত্তরাধিকার হতো।
وَاِنَّهٗ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُوْنِ ؕ— هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ ۟
আর নিশ্চয় ‘ঈসা কিয়ামতের এক সুনিশ্চিত আলামত। সুতরাং তোমরা কিয়ামত সম্পর্কে সংশয় পোষণ করো না। তোমরা আমারই অনুসরণ কর। এটিই সরল পথ।
وَلَا یَصُدَّنَّكُمُ الشَّیْطٰنُ ۚ— اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ ۟
আর শয়তান যেন তোমাদেরকে কোন অবস্থায়ই (সরল পথ থেকে) বাধা দিতে না পারে। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
وَلَمَّا جَآءَ عِیْسٰی بِالْبَیِّنٰتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَلِاُبَیِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِیْ تَخْتَلِفُوْنَ فِیْهِ ۚ— فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ ۟
আর ‘ঈসা যখন সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসল, তখন সে বলল: ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে হিকমত নিয়ে এসেছি এবং এসেছি তোমরা যে সব বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত, তা স্পষ্ট করে দিতে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’
اِنَّ اللّٰهَ هُوَ رَبِّیْ وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ ؕ— هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ ۟
‘নিশ্চয় আল্লাহই আমার রব এবং তোমাদেরও রব। অতএব তাঁরই ইবাদাত করো; এটিই সরল-সঠিক পথ।’
فَاخْتَلَفَ الْاَحْزَابُ مِنْ بَیْنِهِمْ ۚ— فَوَیْلٌ لِّلَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْ عَذَابِ یَوْمٍ اَلِیْمٍ ۟
অতঃপর তাদের (খ্রিস্টানদের) মধ্যকার বিভিন্ন দল পরস্পরের মধ্যে মতভেদে লিপ্ত হলো। সুতরাং যারা জুলুম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির দুর্ভোগ।(২৪)
هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّا السَّاعَةَ اَنْ تَاْتِیَهُمْ بَغْتَةً وَّهُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ ۟
তারা কি কেবল এ-ই অপেক্ষা করছে যে, কিয়ামত তাদের কাছে হঠাৎ এসে যাবে, আর তারা তা টেরও পাবে না?
اَلْاَخِلَّآءُ یَوْمَىِٕذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ اِلَّا الْمُتَّقِیْنَ ۟ؕ۠
সেদিন মুত্তাকীরা ছাড়া বন্ধুরা একে অন্যের শত্রু হবে ।
یٰعِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَیْكُمُ الْیَوْمَ وَلَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَ ۟ۚ
আল্লাহ তাদেরকে বলবেন: হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না।
اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاٰیٰتِنَا وَكَانُوْا مُسْلِمِیْنَ ۟ۚ
যারা আমার আয়াতে ঈমান এনেছিল এবং যারা ছিল মুসলিম।
اُدْخُلُوا الْجَنَّةَ اَنْتُمْ وَاَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُوْنَ ۟
তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীগণ(২৫) সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর।
یُطَافُ عَلَیْهِمْ بِصِحَافٍ مِّنْ ذَهَبٍ وَّاَكْوَابٍ ۚ— وَفِیْهَا مَا تَشْتَهِیْهِ الْاَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْاَعْیُنُ ۚ— وَاَنْتُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ۟ۚ
তাদেরকে (২৬) স্বর্ণখচিত থালা ও পানপাত্র নিয়ে (সেবকগণ কর্তৃক) প্রদক্ষিণ করা হবে, সেখানে মন যা চায় আর যাতে চোখ তৃপ্ত হয়, তা-ই থাকবে এবং সেখানে তোমরা হবে চিরস্থায়ী।
وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِیْۤ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ۟
আর এটি হচ্ছে সেই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের আমলের প্রতিদান স্বরূপ।
لَكُمْ فِیْهَا فَاكِهَةٌ كَثِیْرَةٌ مِّنْهَا تَاْكُلُوْنَ ۟
সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, যা থেকে তোমরা খাবে।
اِنَّ الْمُجْرِمِیْنَ فِیْ عَذَابِ جَهَنَّمَ خٰلِدُوْنَ ۟ۚ
নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে স্থায়ী হবে;
لَا یُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَهُمْ فِیْهِ مُبْلِسُوْنَ ۟ۚ
তাদের শাস্তির কোন কিছুই লাঘব করা হবে না এবং তারা সেথায় হতাশ হয়ে পড়বে।
وَمَا ظَلَمْنٰهُمْ وَلٰكِنْ كَانُوْا هُمُ الظّٰلِمِیْنَ ۟
আর আমি তাদের উপর যুলম করিনি; কিন্তু তারা নিজেরাই ছিল যালিম।
وَنَادَوْا یٰمٰلِكُ لِیَقْضِ عَلَیْنَا رَبُّكَ ؕ— قَالَ اِنَّكُمْ مّٰكِثُوْنَ ۟
আর তারা (২৭) চিৎকার করে বলবে: ‘হে মালিক! তোমার রব যেন আমাদেরকে শেষ করে দেন।’ সে বলবে: ‘নিশ্চয় তোমরা (এখানে চিরকাল) অবস্থানকারী।’
لَقَدْ جِئْنٰكُمْ بِالْحَقِّ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كٰرِهُوْنَ ۟
‘অবশ্যই আমি তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী।’
اَمْ اَبْرَمُوْۤا اَمْرًا فَاِنَّا مُبْرِمُوْنَ ۟ۚ
নাকি তারা (নবীর বিরুদ্ধে) কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে? তবে নিশ্চয় আমিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।
اَمْ یَحْسَبُوْنَ اَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوٰىهُمْ ؕ— بَلٰی وَرُسُلُنَا لَدَیْهِمْ یَكْتُبُوْنَ ۟
নাকি তারা মনে করে, আমি তাদের গোপন কথা ও সলাপরামর্শ শুনতে পাই না? অবশ্যই হ্যাঁ, ( আমি শুনতে পাই)। আর আমার ফিরিশতাগণ তাদের কাছে থেকে (সব কর্মকাণ্ড) লিখছে।
قُلْ اِنْ كَانَ لِلرَّحْمٰنِ وَلَدٌ ۖۗ— فَاَنَا اَوَّلُ الْعٰبِدِیْنَ ۟
(হে রাসূল!) বলো, ‘যদি রহমানের কোনো সন্তান থাকত, তবে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর ইবাদতকারী হতাম।’(২৮)
سُبْحٰنَ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا یَصِفُوْنَ ۟
তারা যা আরোপ করে, আসমানসমূহ ও জমিনের রব এবং আরশের রব তা থেকে পবিত্র-মহান।
فَذَرْهُمْ یَخُوْضُوْا وَیَلْعَبُوْا حَتّٰی یُلٰقُوْا یَوْمَهُمُ الَّذِیْ یُوْعَدُوْنَ ۟
অতএব, হে রাসূল! তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা মগ্ন থাকুক অর্থহীন কথাবার্তায় এবং মত্ত থাকুক খেল-তামাশায়; যতক্ষণ না তারা সেদিনের সাক্ষাৎ করে যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে।
وَهُوَ الَّذِیْ فِی السَّمَآءِ اِلٰهٌ وَّفِی الْاَرْضِ اِلٰهٌ ؕ— وَهُوَ الْحَكِیْمُ الْعَلِیْمُ ۟
আর তিনিই আসমানে ইলাহ এবং তিনিই জমিনে ইলাহ; আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
وَتَبٰرَكَ الَّذِیْ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَمَا بَیْنَهُمَا ۚ— وَعِنْدَهٗ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ— وَاِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ۟
আর তিনি বরকতময়, যার কর্তৃত্বে রয়েছে আসমানসমূহ, জমিন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছু। আর কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁরই আছে এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
وَلَا یَمْلِكُ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهِ الشَّفَاعَةَ اِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ یَعْلَمُوْنَ ۟
আর তিনি ছাড়া যাদেরকে তারা ডাকে, তারা সুপারিশের মালিক হবে না; তবে তারা ছাড়া যারা জেনে-শুনে সত্য সাক্ষ্য দেয়।(২৯)
وَلَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَهُمْ لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ فَاَنّٰی یُؤْفَكُوْنَ ۟ۙ
আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘কে তাদের সৃষ্টি করেছে?’ তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ।’ তবুও তাদেরকে কীভাবে (সত্য থেকে) ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
وَقِیْلِهٖ یٰرَبِّ اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ قَوْمٌ لَّا یُؤْمِنُوْنَ ۟ۘ
আর (আল্লাহ তাঁর রাসূলের এ অভিযোগও জানেন): ‘হে আমার রব! নিশ্চয় এরা এমন এক জাতি, যারা ঈমান আনে না।’
فَاصْفَحْ عَنْهُمْ وَقُلْ سَلٰمٌ ؕ— فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ ۟۠
অতএব, হে রাসূল! তুমি তাদেরকে এড়িয়ে চল এবং বল, ‘সালাম’।তবে শীঘ্রই তারা (সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে) জানতে পারবে।
দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়