حٰمٓ ۟ۚ
হা-মীম।
The Dunes · 35 আয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
حٰمٓ ۟ۚ
হা-মীম।
تَنْزِیْلُ الْكِتٰبِ مِنَ اللّٰهِ الْعَزِیْزِ الْحَكِیْمِ ۟
এই কিতাব আল-কুরআন মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট থেকে নাযিলকৃত।
مَا خَلَقْنَا السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَمَا بَیْنَهُمَاۤ اِلَّا بِالْحَقِّ وَاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ— وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا عَمَّاۤ اُنْذِرُوْا مُعْرِضُوْنَ ۟
আমি আসমানসমূহ, জমিন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তা যথাযথভাবে ও একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছি। আর যারা কুফরী করে, তাদেরকে যে বিষয়ে ভীতিপ্রদর্শন করা হয়েছে, তা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে আছে।
قُلْ اَرَءَیْتُمْ مَّا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَرُوْنِیْ مَاذَا خَلَقُوْا مِنَ الْاَرْضِ اَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِی السَّمٰوٰتِ ؕ— اِیْتُوْنِیْ بِكِتٰبٍ مِّنْ قَبْلِ هٰذَاۤ اَوْ اَثٰرَةٍ مِّنْ عِلْمٍ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ۟
(হে রাসূল! তাদেরকে) বলুন, ‘তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকো, তাদের সম্পর্কে আমাকে বলো তো। তারা জমিনে কী সৃষ্টি করেছে, আমাকে দেখাও। নাকি আসমানসমূহে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব আছে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাব অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্ট প্রমাণ আমার কাছে নিয়ে এসো।’
وَمَنْ اَضَلُّ مِمَّنْ یَّدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَنْ لَّا یَسْتَجِیْبُ لَهٗۤ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَآىِٕهِمْ غٰفِلُوْنَ ۟
তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে (পূজা করে), যে কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দিতে পারবে না? আর তারা (দেবদেবীরা) তাদের (পূজারিদের) আহ্বান সম্পর্কেও উদাসীন।
وَاِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ اَعْدَآءً وَّكَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ كٰفِرِیْنَ ۟
আর যখন মানুষকে একত্র করা হবে, তখন এ উপাস্যগুলো তাদের শত্রু হবে এবং তারা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।
وَاِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ ۙ— هٰذَا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ ۟ؕ
আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফিররা তাদের কাছে সত্য আসার পর সে সম্পর্কে বলে, ‘এ তো স্পষ্ট জাদু।’
اَمْ یَقُوْلُوْنَ افْتَرٰىهُ ؕ— قُلْ اِنِ افْتَرَیْتُهٗ فَلَا تَمْلِكُوْنَ لِیْ مِنَ اللّٰهِ شَیْـًٔا ؕ— هُوَ اَعْلَمُ بِمَا تُفِیْضُوْنَ فِیْهِ ؕ— كَفٰی بِهٖ شَهِیْدًا بَیْنِیْ وَبَیْنَكُمْ ؕ— وَهُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُ ۟
তবে কি তারা বলে যে, ‘মুহাম্মাদ এটা (এ আল-কুরআন) নিজে উদ্ভাবন করেছে’? হে রাসূল! তুমি বলো: ‘যদি আমি এটা উদ্ভাবন করে থাকি, তবে তোমরা আমাকে আল্লাহর (শাস্তি) থেকে রক্ষা করতে সামান্য কিছুরও মালিক নও। তোমরা যে বিষয়ে আলোচনায় মত্ত আছ, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত। আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট। আর তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعًا مِّنَ الرُّسُلِ وَمَاۤ اَدْرِیْ مَا یُفْعَلُ بِیْ وَلَا بِكُمْ ؕ— اِنْ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ وَمَاۤ اَنَا اِلَّا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ۟
বলো, ‘আমি রাসূলদের মধ্যে নতুন নই (১) । আর আমি জানি না আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কী আচরণ করা হবে। আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। আর আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।’
قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ كَانَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ وَكَفَرْتُمْ بِهٖ وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّنْ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ عَلٰی مِثْلِهٖ فَاٰمَنَ وَاسْتَكْبَرْتُمْ ؕ— اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ ۟۠
হে রাসূল! তুমি বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, এই আল-কুরআন আল্লাহর কাছ থেকে হওয়ার পরেও যদি তোমরা এটাকে অস্বীকার করো; অথচ বানূ ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এ ব্যাপারে অনুরূপ সাক্ষ্য দিয়েছে।(২) অতঃপর সে ঈমান আনল আর তোমরা অহংকার করলে । জেনে রেখো! নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।
وَقَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَوْ كَانَ خَیْرًا مَّا سَبَقُوْنَاۤ اِلَیْهِ ؕ— وَاِذْ لَمْ یَهْتَدُوْا بِهٖ فَسَیَقُوْلُوْنَ هٰذَاۤ اِفْكٌ قَدِیْمٌ ۟
আর যারা কুফরী করেছে তারা ঈমানদারদের সম্পর্কে বলে: ‘যদি এটা (এ দ্বীন) ভালো হত তবে তারা (৩) আমাদের থেকে অগ্রণী হতে পারত না।’(৪) আর যখন তারা এর দ্বারা হিদায়াত প্রাপ্ত হয়নি, তখন তারা অচিরেই বলবে, ‘এটা তো এক পুরোনো মিথ্যা।’
وَمِنْ قَبْلِهٖ كِتٰبُ مُوْسٰۤی اِمَامًا وَّرَحْمَةً ؕ— وَهٰذَا كِتٰبٌ مُّصَدِّقٌ لِّسَانًا عَرَبِیًّا لِّیُنْذِرَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ۖۗ— وَبُشْرٰی لِلْمُحْسِنِیْنَ ۟
আর এই আল-কুরআনের পূর্বে এসেছিল মূসার কিতাব তাওরাত, যা পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। আর আরবী ভাষায় অবতীর্ণ এ আল-কুরআন তার সত্যায়নকারী কিতাব ; যাতে এটা যালিমদেরকে সতর্ক করতে পারে এবং তা সৎকর্মপরায়ণদের জন্য এক সুসংবাদ।
اِنَّ الَّذِیْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا فَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ ۟ۚ
নিশ্চয় যারা বলে: ‘আল্লাহই আমাদের রব’ অতঃপর তারা অবিচল থাকে, তাদের (পরকালে) কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ— جَزَآءً بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ۟
তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা (দুনিয়ার জীবনে) যা আমল করত, তার পুরস্কারস্বরূপ স্থায়ীভাবে থাকবে ।
وَوَصَّیْنَا الْاِنْسَانَ بِوَالِدَیْهِ اِحْسٰنًا ؕ— حَمَلَتْهُ اُمُّهٗ كُرْهًا وَّوَضَعَتْهُ كُرْهًا ؕ— وَحَمْلُهٗ وَفِصٰلُهٗ ثَلٰثُوْنَ شَهْرًا ؕ— حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ اَشُدَّهٗ وَبَلَغَ اَرْبَعِیْنَ سَنَةً ۙ— قَالَ رَبِّ اَوْزِعْنِیْۤ اَنْ اَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتَ عَلَیَّ وَعَلٰی وَالِدَیَّ وَاَنْ اَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضٰىهُ وَاَصْلِحْ لِیْ فِیْ ذُرِّیَّتِیْ ؕۚ— اِنِّیْ تُبْتُ اِلَیْكَ وَاِنِّیْ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ ۟
আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। তার গর্ভধারণ ও দুধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌঁছে এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে: ‘হে আমার রব, আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার ওপর ও আমার পিতামাতার ওপর যে নি‘আমত দান করেছ, তোমার সে নি‘আমতের যেন আমি কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি এবং আমি যেন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পছন্দ করো। আর তুমি আমার জন্য আমার সন্তানদেরকে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয় আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ نَتَقَبَّلُ عَنْهُمْ اَحْسَنَ مَا عَمِلُوْا وَنَتَجَاوَزُ عَنْ سَیِّاٰتِهِمْ فِیْۤ اَصْحٰبِ الْجَنَّةِ ؕ— وَعْدَ الصِّدْقِ الَّذِیْ كَانُوْا یُوْعَدُوْنَ ۟
এরাই তো সে সব লোক, যাদের নেক আমলগুলো আমি কবুল করে থাকি এবং তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেই। তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে যে ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, তা সত্য ওয়াদা।
وَالَّذِیْ قَالَ لِوَالِدَیْهِ اُفٍّ لَّكُمَاۤ اَتَعِدٰنِنِیْۤ اَنْ اُخْرَجَ وَقَدْ خَلَتِ الْقُرُوْنُ مِنْ قَبْلِیْ ۚ— وَهُمَا یَسْتَغِیْثٰنِ اللّٰهَ وَیْلَكَ اٰمِنْ ۖۗ— اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ ۚ— فَیَقُوْلُ مَا هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ ۟
আর যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে বলে: ‘তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হবো; অথচ আমার পূর্বে অনেক প্রজন্ম গত হয়ে গেছে?’ আর তাদের পিতামাতা দু’জন আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করে বলে: ‘দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি ঈমান আনো। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য।’ তখন সে বলে: ‘এটা (এ আল-কুরআন) অতীতকালের কল্পকাহিনি ছাড়া আর কিছু নয়।’
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ حَقَّ عَلَیْهِمُ الْقَوْلُ فِیْۤ اُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ ؕ— اِنَّهُمْ كَانُوْا خٰسِرِیْنَ ۟
এরা তো তারা, যাদের পূর্বে যে জিন ও মানবজাতি গত হয়ে গেছে, তাদের মত এদের প্রতিও আল্লাহর (শাস্তির) বাণী সত্য হয়েছে। নিশ্চয় এরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।
وَلِكُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوْا ۚ— وَلِیُوَفِّیَهُمْ اَعْمَالَهُمْ وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ۟
আর (৫) সকলের জন্যই তাদের আমল অনুসারে স্তর রয়েছে, যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের পরিপূর্ণ প্রতিফল দিতে পারেন। আর তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।
وَیَوْمَ یُعْرَضُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا عَلَی النَّارِ ؕ— اَذْهَبْتُمْ طَیِّبٰتِكُمْ فِیْ حَیَاتِكُمُ الدُّنْیَا وَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا ۚ— فَالْیَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُوْنِ بِمَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُوْنَ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ وَبِمَا كُنْتُمْ تَفْسُقُوْنَ ۟۠
আর যেদিন কাফিরদেরকে জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে (তাদেরকে বলা হবে): ‘তোমরা তোমাদের দুনিয়ার জীবনে তোমাদের সুখ সামগ্রীগুলো নিয়ে গেছো এবং সেগুলো পুরোপুরি ভোগ করেছ। তোমরা যেহেতু অন্যায়ভাবে জমিনে অহংকার করতে এবং তোমরা যেহেতু নাফরমানি করতে, সেহেতু তার প্রতিফলস্বরূপ আজ তোমাদেরকে অপমানকর শাস্তি প্রদান করা হবে।’
وَاذْكُرْ اَخَا عَادٍ اِذْ اَنْذَرَ قَوْمَهٗ بِالْاَحْقَافِ وَقَدْ خَلَتِ النُّذُرُ مِنْ بَیْنِ یَدَیْهِ وَمِنْ خَلْفِهٖۤ اَلَّا تَعْبُدُوْۤا اِلَّا اللّٰهَ ؕ— اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْكُمْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ۟
হে রাসূল! স্মরণ করো ‘আদ সম্প্রদায়ের ভাই (হূদ)-য়ের কথা, যখন সে আহকাফ(৬) উপত্যকায় স্বীয় সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। আর এমন সতর্ককারীরা তার পূর্বে এবং তার পরেও এসেছিল, (৭) ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর এক ভয়াবহ দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।’
قَالُوْۤا اَجِئْتَنَا لِتَاْفِكَنَا عَنْ اٰلِهَتِنَا ۚ— فَاْتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ ۟
তার সম্প্রদায়ের লোকেরা বলেছিল: ‘তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে নিবৃত্ত করতে আমাদের নিকট এসেছ? তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও, তাহলে আমাদেরকে যার (যে শাস্তির) ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো।’
قَالَ اِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللّٰهِ ؗ— وَاُبَلِّغُكُمْ مَّاۤ اُرْسِلْتُ بِهٖ وَلٰكِنِّیْۤ اَرٰىكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُوْنَ ۟
সে বলল: ‘এ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে। আর যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে, আমি তোমাদের কাছে তা-ই প্রচার করি; কিন্তু আমি (পরিষ্কারভাবে) দেখছি, তোমরা এক মূর্খ সম্প্রদায়।’
فَلَمَّا رَاَوْهُ عَارِضًا مُّسْتَقْبِلَ اَوْدِیَتِهِمْ ۙ— قَالُوْا هٰذَا عَارِضٌ مُّمْطِرُنَا ؕ— بَلْ هُوَ مَا اسْتَعْجَلْتُمْ بِهٖ ؕ— رِیْحٌ فِیْهَا عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۟ۙ
অতঃপর তারা যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘমালা দেখল তখন তারা বলল: ‘এ মেঘমালা আমাদেরকে বৃষ্টি দিবে।’ (হূদ বললঃ) বরং এটি সেই শাস্তি যা তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে। এ এক ঝড়, যাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’
تُدَمِّرُ كُلَّ شَیْ بِاَمْرِ رَبِّهَا فَاَصْبَحُوْا لَا یُرٰۤی اِلَّا مَسٰكِنُهُمْ ؕ— كَذٰلِكَ نَجْزِی الْقَوْمَ الْمُجْرِمِیْنَ ۟
এটা তার রবের নির্দেশে সব কিছু ধ্বংস করে দিবে। ফলে তারা এমনভাবে প্রভাত করলো যে, তাদের আবাসস্থল ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এভাবেই আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
وَلَقَدْ مَكَّنّٰهُمْ فِیْمَاۤ اِنْ مَّكَّنّٰكُمْ فِیْهِ وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَّاَبْصَارًا وَّاَفْـِٕدَةً ۖؗ— فَمَاۤ اَغْنٰی عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَاۤ اَبْصَارُهُمْ وَلَاۤ اَفْـِٕدَتُهُمْ مِّنْ شَیْءٍ اِذْ كَانُوْا یَجْحَدُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَحَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ۟۠
আর অবশ্যই আমি তাদেরকে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, তোমাদেরকে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করিনি।(৮) আর আমি তাদেরকে কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছিলাম; কিন্তু তারা যখন আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত, তখন তাদের কান, তাদের চোখ ও তাদের হৃদয়সমূহ তাদের কোন উপকারে আসেনি। আর তারা যা (যে শাস্তি) নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তা-ই তাদের ওপর আপতিত হলো।
وَلَقَدْ اَهْلَكْنَا مَا حَوْلَكُمْ مِّنَ الْقُرٰی وَصَرَّفْنَا الْاٰیٰتِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ۟
আর অবশ্যই আমি তোমাদের আশপাশের জনপদসমূহ ধ্বংস করেছিলাম।(৯) আর আমি বিভিন্নভাবে আয়াতসমূহকে বর্ণনা করেছিলাম, যাতে তারা (কুফরী থেকে) ফিরে আসে।
فَلَوْلَا نَصَرَهُمُ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ قُرْبَانًا اٰلِهَةً ؕ— بَلْ ضَلُّوْا عَنْهُمْ ۚ— وَذٰلِكَ اِفْكُهُمْ وَمَا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ۟
অতঃপর তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা কেন তাদেরকে সাহায্য করল না? বরং তারা তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল। বস্তুত এটা তাদের মিথ্যাচার এবং তাদের মনগড়া উদ্ভাবন।
وَاِذْ صَرَفْنَاۤ اِلَیْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ یَسْتَمِعُوْنَ الْقُرْاٰنَ ۚ— فَلَمَّا حَضَرُوْهُ قَالُوْۤا اَنْصِتُوْا ۚ— فَلَمَّا قُضِیَ وَلَّوْا اِلٰی قَوْمِهِمْ مُّنْذِرِیْنَ ۟
হে রাসূল! সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি জিনদের একটি দলকে তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম। তারা আল-কুরআন পাঠ শুনছিল। যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হল, তখন তারা বলল: ‘চুপ করে (আল-কুরআন) শোন। তারপর যখন পাঠ শেষ হল তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।
قَالُوْا یٰقَوْمَنَاۤ اِنَّا سَمِعْنَا كِتٰبًا اُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوْسٰی مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ یَهْدِیْۤ اِلَی الْحَقِّ وَاِلٰی طَرِیْقٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۟
তারা বলল: ‘হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা তো এক কিতাবের (আল-কুরআনের) বাণী শুনেছি, যা মূসার পরে নাযিল করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোকে সত্যায়ন করে আর সত্য-সরল পথের দিকে হিদায়াত করে।’
یٰقَوْمَنَاۤ اَجِیْبُوْا دَاعِیَ اللّٰهِ وَاٰمِنُوْا بِهٖ یَغْفِرْ لَكُمْ مِّنْ ذُنُوْبِكُمْ وَیُجِرْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍ ۟
‘হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী (মুহাম্মাদ)-এর প্রতি সাড়া দাও এবং তার প্রতি ঈমান আনো। আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন।’
وَمَنْ لَّا یُجِبْ دَاعِیَ اللّٰهِ فَلَیْسَ بِمُعْجِزٍ فِی الْاَرْضِ وَلَیْسَ لَهٗ مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءُ ؕ— اُولٰٓىِٕكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ۟
‘আর যে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী (মুহাম্মাদ)-এর ডাকে সাড়া দিবে না, সে জমিনে আল্লাহকে অপারগকারী নয়। আর আল্লাহ ছাড়া তার কোন অভিভাবক নেই; বরং তারাই (সত্য থেকে) সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত।’
اَوَلَمْ یَرَوْا اَنَّ اللّٰهَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ وَلَمْ یَعْیَ بِخَلْقِهِنَّ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنْ یُّحْیِ الْمَوْتٰی ؕ— بَلٰۤی اِنَّهٗ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ۟
তারা (পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা) কি দেখে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলোর সৃষ্টিতে তিনি ক্লান্ত হননি, তিনি কি (পুনরায়) মৃতদেরকে জীবন দান করতে সক্ষম নন? অবশ্যই হ্যাঁ, নিশ্চয় তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
وَیَوْمَ یُعْرَضُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا عَلَی النَّارِ ؕ— اَلَیْسَ هٰذَا بِالْحَقِّ ؕ— قَالُوْا بَلٰی وَرَبِّنَا ؕ— قَالَ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُوْنَ ۟
আর যেদিন কাফিরদেরকে জাহান্নামের কাছে পেশ করা হবে (বলা হবে) ‘এ শাস্তি কি সত্য নয়?’ তারা বলবে: ‘অবশ্যই হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তখন আল্লাহ বলবেন: ‘যেহেতু তোমরা (দুনিয়াতে) কুফরী করেছিলে সেহেতু শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করো, ।’
فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ اُولُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلَا تَسْتَعْجِلْ لَّهُمْ ؕ— كَاَنَّهُمْ یَوْمَ یَرَوْنَ مَا یُوْعَدُوْنَ ۙ— لَمْ یَلْبَثُوْۤا اِلَّا سَاعَةً مِّنْ نَّهَارٍ ؕ— بَلٰغٌ ۚ— فَهَلْ یُهْلَكُ اِلَّا الْقَوْمُ الْفٰسِقُوْنَ ۟۠
অতএব, হে রাসূল! (১০) ধৈর্যধারণ করো, যেমন ধৈর্যধারণ করেছিল সুদৃঢ় সংকল্পের অধিকারী রাসূলগণ। আর তাদের (শাস্তির) জন্য তাড়াহুড়া করো না। তাদেরকে (শাস্তির) যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, যেদিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন মনে হবে তারা দুনিয়াতে এক দিনের কিছু সময় অবস্থান করেছে। এই আল-কুরআন এক ঘোষণা মাত্র। তাই পাপাচারী সম্প্রদায়কেই ধ্বংস করা হবে।
দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়