اَلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَضَلَّ اَعْمَالَهُمْ ۟
যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, তিনি তাদের আমলসমূহ ব্যর্থ করে দিয়েছেন।
Muhammad · 38 আয়াত
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۟
اَلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَضَلَّ اَعْمَالَهُمْ ۟
যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, তিনি তাদের আমলসমূহ ব্যর্থ করে দিয়েছেন।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَاٰمَنُوْا بِمَا نُزِّلَ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّهُوَ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّهِمْ ۙ— كَفَّرَ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَاَصْلَحَ بَالَهُمْ ۟
আর যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, বস্তুত তা তাদের রবের পক্ষ হতে (প্রেরিত) চিরন্তন সত্য, তিনি তাদের থেকে তাদের মন্দ কাজগুলো দূর করে দিবেন এবং তিনি তাদের (ইহকালীন ও পরকালীন) কার্যাদি সংশোধন করে দিবেন।
ذٰلِكَ بِاَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوا اتَّبَعُوا الْبَاطِلَ وَاَنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّبَعُوا الْحَقَّ مِنْ رَّبِّهِمْ ؕ— كَذٰلِكَ یَضْرِبُ اللّٰهُ لِلنَّاسِ اَمْثَالَهُمْ ۟
এটা এজন্যে যে, যারা কুফরী করে তারা বাতিলের অনুসরণ করে, পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে, তারা তাদের রবের প্রেরিত হকের অনুসরণ করে। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তাদের দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।
فَاِذَا لَقِیْتُمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَضَرْبَ الرِّقَابِ ؕ— حَتّٰۤی اِذَاۤ اَثْخَنْتُمُوْهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ ۙ— فَاِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَاِمَّا فِدَآءً حَتّٰی تَضَعَ الْحَرْبُ اَوْزَارَهَا— ذٰلِكَ ۛؕ— وَلَوْ یَشَآءُ اللّٰهُ لَانْتَصَرَ مِنْهُمْ ۙ— وَلٰكِنْ لِّیَبْلُوَاۡ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ ؕ— وَالَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَلَنْ یُّضِلَّ اَعْمَالَهُمْ ۟
অতএব, হে মু’মিনরা! তোমরা যখন কাফিরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত করো। পরিশেষে তোমরা যখন তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত করবে, তখন বন্দিদেরকে শক্তভাবে বেঁধে রাখো। তারপর (বন্দিদেরকে) হয় অনুগ্রহ করো, না হয় মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দাও; যতক্ষণ না যুদ্ধ তার (অস্ত্রের) বোঝা রেখে দেয়।(১৬) এটাই বিধান। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে (যুদ্ধ ছাড়াই) তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারতেন; কিন্তু তিনি তোমাদের একজনকে অন্যের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। আর যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, তিনি কখনোই তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করবেন না।
سَیَهْدِیْهِمْ وَیُصْلِحُ بَالَهُمْ ۟ۚ
অচিরেই তিনি তাদেরকে (১৭) পথপ্রদর্শন করবেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দিবেন।
وَیُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ ۟
আর তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পরিচয় তিনি তাদেরকে দিয়েছেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تَنْصُرُوا اللّٰهَ یَنْصُرْكُمْ وَیُثَبِّتْ اَقْدَامَكُمْ ۟
হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি (১৮) আল্লাহকে সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদক্ষেপকে সুদৃঢ় করে দেবেন।
وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَتَعْسًا لَّهُمْ وَاَضَلَّ اَعْمَالَهُمْ ۟
আর যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে, নিশ্চিত ধ্বংস এবং তিনি তাদের আমলসমূহ ব্যর্থ করে দিয়েছেন।
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَرِهُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ فَاَحْبَطَ اَعْمَالَهُمْ ۟
তা (এই শাস্তি) এজন্য যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা অপছন্দ করে। ফলে তিনিও তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করে দিয়েছেন।
اَفَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ— دَمَّرَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ ؗ— وَلِلْكٰفِرِیْنَ اَمْثَالُهَا ۟
তবে কি তারা জমিনে ভ্রমণ করে দেখেনি যে, যারা তাদের পূর্বে (মিথ্যারোপকারী) ছিল তাদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে অনুরূপ (শাস্তির) পরিণাম।
ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ مَوْلَی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَاَنَّ الْكٰفِرِیْنَ لَا مَوْلٰی لَهُمْ ۟۠
উল্লিখিত পরিণাম এজন্য যে, নিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদের অভিভাবক। আর নিশ্চয় কাফিরদের কোনো অভিভাবক নেই।
اِنَّ اللّٰهَ یُدْخِلُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ؕ— وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا یَتَمَتَّعُوْنَ وَیَاْكُلُوْنَ كَمَا تَاْكُلُ الْاَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًی لَّهُمْ ۟
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত। কিন্তু যারা কুফরী করে তারা (দুনিয়ার) ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং তারা আহার করে যেমন চতুষ্পদ জন্তুরা আহার করে। আর জাহান্নামই তাদের বাসস্থান।
وَكَاَیِّنْ مِّنْ قَرْیَةٍ هِیَ اَشَدُّ قُوَّةً مِّنْ قَرْیَتِكَ الَّتِیْۤ اَخْرَجَتْكَ ۚ— اَهْلَكْنٰهُمْ فَلَا نَاصِرَ لَهُمْ ۟
আর কত জনপদই তো ছিল, যা তোমার সেই জনপদের চেয়ে শক্তিতে অধিক প্রবল ছিল, যে জনপদ তোমাকে বের করে দিয়েছে। আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি; ফলে তাদের কোনো সাহায্যকারী ছিল না।(১৯)
اَفَمَنْ كَانَ عَلٰی بَیِّنَةٍ مِّنْ رَّبِّهٖ كَمَنْ زُیِّنَ لَهٗ سُوْٓءُ عَمَلِهٖ وَاتَّبَعُوْۤا اَهْوَآءَهُمْ ۟
যে ব্যক্তি তার রবের পক্ষ থেকে আগত সুস্পষ্ট দলিল-প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি তার মতো যার মন্দ আমল তার জন্য চাকচিক্যময় (শোভনীয়) করে দেয়া হয়েছে এবং যারা তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে?
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِیْ وُعِدَ الْمُتَّقُوْنَ ؕ— فِیْهَاۤ اَنْهٰرٌ مِّنْ مَّآءٍ غَیْرِ اٰسِنٍ ۚ— وَاَنْهٰرٌ مِّنْ لَّبَنٍ لَّمْ یَتَغَیَّرْ طَعْمُهٗ ۚ— وَاَنْهٰرٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشّٰرِبِیْنَ ۚ۬— وَاَنْهٰرٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّی ؕ— وَلَهُمْ فِیْهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ ؕ— كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِی النَّارِ وَسُقُوْا مَآءً حَمِیْمًا فَقَطَّعَ اَمْعَآءَهُمْ ۟
মুত্তাকিদের জন্য যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার উপমা হলো, সেখানে রয়েছে এমন পানির নদী, যা কখনো দুর্গন্ধযুক্ত বা বাসি হয় না; এমন দুধের নদী, যার স্বাদ কখনো পরিবর্তিত হয় না; পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নদী; এবং পরিশোধিত মধুর নদী। সেখানে তাদের জন্য থাকবে সব ধরনের ফলমূল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা। (এরা কি) তার মতো, যে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে এবং যাদেরকে পান করানো হবে ফুটন্ত পানি, যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্নভিন্ন করে দেবে?
وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّسْتَمِعُ اِلَیْكَ ۚ— حَتّٰۤی اِذَا خَرَجُوْا مِنْ عِنْدِكَ قَالُوْا لِلَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ اٰنِفًا ۫— اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ طَبَعَ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ وَاتَّبَعُوْۤا اَهْوَآءَهُمْ ۟
হে রাসূল! তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে এমন কতক রয়েছে, যারা তোমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে। অবশেষে যখন তারা তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায় তখন তারা যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদেরকে বলে: ‘এই মাত্র সে কী বলল?’ এরাই তারা, যাদের অন্তরসমূহে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করেছে।
وَالَّذِیْنَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًی وَّاٰتٰىهُمْ تَقْوٰىهُمْ ۟
আর যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত আরো বৃদ্ধি করেন এবং তাদেরকে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রদান করেন।
فَهَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّا السَّاعَةَ اَنْ تَاْتِیَهُمْ بَغْتَةً ۚ— فَقَدْ جَآءَ اَشْرَاطُهَا ۚ— فَاَنّٰی لَهُمْ اِذَا جَآءَتْهُمْ ذِكْرٰىهُمْ ۟
সুতরাং তারা কি কেবল এই অপেক্ষা করছে যে, কিয়ামত তাদের ওপর আকস্মিকভাবে এসে পড়ুক? অথচ কিয়ামতের আলামতসমূহ তো এসেই পড়েছে।(২০) সুতরাং কিয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে?
فَاعْلَمْ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْۢبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ ؕ— وَاللّٰهُ یَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوٰىكُمْ ۟۠
অতএব, হে রাসূল! জেনে রেখো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা চাও, তোমার ও মু’মিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
وَیَقُوْلُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَوْلَا نُزِّلَتْ سُوْرَةٌ ۚ— فَاِذَاۤ اُنْزِلَتْ سُوْرَةٌ مُّحْكَمَةٌ وَّذُكِرَ فِیْهَا الْقِتَالُ ۙ— رَاَیْتَ الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ یَّنْظُرُوْنَ اِلَیْكَ نَظَرَ الْمَغْشِیِّ عَلَیْهِ مِنَ الْمَوْتِ ؕ— فَاَوْلٰى لَهُمْ ۟ۚ
আর যারা ঈমান এনেছে তারা বলে: ‘কেনো (যুদ্ধ সংক্রান্ত) একটি সূরা নাযিল করা হয়নি?’ অতঃপর যখন দ্ব্যর্থহীন কোন সুস্পষ্ট সূরা নাযিল করা হয় এবং তাতে যুদ্ধের উল্লেখ থাকে, তখন তুমি দেখবে যাদের অন্তরে (সংশয়ের) ব্যাধি রয়েছে, তারা তোমার দিকে মৃত্যুভয়ে মূর্ছিত ব্যক্তির দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য।
طَاعَةٌ وَّقَوْلٌ مَّعْرُوْفٌ ۫— فَاِذَا عَزَمَ الْاَمْرُ ۫— فَلَوْ صَدَقُوا اللّٰهَ لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ ۟ۚ
(অথচ প্রদত্ত আদেশের) আনুগত্য করা ও ন্যায়সংগত কথা বলাই উত্তম। অতঃপর যখন (যুদ্ধের) সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, তখন যদি তারা আল্লাহর সাথে (২১) কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করত, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো।
فَهَلْ عَسَیْتُمْ اِنْ تَوَلَّیْتُمْ اَنْ تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ وَتُقَطِّعُوْۤا اَرْحَامَكُمْ ۟
অতএব, তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও(২১), তবে কি তোমাদের দ্বারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাই প্রত্যাশিত?(২২)
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ فَاَصَمَّهُمْ وَاَعْمٰۤی اَبْصَارَهُمْ ۟
এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, ফলে তাদেরকে বধির করেছেন ও তাদের দৃষ্টিসমূহকে অন্ধ করে দিয়েছেন।
اَفَلَا یَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْاٰنَ اَمْ عَلٰی قُلُوْبٍ اَقْفَالُهَا ۟
তবে কি তারা আল-কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?
اِنَّ الَّذِیْنَ ارْتَدُّوْا عَلٰۤی اَدْبَارِهِمْ مِّنْ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمُ الْهُدَی ۙ— الشَّیْطٰنُ سَوَّلَ لَهُمْ ؕ— وَاَمْلٰی لَهُمْ ۟
নিশ্চয় যাদের কাছে হিদায়াত সুস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা পেছনে ফিরে গেছে, শয়তান তাদের কাছে (তাদের এ কাজকে) শোভনীয় করে তুলেছে এবং তাদেরকে দীর্ঘ মিথ্যা আশা দিয়েছে।
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْا لِلَّذِیْنَ كَرِهُوْا مَا نَزَّلَ اللّٰهُ سَنُطِیْعُكُمْ فِیْ بَعْضِ الْاَمْرِ ۚ— وَاللّٰهُ یَعْلَمُ اِسْرَارَهُمْ ۟
এটি এ কারণে যে, তারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা যারা অপছন্দ করে, তাদেরকে বলে, ‘কিছু বিষয়ে আমরা তোমাদের আনুগত্য করব।’(২৩) আর আল্লাহ তাদের গোপন পরামর্শ সম্পর্কে সম্যক অবগত।
فَكَیْفَ اِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یَضْرِبُوْنَ وُجُوْهَهُمْ وَاَدْبَارَهُمْ ۟
অতঃপর তাদের অবস্থা কেমন হবে, যখন ফিরিশতারা তাদের মুখমণ্ডল ও পৃষ্ঠদেশসমূহে আঘাত করতে করতে তাদের জীবনাবসান ঘটাবে?
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمُ اتَّبَعُوْا مَاۤ اَسْخَطَ اللّٰهَ وَكَرِهُوْا رِضْوَانَهٗ فَاَحْبَطَ اَعْمَالَهُمْ ۟۠
এটি এ জন্য যে, তারা এমন সব বিষয়ের(২৪) অনুসরণ করেছে, যা আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করেছে এবং তারা তাঁর সন্তোষকে অপছন্দ করেছে। ফলে আল্লাহ তাদের কর্মসমূহ নিষ্ফল করে দিয়েছেন।
اَمْ حَسِبَ الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ اَنْ لَّنْ یُّخْرِجَ اللّٰهُ اَضْغَانَهُمْ ۟
যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা কি ধারণা করেছে যে, আল্লাহ তাদের গোপন বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দিবেন না?
وَلَوْ نَشَآءُ لَاَرَیْنٰكَهُمْ فَلَعَرَفْتَهُمْ بِسِیْمٰهُمْ ؕ— وَلَتَعْرِفَنَّهُمْ فِیْ لَحْنِ الْقَوْلِ ؕ— وَاللّٰهُ یَعْلَمُ اَعْمَالَكُمْ ۟
হে রাসূল! আমি যদি চাইতাম তবে আমি তোমাকে এদের পরিচয় জানিয়ে দিতে পারতাম। ফলে তুমি তাদের লক্ষণ দেখেই তাদেরকে চিনতে পারতে। তবে তুমি অবশ্যই কথার ভঙ্গিতে তাদেরকে চিনতে পারবে। আল্লাহ তোমাদের আমলসমূহ জানেন।
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتّٰی نَعْلَمَ الْمُجٰهِدِیْنَ مِنْكُمْ وَالصّٰبِرِیْنَ ۙ— وَنَبْلُوَاۡ اَخْبَارَكُمْ ۟
আর অবশ্যই আমি তোমাদের(২৫) পরীক্ষা করব, যাতে তোমাদের মধ্যে কারা (আমার পথে) জিহাদকারী এবং কারা ধৈর্যশীল, তা প্রকাশিত হয়ে যায়; আর তোমাদের প্রকৃত অবস্থা ও কর্মও আমি যাচাই করে নেব।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَشَآقُّوا الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمُ الْهُدٰی ۙ— لَنْ یَّضُرُّوا اللّٰهَ شَیْـًٔا ؕ— وَسَیُحْبِطُ اَعْمَالَهُمْ ۟
নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, আল্লাহর পথে বাধা দিয়েছে এবং তাদের নিকট হিদায়াতের পথ সুস্পষ্ট হওয়ার পরেও রাসূলের বিরোধিতা করেছে, তারা আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আর শীঘ্রই তিনি তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল করে দিবেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَلَا تُبْطِلُوْۤا اَعْمَالَكُمْ ۟
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ثُمَّ مَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ یَّغْفِرَ اللّٰهُ لَهُمْ ۟
নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা দিয়েছে, তারপর কাফির অবস্থায়ই মারা গেছে, আল্লাহ কখনই তাদের ক্ষমা করবেন না।
فَلَا تَهِنُوْا وَتَدْعُوْۤا اِلَی السَّلْمِ ۖۗ— وَاَنْتُمُ الْاَعْلَوْنَ ۖۗ— وَاللّٰهُ مَعَكُمْ وَلَنْ یَّتِرَكُمْ اَعْمَالَكُمْ ۟
অতএব, হে মু’মিনরা! তোমরা হীনবল হয়ো না এবং (শত্রুদেরকে) সন্ধির আহ্বান জানিও না এবং তোমরাই হবে প্রতাপশালী বিজয়ী। আর আল্লাহ তোমাদের সাথেই রয়েছেন এবং কখনই তিনি তোমাদের কর্মফল ক্ষুণ্ন করবেন না (বরং বৃদ্ধি করবেন)।
اِنَّمَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا لَعِبٌ وَّلَهْوٌ ؕ— وَاِنْ تُؤْمِنُوْا وَتَتَّقُوْا یُؤْتِكُمْ اُجُوْرَكُمْ وَلَا یَسْـَٔلْكُمْ اَمْوَالَكُمْ ۟
দুনিয়ার জীবন তো কেবল খেল-তামাশা ও অর্থহীন কথাবার্তা। আর যদি তোমরা ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান দিবেন এবং তিনি তোমাদের কাছে ধন-সম্পদ চাইবেন না।
اِنْ یَّسْـَٔلْكُمُوْهَا فَیُحْفِكُمْ تَبْخَلُوْا وَیُخْرِجْ اَضْغَانَكُمْ ۟
যদি তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের সম্পদ চাইতেন, অতঃপর (তা আদায়ের জন্য) তোমাদের ওপর প্রবল চাপ প্রয়োগ করতেন, তবে তোমরা কার্পণ্য করতে; আর তখন তিনি তোমাদের অন্তরের গোপন বিদ্বেষসমূহ (আল্লাহর পথে ব্যয় করার প্রতি অনীহা) প্রকাশ করে দিতেন।
هٰۤاَنْتُمْ هٰۤؤُلَآءِ تُدْعَوْنَ لِتُنْفِقُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۚ— فَمِنْكُمْ مَّنْ یَّبْخَلُ ۚ— وَمَنْ یَّبْخَلْ فَاِنَّمَا یَبْخَلُ عَنْ نَّفْسِهٖ ؕ— وَاللّٰهُ الْغَنِیُّ وَاَنْتُمُ الْفُقَرَآءُ ۚ— وَاِنْ تَتَوَلَّوْا یَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَیْرَكُمْ ۙ— ثُمَّ لَا یَكُوْنُوْۤا اَمْثَالَكُمْ ۟۠
তোমরাই তো তারা, তোমাদের ডাকা হচ্ছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে; অথচ তোমাদের কেউ কেউ কার্পণ্য করছে। তবে যে কার্পণ্য করছে, সে তো নিজের প্রতিই কার্পণ্য করছে। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। যদি তোমরা (ইসলাম থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের ছাড়া অন্য কোন জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। তারপর তারা তোমাদের অনুরূপ হবে না।
দোকানের সফটওয়্যারেই কুরআন পড়া, শোনা, দৈনিক লক্ষ্য আর নামাজের রিমাইন্ডার — আপনার আর স্টাফদের জন্য।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল শুরু করুন কার্ড লাগবে না · যেকোনো সময় বন্ধ করা যায়